কুইন্সে পার্কিং টিকিট এড়ানোর উপায়, জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকার ড্রাইভারদের জরুরি গাইড
নিউইয়র্কের কুইন্সে গাড়ি পার্ক করতে গিয়ে সামান্য ভুলেই গুনতে হতে পারে ৬৫ থেকে ১১৫ ডলার বা তারও বেশি জরিমানা। বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, এলমহার্স্ট, উডসাইড ও ফ্লাশিংয়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় পার্কিং সাইন, মিটার এবং অল্টারনেট সাইড পার্কিংয়ের নিয়ম না বুঝে গাড়ি রাখলে টিকিট পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জানা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এবং গাড়ি টো করার ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।
নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন (এনওয়াইসি ডিওটি), ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন এবং ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের প্রকাশিত নিয়ম অনুযায়ী, গাড়ি পার্ক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্লকের সাইনবোর্ড ভালোভাবে পড়াই সবচেয়ে জরুরি। একই রাস্তায় এক পাশে পার্কিংয়ের অনুমতি থাকলেও অন্য পাশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে। আবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই জায়গার পার্কিং নিয়মও বদলে যেতে পারে।
কুইন্সে পার্কিং টিকিটের অন্যতম পরিচিত কারণ অল্টারনেট সাইড পার্কিং বা এএসপি। মূলত স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে রাস্তার এক পাশে গাড়ি রাখা নিষিদ্ধ থাকে। অনেক আবাসিক এলাকায় সপ্তাহে একাধিক দিন এই নিয়ম কার্যকর হলেও সব রাস্তার সময়সূচি এক নয়। তাই নিজের এলাকার নিয়ম মনে রাখার পাশাপাশি সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা দিন ও সময় অনুসরণ করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের গাড়ি রাস্তা পরিষ্কার করে চলে গেলেও সাইনে উল্লেখ করা নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত পার্কিং বৈধ হয়ে যায় না। অর্থাৎ রাস্তা পরিষ্কার হয়ে গেছে ভেবে আগে গাড়ি পার্ক করলে টিকিট পাওয়া যেতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, অল্টারনেট সাইড পার্কিং লঙ্ঘনের জরিমানা ৬৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
বিশেষ ছুটির দিন, ধর্মীয় উৎসব, তুষারপাত কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে কখনো কখনো অল্টারনেট সাইড পার্কিং সাময়িক স্থগিত করা হয়। তবে এএসপি সাসপেন্ড হওয়ার অর্থ সব ধরনের পার্কিং ফ্রি হয়ে যাওয়া নয়। ওই দিনেও সাধারণত মিটার পেমেন্ট, ফায়ার হাইড্র্যান্ট, বাস স্টপ, নো পার্কিং এবং নো স্ট্যান্ডিংয়ের নিয়ম কার্যকর থাকে। অবশ্য নির্দিষ্ট বড় সরকারি ছুটির দিনে মিটার পেমেন্টের নিয়মেও ছাড় থাকতে পারে। তাই ছুটির দিনেও গাড়ি রাখার আগে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।
কুইন্সে আরেকটি ব্যয়বহুল ভুল হলো ফায়ার হাইড্র্যান্টের খুব কাছে গাড়ি রাখা। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে ফায়ার হাইড্র্যান্টের উভয় পাশে ১৫ ফুট জায়গা ফাঁকা রাখতে হয়। এই নিয়ম ভাঙলে ১১৫ ডলার জরিমানা হতে পারে। তবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটি সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে। চালক নিজে ড্রাইভিং সিটে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক গাড়ি সরাতে প্রস্তুত থাকলে যাত্রীবাহী গাড়ি হাইড্র্যান্টের পাশে সাময়িক দাঁড়াতে পারে। গাড়ি রেখে চলে যাওয়ার অনুমতি এই ব্যতিক্রমে নেই।
