নিউইয়র্কের নামের রহস্য কী? ২০০০ বছর আগের ইতিহাসে মিলবে উত্তর
আজকের নিউইয়র্ক সিটি এক বিশাল মহানগর। আকাশচুম্বী ভবন, টাইমস স্কয়ার, স্ট্যাচু অব লিবার্টি আর ব্যস্ত নগরজীবনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই শহরের অতীত অবশ্য অনেক পুরোনো এবং বেশ জটিল। নিউইয়র্ক নামটি কীভাবে এলো, তার পেছনে রয়েছে আদিবাসী লেনাপি জনগোষ্ঠী, ডাচ উপনিবেশ এবং পরে ইংরেজ শাসনের দীর্ঘ ইতিহাস।
ইউরোপীয়দের আগমনের আগে বর্তমান নিউইয়র্ক অঞ্চলে লেনাপি জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। ম্যানহাটন দ্বীপকে লেনাপিরা ‘Mannahatta’ নামে চিনত। আধুনিক গবেষণায় সেই সময়ের ম্যানহাটনকে ঘন বন, জলাভূমি, তৃণভূমি ও নানা ধরনের বন্যপ্রাণীর সমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক এলাকা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
১৬০৯ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে ইংরেজ নাবিক হেনরি হাডসন বর্তমান নিউইয়র্ক অঞ্চলে পৌঁছান। এরপর ডাচরা হাডসন নদী উপত্যকায় বাণিজ্যিক ঘাঁটি গড়ে তোলে। ১৬২৪ সালে ম্যানহাটন দ্বীপে ডাচ বসতি স্থাপন শুরু হয় এবং পরে এর নাম হয় নিউ আমস্টারডাম। নিউইয়র্ক হিস্টোরিক্যালের তথ্য অনুযায়ী, নিউ আমস্টারডাম ছিল ডাচদের নিউ নেদারল্যান্ড উপনিবেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র।
তবে নিউইয়র্ক নামটি তখনও আসেনি।
১৬৬৪ সালে ইংরেজরা ডাচদের কাছ থেকে নিউ নেদারল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ৮ সেপ্টেম্বর নিউ আমস্টারডাম আনুষ্ঠানিকভাবে ইংরেজদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং শহরটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় নিউইয়র্ক। নামটি নেওয়া হয় জেমস, ডিউক অব ইয়র্কের নামে। তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লসের ভাই এবং নতুন দখল করা ভূখণ্ডের অধিকারও তার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
ম্যানহাটন কেনার গল্পটিও নিউইয়র্কের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি। প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়, ১৬২৬ সালে ডাচরা মাত্র ৬০ গিল্ডারের বিনিময়ে ম্যানহাটন দ্বীপ কিনেছিল, যা পরে প্রায় ২৪ ডলারের সমান বলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে ইতিহাসবিদরা মনে করেন, সেই সময়কার জমির মালিকানা, লেনাপি জনগোষ্ঠীর ধারণা এবং ডাচদের জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতিকে আধুনিক অর্থে একটি সরল ‘জমি কেনাবেচা’ হিসেবে দেখলে বিষয়টি অতিরিক্ত সরলীকরণ হয়ে যায়।
নিউইয়র্কের ইতিহাসে ডাচ অধ্যায়ের প্রভাব এখনো স্পষ্ট। শহরের অন্যতম পরিচিত এলাকা ও রাস্তার নামেও সেই সময়ের ছাপ রয়েছে। এমনকি ‘Wall Street’ নামটির পেছনেও ডাচ আমলের প্রতিরক্ষা দেয়ালের ইতিহাস রয়েছে।
পরবর্তী কয়েক শতকে নিউইয়র্ক দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, বাণিজ্যকেন্দ্র ও অভিবাসীদের শহরে পরিণত হয়। ১৭৮৮ সালে নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্ত হয়। পরে নিউইয়র্ক সিটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
তাই নিউইয়র্কের ইতিহাস কেবল একটি শহরের নাম বদলের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লেনাপি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ডাচ উপনিবেশ, ইংরেজ দখল এবং কয়েক শতকের নগর বিকাশ। নিউ আমস্টারডাম থেকে নিউইয়র্ক হয়ে আজকের বিশ্বনগরীতে পরিণত হওয়ার এই দীর্ঘ পথই শহরটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় মৃত ঘোষণার পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় পর হাসপাতালের মর্গে জীবিত পাওয়া যায় প্রায় দেড় বছর বয়সী ভিনসেন্ট ফিওরডিলিনোকে। গত ফেব্রুয়ারির ওই ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন তার মা অ্যালেক্সাস ফিওরডিলিনো। তাঁর ভাষ্য, শেষ বিদায়ের সময়ও পরিবারের সদস্যরা শিশুটির শ্বাস নেওয়ার মতো শব্দ শুনে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পুলিশের প্রতিবেদনেও শিশুটিকে ভুল করে মৃত ঘোষণা করার কথা উল্লেখ রয়েছে। গিলবার্ট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি পরিবারের বাড়িতে সুপার বোল উপলক্ষে সমাবেশ চলাকালে সুইমিংপুলে মুখ নিচের দিকে থাকা অবস্থায় ভিনসেন্টকে পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে ডিগনিটি হেলথের মার্সি গিলবার্ট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক আরিয়ান তুসি। স্থানীয় এবিসি১৫কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যালেক্সাস জানান, ছেলেকে বিদায় জানাতে গিয়ে তিনি তাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। শিশুটির দাদিও কাছে গিয়ে শ্বাস নেওয়ার মতো শব্দ শুনতে পান এবং বিষয়টি উপস্থিত কর্মীদের জানান। অ্যালেক্সাসের দাবি, তখন তাঁদের বলা হয়েছিল, এমন শব্দ হওয়া স্বাভাবিক। পুলিশি নথি ও বডি ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, উপস্থিত কর্মকর্তারাও শিশুটির মধ্যে জীবনের সম্ভাব্য লক্ষণ দেখেছিলেন। পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় পর ম্যারিকোপা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরের এক পরিবহনকর্মী শিশুটিকে নিতে হাসপাতালের মর্গে পৌঁছান। তখনই ভিনসেন্টকে শ্বাস নিতে দেখা যায়। এরপর তাকে দ্রুত ফিনিক্স চিলড্রেনস হাসপাতালে পাঠানো হয়। অ্যালেক্সাস বলেন, ছেলে বেঁচে থাকার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত তার কাছে ফিরতে চেয়েছিলেন। পরিবারের আইনজীবীদের দাবি, ভিনসেন্ট গুরুতর ও স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতির শিকার হয়েছে। এপ্রিল মাসে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পরও সে নিজে হাঁটতে পারছে না এবং কথা বলার সক্ষমতা ফিরে পায়নি বলে তাঁরা জানিয়েছেন। চিকিৎসা ও মৃত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে পরিবার। হাসপাতাল পরিচালনাকারী ডিগনিটি হেলথ ঘটনাটিকে মর্মান্তিক উল্লেখ করেছে। রোগীর গোপনীয়তার কারণে চিকিৎসার বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, রোগীর নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। চিকিৎসকের আইনজীবীও শিশুটির সুস্থতা কামনা করে সম্ভাব্য মামলা ও রোগীর গোপনীয়তার বিধানের কারণে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গিলবার্ট পুলিশ জানিয়েছে, তাদের তদন্তে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঠানো হয়নি। তবে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য অ্যারিজোনার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
চার লেনের ব্যস্ত মহাসড়ক পেরিয়ে বিড়ালছানাকে উদ্ধার, এরপর সামনে এল হৃদয়ছোঁয়া গল্প
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী বহিষ্কারের তথ্য
নিউ জার্সির প্যাটারসনে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কনস্যুলেট সেবা, মিলবে এনআইডি করার সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সুগার ল্যান্ডে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আগামী ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ দূতাবাসের মোবাইল কনস্যুলার সেবা আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ-আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের (বাস্গ) উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ই-পাসপোর্টের আবেদনসংক্রান্ত বায়োমেট্রিক কার্যক্রম, নো ভিসা রিকোয়ার্ড (এনভিআর), পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এবং বিভিন্ন নথি সত্যায়নের আবেদন গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সুগার ল্যান্ডের বাস্গ হোমে এ কার্যক্রম চলবে। ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬৬৪২ অ্যালিস ফস্টার স্ট্রিট, সুগার ল্যান্ড, টেক্সাস ৭৭৪৯৮। নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ইস্যু করা ১৬ বা ১৭ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন সনদের একটি অনুলিপি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। আয়োজকদের প্রচারপত্রে মূল সনদ প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্ক্যান করা বা ফ্যাক্সের মাধ্যমে পাঠানো কপিও গ্রহণযোগ্য বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র, ছবি, নির্ধারিত ফি এবং সংশ্লিষ্ট সেবার অন্যান্য কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে। কোন সেবার জন্য কী কী নথি প্রয়োজন এবং কত ফি দিতে হবে, তা জানতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের প্রচারপত্রে যোগাযোগের জন্য লাভলি (৮৩২-৪৬৬-৮২৩৮), পপি (৮৩২-৫৬৭-৬৩৩৬), শিপলু (৪০৯-৭২৮-৯২৬২), নাহিদ (৮৪৩-৫৮৪-৩৮০২), পাভেল (২৮১-৮২৭-৭৯৮০) এবং মালার (৮৩২-৭০১-৩৯৩২) নম্বর দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংগঠনটির ওয়েবসাইট www.basgh.net ভিজিট করা যাবে। সেবা নিতে যাওয়ার আগে আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সঠিক সময়, স্থান এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিশ্চিত করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: বাংলাদেশ-আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের প্রচারপত্র ও ওয়েবসাইট।
গ্রিন কার্ডের আবেদনে কিছুটা স্বস্তি, কয়েকটি ক্যাটাগরিতে এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নির্ধারিত তারিখ
সেপ্টেম্বরের বড় ধাক্কা কাটিয়ে গ্রামীণ ভোটারদের সমর্থন ফিরে পাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
দুর্ঘটনার দুই মিনিট আগেও ফোনে প র্ণ দেখছিলেন, প্রা ণহানির ঘটনায় বিপাকে ক্যালিফোর্নিয়ার নারী
আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব গুগলকে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাইয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বললেও তিনি রাজি হননি। কারণ হিসেবে একাধিক দেশের সঙ্গে মহাসাগরের সীমানা যুক্ত থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) দক্ষিণ ক্যারোলিনায় এক নির্বাচনী সমাবেশে সমর্থকদের সামনে এই কথোপকথনের বিবরণ দেন ট্রাম্প। তবে গুগল এমন কোনো আলোচনা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি। সমাবেশে ট্রাম্প জানান, আটলান্টিক কিংবা প্রশান্ত মহাসাগরের যেকোনো একটির নাম নিজের নামে রাখার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করেছিলেন। গুগল ম্যাপে ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর নাম পরিবর্তনের পর তাঁর মাথায় এই চিন্তা আসে। এরপর গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, গুগল আগের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি ভালোভাবে বাস্তবায়ন করেছিল বলেই নতুন প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন তিনি। এর আগে গুগল ম্যাপে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর পরিবর্তে ‘আমেরিকা উপসাগর’ নাম প্রদর্শন করা হয়। ওই পরিবর্তনের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, গুগল বিষয়টি সুন্দরভাবে সামলেছে। সমাবেশে তিনি সুন্দর পিচাই এবং গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিনের প্রশংসাও করেন। তাঁদের অত্যন্ত মেধাবী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী, সুন্দর পিচাইকে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করা সম্ভব কি না। জবাবে পিচাই তাঁকে জানান, মহাসাগরের বিষয়টি আলাদা। কারণ এসব জলরাশি একাধিক দেশের সীমানার সঙ্গে যুক্ত। তাই গুগলের পক্ষে এমন পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলে পিচাই জানিয়েছিলেন, এমনটাই দাবি করেন ট্রাম্প। সমর্থকদের সামনে কথোপকথনের বিবরণ দিতে গিয়ে হাস্যরসও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি অনুযায়ী, পিচাই তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন, যেন মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের মতো কাজ গুগলকে করতে না বলা হয়। এরপর ট্রাম্প বলেন, তিনি সম্ভবত এই পরিকল্পনা বাদ দেবেন। আটলান্টিক মহাসাগরের বর্তমান নামই রাখা উচিত কি না, সে প্রশ্নও করেন উপস্থিত সমর্থকদের। তবে ট্রাম্পের দাবি করা কথোপকথনের বিষয়ে গুগলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সুন্দর পিচাই সত্যিই এমন প্রস্তাব পেয়েছিলেন কিংবা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কি না, সেটিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। ফলে আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের আলোচনাটি আপাতত ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
হার্ভার্ডে এনভায়রনমেন্ট গবেষণায় ফেলোশিপ, বছরে বেতন ৯২ হাজার ডলার
ব্যাংক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় চায়ে বিষ মিশিয়ে হত্যার চেষ্টা, বান্ধবী গ্রেফতার