সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আমেরিকায় লিভিং উইল কেন করবেন, চিকিৎসার সিদ্ধান্তে যেভাবে কাজে আসে জেনে নিন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৮:১
আমেরিকায় লিভিং উইল কেন করবেন, চিকিৎসার সিদ্ধান্তে যেভাবে কাজে আসে জেনে নিন
আমেরিকায় লিভিং উইল কেন করবেন, চিকিৎসার সিদ্ধান্তে যেভাবে কাজে আসে জেনে নিন

গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনায় নিজে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা হারালে কী ধরনের চিকিৎসা চান, তা আগে থেকে লিখে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই লিখিত নির্দেশনাকে বলা হয় লিভিং উইল। পাশাপাশি নিজের হয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিশ্বস্ত কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে। তবে লিভিং উইল এবং সেই প্রতিনিধি নিয়োগের নথি এক নয়।

 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি সময়ে পরিবারের সদস্যরা ভিন্ন জায়গায় থাকতে পারেন, চিকিৎসা নিয়েও তাঁদের মত আলাদা হতে পারে। নিজের ইচ্ছা আগে থেকে জানিয়ে রাখলে চিকিৎসক ও স্বজনদের সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।

 

লিভিং উইলে মূলত চিকিৎসা গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের ইচ্ছা লেখা থাকে। যেমন, কোন পরিস্থিতিতে ভেন্টিলেটর, কৃত্রিমভাবে খাবার ও পানি দেওয়া কিংবা জীবন দীর্ঘায়িত করার চিকিৎসা চান। এটি মৃত্যুর পর সম্পত্তি বণ্টনের সাধারণ উইল থেকে আলাদা।

 

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনা অনুযায়ী, লিভিং উইলের জন্য নির্দিষ্ট একটিমাত্র বাধ্যতামূলক ফর্ম নেই। রাজ্যটিতে এ বিষয়ে পৃথক আইন না থাকলেও সর্বোচ্চ আদালত রোগীর ইচ্ছার স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হিসেবে লিভিং উইলকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাই কোন পরিস্থিতিতে কী চিকিৎসা চান, তা পরিষ্কারভাবে লেখা গুরুত্বপূর্ণ।

 

অন্যদিকে, হেলথ কেয়ার প্রক্সি হলো এমন একটি নথি, যার মাধ্যমে নিজের হয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একজন হেলথ কেয়ার এজেন্ট নিয়োগ করা যায়। শুধু লিভিং উইলে কারও নাম লিখলেই নিউইয়র্কে তাঁকে এই আইনি দায়িত্ব দেওয়া হয় না। আর্থিক বিষয় পরিচালনার সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নিও হেলথ কেয়ার প্রক্সির বিকল্প নয়। 

 

নিউইয়র্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এমন ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি হেলথ কেয়ার প্রক্সি করতে পারেন। এতে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষী প্রয়োজন। নিযুক্ত এজেন্ট বা বিকল্প এজেন্ট সাক্ষী হতে পারবেন না। এই নথির জন্য আইনজীবী বা নোটারি বাধ্যতামূলক নয়।

 

চিকিৎসক যখন নির্ধারণ করেন যে রোগী নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, তখন এজেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব শুরু হয়। রোগী সক্ষমতা ফিরে পেলে আবার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন। এজেন্টকে রোগীর ইচ্ছা, মূল্যবোধ ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ করতে হয়।

 

বিশেষ করে ফিডিং টিউব বা শিরার মাধ্যমে খাবার ও পানি দেওয়ার বিষয়ে নিজের ইচ্ছা এজেন্টকে জানানো জরুরি। নিউইয়র্কের নিয়ম অনুযায়ী, এ বিষয়ে রোগীর ইচ্ছা জানা না থাকলে এজেন্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। হেলথ কেয়ার প্রক্সি এজেন্টকে রোগীর আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও দেয় না।

 