মিটার পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে ড্রাইভারদের জন্য সুবিধাজনক একটি ব্যবস্থা হলো পার্কএনওয়াইসি অ্যাপ। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোতেই এই অ্যাপের মাধ্যমে রাস্তার মিটার পার্কিংয়ের পেমেন্ট করা যায়। এতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পার্কিং সেশন চালু করা, কত সময় বাকি আছে দেখা এবং সময় শেষ হওয়ার আগে নোটিফিকেশন পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। ফলে প্রতিবার মিটারের কাছে গিয়ে পেমেন্ট করতে হয় না।
তবে অ্যাপ ব্যবহার করলেই ইচ্ছামতো সময় বাড়ানো যাবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট পার্কিং জোনে সাইনবোর্ডে যতক্ষণ গাড়ি রাখার অনুমতি রয়েছে, সর্বোচ্চ ততক্ষণই পেমেন্ট করা যাবে। শুরুতে কম সময়ের পেমেন্ট করলে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু সর্বোচ্চ সময় শেষ হলে অ্যাপ দিয়ে একই জায়গায় পার্কিং চালিয়ে যাওয়া বৈধ নয়। এমনকি পেমেন্ট করা থাকলেও অন্য কোনো পার্কিং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে টিকিট হতে পারে।
বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটসের রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ, ৭৪ স্ট্রিট, জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউ এবং কুইন্সের অন্যান্য বাণিজ্যিক এলাকায় গাড়ি রাখার সময় মিটার ও পার্কিং সাইন ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। আগে কোনো জায়গায় ফ্রি পার্কিং পাওয়া গেলেও এখনো সেখানে একই নিয়ম রয়েছে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। রাস্তার মিটার ব্যবস্থা, পার্কিংয়ের সময়সীমা কিংবা নির্দিষ্ট গাড়ির জন্য সংরক্ষিত জায়গার নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে।
অনেক ড্রাইভার নো পার্কিং, নো স্ট্যান্ডিং ও নো স্টপিং সাইনের পার্থক্য বুঝতে পারেন না। অথচ তিনটির নিয়ম আলাদা। নো পার্কিং এলাকায় সাধারণত যাত্রী ওঠানো বা নামানো এবং মালামাল লোড বা আনলোড করার জন্য সাময়িক দাঁড়ানো যায়। নো স্ট্যান্ডিং এলাকায় শুধু যাত্রী ওঠানো বা নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দাঁড়ানোর অনুমতি রয়েছে। সেখানে মালামাল তোলা বা নামানোর জন্য দাঁড়ানো যায় না। আর নো স্টপিং এলাকায় সাধারণভাবে যাত্রী ওঠানো, নামানো কিংবা মালামাল লোড করার জন্যও গাড়ি থামানো নিষিদ্ধ।
এ ক্ষেত্রে গাড়ির ভেতরে ড্রাইভার বসে আছেন কি না, সেটি সব সময় জরিমানা এড়ানোর ভিত্তি নয়। কোনো জায়গায় নো স্ট্যান্ডিং কার্যকর থাকলে সেখানে যাত্রীর অপেক্ষায় গাড়িতে বসে থাকলেও টিকিট হতে পারে। একইভাবে রাস্তার পাশে হ্যাজার্ড লাইট জ্বালিয়ে রাখলেই অবৈধ পার্কিং বৈধ হয়ে যায় না। নিউইয়র্ক সিটিতে সাধারণ নো স্ট্যান্ডিং বিধি লঙ্ঘনের জরিমানা ১১৫ ডলার।
বাস স্টপ, বাস লেন ও বাইক লেনের নিয়মও কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত বাস লেনে কিংবা বাইক লেনের ভেতরে গাড়ি পার্ক করলে ১১৫ ডলার জরিমানা হতে পারে। ড্রাইভওয়ের সামনে গাড়ি রেখে অন্যের প্রবেশপথ আটকে দিলেও জরিমানা হতে পারে ৯৫ ডলার। রাস্তার মাঝখানে অন্য গাড়ির পাশে ডাবল পার্কিং করাও সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। কয়েক মিনিটের জন্য দোকানে প্রবেশ করা কিংবা কাউকে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করা নিরাপদ নয়।
তবে ড্রাইভারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো পাঁচ মিনিটের গ্রেস পিরিয়ড। নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং মিটার, পার্কএনওয়াইসি সেশন এবং অল্টারনেট সাইড পার্কিংয়ের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর পাঁচ মিনিটের ছাড় রয়েছে। অর্থাৎ এসব নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সময় শেষ হওয়ার পর প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে শুধু ওই সময়সীমা অতিক্রমের কারণে টিকিট দেওয়া যায় না। তবে এই ছাড় ফায়ার হাইড্র্যান্ট, নো স্ট্যান্ডিং কিংবা অন্যান্য নিষিদ্ধ স্থানে পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
