টেক্সাসে এআই ডাটা সেন্টার স্থাপন নিয়ে মুখোমুখি দুই রিপাবলিকান নেতা
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গ্রামীণ অঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির ডাটা সেন্টার স্থাপনকে ঘিরে এক তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে টেক্সাসের ঐতিহ্যবাহী কৃষি জমি ও প্রকৃতি রক্ষা বনাম অর্থনৈতিক উন্নয়নের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা। ডাটা সেন্টারগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই নিয়ে বিরোধিতা দিন দিন বাড়ছে।
টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ইতিমধ্যে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে এআই ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিষিদ্ধ করার পক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। গভর্নরের এই সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানিয়েছেন রাজ্য प्रतिनिधि শেলি লুথার। তিনি জানান, গ্রামীণ টেক্সাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কৃষি জমি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। লুথার আরও বলেন, ডাটা সেন্টারের মতো বড় শিল্পায়নের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী সবুজ পাহাড়ি জমি ও সম্পদ নষ্ট করা ঠিক হবে না। পানি ও বিদ্যুতের মতো জরুরি উপাদান যেন এই বৃহৎ কর্পোরেশনগুলো হুট করে এসে দখল করতে না পারে, সেজন্য টেক্সাস আইনসভার অবিলম্বে আইন প্রণয়ন করা উচিত।
অন্যদিকে, টেক্সাস রেলরোড কমিশনার ওয়েন ক্রিশ্চিয়ান অবশ্য গভর্নরের এই ডাটা সেন্টার নিষিদ্ধ করার চিন্তার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার মতে, বর্তমানে গ্রামীণ আমেরিকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি তীব্র সংকটের মুখে রয়েছে এবং দিন দিন তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ক্রিশ্চিয়ান বলেন, বড় বড় জাতীয় কর্পোরেশনের কারণে গ্রামীণ এলাকার স্থানীয় ব্যবসাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং সেখানে নতুন কোনো কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। এই ডাটা সেন্টারগুলোর কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ গ্রামীণ টেক্সাসের অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের একটি বড় সুযোগ হতে পারে।
পানির সংকটের বিষয়ে ক্রিশ্চিয়ান একটি বিকল্প পরামর্শ দিয়ে বলেন, তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ফলে তৈরি হওয়া বর্জ্য পানিকে ডাটা সেন্টারগুলো যেন নিজস্ব খরচে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশোধন করে ব্যবহার করে, তার নিয়ম করা হোক। টেক্সাস কমপট্রোলার অফিসের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে টেক্সাসের করদাতারা ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলারের বিক্রয় কর ছাড় দিয়েছেন। যেভাবে নতুন প্রজেক্টের প্রস্তাব আসছে, তাতে আগামী দুই বছরে এই প্রণোদনার পরিমাণ ৩.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য বরাদ্দ এই বিশাল কর ছাড়ের সুবিধা সম্পূর্ণ বাতিল করতে চাচ্ছেন। এমনকি টেক্সাসের কৃষি কমিশনার সিড মিলারও ডাটা সেন্টারের এই উদ্ভূত পরিস্থিতি ও প্রণোদনার বিষয়টি নিয়ে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে একটি বিশেষ আইনসভা অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ঘাতক এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে সংঘটিত এই জোড়া খুনের সঙ্গে ৩১ বছর বয়সী যিশুস আকোস্তা নামের এক ব্যক্তি জড়িত বলে নিশ্চিত করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি)। ভয়ংকর এই বন্দুকধারী বর্তমানে পলাতক থাকায় শহরজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রথম মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয়। সেখানে আকস্মিক সশস্ত্র হামলায় ৪৪ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মী মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এবং অপর একজন পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র দুদিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার ভোরে ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৪৯ স্ট্রিটের একটি বডেগায় (দোকান) ফের হামলা চালানো হয়। সেখানে এক বন্দুকধারী ৩৩ বছর বয়সী এক ক্রেতাকে সরাসরি বুকে গুলি করে হত্যার পর ক্যাশ কাউন্টার থেকে অর্থ লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ব্রুকলিনের রেস্তোরাঁ ও ব্রঙ্কসের বডেগায় সংঘটিত দুটি ঘটনাতেই একই ব্যক্তি জড়িত। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন যিশুস আকোস্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সে এর আগেও অস্ত্র রাখা ও হামলার অভিযোগে দীর্ঘ ১০ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি গত এপ্রিলে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিল। তাকে ধরতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো তথ্য দিয়ে সহায়তার জন্য সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পলাতক এই ঘাতককে ধরতে ইউনাইটেড বডগেস অব আমেরিকা ৫ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণাও করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহারের আহ্বান নিউসমের
নিউইয়র্কে ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রীতির আহ্বান মেয়র মামদানির
নিউইয়র্কে ১৫ বছরের কিশোরকে মাথায় গু লি করে হ ত্যা, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ১৬ বছরের কিশোরের
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য বহুল প্রচলিত এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসা প্রোগ্রাম পুরোপুরি বাতিল করার দাবি ফের জোরদার হয়েছে। ফক্স নিউজের উপস্থাপিকা লরা ইনগ্রাহাম এবং ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্রেগ স্টিউবি সম্প্রতি এই ভিসা বাতিলের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এই ভিসা ব্যবস্থার কারণে আমেরিকান কর্মীরা চাকরি হারাচ্ছেন এবং দেশীয় শ্রমিকদের স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এরই মাঝে মার্কিন প্রশাসন এইচ-ওয়ানবি ভিসাকে আরও ব্যয়বহুল করতে নতুন এক বিশাল ফি আরোপের পথে হাঁটছে। ফক্স নিউজের ‘দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে গ্রেগ স্টিউবি জানান, তার প্রস্তাবিত বিলটি পাস হলে এইচ-ওয়ানবি প্রোগ্রামটি একেবারে বাতিল হয়ে যাবে। প্রমাণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও বিনোদন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। স্টিউবি উল্লেখ করেন, মাইক্রোসফট ১৬ হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করার পর এইচ-ওয়ানবি ভিসায় ৯ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। একইভাবে, ডিজনি ২৫০ জন আমেরিকানকে চাকরিচ্যুত করে উল্টো তাদের দিয়েই এইচ-ওয়ানবি ভিসায় আসা নতুন বিদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে বাধ্য করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দেশীয় শ্রমিকদের এই শোষণের অবসান ঘটাতে স্টিউবি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘এক্সাইল অ্যাক্ট’ (EXILE Act) নামের একটি বিল উত্থাপন করেছেন। এদিকে লরা ইনগ্রাহাম স্মরণ করিয়ে দেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ২০১৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের আগে এই ভিসা বাতিল করার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রেখেছিলেন। আইনপ্রণেতাদের এই ভিসা বাতিলের দাবির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এইচ-ওয়ানবি ভিসার জন্য নতুন একটি বিশাল ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ক্যাপ-সাবজেক্ট অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোটার আওতাভুক্ত প্রতিটি এইচ-ওয়ানবি পিটিশনের জন্য আবেদনকারীকে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ মার্কিন ডলার ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি বিদ্যমান অন্যান্য স্বাভাবিক চার্জের অতিরিক্ত হিসেবে ধার্য করা হবে। ডিএইচএস-এর অনুমান, বার্ষিক ৮৫ হাজার ক্যাপ-সাবজেক্ট পিটিশনের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন ফি থেকে সরকারের প্রতি বছর প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় হবে। এই প্রস্তাবের বিষয়ে আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জনসাধারণের মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা এইচ-ওয়ানবি ভিসা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ভিসা ব্যবস্থার সমর্থকরা মনে করেন, এই প্রোগ্রামটি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশেষায়িত দক্ষ কর্মী নিয়োগে সাহায্য করে। অন্যদিকে, সমালোচকদের দাবি, কোম্পানিগুলো সস্তায় কর্মী নিয়োগের জন্য এই ভিসার অপব্যবহার করছে এবং দেশীয় শ্রমিকদের প্রতিস্থাপন করছে। প্রশাসনের এই বিপুল ফি আরোপের প্রস্তাব এবং কংগ্রেসের ভিসা বাতিলের প্রচেষ্টা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দুটি ভিন্ন রূপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দুই সপ্তাহ আইসিই হেফাজতে থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফিরছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিক্ষিকা
