২০০টির বেশি স্কলারশিপে আবেদন করে ৪০টি পেলেন তরুণী, পড়বেন আইভি লিগের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পার এক সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থী ২০০টির বেশি বৃত্তির জন্য আবেদন করে ৪০টি বৃত্তি পেয়েছেন। এসব বৃত্তির অর্থ ব্যবহার করেই এবার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রিন্সটনে পড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছেন আদেওলা আদেয়েমো।
কলেজে পড়ার খরচ কমানোই ছিল তার মূল লক্ষ্য। তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নয়, উচ্চমাধ্যমিকের শেষ সময়টায় তিনি নিয়মিত বিভিন্ন বৃত্তির জন্য আবেদন করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৪০টি বৃত্তি পাওয়ার পর প্রিন্সটনে পড়ার আর্থিক চাপ অনেকটাই কমেছে তার।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আদেওলা বলেন, কলেজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে খরচই ছিল তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার ভাষায়, কলেজ নির্বাচনের সময় মূল্য ও সামর্থ্যকে তিনি সবকিছুর ওপরে রেখেছিলেন।
বৃত্তি পাওয়ার জন্য তার প্রচেষ্টার পরিমাণও ছিল উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসভিএনকে তিনি জানান, ভ্রমণের সময়, বন্ধুদের বাড়িতে, ক্লাসের মাঝের অবসর সময়ে এমনকি দুপুরের খাবারের বিরতিতেও তিনি বৃত্তির আবেদন করতেন। তার যুক্তি ছিল, বৃত্তির অর্থ দাবি না করলে সেই অর্থ অন্য কেউ পেয়ে যাবে, তাই নিজের সুযোগ কাজে লাগাতে তিনি নিয়মিত আবেদন করে গেছেন।
প্রিন্সটনে এবার শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনা শুরু করবেন আদেওলা। তার লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি অপারেশনস রিসার্চ অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার পরিকল্পনা করছেন এবং ২০৩০ সালে স্নাতক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রিন্সটনের এই বিভাগে পরিসংখ্যান, সম্ভাব্যতা, গণিতভিত্তিক বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিষয় পড়ানো হয়।
প্রিন্সটন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত একটি বেসরকারি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ের টিউশন ফি ৬৮ হাজার ১৪০ ডলার। এর সঙ্গে আবাসন, খাবার, বই ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ যোগ হলে এক শিক্ষাবর্ষের আনুমানিক মোট ব্যয় ৯৪ হাজার ৬২৪ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এত বড় অঙ্কের খরচের কারণে আদেওলার কাছে বৃত্তি সংগ্রহ ছিল শুধু অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং প্রিন্সটনে পড়ার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ৪০টি বৃত্তির অর্থ তিনি টিউশনসহ কলেজের বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করবেন।
আদেওলা উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময়ও বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। ২০২৬ সালের বৃত্তিপ্রাপকদের তালিকায় তার নাম রয়েছে ডিবার্তোলো ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের বৃত্তি কর্মসূচিতেও। একই বছরে অ্যাকচুয়ারিয়াল ফাউন্ডেশনের ‘এসটিইএম স্টারস’ কর্মসূচিতেও তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। ওই কর্মসূচিতে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের চার বছরে মোট ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়।
বিভিন্ন বৃত্তির পাশাপাশি তার একাডেমিক ও সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডও উল্লেখযোগ্য। ডিইসিএর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের বৃত্তিপ্রাপকদের তালিকাতেও আদেওলার নাম রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার ব্যয় গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি, অনুদান ও আর্থিক সহায়তার জন্য প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।
আদেওলার গল্পে সেই বাস্তবতার পাশাপাশি অন্য একটি দিকও উঠে এসেছে। প্রিন্সটনের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও তিনি শুধু ভর্তি নিশ্চিত করেই থেমে থাকেননি। বরং পড়াশোনার খরচ কমাতে শত শত বৃত্তির সুযোগ খুঁজেছেন এবং যেসব বৃত্তির জন্য যোগ্য মনে করেছেন, সেগুলোতে আবেদন করেছেন।
এখন প্রিন্সটনে পড়াশোনা শুরু করার পরও থামতে চান না আদেওলা। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের খরচ মেটাতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ও নতুন বৃত্তির জন্য আবেদন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
