যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যায় রেকর্ড বৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশটিতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবৃদ্ধির এই হার দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম দ্রুততম বর্ধনশীল অভিবাসী গোষ্ঠীতে পরিণত করেছে।
সম্প্রতি মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (MPI) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক দশকে উন্নত জীবনযাপন, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের খোঁজে রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশিদের এই প্রবৃদ্ধির হার অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে।
প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশের পরে তালিকার অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলা, আফগানিস্তান এবং নেপাল। বাংলাদেশের এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি মার্কিনী অর্থনীতি ও সমাজে বাঙালিদের শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শ্রমশক্তির প্রায় ১৮ শতাংশই অভিবাসী। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি অভিবাসী মার্কিন শ্রমবাজারে সক্রিয় রয়েছেন। মজার বিষয় হলো, অভিবাসী পরিবারগুলোর বার্ষিক গড় আয় (৮২,৪০০ ডলার) বর্তমানে মার্কিন বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোর গড় আয়ের (৮১,৪০০ ডলার) তুলনায় কিছুটা বেশি।
২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে মানবিক কারণে দেওয়া সুরক্ষা (Humanitarian protections) বাতিল এবং অস্থায়ী ভিসা ও গ্রিন কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন কমে গেলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার স্থবির হয়ে যেতে পারে, যা দেশটির শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খুচরা দোকানে পারফেক্টা ব্র্যান্ডের উদ্ভিজ্জ মাংস ও মাছের বিকল্প পণ্য বাজারজাত করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্টেকহোল্ডার ফুডস। থ্রিডি ফুড প্রিন্টিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি গত ৩ সেপ্টেম্বর জানায়, এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের দোকানে তাদের ব্র্যান্ডের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পণ্যের তালিকায় রয়েছে উদ্ভিজ্জ উপাদানে তৈরি মার্বেলড স্টেক, ফিলে মিনিয়ন, চিকেন ব্রেস্ট এবং স্যামন ও সাদা মাছের প্যাটি। এগুলো প্রচলিত মাংস ও মাছের স্বাদ, আঁশযুক্ত গঠন এবং খাওয়ার অনুভূতির কাছাকাছি অভিজ্ঞতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির। পণ্য বিতরণে সহযোগিতা করছে কেহি ডিস্ট্রিবিউটরস। থ্রিডি ফুড প্রিন্টিংয়ে খাওয়ার উপযোগী উপাদান ব্যবহার করে খাবারকে নির্দিষ্ট আকৃতি ও গঠন দেওয়া হয়। দ্য ইনডিপেনডেন্টকে খাদ্যবিজ্ঞানী ব্রায়ান কুয়ক লে জানিয়েছেন, প্রচলিত উৎপাদনপদ্ধতিতে সহজে তৈরি করা যায় না, এমন আকৃতি ও গঠন তৈরির সুযোগই এই প্রযুক্তির অন্যতম আকর্ষণ। তবে উদ্ভিজ্জ মাংসের গঠন ধরে রাখতে বাড়তি উপাদানের প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আরিক কাউফম্যান জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাজার সম্প্রসারণের পর চাহিদা অনুযায়ী অন্য অঞ্চলেও পণ্য পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন কোন দোকানে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, বিজ্ঞপ্তিতে তার বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়নি। নতুন এসব খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে অবশ্য সতর্ক অবস্থান জানিয়েছেন পুষ্টিবিদেরা। প্রভিডেন্স সেন্ট জুড মেডিকেল সেন্টারের নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ান মেগান রো দ্য ইনডিপেনডেন্টকে বলেছেন, থ্রিডি প্রিন্ট করা খাবারের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা এখনো সীমিত। প্রোটিন, চর্বি ও আঁশের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও ভিটামিন ও খনিজের উপস্থিতি এবং পুষ্টিমান নিয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন। রোর মতে, খাবার গিলতে সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী গঠন ও আকৃতির খাবার তৈরিতে এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাঁদের খাবারে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হতে পারে। তবে কিছু পণ্যে অতিপ্রক্রিয়াজাত উপাদান ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেছেন, নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এসব খাবার সুপারিশ করার মতো পর্যাপ্ত গবেষণা এখনো তাঁর নজরে আসেনি।
