সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

উড়োজাহাজের জানালা ভেঙে বাইরে ছিটকে পড়া স্বামীকে পা ধরে বাঁচালেন স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ৯:২০
আন্তর্জাতিক বিমান।ছবি:সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বিমান।ছবি:সংগৃহীত

গ্রিস থেকে জার্মানির উদ্দেশে উড্ডয়ন করা রায়ানএয়ারের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে ঘটে যাওয়া এক রুদ্ধশ্বাস ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাঝআকাশে হঠাৎ একটি জানালা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ৬১ বছর বয়সী এক যাত্রী আংশিকভাবে উড়োজাহাজের বাইরে ছিটকে যেতে থাকেন। সেই সংকটময় মুহূর্তে তার স্ত্রী দুই পা শক্ত করে ধরে রাখেন। পরে অন্য যাত্রীদের সহায়তায় তাকে কেবিনের ভেতরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। দ্রুত জরুরি অবতরণ করিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো হয়। 

 


তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি ঘটে ১০ জুলাই গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনগামী বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর যাত্রীরা বিকট বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনতে পান। এর পরপরই একটি জানালা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কেবিনের ভেতরের বায়ুচাপ দ্রুত কমে যায়। প্রবল বায়ুচাপের কারণে জানালার পাশে বসা ওই যাত্রী বাইরে টেনে নেওয়া হতে থাকেন।

 


যাত্রীর স্ত্রী সভেতলানা ম্যাকসিমোভিচ জানান, সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছিল যে চিন্তা করার সময়ও ছিল না। তিনি সঙ্গে সঙ্গে স্বামীর পা শক্ত করে ধরে ফেলেন। প্রায় দুই মিনিট ধরে তিনি সর্বশক্তি দিয়ে স্বামীকে ধরে রাখেন। পরে পাশের সারিতে থাকা আরও দুই যাত্রী এগিয়ে এসে আহত ব্যক্তিকে কেবিনের ভেতরে টেনে আনতে সহায়তা করেন।

 


প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, জানালা বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উড়োজাহাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই চিৎকার শুরু করেন এবং অক্সিজেন মাস্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেমে আসে। কেবিন ক্রুরা যাত্রীদের শান্ত রাখার চেষ্টা করেন এবং সবাইকে আসনে বসে নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলেন।

 


পাইলট পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। উড়োজাহাজটি নিরাপদে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবতরণের পর চিকিৎসাকর্মীরা আহত যাত্রীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

 


চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রীর মাথা, ঘাড়, হাত এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তবে দ্রুত উদ্ধার এবং সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক ট্রমার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছেন।

 


রায়ানএয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিকল্প একটি উড়োজাহাজের মাধ্যমে অন্য যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 


প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিনের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে জানালায় আঘাত করলে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কেবিনে হঠাৎ বায়ুচাপ কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এটি এখনও তদন্তাধীন বিষয় এবং চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করেনি।

 


গ্রিসের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা উড়োজাহাজের প্রযুক্তিগত তথ্য, ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার, ককপিট ভয়েস রেকর্ডার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরীক্ষা করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।

 


আধুনিক উড়োজাহাজে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তবে এই ঘটনায় কেবিন ক্রু, পাইলট, যাত্রীদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা এবং একজন স্ত্রীর অসাধারণ সাহসিকতার কারণে একটি সম্ভাব্য প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা বড় ট্র্যাজেডিতে রূপ নেওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের রিসোর্টে ভ য়াবহ হত্যাকাণ্ড, স্বামী ও তিন বছরের সন্তানকে খুনের পর আ ত্মহ ত্যার চেষ্টা মায়ের
যুক্তরাষ্ট্রের রিসোর্টে ভ য়াবহ হত্যাকাণ্ড, স্বামী ও তিন বছরের সন্তানকে খুনের পর আ ত্মহ ত্যার চেষ্টা মায়ের

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় গ্রেট উলফ লজ নামের একটি রিসোর্টে স্বামী ক্রিস ও তিন বছরের সন্তান ট্রিস্টানকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মেটালিকা রোজ হ্যারিসন (২৭) নামের এক নারী। মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পরিবারের সাথে ভিডিও কলে একেবারেই স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিলেন তিনি।   তার সৎমা এপ্রিল থেটগা জানিয়েছেন, মেটালিকা কখনোই মানসিক ভারসাম্যহীনতার কোনো লক্ষণ দেখাননি এবং রোববারের ওই ভিডিও কলে তাকে পুরোপুরি স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। কথোপকথনের সময় মেটালিকা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই পরিবারের সবাইকে ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন।   পুলিশি তদন্ত এবং সৎমায়ের ভাষ্যমতে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর মেটালিকা ৯১১-এ কল করে তার স্বামী ও সন্তানকে খুনের কথা জানান এবং কীভাবে নিজে আত্মহত্যা করবেন সে বিষয়ে সহায়তা চান।   পরবর্তীতে বাথরুমের মেঝে থেকে একটি কসাইয়ের ছুরি এবং সিঙ্ক থেকে আরেকটি ছোট ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। সৎমা এপ্রিল জানান, মেটালিকা বাসা থেকেই ওই ছুরিগুলো সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন, যা থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে তিনি আগে থেকেই এই হত্যার ছক কষেছিলেন।   মেটালিকার পরিবার এই ঘটনায় চরমভাবে বিস্মিত ও হতবাক। শিশু ট্রিস্টান ওয়াটার পার্ক খুব পছন্দ করত বলে পরিবারটি রিসোর্টে লম্বা ছুটি কাটাচ্ছিল এবং নিয়মিত আনন্দের মুহূর্তগুলোর ছবিও স্বজনদের কাছে পাঠাচ্ছিল। এমন একটি সুখী পরিবারের পরিণতি কেন এত ভয়ংকর হলো বা এই হত্যার পেছনে মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও সবার কাছে অজানা। মেটালিকার সৎমা জানিয়েছেন, তারা এই ঘটনার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না এবং উত্তরের অপেক্ষায় আছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৩:৫২
মিশিগানে ল্যান্সিং রিভার ট্রেইলে ৫ জনের রহস্যজনক মৃ ত্যু, সিরিয়াল কিলারের আতঙ্কে সতর্কতা

মিশিগানে ল্যান্সিং রিভার ট্রেইলে ৫ জনের রহস্যজনক মৃ ত্যু, সিরিয়াল কিলারের আতঙ্কে সতর্কতা

জোয়ানা ও কেভিন বাপ দম্পতি তাঁদের দুই ছেলে জ্যাকসন

২০ বছর অপেক্ষার পর দুই সন্তানকে নিয়ে সমুদ্রে ৬ হাজার মাইলের অভিযানে পরিবার

মানুষের মস্তিষ্কের মাত্র এক ঘন মিলিমিটার টিস্যুর ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও গুগল রিসার্চের গবেষকেরা। ছবি: সংগৃহীত

মস্তিষ্কের এই ১ ঘন মিলিমিটার অংশের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করতে লেগেছে প্রায় ১৪ লাখ গিগাবাইট ডেটা!

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে সম্পত্তি বা আর্থিক কাজের জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা ব্যবহার করতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা থেকে দেশে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি পাঠানোর সঠিক নিয়ম, একটি ভুলে বাতিল হতে পারে দলিল