তার এই প্রচেষ্টা দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচ অনেক বেশি হলেও বৃত্তির সুযোগ খুঁজে পরিকল্পিতভাবে আবেদন করলে শিক্ষার্থীরা আর্থিক চাপ কমানোর সুযোগ পেতে পারেন। তবে প্রতিটি বৃত্তির যোগ্যতা, আবেদনের সময়সীমা ও শর্ত আলাদা হওয়ায় আগে থেকেই পরিকল্পনা করে আবেদন করাই গুরুত্বপূর্ণ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্টে পণ্যের দাম দেখে কেনাকাটা করার পর চেকআউটে পৌঁছানোর আগেই দাম বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ক্রেতা। প্যাট্রিক নামের ওই ব্যক্তি জানান, ৩ ডলার ৯৮ সেন্টের মাখনসহ কয়েকটি পণ্য নেওয়ার পর দুই মিনিটেরও কম সময়ে চেকআউটে গিয়ে আগের চেয়ে বেশি দাম দেখতে পান। বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওয়ালমার্টের এক ব্যবস্থাপককে জানান। প্যাট্রিক তাঁর ছেলে ও পরিবারের বেকিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পণ্য কিনতে দোকানটিতে গিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি কেনাকাটার সময় দামের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকেন বলে জানান। ফলে তাকের দাম এবং চেকআউটে প্রদর্শিত দামের পার্থক্য তাঁর নজরে আসে। প্যাট্রিকের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ব্যবস্থাপককে বিষয়টি জানানোর পর তাঁকে বলা হয়, কম্পিউটার ব্যবস্থায় দাম হালনাগাদ হওয়ার কারণে দোকানের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার মধ্যেই কোনো পণ্যের দাম পরিবর্তিত হতে পারে। ব্যবস্থাপকের বক্তব্য অনুযায়ী, পণ্য নেওয়ার পর চেকআউটে পৌঁছানোর সময়ের মধ্যেও দাম বদলে যেতে পারে। এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি প্যাট্রিক। তিনি বলেন, কোনো পণ্যের দাম যদি তাকের সামনে ৩ ডলার ৯৮ সেন্ট থাকে, তাহলে সেটি হাতে নিয়ে চেকআউটে পৌঁছাতে দুই মিনিটেরও কম সময় লাগলেও কীভাবে দাম বেড়ে যেতে পারে। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ভিডিওতে ওয়ালমার্টের মূল্য পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভিডিওটি টিকটকে ৫ লাখ ৬১ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে। সেখানে অনেক দর্শক প্যাট্রিকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে একমত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ ওয়ালমার্ট বর্জনের আহ্বান জানান। আবার কয়েকজন মন্তব্য করেন, তাকের গায়ে যে দাম লেখা থাকে, সেটিই চেকআউটে কার্যকর করার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। তবে প্যাট্রিকের ক্ষেত্রে ওয়ালমার্ট ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের কোনো ব্যবস্থা ব্যবহার করেছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। তিনি নিজেও জানাননি যে তাঁর কেনাকাটার ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল মূল্য প্রদর্শন ব্যবস্থা চালুর কারণে কিছু ক্রেতার মধ্যে পণ্যভেদে বা ক্রেতাভেদে দাম পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে ক্রেতাভেদে পণ্যের দাম নির্ধারণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জন ফার্নার ২৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো ক্রেতার আয়, কেনাকাটার ইতিহাস বা তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে বেশি দাম নেওয়া তাদের ব্যবসায়িক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফার্নার আরও বলেন, তাকের প্রদর্শিত দাম এবং চেকআউটে দেখানো দাম একই থাকা উচিত। তাঁর দাবি, ডিজিটাল তাকের মূল্য প্রদর্শন ব্যবস্থা সঠিক দাম দেখানোর বিষয়টি আরও ধারাবাহিকভাবে নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসনও ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো পণ্যের তালিকাভুক্ত দাম দেখলে ক্রেতারা সাধারণত আশা করেন যে সেটিই অন্য ক্রেতারাও দেখতে পাবেন, ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে আলাদা দাম নয়। ফেডারেল ট্রেড কমিশন ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ সরাসরি নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে না। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান মূল্য নির্ধারণে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহার করছে তা যথাযথভাবে না জানালে বিদ্যমান আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠতে পারে। এ ধরনের মূল্য নির্ধারণ নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার জন্য নতুন আইন আনার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৯ সালের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতাই কম দামের পণ্য ও বিকল্প খুঁজছেন। এর মধ্যেই তাকের দাম ও চেকআউটের দামের পার্থক্য নিয়ে প্যাট্রিকের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: দ্য মেরি সু
পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ভুলে ৬ লাখ ২০ হাজার ডলার! ফেরত চেয়ে মার্টার মামলা
আইসিই পরিচয়ে নারীকে হুমকি, গ্রেফতার বাংলাদেশি সাবেক এনওয়াইপিডি সার্জেন্ট
চার্চের নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেন আমেরিকান আইডলের প্রতিযোগী
নিউইয়র্ক থেকে এল সালভাদরে বিতাড়িত তরুণ মারিও মাতা ক্রুজকে আইনি লড়াইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে এনেছে মার্কিন সরকার। তবে পরিবারের কাছে ফিরতে পারেননি তিনি। স্পেকট্রাম নিউজের ৩০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে একাধিক রাজ্যের আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তিনি এখনো অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন। মারিওর আইনজীবীদের দাবি, চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ছাড়াই তাঁকে এল সালভাদরে পাঠানো হয়েছিল। মারিও বলেছেন, স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কোনো কাগজেও তিনি সই করেননি। তাঁর বহিষ্কারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে মামলা করেন আইনজীবীরা। ২০১৮ সালে ১৭ বছর বয়সে একা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেন মারিও। পরের বছর তিনি স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল বা এসআইজে মর্যাদা পান। এনওয়াইওয়ানের পর্যালোচনা করা নথি অনুযায়ী, তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন তখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে লং আইল্যান্ডে ভাই মারভিনের সঙ্গে কাজে যাওয়ার সময় তাঁকে আটক করেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। পরে টেক্সাসের একটি আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তাঁকে এল সালভাদরে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে এনওয়াইওয়ান ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর আদালতে দাখিল করা একটি নথিতে মারিওকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। ২৪ এপ্রিলের ওই নথিতে বলা হয়, আইসিইর ব্যবস্থাপনায় এল সালভাদর থেকে লুইজিয়ানাগামী ফ্লাইটে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে। গ্রীষ্মে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে ফেরার পর প্রথমে লুইজিয়ানা, পরে নিউ জার্সি এবং এরপর ভার্জিনিয়ার আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয় মারিওকে। নিউ জার্সির একজন ইমিগ্রেশন বিচারক এখতিয়ার নেই জানিয়ে তাঁর বন্ডে মুক্তির আবেদন বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানান। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও তাঁকে মুক্তি দেয়নি। আইনজীবীদের বক্তব্য, মারিওর কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। মারিওর পরিবার লং আইল্যান্ডে রয়েছে। এল সালভাদরে থাকার সময় ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের ভরসা ছিল ভিডিও কল। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পরও আটক থাকায় পরিবারের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ডে-কেয়ারে ব্যাগের ভেতর গুলিভর্তি বন্দুক নিয়ে হাজির ৩ বছরের শিশু
কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে কাঁচা দুধ পান, ই-কোলাই সংক্রমণে ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৭ মাসের শিশুর কিডনি বিকল
অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহে ট্রাম্পের নতুন কৌশল, আয়কর ফর্মে যুক্ত হচ্ছে নতুন নিয়ম
জর্জিয়াসহ আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুখবর। আগামী ডিসেম্বরে আটলান্টায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। এতে শুধু জর্জিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরাই নন, আশপাশের অঙ্গরাজ্য থেকে আটলান্টায় আসা প্রবাসীরাও সেবা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে মিয়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের এই কনস্যুলার সেবা আয়োজন করা হচ্ছে। সংগঠনটির ২৬ সেপ্টেম্বরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আটলান্টায় এই সেবা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সেবা ছাড়া অন্যান্য কনস্যুলার সেবা আটলান্টায় পাওয়া যাবে। এনআইডি-সংক্রান্ত সেবার জন্য প্রবাসীদের মিয়ামি কনস্যুলেটে যেতে হবে। আশপাশের অঙ্গরাজ্যগুলোতে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশির জন্য মিয়ামি পর্যন্ত গিয়ে কনস্যুলার সেবা নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হতে পারে। সে কারণে আটলান্টায় কনস্যুলার সেবা আয়োজন হলে জর্জিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যের প্রবাসীরাও এর সুবিধা নিতে পারবেন। তবে কনস্যুলার সেবার স্থান এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া জানিয়েছে, স্থান ও বিস্তারিত তথ্য চূড়ান্ত হলে তা প্রবাসীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। এদিকে, সংগঠনটির পক্ষ থেকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্থান, সময় ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জর্জিয়া ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুবিধার্থে ১২ ও ১৩ ডিসেম্বরের তারিখটি মনে রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া।
হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দুই ভাই গ্রেপ্তার, তদন্তে নিউইয়র্ক পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক দোকান বন্ধ করছে বড় খুচরা প্রতিষ্ঠান, তালিকায় ৪ শীর্ষ ব্র্যান্ড