কুইন্সের ব্যস্ত এলাকায় গাড়ি নিয়ে যাওয়ার আগে পার্কিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করা যেতে পারে। স্পটহিরো ও পার্কহুইজের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে আশপাশের পার্কিং গ্যারেজের অবস্থান, সম্ভাব্য খরচ এবং আগাম বুকিংয়ের সুবিধা দেখা যায়। তবে গ্যারেজের রেট, অতিরিক্ত চার্জ এবং গাড়ি প্রবেশ ও বের করার সময়সূচি আগে যাচাই করা উচিত। অনেক সময় কাছাকাছি অবৈধ জায়গায় গাড়ি রাখার চেয়ে নির্ধারিত গ্যারেজে পার্ক করা কম ঝুঁকিপূর্ণ।
পার্কিং টিকিট পেয়েও ড্রাইভারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। কোনো টিকিট ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হলে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের মাধ্যমে সেটি চ্যালেঞ্জ করা যায়। টিকিট ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে হিয়ারিংয়ের আবেদন করলে বিলম্বজনিত অতিরিক্ত জরিমানা এড়ানো সম্ভব। অনলাইনে, অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপে, ডাকযোগে অথবা সরাসরি নির্ধারিত অফিসে গিয়ে আপত্তি জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আবেদন করলেই টিকিট বাতিল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
এ কারণে ভুল টিকিটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে চাইলে ঘটনাস্থলের পার্কিং সাইন, রাস্তার অবস্থান, মিটার পেমেন্টের রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা ভালো। বিশেষ করে সাইন অস্পষ্ট, ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা নির্দিষ্ট পার্কিং নিয়ম নিয়ে বিরোধ থাকলে এসব তথ্য কাজে আসতে পারে। একই সঙ্গে টিকিটের তারিখ, সময়, ভায়োলেশন কোড ও গাড়ির লাইসেন্স প্লেট নম্বর মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নিউইয়র্ক সিটির নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পার্কিং টিকিটের জরিমানা পরিশোধ বা আপত্তি না জানালে অতিরিক্ত পেনাল্টি যোগ হতে পারে। বকেয়া জরিমানা দীর্ঘদিন জমে থাকলে গাড়িতে বুট লাগানো কিংবা টো করার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। তাই টিকিট পাওয়ার পর সেটি উপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো।
জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকা পর্যন্ত কুইন্সের যেকোনো এলাকায় গাড়ি পার্ক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস হলো রাস্তার সাইন ভালোভাবে পড়া, নির্ধারিত মিটার পেমেন্ট করা এবং পার্কিংয়ের সময়সীমা মেনে চলা। অল্টারনেট সাইড পার্কিং সাসপেনশনের সর্বশেষ তথ্য এনওয়াইসি ৩১১ অথবা সিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে যাচাই করা যায়। পার্কিং নিয়ম এলাকা ও সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আগের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে প্রতিবার পার্কিংয়ের আগে বর্তমান নিয়ম নিশ্চিত করাই জরুরি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবিয়ের মাত্র ১০ দিন পর হানিমুনে গিয়ে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের এক নবদম্পতি। আফ্রিকার বতসোয়ানায় নৌকায় ঘোরার সময় বিশাল এক জলহস্তী হঠাৎ আক্রমণ করে স্বামীকে মুখে তুলে পানির নিচে টেনে নেয়। চোখের সামনে স্বামীর এমন অবস্থা দেখে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জলহস্তীটির দিকে এগিয়ে যান স্ত্রী। একপর্যায়ে প্রাণীটিকে একের পর এক ঘুষি মারতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জলহস্তীটি তাঁর স্বামীকে ছেড়ে দেয়। গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান ওই ব্যক্তি। ঘটনার প্রায় এক বছর পর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ টেলিভিশনে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন দম্পতি। মার্কিন সাময়িকী পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দম্পতির নাম স্যাম ম্যাকি ও আনা ম্যাকি। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের পোর্ট অ্যাঞ্জেলেস শহরের বাসিন্দা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিয়ের পর হানিমুন করতে আফ্রিকার বতসোয়ানায় গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখানে বিখ্যাত ওকাভাঙ্গো ডেল্টায় সাফারি করার সময় জলহস্তীর আক্রমণের শিকার হন ৩১ বছর বয়সী স্যাম। দম্পতি জানান, পর্তুগালের সমুদ্রসৈকতে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল। এর মাত্র ১০ দিন পর তাঁরা বতসোয়ানায় পৌঁছান। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল আফ্রিকার বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার। সেই উদ্দেশ্যে ওকাভাঙ্গো ডেল্টায় একটি সাফারি ট্যুরে অংশ নেন তাঁরা। কিন্তু আনন্দের সেই সফর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। ঘটনার দিন একজন স্থানীয় গাইডের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মোকোরো নামের সরু নৌকায় চড়ে জলাভূমি ঘুরে দেখছিলেন স্যাম ও আনা। মোকোরো সাধারণত গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি করা হয় এবং বতসোয়ানার জলাভূমিতে পর্যটকদের ঘোরানোর জন্য এটি বহুল ব্যবহৃত। নৌকায় ওঠার আগে গাইডরা তাঁদের দূরে থাকা একটি জলহস্তী দেখিয়ে সতর্ক করেছিলেন। প্রাণীটি গভীর পানির একটি এলাকায় অবস্থান করছিল। পর্যটকদের ওই এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে কিছুক্ষণ পর তাঁদের নৌকাটি দলের অন্য নৌকাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, নৌকাটি সেই গভীর পানির দিকেই চলে এসেছে, যেখানে জলহস্তীটি ছিল। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই পানিতে বিকট শব্দ শুনতে পান স্যাম। পেছনে তাকিয়ে দেখেন, মুখ হাঁ করে একটি বিশাল জলহস্তী তাঁদের নৌকার দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে। শুক্রবার ব্রিটিশ টেলিভিশন অনুষ্ঠান গুড মর্নিং ব্রিটেনে স্যাম জানান, জলহস্তীটিকে দেখে তাঁর প্রথম চিন্তা ছিল নৌকা থেকে যেন পানিতে পড়ে না যান। তাই তিনি নৌকার দুই পাশ শক্ত করে ধরে রাখেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই প্রাণীটি তাঁকে আঘাত করে। স্যামের ভাষ্য অনুযায়ী, জলহস্তীটি তাঁর শরীরের মাঝামাঝি অংশ বিশাল চোয়ালের মধ্যে আটকে ফেলে এবং পানির নিচে টেনে নেয়। আক্রমণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তিনি কিছুক্ষণ বুঝতেই পারেননি কী ঘটছে। শরীরে প্রচণ্ড অ্যাড্রেনালিনের প্রভাবে প্রথমে তেমন ব্যথাও অনুভব করেননি। পরে সেই মুহূর্তের অভিজ্ঞতাকে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। জলহস্তীর ধাক্কায় নৌকা থেকে পানিতে ছিটকে পড়েন আনা এবং তাঁদের গাইডও। পানির ওপর উঠে আনা দেখতে পান, তাঁর স্বামী জলহস্তীটির মুখের মধ্যে আড়াআড়িভাবে আটকে আছেন। এমন দৃশ্য দেখে প্রথমে হতবাক হয়ে যান তিনি। কয়েক মুহূর্তের জন্য তাঁর মনে হয়েছিল, স্যাম হয়তো আর বেঁচে নেই। আনা জানান, সেই মুহূর্তে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কোনো ধরনের অস্ত্র বা আত্মরক্ষার সরঞ্জাম তাঁর কাছে ছিল না। কিন্তু স্বামীকে প্রাণীটির মুখ থেকে উদ্ধার করার জন্য সামনে এগিয়ে যান। এরপর হাত মুষ্টিবদ্ধ করে জলহস্তীটিকে ঘুষি মারতে শুরু করেন। গুড মর্নিং ব্রিটেনে আনা বলেন, তাঁর মাথায় তখন একের পর এক চিন্তা আসছিল। ঘটনাটি সত্যি কি না, স্যাম বেঁচে আছেন কি না, কিংবা কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হবে কি না, কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। কিন্তু স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ ছিল না। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্যাসকাডিয়া ডেইলি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একপর্যায়ে জলহস্তীটি স্যামকে ছেড়ে দিয়ে পেছনে সরে যায়। সেই সুযোগে আনা তাঁর স্বামীকে নিয়ে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে স্যামের শরীরে গুরুতর আঘাত লেগেছে। স্যাম জানান, পানির ওপর উঠে আসার পর তিনি স্ত্রীর দিকে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বাঁ পা কোনোভাবেই নড়ছিল না। মস্তিষ্ক থেকে নির্দেশ দিলেও পা সাড়া দিচ্ছিল না। তখনই বুঝতে পারেন, আক্রমণে তিনি মারাত্মক আহত হয়েছেন। স্বামীর শারীরিক অবস্থা দেখে দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর মৃত্যুর আশঙ্কা করেছিলেন আনা। কিন্তু দুর্গম জলাভূমি এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া সহজ ছিল না। উদ্ধার ও পরিবহনের বিভিন্ন জটিলতার কারণে চিকিৎসা শুরু হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ক্যাসকাডিয়া ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, আক্রমণের পর স্যামকে ব্যথা কমানোর ওষুধ দিতে ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল। আর প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১৮ ঘণ্টা। এত দীর্ঘ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় থাকার কারণে তাঁর জীবন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর স্যামের জরুরি ভিত্তিতে পেটের অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁর শরীরের ক্ষত বন্ধ করতে ২০টি স্ট্যাপল ব্যবহার করতে হয়েছিল। চিকিৎসার সময় ঘাড় ও হাতে আইভি লাইন বসানো হয়। পাশাপাশি তাঁকে ফিডিং টিউব এবং ভেন্টিলেটরের সহায়তায় রাখতে হয়েছিল। দীর্ঘ চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হন স্যাম। তবে এখনো শরীরের কিছু অংশে ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। শুক্রবারের সাক্ষাৎকারে জানান, ভয়াবহ সেই ঘটনার পরও তাঁরা স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করছেন। আক্রমণের সময় স্ত্রী কীভাবে জলহস্তীটির সঙ্গে লড়াই করেছিলেন, সেটি স্যাম পরে জানতে পেরেছিলেন। তখন তিনি নিজের জীবন রক্ষায় স্ত্রীর ভূমিকার কথা বুঝতে পারেন। দম্পতির কাছে ঘটনাটি তাঁদের সম্পর্কের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা হয়ে রয়েছে। এই ঘটনার পর স্যামের জীবনে আরও একটি পরিবর্তন এসেছে। সুস্থ হওয়ার পর তিনি মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী বানানোর কাজে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বর্তমানে নিজের তৈরি মাটির জিনিস বিক্রি করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য স্কেটবোর্ড কেনার অর্থ সংগ্রহ করেন তিনি। স্যাম ও আনা তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও লিখেছেন। এখন সেটি প্রকাশের জন্য প্রকাশকের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা করছেন। তাঁদের আশা, নিজেদের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে তুলে ধরতে পারলে বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি ভ্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যাম ও আনা একে অপরকে চেনেন স্কুলজীবন থেকে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক। বিয়ের পর প্রথম বড় সফরেই এমন দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি তাঁরা। আনা বলেন, ঘটনাটি তাঁদের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। তবে এখন তাঁরা বেঁচে থাকার সুযোগ পাওয়াটাকেই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করেন। স্যাম তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু এবং এত বছরের সম্পর্কের পর আরও কিছু সময় একসঙ্গে কাটাতে পারছেন বলে তিনি কৃতজ্ঞ। আফ্রিকার জলাভূমিতে জলহস্তী পর্যটকদের জন্য গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে। বিশাল আকৃতি এবং তুলনামূলক শান্ত চেহারা দেখে অনেক সময় প্রাণীটিকে নিরীহ মনে হলেও জলহস্তী অত্যন্ত শক্তিশালী ও আঞ্চলিক আচরণসম্পন্ন বন্যপ্রাণী। বিশেষ করে পানিতে নিজের অবস্থান বা নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে মনে করলে দ্রুত আক্রমণ করতে পারে। স্যাম ও আনার অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বন্যপ্রাণী দেখার সময় স্থানীয় গাইডের সতর্কতা ও নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলা কতটা জরুরি। একই সঙ্গে তাঁদের এই ঘটনা একটি নবদম্পতির বেঁচে ফেরার ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা হিসেবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।
দক্ষিণ জর্জিয়ায় প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল বিরল হলুদ কিং পেঙ্গুইনের, ছবি ঘিরে বিস্ময়
যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম পিএইচডি অর্জন করলেন ঢাবির নাদিয়া তাসনিম
টেক্সাসে মেয়রের স্বামীকে গ্রেপ্তার করল আইসিই, মেয়রকেও জিজ্ঞাসাবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরে ফেরিতে যাতায়াতকারীদের জন্য নতুন ভাড়ার নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে নিউইয়র্ক সিটি ফেরির একক যাত্রার ভাড়া ৪ ডলার ৯০ সেন্ট থেকে বেড়ে ৫ ডলার হবে। একই সঙ্গে ১০ যাত্রার টিকিটের প্যাকেজের দাম ২৯ ডলার থেকে বেড়ে ৩০ ডলার হবে। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে নগরীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন করপোরেশন। নিউইয়র্কের ফেরি ব্যবস্থা ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের নদীপথে যাতায়াতের সুযোগ দেয়। অনেক বাসিন্দা কর্মস্থলে যাওয়া, পর্যটন এবং দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এ সেবা ব্যবহার করেন। ফলে ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব নিয়মিত যাত্রীদের বাজেটে পড়তে পারে। নতুন নিয়মে একবারের যাত্রায় ১০ সেন্টের পরিবর্তে ৫০ সেন্ট বৃদ্ধি হচ্ছে। তবে ১০ যাত্রার প্যাকেজ কিনলে প্রতিবারের গড় খরচ ৩ ডলার থাকবে। অর্থাৎ নিয়মিত ফেরি ব্যবহারকারীদের জন্য একাধিক যাত্রার টিকিট তুলনামূলক সাশ্রয়ী হতে পারে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে ফেরি ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় সামাল দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড়ের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করা হবে। বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী যাত্রী এবং নগরীর নির্দিষ্ট স্বল্প আয়ের যাতায়াত-সহায়তা কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্যও ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব যাত্রীর একক ভাড়া ১ ডলার ৪৫ সেন্ট থেকে বেড়ে ১ ডলার ৫০ সেন্ট হবে। তবে দুই দিনের ছাড়যুক্ত পাসের দাম ১৫ ডলারই থাকবে এবং এটি স্থায়ী বিকল্প হিসেবে চালু থাকবে। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য ভাড়ার পরিবর্তনটি জানা জরুরি, বিশেষ করে যাঁরা প্রতিদিন ফেরিতে যাতায়াত করেন কিংবা সন্তানদের স্কুলে নেওয়ার জন্য এই পরিবহন ব্যবহার করেন। যাত্রার আগে নতুন ভাড়া ও ছাড়ের শর্ত দেখে নিলে অপ্রত্যাশিত খরচ এড়ানো সম্ভব।
কুইন্সে পার্কিং টিকিট এড়ানোর উপায়, জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকার ড্রাইভারদের জরুরি গাইড
যুক্তরাষ্ট্রে হামাসে অর্থায়ন ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের গ্রেফতার ৫
চোখের সামনে শিশুকে ডুবে যেতে দেখেও উদ্ধার করেননি চিকিৎসক, সাহায্যে পাঠান অন্য শিশুদের
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পোষা বিড়ালদের ‘অশুভ আত্মা’ মনে করে বাড়ির উঠানে জীবন্ত পুঁতে রাখার অভিযোগে ৩৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রে প্তা র করেছে পুলিশ। আলবা শাভেজ নামের ওই নারী অন্তত চারটি বিড়ালের সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মার্টিন কাউন্টির হোব সাউন্ড এলাকায় তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে দুটি বিড়ালকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই জায়গা থেকে আরও দুটি বিড়ালকে মৃ ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার পর ওই নারীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর পশু নি র্যা তনের অভিযোগ আনা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে মার্টিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্য ও প্রাণী সুরক্ষা বিভাগের তদন্তকারীরা হোব সাউন্ডের দক্ষিণ-পূর্ব ফেডারেল হাইওয়ের ১১ হাজার নম্বর ব্লকে অবস্থিত ওই বাড়িতে যান। বাড়িটির মালিক শাভেজ বিড়ালগুলোকে মাটির নিচে পুঁতে রাখার কথা জানানোর পর তদন্তকারীরা উঠানের বিভিন্ন জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেন। উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় মাটির নিচ থেকে দুটি বিড়ালকে জীবিত বের করে আনতে সক্ষম হন তাঁরা। তবে অন্য দুটি বিড়ালকে আর বাঁচানো যায়নি। প্রাণীগুলো কতক্ষণ মাটির নিচে ছিল, কিংবা কীভাবে তাদের এমন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শাভেজ তাঁদের বলেছেন, তিনি অন্তত চারটি বিড়ালকে জীবন্ত পুঁতে রেখেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিড়ালগুলোকে তিনি ‘অশুভ আত্মা’ বলে মনে করতেন। তবে এমন ধারণার পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর মানসিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ঘটনার পর শাভেজকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর পশু নি র্যা তনের অভিযোগ আনা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কতটি অভিযোগ আনা হয়েছে, আদালতে তাঁকে কখন হাজির করা হবে কিংবা মামলার পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে বাড়ির উঠানে আরও কোনো প্রাণী পুঁতে রাখা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা সম্পত্তির বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করছেন। সেখানে অন্য কোনো বিড়াল বা প্রাণী পাওয়া যায় কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। উদ্ধার হওয়া দুটি বিড়ালের বর্তমান শারীরিক অবস্থাও স্পষ্ট নয়। মাটির নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তারা কতটা অসুস্থ বা আহত হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। তাদের চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রাণীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জীবিত প্রাণীকে মাটির নিচে পুঁতে রাখার অভিযোগের কারণে বিষয়টিকে গুরুতর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন ঘটনাস্থলের আলামত, বাড়ির মালিকের বক্তব্য এবং উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে আরও কোনো প্রাণী পুঁতে রাখা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। একইভাবে অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও এখনো জানা যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে অভিবাসী শিশুদের পূরণ করতে হবে ছয়টি শর্ত
এইচ-১বি ও এল-১ ভিসায় নতুন নিয়ম, নির্দিষ্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে বায়োমেট্রিক ফি