নিজের জমির বিচার পেতে ১৬ বছর আইন শিখলেন কৃষক, আদালতে পেলেন জয়
প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা মাত্র তিন বছর। আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্যও ছিল না। কিন্তু রাসায়নিক বর্জ্যে নিজের ও প্রতিবেশীদের কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার অভিযোগের বিচার পেতে হাল ছাড়েননি চীনের কৃষক ওয়াং এনলিন। দীর্ঘ ১৬ বছর নিজে আইন শিখে রাষ্ট্রায়ত্ত রাসায়নিক কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে প্রাথমিক রায়ে তার ও গ্রামের অন্য কৃষকদের পক্ষেই সিদ্ধান্ত দেন আদালত।
ঘটনাটি চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশের ইউশুতুন গ্রামের। ২০১৭ সালে এএফপি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ওয়াংয়ের এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের খবর প্রকাশিত হয়। প্রায় এক দশক পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গল্পটি আবারও ছড়িয়ে পড়েছে।
ওয়াংয়ের লড়াইয়ের শুরু ২০০১ সালে। তার অভিযোগ ছিল, কাছের কিহুয়া গ্রুপের রাসায়নিক কারখানা থেকে বের হওয়া বর্জ্য তার বাড়ি এবং আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ে। আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, কারখানাটি বছরের পর বছর বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক বর্জ্য ওই এলাকায় ফেলেছিল।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তৎকালীন প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার নথি অনুযায়ী প্রায় ৭০ একরের বেশি কৃষিজমি রাসায়নিক বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বছরে গড়ে প্রায় ২০ হাজার টন রাসায়নিক বর্জ্য সেখানে ফেলার অভিযোগও করা হয়। কাছের একটি জলাশয়ের পানিও দূষিত হওয়ার অভিযোগ ছিল।
নিজের জমির ক্ষতির প্রতিকার চেয়ে প্রথমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে যান ওয়াং। কিন্তু কীভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে এবং কোন আইনের অধীনে প্রতিকার চাইতে হবে, সে সম্পর্কে তার পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না।সেখান থেকেই শুরু হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক যাত্রা।
ওয়াং ছোটবেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন। জটিল আইনি ভাষা বোঝার মতো শিক্ষাগত প্রস্তুতিও তার ছিল না। তারপরও নিজের অধিকার বুঝতে তিনি আইন পড়া শুরু করেন।
২০১৭ সালে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াং জানান, একটি আইনের বই এবং অভিধান নিয়ে তিনি নিজে নিজে পড়াশোনা করেছেন। আইনের কঠিন শব্দ বুঝতে অভিধানের সাহায্য নিতেন। প্রয়োজনীয় অংশ লিখে রাখতেন এবং ধীরে ধীরে পরিবেশ ও ভূমি সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন বিষয় বোঝার চেষ্টা করতেন।
তার আইন শেখার গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি ছিল স্থানীয় বইয়ের দোকানের সঙ্গে তার সম্পর্ক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় দোকানে বসে আইনের বই পড়তেন এবং প্রয়োজনীয় অংশ হাতে লিখে নিতেন। বিনিময়ে দোকানের মালিককে নিজের উৎপাদিত ভুট্টা দিতেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত গল্পের মতো ওয়াং একা কোনো আইনজীবীর সহায়তা ছাড়াই পুরো মামলা পরিচালনা করে জয় পেয়েছিলেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। তার দীর্ঘ প্রচেষ্টার এক পর্যায়ে পরিবেশদূষনের শিকার ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দেওয়া একটি সংগঠন এবং আইন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতাও পান তিনি ও গ্রামের অন্য বাসিন্দারা।
দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০১৫ সালে আদালত মামলাটি গ্রহণ করে। এরপর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক রায়।
কিকিহার শহরের একটি জেলা আদালত কিহুয়া গ্রুপকে সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক বর্জ্য পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ফসলের ক্ষতির জন্য ইউশুতুন গ্রামের ৫৫টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। সে সময় এর মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।
তবে ওই রায়ের মাধ্যমেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। কিহুয়া গ্রুপ আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। ফলে ২০১৭ সালের প্রথম দিকের জয়টি ছিল ওয়াং ও তার প্রতিবেশীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক বিজয়।
একই বছরের নভেম্বরে এএফপি যখন ওয়াংয়ের সঙ্গে কথা বলে, তখন তার বয়স ছিল ৬৪ বছর। দীর্ঘ লড়াইয়ের পরও তিনি পিছিয়ে যেতে রাজি ছিলেন না। নিজের আইনি জ্ঞান শুধু ব্যক্তিগত লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামের অন্য বাসিন্দাদেরও তাদের অধিকার সম্পর্কে বোঝাতে শুরু করেছিলেন তিনি।
ওয়াং ও তার সহযোগীরা নিজেদের দলটির নাম দিয়েছিলেন ‘সিনিয়র সিটিজেন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন টিম’। তার বাড়িতেই গ্রামের মানুষ জড়ো হয়ে পরিবেশ, আইন ও নিজেদের অধিকার নিয়ে আলোচনা করতেন।
ওয়াং এনলিনের গল্পটি তাই শুধু একজন কৃষকের ১৬ বছর ধরে আইন পড়ার ঘটনা নয়। এটি শিল্পদূষণের বিরুদ্ধে একটি গ্রামের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের গল্পও। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া একজন কৃষক নিজের জমির ক্ষতির বিচার চাইতে অভিধান হাতে আইন শেখা শুরু করেছিলেন। সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত তাকে আদালতের দরজা পর্যন্ত নিয়ে যায় এবং গ্রামের ৫৫টি পরিবারের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক রায় এনে দেয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির তালিকায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গত ২৭ সেপ্টেম্বর অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ‘এবি ২০১৭’ শীর্ষক একটি বিলে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই স্বীকৃতি কার্যকর করেন। সান ফ্রান্সিসকোর অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি ‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ নামের এই বিলটি উত্থাপন করেছিলেন। আইনসভার বিভিন্ন ধাপে অনুমোদনের পর গত ৩০ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার উভয় কক্ষে বিলটি পাস হয় এবং পরবর্তীতে গভর্নরের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হয়। নতুন এই আইনের আওতায় ইসলামি চান্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহা হিসেবে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে এই সরকারি স্বীকৃতির অর্থ এই নয় যে, ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা আদালত বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ থাকবে। আইনে ঈদকে বিচারিক ছুটির তালিকা থেকে আলাদা রাখা হয়েছে, ফলে ঈদের দিন আদালত বা বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে এই আইনে। ঈদের নামাজ বা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার জন্য কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে তা ‘অনুমোদিত অনুপস্থিতি’ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও কমিউনিটি কলেজগুলো চাইলে নিজেদের সিদ্ধান্তে ঈদের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারবে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও উৎসব পালনের বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত মেনে সরকারি কর্মীরা ঈদ উপলক্ষে আট ঘণ্টার ছুটির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন, যা তাদের অবকাশ বা ব্যক্তিগত ছুটি থেকে সমন্বয় করা যাবে। অ্যাসেম্বলি সদস্য আশ কালরা, স্টেফানি নগুয়েন এবং সিনেটর আইশা ওয়াহাবসহ বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা এই বিলটির সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। নতুন এই আইনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে অনন্য স্বীকৃতি পেল, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আফ্রিকার বিষধর সাপ গাবুন ভাইপার, আতঙ্কে এলাকাবাসী
গ্যাসের দাম বাড়তেই জর্জিয়াবাসীর পাশে সরকার, ৩০ দিনের জন্য স্থগিত গ্যাস ট্যাক্স
এআইয়ের প্রভাবে ২০৩৫ সালের মধ্যে পেশা বদলাতে হতে পারে ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন কর্মীর
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ক্যান্টন শহরের একটি ডে কেয়ারে সোমবার একটি শিশু ব্যাগ থেকে গুলিভরা পিস্তল বের করে। কর্মীরা দ্রুত অস্ত্রটি দেখতে পেয়ে ব্যবস্থা নেওয়ায় কেউ আহত হয়নি। ঘটনার তদন্তে শিশুটির এক অভিভাবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে; তিনি পাশের একটি এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা। ক্যান্টনের পুলিশপ্রধান জোসেফ বিয়ালি সংবাদ সম্মেলনে জানান, পিস্তলটি ওই অভিভাবকের, তবে এটি তাঁর দায়িত্ব পালনের অস্ত্র নয়। কীভাবে অস্ত্রটি শিশুর নাগালে এল, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ডে কেয়ারের ভিডিওতে শিশুটিকে ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করতে দেখা গেছে বলে জানান বিয়ালি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় কক্ষে থাকা একজন কর্মী বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন এবং শিশুদের নিরাপদে রাখেন। পুলিশপ্রধান বলেন, প্রাথমিকভাবে কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্য ছিল বলে তাঁর মনে হচ্ছে না। তবে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদে রাখা এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা হয়েছে কি না, সেটিই এ ঘটনার মূল প্রশ্ন। ডে কেয়ারটিতে আগে থেকেই নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। ঘটনার পর সব শিশুর ব্যাগ পরীক্ষা করার নিয়ম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিয়ালি। তদন্ত চলমান থাকায় হেফাজতে নেওয়া অভিভাবকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা পুলিশ জানায়নি।
নিউইয়র্কে সকালে কাজে যাওয়ার পথে সাইকেলের ধাক্কায় আহত হয়ে দুই সন্তানের বাবার মৃত্যু
মায়ের মরদেহ ফ্রিজারে রেখে সোশ্যাল সিকিউরিটি জালিয়াতির অভিযোগসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
এইচ-১বি ভিসায় ক্যারিয়ার গড়েও পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা!
বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানে শূন্য শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে যোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে এ সুবিধা কার্যকর হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের সব ওষুধ এই ছাড়ের আওতায় পড়বে না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম। বিজ্ঞপ্তিতে সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইনকে একসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। ছাড়ের আওতায় রয়েছে বিরল রোগের নির্দিষ্ট ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, রক্তরস থেকে তৈরি চিকিৎসাপণ্য, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ এবং সেল ও জিন থেরাপির পণ্য। তালিকায় নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিবডিভিত্তিক ওষুধ ও পশুচিকিৎসার পণ্যও রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত এপ্রিলের ঘোষণায় নির্দিষ্ট পেটেন্টযুক্ত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান আমদানিতে নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের মধ্যেই তালিকাভুক্ত বিশেষায়িত পণ্যগুলোর জন্য শূন্য শুল্কের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাণিজ্য বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে জেনেরিক ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ওই নির্দিষ্ট শুল্ক প্রযোজ্য নয়। কোনো পণ্য নতুন ছাড় পাবে কি না, তা নির্ভর করবে বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত ধরন ও শর্ত পূরণের ওপর।
১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে পা চা রের মামলায় হোটেল মালিককে ১৬৪ মিলিয়ন ডলার দিতে নির্দেশ
হাজার মাইল দূরে ক্যালিফোর্নিয়ায় এক টুকরো বাংলাদেশ, দেশীয় ফলের সাম্রাজ্য গড়েছেন ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান