সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোটার সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হলো নিউইয়র্কে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৬:১০
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের ভোটার সচেতনতা নিয়ে সভা
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের ভোটার সচেতনতা নিয়ে সভা

ক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ভোটারদের সচেতন করতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনে ভোট দেওয়া, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের সচেতন করার বিষয়টি।
 

২০২৬ সালের ৪ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্সের উডসাইড এলাকায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আয়োজন করে বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপ (বিএএজি)। ১০ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সভার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।


সভায় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা, সংগঠক এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে, শুধু ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়াই যথেষ্ট নয়; নির্বাচনে নিয়মিত ভোট দেওয়া এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে কমিউনিটির মানুষের চাহিদা, সমস্যা ও দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।


সংগঠনটির সভাপতি জয়নাল আবেদিন ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে নাগরিক অংশগ্রহণের পাশাপাশি কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জনপ্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়।


সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শাহানা মাসুম তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের সচেতন করার বিষয়টি তুলে ধরেন। নতুন ভোটারদের কাছে ভোট দেওয়ার গুরুত্ব এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া গেলে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিবন্ধন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্বাচনের নিয়ম জানা, ভোট দেওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং নির্ধারিত সময়ে ভোট দেওয়াও জরুরি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে কমিউনিটির নাগরিক অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হতে পারে।


বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অভিবাসী সেবা, আবাসন এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিয়ে তাঁদের নানা চাহিদা থাকতে পারে। এসব বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে সমস্যা তুলে ধরা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার সুযোগ তৈরি হয়।


বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ের সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে সচেতন করা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানো।


নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস ও কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে ভোটার সচেতনতা নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু ভোটারসংখ্যা নয়, ভোটারদের নিয়মিত অংশগ্রহণ, নাগরিক অধিকার সম্পর্কে জ্ঞান এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ।


সভায় আলোচিত বিষয়গুলো থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশি-আমেরিকানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার পথ আরও সুগম হতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান, বাড়ছে বিকল্প পাসপোর্টের চাহিদা

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক বিভাজন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়ার আগ্রহ বাড়ছে আমেরিকানদের। অনেকেই দেশ ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখনই নিচ্ছেন না। বরং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ইউরোপে বসবাসের সুযোগ রাখতে দ্বিতীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন। তাঁদের একটি বড় অংশের জন্য এই সুযোগ তৈরি হয়েছে পূর্বপুরুষের সূত্রে লুক্সেমবার্গের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকার কারণে। লুক্সেমবার্গের জাতীয় নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে ৩ হাজার ৫৭৪ জন আমেরিকান দেশটির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। নাগরিকত্বের তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। তবে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ৬৫৭ জন নতুন করে স্বেচ্ছায় আবেদন, নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার বা অন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় লুক্সেমবার্গের নাগরিক হয়েছেন। দুই পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্যের কারণ নাগরিকত্ব পাওয়ার পদ্ধতি। জাতীয় নিবন্ধনে যাঁদের নাগরিক হিসেবে গণনা করা হয়েছে, তাঁদের সবাই ওই বছর নতুন করে আবেদন করে নাগরিকত্ব পাননি। তাঁদের অনেকেই আইন অনুযায়ী আগে থেকেই লুক্সেমবার্গের নাগরিক হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য ছিলেন। যেমন, জন্মের সময় বাবা বা মা লুক্সেমবার্গের নাগরিক হলে বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক শর্ত পূরণ করে দেশটিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্বের বিধান রয়েছে। তবে স্বেচ্ছায় আবেদন করে নাগরিকত্ব পাওয়া ৬৫৭ জনের সংখ্যাও আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। এই বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে বিকল্প পাসপোর্টের প্রতি আগ্রহ বাড়ার একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডেনভারের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী ক্যারিস ক্যাসিডির অভিজ্ঞতায় এই প্রবণতার ব্যক্তিগত দিকটি উঠে এসেছে। তিনি একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী। ছোটবেলা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে বসবাসের চিন্তা তাঁর মনে ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আগ্রহ আরও জোরালো হয়। ক্যাসিডির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজন নতুন কিছু নয়। তবে দেশটিতে সামাজিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ইউরোপের তুলনায় কম বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে নিজের অবস্থার উন্নতি করতে চাইলেও অনেক সময় বিপুল ঋণের বোঝা নিতে হয়, আবার কখনো বাসস্থান কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও কাটছাঁট করতে হয়। অনলাইনে পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে ক্যাসিডি জানতে পারেন, তাঁর পূর্বপুরুষদের একজন ছিলেন লুক্সেমবার্গের বাসিন্দা। তাঁর পাঁচ প্রজন্ম আগের এক পূর্বপুরুষের সূত্র ধরে দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ওই পূর্বপুরুষ ১৮১৫ সালের পর লুক্সেমবার্গে জন্মেছিলেন বলে নাগরিকত্বের জন্য প্রাসঙ্গিক বংশগত শর্তের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক ইতিহাস মিলে যায়। লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব আইনে নির্দিষ্ট বংশধারার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য পারিবারিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা এবং পূর্বপুরুষের জন্মসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে নারীরাও তাঁদের সন্তানদের নাগরিকত্বের অধিকার দিতে পারেন। ক্যাসিডিকে পারিবারিক নথি ও অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করতে প্রায় এক বছর সময় দিতে হয়। তবে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য তাঁকে ভাষা পরীক্ষা দিতে হয়নি কিংবা লুক্সেমবার্গে গিয়েও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়নি। মার্চে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সুইডেনে চলে যান। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে উদ্বেগের কারণেই দ্রুত দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তবে ইউরোপে কোথায় স্থায়ীভাবে থাকবেন, সে বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনা তখনও চূড়ান্ত হয়নি। লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করা ড্যানিয়েল অ্যাটজও এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছেন। নেব্রাস্কায় জন্ম নেওয়া অ্যাটজ নিজেও পূর্বপুরুষের সূত্রে দেশটির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। তাঁর প্রপিতামহীর মা মার্গারিট ক্রুখটেন লুক্সেমবার্গে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি কানসাসে চলে যান। ২০০৮ সালে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তনের ফলে নির্দিষ্ট শর্তে ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি জীবিত থাকা লুক্সেমবার্গের নাগরিক পূর্বপুরুষের বংশধরদের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়। ২০১৭ সালে পাস হওয়া আরেকটি আইনে যোগ্য বংশধরদের জন্য একই ধরনের সুযোগ রাখা হয়েছিল, যার আবেদন করার সময়সীমা ছিল ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ২০১৪ সালে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অ্যাটজ লুক্সেমবার্গে তাঁর হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়দের খুঁজে পান। তাঁদের একজন অ্যানেটের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অ্যাটজের ভাষায়, এই নাগরিকত্ব তাঁর জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এখন তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ববিষয়ক পরামর্শ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অন্য আমেরিকানদের আবেদনপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন। অ্যাটজ জানান, ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার সময়ও লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্বের আবেদন বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আগ্রহের মাত্রা আরও বেশি। তাঁর প্রতিষ্ঠানে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর থেকে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর কর্মীর সংখ্যা দুই থেকে বেড়ে ১৫ হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৯০০ আমেরিকান নাগরিকত্বপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, যা মোট আবেদনকারীদের আনুমানিক ১৫ শতাংশ। লুক্সেমবার্গ সরকারের অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৬৯০। প্রতিবেশী জার্মানিতে বসবাসরত নাগরিকের সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৯২৫। জুনের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা ৯৫২ জন বেড়েছে। তবে নাগরিকত্ব নেওয়া মানেই লুক্সেমবার্গে চলে যাওয়া নয়। অ্যাটজের মতে, তাঁদের অধিকাংশই দেশটিতে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন না। অনেকেই স্পেন, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় দেশকে বসবাসের জন্য বেছে নিচ্ছেন। লুক্সেমবার্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড়ের তুলনায় প্রায় ৫১ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি কাজের সুযোগও সবার পেশাগত চাহিদার সঙ্গে মেলে না। ক্যাসিডিও ভবিষ্যতে লুক্সেমবার্গে থাকার কথা ভাবছেন, তবে আর্থিক দিক থেকে তা কতটা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে তিনি জানান, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি। ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাঁর কাছে কিছুটা ভীতিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবু যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা পুরোপুরি হারাননি ক্যাসিডি। তাঁর মতে, দেশটিতে অনেক কঠিন ঘটনা ঘটলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের প্রশাসনের বাকি সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে, লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্বের প্রতি আমেরিকানদের আগ্রহ কেবল দেশত্যাগের প্রবণতা নয়; অনেকের কাছে এটি ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় একটি বিকল্প ব্যবস্থা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্বের সুযোগ থাকায় তাঁরা প্রয়োজনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাস ও কাজের পথ খোলা রাখতে চাইছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৮:১৬
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে করছাড়ের নতুন সীমা

