যুক্তরাষ্ট্রের উটাহে ১০০ ফুট পাহাড় থেকে পড়ে পাথরের খাঁজে আটকে বাঁচলেন ২০ বছরের তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে ১০০ ফুট ওপর থেকে পড়ে যান ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। তবে বিস্ময়করভাবে পাহাড়ের গা ও একটি বিশাল পাথরের খাঁজের মাঝখানে আটকে গিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে অবিশ্বাস্যভাবে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার ভোরে আয়রন কাউন্টির রেড হোলো ট্রেইলহেডে সূর্যোদয় দেখার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর এই ভয়ানক দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় শেরিফ অফিস এবং সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, অন্ধকারের মধ্যেই পাহাড় থেকে ছিটকে পড়ার পর তরুণীটি পাথরের খাঁজে আটকা পড়েন। শেরিফ অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাহাড় থেকে নিচে পড়ে গিয়ে তার মাথায় বেশ গুরুতর আঘাত লাগে। উদ্ধারের সময় তার জ্ঞান থাকলেও দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি মানসিকভাবে বেশ বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন।
এছাড়া তার পা ও হাতে চিড় ধরেছে, পিঠ ও পাঁজরে আঘাত লেগেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র যন্ত্রণায় কাতর ওই তরুণীকে পাথরের সংকীর্ণ খাঁজ থেকে বের করতে উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করেন।
উদ্ধার অভিযানের শুরুতে প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে ওই তরুণীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার পর তাকে একটি রেসকিউ বাস্কেটে নিরাপদে আটকে রাখা হয়। এরপর খুব সাবধানে তাকে পাহাড় থেকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। দ্রুত চিকিৎসার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি হেলিকপ্টারে করে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে তার শারীরিক অবস্থার সবশেষ বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি। এদিকে, আয়রন কাউন্টি শেরিফ অফিস থেকে রেড হোলো এলাকায় সূর্যোদয় দেখতে যাওয়া দর্শনার্থীদের চরম সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অন্ধকার বা কম আলোতে খাড়া পাহাড়ের আশেপাশে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreউচ্চশিক্ষা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'এইচইএ গ্রুপ'-এর (HEA Group) সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক স্নাতক ডিগ্রির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকার শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়ে দারুণ চমক দেখিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ)-এর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকদের বার্ষিক মধ্যম বা মিডিয়ান আয় ২ লাখ ২৮ হাজার ৭০৫ ডলার। আয়ের দিক থেকে এটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ-সর্বোচ্চ লাভজনক ডিগ্রি। ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন, যাতায়াত, খাবার ও বইপত্রসহ বছরে খরচ হয় প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ ডলার এবং বহিরাগতদের জন্য খরচ প্রায় ৮৭ হাজার ৭৭০ ডলার। সেই খরচের তুলনায় আয়ের এই পরিসংখ্যান শিক্ষার্থীদের জন্য একটি চমৎকার বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা পাওয়া স্নাতকদের বেতনের ওপর ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণটি করেছে। তবে আয়ের দিক থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার কেবল ইউসিএলএ শীর্ষ তালিকায় নেই; স্নাতক পাসের মাত্র চার বছরের মধ্যেই বছরে ২ লাখ ডলারের বেশি আয় করা আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এই দৌড়ে রয়েছে। ক্ল্যারমন্টের অপেক্ষাকৃত ছোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পোমোনা কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের স্নাতকরা বছরে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫১ ডলার আয় করে এক অনন্য সুবিধা ভোগ করছেন। যদিও মাত্র ৭ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার (অ্যাকসেপ্টেন্স রেট) থাকা এই কলেজে পড়াশোনা করতে বছরে প্রায় ৯০ হাজার ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ গুনতে হয়। আয়ের এই তালিকার একেবারে শীর্ষস্থানটি দখল করেছেন নর্থ ক্যারোলিনার ডারহামে অবস্থিত ডিউক ইউনিভার্সিটির গণিতের স্নাতকরা। তাদের বার্ষিক মধ্যম আয় ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৯ ডলার। বে এরিয়ার স্কুলগুলো শীর্ষ দশের তালিকায় জায়গা না পেলেও তারা খুব একটা পিছিয়ে নেই। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতকদের মধ্যম আয় ২ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ ডলার এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে-এর একই ডিগ্রির স্নাতকরা আয় করছেন ২ লাখ ৪ হাজার ৩৭৯ ডলার। প্রযুক্তির বাইরে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি (ইস্ট বে), সান ফ্রান্সিসকো স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং স্যামুয়েল মেরিট ইউনিভার্সিটির মতো ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকটি নার্সিং প্রোগ্রাম থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাও বছরে প্রায় দেড় লাখ ডলার আয় করছেন। এইচইএ গ্রুপের বিশ্লেষণ করা প্রায় ২৫ হাজার ব্যাচেলর প্রোগ্রামের মধ্যে এগুলো শীর্ষ ১০০-তে জায়গা করে নিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার খরচ ১ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই এখন কলেজ শিক্ষাকে আর অর্থবহ মনে হচ্ছে না। ২০২৪ সালের এক জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩৩ শতাংশ মনে করেন যে কলেজের শিক্ষা খরচের সমতুল্য মূল্যায়ন দেয়, অন্যদিকে ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীকে হ ত্যার পর সামনে এলো স্ত্রীর ভয়াবহ নি র্যাতনের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহে ১০০ ফুট পাহাড় থেকে পড়ে পাথরের খাঁজে আটকে বাঁচলেন ২০ বছরের তরুণী
মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করে বিদেশি নিয়োগের অভিযোগ, মাইক্রোসফট-অ্যাডোবির গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারির অভিযোগে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওয়ানিং ঝাং নামের এক কথিত চীনা গুপ্তচরকে গ্রেপ্তারের পর এবার তার সম্ভাব্য সহযোগীকে খুঁজছে এফবিআই। ফাটাই মিয়াও নামের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক এক চীনা বংশোদ্ভূত নির্মাণ ব্যবসায়ী এই গুপ্তচরবৃত্তিতে সহায়তা করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তিনি দুই সপ্তাহ আগেই একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) ফ্লাইটে চীনে পাড়ি জমিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এখনও মিয়াওয়ের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনেনি, তবে আদালতের নথিতে তাকে 'ব্যক্তি ১' বা 'ইন্ডিভিজুয়াল ওয়ান' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত রোববার দুপুরে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে মিয়াওয়ের ফাঁকা বাড়িতে প্রায় ১০ জন এফবিআই এজেন্ট দরজা ভেঙে তল্লাশি চালায়। মিয়াওয়ের ছেলে জিয়াকি মিয়াও সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার বাবা গত দুই সপ্তাহ ধরে চীনে অবস্থান করছেন, যেখানে তার মা পিঠের চিকিৎসার জন্য আগে থেকেই ছিলেন। এফবিআইয়ের অভিযান সম্পর্কে জিয়াকি বলেন, শুরুতে ফোন পেয়ে তিনি বিষয়টিকে স্ক্যাম বা প্রতারণা ভেবেছিলেন। কিন্তু পরে সিসিটিভি ক্যামেরায় সশস্ত্র সরকারি এজেন্টদের দেখতে পেয়ে রিমোট অ্যাপ দিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। তবে তার আগেই এজেন্টরা বিশেষ সরঞ্জাম দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রতিবেশীদের বর্ণনার সাথেও এই ঝটিকা অভিযানের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিয়াটলে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারি চালাতে ঝাংকে সহায়তা করেছিলেন মিয়াও। তারা একত্রে একটি এসইউভি ভাড়া করে ওই নেতার ছেলে ও তার পরিবারের ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এফবিআই স্পেশাল এজেন্ট কেভিন হোল্টের দেওয়া হলফনামা থেকে জানা যায়, গাড়ি ভাড়ার কাগজে মিয়াওয়ের ক্যালিফোর্নিয়ার আর্কেডিয়ার একটি বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল, যা তিনি ওই মাসেই বিক্রি করে দেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঝাং এই নজরদারি চালাচ্ছিলেন এবং এর আগে চীনে গিয়ে এই মিশনের বিশদ পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। মিয়াওয়ের ছেলে জিয়াকি অবশ্য তার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তার মতে, তার বাবা ইংরেজি বলতে পারেন না এবং এ ধরনের জটিল কাজ করার মতো চতুরও নন। তিনি বলেন, তার বাবা সব সময় অন্যদের অনুসরণ করতে পছন্দ করেন এবং হয়তো দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবেই অন্য কোনো শহর ঘোরার উদ্দেশ্যে না বুঝে ঝাংয়ের সাথে সিয়াটলে গিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, মিয়াও ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকটি কোম্পানির সিইও হিসেবে যুক্ত ছিলেন এবং একমাত্র তিনিই পরিবারের মধ্যে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এদিকে, গত বুধবার আদালত ওয়ানিং ঝাংয়ের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, চীনের একটি অনিবন্ধিত ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার জমা করেছেন এবং তার ভাই চীনা সরকারের হয়ে কাজ করেন, তাই তাকে জামিন দিলে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সান ফ্রান্সিসকো সফরের সময় সরকার-ঘনিষ্ঠ একটি সংগঠনের হয়ে কাজ করারও অভিযোগ রয়েছে ঝাংয়ের বিরুদ্ধে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭ কোটি শিশুর নামে খুলল বিনিয়োগ হিসাব, অভিভাবকদের এখন যা করতে হবে
মাইক্রোসফটের কর্মীদের গ্রিন কার্ড আবেদন বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন, অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ
নিউ জার্সিতে কর সহায়তার টাকা পাঠানো শুরু, যোগ্য বাসিন্দাদের ব্যাংক হিসাব দেখার পরামর্শ
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কেমব্রিজভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাবস্পট একসঙ্গে প্রায় ৬৬০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ৭ শতাংশ এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকেন্দ্রিক নতুন ব্যবসায়িক কৌশলের সঙ্গে সাংগঠনিক কাঠামো সামঞ্জস্য করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেন হাবস্পটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিনি রঙ্গন। তবে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ঠিক কতজন কর্মী চাকরি হারাবেন, তা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। বস্টন ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাবস্পট দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মার্কেটিং, সেলস, কাস্টমার সার্ভিস এবং গ্রাহক ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার তৈরি করে আসছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। শুধু সফটওয়্যার সরবরাহের পরিবর্তে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকদের সরাসরি ব্যবসায়িক ফলাফল অর্জনে সহায়তা করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া চিঠিতে ইয়ামিনি রঙ্গন জানান, গত এক বছরে হাবস্পটের ব্যবসায়িক কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাব পড়ছে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য, মূল্য নির্ধারণ এবং গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার পদ্ধতিতে। নতুন পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কাঠামোও পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। তবে কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ নিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন হাবস্পটের প্রধান নির্বাহী। তাঁর দাবি, এআই প্রযুক্তি মানুষের কাজ প্রতিস্থাপন করছে কিংবা এআই ব্যবহারের ফলে কম কর্মী দিয়ে বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে, এমন কারণে এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, এটি শুধু পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নয়। বরং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মী ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই পুনর্গঠনের মূল উদ্দেশ্য। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাবস্পটের বিভিন্ন পণ্যভিত্তিক টিম পুনর্গঠন করা হবে। আগে পৃথক সফটওয়্যার ও সেবার ভিত্তিতে টিম পরিচালিত হলেও এখন গ্রাহকদের চাহিদা ও প্রত্যাশিত ফলাফলকে কেন্দ্র করে দায়িত্ব ভাগ করা হবে। ফলে একটি টিম গ্রাহকসেবার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কাঠামোও সহজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের ম্যানেজমেন্ট কমিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত করা হবে। কর্মীদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে, যাতে একাধিক বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের জটিলতা কমে আসে। হাবস্পট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন কাঠামো নির্ধারণের পর প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। ব্যবসায়িক অগ্রাধিকার, রাজস্ব অর্জনের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কর্মীর সংখ্যা এবং নেতৃত্বসহ ছয়টি বিষয় বিবেচনা করে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে চাকরি হারাতে যাওয়া কর্মীদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও ক্যারিয়ার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। হাবস্পটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়া কর্মীরা সাধারণভাবে মূল বেতনের ২০ সপ্তাহের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবেন। এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর চাকরির জন্য অতিরিক্ত এক সপ্তাহের বেতন যোগ হবে। তবে মোট ক্ষতিপূরণ সর্বোচ্চ ৩০ সপ্তাহের মূল বেতনের সমপরিমাণ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের জন্য পাঁচ মাসের কোবরা হেলথ ইন্স্যুরেন্স সুবিধার সমপরিমাণ অর্থ এককালীন দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চাকরি হারানো কর্মীরা নতুন চাকরি খুঁজতে ছয় মাসের ক্যারিয়ার সহায়তা পাবেন। কোম্পানি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা তাদের ব্যবহৃত হাবস্পটের ল্যাপটপ এবং বাসা থেকে কাজের জন্য দেওয়া মনিটর, কিবোর্ডসহ অন্যান্য সরঞ্জামও রাখতে পারবেন। তবে ল্যাপটপে থাকা প্রতিষ্ঠানের তথ্য দূর থেকে মুছে ফেলা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কর্মরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ এবং চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। এদিকে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর হাবস্পটের পরিচালনা পর্ষদ এই পুনর্গঠন পরিকল্পনা অনুমোদন করে। কর্মী ছাঁটাই ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ বাবদ প্রতিষ্ঠানটির আনুমানিক ৬ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের শেষ নাগাদ পুনর্গঠনের অধিকাংশ কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০০৬ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির দুই সাবেক শিক্ষার্থী ব্রায়ান হ্যালিগান ও ধর্মেশ শাহ হাবস্পট প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। বিপণন, বিক্রয়, কাস্টমার সার্ভিস এবং ব্যবসায়িক তথ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত সফটওয়্যারের জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত। প্রযুক্তি খাতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক মডেলেও পরিবর্তন আসছে। হাবস্পটের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এসেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, এই ছাঁটাইকে সরাসরি এআইয়ের মাধ্যমে মানুষের চাকরি প্রতিস্থাপনের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হাবস্পটের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ৬৬০ জনকে চাকরি ছাড়তে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে কতজন কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং তাঁদের মধ্যে কেমব্রিজের সদর দপ্তরে কর্মরত কতজন রয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
নিউ জার্সিতে ট্রেন বাতিল বেড়েছে, ভোগান্তিতে কর্মজীবী যাত্রীদের বাড়ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বাড়ায় গ্যাসের খরচ বাড়ার আশঙ্কা, চাপে নিউইয়র্কবাসী