সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যাওয়া প্রথম নারী ক্রিস্টা পাইক, আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২৩:৪৪
ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিরুদ্ধে ক্রিস্টা পাইকের করা মামলাটি নতুন করে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিরুদ্ধে ক্রিস্টা পাইকের করা মামলাটি নতুন করে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বৃহস্পতিবারের আদেশে ন্যাশভিলের ডেভিডসন কাউন্টি চ্যান্সারি কোর্টের বিচারক আইশিয়া মাইলস জানান, মামলাটি শুনানির জন্য এই আদালতই উপযুক্ত। পাইকের আইনজীবীরা আগে থেকেই টেনেসির প্রাণঘাতী ইনজেকশন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁদের দাবি, অঙ্গরাজ্যের নতুন পদ্ধতিতে এক ধরনের ওষুধ, পেন্টোবারবিটাল, ব্যবহার করা হলেও প্রয়োগের গোপনীয়তা, যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব এবং চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কাজে কারা দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়ে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। তাঁদের মতে, পাইকের শারীরিক অবস্থার কারণে এই পদ্ধতি তাঁর ক্ষেত্রে অসাংবিধানিক হতে পারে।

 

পাইক গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসির রিভারবেন্ড সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁর শরীরে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগ করা হলেও তিনি মারা যাননি। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত প্রক্রিয়া চলাকালে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন চালু ছিল। পরে তাঁকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়া প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি বলে বর্ণনা করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

 

পাইকের আইনজীবীরা আগে থেকেই তাঁর শিরায় সুচ প্রবেশ করানোর জটিলতা এবং রক্তসংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, ইনজেকশন প্রয়োগের সময় অন্তত সাতটি সুচ ব্যবহার করা হয় এবং একটি সুচ বাঁকা হয়ে বেরিয়ে আসে। তাঁদের দাবি, ওষুধ শিরার বাইরে আশপাশের টিস্যুতে প্রবেশ করায় তাঁর দুই হাতে গুরুতর ফোলা ও ক্ষত তৈরি হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে আইনজীবীরা এখন সংশ্লিষ্ট নথি ও চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছেন। অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়কার প্রমাণ ইতিমধ্যে সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করা হয়েছে।

 

আদালতের সাম্প্রতিক আদেশে টেনেসি সংশোধন বিভাগকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওষুধ, সিরিঞ্জ, শিরায় ওষুধ দেওয়ার নল, অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী, ছবি, ভিডিও, অডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ, ই-মেইল এবং ঘটনার সময় কোনো জটিলতা বা বিলম্বের নথি সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। আগে কোনো তথ্য বা সামগ্রী মুছে ফেলা কিংবা নষ্ট করা হয়ে থাকলে, তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও করতে হবে। পাইকের আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁদের তাৎক্ষণিক দাবি সব প্রমাণ হাতে পাওয়া নয়, বরং ভবিষ্যৎ আইনি লড়াইয়ের জন্য সেগুলো অক্ষত রাখা।

 

পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা ১৯৯৫ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। আদালতের নথি অনুযায়ী, টেনেসির নক্সভিলে জব কর্পসের সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় পাইক দোষী সাব্যস্ত হন। প্রসিকিউশনের বক্তব্য ছিল, পাইক ও আরও দুজন কিশোর-কিশোরী স্লেমারকে একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে ছিলেন।

 

ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর টেনেসির গভর্নর বিল লি ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেন। চলতি বছর টেনেসিতে এটি ছিল দ্বিতীয় ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এর আগে বসন্তে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া প্রয়োজনীয় বিকল্প শিরাপথ স্থাপন করা না যাওয়ায় বন্ধ করা হয়েছিল। এসব ঘটনার পর অঙ্গরাজ্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

 

পাইক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং কথা বলতে পারছেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি এখনো অনিশ্চিত। তাঁর হাতে রক্ত জমাট বাঁধা ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কতটা ফিরবে, তা চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করতে পারেননি। আইনজীবীরা তাঁর চিকিৎসা ও আইনি পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা গভর্নর লির কাছে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

আদালতের এই সিদ্ধান্তে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে আইনি প্রশ্নগুলো আবার সামনে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে মামলার মূল অভিযোগের শুনানি শেষে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একইভাবে, স্থগিতাদেশের পর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কার্যক্রম কখন আবার শুরু হবে, সে বিষয়েও কোনো নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

 

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বড় ধরনের লোকসান কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় অনন্য সফলতার নজির গড়েছেন তালহা বখত। ছবি: সংগৃহীত
শূন্য থেকে ‘বাফেলোর প্রিন্স’: একসময় চাকরি হারানো বাংলাদেশি তালহা বখতের ১০০ বাড়ি

মাত্র আট বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তালহা বখত। বড় হয়ে চাকরি পান বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এইচপিতে। কিন্তু ক্যারিয়ারে সাফল্যের মধ্যেই আসে চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতা। এরপর ব্যবসায় বিনিয়োগ করে প্রায় দুই লাখ ডলার লোকসান গুনতে হয় তাঁকে। এত কিছুর পরও থেমে থাকেননি এই প্রবাসী বাংলাদেশি। নতুন করে ব্যবসা শুরু করে একসময় নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে গড়ে তোলেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছিলেন, তখন বাফেলোতে তাঁর ১০০টি বাড়ি ছিল।   দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালহা বখতের যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা শুরু হয় ১৯৯১ সালে। তখন তাঁর বয়স মাত্র আট বছর। পরিবারের সঙ্গে নতুন দেশে এসে বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং পরবর্তী সময়ে চাকরি ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথটি সহজ ছিল না।   শিক্ষাজীবনের শুরুতে বাণিজ্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন তালহা। পরে তথ্যপ্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে যোগ দেন হিউলেট প্যাকার্ড বা এইচপিতে। সাধারণ বেতনের চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দ্রুত পদোন্নতি পান। মাত্র চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি প্রতিষ্ঠানটির এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।   তবে চাকরিজীবনের এই সাফল্যও তাঁকে অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত রাখতে পারেনি। পদোন্নতি পেয়ে নতুন একটি বিভাগে যাওয়ার পর সেই বিভাগে কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়। এতে চাকরি হারান তিনি। পরবর্তী সময়ে একই প্রতিষ্ঠান তাঁকে অন্য বিভাগে কাজের সুযোগ দিলেও এই অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন আনে।   তালহা বুঝতে পারেন, শুধু চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। তাই চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার সুযোগ খুঁজতে থাকেন তিনি।   অবশ্য উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও আগে। মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি একটি ব্যাংকুয়েট ব্যবসা শুরু করেন। মূলত বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবসায় একপর্যায়ে তাঁর অধীনে প্রায় ৯০০ জন কাজ করতেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন।   এত বড় একটি কর্মীবাহিনী পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁকে ব্যবসার ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্ব সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেয়। পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ভালো অবস্থানে পৌঁছেছিলেন তিনি।   কিন্তু ২০০৮ সালে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের পর বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তালহা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের বাজার পরিস্থিতিতে প্রায় দুই লাখ ডলার হারান তিনি। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে আবার নতুন করে শুরু করার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়।   বড় অঙ্কের লোকসানের পর ব্যবসা থেকে পুরোপুরি সরে যাননি তালহা। প্রথমে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন। এরপর যুক্ত হন মোবাইল এক্সেসরিজের ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসায়। বিভিন্ন খাতে কাজ করতে গিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর রিয়েল এস্টেট ব্যবসার ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখে।   ২০১২ সালে তাঁর ব্যবসায়িক জীবনে আসে নতুন মোড়। নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে যান তালহা। সেখানে প্রথমে তিনটি বাড়ি তাঁর পছন্দ হয়। নিজের একটি বাড়ি কেনার যে আমেরিকান ড্রিম নিয়ে তিনি এগোচ্ছিলেন, সেই স্বপ্নই ধীরে ধীরে বড় পরিসরের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় রূপ নিতে শুরু করে।   তালহা ২০১৫ সাল পর্যন্ত চাকরি চালিয়ে যান। তবে এর আগেই তিনি রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন। একপর্যায়ে দেখতে পান, বাড়িভাড়া ও ব্যবসা থেকে আসা আয় তাঁর চাকরির আয়ের সমপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এরপর চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি নিজের ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় তাঁর কৌশল ছিল অন্য অনেক বিনিয়োগকারীর তুলনায় আলাদা। বাড়ি কিনে দ্রুত বিক্রি করে মুনাফা করার পরিবর্তে তিনি দীর্ঘমেয়াদে বাড়িগুলো নিজের কাছে রেখে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় এই পদ্ধতি বাই অ্যান্ড হোল্ড নামে পরিচিত।   এই পদ্ধতিতে বাড়িভাড়া থেকে নিয়মিত আয় করার পাশাপাশি সম্পত্তির দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ থাকে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, মর্টগেজ, প্রপার্টি ট্যাক্স এবং ভাড়াটিয়াসংক্রান্ত বিভিন্ন ঝুঁকিও রয়েছে।   তালহা ২০২২ সালে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছিলেন, তখন বাফেলোতে তাঁর ১০০টি বাড়ি ছিল। তিনি বাড়িগুলো বিক্রি না করে ভাড়া দিচ্ছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে বাড়িগুলোর মূল্যও দুই থেকে তিনগুণ বেড়েছিল।   তবে এই ১০০টি বাড়ির তথ্য মূলত তালহার নিজের দেওয়া বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর মালিকানাধীন বাড়ির বর্তমান সংখ্যা বা সম্পত্তির মোট মূল্য সম্পর্কে নতুন কোনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১০০টি বাড়িকে তাঁর বর্তমান সম্পত্তির সংখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।   রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পাশাপাশি বাফেলোতে কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবসা গড়ে তোলার সঙ্গেও যুক্ত হন তালহা। তাঁর অন্যতম পরিচিত উদ্যোগ আল আকসা সুপার মার্কেট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট।   নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের ১৩৫০ ফিলমোর অ্যাভিনিউতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের ১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বাফেলো মেয়র বায়রন ব্রাউন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেবিডব্লিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালহা ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার মোহাম্মদ হাসনাত সুপার মার্কেটটি গড়ে তুলতে প্রায় ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেন। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য আরও ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও সে সময় জানিয়েছিলেন তাঁরা।   প্রতিষ্ঠানটি শুধু দক্ষিণ এশীয় খাবার ও হালাল পণ্যের বাজার হিসেবে নয়, স্থানীয় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহের একটি উদ্যোগ হিসেবেও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে বাফেলোর পূর্বাঞ্চলে মানসম্মত গ্রোসারি ও তাজা খাদ্যপণ্যের সহজলভ্যতা বাড়ানোর বিষয়টি উদ্যোক্তারা গুরুত্ব দিয়েছিলেন।   সুপার মার্কেটটিতে তাজা শাকসবজি, ফলমূল, হালাল মাংস, মাছ, বিভিন্ন ধরনের গ্রোসারি ও দক্ষিণ এশীয় খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের তৈরি খাবার। প্রথম আলোর তৎকালীন প্রতিবেদনেও বাফেলোতে আল আকসা সুপার মার্কেটের উদ্বোধন এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ভূমিকার বিষয়টি উঠে আসে। স্থানীয় ব্যবসায়িক তালিকা ও প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অনলাইন তথ্যেও একই ঠিকানায় সুপার মার্কেট ও রেস্টুরেন্টের কার্যক্রমের উল্লেখ রয়েছে।   তালহা বখতের ব্যবসায়িক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি একাধিকবার পেশা ও ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করেছেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, রেস্টুরেন্ট, মোবাইল এক্সেসরিজ এবং রিয়েল এস্টেটের মতো ভিন্ন ভিন্ন খাতে কাজ করেছেন তিনি।   দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া বক্তব্যে তালহা সাফল্যের পেছনে উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা, নিয়মিত পরিশ্রম এবং ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা করার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। তাঁর মতে, শুধু অর্থ উপার্জনের চিন্তার চেয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   ১৯৯১ সালে আট বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সেই বাংলাদেশি শিশুর পরবর্তী জীবনে প্রযুক্তি খাতে চাকরি, বড় আর্থিক ক্ষতি এবং একাধিক ব্যবসায়িক উদ্যোগের অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে। ২০২২ সালে তাঁর নিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাফেলোতে ১০০টি বাড়ির মালিক হওয়ার পাশাপাশি একটি বড় সুপার মার্কেট প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।   তাঁর জীবনের এই ঘটনাগুলো প্রবাসে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার একটি উদাহরণ। তবে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সাফল্যের এই অভিজ্ঞতা অন্য বিনিয়োগকারীর জন্য একই ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না। তালহা বখতের গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এবং চাকরির অনিশ্চয়তার পরও নতুন উদ্যোগ নিয়ে আবার ব্যবসায় ফিরে আসা।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ০:৪৯
নিউইয়র্ক সিটির মার্বেল হিল এলাকায় গোলাগুলির ঘটনার পর জড়ো হওয়া পুলিশ ও আইনপ্রণেতাদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে এক ব্যক্তিকে গুলি করল আইসিই, ক্ষুব্ধ মামদানি

ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিরুদ্ধে ক্রিস্টা পাইকের করা মামলাটি নতুন করে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যাওয়া প্রথম নারী ক্রিস্টা পাইক, আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়

কলম্বিয়ান অভিবাসী পরিবারের সন্তান স্যান্ড্রা শর্টার আজ তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শিক্ষকতা ছেড়ে কাপকেকের ব্যবসা, ১০ বছরে সফল উদ্যোক্তা সান্দ্রা

যুক্তরাষ্ট্রে টিসিএস, ইনফোসিসসহ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পিইআরএম প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় আইটি কর্মীদের গ্রিন কার্ডে বড় ধাক্কা! স্থগিত টিসিএস, ইনফোসিসের পিইআরএম প্রক্রিয়া

ক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ ৮ অক্টোবর আটটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পিইআরএম কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। তালিকায় রয়েছে টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), ইনফোসিস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস, কগনিজ্যান্ট, ক্যাপজেমিনি, মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের নতুন শ্রম-অনুমোদনের আবেদন গ্রহণ করা হবে না এবং আগে জমা দেওয়া আবেদনও আপাতত প্রক্রিয়াকরণ করা হবে না। সরকারের দাবি, বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং মার্কিন কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সুরক্ষিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো তদন্তসংশ্লিষ্ট, এগুলোকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখা যাবে না। পিইআরএম বা স্থায়ী শ্রম-অনুমোদন হলো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগকর্তার মাধ্যমে কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ড পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তাকে দেখাতে হয়, সংশ্লিষ্ট চাকরির জন্য পর্যাপ্ত যোগ্য ও আগ্রহী মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। শ্রম বিভাগের অনুমোদন পাওয়ার পর যোগ্য কর্মীর নিয়োগকর্তা পরবর্তী ধাপে গ্রিন কার্ডের আবেদন এগিয়ে নিতে পারেন। ফলে পিইআরএম প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে ইচ্ছুক কর্মীদের অপেক্ষা বাড়তে পারে। এই সিদ্ধান্তে বিশেষ করে ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। টিসিএস, ইনফোসিস ও উইপ্রোর মতো প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানিকে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দেয় এবং তাদের মাধ্যমে বহু বিদেশি পেশাজীবী কাজ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মী নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়ার কোন পর্যায়ে আবেদন রয়েছে, তার ওপর প্রভাব নির্ভর করবে। নতুন আবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করা কর্মীদের পাশাপাশি আগে আবেদন জমা দিয়েছেন এমন কর্মীরাও বিলম্বের মুখে পড়তে পারেন। তবে এই স্থগিতাদেশের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সব কর্মীর চাকরি বন্ধ হয়ে যাবে, এইচ-১বি ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে কিংবা আগে থেকে পাওয়া সব গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে যাবে। পিইআরএম প্রক্রিয়া এবং এইচ-১বি কর্মভিসা পৃথক ব্যবস্থা। কারও বর্তমান অভিবাসন অবস্থার ওপর সিদ্ধান্তটির প্রভাব নির্ভর করবে তাঁর ভিসার মেয়াদ, আবেদন পর্যায় এবং অন্যান্য প্রযোজ্য নিয়মের ওপর। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিভিন্ন কর্মসূচির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। নতুন এই পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও কর্মকর্তারা কথিত অনিয়ম এবং মার্কিন কর্মীদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এনেছেন। তবে স্থগিতাদেশ কত দিন কার্যকর থাকবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের ফল কী হবে এবং ভবিষ্যতে আবেদন প্রক্রিয়া আবার চালু হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এদিকে, যেসব কর্মীর গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এগোচ্ছিল, তাঁদের জন্য নিয়োগকর্তার কাছ থেকে নিজেদের আবেদনের বর্তমান অবস্থা ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২২:৪৩
ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়ালনাট ক্রিকে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে চার বেডরুমের আধুনিক বাড়ি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১.৫ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ডলারে

নিউইয়র্কের কুইন্সে তিন তলা ভবন থেকে পড়েও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায় দুই বছরের এই শিশু। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কে তিন তলা থেকে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল ২ বছরের শিশু

উচ্চতা বাড়ানোর জন্য দেড় লাখ ডলার খরচ করে ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাবা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

তিন ইঞ্চি উচ্চতা বাড়াতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অপারেশন, ছেলের পাশে দাঁড়ালেন বাবা

জে-১ ভিসার অপব্যবহার রোধে ৯ শীর্ষ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক তদন্তের ঘোষণা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা জেডি ভ্যান্সের

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তালিকায় রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস ক্যাম্পাস (ইউসি ডেভিস), স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, হার্ভার্ড ও ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশটির কয়েকটি পরিচিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ তদন্তের ঘোষণা দেন। তাঁর অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি গবেষকদের জন্য নির্ধারিত ভিসা কর্মসূচি অতিরিক্ত ব্যবহার করে মার্কিন শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কর্মসংস্থান এবং মজুরির ওপর চাপ তৈরি করছে।   ভ্যান্স বলেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে জে-১ ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে এবং বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, বিদেশি গবেষকদের নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তুলনায় কম ব্যয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। তদন্তের ফল প্রকাশের আগে কোনো প্রতিষ্ঠান ভিসা জালিয়াতি করেছে বলে চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের আওতায় থাকা নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পের কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ বিদেশি নাগরিক। তাঁদের দাবি, জাতীয় পর্যায়ে এই হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান কীভাবে হিসাব করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি গবেষকদের উপস্থিতির হার বেশি হওয়ার অর্থ নিজে থেকেই ভিসা জালিয়াতির প্রমাণ নয়। তদন্তে মূলত ভিসার শর্ত, নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।   তদন্তের তালিকায় থাকা নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসি ডেভিস, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটি। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং ইউসি ডেভিস। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ইতিমধ্যে তদন্তের অংশ হিসেবে সমন জারি করা হয়েছে। বিদেশি প্রভাব, আর্থিক সম্পর্কের অনিয়ম এবং ভিসার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।   ইউসি ডেভিস কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি ভিসাসংক্রান্ত সব কেন্দ্রীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলে। ফক্স৪০-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তদন্তের বিষয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের ভিত্তি, তদন্তে কী ধরনের নথি পরীক্ষা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   জে-১ ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিনিময় কর্মসূচির আওতাভুক্ত অস্থায়ী ভিসা। এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ বা সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশটিতে যেতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক গবেষক ও পোস্টডক্টরাল গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার ক্ষেত্রে এই ভিসা ব্যবহার করে থাকে। অন্যদিকে, এইচ-১বি ভিসা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ দেয়। দুটি ভিসার উদ্দেশ্য ও শর্ত আলাদা হলেও ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে উভয় কর্মসূচির ব্যবহার নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।   ভ্যান্সের অভিযোগ, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় জে-১ ভিসার মাধ্যমে বিদেশি গবেষকদের নিয়োগ দিয়ে মার্কিন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তুলনায় কম বেতনে কাজ করাচ্ছে। তাঁর মতে, এতে স্থানীয় গবেষকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিদেশি গবেষকদের বেতন তুলনামূলক কম কি না, কিংবা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভিসার শর্ত ভেঙেছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়োগের শর্ত, কাজের ধরন ও আর্থিক নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রশাসনের অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এই তদন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ। বিদেশি শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী ও গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং কাজের সুযোগ নিয়ে প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও প্রকৌশল গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে ভিসা ব্যবহারের নিয়ম আরও কঠোর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগ এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোও প্রভাবিত হতে পারে।   শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক ডি’এসপোসিটি বলেছেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে তার পরিচিতি বা মর্যাদার কারণে তদন্তের বাইরে রাখা হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে ভিসার অপব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশি প্রভাব এবং আর্থিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। তবে তদন্ত চলাকালে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নথি পর্যালোচনা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।   সূত্র: ফক্স৪০

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২১:৩০
অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিতে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করবে পেন্টাগন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফোর্ট হুড হামলাকারীর ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে নিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে কেন এত সংকট, মাসের পর মাস আবেদন করেও কাজ পাচ্ছেন না অনেকে

গাড়িচালকদের ‘ধনী’ আখ্যা দিয়ে তোপের মুখে নিউইয়র্কের পরিবহন কমিশনার

গাড়িচালকদের ‘ধনী’ আখ্যা দিয়ে তোপের মুখে নিউইয়র্কের পরিবহন কমিশনার

0 Comments