অটিস্টিক সন্তানকে হাড়কাঁপানো শীতে গ্যারেজে আটকে হ ত্যার দায়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হাইস্পিড ‘বুলেট ট্রেন’ প্রকল্পে অর্থসংকট, মাঝপথে থেমে যাওয়ার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের মধ্যে শরিয়াহসম্মত হোম ফাইন্যান্সিং নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। প্রচলিত মর্টগেজের বিকল্প হিসেবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইসলামিক শরিয়া ভিত্তিক লোন নিয়ে কাজ করে তার মধ্যে ইজারা ইসলামিক ফাইন্যান্স একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রচলিত সুদভিত্তিক লোনের পরিবর্তে লিজ বা ভাড়াভিত্তিক ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। ইজারার একটি প্রচলিত কাঠামো হলো ‘লিজ টু ওন’ বা ‘লিজ টু পারচেজ’, যেখানে ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন সম্পত্তি গ্রাহকের কাছে লিজ দেওয়া হয় এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে মালিকানা হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকে। প্রচলিত মর্টগেজে একজন ক্রেতা ব্যাংক বা লেন্ডারের কাছ থেকে অর্থ লোন নিয়ে বাড়ি কেনেন এবং সেই টাকার ওপর ইন্টারেস্ট পরিশোধ করেন। অন্যদিকে, ইজারা কাঠামোতে সম্পত্তির মালিকানা ও লিজের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মাসিক পেমেন্ট নির্ধারণ করা হয়। তবে ইজারা ফাইন্যান্সের নির্দিষ্ট কাঠামো প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। ইজারা ইসলামিক ফাইন্যান্স এবং প্রচলিত মর্টগেজের পার্থক্য সম্পর্কে ইজারা লোন নিয়ে কাজ করা ফাইন্যান্সিং অফিসার খন্দকার জামিল বলেন, “রেগুলার মর্টগেজে যখন আপনি বাড়ি কেনেন, ওই বাড়িতে আপনার ইন্টারেস্ট ইনভলভ থাকে। অর্থাৎ আপনি ধরেন ৫০০,০০০ ডলার লোন নিলেন, প্রতি মাসে আপনাকে যে পেমেন্ট করতে হবে, তার একটি অংশ যাবে ৫০০,০০০ ডলারের লোনের অংশ হিসেবে, আর বাকিটা যাবে ইন্টারেস্ট হিসেবে।” ইজারা পদ্ধতি সম্পর্কে খন্দকার জামিল বলেন, “ইজারা ইসলামী ফাইন্যান্স হচ্ছে লিজ টু ওন পদ্ধতি। এখানে ইন্টারেস্ট বিষয়টি ইনভলভ থাকে না। এটা কাজ করে এরকম যে ইজারা একটা ট্রাস্ট গঠন করে, বাড়ির মালিকানা থাকে ট্রাস্টের নামে এবং আপনি একজন টেন্যান্ট হিসেবে বাড়িতে বসবাস করেন।” তিনি আরও বলেন, “প্রতি মাসে আপনি যে পেমেন্ট দেবেন, পেমেন্টের একটি অংশ লোনের অংশ হিসেবে যাবে আর বাকিটা রেন্ট হিসেবে যাবে। এখানে আপনি ইন্টারেস্ট পেমেন্ট করছেন না। এখানে আপনি রেন্টের মাধ্যমে প্রফিটটা পে করছেন।” ইজারা কাঠামোর ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিকানা, লিজের শর্ত এবং মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চুক্তির ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। সাধারণ ইজারা নীতিতে ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান বা লেসর সম্পত্তির মালিক হিসেবে সেটি গ্রাহকের কাছে লিজ দেয়। লিজ টু ওনকাঠামোয় পরবর্তীতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকে। খন্দকার জামিলের ব্যাখ্যায়, দুই ব্যবস্থার মূল পার্থক্য হলো প্রচলিত মর্টগেজে ঋণের ওপর ইন্টারেস্ট পরিশোধ করা হয়, আর ইজারা কাঠামোয় সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য রেন্টভিত্তিক পেমেন্টের মাধ্যমে ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ইজারা ফাইন্যান্সিং পণ্য শরিয়াহসম্মত কি না, তা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চুক্তির সম্পূর্ণ কাঠামো, মালিকানা ব্যবস্থা, রেন্ট, প্রফিট এবং অন্যান্য শর্ত আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
জন্মের আগে গর্ভপাত চেয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি, জন্মের পর সেই শিশুরই অভিভাবকত্ব দাবি
‘আর কাউকে চুমু দিতে দেব না’ বলেই প্রেমিকার ঠোঁট কামড়ে ছিঁ ড়ে ফেললেন প্রেমিক