সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

সেলিব্রিটির ছবি দিয়ে Facebook-এ বিনিয়োগের ফাঁদ, অবসরের সঞ্চয় হারালেন মার্কিন দম্পতি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৪, ২০২৬ ০:১০
সেলিব্রিটির ছবি দিয়ে Facebook-এ বিনিয়োগের ফাঁদ
সেলিব্রিটির ছবি দিয়ে Facebook-এ বিনিয়োগের ফাঁদ

Facebook-এ প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘Shark Tank’-এর একজন উপস্থাপকের ছবি ব্যবহার করে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞাপনটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে তাতে ক্লিক করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা মরি ডেইনো। এরপর তাঁকে নেওয়া হয় একটি কথিত বিনিয়োগ ক্লাবে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সেটি প্রকৃত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সংঘবদ্ধ প্রতারকদের পরিচালিত একটি নেটওয়ার্ক ছিল।

 

প্রতারকদের কথায় চীনের একটি কমদামি কোম্পানির শেয়ার কিনে ডেইনো ও তাঁর স্ত্রী শেষ পর্যন্ত ৭ লাখ ১৫ হাজার ডলার হারান। এই অর্থ ছিল তাঁদের অবসরজীবনের প্রায় পুরো সঞ্চয়। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, ‘Shark Tank’, এর উপস্থাপক কিংবা কোনো গোপন ও লাভজনক বিনিয়োগ কৌশলের সঙ্গে বিজ্ঞাপনটির বাস্তবে কোনো সম্পর্ক ছিল না। 

 

ডেইনোসহ চার বিনিয়োগকারী ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে Facebook ও Instagram-এর মালিক প্রতিষ্ঠান Meta Platforms-এর বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত শ্রেণিভুক্ত মামলা করেন। তাঁদের অভিযোগ, ভুয়া বিজ্ঞাপনগুলো Meta-র প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যবহারকারীদের Meta-র মালিকানাধীন WhatsApp-এর ব্যক্তিগত গ্রুপে নিয়ে যাওয়া হতো।

 

সেখানে প্রতারকেরা কখনো আর্থিক উপদেষ্টা, কখনো পরিচিত বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ অথবা প্রতিষ্ঠিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতেন। এরপর বিদেশি কোম্পানির শেয়ার কেনার জন্য গ্রুপের সদস্যদের চাপ দেওয়া হতো। মামলার নথি অনুযায়ী, এসব শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে প্রতারকেরা নিজেদের কাছে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতেন। বিপুল বিক্রির পর শেয়ারের দাম ধসে পড়লে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের অর্থ হারাতেন।

 

এ ধরনের প্রতারণা আর্থিক বাজারে ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’ নামে পরিচিত। প্রথমে মিথ্যা প্রচার, ভুয়া সুপারিশ ও সাজানো সাফল্যের গল্পের মাধ্যমে কোনো কমদামি শেয়ারের চাহিদা এবং মূল্য বাড়ানো হয়। দাম যথেষ্ট বেড়ে গেলে প্রতারকেরা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেয়। পরে শেয়ারের দর দ্রুত পড়ে গেলে ক্ষতির বোঝা থেকে যায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় গোপন করে বা অন্য ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের শেয়ার প্রচারের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। 

 

তবে Meta-কে এই ক্ষতির জন্য দেওয়ানি আইনে দায়ী করার প্রচেষ্টা এখন একটি জটিল আইনি বাধার মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহে সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল আদালতে শুনানির সময় বিচারক উইলিয়াম অরিক জানান, বিচারিক এখতিয়ারের প্রশ্নে ডেইনোদের মামলা এবং একই ধরনের আরেকটি মামলা খারিজ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তখনো ঘোষণা করা হয়নি।

 

Meta বলছে, মামলার মূল অভিযোগ যেহেতু শেয়ার কেনাবেচা এবং সিকিউরিটিজ জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই এটিকে সাধারণ ভোক্তা অধিকার আইনের অধীনে শ্রেণিভুক্ত মামলা হিসেবে পরিচালনা করা যাবে না। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৮ সালের Securities Litigation Uniform Standards Act বা SLUSA-এর ওপর নির্ভর করছে। এই আইন অনুযায়ী, শেয়ার বা অন্যান্য সিকিউরিটিজ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত প্রতারণার অভিযোগকে অঙ্গরাজ্যের ভোক্তা সুরক্ষা আইনের অধীনে নির্দিষ্ট ধরনের শ্রেণিভুক্ত মামলা হিসেবে চালানোর সুযোগ সীমিত।

 

