ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, চরম সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার কৃষকেরা
ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের আকাশছোঁয়া মূল্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার কৃষকেরা তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। উত্তর-পূর্ব লুইজিয়ানার কৃষি বিমানের পাইলট রিড কেহি জানান যে, তার বিমানে ব্যবহৃত কেরোসিনভিত্তিক জ্বালানির দাম যুদ্ধের কারণে মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে যে জ্বালানির প্রতি গ্যালনের দাম ছিল ২.৪৬ ডলার, মে মাসে তা সর্বোচ্চ ৪.১১ ডলারে পৌঁছায়। কেহি একবারে ৭,৫০০ গ্যালন জ্বালানি ক্রয় করেন, যার ফলে মে মাসে এক দফায় জ্বালানি কিনতেই তার ৩০,০০০ ডলারের বেশি খরচ হয়েছিল। চলতি সপ্তাহে এই দাম কিছুটা কমে ৩.১৮ ডলারে নামলেও তা আবারও বাড়তে শুরু করেছে।
জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লুইজিয়ানার সামগ্রিক কৃষি সম্প্রদায়ের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে, যার ফলে তাদের আয়ের মার্জিন একদম কমে গেছে। ডেভিড গুয়েরেরো এবং থেরেসা গুয়েরেরো নামের এক কৃষক দম্পতি জানান, তাদের ভুট্টার ফসলের জন্য ইউরিয়া নামের এক ধরনের নাইট্রোজেন সারের প্রয়োজন হয়। বিশ্বব্যাপী ইউরিয়া রপ্তানির প্রায় অর্ধেক আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে একটি বড় ধরনের নৌ-পরিবহন সংকট তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের প্রধান পথ।
এই যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গুয়েরেরো দম্পতির সারের জন্য নির্ধারিত পুরো বাজেটকে সম্পূর্ণ শেষ করে দিয়েছে। এই দম্পতি প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমানে তারা ইউরিয়া সারের পেছনে নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে প্রায় ১,২০,০০০ থেকে ১,৩০,০০০ ডলার অতিরিক্ত খরচ করে ফেলেছেন। এই খরচ বৃদ্ধির ধাক্কা সামলে তাদের খামারটি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডেভিড গুয়েরেরো জানান যে পরিস্থিতি এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং তারা টিকে থাকার লড়াইয়ের একদম শেষ প্রান্তে রয়েছেন।
আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খামার দেউলিয়া হওয়ার হার প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পাইলট রিড কেহি কৃষকদের ওপর থেকে চাপ কমাতে গুয়েরেরোর ফসলে ওষুধ ছিটানোর জন্য অতিরিক্ত কোনো চার্জ ধরছেন না, বরং লোকসানের পুরো ধাক্কা নিজেই সামলাচ্ছেন। কেহি বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি 'টিকে থাকার খেলা' হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, যদি কৃষকেরা তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে না পারেন, তবে তার নিজের ব্যবসাও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি (Erie) শহরের একটি বাড়িতে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী এবং তার দুই অবুঝ শিশুসহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যাকাণ্ড চালানোর পর ৪৫ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারী নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত অন্তঃসত্ত্বা নারীর নাম অ্যাঞ্জেলিনা স্টোন। তার সন্তান জন্মদানের কথা ছিল আর মাত্র চার দিন পর। এই হামলায় স্টোনের পাশাপাশি তার দুই সন্তান, দুই ভাই এবং এক পারিবারিক বন্ধুও প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত মোট ৯ জনের মধ্যে আটজনই একই পরিবারের সদস্য এবং একজন পারিবারিক বন্ধু। নিহত স্টোনের পারিবারিক বন্ধু লিসা সিমার্স জানান, স্টোনের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আইজায়া এবং প্রায় দুই বছর বয়সী মেয়ে আমারি’আনা দুজনেই অটিজম স্পেকট্রামে আক্রান্ত ছিল। সিমার্স আক্ষেপ করে বলেন, নিষ্পাপ এই শিশুরা চাইলেও হামলাকারীর বিরুদ্ধে কারো কাছে কিছু বলতে পারত না, অথচ তবুও তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেও ভেতরে থাকা প্রিয়জনদের বাঁচাতে না পারার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি। শনিবার (১০ অক্টোবর) ইরি শহরের পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই এই ৯ জনের মৃত্যু হয় এবং পরবর্তীতে সেখানে আর কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। ইরি শহরের পুলিশ প্রধান রিচার্ড লোরাহ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির বাইরে ৫১ ও ৩৭ বছর বয়সী দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দেখেছেন, ওই দুই নারী বাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার শুনে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিলেন এবং প্রতিবেশীদের সাহায্য চাইছিলেন। এসময় ভেতর থেকে চাপা গুলির শব্দ শোনা যায় এবং কিছুক্ষণ পর হামলাকারী বাইরে বেরিয়ে এসে ওই দুই নারীকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বাড়ির নিচতলা থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলেশিশু ও এক বছর বয়সী এক মেয়েশিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দোতলা ও সিঁড়ি থেকে ২৪ ও ৪৪ বছর বয়সী দুই নারী এবং ১৯ ও ২১ বছর বয়সী দুই তরুণের মরদেহ পাওয়া যায়। দোতলাতেই একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৪৫ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ পড়ে ছিল। পুলিশ প্রধান লোরাহ এই দৃশ্যকে তার কর্মজীবনের অন্যতম মর্মান্তিক ও ভীতিকর ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এদিকে, নিহত অ্যাঞ্জেলিনা স্টোন, তার দুই সন্তান এবং অনাগত সন্তান কাইরির (Kyrie) শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) প্ল্যাটফর্মে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আকস্মিক এই ট্র্যাজেডির পর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এত বড় খরচের বোঝা একা বহন করা অসম্ভব জানিয়ে স্থানীয়দের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ট্রাম্পের পদক্ষেপে মাইক্রোসফটসহ সাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আ/টকে গেল কর্মীদের গ্রিন কার্ডের পথ