নথির কপি এজেন্ট, বিকল্প এজেন্ট ও চিকিৎসকের কাছে রাখা উচিত। বাড়িতেও এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখান থেকে প্রয়োজনের সময় সহজে পাওয়া যায়। হাসপাতালে ভর্তি বা অস্ত্রোপচারের সময় সঙ্গে কপি রাখার পরামর্শ দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর। 

 

লিভিং উইলের সঙ্গে ডিএনআর বা ডু নট রিসাসিটেট নির্দেশনাকেও এক করে দেখা ঠিক নয়। ডিএনআর মূলত হৃদ্‌যন্ত্র বা শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হলে সিপিআর না দেওয়ার মেডিকেল অর্ডার। এর অর্থ সব চিকিৎসা, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ বা আরাম দেওয়ার সেবা বন্ধ করা নয়। লিভিং উইলে নিজের ইচ্ছা লিখে রাখা এবং কার্যকর ডিএনআর অর্ডার তৈরি করা পৃথক প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যেও ডিএনআরকে সিপিআরসংক্রান্ত নির্দেশনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। 

 

হেলথ কেয়ার প্রক্সি না থাকলেই হাসপাতাল সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, এমন ধারণাও সঠিক নয়। নিউইয়র্কে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে আগে থেকে প্রতিনিধি বেছে রাখলে নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকে।

 

সরকারি দপ্তরের বিনামূল্যের ফর্ম ব্যবহার করা যায়। আইনজীবীর সহায়তা নিলে ফি সেবার ধরন অনুযায়ী বদলাবে। লিভিং উইল স্বাক্ষরের সময় দুজন সাক্ষী রাখার পরামর্শ দিয়েছে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর। অন্য রাজ্যে ব্যবহার করতে হলে সেখানকার সাক্ষী ও নোটারির নিয়মও যাচাই করা প্রয়োজন।

 

এসব নথি করার অর্থ চিকিৎসা প্রত্যাখ্যান করা নয়। কোন চিকিৎসা চান এবং কোন পরিস্থিতিতে চান না, দুটিই জানানো যায়। নিয়ম রাজ্যভেদে আলাদা হওয়ায় নিজের রাজ্যের নির্দেশনা অনুসরণ এবং চিকিৎসার সম্ভাব্য ফল নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করাই প্রস্তুতির মূল অংশ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়ি বিক্রির নতুন বিজ্ঞাপনের হিড়িক! চার বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে
নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়ি বিক্রির নতুন বিজ্ঞাপনের হিড়িক! চার বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে

নিউইয়র্ক সিটিতে সেপ্টেম্বরে নতুন করে বিক্রির জন্য বাজারে এসেছে ৪ হাজার ৯৫১টি বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট। এটি ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ মাসিক সংখ্যা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নতুন বিজ্ঞাপন বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।   আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্ট্রিটইজির ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত বাজার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে নতুন বিজ্ঞাপন বাড়লেও বিক্রির জন্য থাকা মোট আবাসনের সংখ্যা এক বছর আগের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৬ হাজার ৭৩৭টিতে দাঁড়িয়েছে।   বাজারে ক্রেতাদের প্রতিযোগিতাও রয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিক্রি হওয়া আবাসনের ২১ দশমিক ১ শতাংশ সর্বশেষ চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, বিক্রির চুক্তিতে যাওয়া আবাসনের সংখ্যা কমেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। স্ট্রিটইজির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মর্টগেজের সুদ বেড়ে যাওয়ায় কিছু ক্রেতা সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন।    এলাকাভিত্তিক হিসাবে কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটিতে নতুন বিজ্ঞাপন বেড়েছে ২০৫ দশমিক ৪ শতাংশ। সেখানে কয়েকটি নতুন আবাসন প্রকল্প বাজারে আসায় এই বৃদ্ধি হয়েছে। অ্যাস্টোরিয়ায় বেড়েছে ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ।   ভাড়ার বাজারেও চাপ রয়েছে। শহরজুড়ে ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত আবাসন কমেছে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ। মাসিক চাওয়া ভাড়ার মধ্যম মান দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৫০ ডলারে। কুইন্সে এই অঙ্ক ৩ হাজার ৪০০ ডলার, ব্রুকলিনে ৩ হাজার ৯৪৫ ডলার। এগুলো বিজ্ঞাপনে চাওয়া ভাড়া, চূড়ান্ত লিজের অঙ্ক নয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৮:৫০
রিসিপশনিস্ট থেকে বিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান! বাংলাদেশি আলামিনের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প

