যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের নীতিতে সায়, এলজিবিটি থেকে ট্রান্সজেন্ডারদের বাদ দিল লগ কেবিন
যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সমকামী অধিকার নিয়ে কাজ করা গোষ্ঠী 'লগ কেবিন রিপাবলিকান' নিজেদের এলজিবিটি (LGBT) পরিচয়ের ছাতা থেকে ‘টি’ (T) বা ট্রান্সজেন্ডার অধিকার বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এখন থেকে তারা কেবল ‘এলজিবি’ (LGB) অর্থাৎ লেসবিয়ান, গে এবং বাইসেক্সুয়ালদের অধিকার রক্ষায় একটি অ্যাডভোকেসি সংগঠন হিসেবে কাজ করবে।
সংগঠনের ৫০তম বার্ষিকীর আগে বোর্ড অব ডিরেক্টরসের নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরিত লিঙ্গের মানুষদের অধিকার খর্ব করার নীতির প্রতি সরাসরি সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট রস হেমিঙ্গার এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে 'লিঙ্গ পরিচয় রাজনীতির নতুন যুগ'-কে দায়ী করেছেন।
তিনি ট্রাম্পের সুরেই অভিযোগ করেছেন যে, ট্রান্সজেন্ডার আন্দোলন এখন প্রাপ্তবয়স্কদের অধিকারের বদলে শিশুদের ওপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছে এবং বাবা-মায়ের সম্মতি ছাড়াই অপ্রাপ্তবয়স্কদের লিঙ্গ পরিবর্তনের মতো অপরিবর্তনীয় চিকিৎসার সমর্থন করছে।
তবে নিজেদের 'অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্প্রদায়' হিসেবে দাবি করা লগ কেবিন রিপাবলিকানের এই বিতর্কিত পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্যান্য মানবাধিকার ও সমকামী অধিকার সংগঠনগুলো। 'এলজিবিটিকিউ নেশন' এবং 'হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন'-এর মতো সংগঠনগুলোর দাবি, ট্রান্সজেন্ডারদের বাদ দিয়ে এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়কে বিভক্ত করার এই কৌশল মূলত সমতা বিরোধীদেরই জয়।
মিথ্যা আশায় সম্প্রদায়ের একটি অংশকে বলি দিয়ে বাকিদের সুরক্ষিত রাখার এই চেষ্টা ইতিহাসে কখনোই সফল হয়নি এবং এই কৌশল অবিলম্বে প্রত্যাখ্যান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অধিকারকর্মীরা।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার সীমিত করতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে সরকারিভাবে কেবল নারী ও পুরুষ—এই দুই লিঙ্গকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার মতো একাধিক নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে। লগ কেবিন রিপাবলিকানের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তটি ট্রাম্প প্রশাসনের সেই ধারাবাহিক নীতিরই এক নতুন রাজনৈতিক প্রতিফলন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কে বসবাসকারী কম আয়ের বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাসা ভাড়া নিয়ে বিরোধ, উচ্ছেদের নোটিশ, ইমিগ্রেশন সমস্যা, বেতন না পাওয়া, ফ্যামিলি কোর্ট কিংবা গার্হস্থ্য সহিংসতার মতো বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি অর্থায়নপ্রাপ্ত ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আইনি পরামর্শ এবং যোগ্য ব্যক্তিদের আদালতে প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করে। অনেক সেবা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে পাওয়া যায়। তবে সব ধরনের মামলায় প্রত্যেকের জন্য বিনামূল্যে আইনজীবী পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। নিউইয়র্ক সিটির অফিস অব সিভিল জাস্টিস, দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ এবং লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসি এসব সেবার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ফোন বা অনলাইনে যোগাযোগ করে নিজের আইনি সমস্যার ধরন জানাতে হয়। এরপর আয়ের পরিমাণ, বসবাসের এলাকা, মামলার ধরন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অনুযায়ী সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হয়। নিউইয়র্ক সিটির হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধীনে পরিচালিত অফিস অব সিভিল জাস্টিস বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সেবা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে হাউজিং কোর্ট, ইমিগ্রেশন এবং চাকরিসংক্রান্ত কিছু মামলায় এই সহায়তা পাওয়া যায়। সিটির তথ্য অনুযায়ী, এসব সেবা পেতে আগে থেকে এইচআরএর কোনো বেনিফিট গ্রহণকারী হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যোগ্য ব্যক্তিরা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষেও সেবা পেতে পারেন। যাঁরা বাসা থেকে উচ্ছেদের নোটিশ পেয়েছেন কিংবা বাড়িওয়ালার সঙ্গে গুরুতর বিরোধে জড়িয়েছেন, তাঁরা ৩১১ নম্বরে কল করে টেন্যান্ট হেল্পলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া হাউজিং কোর্ট অ্যানসার্সের ৭১৮-৫৫৭-১৩৭৯ নম্বরে সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায়। নিউইয়র্ক সিটির ইউনিভার্সাল অ্যাকসেস টু লিগ্যাল সার্ভিসেস আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ভাড়াটিয়ারা হাউজিং কোর্টের যোগ্য উচ্ছেদ মামলায় বিনামূল্যে আইনজীবী পাওয়ার অধিকার রাখেন। এই সুবিধা পেতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাধা নয়। তবে মামলাটি নির্ধারিত ধরনের হতে হবে এবং আয়ের শর্ত পূরণ করতে হবে। দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি নিউইয়র্কের অন্যতম বড় অলাভজনক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান। প্রায় দেড় শ বছর ধরে সংস্থাটি কম আয়ের বাসিন্দাদের বিভিন্ন আইনি সমস্যায় সহায়তা দিয়ে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে হাউজিং, ইমিগ্রেশন, ক্রিমিনাল ডিফেন্স, শিশু ও পরিবারসংক্রান্ত মামলা এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার বিরোধ। প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ যোগাযোগ নম্বর ২১২-৫৭৭-৩৩০০। নির্দিষ্ট আইনি সমস্যা অনুযায়ী সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে ডিপোর্টেশন, ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা, সিটিজেনশিপ এবং অন্যান্য ইমিগ্রেশন সমস্যায় লিগ্যাল এইড সোসাইটির অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর মামলা গ্রহণ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত এবং আইনজীবীর প্রাপ্যতার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ, সংক্ষেপে এনওয়াইএলএজি, কম আয়ের ব্যক্তিদের বিভিন্ন সিভিল আইনি সমস্যায় বিনামূল্যে সহায়তা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি হাউজিং, কনজিউমার ডেট, ইমিগ্রেশন, পাবলিক বেনিফিটস, পারিবারিক সমস্যা এবং আর্থিক পরামর্শের মতো বিষয়ে কাজ করে। এনওয়াইএলএজির সাধারণ যোগাযোগ নম্বর ২১২-৬১৩-৫০০০। প্রতিষ্ঠানটির অফিস ম্যানহাটনের ১০০ পার্ল স্ট্রিটের ১৯ তলায়। তবে সরাসরি অফিসে যাওয়ার আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফোনে যোগাযোগ অথবা অনলাইন ইনটেক ফর্ম পূরণের মাধ্যমে সহায়তার আবেদন শুরু করতে হয়। নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে সেবা প্রদানকারী আরেকটি প্রতিষ্ঠান লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসি। কম আয়ের বাসিন্দারা এখান থেকে বিভিন্ন সিভিল আইনি বিষয়ে বিনামূল্যে সহায়তা চাইতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটির হটলাইন নম্বর ৯১৭-৬৬১-৪৫০০। সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফোন করা যায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন ভাষায় ইনটেক সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির ব্রুকলিন অফিসের নম্বর ৭১৮-২৩৭-৫৫০০, ব্রঙ্কসের ৭১৮-৯২৮-৩৭০০, ম্যানহাটনের ৬৪৬-৪৪২-৩১০০, কুইন্সের ৩৪৭-৫৯২-২২০০ এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ৭১৮-২৩৩-৬৪৮০। তবে শুধু ফোন করলেই আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয় না। প্রথমে একজন ইনটেক স্পেশালিস্ট আবেদনকারীর সমস্যা, পারিবারিক আয় এবং অন্যান্য যোগ্যতার তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটি সহায়তা করতে পারবে কি না, তা জানানো হয়। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সমস্যায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্সের বিশেষ হটলাইনেও যোগাযোগ করা যায়। নম্বর ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫। এছাড়া ৩১১ নম্বরে কল করে ইমিগ্রেশন লিগ্যাল বললেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়। এই হটলাইন থেকে নিজের এলাকার কাছাকাছি সিটি ফান্ডেড ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টারের তথ্য পাওয়া যায়। তবে হটলাইন কর্তৃপক্ষ সরাসরি আইনজীবীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও যোগ্যতা যাচাইয়ের পর পরবর্তী সহায়তার সুযোগ তৈরি হয়। অনেকের প্রশ্ন, ফ্রি লিগ্যাল এইড পেতে কত আয় থাকতে হবে? এ ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দিষ্ট আয়ের সীমা নেই। তবে কিছু সিটি ফান্ডেড ইমিগ্রেশন কর্মসূচিতে পরিবারের আয় ফেডারেল পভার্টি লেভেলের ২০০ শতাংশের মধ্যে থাকতে হয়। ২০২৬ সালের ফেডারেল হিসাব অনুযায়ী, এই সীমা একজনের পরিবারের জন্য বছরে ৩১ হাজার ৯২০ ডলার, অর্থাৎ মাসে ২ হাজার ৬৬০ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের জন্য বছরে ৬৬ হাজার ডলার বা মাসে ৫ হাজার ৫০০ ডলার। তবে হাউজিং, ফ্যামিলি কোর্ট কিংবা অন্য আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে ভিন্ন আয়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। কোনো কোনো কর্মসূচিতে পারিবারিক পরিস্থিতি ও মামলার ধরন বিবেচনায় অতিরিক্ত শর্তও রয়েছে। তাই একটি প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করলেও অন্য প্রতিষ্ঠানে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। ফ্যামিলি কোর্টে সন্তানের কাস্টডি, চাইল্ড সাপোর্ট অথবা অর্ডার অব প্রোটেকশন সংক্রান্ত সমস্যায় নিউইয়র্ক স্টেট কোর্ট সিস্টেমের ভলান্টিয়ার লইয়ার প্রোগ্রাম এবং আদালতের হেল্প সেন্টারগুলো থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও সীমিত আইনি পরামর্শ পাওয়া যেতে পারে। তবে বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়া এবং পুরো মামলায় একজন আইনজীবীর প্রতিনিধিত্ব পাওয়া এক বিষয় নয়। কিছু কর্মসূচিতে আইনজীবীরা আদালতের কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া, ফর্ম পূরণে সহায়তা কিংবা আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারেন, কিন্তু পুরো মামলার দায়িত্ব নেন না। আবেদন করার আগে নিজের পরিচয়পত্র, বর্তমান ঠিকানা, আয়ের প্রমাণ এবং আইনি সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো। উচ্ছেদের নোটিশ, কোর্টের কাগজ, চাকরির পে-স্টাব, লিজ অথবা ইমিগ্রেশন নোটিশ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ভাষাগত সহায়তা। অনেক প্রতিষ্ঠানে দোভাষীর মাধ্যমে নিজের সমস্যার কথা জানানোর সুযোগ রয়েছে। ইংরেজিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে ফোন করার শুরুতেই বাংলা ভাষায় সহায়তা প্রয়োজন বলে জানানো যেতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠানে সব সময় সরাসরি বাংলাভাষী কর্মী পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আইনি সহায়তা নিতে গিয়ে প্রতারণা থেকেও সতর্ক থাকতে হবে। নিউইয়র্ক সিটির অফিস অব সিভিল জাস্টিস জানিয়েছে, সিটির পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সেবা প্রদানকারী কোনো আইনজীবী সেই সেবার জন্য অর্থ দাবি করবেন না। কেউ অফিস অব সিভিল জাস্টিস কিংবা রাইট টু কাউন্সেল কর্মসূচির পরিচয় দিয়ে টাকা চাইলে বিষয়টি যাচাই করতে হবে। এ ধরনের সন্দেহজনক ঘটনা সম্পর্কে সিটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও অভিযোগ জানানো যায়। নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিনামূল্যে আইনি সহায়তার চাহিদা অনেক বেশি। ফলে সব যোগ্য আবেদনকারীকে সঙ্গে সঙ্গে আইনজীবী দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। অনেক সময় আবেদন গ্রহণের পর পরবর্তী যোগাযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাই কোনো কোর্ট হিয়ারিংয়ের তারিখ থাকলে, বাসা ছাড়ার নোটিশ পেলে কিংবা ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জরুরি সমস্যা দেখা দিলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত যোগাযোগ করা উচিত। আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চললেও আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার দায়িত্ব আবেদনকারীর থাকে। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এসব সেবা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই আইনজীবীর উচ্চ ফি বহনের সামর্থ্য না থাকায় আইনি সহায়তা নিতে দেরি করেন। অথচ যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে পরামর্শ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরিতে সহায়তা এবং কিছু মামলায় আদালতে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইনি সমস্যার ধরন অনুযায়ী সঠিক প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করাই প্রথম পদক্ষেপ। হাউজিং সমস্যায় ৩১১ বা টেন্যান্ট হেল্পলাইন, ইমিগ্রেশন সমস্যায় ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ এবং অন্যান্য সিভিল আইনি বিষয়ে লিগ্যাল এইড সোসাইটি, এনওয়াইএলএজি অথবা লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এই প্রতিবেদনটি নিউইয়র্ক সিটি সরকার, নিউইয়র্ক স্টেট কোর্টস, দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, এনওয়াইএলএজি এবং লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এটি সাধারণ তথ্য, ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। সেবার যোগ্যতা, কর্মসূচির পরিধি এবং যোগাযোগের সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
মিশিগানে অপরিচিত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের হেজাম হুসেইন
নিউ ইয়র্কে নতুন সরকারি বেসরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৫১ হাজার ডলার থেকে, সময় সীমিত
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য আইসিইর, নতুন নির্দেশনা
নিউইয়র্কে নতুন করে ড্রাইভার লাইসেন্স নিতে চান, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না? নতুন অভিবাসীসহ অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, কী কী কাগজপত্র লাগবে, লিখিত পরীক্ষায় কত নম্বর পেতে হবে, ড্রাইভিং স্কুলে যাওয়া বাধ্যতামূলক কি না এবং রোড টেস্ট পাস করার পর কত দিনে লাইসেন্স পাওয়া যাবে। এসব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলস বা ডিএমভির নিয়মে। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ির লাইসেন্স পেতে প্রথমে লার্নার পারমিট, এরপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কোর্স এবং সবশেষে রোড টেস্ট সম্পন্ন করতে হয়। নিউইয়র্কে সাধারণ গাড়ি চালানোর জন্য ক্লাস ডি ড্রাইভার লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়। আবেদন করার ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর হলেও ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। তাঁরা সাধারণত জুনিয়র লার্নার পারমিট এবং পরে জুনিয়র লাইসেন্স পান। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোতে অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। প্রথম ধাপ হলো লার্নার পারমিটের আবেদন। এজন্য আবেদনকারীকে নিজের পরিচয়, জন্মতারিখ এবং নিউইয়র্কে বসবাসের প্রমাণ জমা দিতে হয়। ডিএমভির আইডি ৪৪ নির্দেশিকায় কোন নথির জন্য কত পয়েন্ট পাওয়া যাবে, তা নির্ধারণ করা রয়েছে। সাধারণভাবে পরিচয়ের জন্য ছয় পয়েন্টের প্রমাণ প্রয়োজন। তবে আবেদনকারী স্ট্যান্ডার্ড, রিয়েল আইডি নাকি এনহ্যান্সড লাইসেন্স নিতে চান, তার ওপর অতিরিক্ত কাগজপত্রের শর্ত নির্ভর করে। নতুন অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিউইয়র্কের স্ট্যান্ডার্ড ড্রাইভার লাইসেন্সের আবেদন করতে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকা বাধ্যতামূলক নয়। রাজ্যের গ্রিন লাইট আইনের অধীনে যোগ্য বাসিন্দারা নির্ধারিত পরিচয় ও বসবাসের প্রমাণ দিয়ে স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্সের আবেদন করতে পারেন। তবে রিয়েল আইডি ও এনহ্যান্সড লাইসেন্সের যোগ্যতা আলাদা। রিয়েল আইডির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আইনসম্মত অবস্থানের প্রমাণ প্রয়োজন এবং এনহ্যান্সড লাইসেন্স কেবল মার্কিন নাগরিকদের জন্য উপলভ্য। আবেদনের পর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ভিশন টেস্ট এবং নলেজ টেস্ট। ভিশন টেস্টে আবেদনকারীর দৃষ্টিশক্তি গাড়ি চালানোর উপযোগী কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। সাধারণভাবে অন্তত এক চোখে ২০/৪০ দৃষ্টিশক্তি থাকতে হয়, যা প্রয়োজনে চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করে পূরণ করা যেতে পারে। যাঁদের গাড়ি চালানোর সময় চশমা ব্যবহার করতে হয়, তাঁদের লাইসেন্সে সেই শর্ত উল্লেখ থাকতে পারে। লিখিত বা নলেজ টেস্টে মোট ২০টি মাল্টিপল চয়েস প্রশ্ন থাকে। পরীক্ষায় পাস করতে অন্তত ১৪টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে। তবে শুধু ১৪টি সঠিক হলেই চলবে না। চারটি রোড সাইন প্রশ্নের মধ্যে কমপক্ষে দুটি সঠিক করা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষায় ট্রাফিক আইন, রাস্তার চিহ্ন, নিরাপদ ড্রাইভিং, অ্যালকোহল ও ড্রাগের প্রভাবে গাড়ি চালানোর ঝুঁকি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম সম্পর্কে প্রশ্ন আসে। নিউইয়র্ক ডিএমভি বাংলা ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষায় নলেজ টেস্ট দেওয়ার সুযোগ রাখে। ফলে ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ নন, এমন অনেক বাংলাদেশি আবেদনকারী বাংলায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এবং উপলভ্য থাকলে বাংলায় পরীক্ষা দিতে পারেন। ডিএমভির অফিসিয়াল ড্রাইভার্স ম্যানুয়াল ও প্র্যাকটিস প্রশ্ন পড়ে প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। পরীক্ষায় পাস করলে প্রথমে অস্থায়ী পারমিট দেওয়া হয় এবং পরে ছবিসহ পারমিট ডাকযোগে পাঠানো হয়। পারমিট পাওয়া মানেই একা গাড়ি চালানোর অনুমতি নয়। ডিএমভির নিয়ম অনুযায়ী, পারমিটধারীর সঙ্গে কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী এমন একজন সুপারভাইজিং ড্রাইভার থাকতে হবে, যাঁর সংশ্লিষ্ট ধরনের গাড়ি চালানোর বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির পার্কের রাস্তা, নির্দিষ্ট ব্রিজ ও টানেল এবং ডিএমভির রোড টেস্ট এলাকায় পারমিট নিয়ে গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। বিশেষ করে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক সিটিতে আরও কঠোর নিয়ম মানতে হয়। সকাল পাঁচটা থেকে রাত নয়টার মধ্যে নির্ধারিত যোগ্য সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে এবং ডুয়াল ব্রেকযুক্ত গাড়িতে তাঁরা অনুশীলন করতে পারেন। রাত নয়টা থেকে সকাল পাঁচটা পর্যন্ত পাঁচটি বরোতে জুনিয়র পারমিট নিয়ে গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। জুনিয়র লাইসেন্স পাওয়ার পরও সাধারণভাবে নিউইয়র্ক সিটির মধ্যে গাড়ি চালানো যায় না। তবে অনুমোদিত ড্রাইভার এডুকেশন কোর্স সম্পন্ন করে ১৭ বছর বয়সে পূর্ণ ক্লাস ডি লাইসেন্স পাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। রোড টেস্ট দেওয়ার আগে পাঁচ ঘণ্টার প্রি লাইসেন্সিং কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুল থেকে এই কোর্স করা যায়। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ডিএমভি অনুমোদিত অনলাইন কোর্সের ব্যবস্থাও রয়েছে। সরাসরি কোর্স সম্পন্ন করলে সাধারণত এমভি ২৭৮ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, যার মেয়াদ এক বছর। অন্যদিকে অনুমোদিত ড্রাইভার এডুকেশন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা এমভি ২৮৫ সার্টিফিকেট ব্যবহার করতে পারেন। অনলাইন প্রি লাইসেন্সিং কোর্সের তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সরাসরি ডিএমভিতে পাঠায়। প্রচলিত ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং বা ইন্স্যুরেন্স কমানোর কোর্স এই শর্ত পূরণের বিকল্প নয়। রোড টেস্টের আগে পর্যাপ্ত ড্রাইভিং প্র্যাকটিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সীদের অন্তত ৫০ ঘণ্টা সুপারভাইজড ড্রাইভিং সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক, যার মধ্যে কমপক্ষে ১৫ ঘণ্টা সূর্যাস্তের পর হতে হবে। এ ছাড়া মাঝারি থেকে ভারী ট্রাফিকে অন্তত ১০ ঘণ্টা অনুশীলন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদের অভিভাবকের স্বাক্ষরসহ এমভি ২৬২ ফর্ম জমা দিতে হয়। তাঁদের পারমিট পাওয়ার পর অন্তত ছয় মাস অপেক্ষা করতে হয় রোড টেস্টের জন্য। অন্যদিকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে একই ছয় মাস অপেক্ষার নিয়ম নেই। তবে নিরাপদে গাড়ি চালানোর দক্ষতা অর্জন না করে পরীক্ষা দেওয়া উচিত নয়। শুধু ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি চালানোর অভ্যাস যথেষ্ট নয়। ইন্টারসেকশন, লেন চেঞ্জ, ট্রাফিক সিগন্যাল, প্যারালাল পার্কিং, থ্রি পয়েন্ট টার্ন এবং ব্যস্ত রাস্তায় নিরাপদে গাড়ি চালানোর অনুশীলন করা জরুরি। প্রস্তুতি শেষ হলে ডিএমভির অনলাইন রোড টেস্ট শিডিউলিং সিস্টেম অথবা অটোমেটেড ফোন নম্বর ৫১৮ ৪০২ ২১০০ ব্যবহার করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায়। অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পারমিট নম্বর এবং প্রয়োজনীয় কোর্স সম্পন্ন করার তথ্য দিতে হয়। পরীক্ষার স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের বাসার কাছাকাছি লোকেশন বেছে নেওয়া সুবিধাজনক হলেও নির্দিষ্ট কাউন্টিতেই পরীক্ষা দিতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। রোড টেস্টের দিন ছবিসহ লার্নার পারমিট, প্রযোজ্য কোর্স সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি সঙ্গে রাখতে হবে। গাড়িটি অবশ্যই বৈধভাবে রেজিস্টার্ড, ইন্স্যুরেন্স করা, ইন্সপেকশন সম্পন্ন এবং নিরাপদ অবস্থায় থাকতে হবে। গাড়ির দরজা, সিট বেল্ট, ব্রেক, সিগন্যাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ঠিকঠাক কাজ করতে হবে। আবেদনকারীর সঙ্গে কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী বৈধ লাইসেন্সধারী ড্রাইভার থাকতে হবে, যিনি গাড়িটি পরীক্ষাস্থলে নিয়ে আসতে পারবেন। রোড টেস্টে পরীক্ষক আবেদনকারীর গাড়ি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা যাচাই করেন। সাধারণত ডান ও বাঁ দিকে মোড় নেওয়া, ইন্টারসেকশনে গাড়ি চালানো, থ্রি পয়েন্ট টার্ন এবং প্যারালাল পার্কিংয়ের মতো বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হয়। তবে পরীক্ষা শুধু এসব ম্যানুভার ঠিকভাবে সম্পন্ন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আশপাশের যানবাহন ও পথচারীদের প্রতি সতর্ক থাকা, সঠিক সময়ে সিগন্যাল দেওয়া, মিরর ও ব্লাইন্ড স্পট পরীক্ষা করা এবং রাস্তার পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। প্যারালাল পার্কিং করতে গিয়ে নতুন চালকেরা অনেক সময় সমস্যায় পড়েন। কার্বের কাছাকাছি নিরাপদে গাড়ি পার্ক করা, রিভার্স করার সময় চারপাশ পর্যবেক্ষণ এবং অন্য গাড়ির সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। একইভাবে স্টপ সাইনে সম্পূর্ণ থামা, পথচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং লেন পরিবর্তনের আগে যথাযথ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পরীক্ষক মূলত দেখতে চান আবেদনকারী বাস্তব রাস্তায় দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালাতে সক্ষম কি না। রোড টেস্টে ব্যর্থ হলে পুনরায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণ ক্লাস ডি পারমিট ও লাইসেন্সের প্রাথমিক ফিতে দুটি রোড টেস্টের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত থাকে। দুবার ব্যর্থ হলে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। তাই প্রতিবার পরীক্ষার আগে দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে অনুশীলন করা ভালো। রোড টেস্টে পাস করলে ডিএমভির নিয়ম অনুযায়ী ইন্টেরিম ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়া যায়। এরপর ছবিসহ স্থায়ী লাইসেন্স ডাকযোগে পাঠানো হয়। সাধারণভাবে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে লাইসেন্স হাতে পাওয়া এবং আইনগতভাবে গাড়ি চালানোর অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি এক নয়। পরীক্ষায় পাস করার