একই ধরনের আরেকটি মামলা জুন মাসে বিচারক রিচার্ড সিবর্গ খারিজ করেছিলেন। তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালতে আবেদন বিচারাধীন। তবে মামলাটি এমনভাবে খারিজ করা হয়েছিল যাতে বাদীরা ফেডারেল সিকিউরিটিজ আইন কিংবা ভিন্ন কোনো আইনি ভিত্তিতে আবার মামলা করার সুযোগ পান।

 

এর আগে Meta যুক্তি দিয়েছিল, Communications Decency Act-এর Section 230 অনুযায়ী ব্যবহারকারীদের তৈরি কনটেন্টের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে সাধারণত দায়ী করা যায় না। Meta-র আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের বেআইনি বক্তব্য প্রতারকেরাই তৈরি করেছে।

 

কিন্তু মার্চে বিচারক সিবর্গ বলেছিলেন, মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না যে Meta-র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি বা আরও কার্যকরভাবে প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। সে ক্ষেত্রে অবৈধ কনটেন্ট তৈরিতে প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব অংশগ্রহণের প্রশ্ন উঠতে পারে এবং Section 230-এর সুরক্ষা প্রযোজ্য না-ও হতে পারে।

 

এরপরই Meta সিকিউরিটিজ আইনের ভিত্তিতে নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণ করে। বিনিয়োগকারীদের আইনজীবী অ্যান্ড্রু রবার্টসনের দাবি, তাঁর পরিচালিত মামলাগুলোতে হাজারো বিনিয়োগকারীর শত শত মিলিয়ন ডলার ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতারণার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের অধিকার অন্যান্য অনলাইন প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

 

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছেন, একই ধরনের ভুয়া বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো গৃহস্থালি পণ্য কিনিয়ে প্রতারণা করা হলে Meta-র বিরুদ্ধে ভোক্তা সুরক্ষা মামলা করার সুযোগ থাকতে পারে। অথচ বিজ্ঞাপনটি কাউকে শেয়ার কিনতে প্ররোচিত করলে সিকিউরিটিজ আইনের কারণে একই সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফেডারেল সিকিউরিটিজ মামলা পরিচালনায় অভিযোগ প্রমাণের মানও সাধারণ ভোক্তা মামলার তুলনায় কঠোর।

 

Meta কোনো অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সর্বশেষ প্রতিবেদন তৈরির সময় প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র Reuters-এর মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। অন্যদিকে কিছু শেয়ার কারসাজির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত প্রতারকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে। তবে সেসব ফৌজদারি মামলায় Meta-কে অভিযুক্ত করা হয়নি।

 

এর আগে Meta-র অভ্যন্তরীণ নথির ভিত্তিতে Reuters-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে প্রতারণা ও নিষিদ্ধ পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে মোট রাজস্বের প্রায় ১০ শতাংশ বা আনুমানিক ১৬ বিলিয়ন ডলার আসতে পারে বলে হিসাব করেছিল। নথিতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ বিলিয়ন উচ্চঝুঁকির প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীদের সামনে প্রদর্শিত হওয়ার অভ্যন্তরীণ অনুমানের কথাও উল্লেখ ছিল।

 

Meta তখন বলেছিল, ওই হিসাব ছিল প্রাথমিক এবং অতিরিক্ত বিস্তৃত; এর মধ্যে অনেক বৈধ বিজ্ঞাপনও অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা বিশ্বব্যাপী প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের অভিযোগ ৫৮ শতাংশ কমিয়েছে এবং ২০২৫ সালে ১৩ কোটি ৪০ লাখের বেশি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সরিয়েছে। 

 

Meta ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানায়, পরিচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ছবি ব্যবহারকারী কয়েকটি প্রতারক বিজ্ঞাপনদাতার বিরুদ্ধে তারা মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, ভুয়া বিজ্ঞাপনে ছবি ব্যবহারের ঝুঁকিতে থাকা পাঁচ লাখের বেশি পরিচিত ব্যক্তি ও জনপরিচিত মুখকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। 

 

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু হওয়া প্রতারণায় ভুক্তভোগীরা মোট ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার হারানোর তথ্য দিয়েছেন। এসব ক্ষতির অর্ধেকের বেশি ছিল বিনিয়োগ প্রতারণাসংক্রান্ত। একই বছরে সব ধরনের বিনিয়োগ প্রতারণায় মোট ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া যায় এবং একজন ভুক্তভোগীর মধ্যম ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ডলারের বেশি। 

 