রিসিপশনিস্ট থেকে বিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান! বাংলাদেশি আলামিনের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প

আমেরিকায় লিভিং উইল কেন করবেন, চিকিৎসার সিদ্ধান্তে যেভাবে কাজে আসে জেনে নিন

আমেরিকায় লিভিং উইল কেন করবেন, চিকিৎসার সিদ্ধান্তে যেভাবে কাজে আসে জেনে নিন

আশ্রয় আবেদন অভিভাবকহীন শিশু

২৪ ঘণ্টারও কম নোটিশে অভিবাসী শিশুদের আশ্রয় সাক্ষাৎকার, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

টেক্সাসের মন্দিরে নবরাত্রি উৎসব,
টেক্সাসের মন্দিরে নবরাত্রি উৎসব, প্রার্থনা ও নাচে শত শত মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফ্রিসকো শহরে নবরাত্রি উৎসবের এক সন্ধ্যায় শত শত মানুষ জড়ো হন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে কার্য সিদ্ধি হনুমান মন্দিরে তাঁরা প্রার্থনা, গান ও নাচে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন শিশু, অভিভাবক, প্রবীণ ও কলেজশিক্ষার্থীরা।    ওই রাতে উৎসবের নির্ধারিত রং ছিল কমলা। উজ্জ্বল কমলা রঙের পোশাকে মন্দিরে আসেন অনেক অংশগ্রহণকারী। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রিসকোর এই মন্দিরে নবরাত্রির প্রতিটি রাতের জন্য আলাদা রং ও দেবীর ভিন্ন রূপ নির্ধারিত থাকে।   নবরাত্রি দেবীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে পালিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি পরিবার ও সম্প্রদায়ের সদস্যদের একত্র হওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরারও সুযোগ তৈরি করে এ আয়োজন।   মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ফ্রিসকোতে এ বছরের দেবী নবরাত্রি মহোৎসব চলছে ১১ থেকে ২০ অক্টোবর। সূচিতে সন্ধ্যার পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। 

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৫:৫১
মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়সীমা নিয়ে ভ্রমণকারীদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

বিয়ের সাত মাস আগে মারা যান ২৫ বছর বয়সী দিয়েগো হার্নান্দেজ

বিয়ের কয়েক মাস আগে বরের মৃত্যু, ১৬ হাজার ডলার ফেরত দিতে নারাজ বিয়ের ভেন্যু কর্তৃপক্ষ

ইমার্জেন্সি স্নো শভলার পদে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পারিশ্রমিক পাবেন কর্মীরা

নিউইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, আজ রেজিস্ট্রেশন

ক্যালিফোর্নিয়ার সান ক্লেমেন্তে ও সান হুয়ান ক্যাপিস্ট্রানো এলাকায় দাবানলের কারণে হাজারো বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে পুড়ল একাধিক বাড়ি, ১৬ হাজার মানুষকে সরানোর নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলে একাধিক বাড়ি পুড়ে গেছে। অরেঞ্জ কাউন্টিতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে শুরু হওয়া নর্তে ফায়ার নামের দাবানল কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৪৬৫ একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ঝুঁকিতে সান ক্লেমেন্তে ও সান হুয়ান ক্যাপিস্ট্রানো এলাকার প্রায় ১৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, আগুনে অন্তত ছয়টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং দুই দমকলকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।   কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার দুপুরের দিকে জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল সান্তা আনা বাতাস এবং এলাকার ভূপ্রকৃতির কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির ডিভিশন থ্রি প্রধান মার্ক ব্যাকঅফ এক ভিডিও বার্তায় আগুন দ্রুত বিস্তারের পেছনে আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতির ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দমকলকর্মীরা একাধিক দিক থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।   দাবানলের কারণে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বাড়ির বাসিন্দা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের আওতায় পড়েছেন। অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির প্রধান টি জে ম্যাকগভর্ন জানান, আগুনের বিস্তার ঠেকানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই ছিল তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সন্ধ্যায় কর্মকর্তারা জানান, আগুনের বড় একটি অংশের তীব্রতা কমানো সম্ভব হয়েছে, তবে বাতাসের গতি বেশি থাকায় নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।   অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির মুখপাত্র স্টিভ কনসিয়ালদি জানান, আগুনে কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাতাস তখনো জোরে বইছিল। দুই দমকলকর্মী উল্লেখযোগ্যভাবে আহত হলেও তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুনের বিস্তার ঠেকাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর আশপাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দমকলকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দাবানলটির কোনো অংশই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।   স্থানীয় বাসিন্দা রবার্ট মরিস জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে ওই এলাকায় বসবাস করলেও সেখানে এমন আগুনের মুখোমুখি তিনি আগে হননি। দাবানলের আকস্মিক বিস্তারকে তিনি এলাকার মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য মাইক লেভিন জানান, আগুনের কারণে তাঁর পরিবারকেও সান হুয়ান ক্যাপিস্ট্রানোর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয়েছে। তিনি দমকলকর্মীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বছরজুড়েই দাবানলের ঝুঁকি এখন নতুন বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে।   অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের সদস্যরা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ থাকা এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে বলছেন। ক্যাপিস্ট্রানো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১০টি স্কুলের ক্লাস নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করে দেয়। পাশাপাশি খেলাধুলা ও স্কুল-পরবর্তী কার্যক্রম বাতিল করা হয়। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিরাপদ ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।   দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সান্তা আনা বাতাসের প্রভাবে একই সময়ে আরও কয়েকটি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। মালিবু এলাকায় ব্রাইসন ফায়ার নামের আরেকটি দাবানল প্রায় ১৫০ একর জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার পর্যন্ত আগুনটির প্রায় ১৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির দমকল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় সাত হাজারের বেশি স্থাপনার জন্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ বা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। চার শতাধিক দমকলকর্মী এবং স্থল ও আকাশপথের বিভিন্ন সরঞ্জাম আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল।   এদিকে সান দিয়েগো কাউন্টিতে মেরিন কর্পসের ক্যাম্প পেন্ডলটন ঘাঁটির কাছেও হেন্ডারসন ফায়ার নামের আরেকটি দাবানল দুই হাজার একরের বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নি সুরক্ষা বিভাগ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে শুরু হওয়া আগুনের কারণে সামরিক ঘাঁটির একটি এলাকায় সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ইন্টারস্টেট-৫ মহাসড়কের কাছাকাছি একটি অংশও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। ধোঁয়ার কারণে মহাসড়কের দুই পাশেই দৃশ্যমানতা কমে যায়।   দাবানলের ঝুঁকি বাড়ায় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সান্তা আনা বাতাসের তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং শনিবারও বাতাস জোরে বইতে পারে। সপ্তাহান্তের পর বাতাসের গতি কমার সম্ভাবনা থাকলেও দমকল কর্তৃপক্ষ কয়েক দিন ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।   সূত্র: সিএনএন, অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটি ও ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ফায়ার প্রোটেকশন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২৩:১৭
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ৭১ বছর বয়সী স্টিভেন হ্যামিলটন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে ৭১ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু

করোনাকালে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ায় ভার্জিনিয়ার বাসিন্দাদের কাছ থেকে সংবর্ধনা পান ইউপিএস চালক অ্যান্থনি গ্যাসকিন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

করোনার লকডাউনে ঘরে ঘরে পার্সেল পৌঁছে দিতেন, সেই ইউপিএস চালককে ধন্যবাদ জানাতে রাস্তায় শত শত মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে হামলার পর তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে স্কুলে হামলা চালানো কিশোর ছিল ওই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী

0 Comments