পর ডিএমভির নির্দেশনা অনুযায়ী বৈধ ইন্টেরিম লাইসেন্স ব্যবহার করতে হবে। জুনিয়র লাইসেন্সধারীদের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধও বহাল থাকবে। লাইসেন্স নিতে মোট খরচ কত হবে, তা নির্ভর করে আবেদনকারীর বয়স, জন্মতারিখ, লাইসেন্সের ধরন এবং বসবাসের এলাকার ওপর। নিউইয়র্ক সিটিসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি কাউন্টিতে মেট্রোপলিটন কমিউটার ট্রান্সপোর্টেশন ডিস্ট্রিক্টের অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হয়। ডিএমভির আবেদন ফি ছাড়াও পাঁচ ঘণ্টার কোর্স, ড্রাইভিং লেসন এবং পরীক্ষার জন্য গাড়ি ব্যবহারের খরচ আলাদা হতে পারে। রিয়েল আইডি নিতে সাধারণ লাইসেন্স ফি ছাড়া অতিরিক্ত চার্জ নেই। তবে এনহ্যান্সড লাইসেন্স নিতে আরও ৩০ ডলার দিতে হয়। নতুন লাইসেন্সের আবেদনকারীদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড, রিয়েল আইডি এবং এনহ্যান্সড লাইসেন্সের পার্থক্য বোঝাও জরুরি। স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স নিউইয়র্কে বৈধভাবে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়, কিন্তু সাধারণভাবে ফেডারেল পরিচয়পত্রের কাজে ব্যবহার করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে ডোমেস্টিক ফ্লাইটে ওঠার সময় রিয়েল আইডি, এনহ্যান্সড লাইসেন্স অথবা টিএসএ অনুমোদিত অন্য পরিচয়পত্র প্রয়োজন। এনহ্যান্সড লাইসেন্স নির্দিষ্ট স্থল ও সমুদ্র সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রেও পরিচয় ও মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি তাই শুরু হয় সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত করার মাধ্যমে। এরপর নলেজ টেস্ট, ভিশন টেস্ট, লার্নার পারমিট, প্রি লাইসেন্সিং কোর্স এবং পর্যাপ্ত ড্রাইভিং প্র্যাকটিস শেষে রোড টেস্ট দিতে হয়। নতুন আবেদনকারীরা ডিএমভির অফিসিয়াল ড্রাইভার্স ম্যানুয়াল, আইডি ৪৪ নির্দেশিকা এবং বর্তমান ফি তালিকা অনুসরণ করলে ভুল কাগজপত্র জমা দেওয়া বা অপ্রয়োজনীয় খরচের ঝুঁকি কমাতে পারবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি নতুন অভিবাসীদের জন্য বাংলা ভাষায় পরীক্ষার সুযোগ, স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্সের যোগ্যতা এবং ডিএমভির ডকুমেন্ট সংক্রান্ত নিয়ম আগে থেকেই জানা উপকারী। তবে আবেদন করার আগে ডিএমভির সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি, কারণ পরীক্ষার পদ্ধতি, ফি ও প্রশাসনিক নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
ফ্লাইট দেরি, বাতিল আর দীর্ঘ যাত্রাপথে যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কারণ যে বিমানবন্দর
ব্যঙ্গ করে ‘মোহাম্মদ’ নামে আবদুল এল-সাইয়েদকে সম্বোধন ট্রাম্পের, সঙ্গে দিলেন ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ তকমাও
বাবাহীন শৈশব, মায়ের মাদকাসক্তি, দারিদ্র্য পেরিয়ে যেভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন জেডি ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প তাকে নাম ধরে বা কোনো আদরের নামে না ডেকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি। মেলানিয়ার সঙ্গে ২১ বছরের দাম্পত্যের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প জানান, তার স্ত্রী কর্মীদের মতো করেই তাকে ‘স্যার’ বলে ডাকেন। প্যাক্সটনের পক্ষে প্রচারে গিয়ে ট্রাম্প প্রথমে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তিনি তালারিকোকে নিরামিষভোজী বলে দাবি করেন, যদিও তালারিকো এ দাবি বারবার অস্বীকার করেছেন। নিরামিষভোজী বোঝাতে ইংরেজি ‘ভেগান’ শব্দটির উচ্চারণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, একবার মেলানিয়া তাকে শব্দটির সঠিক উচ্চারণ শিখিয়েছিলেন এবং সে সময় তাকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী, মেলানিয়া তাকে বলেছিলেন, ‘স্যার, আপনি আমাকে একটি উপকার করুন, এটা ভে-গান নয়, ভি-গান।’ এরপর ট্রাম্প উপস্থিত সমর্থকদের সামনে বলেন, এবার তিনি শব্দটির সঠিক উচ্চারণ করতে পেরেছেন। মেলানিয়া তাকে সাধারণত কীভাবে সম্বোধন করেন, সেই প্রসঙ্গটি সেখান থেকেই সমাবেশের বক্তব্যে উঠে আসে। এরপর ট্রাম্প আবার তালারিকোর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বক্তব্যে ফিরে যান। তিনি দাবি করেন, তালারিকো এখন রাজনৈতিক কারণে মাংস খাওয়ার কথা বলছেন। এমনকি মাংস খাওয়ার কারণে তালারিকো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প আরও বলেন, রাজনৈতিক কারণে তালারিকোকে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে যেতে এবং মাংস খেতে বাধ্য হতে হয়েছে। তবে তালারিকো নিজে নিরামিষভোজী হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের এই প্রচারণার সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে টেক্সাস হিউম্যান লেজিসলেশন নেটওয়ার্কের কাছে দেওয়া তার একটি বক্তব্যকে। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মাংসের ব্যবহার কমানোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তবে ওই বক্তব্যে তালারিকো নিজে মাংস খান না বা নিরামিষভোজী, এমন দাবি করেননি। তালারিকো এর আগে নিজের খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গে বলেছেন, তিনি কেন প্যাক্সটনের প্রথম অভিযোগপত্রেরও আগে থেকেই বারবিকিউ খেয়ে আসছেন। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো নিরামিষভোজী হওয়ার দাবিকে খণ্ডন করার চেষ্টা করেছেন। ফলে মাংস খাওয়া নিয়ে দুই পক্ষের রাজনৈতিক প্রচারণা এখন টেক্সাসের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। এদিকে, টেক্সাসের সিনেট নির্বাচন ঘিরে ট্রাম্পের সক্রিয়তা বাড়ছে। সান অ্যান্টোনিওর এই সমাবেশে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, গত ছয় সপ্তাহে এটি টেক্সাসে ট্রাম্পের তৃতীয় সফর এবং রাজ্যটির সিনেট আসন ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের প্রচেষ্টায় তিনি সরাসরি যুক্ত হচ্ছেন। প্যাক্সটনের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো টেক্সাসের অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে তিনি প্যাক্সটনের চেয়ে এগিয়ে আছেন। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিক্সের হিসাবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন জরিপের গড় হিসেবে তালারিকোর সমর্থন ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ, আর প্যাক্সটনের ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের জরিপে ব্যবধান ছিল ৫১ শতাংশ বনাম ৪৫ শতাংশ। ফক্স নিউজের একটি জরিপেও তালারিকো ৫১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে প্যাক্সটনের ৪৯ শতাংশের চেয়ে সামান্য এগিয়ে ছিলেন। তবে ওই জরিপের ব্যবধান ছিল তিন শতাংশের ত্রুটিসীমার মধ্যে। অর্থাৎ এসব জরিপ এখনো নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিত করে না, বরং টেক্সাসের ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে এবার বেশ ঘনিষ্ঠ, তা ইঙ্গিত করছে। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৮ সালে লয়েড বেন্টসেনের পর কোনো ডেমোক্র্যাট টেক্সাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে জয় পাননি। ফলে তালারিকো জয়ী হলে সেটি রাজ্যটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রবণতার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে ভোটের প্রায় এক মাস আগে জরিপের ব্যবধানকে চূড়ান্ত ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ট্রাম্পের এবারের টেক্সাস সফরের মূল লক্ষ্য ছিল প্যাক্সটনের প্রচারণায় গতি আনা এবং রিপাবলিকান সমর্থকদের সক্রিয় করা। কিন্তু সমাবেশে তালারিকোর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি মেলানিয়ার মুখে ‘স্যার’ সম্বোধনের গল্পও আলোচনায় উঠে আসে। প্রেসিডেন্টের নিজের বক্তব্যে উঠে আসা এই ব্যক্তিগত প্রসঙ্গটি রাজনৈতিক সমাবেশের বক্তব্যের একটি অপ্রত্যাশিত অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স ও রিয়েলক্লিয়ারপলিটিক্স।
ট্রাম্পের ৯০ ডলারের মেডিকেয়ার সহায়তা বিতরণ শুরু, বাদ পড়ছেন লাখো সুবিধাভোগী
‘মেয়েকে হয়তো ঘরে নিতে পারব না’, শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েননি চার সন্তানের মা