সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে এক ব্যক্তিকে গুলি করল আইসিই, ক্ষুব্ধ মামদানি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ০:৩২
নিউইয়র্ক সিটির মার্বেল হিল এলাকায় গোলাগুলির ঘটনার পর জড়ো হওয়া পুলিশ ও আইনপ্রণেতাদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির মার্বেল হিল এলাকায় গোলাগুলির ঘটনার পর জড়ো হওয়া পুলিশ ও আইনপ্রণেতাদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে পাঁচ বছরের এক শিশুর উপস্থিতিতে গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তিকে গুলি করে আহত করেছেন ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে শহরের মার্বেল হিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে থাকা ব্যক্তি ও শিশুটিকে ঘিরে ফেলার পর একাধিক গুলি চালানো হয়। শিশুটি শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে নিউইয়র্কে আইসিইর সব অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মেয়র।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি এটিকে অত্যন্ত গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

 

মামদানির অভিযোগ, ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অভিযানের কারণে নিউইয়র্কের বিভিন্ন কমিউনিটিতে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে পাঁচ বছরের একটি শিশুর উপস্থিতিতে গুলি চালানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

অন্যদিকে আইসিইর তত্ত্বাবধানকারী যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, ব্রঙ্কসে ডোমিনিকান রিপাবলিকের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করছিলেন কর্মকর্তারা। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তির আগে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে।

 

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানের একপর্যায়ে আইসিইর একজন কর্মকর্তা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালান। এতে অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তি আহত হন। পরে কর্মকর্তারা তাঁকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেন। আহত ব্যক্তি জীবিত রয়েছেন এবং স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

 

তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। আহত ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয়, তাঁর শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য এবং গাড়িতে থাকা শিশুটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও প্রকাশ করা হয়নি।

 

ঘটনাস্থলের কাছের একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত পেদ্রো আলমারেজ রয়টার্সকে জানান, গুলির শব্দ শুনে তিনি বাইরে বেরিয়ে আসেন। সেখানে আইসিইর পোশাক পরা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে দেখতে পান। ঘটনাস্থলে তিন থেকে চারটি গাড়িও ছিল।

 

আলমারেজের ধারণা, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে পারে। তিনি জানান, গুলির প্রায় ১০ মিনিট পর নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অ্যাম্বুলেন্স আসার পর আহত ব্যক্তিকে গাড়ি থেকে বের করা হয়।

 

ঘটনার পর পুলিশ হলুদ ফিতা দিয়ে ঘটনাস্থলের একটি অংশ ঘিরে ফেলে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের সেখানে একটি গাড়ি পরীক্ষা করতে দেখা যায়। এ সময় পাশের একটি ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শিশুদের নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক।

 

এদিকে মেয়র মামদানি ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ঘটনার ভিন্ন দিক উঠে এসেছে। মেয়র শিশুর উপস্থিতিতে গুলি চালানোর বিষয়টি সামনে এনে অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, এটি নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত অভিযান ছিল।

 

তবে গুলি চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন কি না কিংবা কেন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে বিতর্ক ও প্রতিবাদ চলছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন মারা গেছেন।

 

সমালোচকদের অভিযোগ, অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার ফলে ফেডারেল কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সহিংস সংঘাত বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

 

নিউইয়র্কের সর্বশেষ ঘটনাটি সেই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের শিশুর উপস্থিতিতে গুলি চালানোর বিষয়টি নিয়ে মেয়রের কঠোর প্রতিক্রিয়া এবং আইসিইর অভিযান বন্ধের দাবি সামনে এসেছে।

 

আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চললেও গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে মেয়র মামদানি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে নিউইয়র্কে আইসিইর সব অভিযান বন্ধের দাবি জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

 

