ভিসা থাকলেও পাসপোর্টের এই ৮ ভুলে আটকে যেতে পারেন বিমানবন্দরে
বহু প্রতীক্ষিত বিদেশ ভ্রমণের আগে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও কেবল পাসপোর্টের একটি ছোট ভুলের কারণে ভেস্তে যেতে পারে আপনার পুরো পরিকল্পনা। অনেকেই মনে করেন, মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট পুরোপুরি বৈধ। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি কখনো পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট করেন এবং পরবর্তীতে সেটি খুঁজেও পান, তবুও সেই পাসপোর্ট দিয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। আইভিসা-এর কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স ডিরেক্টর ভিক্টর জিমেনেজ জানান, একবার সিস্টেমে হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট করা হলে পাসপোর্টটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যায়। তাই আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বৈধ মনে হওয়া পাসপোর্টও বিমানবন্দরে বা ইমিগ্রেশনে বড় ধরনের বিপত্তির কারণ হতে পারে।
পাসপোর্টের মেয়াদের ক্ষেত্রে একেক দেশের নিয়ম একেক রকম। সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ ফেরার সম্ভাব্য তারিখের পর অন্তত তিন মাস থাকতে হয় এবং পাসপোর্টটি অবশ্যই গত ১০ বছরের মধ্যে ইস্যুকৃত হতে হয়। আবার অনেক দেশ পৌঁছানোর পর থেকে পাসপোর্টের ন্যূনতম ছয় মাসের মেয়াদ দাবি করে।
শুধু মেয়াদই নয়, পাসপোর্টের ফাঁকা পাতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন বা ভারতের মতো দেশগুলো ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্পের জন্য অন্তত দুটি ফাঁকা পাতা দাবি করে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে আবার নিয়ম আরেকটু কড়া; সেখানে প্রবেশের জন্য পাসপোর্টে পরপর দুটি সম্পূর্ণ ফাঁকা পাতা থাকা বাধ্যতামূলক। তাই ভ্রমণের আগে গন্তব্য দেশের এই ছোটখাটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
শিশুদের পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও অনেক সময় অভিভাবকরা ভুল করে থাকেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো অনেক দেশেই শিশুদের পাসপোর্টের মেয়াদ প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ১০ বছর হয় না, বরং তা ৫ বছর হয়ে থাকে। তাই শিশুদের নিয়ে ভ্রমণের আগে তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ যাচাই করার পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন বা আইনি সম্পর্কের প্রমাণপত্র সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, এমনকি পদবি এক হলেও। অন্যদিকে, নববিবাহিতদের ক্ষেত্রে প্রায়ই নাম বিভ্রাটের সমস্যা দেখা যায়।
অনেকেই বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করলেও পাসপোর্টে তা আপডেট করতে ভুলে যান এবং নতুন নামে ফ্লাইটের টিকিট বুক করেন। পাসপোর্ট ও টিকিটের নামের এই অমিলের কারণে বিমানবন্দরে বোর্ডিং থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
পাসপোর্টের বাহ্যিক অবস্থাও আপনার ভ্রমণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। পানি লেগে নষ্ট হওয়া, ল্যামিনেশন উঠে যাওয়া, পাতা আটকে থাকা বা ছিঁড়ে যাওয়াকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন। পাসপোর্টের বায়োগ্রাফিক্যাল পাতায় (যেখানে ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য থাকে) কোনো ধরনের অননুমোদিত দাগ, স্টিকার বা শিশুদের আঁকিবুঁকি থাকলে সেটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।
তবে স্বাভাবিক ব্যবহারের কারণে মলাটে সামান্য দাগ পড়লে বা পাতা কিছুটা বাঁকা হলে সাধারণত সমস্যা হয় না। মূল বিষয় হলো, পাসপোর্টের তথ্যগুলো যাতে মেশিন রিডেবল বা স্ক্যান করার মতো অবস্থায় থাকে।
অনেক গন্তব্যস্থল ‘ভিসা-মুক্ত’ হলেও এর অর্থ এই নয় যে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে যাওয়া যাবে। যুক্তরাজ্য বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে ভিসা না লাগলেও যাত্রার আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, আপনি যদি নতুন পাসপোর্ট তৈরি করেন, তবে পুরোনো পাসপোর্টের ইটিএ বা কিছু ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুনটিতে স্থানান্তরিত হয় না।
কারণ, নতুন পাসপোর্টের নম্বর ভিন্ন হয়। এক্ষেত্রে অনেক দেশ পুরোনো ও নতুন দুটি পাসপোর্টই সাথে রাখার পরামর্শ দেয়, আবার কিছু দেশ নতুন করে ইটিএ বা ভিসার আবেদন করতে বলে। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণের নিয়মকানুন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ফ্লাইট বুকিংয়ের আগে এবং ভ্রমণের কয়েক সপ্তাহ আগে গন্তব্য দেশের সরকারি ওয়েবসাইট ও এয়ারলাইন্সের নিয়মাবলি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়ার আগে রাজ্যের ৫৬৩ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ করার কথা বিবেচনা করছেন। সম্প্রতি টেনেসি রাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়। তাকে পেন্টোবারবিটাল নামক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চেতনানাশকের দুটি ডোজ দেওয়ার পরও তার মৃত্যু হয়নি, বরং তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার পরই ক্যালিফোর্নিয়ার কুখ্যাত অপরাধীদের গণহারে সাজা কমানো বা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নিউসম ২০২৮ সালে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাই এই সিদ্ধান্তটি জাতীয় পর্যায়ে তার ভাবমূর্তি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ‘ক্রাইম ভিকটিমস ইউনাইটেড’-এর প্রেসিডেন্ট টোপো প্যাডিলা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধের শিকার হওয়া ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তারা এই খবরে চরমভাবে হতাশ। বিচারক ও জুরিদের দেওয়া রায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মেনে নিয়েছিল, কিন্তু এখন একজন ব্যক্তি সেই রায় উল্টে দিতে পারেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অন্যদিকে, পাইকের ঘটনার আগে থেকেই গণহারে মৃত্যুদণ্ড মওকুফের জন্য গভর্নরের ওপর চাপ বাড়ছিল। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক অপরাধে দণ্ডিতদের সাজা মওকুফের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এই গণ-মওকুফ কার্যকর হলে তা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা এক-চতুর্থাংশেরও বেশি কমিয়ে আনবে। এর ফলে রিচার্ড অ্যালেন ডেভিস বা ১১টি খুনের দায়ে দণ্ডিত চার্লস এনজির মতো কুখ্যাত সিরিয়াল কিলাররাও প্রাণদণ্ড থেকে বেঁচে যেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকলেও ২০০৬ সালের পর থেকে সেখানে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। নিউসম নিজেই ২০১৯ সালে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। তখন তিনি মৃত্যুদণ্ডকে বৈষম্যমূলক ও অপচয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে এই স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও ক্যালিফোর্নিয়ার কৌঁসুলিরা এখনও মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন। ২০০৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত আরও ২০০ জনের বেশি অপরাধী ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পেয়েছেন। গভর্নর নিউসম এর আগে নিজের পডকাস্ট ‘দিস ইজ গ্যাভিন নিউসম’-এ এই বিষয়টি নিয়ে তার দোটানার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন রেখেছিলেন, “আমি কি পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে বড় ডেথ রো বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সারি বিলুপ্ত করব? তাহলে ভুক্তভোগীদের আমি কী জবাব দেব?” প্রগতিশীল কর্মীরা এই গণ-মওকুফের প্রশংসা করলেও অনেকেই সতর্ক করেছেন যে, মৃত্যুদণ্ড সমর্থনকারী রাজ্য বা অঞ্চলগুলো থেকে এর চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। ডেমোক্রেটিক স্ট্র্যাটেজিস্ট ম্যাট বেনেট নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, নিউসম এমনিতেই একটি অত্যন্ত উদারনৈতিক রাজ্যের গভর্নর। তিনি এমন অনেক কিছুই করেছেন যা সুইং স্টেটগুলোতে অকল্পনীয়, তাই এই তালিকায় নতুন করে মৃত্যুদণ্ড মওকুফ যোগ করা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পদক্ষেপ নাও হতে পারে।
টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে হ ত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত তরুণী ২০ লাখ ডলারের জামিনে মুক্ত
ভিসা থাকলেও পাসপোর্টের এই ৮ ভুলে আটকে যেতে পারেন বিমানবন্দরে
মূলধনের অভাবে থেমে যাবে না স্বপ্ন, তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হার্ভার্ড শিক্ষার্থী
উচ্চশিক্ষা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'এইচইএ গ্রুপ'-এর (HEA Group) সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক স্নাতক ডিগ্রির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকার শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়ে দারুণ চমক দেখিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ)-এর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকদের বার্ষিক মধ্যম বা মিডিয়ান আয় ২ লাখ ২৮ হাজার ৭০৫ ডলার। আয়ের দিক থেকে এটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ-সর্বোচ্চ লাভজনক ডিগ্রি। ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন, যাতায়াত, খাবার ও বইপত্রসহ বছরে খরচ হয় প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ ডলার এবং বহিরাগতদের জন্য খরচ প্রায় ৮৭ হাজার ৭৭০ ডলার। সেই খরচের তুলনায় আয়ের এই পরিসংখ্যান শিক্ষার্থীদের জন্য একটি চমৎকার বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা পাওয়া স্নাতকদের বেতনের ওপর ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণটি করেছে। তবে আয়ের দিক থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার কেবল ইউসিএলএ শীর্ষ তালিকায় নেই; স্নাতক পাসের মাত্র চার বছরের মধ্যেই বছরে ২ লাখ ডলারের বেশি আয় করা আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এই দৌড়ে রয়েছে। ক্ল্যারমন্টের অপেক্ষাকৃত ছোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পোমোনা কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের স্নাতকরা বছরে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫১ ডলার আয় করে এক অনন্য সুবিধা ভোগ করছেন। যদিও মাত্র ৭ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার (অ্যাকসেপ্টেন্স রেট) থাকা এই কলেজে পড়াশোনা করতে বছরে প্রায় ৯০ হাজার ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ গুনতে হয়। আয়ের এই তালিকার একেবারে শীর্ষস্থানটি দখল করেছেন নর্থ ক্যারোলিনার ডারহামে অবস্থিত ডিউক ইউনিভার্সিটির গণিতের স্নাতকরা। তাদের বার্ষিক মধ্যম আয় ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৯ ডলার। বে এরিয়ার স্কুলগুলো শীর্ষ দশের তালিকায় জায়গা না পেলেও তারা খুব একটা পিছিয়ে নেই। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতকদের মধ্যম আয় ২ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ ডলার এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে-এর একই ডিগ্রির স্নাতকরা আয় করছেন ২ লাখ ৪ হাজার ৩৭৯ ডলার। প্রযুক্তির বাইরে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি (ইস্ট বে), সান ফ্রান্সিসকো স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং স্যামুয়েল মেরিট ইউনিভার্সিটির মতো ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকটি নার্সিং প্রোগ্রাম থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাও বছরে প্রায় দেড় লাখ ডলার আয় করছেন। এইচইএ গ্রুপের বিশ্লেষণ করা প্রায় ২৫ হাজার ব্যাচেলর প্রোগ্রামের মধ্যে এগুলো শীর্ষ ১০০-তে জায়গা করে নিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার খরচ ১ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই এখন কলেজ শিক্ষাকে আর অর্থবহ মনে হচ্ছে না। ২০২৪ সালের এক জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩৩ শতাংশ মনে করেন যে কলেজের শিক্ষা খরচের সমতুল্য মূল্যায়ন দেয়, অন্যদিকে ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীকে হ ত্যার পর সামনে এলো স্ত্রীর ভয়াবহ নি র্যাতনের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহে ১০০ ফুট পাহাড় থেকে পড়ে পাথরের খাঁজে আটকে বাঁচলেন ২০ বছরের তরুণী
মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করে বিদেশি নিয়োগের অভিযোগ, মাইক্রোসফট-অ্যাডোবির গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারির অভিযোগে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওয়ানিং ঝাং নামের এক কথিত চীনা গুপ্তচরকে গ্রেপ্তারের পর এবার তার সম্ভাব্য সহযোগীকে খুঁজছে এফবিআই। ফাটাই মিয়াও নামের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক এক চীনা বংশোদ্ভূত নির্মাণ ব্যবসায়ী এই গুপ্তচরবৃত্তিতে সহায়তা করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তিনি দুই সপ্তাহ আগেই একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) ফ্লাইটে চীনে পাড়ি জমিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এখনও মিয়াওয়ের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনেনি, তবে আদালতের নথিতে তাকে 'ব্যক্তি ১' বা 'ইন্ডিভিজুয়াল ওয়ান' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত রোববার দুপুরে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে মিয়াওয়ের ফাঁকা বাড়িতে প্রায় ১০ জন এফবিআই এজেন্ট দরজা ভেঙে তল্লাশি চালায়। মিয়াওয়ের ছেলে জিয়াকি মিয়াও সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার বাবা গত দুই সপ্তাহ ধরে চীনে অবস্থান করছেন, যেখানে তার মা পিঠের চিকিৎসার জন্য আগে থেকেই ছিলেন। এফবিআইয়ের অভিযান সম্পর্কে জিয়াকি বলেন, শুরুতে ফোন পেয়ে তিনি বিষয়টিকে স্ক্যাম বা প্রতারণা ভেবেছিলেন। কিন্তু পরে সিসিটিভি ক্যামেরায় সশস্ত্র সরকারি এজেন্টদের দেখতে পেয়ে রিমোট অ্যাপ দিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। তবে তার আগেই এজেন্টরা বিশেষ সরঞ্জাম দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রতিবেশীদের বর্ণনার সাথেও এই ঝটিকা অভিযানের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিয়াটলে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারি চালাতে ঝাংকে সহায়তা করেছিলেন মিয়াও। তারা একত্রে একটি এসইউভি ভাড়া করে ওই নেতার ছেলে ও তার পরিবারের ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এফবিআই স্পেশাল এজেন্ট কেভিন হোল্টের দেওয়া হলফনামা থেকে জানা যায়, গাড়ি ভাড়ার কাগজে মিয়াওয়ের ক্যালিফোর্নিয়ার আর্কেডিয়ার একটি বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল, যা তিনি ওই মাসেই বিক্রি করে দেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঝাং এই নজরদারি চালাচ্ছিলেন এবং এর আগে চীনে গিয়ে এই মিশনের বিশদ পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। মিয়াওয়ের ছেলে জিয়াকি অবশ্য তার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তার মতে, তার বাবা ইংরেজি বলতে পারেন না এবং এ ধরনের জটিল কাজ করার মতো চতুরও নন। তিনি বলেন, তার বাবা সব সময় অন্যদের অনুসরণ করতে পছন্দ করেন এবং হয়তো দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবেই অন্য কোনো শহর ঘোরার উদ্দেশ্যে না বুঝে ঝাংয়ের সাথে সিয়াটলে গিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, মিয়াও ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকটি কোম্পানির সিইও হিসেবে যুক্ত ছিলেন এবং একমাত্র তিনিই পরিবারের মধ্যে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এদিকে, গত বুধবার আদালত ওয়ানিং ঝাংয়ের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, চীনের একটি অনিবন্ধিত ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার জমা করেছেন এবং তার ভাই চীনা সরকারের হয়ে কাজ করেন, তাই তাকে জামিন দিলে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সান ফ্রান্সিসকো সফরের সময় সরকার-ঘনিষ্ঠ একটি সংগঠনের হয়ে কাজ করারও অভিযোগ রয়েছে ঝাংয়ের বিরুদ্ধে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭ কোটি শিশুর নামে খুলল বিনিয়োগ হিসাব, অভিভাবকদের এখন যা করতে হবে
মাইক্রোসফটের কর্মীদের গ্রিন কার্ড আবেদন বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন, অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