হোয়াইট হাউস ঘিরে গণমাধ্যমে তোলপাড়, পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্তে বিচার বিভাগ
মার্কিন হু মকির মুখেও দমছে না ইরান, গোপনে ক্ষে পণাস্ত্র দিচ্ছে রাশিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমদানি শুল্কনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বাড়ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাণিজ্যনীতি, নিত্যপণ্যের দাম এবং উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের প্রভাব রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ৬৪ শতাংশের বেশি মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন। জানুয়ারিতে একই ধরনের প্রশ্নে এই হার ছিল ৫৮ শতাংশ। জরিপের এই ফল শুল্কনীতি নিয়ে জনমতের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও নির্বাচনে ভোটাররা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিশ্চিত করে না। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া, দেশীয় কারখানায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাণিজ্যে অন্যায্য প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করা সম্ভব। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কারখানা নির্মাণ এবং উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের তথ্যকে নীতিটির সম্ভাব্য সুফল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশের উদ্বেগ, আমদানি করা কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ ও ভোগ্যপণ্যের ওপর শুল্ক বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়ও বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের কিছু অংশ পণ্যের দামে যুক্ত করলে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের বেশি অর্থ দিতে হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর সাধারণত দুই অঙ্কের নিম্ন পর্যায়ের শুল্ক আরোপ করেছে, যদিও বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে হার আলাদা এবং আইনি ও নীতিগত পরিবর্তনের কারণে তা ওঠানামা করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারাসহ বিভিন্ন আইনি ভিত্তি ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুল্কনীতির প্রভাব শুধু বিদেশি রপ্তানিকারকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানি করে, তাদের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিল্প আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য বিকল্প সরবরাহকারী খোঁজা, নতুন চুক্তি করা এবং পণ্যের দাম সমন্বয় করা ব্যয়বহুল হতে পারে। শুল্কের কারণে দেশীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় সুবিধা পেতে পারেন—এমন যুক্তিও রয়েছে। তবে নতুন কারখানা নির্মাণ এবং স্থায়ী উৎপাদনভিত্তিক চাকরি তৈরির মধ্যে সময়ের ব্যবধান থাকে। কারখানা নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বিপুলসংখ্যক স্থায়ী উৎপাদনকর্মীর চাকরি তৈরি হয় না। নির্বাচনের আগে এ বিতর্কের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ভোটারদের কাছে মূল্যস্ফীতি, চাকরির নিরাপত্তা এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতির বাস্তব ফলাফল নিয়ে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকও প্রশ্ন তুলছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজনি ওয়ার্ল্ডে টিকিটের দাম বাড়িয়ে ৩০১ ডলার, ক্ষুব্ধ সাধারণ দর্শনার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে নি হত ৪, বিদ্যুৎহীন প্রায় ৪ লাখ গ্রাহক
জুয়ার টাকা জোগাতে একের পর এক বিয়ে, প্রতারণার দায়ে লাস ভেগাসে নারীর সাজা
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকেরা বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। এ জন্য বাংলাদেশে যাওয়া ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে আবেদন ও বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া ঘরে বসে সম্পন্ন করা যায় না। অনলাইনে আবেদন করার পর নির্ধারিত দিনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস, ছবি ও স্বাক্ষর দিতে হয়। ধাপ ১: আবেদনের যোগ্যতা যাচাই করুন - দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁদের আগে বাংলাদেশের এনআইডি নেই এবং যাঁরা বাংলাদেশে এনআইডির জন্য আবেদন করেননি, তাঁরাই নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিচয়ের প্রমাণ দিতে হবে। এ জন্য বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা নির্ধারিত ঘোষণাপত্র এবং ১৭ সংখ্যার বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন। পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের মধ্যে মিল থাকতে হবে। বয়সের ক্ষেত্রে দূতাবাসের ওয়েবপেজ ও নির্দেশিকার পিডিএফে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে বয়সের যোগ্যতা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। ধাপ ২: অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করুন - প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করুন: https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/ । এরপর নতুন নিবন্ধনের আবেদনপত্র ফরম-২(ক) পূরণ করুন। আবেদনপত্রে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সঠিক তথ্য দিতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের তথ্য এবং বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা লেখার সময় জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। আবেদন করার সময় একটি সচল বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর দিতে হবে, কারণ পরিচয় যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে যোগাযোগ করা হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর ফরমটির মুদ্রিত কপি সংরক্ষণ করুন এবং পোর্টালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন - আবেদনের জন্য অনলাইনে পূরণ করা ফরম-২(ক)-এর মুদ্রিত কপি, ১৭ সংখ্যার বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদের মূল কপি ও ফটোকপি, বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি এবং সাম্প্রতিক পাসপোর্ট আকারের এক কপি ছবি প্রস্তুত রাখুন। পাসপোর্ট না থাকলে দূতাবাসের নির্ধারিত ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে; সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তিনজন বাংলাদেশি এনআইডিধারীর সত্যায়ন প্রয়োজন। এ ছাড়া বাবা-মায়ের এনআইডি, বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, মৃত্যু সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), উত্তরাধিকার সনদ, নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ—প্রযোজ্য নথিগুলোর কপি সঙ্গে রাখতে হবে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার আবেদনকারীদের অতিরিক্ত বিশেষ তথ্য ফরম পূরণ করতে হবে। ধাপ ৪: নির্ধারিত দূতাবাস বা কনস্যুলেটে উপস্থিত হন - অনলাইনে আবেদন করলেই নিবন্ধন সম্পন্ন হয় না। অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন আবেদনকারীকে নিজে বাংলাদেশ দূতাবাস বা তাঁর এলাকার জন্য প্রযোজ্য বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিসের তথ্য, ছবি ও স্বাক্ষর নেওয়া হবে। নিবন্ধন শেষে একটি স্লিপ দেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে স্মার্ট এনআইডি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন হতে পারে। তাই স্লিপটি যত্ন করে সংরক্ষণ করুন। যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, সেবার সময় এবং অতিরিক্ত কাগজপত্রের নির্দেশনা যাচাই করে নিন। ধাপ ৫: বাংলাদেশের নির্বাচন অফিসের যাচাই সম্পন্ন করুন - বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের পর আবেদনকারীর তথ্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে। এর মধ্যে এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ, জেএসসি বা পিএসসি সনদ, দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ, বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর শনাক্তকরণ নম্বর, বিবাহ বা তালাকের নথি, স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি, জাতীয়তা সনদ এবং বাংলাদেশের ঠিকানাসংবলিত ইউটিলিটি বিল বা হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ রয়েছে। সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সব নথি লাগবে এমন নয়; যাচাইকারী অফিসের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র দিতে হবে। ধাপ ৬: এনআইডি ডাউনলোড ও স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করুন - যাচাই সম্পন্ন হলে সিস্টেমে এনআইডি প্রস্তুত হলে আবেদনকারী তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। এ জন্য আবেদন করার সময় ব্যবহৃত ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা জরুরি। স্মার্ট কার্ড বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ছাপানো হয়ে দূতাবাস বা কনস্যুলেটে পৌঁছালে সংগ্রহ করা যাবে। কার্ড প্রস্তুত হতে কত দিন লাগবে, তা নির্দিষ্ট নয়; বাংলাদেশের যাচাইপ্রক্রিয়া ও কার্ড পাঠানোর সময়ের ওপর এটি নির্ভর করে। গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: এই সেবা মূলত নতুন এনআইডি নিবন্ধনের জন্য। আগে থেকেই এনআইডি থাকলে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যাবে না। আবেদনপত্রে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বয়সের যোগ্যতা, ফি এবং নির্দিষ্ট কাগজপত্র সম্পর্কে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা নিশ্চিত করুন। সরকারি তথ্যসূত্র * বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি: https://washington.mofa.gov.bd/pages/static-pages/6952668935ce18e1c05a9de3 * বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা: https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে বিপজ্জনক ডায়রিয়ার জীবাণু, পাঁচ অ্যান্টিবায়োটিকেও মিলছে না প্রতিকার
ট্রাম্পের সংবাদ সংগ্রহ ঘিরে বিরোধে পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত