জুমে ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা সেই সিইও এবার নিজেই বরখাস্ত, পদ ফিরে পেতে লড়াই
একটি জুম কলে একসঙ্গে প্রায় ৯০০ কর্মীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন বেটার ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিশাল গর্গ। প্রায় পাঁচ বছর পর এবার নিজের প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ থেকেই বরখাস্ত হয়েছেন তিনি। তবে সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন নিয়ে বোর্ডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন গর্গ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডিজিটাল মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্স হোল্ডিং কোম্পানির বোর্ড চলতি আগস্টে গর্গকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেয়। কোম্পানির বোর্ড তার নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। গর্গ অবশ্য এসব অভিযোগের কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ২০২১ সালের বহুল সমালোচিত সেই জুম কলের কারণে। ওই বছরের ডিসেম্বরে গর্গ প্রায় ৯০০ কর্মীকে একটি অনলাইন মিটিংয়ে ডেকে জানান, তাদের চাকরি তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ছুটির মৌসুমের ঠিক আগে এত কর্মীকে একই জুম কলে ছাঁটাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গর্গ নিজের পদ্ধতির জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেছিলেন, ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি যথাযথ সম্মান ও সংবেদনশীলতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিতর্কের জেরে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি আবার সিইও পদে ফিরে আসেন।
এরপরও বেটারের পরিস্থিতি সহজ হয়নি। আবাসন ও মর্টগেজ বাজারের পরিবর্তন, কর্মী ছাঁটাই এবং আর্থিক ক্ষতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। ২০২৩ সালে শেয়ারবাজারে প্রবেশের প্রথম দিনেই বেটারের শেয়ারের দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে।
এবার গর্গকে সরানোর পর কোম্পানির অন্তর্বর্তী সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড্যানিয়েল লুইস। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্যেই বেটারের ভেতরে নতুন করে বোর্ডরুম লড়াই শুরু হয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্গের পক্ষে থাকা শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশ কোম্পানির বর্তমান নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে চাইছে। গর্গের পক্ষের দাবি, তাদের সঙ্গে এমন বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন যাদের হাতে কোম্পানির প্রায় ৫২ শতাংশ ভোটিং শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তারা অন্তর্বর্তী সিইও লুইসসহ বোর্ডের পাঁচ সদস্যকে সরানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন।
অন্যদিকে বেটারের বোর্ড গর্গকে সরানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্গকে বাদ দিয়ে বোর্ডের অন্য সদস্যরা তাকে সরানোর পক্ষে সর্বসম্মতভাবে ভোট দেন। বোর্ড তার নেতৃত্ব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক উদ্বেগের কথা তুলেছে। গর্গের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের কিছু অংশের সত্যতা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে।
ফলে প্রায় পাঁচ বছর আগে শত শত কর্মীকে এক জুম কলে চাকরি হারানোর খবর দেওয়া যে সিইও নিজেই বিশ্বজুড়ে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছিলেন, এখন সেই গর্গের নিজের চাকরি হারানো এবং আবার সিইও পদ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা বেটারের নতুন করপোরেট লড়াইয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে কেন্দ্রীয় অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর (ICE) ওপর নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়াতে একাধিক নতুন বিলে স্বাক্ষর করেছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। গত মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত এই আইনগুলোর অন্যতম লক্ষ্য হলো রাজ্যটিতে অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ফেডারেল সরকারের নীতির বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়ার নিজস্ব অবস্থান জোরালো করা। নতুন আইনের আওতায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিতর্কিত ‘ইলেকট্রোশক গ্লাভস’ বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হাতমোজার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিষেধাজ্ঞাটি অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। সম্প্রতি ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাদের কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের গ্লাভস কেনার উদ্যোগ নেওয়ার পরই ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এমন কঠোর পদক্ষেপ নিল। নতুন এই আইনগুলোতে শক গ্লাভস নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বেসরকারি ডিটেনশন বা আটক কেন্দ্রগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া অভিবাসন তল্লাশি বা অভিযানের সময় ফ্ল্যাশ-ব্যাং গ্রেনেডের ব্যবহার সীমিত করা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিচালিত সিভিল ডিটেনশন কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। যেসব আইসিই কর্মকর্তা অতীতে গুরুতর অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, তারা যাতে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কোনো সরকারি কর্মী বা পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ না পান, নতুন আইনে সেই নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। গভর্নর নিউসম এক বিবৃতিতে জানান, কেন্দ্রীয় সরকার যখন অভিবাসী সম্প্রদায়কে রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, তখন ক্যালিফোর্নিয়া তাদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এগিয়ে এসেছে। এর আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিই-এর কার্যক্রম সীমিত করার বেশ কিছু উদ্যোগ আইনি বাধার মুখে পড়েছিল। চলতি বছরের শুরুর দিকেই ক্যালিফোর্নিয়ার আরেকটি আইন একটি ফেডারেল আপিল আদালতের আদেশে আটকে যায়। ওই আইনে ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টসহ বেশির ভাগ আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। গত নভেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, এটি সংবিধানের লঙ্ঘন এবং এর ফলে হয়রানি ও সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তবে মঙ্গলবার গভর্নর নিউসম যে বিলগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন, তার মধ্যে ওই মুখ ঢাকা নিষিদ্ধের একটি সংশোধিত ও সীমিত সংস্করণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা অঙ্গরাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়ছে মুসলিমদের সংখ্যা, ২০৪০ সালে ইহুদিদের ছাড়িয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হতে পারে ইসলাম
ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের দুই ঈদ পেল সরকারি ছুটির স্বীকৃতি, কার্যকর নতুন আইন
ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আফ্রিকার বিষধর সাপ গাবুন ভাইপার, আতঙ্কে এলাকাবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার মধ্যে ৩০ দিনের জন্য রাজ্যের জ্বালানি কর স্থগিত করেছেন গভর্নর ব্রায়ান কেম্প। বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কর স্থগিত কার্যকর হয়েছে এবং ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তা বহাল থাকার কথা। জর্জিয়ায় বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলে রাজ্যের মোটর জ্বালানি আবগারি কর ৩৩ দশমিক ৩ সেন্ট এবং ডিজেলে ৩৭ দশমিক ৩ সেন্ট। এই কর স্থগিতের ফলে ওই সময়ের মধ্যে জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে রাজ্য পর্যায়ের এই আবগারি কর আদায় বন্ধ থাকবে। তবে সব পাম্পে একই সময়ে বা পুরো করের সমপরিমাণ দাম কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। গভর্নরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কর স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় জর্জিয়ায় নিয়মিত পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ১৯ ডলার এবং ডিজেলের গড় দাম ৬ দশমিক ২৪ ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবার, ব্যবসা ও কৃষকদের ওপর ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে বলে রাজ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কর স্থগিতের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বাণিজ্যিক যানবাহনের ওপর রাজ্যের নির্ধারিত ওজনসীমাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের ভাষ্য, এর ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ কমতে পারে এবং মুদি পণ্যসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসের দামের ওপর পরিবহন ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে কর স্থগিতের ঘোষণা কার্যকর হলেও জর্জিয়ার প্রতিটি জ্বালানি স্টেশনে সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে যাবে না। কারণ রাজ্যে জ্বালানি কর বিতরণ পর্যায়ে আদায় করা হয়। নতুন সরবরাহ স্টেশনে পৌঁছানোর পর করের পরিবর্তনের প্রভাব খুচরা দামে দেখা যেতে পারে। তাই কোথাও কয়েক দিনের মধ্যে দাম কমতে পারে, আবার কিছু স্টেশনে পরিবর্তন আসতে আরও সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া বাজারদরের অন্যান্য পরিবর্তনের কারণেও কর স্থগিতের পুরো সুবিধা পাম্পের দামে সরাসরি দেখা নাও যেতে পারে। জ্বালানির পাইকারি দাম, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচ একই সময়ে বাড়া বা কমার কারণে খুচরা দামে পরিবর্তনের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। গভর্নর কেম্পের নির্বাহী আদেশে জরুরি অবস্থার মেয়াদে বাণিজ্যিক যানবাহনের ওজনসীমা স্থগিত করার বিষয়টিও রাখা হয়েছে। এর লক্ষ্য জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমানো। রাজ্য কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর প্রভাব মুদি পণ্যসহ বিভিন্ন দৈনন্দিন পণ্যের সরবরাহ ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে। জর্জিয়ায় জ্বালানি কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘটনা এ বছর নতুন নয়। রাজ্য সরকার এর আগেও ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মোটর জ্বালানি কর আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। রাজ্যের রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগের স্থগিতাদেশগুলোও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর ছিল এবং সেগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর আদায় আবার শুরু হয়েছিল। বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের স্থগিতাদেশ ২৯ অক্টোবর শেষ হবে। এরপর নতুন কোনো নির্বাহী আদেশ বা আইনগত সিদ্ধান্ত না হলে রাজ্যের মোটর জ্বালানি আবগারি কর আবার কার্যকর হবে। ফলে আপাতত জর্জিয়ার চালকদের জন্য এটি ৩০ দিনের সাময়িক কর-স্বস্তি, স্থায়ী কর প্রত্যাহার নয়।
এআইয়ের প্রভাবে ২০৩৫ সালের মধ্যে পেশা বদলাতে হতে পারে ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন কর্মীর
মিশিগানের ডে কেয়ারে শিশুর ব্যাগে গুলিভরা পিস্তল, তদন্তে পুলিশ
নিউইয়র্কে সকালে কাজে যাওয়ার পথে সাইকেলের ধাক্কায় আহত হয়ে দুই সন্তানের বাবার মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা থেকে সম্মিলিতভাবে ১৩ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে বিচার বিভাগ। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ঘোষিত এই মামলাগুলোর কয়েকটিতে মৃত স্বজনের নামে আসতে থাকা অর্থ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের একজন শিকাগোর এক নারী, যিনি মায়ের মরদেহ ফ্রিজারে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় আগে সাজা পেয়েছিলেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার বিভাগের ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের এক মাসের অভিযানের পর এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাগুলো পৃথক মামলা; ১৭ জন একসঙ্গে একটি প্রতারণা চক্রে কাজ করেছেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। শিকাগোর ইভা ব্র্যাচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মায়ের মৃত্যুর পরও তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে সোশ্যাল সিকিউরিটির প্রায় ২১ হাজার ৪০২ ডলার নিয়েছেন। বিচার বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি মায়ের নামে আসা খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি স্ন্যাপের সুবিধাও ব্যবহার করেছেন। নতুন এসব আর্থিক অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মায়ের মৃত্যুর তথ্য গোপন এবং জাল পরিচয়পত্র রাখার পৃথক ঘটনায় ব্র্যাচারকে ২০২৩ সালে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে আরও সাজা পেতে হতে পারে। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা নির্ধারিত প্রাপকদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতেই তাঁরা প্রতারণার অভিযোগগুলো তদন্ত করছেন। নতুন মামলাগুলোতে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষী বলা যাবে না।
এইচ-১বি ভিসায় ক্যারিয়ার গড়েও পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা!
বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড় দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন