সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের কর সুবিধা বা ট্যাক্স ক্রেডিট বাতিলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ২২:১২
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের প্রস্তাবিত নতুন নিয়মে চার ধরনের ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ ফেরত সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের প্রস্তাবিত নতুন নিয়মে চার ধরনের ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ ফেরত সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত অভিবাসীদের জন্য কিছু ফেরতযোগ্য কর সুবিধা সীমিত করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট চার ধরনের কর ক্রেডিট থেকে করের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন যোগ্যতা না থাকা অভিবাসীরা। তবে তাঁরা নিজেদের বকেয়া আয়কর কমানোর জন্য এসব কর ক্রেডিটের মূল অংশ ব্যবহার করতে পারবেন।

 

বুধবার প্রকাশিত প্রস্তাবিত বিধিমালায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) বলেছে, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল কল্যাণ আইন অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ নন এমন ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ওপর যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তার আওতায় ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশও পড়বে। প্রস্তাবটি এখন জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামতের জন্য উন্মুক্ত।

 

নতুন প্রস্তাবটি চার ধরনের কর ক্রেডিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এগুলো হলো দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিট, শিশু কর ক্রেডিট, আমেরিকান অপরচুনিটি কর ক্রেডিট এবং অর্জিত আয় কর ক্রেডিট।

এই কর ক্রেডিটগুলোর বিশেষত্ব হলো, এগুলো ফেরতযোগ্য। অর্থাৎ কোনো করদাতার পাওনা করের পরিমাণের চেয়ে ক্রেডিট বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ সাধারণত কর ফেরত হিসেবে পাওয়া যায়। নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে অননুমোদিত অভিবাসীরা তাঁদের করের দায় কমানোর জন্য ক্রেডিট ব্যবহার করতে পারলেও অতিরিক্ত অংশ নগদ ফেরত হিসেবে পাবেন না।

 

অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশ পেতে হলে করদাতাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বসম্পন্ন ব্যক্তি অথবা ১৯৯৬ সালের আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ হতে হবে। কর ক্রেডিট প্রথমবার দাবি করার সময় এই যোগ্যতা থাকতে হবে।

ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, করদাতাদের অর্থ এমন ব্যক্তিদের সুবিধায় ব্যবহার করা উচিত নয়, যাঁরা ফেডারেল আইনের অধীনে ওই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। আইআরএস কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানোও বলেছেন, নতুন প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো ফেডারেল অর্থায়নে দেওয়া সুবিধা কেবল যোগ্য করদাতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

 

আইআরএসের হিসাবে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে সরকারের বছরে সর্বোচ্চ ২.৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। তবে এই হিসাব প্রস্তাবিত নিয়মের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, নিশ্চিত সাশ্রয়ের পরিমাণ নয়।

এই উদ্যোগের পেছনে ১৯৯৬ সালের ‘পার্সোনাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ওয়ার্ক অপরচুনিটি রিকনসিলিয়েশন অ্যাক্ট’ বা কল্যাণ সংস্কার আইনকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই আইনে নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসীদের জন্য যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা হয়েছিল।

 

তবে কয়েক দশক ধরে কর ক্রেডিটকে ওই আইনের আওতায় সরাসরি ‘সরকারি সুবিধা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনের ব্যাখ্যা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। নতুন প্রস্তাবের যুক্তি হলো, কোনো কর ক্রেডিট শুধু করের দায় কমিয়ে দিলে সেটি এক বিষয়, কিন্তু করের দায়ের অতিরিক্ত অর্থ সরকার থেকে সরাসরি ফেরত দেওয়া হলে সেটি সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রস্তাবিত নিয়ম অবশ্য সব ধরনের অভিবাসন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে না। আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, শরণার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত এক বছরের জন্য বিশেষ ‘প্যারোল’ মর্যাদায় প্রবেশের অনুমতি পাওয়া কিছু ব্যক্তিকে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।

 

প্রতিটি কর ক্রেডিটের নিজস্ব আয়সীমা ও অর্থ পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিটের একটি নির্দিষ্ট অংশ ফেরতযোগ্য। আবার শিশু কর ক্রেডিট ও অর্জিত আয় কর ক্রেডিট মূলত নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা পরিবার ও কর্মজীবীদের করের বোঝা কমাতে সহায়তা করে।