FINRA ও FBI সতর্ক করেছে, প্রতারকেরা Facebook বা Instagram-এ ভুয়া বিনিয়োগ ক্লাবের বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবহারকারীদের WhatsApp কিংবা Telegram-এর এনক্রিপ্টেড গ্রুপে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে পরিচিত আর্থিক বিশেষজ্ঞের নাম, চুরি করা ছবি, ভুয়া নিবন্ধনপত্র, সাজানো লেনদেনের স্ক্রিনশট এবং অন্য সদস্যদের কৃত্রিম প্রশংসা ব্যবহার করে বিশ্বাস তৈরি করা হয়। কখনো ভুয়া লাভ দেখিয়ে আরও অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়; টাকা তুলতে চাইলে কর, ফি বা অতিরিক্ত জামানতের নামে নতুন করে অর্থ দাবি করা হয়। 

 

বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অযাচিত বিনিয়োগ প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া, ‘নিশ্চিত মুনাফা’ বা ‘ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ’-এর দাবি বিশ্বাস না করা এবং WhatsApp বা Telegram গ্রুপের তথ্যের ভিত্তিতে অর্থ বিনিয়োগ না করা। কোনো ব্যক্তি নিজেকে আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দিলে FINRA BrokerCheck ও সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে তাঁর নিবন্ধন যাচাই করা উচিত।

 

প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ব্যাংক বা ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে লেনদেন আটকে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। বিজ্ঞাপন, কথোপকথন, ফোন নম্বর, ব্যাংক হিসাব, লেনদেনের রসিদ ও ডিজিটাল ওয়ালেটের তথ্য সংরক্ষণ করে FBI-এর Internet Crime Complaint Center এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অভিযোগ করা যেতে পারে। কারণ অর্থ পাঠানোর পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থের গতিপথ শনাক্ত বা লেনদেন থামানোর সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কের ববি নামে এক বৃদ্ধ
দই ভেবে প্রায় আধা লিটার রং খেলেন নিউইয়র্কের ৯০ বছরের বৃদ্ধ

দই ভেবে প্রায় আধা লিটার রং খেয়ে ফেলেছিলেন নিউইয়র্কের ববি নামে এক বৃদ্ধ। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির ওই ঘটনার সময় তাঁর বয়স ৯০ বছর বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়। নাতনি অ্যালেক্স স্টেইন মুখে সবুজ রং লেগে থাকা ববির ছবি প্রকাশ করলে তা দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।  দই ছিল ববির পছন্দের খাবার। পরিবারের সদস্যরা তাঁর জন্য নিয়মিত বড় পাত্রে দই কিনে রাখতেন। অ্যালেক্সের বক্তব্য অনুযায়ী, হালকা সবুজ রঙের একটি পাত্রকে দইয়ের পাত্র মনে করে ভুলটি করেছিলেন তাঁর দাদা।    ২০১৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি টুইটারে ঘটনাটি জানান অ্যালেক্স। তাঁর দাবি ছিল, ববি প্রায় আধা কোয়ার্ট রং খেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের তরল পরিমাপ অনুযায়ী, এই পরিমাণ প্রায় ৪৭৩ মিলিলিটার। পোস্টের সঙ্গে রঙের পাত্র ও ববির ছবি প্রকাশ করা হয়।  পরিবার পয়জন কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। অ্যালেক্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর ববি ভালো ছিলেন। তবে এটি পরিবারের দেওয়া তথ্য; তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চিকিৎসার বিস্তারিত নথি ওই প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি।    ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর অনলাইনে ববি ‘পেইন্ট গ্র্যান্ডপা’ নামে পরিচিত হন। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং তাঁর ছবি ব্যবহার করে নানা মিম তৈরি হয়। এটি ২০১৯ সালের ঘটনা।    তবে রং খেয়ে কারও তাৎক্ষণিক সমস্যা না হওয়াকে নিরাপদ হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যাপিটাল পয়জন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, রঙের উপাদান ও ধরনভেদে স্বাস্থ্যঝুঁকি ভিন্ন হয়। বিশেষ করে তেলভিত্তিক রং গেলার সময় ফুসফুসে ঢুকে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভুল করে রং বা সম্ভাব্য বিষাক্ত কিছু খেলে যুক্তরাষ্ট্রে পয়জন কন্ট্রোলের ১ ৮০০ ২২২ ১২২২ নম্বরে পরামর্শ নেওয়া যায়।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২:৪৪
নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় আগের পরিচয় ও অভিবাসন-ইতিহাস গোপনের অভিযোগে শিকাগোর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

১৫ বছর আগে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ, হতে পারে বহিষ্কারও