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দেশে সম্পত্তি বা আর্থিক কাজের জন্য অন্য কাউকে ক্ষমতা দিতে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা ব্যবহার করতে পারেন। তবে দলিলের উদ্দেশ্য অনুযায়ী খসড়া, স্বাক্ষর, সত্যায়ন এবং বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। শুধু একটি কাগজ নোটারি করিয়ে পাঠালেই সব ধরনের কাজে তা গ্রহণযোগ্য হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিউইয়র্কের কনস্যুলেট ক্ষমতাদাতার সশরীরে উপস্থিতির নির্দেশনা দিয়েছে।    প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে, কাকে ঠিক কোন কাজের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ক্ষমতাদাতার স্বার্থ রক্ষা ও পরবর্তী জটিলতা কমাতে তারা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের স্পেশাল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন করে। তাই সম্পত্তি বিক্রি, ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন বা অন্য কাজের ক্ষমতা দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।    বাংলাদেশের আইনি শ্রেণিবিভাগও গুরুত্বপূর্ণ। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি, বিক্রয়চুক্তি, ঋণের বিপরীতে সম্পত্তি বন্ধক এবং নির্দিষ্ট শর্তে ভূমি উন্নয়নের ক্ষমতা অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির আওতায় পড়ে। এ ধরনের দলিলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। শুধু দলিলের শিরোনামে ‘জেনারেল’ বা ‘স্পেশাল’ লিখে নিবন্ধনের প্রয়োজন নির্ধারণ করা যায় না।    নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেক ক্ষমতাদাতাকে মূল দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। কনস্যুলার অফিসারের সামনে দলিল ও ছবিতে স্বাক্ষর এবং টিপসই দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ফলে আগে থেকেই সব স্বাক্ষর করে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট মিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।    প্রয়োজনীয় কাগজের মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত আবেদনপত্র, ক্ষমতাদাতা ও ক্ষমতাগ্রহীতার পরিচয়পত্রের কপি, সাদা পটভূমিতে সদ্য তোলা ছবি এবং ক্ষমতাদাতার ইউএস ফটো আইডির কপি। সম্পত্তির ক্ষেত্রে মালিকানার দলিল, নামজারি বা উত্তরাধিকারসংক্রান্ত প্রমাণও চাওয়া হয়। নাম পরিবর্তন হয়ে থাকলে আদালতের আদেশের কপি প্রয়োজন হতে পারে। নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের প্রকাশিত নিয়মিত ফি ৫৫ ডলার, ষষ্ঠ পাতা থেকে অতিরিক্ত প্রতি পাতায় ৫ ডলার প্রযোজ্য।    অ্যাপোস্টিল নিয়ে পুরোনো তথ্য অনুসরণ করাও সমস্যার কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের পক্ষ নয়, এমন তথ্য এখন সঠিক নয়। এই কনভেনশন বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ। বাংলাদেশের সরকারি অ্যাপোস্টিল ব্যবস্থার স্বীকৃত দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে।    তবে অ্যাপোস্টিল এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নির বিষয়বস্তু, সম্পাদন ও নিবন্ধনের শর্ত আলাদা বিষয়। তাই সব দলিলের জন্য কাউন্টি ক্লার্ক, সেক্রেটারি অব স্টেট, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এবং বাংলাদেশ মিশনের সত্যায়ন একসঙ্গে বাধ্যতামূলক, এমন সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া ঠিক নয়। নোটারি বা অ্যাপোস্টিলের পথে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন এবং দেশে দলিল গ্রহণকারী দপ্তরের কাছে নির্দিষ্ট দলিলের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে।    বাংলাদেশে মূল দলিল পৌঁছানোর পরও প্রযোজ্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নির্দেশনায় বিদেশের বাংলাদেশ মিশন থেকে সত্যায়িত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দুই সেট ফটোকপিসহ সত্যায়নের জন্য জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। অপ্রত্যাহারযোগ্য দলিলের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ও নিবন্ধনের আইনি বিধানও অনুসরণ করতে হবে।    নিবন্ধনযোগ্য দলিলের মূল কপি, পরিচয়সংক্রান্ত নথি এবং সম্পত্তির তথ্য দেশে যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাঁর কাছে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। জমি বা ফ্ল্যাটের দলিল তৈরির আগে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রযোজ্য সময়সীমা ও কাগজপত্র নিশ্চিত করলে সত্যায়িত দলিল পাঠানোর পর সংশোধন বা পুনরায় সম্পাদনের ঝামেলা কমবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১১:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা স্থায়ীভাবে বাতিল চূড়ান্ত করেছে ডিএইচএস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ভাবে বাতিল হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিটের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা

ক্যাশ অ্যাডভান্স অ্যাপ ক্লিও এআইয়ের ২১ লাখের বেশি গ্রাহককে ১ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রিফান্ড দিচ্ছে এফটিসি। ছবি: সংগৃহীত

ক্লিও এআইয়ের ২১ লাখের বেশি গ্রাহককে ১ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের বেশি ফেরত দিচ্ছে ফেডারেল ট্রেড কমিশন

নিউইয়র্কে মেডিকেইডের ভুয়া বিল জমা দিয়ে ৩ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের অভিযোগে ডেন্টিস্ট সুলেমান নাসিমি গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা জালিয়াতির অভিযোগে বাংলাদেশি চিকিৎসক গ্রেপ্তার

জ্বালানি ও গ্যাসোলিনের দাম বাড়ায় সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ! চাপে পরিবারগুলো

যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগস্টে ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি, বিশেষ করে গ্যাসোলিনের দাম বৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে। এতে পরিবারের যাতায়াত ও দৈনন্দিন ব্যয়ে চাপ অব্যাহত রয়েছে।    আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। আগের মাসে এই বৃদ্ধি ছিল শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ফ্যাক্টসেটের জরিপে অর্থনীতিবিদেরা বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। প্রকাশিত হার সেই পূর্বাভাসের চেয়ে সামান্য বেশি।    সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মৌসুমি সমন্বয়ের পর সেপ্টেম্বরে জ্বালানির দাম আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। শুধু গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে জ্বালানির দাম ২০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গ্যাসোলিনের দাম ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি ছিল।    খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে এর বার্ষিক হার ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ, আগস্টে যা ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এপির প্রতিবেদনে জ্বালানির দামে ইরান যুদ্ধের চলমান প্রভাবকে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।    তবে সব খাতে একইভাবে দাম বাড়েনি। সেপ্টেম্বরে সামগ্রিক খাদ্যের দাম আগের মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত ছিল। বাড়িতে খাওয়ার জন্য কেনা খাদ্যের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমলেও বাইরে খাওয়ার খরচ বেড়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। আবাসন খরচ বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।    ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বার্ষিক মূল্যস্ফীতির অর্থ, ভোক্তা মূল্যসূচকে অন্তর্ভুক্ত পণ্য ও সেবার গড় দাম এক বছর আগের তুলনায় ওই হারে বেড়েছে। পরিবারের নিজস্ব ব্যয় কতটা বেড়েছে, তা নির্ভর করে গ্যাসোলিন, আবাসন, খাদ্য ও অন্যান্য খাতে তাদের খরচের ওপর। তাই জাতীয় গড়ের সঙ্গে প্রত্যেক পরিবারের অভিজ্ঞতা এক হবে না।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৯:৩৪
বাঘের হামলায় তরুণের মৃত্যুর ঘটনার ভিডিও শেয়ারের পর বাঘের সঙ্গে খেলার কৃত্রিম ভিডিও পোস্ট করে বিতর্কে ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের চিড়িয়াখানায় বাঘের হামলায় শিশুশিল্পীর মৃত্যুর পর বাঘ বশ করার এআই ভিডিও পোস্ট ট্রাম্পের

প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার নতুন নাম ঘোষণা করলেন মেলানিয়া ট্রাম্প

এআই নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তির পর শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার নাম বদলালেন মেলানিয়া ট্রাম্প

বাফলো থেকে তিন শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে

বাফলো থেকে তিন শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে ব্রিজ এয়ারওয়েজ

0 Comments