আইআরএসের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, কোনো দম্পতি যৌথভাবে কর বিবরণী জমা দিলে তাঁদের মধ্যে একজন সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের যোগ্য হলেই ফেরতযোগ্য অংশ দাবি করার সুযোগ থাকতে পারে। অর্থাৎ যৌথ কর বিবরণীর ক্ষেত্রে উভয় ব্যক্তির একই ধরনের যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

 

তবে নতুন বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা শেষে ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস প্রস্তাবটি পরিবর্তন, চূড়ান্ত বা প্রত্যাহার করতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের একটি নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ। ওই নির্দেশনায় ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ১৯৯৬ সালের কল্যাণ সংস্কার আইনের বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

এরপর ট্রেজারি বিভাগ বিচার বিভাগের আইন পরামর্শ দপ্তরের কাছে ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশ ওই আইনের আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়ে মতামত চায়। প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইন পরামর্শ দপ্তর মত দিয়েছে যে কর ক্রেডিটের যে অংশ করদাতাকে নগদ অর্থ হিসেবে ফেরত দেওয়া হয়, সেটি সরকারি সুবিধার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।

 

নতুন নিয়মটি অবশ্য ওবামা প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ‘ওবামাকেয়ার’-এর প্রিমিয়াম কর ক্রেডিটে প্রযোজ্য হবে না। ট্রেজারি ও আইআরএস জানিয়েছে, ওই কর সুবিধা নিয়ে ইতোমধ্যেই পৃথক আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে।

একইভাবে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য চালু হওয়া নতুন ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ এবং যোগ্য শিশুদের জন্য নির্ধারিত এককালীন ১ হাজার ডলারের অর্থও এই প্রস্তাবের আওতায় পড়বে না। কারণ এসব সুবিধা আইন অনুযায়ী শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে চলমান বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের অংশ। তবে প্রস্তাবিত বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় বাস্তবে কখন থেকে এর প্রভাব পড়বে এবং কোন কোন করদাতা ঠিক কতটা সুবিধা হারাবেন, তা চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল থেকে এক বছরে নিষিদ্ধ প্রায় ১২ হাজার বই, বাদ পড়েনি বিশ্বখ্যাত ক্ল্যাসিকও
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল থেকে এক বছরে নিষিদ্ধ প্রায় ১২ হাজার বই, বাদ পড়েনি বিশ্বখ্যাত ক্ল্যাসিকও

যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুলগুলোতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে রেকর্ড প্রায় ১২ হাজার বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে একক কোনো শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ। মুক্ত মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘পেন আমেরিকা’ (PEN America)-এর বার্ষিক প্রতিবেদন “ব্যান্ড ইন দ্য ইউএসএ”-তে এই তথ্য উঠে এসেছে।   সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোট ১১ হাজার ৯৮২টি বই নিষিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে, যা ৭ হাজার ৩৭০টি আলাদা বই এবং চার হাজারের বেশি লেখক, চিত্রশিল্পী ও অনুবাদককে প্রভাবিত করেছে। ২০২১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৪ হাজার বই নিষিদ্ধের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা দেশটিতে বই নিষিদ্ধের প্রবণতা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।   এ বছর সবচেয়ে বেশি বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে। রাজ্যটিতে ৮ হাজার ১০০টিরও বেশি বই লাইব্রেরি ও পাঠ্যসূচি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মূলে রয়েছে সেখানকার বিতর্কিত ‘এসবি১৩’ (SB13) আইন। এর আগের তিন বছর এই তালিকার শীর্ষে ছিল ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য।   রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ ও অধিকারকর্মীদের চাপের মুখে এবার মোট ১১৪টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বই নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্কুল প্রশাসনগুলো এখন কোন বই বাতিল করা হবে তা নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুত একাধিক বই স্ক্যান ও চিহ্নিত করার সুবিধার কারণেই নিষেধাজ্ঞার সংখ্যা এতো নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   নিষিদ্ধের এই তালিকায় টানা দ্বিতীয় বছরের মতো শীর্ষে রয়েছেন প্রখ্যাত লেখক স্টিফেন কিং; তার বই মোট ৩১২ বার বিভিন্ন স্কুল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একক বই হিসেবে সবচেয়ে বেশি নিষিদ্ধ হয়েছে নেপালের এক কিশোরীকে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রির বাস্তব কাহিনি নিয়ে রচিত উপন্যাস ‘সোল্ড’।   এছাড়া মার্গারেট অ্যাটউডের ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’, ধর্ষণের ট্রমা নিয়ে লেখা ‘স্পিক’ এবং মাদকাসক্তি নিয়ে রচিত ‘ক্র্যাঙ্ক’-এর মতো জনপ্রিয় বইগুলো বারবার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। এমনকি ১৯ শতকের বিশ্বখ্যাত ধ্রুপদী উপন্যাস ‘জেন আয়ার’ এবং জাপানি মাঙ্গা সিরিজ ‘টোকিও ঘুল’-এর মতো জনপ্রিয় রচনাও বাদ পড়েনি।   বর্ণবাদ, যৌনতা ও জেন্ডার পরিচয়ের মতো বিষয়গুলো থাকার কারণেই মূলত এসব বই সরানো হচ্ছে, যার তীব্র সমালোচনা করে বাকস্বাধীনতাকামীরা বলছেন, এটি শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তা ও জানার পরিধিকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৬:১
নিউইয়র্কের কোলাহল ছেড়ে ইতালির পাহাড়ি গ্রামে, ৬৫ হাজার ডলারের বাড়িতে নতুন জীবন মার্কিন দম্পতির