ইলহান ওমর ও তাঁর প্রয়াত বাবাকে ঘিরে অভিবাসন জালিয়াতির তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদে বোন
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট নিয়ে কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প, চাপে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তারা
এক বছরে ১৩ লাখের বেশি মানুষ পেলেন গ্রিন কার্ড, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হলো নতুন রেকর্ড
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের বাড়তি ডিজেল খরচের চাপ কমাতে ৮ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের আর্থিক চাপ সামাল দিতে ‘হারভেস্ট ফুয়েল রিলিফ প্রোগ্রাম’ নামে এ কর্মসূচি চালু করছে দেশটির কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। সোমবার রাতে কানসাসে এক নির্বাচনী সমাবেশে এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কর্মসূচির আওতায় কৃষকেরা এককালীন অর্থসহায়তা পাবেন। তবে প্রত্যেকে কত টাকা পাবেন, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত হিসাবপদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট ফসলের ওপর। ট্রাম্পের ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকেরা ডিজেলসহ উৎপাদন উপকরণের বাড়তি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছেন। কৃষিকাজে ট্রাক্টর, হারভেস্টার, সেচব্যবস্থা ও অন্যান্য যন্ত্র চালাতে জ্বালানির প্রয়োজন হয়। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে ফসল উৎপাদন ও সংগ্রহের খরচও বাড়ে। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ফসল উৎপাদন মৌসুমে কৃষকদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির একটি অংশ পুষিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। কানসাসের পার্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষি বিভাগ নতুন এই কর্মসূচি চালু করবে। এ সময় তিনি রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের ভূমিকাও তুলে ধরেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্শাল এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। মার্শাল একজন চিকিৎসক এবং বর্তমানে কানসাসের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজ্যটিতে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের মুখোমুখি হচ্ছেন। নির্বাচনী পূর্বাভাসে সম্প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে এ আসন। সাবাতোর ক্রিস্টাল বল এবং দ্য কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট—দুটি প্রতিষ্ঠানই আসনটিকে এমন অবস্থানে রেখেছে, যেখানে দুই দলের যেকোনো প্রার্থী জয়ী হতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। ঐতিহাসিকভাবে এসব নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসে আসন হারানোর প্রবণতা দেখিয়েছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুব বেশি নয়। ফলে কৃষকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থন ধরে রাখা দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন এবং অর্থনীতি, অভিবাসন ও কর্মসংস্থানের মতো বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর প্রতি জনসমর্থন কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো নিয়ে পরিবারগুলোর উদ্বেগও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের জন্য নতুন আর্থিক সহায়তার ঘোষণা এসেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত পেট্রলের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪.২৯৫৩ ডলার এবং ডিজেলের দাম ৬.৩১৮৭ ডলার। কানসাসে নিয়মিত পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৩.৯৭৮৩ ডলার এবং ডিজেলের দাম ৬.০৭২২ ডলার। বিশেষ করে ডিজেলের উচ্চমূল্য কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অস্থায়ী বাজারবিঘ্ন এবং উৎপাদন উপকরণের বাড়তি খরচের কারণে কৃষকদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তার একটি অংশ পুষিয়ে দিতে ৮ বিলিয়ন ডলার এককালীন অর্থসহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণে একটি অভিন্ন হিসাবপদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, যাতে যোগ্য কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সহায়তা পান। এই হিসাবের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ফসল উৎপাদন মৌসুমের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করা হবে। কৃষি বিভাগের বিশ্ব কৃষিপণ্য সরবরাহ ও চাহিদা-সংক্রান্ত পূর্বাভাস থেকে ফসলের দাম ও ফলনের তথ্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক গবেষণা বিভাগ থেকে উৎপাদন ব্যয়ের হিসাব এবং কৃষি বিভাগের ফার্ম সার্ভিস এজেন্সিতে (এফএসএ) জমা দেওয়া আবাদি জমির তথ্য ব্যবহার করা হবে। কর্মসূচির অর্থ কমোডিটি ক্রেডিট করপোরেশন চার্টার আইনের আওতায় বরাদ্দ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের অধীন ফার্ম সার্ভিস এজেন্সি অর্থ বিতরণের দায়িত্ব পালন করবে। কোন ফসলের জন্য কত হারে অর্থ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আগামী মাসে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ কর্মসূচির জন্য ফসলবিমা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভবিষ্যতে পণ্যের দাম ওঠানামা ও বাজারের ঝুঁকি সামলাতে কৃষকদের নতুন কর আইনে অন্তর্ভুক্ত উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুবিধা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। যেসব কৃষিপণ্য সাধারণত টাইটেল-ওয়ান পণ্যের তালিকায় পড়ে না, সেগুলোর জন্য সহায়তার হিসাবপদ্ধতি পরে ঘোষণা করা হবে। এ ধরনের পণ্যের মধ্যে বিশেষায়িত ফসল উৎপাদনকারীদের পাশাপাশি মৎস্যজীবীরাও রয়েছেন। জ্বালানির বাড়তি খরচের প্রভাব বিবেচনার জন্য তাঁদের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে HarvestFuel@usda.gov ঠিকানায়। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সহায়তার হার নির্ধারণ করা হতে পারে। আবেদনের সময়সীমা ঘোষণার আগেই কৃষকদের Login.gov-এ অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে আগে থেকে পূরণ করা আবেদনপত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। কৃষিমন্ত্রী ব্রুক এল. রোলিন্স বলেছেন, ফসল কাটার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কৃষকদের আরও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিতে এ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ৮ বিলিয়ন ডলারের এ বিনিয়োগ কৃষকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমাতে এবং দেশের খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে। তবে জ্বালানির দাম নিয়ে কৃষকদের অসন্তোষ নতুন নয়। ন্যাশনাল ব্ল্যাক ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জন বয়েড এর আগে বলেছিলেন, ডিজেলের উচ্চমূল্য এবং অন্যান্য আর্থিক চাপের কারণে কৃষকদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। নির্বাচনের আগে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ঘটনাও এবার নতুন নয়। গত মাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন-সংক্রান্ত সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁর দল নির্বাচনে জয়ী হলে লাখ লাখ আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড চেক দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২ কোটির বেশি প্রবীণ নাগরিককে মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়াম পরিশোধে সহায়তার জন্য প্রায় ১০০ ডলারের চেক দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। নতুন কৃষি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে ডিজেলের বাড়তি খরচের কতটা চাপ কমানো সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে ফসলভিত্তিক অর্থসহায়তার হার এবং কৃষকেরা বাস্তবে কতটা অর্থ পাবেন তার ওপর। আপাতত কৃষকদের সম্ভাব্য ক্ষতির একটি অংশ পুষিয়ে দেওয়াই সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য।
গির্জা থেকে মসজিদ, ইতিহাস বাঁচিয়ে সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউটিকা শহর
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা, কারা পাচ্ছেন এই শেয়ার?
ইরান যুদ্ধে ২১ মার্কিন সেনার মৃত্যু ও আহত ৮৬৫, পেন্টাগনের নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকের জালিয়াতি বিভাগের পরিচয়ে ফোন করে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতো কণ্ঠস্বর নকল করা এবং ফোনে ব্যাংকের আসল নম্বরের মতো নম্বর দেখানোর মাধ্যমে গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিচিত ব্যাংকের নাম বা নম্বর দেখালেও ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি প্রকৃত ব্যাংক কর্মকর্তা নাও হতে পারেন। টাকা সুরক্ষিত রাখার কথা বলে অ্যাকাউন্টের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নিতে বলাই এ ধরনের প্রতারণার অন্যতম কৌশল। আতঙ্কিত হয়ে গ্রাহক নির্দেশনা অনুসরণ করলে মুহূর্তেই হারিয়ে যেতে পারে হাজার হাজার ডলার। প্রতারকেরা প্রযুক্তির সাহায্যে নিজেদের পরিচয় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে বলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য প্রতারণা শনাক্ত করা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন টেরেসা ম্যাডক্স। তাঁর ফোনে এমন একটি কল আসে, যা দেখে মনে হচ্ছিল সেটি ওয়েলস ফার্গো ব্যাংকের জালিয়াতি বিভাগ থেকে করা হয়েছে। ফোনে ব্যাংকের নাম দেখে তিনি কলটি গ্রহণ করেন। অপর প্রান্তের ব্যক্তি তাঁকে জানান, নিউইয়র্কে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচটি লেনদেন হয়েছে। তিনি সেখানে গিয়েছিলেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। ম্যাডক্স জানান, ওই লেনদেনগুলো তাঁর করা নয়। এরপর তাঁকে অর্থ সুরক্ষিত রাখার কথা বলে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা সরিয়ে নিতে বলা হয়। সেই নির্দেশনা অনুসরণ করার পর তাঁর হাজার হাজার ডলার হারিয়ে যায়। একই ধরনের প্রতারণার শিকার হন পেশায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ও বায়ু চলাচলব্যবস্থার কারিগরি কর্মী কেনি সামনার। তাঁর ফোনে যে নম্বরটি দেখা যাচ্ছিল, সেটি ব্যাংকের জালিয়াতি বিভাগের প্রকৃত নম্বরের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল। ফলে কলটি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছিল তাঁর কাছে। কিন্তু অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পান, তাঁর চেকিং অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ হাজার ডলার উধাও হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ঝুঁকি, জালিয়াতি ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট পল বেন্ডা জানান, প্রতারকেরা এখন এআই ব্যবহার করে মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করতে পারছে। পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির মতো কথা বলে তারা সহজেই মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করছে। এমনকি নিখুঁত ভাষায় ইমেইল লেখা এবং আসল ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মতো দেখতে নকল ওয়েবসাইট তৈরির মাধ্যমেও গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে আগে যেসব লক্ষণ দেখে প্রতারণা শনাক্ত করা যেত, সেগুলোও এখন কম কার্যকর হয়ে পড়ছে। আগে ভুল বানান, ব্যাকরণগত ভুল কিংবা অস্বাভাবিক বাক্যগঠন সন্দেহের কারণ হতে পারত। কিন্তু এখন প্রতারকেরা অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য বার্তা তৈরি করতে পারছে। ফোনে পরিচিত কণ্ঠস্বর শোনা কিংবা ব্যাংকের আসল নম্বরের মতো নম্বর দেখা গেলেও সেটিকে পরিচয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা নিরাপদ নয়। এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আমেরিকান ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন ‘ব্যাংক কখনো এসব চায় না’ শীর্ষক ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। সংস্থাটির সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, অপ্রত্যাশিত ফোন বা বার্তা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ, বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ এবং অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রতারণার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। ব্যাংকের পরিচয়ে ফোন করে কেউ টাকা সরিয়ে নিতে বললে সেই নির্দেশ অনুসরণ করবেন না। কোনো লেনদেন যাচাই করার প্রয়োজন হলে ফোন কেটে দিয়ে ব্যাংকের কার্ডের পেছনে থাকা নম্বর অথবা ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া যোগাযোগ নম্বরে নিজে ফোন করে নিশ্চিত হোন। ফোনে কেউ পাসওয়ার্ড, পিন, অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্য কিংবা নিরাপত্তা যাচাইয়ের কোড চাইলে তা দেওয়ার আগে অবশ্যই বিষয়টি যাচাই করতে হবে। ইতোমধ্যে সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করে থাকলে, ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ফেললে কিংবা অর্থ পাঠিয়ে দিলে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজন হলে অ্যাকাউন্ট ও কার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিন। দ্রুত ব্যাংককে জানালে আরও অর্থ হারানোর ঝুঁকি কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতে পারে। প্রতারকদের কৌশল যত উন্নত হচ্ছে, গ্রাহকদের সতর্ক থাকার প্রয়োজনও তত বাড়ছে। ব্যাংকের নাম, ফোন নম্বর কিংবা পরিচিত কণ্ঠস্বর দেখে কোনো কলকে বিশ্বাস না করে স্বাধীনভাবে যাচাই করাই নিরাপদ থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
টেক্সাসের অভিবাসন কেন্দ্রে ডালাসের বাসিন্দার মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ পরিবারের
ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তে ডিএনএ প্রমাণের দাবি, অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