সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ট্রাম্পের ভিডিওতে আরিয়ানা গ্রান্ডের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা: ‘আর কখনো আমার গান ব্যবহার করবেন না’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৩:১০
ট্রাম্পের ভিডিওতে আরিয়ানা গ্রান্ডের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা
ট্রাম্পের ভিডিওতে আরিয়ানা গ্রান্ডের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচারে আবারও নিজের গান ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জনপ্রিয় পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডে। বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ট্রাম্পের সরকারি দলের টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে গ্রান্ডের জনপ্রিয় গান ‘উই ক্যান্ট বি ফ্রেন্ডস (ওয়েট ফর ইউর লাভ)’ ব্যবহার করা হয়। ভিডিওটি প্রকাশের পরই গ্রান্ডে তার গান আর ব্যবহার না করার জন্য ট্রাম্পের দলকে সতর্ক করেন।

 

ভিডিওতে ট্রাম্পকে একটি সমাবেশে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। পেছনে বাজছিল গ্রান্ডের গানটি। ভিডিওতে লেখা ছিল, ‘পুরুষরা সন্তান জন্ম দিতে পারে না এবং নারীদের খেলাধুলায় প্রতিযোগিতা করা উচিত নয়।’ পোস্টটির ক্যাপশনে বলা হয়, ‘এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই।’

 

ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে গ্রান্ডে লেখেন, ‘আমার গান আর কখনো ব্যবহার করবেন না। আর আপনার সত্য সত্য নয়।’ পরে তার মন্তব্যটি আর দেখা যায়নি।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে নিজের গান যুক্ত করার বিষয়ে গ্রান্ডের আপত্তি এবারই প্রথম নয়। এর আগে জুন মাসে হোয়াইট হাউসের একটি টিকটক ভিডিওতেও তার ‘বাই’ গান ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই ভিডিওতে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তাদের মানুষজনকে আটক ও গ্রেপ্তার করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছিল।

 

সেই ঘটনার পর গ্রান্ডে হোয়াইট হাউসের ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে তার গানকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত না করার আহ্বান জানান। পরে ভিডিওটি থেকে গানটির শব্দ সরিয়ে দেওয়া হয়।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি প্রচারে জনপ্রিয় শিল্পীদের গান ব্যবহারের ঘটনা নিয়ে এর আগেও একাধিক শিল্পী আপত্তি জানিয়েছেন। গ্রান্ডের পাশাপাশি সাবরিনা কার্পেন্টার, কেটি পেরি, এসজেডএ, অ্যাডেল, স্টিভেন টাইলার, নিল ইয়ং, রোলিং স্টোনস, এলটন জন, ফ্যারেল উইলিয়ামস, রিহানা ও সেলিন ডিওনের মতো শিল্পীরাও ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের গান ব্যবহারের বিরোধিতা করেছেন।

 

গ্রান্ডের সর্বশেষ প্রতিবাদ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের ট্রান্সজেন্ডার নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই ট্রান্সজেন্ডারদের সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন এবং সরকারি নথিতে লিঙ্গপরিচয় সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতি নিয়ে প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সময়ে নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণ নিয়েও দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।

 

ট্রাম্পের রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে নিজের গান ব্যবহারের বিরুদ্ধে গ্রান্ডের প্রকাশ্য অবস্থান তাই আবারও সামনে এনেছে শিল্পীদের সংগীত রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহারের অধিকার ও অনুমতি নিয়ে চলমান বিতর্ক।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’, বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’, বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার তেহরানে আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরারাত মিরজোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তাঁর বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধের চেষ্টা ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চলছে।    ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে এএফপি জানিয়েছে, পেজেশকিয়ানের অভিযোগ, আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন আলোচনা চায় না, বরং ইরানের সরকার পরিবর্তন করতে চায় বলেও দাবি করেন তিনি।    কয়েক দিন আগেও পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ থেকে তেহরান সরে যাবে না। সংঘাত বন্ধে ইরানের একটি প্রস্তাবের জবাব যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানিয়েছিল। সোমবারের মন্তব্যের পর সেই যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।    দুই পক্ষের মতবিরোধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং সংঘাত বন্ধের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার রোববার বলেছেন, তাঁদের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না। এই অবস্থায় পেজেশকিয়ানের নতুন বক্তব্য আলোচনা এগোনোর পথ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট করেছে।    সূত্র: এএফপি, আরব নিউজ ও রয়টার্স।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৪:৫৮
আলাবামার নার্সিং বোর্ডে সাইবার হামলা, নার্সদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা

আলাবামার নার্সিং বোর্ডে সাইবার হামলা, নার্সদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা

অ্যাপ্লিকেশন ফি দিতে সমস্যা? যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে চাইবেন ফি ওয়েভার

অ্যাপ্লিকেশন ফি দিতে সমস্যা? যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে চাইবেন ফি ওয়েভার, জেনে নিন

৩৭ বছর বয়সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে, লক্ষ্য নিউরোলজিস্ট হওয়া

৩৭ বছর বয়সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে, লক্ষ্য নিউরোলজিস্ট হওয়া

কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সেন্টার ফর ন্যানোটেকনোলজির পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ন্যানোটেকনোলজি গবেষণায় বাংলাদেশি অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, পেলেন ৩ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যানোটেকনোলজি ও পরিষ্কার জ্বালানি নিয়ে গবেষণায় বাংলাদেশি অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন গবেষণা কার্যক্রমে ৩ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের কথা জানানো হয়েছে। মেরিল্যান্ডের কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির এই গবেষণা উদ্যোগে ন্যানোটেকনোলজি, উন্নত উপাদান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ন্যানোমেডিসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে গবেষণা এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।   ড. জামাল উদ্দিন কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ন্যানোটেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। নিজের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে পরিষ্কার জ্বালানি প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং গবেষণার অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   এই গবেষণা কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য হলো উন্নত ন্যানো উপাদান তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে জ্বালানি উৎপাদন ও সংরক্ষণে আরও কার্যকর প্রযুক্তি তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি সৌরশক্তি, উন্নত উপাদান এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়েও গবেষণা এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ন্যানোটেকনোলজি দীর্ঘদিন ধরে ন্যানো উপাদান, সৌরশক্তি রূপান্তর, জ্বালানি সংরক্ষণ এবং উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে। ড. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণা কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের যুক্ত করার পাশাপাশি আধুনিক গবেষণাগার সুবিধা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   ড. জামাল উদ্দিন ২০০৫ সাল থেকে কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে ন্যানো উপাদান, সৌরশক্তি রূপান্তর, লেজার ফটোকেমিস্ট্রি, টেরাহার্টজ স্পেকট্রোস্কপি এবং উন্নত ন্যানোটেকনোলজি। গবেষণা ও উদ্ভাবনে অবদানের জন্য তিনি একাধিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন।   বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ড. জামাল উদ্দিন একজন পরিচিত মুখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিস্ট্রি পড়াশোনা শেষে তিনি জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের সঙ্গেও তাঁর একাডেমিক যোগাযোগ রয়েছে।   ন্যানোটেকনোলজি ও পরিষ্কার জ্বালানির মতো ভবিষ্যৎমুখী গবেষণায় বাংলাদেশি একজন অধ্যাপকের নেতৃত্বে বড় অঙ্কের অর্থায়নের ঘোষণা মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতেও আগ্রহ তৈরি করেছে। এই গবেষণা উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি তরুণদের বিজ্ঞান ও গবেষণায় আগ্রহী করে তোলার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২৩:৩৪
চীনের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজের অভিযোগে ফেডারেল মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এই রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা চীনা নারী গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার

হাম রোগের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নিউইয়র্কে স্টেট ডিজাস্টার ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হামের সংক্রমণ বাড়ছে, জরুরি অবস্থা জারি করলেন গভর্নর হোকুল

ম্যানহাটনে অফ-ডিউটি পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত মিগুয়েল ফ্রান্সিসকো মোরা নুনেজ, ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে সীমান্তরক্ষীকে গুলির ঘটনায় অবৈধ অভিবাসীর ১৫ বছরের কারাদণ্ড

নেটাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে হামলাকারী নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন ট্রাম্পের

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নেটাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার পেন্টাগন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুপারিশ করার পর ট্রাম্প তাতে অনুমোদন দেন। মৃত্যুদণ্ডের সময় ও স্থান এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।   পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হেগসেথের সুপারিশের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হাসানের মৃত্যুদণ্ডে মার্কিন সেনাবাহিনীর ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন। হাসান ২০০৯ সালে ফোর্ট হুডে সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেছিলেন। পেন্টাগনের ঘোষণার পর এখন সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে।   ফোর্ট হুডে ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর হামলাটি চালান হাসান। সে সময় তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মনোরোগ চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেনারা আফগানিস্তানে মোতায়েনের আগে চিকিৎসা ও টিকাদান প্রক্রিয়ার জন্য একটি ভবনে অপেক্ষা করছিলেন। সেখানেই হাসান গুলি চালান। হামলার পর এক পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তী সময়ে তার শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায়।   হাসানকে ২০১৩ সালে সামরিক আদালত ১৩ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। বিচার চলাকালে তিনি নিজেই নিজের পক্ষে বক্তব্য দেন এবং হামলার দায় অস্বীকার করার চেষ্টা করেননি। বরং তার বক্তব্যে উঠে আসে, আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল এবং সেখানে মোতায়েন হওয়া মার্কিন সেনাদের থামানোর উদ্দেশ্যেই তিনি হামলা চালিয়েছিলেন। সামরিক আদালতের রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর থেকে তিনি মার্কিন সামরিক কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে রয়েছেন।   ট্রাম্পের অনুমোদন কার্যকর হলে এটি হবে ছয় দশকের বেশি সময় পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা। সর্বশেষ ১৯৬১ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাইভেট জন বেনেটকে ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। বর্তমানে হাসানসহ চারজন সামরিক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে রয়েছেন। সামরিক বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত বিরল হওয়ায় হাসানের মামলাটি বিশেষভাবে নজরে এসেছে।   মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদনের পরও হাসানের আইনি সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাস আবেদন করতে পারেন, যার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়সীমা আরও পিছিয়ে যেতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ট্রাম্পের অনুমোদনের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও আদালতে নতুন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে না।   মার্কিন সেনাবাহিনীর ২০২৬ সালের একটি আইনবিষয়ক প্রকাশনায় বলা হয়েছে, সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আধুনিক প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিধিবিধান পরিবর্তিত হয়েছে। একই নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই হেগসেথ হাসানের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন ও কার্যকরের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ করেছিলেন। এখন ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের অনুমোদনের পর সেনাবাহিনী নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।   ফোর্ট হুড হামলার পর হাসানের কর্মকাণ্ড ও তার আদর্শিক অবস্থান নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়। বিচার চলাকালে তিনি তালেবানের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়ও হাসান তালেবানের ক্ষমতায় ফেরাকে স্বাগত জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এসব বক্তব্য তার মামলার প্রেক্ষাপট ও হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে পরবর্তী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   পেন্টাগনের ঘোষণায় এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান জানানো হয়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে হাসান আদালতে নতুন আবেদন করলে সেই সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে ট্রাম্পের অনুমোদন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে দিলেও বাস্তবে তা কবে এবং কোথায় হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।   তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২২:০
এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতাদের জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে নতুন মার্কিন বিলে। ছবি: সংগৃহীত

H-1B ভিসার নিয়ম ভাঙলে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা, মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল

ফ্লোরিডার সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারে ১০ দিনের পর্যটনভিত্তিক কাজের জন্য তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত

১০ দিন ছুটি কাটালেই মিলবে ১০ হাজার ডলার, ফ্লোরিডায় ব্যতিক্রমী চাকরির সুযোগ

বাল্টিমোর থেকে মিয়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে অশালীন আচরণের অভিযোগে আটক হন কেটি ইনজার। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে নারী যাত্রীর অশোভন আচরণ, তদন্তে এফবিআই

0 Comments