নিউইয়র্কের কোলাহল ছেড়ে ইতালির পাহাড়ি গ্রামে, ৬৫ হাজার ডলারের বাড়িতে নতুন জীবন মার্কিন দম্পতির

নিউইয়র্কে পুলিশ কর্মকর্তার গলার চেইন ছিনতাইয়ের চেষ্টা, বাধা দিতেই ৭ বার ছু রিকা ঘাত

নিউইয়র্কে পুলিশ কর্মকর্তার গলার চেইন ছিনতাইয়ের চেষ্টা, বাধা দিতেই ৭ বার ছু রিকা ঘাত

নিউইয়র্কে নারীদের রাতের সাবওয়ে ভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক, কেউ বলছেন নিরাপদ, কেউ সতর্ক

নিউইয়র্কে নারীদের রাতের সাবওয়ে ভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক, কেউ বলছেন নিরাপদ, কেউ সতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে অন্তঃসত্ত্বা মাকে হ ত্যার পর গর্ভ থেকে অনাগত সন্তান চুরি, গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে অন্তঃসত্ত্বা মাকে হ ত্যার পর গর্ভ থেকে অনাগত সন্তান চুরি, গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে তিন সন্তানের জননী এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তার নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, ৪১ বছর বয়সী এপ্রিল বারলো সেলিও নামের ওই নারীকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর পাইনভিলের নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।   পরদিন চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে এক ভয়ংকর বিষয় আবিষ্কার করেন—নিহত নারী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, কিন্তু তার গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানটি গায়েব! পরবর্তীতে তদন্তকারীরা সেলিওর বাড়িতে পুনরায় তল্লাশি চালিয়ে ভ্রূণের কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেন।   এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডিমার্কাস কেনেথ জনসন-রাইট নামের এক দাগি আসামিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে আগে থেকেই সহিংস অপরাধের লম্বা রেকর্ড এবং বেশ কয়েকটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গত ২৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ প্রাথমিকভাবে অপহরণ ও ডাকাতির অভিযোগে এবং পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর হত্যা ও আলামত নষ্টের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে।   অবশেষে হত্যাস্থল থেকে প্রায় আড়াইশ মাইল দূরে টেনেসির ক্লার্কসভিল এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে এই মামলার সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু আলামতও উদ্ধার করেছে পুলিশ।   নিহত নারী বা তার অনাগত সন্তানকে ঠিক কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। সন্দেহভাজনের সাথে নিহতের কী সম্পর্ক ছিল তা স্পষ্ট না করা হলেও, জনসনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে পারিবারিক সহিংসতার সাথে সম্পর্কিত হত্যার ধারাও রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই সশস্ত্র ডাকাতি, অপহরণ, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং পারিবারিক সহিংসতার একাধিক পরোয়ানা ছিল।   এদিকে, নিহত সেলিওর তিন সন্তানের সহায়তার জন্য একটি 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) পেজ খুলেছেন তার বোন আমান্ডা ডি পাজ। শোকাহত বোন জানান, সেলিও অত্যন্ত স্নেহময়ী একজন মানুষ ছিলেন এবং ভালোবাসার মানুষদের জন্য তিনি সবকিছু করতে পারতেন। গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন জনসনকে বর্তমানে টেনেসির মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে এবং তাকে কেন্টাকিতে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৩:৫৪
দুই দেশের পাসপোর্ট আছে? যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতে যে নিয়ম ভুললেই বিপত্তি

দুই দেশের পাসপোর্ট আছে? যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতে যে নিয়ম ভুললেই বিপত্তি

নিউইয়র্কে ৭ কোটি ডলারের জাল নোট চক্রের দুই হোতার বাড়ি নিলামে, ২৫ কোটির বাড়ি বিক্রি শুরু ৯ কোটিতে

নিউইয়র্কে ৭ কোটি ডলারের জাল নোট চক্রের দুই হোতার বাড়ি নিলামে, ২৫ কোটির বাড়ি বিক্রি শুরু ৯ কোটিতে

জর্জিয়ার লিলবার্নে আগামী ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আমাদ মেমোরিয়াল সকার টুর্নামেন্ট। ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ায় ‘আমাদ (মামু) মেমোরিয়াল সকার টুর্নামেন্ট ২০২৬’ এর ফাইনাল ১১ অক্টোবর, সবাইকে আমন্ত্রণ

মাত্র ১৬ বছর বয়সে ৫০০ ডলার পুঁজি নিয়ে অনলাইনে সফল ব্যবসা শুরু করেছেন ইথান আলেকজান্ডার। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ১৬ বছরেই ব্যবসা শুরু করে মাসে ২৫ হাজার ডলার আয় মার্কিন কিশোরের

মাত্র ১৬ বছর বয়সে ৫০০ ডলার পুঁজি নিয়ে অনলাইনে পণ্য পুনর্বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইথান আলেকজান্ডার। কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর মাসিক বিক্রি ২৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং পরিবারের গ্যারেজ পরিণত হয় পণ্যের গুদামে। তবে এখানে ২৫ হাজার ডলার তাঁর নিট লাভ নয়; এটি এক মাসে পণ্য বিক্রি থেকে আসা মোট অর্থ বা রেভিনিউ। গত বছর তাঁর মোট বিক্রিও প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারে পৌঁছেছিল।   বিজনেস ইনসাইডারকে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ইথান বলেন, ২০২৫ সালে হাইস্কুলের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় অনলাইনে পণ্য কিনে বেশি দামে বিক্রির ধারণাটি তাঁর মাথায় আসে। প্রতি বছর প্রপিতামহের রেখে যাওয়া একটি বিনিয়োগ হিসাব থেকে তিনি ৫০০ ডলার পেতেন। সেই অর্থ দিয়েই শুরু হয় তাঁর ব্যবসার পথচলা।   ইনস্টাগ্রামে অনলাইন রিসেলিং নিয়ে একটি ভিডিও দেখার পর বিষয়টিতে আগ্রহী হন ইথান। হাতে থাকা ৫০০ ডলার দিয়ে একজনের কাছ থেকে অনলাইনে পণ্য পুনর্বিক্রির কৌশল শেখেন। খুব বেশি গবেষণা ছাড়াই ব্যবসায় নেমে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।   শুরুতেই অপ্রত্যাশিত সাড়া পান ইথান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম মাসেই প্রায় ১০ হাজার ডলারের পণ্য বিক্রি করেন। কয়েক মাস পর আগস্টে মাসিক বিক্রি ২৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়।   তাঁর ব্যবসার কৌশল ছিল প্রতিটি পণ্যে তুলনামূলক কম লাভ রেখে বেশি পরিমাণে বিক্রি করা। সাধারণত একটি পণ্যে ২ থেকে ৪ ডলার লাভ রাখতেন। তাই বড় অঙ্কের বিক্রি হলেও পুরো অর্থ তাঁর ব্যক্তিগত আয় বা লাভ ছিল না।   ইথানের প্রথম বিক্রি করা পণ্য ছিল লন্ড্রি ডিটারজেন্ট। ওয়ালমার্ট থেকে কিনে অ্যামাজনে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি দামে সেটি বিক্রি করতে পারতেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পরে লাভজনক পণ্য খুঁজতে অ্যামাজন বিক্রেতাদের ব্যবহৃত সফটওয়্যারের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও ব্যবহার করেন।   ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাড়ির গ্যারেজ কার্যত গুদামে পরিণত হয়। গ্রেটার কানসাস সিটি এলাকার বিভিন্ন ওয়ালমার্টে নিজের ট্রাক নিয়ে ঘুরে বিপুল পরিমাণ পণ্য কিনতেন। দিনের বেলা পণ্য সংগ্রহের পর গভীর রাত পর্যন্ত সেগুলো প্যাক করতেন এবং পরদিন পোস্ট অফিসে পাঠাতেন।   ব্যবসার পরিধি একপর্যায়ে এতটাই বেড়ে যায় যে কোনো কোনো মাসে শুধু পণ্য কিনতেই প্রায় ৪৫ হাজার ডলার খরচ করতেন ইথান। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় প্রথম দিকে মায়ের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতেন। বড় অঙ্কের লেনদেন বারবার সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় পরে নগদ অর্থ ব্যবহার করতে হয় তাঁকে।   কাজের চাপ সামলাতে কয়েকজনকে পণ্য প্যাক করার জন্য নিয়োগও দিয়েছিলেন। তবে একজন ভুল পণ্যে ভুল লেবেল লাগিয়ে দেওয়ায় তাঁর কয়েক হাজার ডলার ক্ষতি হয়। ব্যবসার মাধ্যমে লাভের পাশাপাশি কর্মী ব্যবস্থাপনা ও ভুল সিদ্ধান্তের আর্থিক ঝুঁকিও শেখেন তিনি।   এই সাফল্যের জন্য ব্যক্তিগত জীবনেও মূল্য দিতে হয়েছে ইথানকে। গ্রীষ্মের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটাতে পারেননি। তাঁর ভাষায়, নিজের বাড়িতেই কার্যত একটি গুদামের চাকরি করছিলেন তিনি।   ইথানের মা নিজেও স্বাস্থ্য ও সুস্থতাবিষয়ক ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং ব্যবসায়িক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে মায়ের পরামর্শ তাঁর কাজে এসেছে বলে জানিয়েছেন ইথান।   তবে দ্রুত বড় হওয়া ব্যবসা শেষ পর্যন্ত পড়াশোনার ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর স্কুলের ফলাফল খারাপ হতে থাকায় ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন।   ইথানের মতে, অ্যামাজনে বিক্রির গতি ধরে রাখতে নিয়মিত নতুন পণ্য সংগ্রহ ও বিক্রি চালিয়ে যেতে হতো। ফলে ব্যবসাটি শুধু অল্প সময় দিয়ে ছোট পরিসরে চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।   ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থের কিছু অংশ পোশাক ও মেটার স্মার্ট গ্লাসের মতো ব্যক্তিগত জিনিস কিনতে ব্যয় করেছেন তিনি। তবে বড় একটি অংশ বিনিয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।   বর্তমানে ইথানের বয়স ১৮ বছর। তিনি হাইস্কুলের শেষ বর্ষে প্রবেশ করছেন এবং কলেজে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তাঁর বাবা-মা আগে থেকেই তাঁর উচ্চশিক্ষার জন্য একটি কলেজ সেভিংস অ্যাকাউন্ট তৈরি করে রেখেছেন।   নিজের ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতার পরও উচ্চশিক্ষা বাদ দিতে চান না ইথান। তবে ব্যবসায়িক শিক্ষা নিতে গিয়ে বাস্তব ব্যবসা পরিচালনা করে ইতোমধ্যে যা শিখেছেন, তার চেয়ে কতটা নতুন কিছু শিখতে পারবেন, সেটি নিয়ে তাঁর কৌতূহল রয়েছে।   ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে অবশ্য তিনি নিশ্চিত। আবারও উদ্যোক্তা হতে চান ইথান। ১৬ বছর বয়সে ৫০০ ডলার দিয়ে শুরু করা উদ্যোগটি তাঁকে বিক্রি, পণ্য নির্বাচন, কর্মী ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকির বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়েছে।   তাঁর গল্পে ২৫ হাজার ডলারের মাসিক অঙ্কটি সবচেয়ে বেশি নজর কাড়লেও সেটি নিট লাভের হিসাব নয়। এটি মাসিক মোট বিক্রি। পণ্য কেনা, কর্মী ও ব্যবসার অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর তাঁর প্রকৃত লাভ কত ছিল, বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে সেই অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১২:৫৪
আটলান্টায় আবারও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কনস্যুলার সেবা নিয়ে আসছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টায় ডিসেম্বরে আবারও কনস্যুলার সেবা, জানালেন সমিতির সভাপতি আরিফিন বাবুল

নিউইয়র্কের সাবওয়ে স্টেশনে গিটার বাজিয়ে অভিনব উপায়ে করপোরেট চাকরি খুঁজছেন এক বাংলাদেশি তরুণ। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের ট্রেন স্টেশনে গিটার বাজিয়ে চাকরির খোঁজে বাংলাদেশি তরুণ

অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসক উইন্ডেল ডেভিস বুটের নাচ-গানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অপারেশনের সময় টিকটকে নাচের ভিডিও, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত

0 Comments