সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে হামলাকারী নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন ট্রাম্পের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২২:০
নেটাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
নেটাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নেটাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার পেন্টাগন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুপারিশ করার পর ট্রাম্প তাতে অনুমোদন দেন। মৃত্যুদণ্ডের সময় ও স্থান এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

 

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হেগসেথের সুপারিশের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হাসানের মৃত্যুদণ্ডে মার্কিন সেনাবাহিনীর ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন। হাসান ২০০৯ সালে ফোর্ট হুডে সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেছিলেন। পেন্টাগনের ঘোষণার পর এখন সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে।

 

ফোর্ট হুডে ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর হামলাটি চালান হাসান। সে সময় তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মনোরোগ চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেনারা আফগানিস্তানে মোতায়েনের আগে চিকিৎসা ও টিকাদান প্রক্রিয়ার জন্য একটি ভবনে অপেক্ষা করছিলেন। সেখানেই হাসান গুলি চালান। হামলার পর এক পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তী সময়ে তার শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায়।

 

হাসানকে ২০১৩ সালে সামরিক আদালত ১৩ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। বিচার চলাকালে তিনি নিজেই নিজের পক্ষে বক্তব্য দেন এবং হামলার দায় অস্বীকার করার চেষ্টা করেননি। বরং তার বক্তব্যে উঠে আসে, আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল এবং সেখানে মোতায়েন হওয়া মার্কিন সেনাদের থামানোর উদ্দেশ্যেই তিনি হামলা চালিয়েছিলেন। সামরিক আদালতের রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর থেকে তিনি মার্কিন সামরিক কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে রয়েছেন।

 

ট্রাম্পের অনুমোদন কার্যকর হলে এটি হবে ছয় দশকের বেশি সময় পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা। সর্বশেষ ১৯৬১ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাইভেট জন বেনেটকে ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। বর্তমানে হাসানসহ চারজন সামরিক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে রয়েছেন। সামরিক বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত বিরল হওয়ায় হাসানের মামলাটি বিশেষভাবে নজরে এসেছে।

 

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদনের পরও হাসানের আইনি সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাস আবেদন করতে পারেন, যার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়সীমা আরও পিছিয়ে যেতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ট্রাম্পের অনুমোদনের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও আদালতে নতুন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে না।

 

মার্কিন সেনাবাহিনীর ২০২৬ সালের একটি আইনবিষয়ক প্রকাশনায় বলা হয়েছে, সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আধুনিক প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিধিবিধান পরিবর্তিত হয়েছে। একই নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই হেগসেথ হাসানের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন ও কার্যকরের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ করেছিলেন। এখন ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের অনুমোদনের পর সেনাবাহিনী নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

 

ফোর্ট হুড হামলার পর হাসানের কর্মকাণ্ড ও তার আদর্শিক অবস্থান নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়। বিচার চলাকালে তিনি তালেবানের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়ও হাসান তালেবানের ক্ষমতায় ফেরাকে স্বাগত জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এসব বক্তব্য তার মামলার প্রেক্ষাপট ও হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে পরবর্তী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

পেন্টাগনের ঘোষণায় এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান জানানো হয়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে হাসান আদালতে নতুন আবেদন করলে সেই সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে ট্রাম্পের অনুমোদন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে দিলেও বাস্তবে তা কবে এবং কোথায় হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

 

তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
চীনের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজের অভিযোগে ফেডারেল মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এই রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা চীনা নারী গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার

ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভিনের ৩৪ বছর বয়সী রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ওয়ানইং ঝাং, যিনি ‘হিদার ঝাং’ নামেও পরিচিত, চীনের সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে’র পরিবারের সদস্যকে নজরদারির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, রোববার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চীনের উদ্দেশে একটি ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।   ফেডারেল অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঝাং চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল তাইওয়ানের একজন উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের বাসস্থানের ওপর নজরদারি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই কাজে ঝাং অন্য একজনের সঙ্গে সমন্বয় করেন এবং নজরদারি থেকে পাওয়া ছবি, ভিডিও ও গাড়ির নম্বর চীনা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান।   মার্কিন কর্মকর্তারা সরাসরি অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ না করলেও এফবিআই ও একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, লক্ষ্য ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে’র ছেলে লাই টিং-ইউ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এলাকায় বসবাস ও কাজ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঝাং ও তার এক সহযোগী ভাড়া করা গাড়িতে করে ওই ব্যক্তির বাড়ির কাছে যান। প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরায় তাদের গাড়িতে অপেক্ষা এবং পরে বাড়িতে আসা পরিবারের সদস্যদের ছবি বা ভিডিও করার দৃশ্য ধরা পড়ে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ওই অভিযানের সময় ঝাং চীনা এক কর্মকর্তাকে বার্তা পাঠিয়ে জানান যে তিনি লক্ষ্য ব্যক্তিকে দেখতে পেয়েছেন। পরে ওই কর্মকর্তা ফোনে কথা বলতে চাইলে ঝাং জানান, তিনি তখন ভিডিও ধারণ করছেন। তদন্তকারীদের দাবি, ঝাং ওই ব্যক্তির বাড়ির সামনে থাকা দুটি গাড়ির নম্বরও চীনা কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উচ্চপর্যায়ের তাইওয়ানি কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের অবস্থান, বাড়ি ও গাড়ির তথ্য ভবিষ্যতে চাপ প্রয়োগের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।   ফেডারেল তদন্তে ঝাংয়ের চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তার আইক্লাউড অ্যাকাউন্টের তথ্য ও বার্তা পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিনি বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে পড়াশোনা করেছিলেন। সেখানে পড়ার সময়ের এক সাবেক সহপাঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল, যাকে তদন্তকারীরা চীনা সরকারের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। ওই ব্যক্তির মাধ্যমে পরে ঝাং আরেক চীনা সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।   অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুনে ঝাং চীনে গিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাড়ি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। আগস্টের শেষ দিকে ঝাং ও আরেক ব্যক্তি ক্যালিফোর্নিয়ার জন ওয়েন বিমানবন্দর থেকে লাস ভেগাস যান এবং সেখান থেকে ১ সেপ্টেম্বর সিয়াটলের উদ্দেশে রওনা হন। সিয়াটলে পৌঁছে তারা একটি গাড়ি ভাড়া করে নজরদারির কথিত স্থানে যান। তদন্তকারীরা বলছেন, পুরো যাত্রাটি চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছিল।   গ্রেপ্তারের আগে ঝাংয়ের জীবনযাপনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ দৃশ্যমান ছিল। বিভিন্ন পোস্টে তাকে প্যারিসসহ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়। তার স্বামী এডরিক ডিংও একই রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তাদের বিভিন্ন সময় একসঙ্গে থাকার ছবি এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও খাবারের জায়গায় যাওয়ার তথ্য দেখা যায়। তবে এসব ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগের সরাসরি কোনো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   শিক্ষাজীবন নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্য এসেছে। প্রকাশ্য পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, ঝাং ইউনিভার্সিটি অব সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউএসসিতে পড়াশোনা করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ফেডারেল অভিযোগপত্রে বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে তার পড়াশোনার তথ্য রয়েছে। তদন্তকারী এফবিআই কর্মকর্তা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চীনের গোয়েন্দা কাঠামোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কথা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, যদিও এটিকে ঝাংয়ের বিরুদ্ধে অপরাধের স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে আদালত এখনো নির্ধারণ করেনি।   ঝাংয়ের স্বামী এডরিক ডিং গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। সিবিএস নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো কিছু জানেন না এবং পরে আর মন্তব্য করতে চাননি। ঝাংয়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে এবং তার আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিষ্কার ছিল না।   সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে ঝাংয়ের প্রাথমিক হাজিরা অনুষ্ঠিত হয়। আদালতে তিনি নিজের নাম ও অভিযোগটি বুঝতে পেরেছেন কি না, সে বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। তাকে ইউএস মার্শালদের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে তার জামিন বা হেফাজতে থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফেডারেল আইনে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   ঝাংয়ের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে চীনের কথিত গোপন তৎপরতা নিয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলার ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার আর্কাডিয়ার সাবেক মেয়র ইলিন ওয়াং চীনের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। এছাড়া সাবেক তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় নজরদারির অভিযোগে আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছিল। এসব ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিদেশি সরকারের গোপন তৎপরতা মোকাবিলায় পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়েছেন।   তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তাইওয়ানি কর্মকর্তারা এটিকে বিদেশে থাকা তাইওয়ানি নাগরিক ও তাদের পরিবারের ওপর নজরদারি এবং চাপ প্রয়োগের বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে অবগত নয় এবং তথাকথিত চীনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ব্যবহার করে চীনকে হেয় করার বিরোধিতা করে।   তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও সিবিএস নিউজ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২৩:১
হাম রোগের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নিউইয়র্কে স্টেট ডিজাস্টার ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হামের সংক্রমণ বাড়ছে, জরুরি অবস্থা জারি করলেন গভর্নর হোকুল

ম্যানহাটনে অফ-ডিউটি পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত মিগুয়েল ফ্রান্সিসকো মোরা নুনেজ, ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে সীমান্তরক্ষীকে গুলির ঘটনায় অবৈধ অভিবাসীর ১৫ বছরের কারাদণ্ড

নেটাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে হামলাকারী নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন ট্রাম্পের

এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতাদের জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে নতুন মার্কিন বিলে। ছবি: সংগৃহীত
H-1B ভিসার নিয়ম ভাঙলে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা, মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল

এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘন করা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। নতুন একটি বিলে গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা ৩৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এইচ-১বি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার সময়সীমাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।   টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি বেথ ভ্যান ডাইন ১ অক্টোবর ‘এইচ-১বি ভিসা ফ্রড ক্র্যাকডাউন অ্যাক্ট’ নামে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন। বিলটির নম্বর এইচআর ১০৬৪৩। সরকারি কংগ্রেশনাল রেকর্ড অনুযায়ী, ভ্যান ডাইনের সঙ্গে টেক্সাসের আরও পাঁচ রিপাবলিকান প্রতিনিধি ব্র্যান্ডন গিল, পিট সেশনস, কিথ সেলফ, ব্রায়ান বাবিন ও প্যাট ফ্যালন এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন। বিলটি একই দিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।   প্রস্তাবিত আইনে গুরুতর এইচ-১বি লঙ্ঘনের একটি শ্রেণিতে জরিমানা ৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। একই ধরনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো নিয়োগদাতাকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে কমপক্ষে দুই বছরের জন্য বিরত রাখার পরিবর্তে পাঁচ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রয়েছে। আরও গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বর্তমান ৩৫ হাজার ডলারের জরিমানা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ন্যূনতম নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার কথা বলা হয়েছে।   বিলে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি জালিয়াতির ক্ষেত্রেও জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট ধরনের নথি জালিয়াতির জন্য ২৫০ থেকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। নতুন প্রস্তাবে সেই সীমা বাড়িয়ে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে। আরেক শ্রেণির লঙ্ঘনে বর্তমান ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের জরিমানার সীমা বাড়িয়ে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।   ভ্যান ডাইনির দাবি, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকাতে আরও কঠোর আইন প্রয়োজন। নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মসূচির নিয়ম ভেঙে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার মতে, দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে এইচ-১বি কর্মসূচি ব্যবহার করা হলেও নিয়ম লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ভ্যান ডাইনি এর আগে উত্তর টেক্সাসে সম্ভাব্য এইচ-১বি জালিয়াতি নিয়ে তদন্তের আহ্বানও জানিয়েছিলেন।   এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক জোটের মধ্যেও মতবিরোধ রয়েছে। অভিবাসনবিরোধী কট্টরপন্থীরা মনে করেন, কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ কমতে পারে। অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ দক্ষতার কর্মী নিয়োগে এইচ-১বি ভিসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ কর্মী নিতে পারে।   নতুন বিলটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫ সালে নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের ফি আরোপ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের জুনে একটি ফেডারেল আদালত ওই ব্যবস্থাকে বাতিল করে দেয় এবং প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। একই সময়ে বার্ষিক সীমার আওতাভুক্ত এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের একটি প্রস্তাবিত ফি নিয়েও আলোচনা চলছে।   তবে নতুন বিলটি সরাসরি এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা কমানো, বেতনসীমা নির্ধারণ বা যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব করছে না। এর প্রধান লক্ষ্য হলো কর্মসূচির নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতা ও অভিবাসনসংক্রান্ত নথি জালিয়াতির ক্ষেত্রে শাস্তি বাড়ানো। ফলে বিলটি পাস হলে এইচ-১বি কর্মীদের তুলনায় নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরাসরি বড় ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হবে।   এই বিলই এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে কংগ্রেসে আলোচিত একমাত্র উদ্যোগ নয়। অ্যারিজোনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলি ক্রেন নতুন এইচ-১বি ভিসা তিন বছরের জন্য স্থগিত, বার্ষিক ভিসার সংখ্যা কমানো এবং ন্যূনতম ২ লাখ ডলারের বেতনসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়ে আলাদা একটি বিল এনেছেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি চিপ রয়ও এইচ-১বি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের পথে যাওয়ার সুযোগ এবং ভিসা দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছেন।   তবে ভ্যান ডাইনের প্রস্তাব এখনো কেবল প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত একটি বিল। এটি বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং এখনো প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটে পাস হয়নি। আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে বিলটিকে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের অনুমোদন পেতে হবে এবং এরপর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। তাই প্রস্তাবিত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের জরিমানা এখনই কার্যকর হচ্ছে না।   তথ্যসূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২১:৪৫
ফ্লোরিডার সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারে ১০ দিনের পর্যটনভিত্তিক কাজের জন্য তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত

১০ দিন ছুটি কাটালেই মিলবে ১০ হাজার ডলার, ফ্লোরিডায় ব্যতিক্রমী চাকরির সুযোগ

বাল্টিমোর থেকে মিয়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে অশালীন আচরণের অভিযোগে আটক হন কেটি ইনজার। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে নারী যাত্রীর অশোভন আচরণ, তদন্তে এফবিআই

বাড়ির বেসমেন্ট

বেসমেন্ট ফাঁকা পড়ে আছে? এয়ারবিএনবিতে ভাড়া দিয়ে হতে পারে বাড়তি আয়ের নতুন পথ

প্রতীকী ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
ডিভি-২০২৭ নিয়ে আদালতে মামলা, বাংলাদেশিদের জন্যও কি খুলবে লটারির সুযোগ?

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি-২০২৭-এর নিবন্ধন এখনো শুরু না হওয়ায় বিষয়টি গড়িয়েছে ফেডারেল আদালতে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন চালুর জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার পর ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হয়েছে। বিচারক জিনসুক ওহতা আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলায় সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডিভি লটারির অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নজর এখন ওই সিদ্ধান্তের দিকে।   ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক রেড ঈগল ল’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলাটি করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, পররাষ্ট্র দপ্তর ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালু না করে আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। মামলায় আদালতের কাছে অন্তত ৩০ দিনের জন্য ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।   ডিভি লটারি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ডাইভারসিটি ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম হারে অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর নাগরিকদের স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি চালু করা হয়। তবে কোন কোন দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন, সেই যোগ্যতার তালিকা প্রতিবছর আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়।   ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরুর তারিখ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেনি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দপ্তর জানিয়েছিল, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধনের তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। একই সময়ে দপ্তর জানায়, নির্বাচিত আবেদনকারীদের ভিসা আবেদনের সময়সীমা ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকবে।   এদিকে মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালুর জন্য নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে এবং এখন নতুন করে ৩০ দিনের নিবন্ধন পর্ব চালু করা কার্যত অসম্ভব। সরকারের এই অবস্থানের সঙ্গে মামলাকারী প্রতিষ্ঠান একমত নয়। ২৪ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক ওহটা তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।   বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সর্বশেষ ডিভি-২০২৬ কর্মসূচিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করার যোগ্য ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৯টি দেশকে ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির জন্য অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। আগের কয়েকটি ডিভি কর্মসূচিতেও বাংলাদেশ অযোগ্য দেশের তালিকায় ছিল।   তবে ডিভি-২০২৭-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের যোগ্যতা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরু করেনি এবং নতুন কর্মসূচির চূড়ান্ত যোগ্য দেশের তালিকাও প্রকাশ করেনি। ফলে আদালত যদি নিবন্ধন চালুর পথ খুলে দেন, তার পরও বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে ডিভি-২০২৭-এর সরকারি যোগ্যতার তালিকার ওপর।   বর্তমানে ডিভি-২০২৭-এর জন্য কোনো নিবন্ধন চালু নেই। তাই আদালতের সিদ্ধান্তের আগে কেউ ডিভি-২০২৭-এর আবেদন গ্রহণের দাবি করলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির সরকারি তথ্য ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া তাদের নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।   ১৪ অক্টোবরের সিদ্ধান্ত তাই শুধু নিবন্ধন আদৌ শুরু হবে কি না, সেই প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; সম্ভাব্য বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্যও এটি পরবর্তী পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে উঠতে পারে। তবে বাংলাদেশিদের জন্য আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত উত্তর পেতে ডিভি-২০২৭-এর সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৮:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, নতুন রেকর্ডের খুব কাছে এসঅ্যান্ডপি ৫০০

বাড়ি ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে বাড়ির দাম বাড়ছে, ক্রেতাদের স্বপ্নের বাড়ি কেনা আরও কঠিন

প্রতীকী ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।

যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ, সামনে বড় আইনি লড়াই

0 Comments