যুক্তরাষ্ট্রে সনদপ্রাপ্ত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সহকারী হিসেবে বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করছেন চাবেলি রদ্রিগেজ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মেডিকেল স্কুলে না পড়েও হাসপাতালে বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় ৩০ বছর বয়সী নারীর

ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে পণ্য কেনাবেচার সাক্ষাতকে কেন্দ্র করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় সতর্ক করেছে শিকাগো পুলিশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে পণ্য কেনাবেচার নামে ছিনতাই, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পুলিশের সতর্কতা জারি

স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নির্ভরযোগ্যতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গবেষণা করছেন এমআইটির অধ্যাপক মারজিয়েহ ঘাসেমি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সংখ্যালঘু রোগীদের চিকিৎসায় বৈষম্য কমাতে এআই নিয়ে গবেষণা করছেন এমআইটির ইরানি বংশোদ্ভূত অধ্যাপক

চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সিদ্ধান্তে বৈষম্যের ঝুঁকিও সামনে আসছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে এআইয়ের ভুল পূর্বাভাস বা পক্ষপাতপূর্ণ সুপারিশ ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ঝুঁকি কমিয়ে চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ করতে গবেষণা করছেন ইরানি-আমেরিকান গবেষক মারজিয়েহ ঘাসেমি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক এবং স্বাস্থ্যসেবায় যন্ত্রশিক্ষার ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন।   এমআইটির ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সের মূল অনুষদ সদস্য এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ঘাসেমি হেলদি এমএল ল্যাবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো, চিকিৎসায় ব্যবহৃত এআই মডেলগুলো কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন তথ্যের ওপর নির্ভর করছে এবং সেসব সিদ্ধান্তে রোগীভেদে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করার পদ্ধতি তৈরি করা।   এমআইটির ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঘাসেমির গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, চিকিৎসায় এআইয়ের কার্যকারিতা শুধু গড় নির্ভুলতার ওপর নির্ভর করে না। বিভিন্ন হাসপাতাল ও জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে মডেলটি সমানভাবে নির্ভরযোগ্য কি না, ভুল তথ্য থেকে ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত শিখছে কি না এবং বাস্তবে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করছে কি না, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।   ঘাসেমির গবেষণাগারে এআই মডেলের ব্যর্থতা শনাক্ত করা, পূর্বাভাসের অনিশ্চয়তা পরিমাপ করা, পক্ষপাত কমানো এবং চিকিৎসক ও রোগীদের জন্য প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার পদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসায় এআইয়ের সম্ভাব্য সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিটির সীমাবদ্ধতাও বোঝার চেষ্টা করছেন গবেষকেরা।   চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণে নতুন চ্যালেঞ্জ: ঘাসেমির গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা-তথ্য একত্র করে রোগীর কখন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বা জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে, তা আগেভাগে অনুমান করা। এ কাজে রোগীর শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক পরিমাপ, পরীক্ষাগারের ফলাফল, চিকিৎসকদের লিখিত নোট এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জিনগত ও পরিবেশগত তথ্য ব্যবহার করা হয়।   তবে এসব তথ্য এক ধরনের নয়। কোনো তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়, আবার কোনো পরীক্ষা করা হয় নির্দিষ্ট প্রয়োজন দেখা দিলে। চিকিৎসকদের নোটও বিভিন্ন সময়ে তৈরি হয়। পাশাপাশি সব রোগীর ক্ষেত্রে সমান পরিমাণ বা একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায় না। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করে নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া একটি জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।   এই সমস্যা মোকাবিলায় গবেষকেরা পুনরাবৃত্ত নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং কনভল্যুশনাল নিউরাল নেটওয়ার্কের মতো যন্ত্রশিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এসব পদ্ধতির সাহায্যে রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে কখন চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, তা অনুমান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মডেল কোনো পূর্বাভাস দিতে পারলেই সেটিকে সরাসরি চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা নিরাপদ হয়ে যায় না।   ঘাসেমির মতে, বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা-তথ্য একত্র করে তৈরি মডেল পূর্বাভাসের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। কিন্তু চিকিৎসার বাস্তব পরিবেশে ব্যবহারের আগে মডেলটি কী শিখেছে এবং কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা পরীক্ষা করা জরুরি। চিকিৎসায় এআইয়ের একটি বড় উদ্বেগ হলো, প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত তথ্যের মধ্যেই যদি বৈষম্য থাকে, তাহলে মডেলও সেই বৈষম্য শিখে নিতে পারে। কোনো রোগী গোষ্ঠীর তথ্য পর্যাপ্ত না থাকলে অথবা তথ্যের মধ্যে বিদ্যমান অসমতা যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হলে, মডেলটি এক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ভালো ফল দিলেও অন্য গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কম নির্ভুল হতে পারে।   এ ধরনের সমস্যা রোগ শনাক্তকরণ, রোগের ঝুঁকি নির্ধারণ কিংবা চিকিৎসার সুপারিশে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শুধু সামগ্রিকভাবে একটি মডেল কতটা নির্ভুল, তা যাচাই করাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা এবং ভুলের ধরনও আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।   ঘাসেমির গবেষণা এই ঝুঁকিগুলো শনাক্ত ও কমানোর উপায় খুঁজছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন গবেষক দল এমন পদ্ধতি তৈরি করছে, যার মাধ্যমে এআইয়ের সিদ্ধান্তের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকর পক্ষপাত সম্পর্কে আগেই ধারণা পাওয়া সম্ভব হতে পারে।   চিকিৎসায় এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়বে, প্রযুক্তির নির্ভুলতার পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ঘাসেমির গবেষণা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। তবে গবেষণার উদ্দেশ্য সব ধরনের বৈষম্য ইতিমধ্যে দূর করা নয়; বরং চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে এআই মডেলের সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করা এবং রোগীদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করা।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ২১:৫৭
মার্কিন কংগ্রেসে ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলার করার প্রস্তাব নিয়ে শ্রমিকদের আয় ও কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিতর্ক চলছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলার করার উদ্যোগ, বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তার অভিযোগ

