ইন্ডিয়ানায় রেকর্ড ভাঙা বন্যা, চার বছরের শিশুসহ মৃত্যু বেড়ে ৭
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে টানা কয়েক দিনের ভয়াবহ ঝড় ও রেকর্ড ভাঙা বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত সাতজনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে চার বছরের এক শিশুও রয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে নদীর পানি শত বছরের বেশি সময়ের রেকর্ড ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বহু মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় নৌকায় উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়েছে।
ইন্ডিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ১১ আগস্ট থেকে অঙ্গরাজ্যটিতে ভয়াবহ আবহাওয়া শুরু হয়। কয়েক দফা শক্তিশালী ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা মধ্য ও দক্ষিণ ইন্ডিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
শুরুতে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও রোববার নাগাদ মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে চার বছরের এক শিশু, তিনজন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছেন।
চার বছরের শিশুটির মৃত্যু হয় ইন্ডিয়ানার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেনিংস কাউন্টিতে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার প্রবল ঝড়ের সময় একটি গাছ ভেঙে শিশুটির শোবার ঘরের ওপর পড়ে। এতে তার মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে ম্যাথিউ মোরে নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণও রয়েছেন। ডেলাওয়ার কাউন্টির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধুদের সঙ্গে মিসিসিনেওয়া নদীর একটি সেতু থেকে প্রবল স্রোতের পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি। তিন দিন পর শনিবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সম্প্রতি হাই স্কুল শেষ করা ম্যাথিউ পারডু ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
আরেক ঘটনায় ৫৮ বছর বয়সী স্টেফানি স্যালির মরদেহ এবং তার কুকুরকে একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। কাছেই পাওয়া যায় তার গাড়ি। তদন্তকারীদের ধারণা, বন্যায় তলিয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় প্রবল স্রোতে তার গাড়িটি ভেসে যায়।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মধ্য ইন্ডিয়ানায়। কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে হোয়াইট রিভারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অ্যান্ডারসন ও নোবলসভিলে নদীর পানি ২৪ ফুটের বেশি উচ্চতায় পৌঁছায়, যা ১৯১৩ সালে তৈরি হওয়া আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ইন্ডিয়ানাপোলিসের মেয়র জো হগসেট জানিয়েছেন, গত ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে শহরটিতে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা।
হোয়াইট রিভার ও এর আশপাশের খালের পানি বেড়ে যাওয়ায় শত শত বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে ফার্স্ট রেসপন্ডাররা নৌকা ব্যবহার করেছেন। ইন্ডিয়ানাপোলিসের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রও খোলা রাখা হয়েছে।
গভর্নর মাইক ব্রাউনের অফিস জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে তিন শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং বহু উদ্ধার ও ওয়েলফেয়ার চেক পরিচালনা করা হয়েছে। ইন্ডিয়ানাপোলিসের উত্তরে বয়স্কদের একটি মোবাইল হোম কমিউনিটিতেও জরুরি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
কিছু এলাকায় মাত্র দুই দিনে ১১ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে আগে সাধারণত বন্যার ঝুঁকিতে না থাকা এলাকাও এবার পানিতে তলিয়ে গেছে।
ঝড়ের প্রভাবে এক পর্যায়ে ইন্ডিয়ানাজুড়ে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো নির্ধারণ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ইন্ডিয়ানার গভর্নর মাইক ব্রাউন রাজ্যজুড়ে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইন্ডিয়ানার জন্য ফেডারেল জরুরি সহায়তার অনুরোধ অনুমোদন করেন। এর ফলে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্ধার এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ফেডারেল সহায়তা যুক্ত হয়েছে।
শুধু ইন্ডিয়ানা নয়, সাম্প্রতিক এই শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্টের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রভাব ফেলেছে। ইলিনয় থেকে পশ্চিম পেনসিলভানিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় টর্নেডো, ভারী বৃষ্টি ও ফ্ল্যাশ ফ্লাডের কারণে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইন্ডিয়ানায় পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও কর্তৃপক্ষ সতর্কতা তুলে নেয়নি। বন্যার পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং ফুলে ওঠা নদীগুলো এখনো বিপজ্জনক। বিশেষ করে পানিতে তলিয়ে থাকা সড়ক দিয়ে গাড়ি না চালাতে এবং প্রবল স্রোতের নদী থেকে দূরে থাকতে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমিশিগানের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে তিন বছরের এক শিশুর ব্যাগ থেকে গুলিভর্তি পিস্তল বের করে অন্য শিশুদের মধ্যে ঘোরানোর ঘটনায় তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশুটির বাবা ব্র্যান্ডন জন এলি একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মা রাবাব ইব্রাহিম আল জায়াদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র অনিরাপদভাবে সংরক্ষণের অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটে ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে মিশিগানের ক্যান্টন টাউনশিপের চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ড আর্লি লার্নিং সেন্টারে। ওয়েন কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ওই ডে-কেয়ারে খবর পেয়ে যায়। অভিযোগ, শিশুটি শ্রেণিকক্ষে রাখা একটি ব্যাগ থেকে হোলস্টারে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে। পরে সেটি অন্য কয়েকজন শিশুর হাতেও যায়। একজন শিক্ষক বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অস্ত্রটি শিশুদের কাছ থেকে সরিয়ে নেন। পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্রটি গুলিভর্তি ছিল এবং ঘটনার সময়ও হোলস্টারের ভেতরে ছিল। তবে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি এবং কোনো শিশু বা শিক্ষক আহত হননি। ক্যান্টন পুলিশের প্রধান জোসেফ বিয়ালি ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও দেখেছেন। তাঁর ভাষায়, ভিডিওতে তিন বছরের শিশুকে ব্যাগ থেকে অস্ত্রটি বের করতে দেখা ‘বিস্ময়কর’ হলেও ডে-কেয়ারের কর্মীর দ্রুত পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। ওয়েন কাউন্টির প্রসিকিউটর কিম ওয়ার্থি বলেন, এই ঘটনায় কী ঘটতে পারত, তা ভাবাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, কোনো প্রাণহানি না হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আদালতে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে অভিযোগগুলো প্রমাণ করার মতো তথ্য-প্রমাণ তাদের রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যান্ডন জন এলি, ২৮, এবং রাবাব ইব্রাহিম আল জায়াদ, ২৭, উভয়েই ওয়েন কাউন্টির বাসিন্দা। ১ অক্টোবর প্লাইমাউথের ৩৫তম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিচারক জো ব্যারোনের সামনে তাদের হাজির করা হয়। এলির বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার শিশু নির্যাতরের অভিযোগটি এক বছরের মেয়াদের একটি লঘু অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আর জায়াদের বিরুদ্ধে অনিরাপদভাবে আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগটি সর্বোচ্চ ৯৩ দিনের শাস্তিযোগ্য লঘু অপরাধ। আদালত উভয়ের ওপর ১০ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত বন্ড নির্ধারণ করেছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে তাদের ডে-কেয়ার কেন্দ্রে না যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিচারক দুজনকেই কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নিজেদের কাছে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এলি আদালতে জানিয়েছিলেন, তার বাড়িতে তিনটি নিরাপদ সংরক্ষণাগারে মোট নয়টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তবে সেগুলোও হস্তান্তরের নির্দেশ দেন বিচারক। এলি ডেট্রয়েট পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলাটি চলাকালে তাকে প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখা হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনের সময়ও আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর আইনজীবী কর্মস্থলে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র রাখার অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে বিচারক সেই অনুরোধ নাকচ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অস্ত্রটি এলির চাকরির জন্য সরবরাহ করা অস্ত্র ছিল না। তবে কীভাবে শিশুটি ব্যাগ থেকে অস্ত্রটি বের করার সুযোগ পেল, সে বিষয়ে তদন্তে অনিরাপদ সংরক্ষণের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাগটি শ্রেণিকক্ষেই রাখা ছিল এবং শিশুটি সেখান থেকে অস্ত্রটি বের করে। ঘটনার পর চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ড আর্লি লার্নিং সেন্টার পরিবারটিকে প্রতিষ্ঠান থেকে বাদ দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশু ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। কেন্দ্রটি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে শিশুদের ব্যাগ তল্লাশির মতো অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডে-কেয়ার কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে তাদের কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। বিশেষ করে যে শিক্ষক অস্ত্রটি দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের কাছ থেকে সেটি সরিয়ে নেন, তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের প্রধান জোসেফ বিয়ালিও কর্মীদের প্রশংসা করে বলেছেন, শ্রেণিকক্ষে দায়িত্বে থাকা শিক্ষক দ্রুত পরিস্থিতি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ায় শিশুদের নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে। মিশিগানের আইনে শিশু উপস্থিত থাকলে বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদভাবে তালাবদ্ধ করে রাখার বিধান রয়েছে। ক্যান্টন পুলিশও ঘটনার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদে সংরক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। মামলাটি এখন আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে। সূত্র: ওয়েন কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য, WDIV, দ্য ডেট্রয়েট নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে কাঁচা দুধ পান, ই-কোলাই সংক্রমণে ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৭ মাসের শিশুর কিডনি বিকল
অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহে ট্রাম্পের নতুন কৌশল, আয়কর ফর্মে যুক্ত হচ্ছে নতুন নিয়ম
ডিসেম্বরে আটলান্টায় আসছে কনস্যুলার সেবা, সুবিধা পেতে পারেন আশপাশের অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশিরা
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে গাজার মানবিক সহায়তার নামে অর্থ সংগ্রহ করে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কাছে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ফেডারেল আদালতে সম্প্রতি প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, আবদেল আদহামি ও ওমর আদহামির বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়া ও তারের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। বড় ভাই আবদেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তারা গত মাসে লুইজিয়ানায় গ্রেপ্তার হন এবং আদালতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো তাদের দোষ প্রমাণিত হয়নি। ফেডারেল তদন্তকারীদের অভিযোগ, দুই ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তার কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করতেন। পরে সেই অর্থের একটি অংশ গাজায় থাকা সালিম আলজাক নামের এক ব্যক্তির কাছে পাঠানো হতো। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আলজাক হামাসের সঙ্গে যুক্ত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনটির প্রচারণা চালাতেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম থেকে ২০২০ সাল থেকে অন্তত ১৭ লাখ ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন। তদন্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আবদেল হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ৮৩ হাজার ডলারের বেশি পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওমরের বিরুদ্ধে প্রায় ৬ হাজার ডলার পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বিভিন্ন আদালত নথি ও প্রতিবেদনে অর্থের সময়কাল ও মোট পরিমাণে কিছু পার্থক্য রয়েছে। এসব অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোন কোন লেনদেন সরাসরি হামাসের কাছে গেছে, তা মামলার প্রমাণের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। আদালতের অভিযোগে বলা হয়েছে, আবদেল একাধিক স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে হামাসের পক্ষে প্রচারণামূলক কনটেন্ট প্রকাশ করতেন এবং অনুসারীদের একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন। ওই টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের পক্ষে বার্তা, ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পাশাপাশি অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানানো হতো বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। অর্থ লেনদেন গোপন রাখতে কথোপকথনে সাংকেতিক শব্দ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। আদালতের নথিতে ‘রুটি’ শব্দটি অর্থ বা হামাসের যোদ্ধাদের বোঝাতে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত আবদেল দুটি পেপ্যাল অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩৫ হাজার ও ৪৬ হাজার ডলার পাঠান। পরে এসব অর্থ আলজাকের কাছে পৌঁছেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। মামলাটি সামনে আসার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের অনলাইন গোপন তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আলজাক ভুল করে ‘হুসেইন’ নামে পরিচয় দেওয়া একজন গোপন এনওয়াইপিডি কর্মকর্তার সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাটে যোগাযোগ করেন। ওই কর্মকর্তা অনলাইনে তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং পরবর্তী সময়ে আলজাক তাকে আবদেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। আদালতের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আলজাক ওই গোপন কর্মকর্তাকে আবদেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ পাঠানোর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতে বলেন। পরে আবদেল ওই কর্মকর্তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন এবং অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে কথা বলেন। তবে ওই গোপন কর্মকর্তা শেষ পর্যন্ত আবদেলকে কোনো অর্থ পাঠিয়েছিলেন কি না, তা আদালতের নথিতে স্পষ্ট নয়। তদন্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন অর্থ লেনদেনের ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দাতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা এবং পরে বিভিন্ন ডিজিটাল অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তা গাজায় পাঠানো হতো। এই কার্যক্রমের সঙ্গে হামাসের যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিই তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয়। আবদেল ও ওমর দুজনের বিরুদ্ধেই বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়া এবং তারের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। আবদেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এই মামলায় আলজাকের বিরুদ্ধেও আলাদা অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার ষড়যন্ত্র, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র, অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এক বিবৃতিতে বলেছেন, এনওয়াইপিডির সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম নিউইয়র্কের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার দাবি, বিভাগের গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা একটি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে এবং হামাসের কাছে ২০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ যাওয়ার অভিযোগের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে এটি পুলিশের পক্ষের দাবি এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর প্রমাণ মূল্যায়ন করা হবে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন অর্থ লেনদেন এবং দাতব্য তহবিল ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী সংগঠনে অর্থ যাওয়ার অভিযোগে ফেডারেল তদন্ত বাড়ছে। চলতি বছরেও মার্কিন বিচার বিভাগ হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এসব মামলায় কর্তৃপক্ষ মানবিক সহায়তার নামে সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত ব্যবহার এবং বিদেশি সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক দোকান বন্ধ করছে বড় খুচরা প্রতিষ্ঠান, তালিকায় ৪ শীর্ষ ব্র্যান্ড
নিউইয়র্কের কুইন্সে প্রেমিকাকে হত্যার পর সাততলা ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিলেন যুবক
এআই চ্যাটবটের আসক্তিতে ১৩ বছরের কিশোরীর মৃত্যু, আত্মহত্যার পেছনে চ্যাটবটকে দায়ী করলেন মা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে প্রথমবারের মতো একটি ডেডিকেটেড বা নিজস্ব পেশাদার সকার স্টেডিয়াম তৈরি হতে যাচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি ফুটবল ক্লাবের উদ্যোগে কুইন্সে নির্মিতব্য অত্যাধুনিক এই স্টেডিয়ামটির নাম রাখা হয়েছে ‘ইতিহাদ পার্ক’। ২০২৭ সালের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) সিজনের মধ্য দিয়ে স্টেডিয়ামটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। শুধু তা-ই নয়, মেজর লিগ সকারের ইতিহাসে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ও পরিবেশবান্ধব সকার স্টেডিয়াম। পরবর্তীতে ২০২৮ সাল থেকে এই ভেন্যু ন্যাশনাল উইমেন্স সকার লিগ (এনডব্লিউএসএল) চ্যাম্পিয়ন দল ‘গথাম এফসি’-এর হোম ভেন্যু হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। স্থানীয় ফুটবল ভক্তরা দীর্ঘ বছর ধরে নিজেদের এমন একটি নিজস্ব ভেন্যুর অপেক্ষায় ছিলেন। তাদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২৫ হাজার আসন বিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামটি বিশেষভাবে ফুটবলের জন্যই নকশা করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের মূল প্রবেশদ্বার হিসেবে থাকছে ‘দ্য কিউব’ নামের সাত তলা বিশিষ্ট একটি দৃষ্টিনন্দন ও চমকপ্রদ কাঠামো, যা ম্যাচ ডে-র পরিবেশকে আরও জমজমাট করে তুলবে। এ ছাড়া মূল ফটকের বাইরে প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুটের উন্মুক্ত স্থান রাখা হয়েছে, যেখানে সারা বছর ধরে স্থানীয়দের জন্য নানা ধরনের কমিউনিটি ইভেন্ট ও মিলনমেলার আয়োজন করা হবে। নতুন এই স্টেডিয়ামের নকশায় খাবার ও দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এখানে থাকছে সুবিশাল ‘ফাইভ বরো ফুড হল’, যেখানে নিউইয়র্কের পাঁচটি বরো বা প্রশাসনিক অঞ্চল থেকে আসা ছোট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিক্রেতাদের বৈচিত্র্যময় খাবার পরিবেশন করা হবে। পাশাপাশি ফুটবল ভক্তদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ কিছু আকর্ষণ। এর মধ্যে রয়েছে কট্টর সমর্থকদের জন্য উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন ‘দ্য নর্থ এন্ড সাপোর্টারস সেকশন’ এবং ‘দ্য টানেল ক্লাব’, যার মাধ্যমে ভক্তরা মাঠে প্রবেশরত খেলোয়াড়দের একদম কাছ থেকে দেখার একচেটিয়া সুযোগ পাবেন। এছাড়া বিলাসবহুল আসন হিসেবে ‘দ্য স্কাইলাইন লফটস’ এবং ‘ইস্ট সাইডলাইন ক্লাব’-এর মতো প্রিমিয়াম সুবিধাও থাকছে। আজীবন ফুটবল সমর্থক হোক বা সাপ্তাহিক ছুটিতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী—সবার জন্যই কুইন্সের এই বিশাল প্রকল্পটি নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম আকর্ষণীয় স্পোর্টস ল্যান্ডমার্কে পরিণত হতে যাচ্ছে।
টেক্সাস ক্যাপিটলে বন্দুক হামলার ছক, ৭৫ হাজার ডলারের জামিনে মুক্তি অভিযুক্ত
ছিনতাইয়ের সংকেত, ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারানো, ককপিটে ছু রিকাঘাত, ফ্লাইদুবাইয়ে আসলে কী ঘটেছিল?