বাড়ির সম্পত্তি কর ও আয়করে মিলতে পারে বড় ছাড়, ২০২৬ সালে করদাতাদের করণীয়

ফ্লোরিডায় স্কুল নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রে প্তারের পর তদন্ত

ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও, ফ্লোরিডায় স্কুল নিরাপত্তাকর্মী গ্রে প্তার

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিবাসী পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়মে মেডিকেইড হারাচ্ছেন কিছু অভিবাসী, চিকিৎসার খরচ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের ভোটার সচেতনতা নিয়ে সভা
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোটার সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হলো নিউইয়র্কে

ক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ভোটারদের সচেতন করতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনে ভোট দেওয়া, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের সচেতন করার বিষয়টি।   ২০২৬ সালের ৪ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্সের উডসাইড এলাকায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আয়োজন করে বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপ (বিএএজি)। ১০ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সভার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা, সংগঠক এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে, শুধু ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়াই যথেষ্ট নয়; নির্বাচনে নিয়মিত ভোট দেওয়া এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে কমিউনিটির মানুষের চাহিদা, সমস্যা ও দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। সংগঠনটির সভাপতি জয়নাল আবেদিন ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে নাগরিক অংশগ্রহণের পাশাপাশি কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জনপ্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শাহানা মাসুম তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের সচেতন করার বিষয়টি তুলে ধরেন। নতুন ভোটারদের কাছে ভোট দেওয়ার গুরুত্ব এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া গেলে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিবন্ধন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্বাচনের নিয়ম জানা, ভোট দেওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং নির্ধারিত সময়ে ভোট দেওয়াও জরুরি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে কমিউনিটির নাগরিক অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হতে পারে। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অভিবাসী সেবা, আবাসন এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিয়ে তাঁদের নানা চাহিদা থাকতে পারে। এসব বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে সমস্যা তুলে ধরা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ের সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে সচেতন করা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানো। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস ও কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে ভোটার সচেতনতা নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু ভোটারসংখ্যা নয়, ভোটারদের নিয়মিত অংশগ্রহণ, নাগরিক অধিকার সম্পর্কে জ্ঞান এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ। সভায় আলোচিত বিষয়গুলো থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশি-আমেরিকানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার পথ আরও সুগম হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৬:১০
ওয়াশিংটনে ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার

. অপরাধে ভাড়ার ই-বাইক ও স্কুটারের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন, কঠোর নিয়মের দাবি ওয়াশিংটনে

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ঝড়ে ২ জনের মৃ ত্যু, বিদ্যুৎহীন ৮ লাখ গ্রাহক

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ধনী প্রবীণরা, তিন বছরে তরুণদের সম্পদ কমেছে ২৩ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ধনী প্রবীণরা, তিন বছরে তরুণদের সম্পদ কমেছে ২৩ শতাংশ

জর্জিয়ায় পাঁচজনের মৃ ত্যুর ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বাড়ি থেকে পাঁচজনের গু লি বিদ্ধ দে হ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডগলাস শহরের একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের গু লি বিদ্ধ দে হ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার, ৯ অক্টোবর রাত ১১টা ৯ মিনিটের দিকে টাচটন উডস এলাকার রবিন লেনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পাঁচজনকে গু লি বিদ্ধ অবস্থায় পায়। পরে তাঁদের সবার মৃ ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। শনিবার, ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চলছে। ডগলাস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে গু লি চলার খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ওই বাড়িতে যান। সেখানে পাঁচজনকে গু লি বিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে পুলিশের প্রাথমিক বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি, সম্ভাব্য উদ্দেশ্য কিংবা কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয় জানানো হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডগলাস নাউয়ের প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হ ত্যা কাণ্ডের পর আ ত্ম হ ত্যা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি প্রথমে অন্য চারজনকে গু লি করেন এবং পরে নিজেকেও গু লি করেন। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ না করা পর্যন্ত এই তথ্যকে প্রাথমিক প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের নাম ও বয়সও জানানো হয়নি। কফি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি তারা সমবেদনা জানাচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীদের জন্যও সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই কঠিন ছিল। ডগলাস শহরটি জর্জিয়ার কফি কাউন্টিতে অবস্থিত। শহরটি ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের প্রায় ১১৫ মাইল উত্তর-পশ্চিমে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২৫ সালের জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ১১ হাজার ৮৬৪। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে টানা তিন সপ্তাহান্তে একাধিক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বন্দুক হা মলা কিংবা একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর আগের সপ্তাহান্তে ভিয়েনা শহরে একটি হোমকামিং উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গু লি বর্ষণে দুজনের মৃ ত্যু হয় এবং আরও ৩৫ জন আহত হন। ডগলাস থেকে প্রায় ৮০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ভিয়েনার ওই ঘটনায় একটি আবাসিক এলাকার চার ব্লকজুড়ে চলা পার্টিতে ভোররাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে গু লি শুরু হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর জর্জিয়ার ম্যাকন শহরের ক্যারোলিন ক্রেটন পার্কে ১৮তম জন্মদিনের একটি অনুষ্ঠানে গু লি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন কিশোর আহত হয়। ওই ঘটনায় পাঁচজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী একজনকেও প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুধু জর্জিয়াতেই নয়, শুক্রবার রাতে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরেও একটি বন্দুক হা মলায় নয়জনের মৃ ত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে বন্দুক সহিংসতার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতার ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ঘটনায় হা মলাকারীকে বাদ দিয়ে অন্তত চারজন গু লি বিদ্ধ হলে সেটিকে গণগুলিবর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। আহত ও মৃ ত—উভয় ধরনের ভুক্তভোগীই এই সংজ্ঞার আওতায় পড়েন। ডগলাসের ঘটনায় পাঁচজনের মৃ ত্যু হওয়ায় এটি একাধিক প্রাণহানির গুরুতর ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডগলাস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। শনিবার আরও তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা করা হলেও প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত নিহতদের পরিচয়, তাঁদের বয়স, ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কফি কাউন্টি শেরিফের কর্মকর্তারা কাজ করেছেন। তদন্তকারীদের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাড়ির ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, নিহতদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কী ছিল এবং গু লি বর্ষণের পেছনে কী কারণ কাজ করেছে, তা নিশ্চিত করা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য হ ত্যা কাণ্ডের পর আ ত্ম হ ত্যার যে বিবরণ এসেছে, সেটিও তদন্তের আনুষ্ঠানিক তথ্য দিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষ আরও তথ্য জানাতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৩:৫৭
সাবেক কর্মীর অ্যাকাউন্টে ৬০০ ডলার পাঠিয়ে বিপাকে নিয়োগকর্তা, ফেরত নিয়ে জটিলতা

সাবেক কর্মীর অ্যাকাউন্টে ৬০০ ডলার পাঠিয়ে বিপাকে নিয়োগকর্তা, ফেরত নিয়ে জটিলতা

যুক্তরাষ্ট্রে ব্রেকআপ করতে চাওয়ায় প্রেমিককে কামড়, গ্রেপ্তার নারী পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রে ব্রেকআপ করতে চাওয়ায় প্রেমিককে কামড়, গ্রেপ্তার নারী পুলিশ কর্মকর্তা

শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী হয়রানির শিকার হওয়া কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষককে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী অপমানের বিচার চেয়ে রায়ে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার পেলেন শিক্ষক

0 Comments