ওয়ালমার্টে ৪৪ বছরের কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ফুলের তোড়া হাতে কর্মী গেইল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪ বছর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ালমার্ট কর্মীর হাতে তুলে দেওয়া হয় কেবল এক তোড়া ফুল

আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দশম বার্ষিক সম্মাননা
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দশম বার্ষিক সম্মাননা, পুরস্কার পেলেন ১০ ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) দশম বার্ষিক সম্মাননা নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কর্মকর্তা, বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব, পেশাগত সাফল্য, জনসেবা ও কমিউনিটির প্রতি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হয়।    নিউইয়র্কের কুইন্সে ডিএ মাইকেল ইলাজিও পার্টি হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছয় শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এটি বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি পুলিশ বিভাগ ও প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারের একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে।    অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের কমিশনার জেসিকা এস. টিশ বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা ও অবদানের প্রশংসা করেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে আত্মত্যাগের জন্য স্মরণ করা হয় পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামকে।    নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক শহরে বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যরা কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে এ অনুষ্ঠানে তাঁদের নির্দিষ্ট অবদানের কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।   বাপার সভাপতি ক্যাপ্টেন এ কে এম প্রিন্স আলম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি পুলিশ বিভাগ ও কমিউনিটির মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সার্জেন্ট এসডিএস এরশাদুর সিদ্দিকী সদস্যদের ঐক্য, পেশাগত উন্নয়ন ও কমিউনিটির কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।   অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাপার সাধারণ সম্পাদক ডিটেকটিভ জামিল সরওয়ার স্পনসর, সহযোগী, স্বেচ্ছাসেবক ও অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের শিল্পী শুভ্রদেব এবং প্রবাসের শিল্পী রাজীব ভট্টাচার্য ও শশী। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।    বাপার দশম বার্ষিক সম্মাননা আয়োজন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের পেশাগত অর্জন ও নেতৃত্বকে সামনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিদের একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে পারস্পরিক পরিচিতি, সহযোগিতা ও যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।   এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জনসেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে পেশাগতভাবে যুক্ত হওয়ার আগ্রহও উৎসাহিত হতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য প্রভাব; অনুষ্ঠানের ফলে এমন পরিবর্তন ঘটেছে—এমন কোনো পরিমাপযোগ্য তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৮:৫৭
নিজের বাড়িতে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে লোহার সাবল দিয়ে মারধরের শিকার

কুইনসে বাড়িতে ঢুকে হামলা, প্রাণ বাঁচাতে মৃতের অভিনয় করলেন ব্যক্তি

একটি বিপণিবিতানের সামনে বাবার কোলে থাকা ২২ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু

জুতার দোকানের সামনে বাবার কোলে থাকা ২২ মাসের শিশু, নিয়ন্ত্রণ হারানো গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল নক্সের

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন এলাকার বাসায়

ইলহান ওমরের বাসায় ফেডারেল তল্লাশি, তদন্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্ক

0 Comments