সূত্র: রয়টার্স।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফান্ডিংয়ের মাধ্যম সরাসরি ভর্তির সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা সামনে এসেছে, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছুতে স্কলারশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং ফেলোশিপের মাধ্যমে পড়াশোনার খরচ কমানোর সুযোগও রয়েছে। তবে তালিকার সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু নেই এবং সব শিক্ষার্থী ফান্ডিং পাবেন, এমন নিশ্চয়তাও নেই।   তালিকায় রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, মিসৌরি সেন্ট লুইস বিশ্ববিদ্যালয়, উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ডাকোটা, ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই অ্যাট মানোয়া, ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্ট, জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠান।   এ ছাড়া তালিকায় ওয়েস্ট টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিসৌরি, ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটি অব লিঞ্চবার্গ, ফুল সেইল ইউনিভার্সিটি, জ্যাকসনভিল স্টেট ইউনিভার্সিটি, আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেইন এবং ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা ডুলুথের নাম রয়েছে।   তালিকার বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন নিউ হ্যাম্পশায়ার ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট শার্লট, ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস, নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, অবার্ন ইউনিভার্সিটি অ্যাট মন্টগোমারি, ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন ক্লিয়ার লেক, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি কিংসভিল, ফোর্ট হেইস স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনা।   তবে এই ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম একসঙ্গে প্রচার করা হলেও সব প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের উচ্চশিক্ষা ও ফান্ডিং সুবিধা প্রদানকারী হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।   বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অফিসিয়াল একাডেমিক তথ্য অনুযায়ী, ফুল সেইল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স, গেম ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ডিগ্রি তালিকায় পিএইচডি প্রোগ্রামের উল্লেখ নেই। একইভাবে আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের গ্র্যাজুয়েট ক্যাটালগে মাস্টার্স, এডুকেশন স্পেশালিস্ট এবং গ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের তথ্য রয়েছে। সেখানে পিএইচডি ডিগ্রি তালিকাভুক্ত নেই।   ফলে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পছন্দের বিষয়ে মাস্টার্স অথবা পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।   যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ফান্ডিং সাধারণত কয়েকটি উপায়ে পাওয়া যায়। এর মধ্যে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কোনো অধ্যাপকের গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পান। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের সহায়তা কিংবা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের মতো দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।   এসব অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কের স্টাইপেন্ড এবং টিউশন মওকুফের সুবিধা থাকতে পারে। তবে সুবিধার পরিমাণ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, কাজের ধরন ও নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।   অন্যদিকে ফেলোশিপের মাধ্যমে গবেষণা বা একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। কোনো কোনো ফেলোশিপে টিউশন এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়।   ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার গ্র্যাজুয়েট স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, ফেলোশিপ ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দুটি আলাদা ধরনের আর্থিক সহায়তা। ফেলোশিপ সাধারণত গবেষণা বা পড়াশোনার জন্য দেওয়া হয়, আর অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হয়।   একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক থ্রিএম গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য পিএইচডি শিক্ষার্থীরা প্রথম বছরে ২৫ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড, নির্ধারিত টিউশন সহায়তা এবং স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেতে পারেন। পরবর্তী বছরগুলোতে নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এই ফেলোশিপ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং বিভাগের মনোনয়ন প্রয়োজন।   যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স ও পিএইচডির ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ ফান্ডিং প্যাকেজ দেওয়া হয়। কিন্তু মাস্টার্স পর্যায়ে বিশেষ করে কোর্সভিত্তিক ও পেশাগত প্রোগ্রামে একই ধরনের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে।   ফান্ডিং পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, অধ্যাপকের গবেষণার সঙ্গে মিল এবং বিভাগে অর্থের প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের সাধারণত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, স্নাতক ডিগ্রির সনদ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ জমা দিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম অনুযায়ী আইইএলটিএস, টোয়েফল বা অন্য স্বীকৃত পরীক্ষার স্কোর গ্রহণ করা হতে পারে।   কিছু প্রোগ্রামে জিআরই স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগ নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে জিআরই বাধ্যতামূলক রাখে না। এ কারণে আবেদনকারীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিভাগের বর্তমান অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট দেখতে হবে।   যেসব শিক্ষার্থী গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি করতে চান, তাঁদের জন্য সম্ভাব্য সুপারভাইজারের গবেষণার বিষয় সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি প্রোফাইল এবং সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র দেখে নিজের আগ্রহের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন অধ্যাপকদের চিহ্নিত করা যেতে পারে।   তবে কোনো অধ্যাপকের কাছে ইমেইল পাঠানো কিংবা তাঁর কাছ থেকে ইতিবাচক উত্তর পাওয়ার অর্থ ভর্তি বা ফান্ডিং নিশ্চিত হওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের আনুষ্ঠানিক অ্যাডমিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   ফান্ডিংয়ের বিষয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এবং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া সব সময় একই সিদ্ধান্তের অংশ নয়। অনেক ক্ষেত্রে ভর্তির অফার পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে ফান্ডিংয়ের জন্য আবেদন করতে হয়।   শিক্ষার্থীদের এ বিষয়েও নিশ্চিত হতে হবে যে ফান্ডিংয়ের অফারে পুরো টিউশন মওকুফ করা হচ্ছে, নাকি আংশিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ফি, আবাসন এবং ব্যক্তিগত খরচ বহন করতে হবে কি না, সেটিও জানা জরুরি।   বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফান্ডিংয়ের পরিমাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানভেদে জীবনযাপনের ব্যয়ের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   এ ছাড়া সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে আবেদন নেওয়া হয় না। ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারের অ্যাডমিশন ডেডলাইন আলাদা হতে পারে। অনেক বিভাগের ফান্ডিং বিবেচনার সময়সীমাও সাধারণ অ্যাডমিশন ডেডলাইনের আগে শেষ হয়।   যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রোগ্রামের ধরন, আবেদনযোগ্যতা, ডেডলাইন এবং ফান্ডিংয়ের শর্ত যাচাই করা উচিত।   এই ৩০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার কাজে সহায়ক হতে পারে। তবে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সব প্রতিষ্ঠানেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি ভর্তি এবং নিশ্চিত ফান্ডিং চালু রয়েছে, এমন কোনো সম্মিলিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।   সুতরাং মাস্টার্স বা পিএইচডিতে আবেদন করার আগে নিজের একাডেমিক প্রোফাইল, গবেষণার আগ্রহ এবং আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের মিল যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১:৫২
ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বশুর-শাশুড়ির গুলিতে নিহত হন নিউইয়র্ক টাইমসের প্রযুক্তিবিষয়ক নির্বাহী জোনাথন ম্যাককিনসি। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীর নির্যাতনের গর্ভপাত! আদালতে নিউইয়র্ক টাইমসের ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীর চাঞ্চল্যকর তথ্য

বড় ধরনের লোকসান কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় অনন্য সফলতার নজির গড়েছেন তালহা বখত। ছবি: সংগৃহীত

শূন্য থেকে ‘বাফেলোর প্রিন্স’: একসময় চাকরি হারানো বাংলাদেশি তালহা বখতের ১০০ বাড়ি

নিউইয়র্ক সিটির মার্বেল হিল এলাকায় গোলাগুলির ঘটনার পর জড়ো হওয়া পুলিশ ও আইনপ্রণেতাদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে এক ব্যক্তিকে গুলি করল আইসিই, ক্ষুব্ধ মামদানি

ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিরুদ্ধে ক্রিস্টা পাইকের করা মামলাটি নতুন করে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যাওয়া প্রথম নারী ক্রিস্টা পাইক, আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়

বৃহস্পতিবারের আদেশে ন্যাশভিলের ডেভিডসন কাউন্টি চ্যান্সারি কোর্টের বিচারক আইশিয়া মাইলস জানান, মামলাটি শুনানির জন্য এই আদালতই উপযুক্ত। পাইকের আইনজীবীরা আগে থেকেই টেনেসির প্রাণঘাতী ইনজেকশন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁদের দাবি, অঙ্গরাজ্যের নতুন পদ্ধতিতে এক ধরনের ওষুধ, পেন্টোবারবিটাল, ব্যবহার করা হলেও প্রয়োগের গোপনীয়তা, যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব এবং চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কাজে কারা দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়ে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। তাঁদের মতে, পাইকের শারীরিক অবস্থার কারণে এই পদ্ধতি তাঁর ক্ষেত্রে অসাংবিধানিক হতে পারে।   পাইক গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসির রিভারবেন্ড সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁর শরীরে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগ করা হলেও তিনি মারা যাননি। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত প্রক্রিয়া চলাকালে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন চালু ছিল। পরে তাঁকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়া প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি বলে বর্ণনা করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।   পাইকের আইনজীবীরা আগে থেকেই তাঁর শিরায় সুচ প্রবেশ করানোর জটিলতা এবং রক্তসংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, ইনজেকশন প্রয়োগের সময় অন্তত সাতটি সুচ ব্যবহার করা হয় এবং একটি সুচ বাঁকা হয়ে বেরিয়ে আসে। তাঁদের দাবি, ওষুধ শিরার বাইরে আশপাশের টিস্যুতে প্রবেশ করায় তাঁর দুই হাতে গুরুতর ফোলা ও ক্ষত তৈরি হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে আইনজীবীরা এখন সংশ্লিষ্ট নথি ও চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছেন। অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়কার প্রমাণ ইতিমধ্যে সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করা হয়েছে।   আদালতের সাম্প্রতিক আদেশে টেনেসি সংশোধন বিভাগকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওষুধ, সিরিঞ্জ, শিরায় ওষুধ দেওয়ার নল, অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী, ছবি, ভিডিও, অডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ, ই-মেইল এবং ঘটনার সময় কোনো জটিলতা বা বিলম্বের নথি সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। আগে কোনো তথ্য বা সামগ্রী মুছে ফেলা কিংবা নষ্ট করা হয়ে থাকলে, তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও করতে হবে। পাইকের আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁদের তাৎক্ষণিক দাবি সব প্রমাণ হাতে পাওয়া নয়, বরং ভবিষ্যৎ আইনি লড়াইয়ের জন্য সেগুলো অক্ষত রাখা।   পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা ১৯৯৫ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। আদালতের নথি অনুযায়ী, টেনেসির নক্সভিলে জব কর্পসের সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় পাইক দোষী সাব্যস্ত হন। প্রসিকিউশনের বক্তব্য ছিল, পাইক ও আরও দুজন কিশোর-কিশোরী স্লেমারকে একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে ছিলেন।   ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর টেনেসির গভর্নর বিল লি ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেন। চলতি বছর টেনেসিতে এটি ছিল দ্বিতীয় ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এর আগে বসন্তে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া প্রয়োজনীয় বিকল্প শিরাপথ স্থাপন করা না যাওয়ায় বন্ধ করা হয়েছিল। এসব ঘটনার পর অঙ্গরাজ্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   পাইক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং কথা বলতে পারছেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি এখনো অনিশ্চিত। তাঁর হাতে রক্ত জমাট বাঁধা ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কতটা ফিরবে, তা চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করতে পারেননি। আইনজীবীরা তাঁর চিকিৎসা ও আইনি পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা গভর্নর লির কাছে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।   আদালতের এই সিদ্ধান্তে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে আইনি প্রশ্নগুলো আবার সামনে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে মামলার মূল অভিযোগের শুনানি শেষে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একইভাবে, স্থগিতাদেশের পর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কার্যক্রম কখন আবার শুরু হবে, সে বিষয়েও কোনো নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।   সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২৩:৪৪
কলম্বিয়ান অভিবাসী পরিবারের সন্তান স্যান্ড্রা শর্টার আজ তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শিক্ষকতা ছেড়ে কাপকেকের ব্যবসা, ১০ বছরে সফল উদ্যোক্তা সান্দ্রা

যুক্তরাষ্ট্রে টিসিএস, ইনফোসিসসহ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পিইআরএম প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় আইটি কর্মীদের গ্রিন কার্ডে বড় ধাক্কা! স্থগিত টিসিএস, ইনফোসিসের পিইআরএম প্রক্রিয়া

ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়ালনাট ক্রিকে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে চার বেডরুমের আধুনিক বাড়ি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১.৫ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ডলারে

নিউইয়র্কের কুইন্সে তিন তলা ভবন থেকে পড়েও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায় দুই বছরের এই শিশু। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কে তিন তলা থেকে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল ২ বছরের শিশু

নিউইয়র্কের কুইন্সে তিনতলা ভবন থেকে পড়ে আহত হয়েছে দুই বছর বয়সী এক শিশু। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ফরেস্ট হিলস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আঘাত আপাতত সামান্য বলে জানা গেছে এবং চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে হাসপাতালের এক্স-রে পরীক্ষার পর আঘাতের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার কিছু আগে কুইন্স বুলেভার্ডের ১০২-১০ নম্বর ঠিকানায় একটি জরুরি ফোনকল পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। সেখানে ভবন থেকে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে মাটিতে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে দ্রুত কোহেন চিলড্রেনস মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। শিশুটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তার আঘাতের মাত্রা প্রাথমিকভাবে কম বলে মনে হচ্ছে।   পুলিশের একটি সূত্র নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছে, শিশুটির আঘাতের বিষয়ে হাসপাতালের এক্স-রে পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে কীভাবে শিশুটি ভবনের জানালা থেকে নিচে পড়ে গেল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন নিউইয়র্কে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর কয়েক দিন আগেই ব্রঙ্কসে এক মাকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় তিনি নিহত হন এবং একটি শিশু আহত হয়। তবে কুইন্সের এই ঘটনার সঙ্গে আগের ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য পুলিশ দেয়নি।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ২২:১
উচ্চতা বাড়ানোর জন্য দেড় লাখ ডলার খরচ করে ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাবা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

তিন ইঞ্চি উচ্চতা বাড়াতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অপারেশন, ছেলের পাশে দাঁড়ালেন বাবা

জে-১ ভিসার অপব্যবহার রোধে ৯ শীর্ষ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক তদন্তের ঘোষণা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা জেডি ভ্যান্সের

অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিতে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করবে পেন্টাগন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফোর্ট হুড হামলাকারীর ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

0 Comments