মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে আবারও বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। সোমবার বিভিন্ন অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রম সচিব লোরি শ্যাভেজ-ডিরেমার। গত দুই মাসের ব্যবধানে ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নেওয়া তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চুং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডিরেমার ব্যক্তিগত খাতে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসন ছাড়ছেন। ডিরেমারের স্থলে বর্তমানে ডেপুটি লেবার সেক্রেটারি কিথ সন্ডারলিং ভারপ্রাপ্ত শ্রম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
লোরি শ্যাভেজ-ডিরেমারের এই পদত্যাগ এমন এক সময়ে এলো যখন শ্রম দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় তার বিরুদ্ধে ওঠা বেশ কিছু অভিযোগের তদন্ত করছিল। তার বিরুদ্ধে সহকর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্রে মদ্যপান এবং সরকারি অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ভ্রমণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও দপ্তরের কর্মীদের সাথে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
বিদায়ী বার্তায় ডিরেমার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে 'ডিপ স্টেট'-এর ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেন, "ঐতিহাসিক এই প্রশাসনে কাজ করা আমার জন্য সম্মানের।"
উল্লেখ্য, গত মার্চে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম এবং চলতি মাসের শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির বিদায়ের পর ডিরেমার হলেন তৃতীয় নারী ক্যাবিনেট সদস্য যিনি ট্রাম্প প্রশাসন থেকে অপসারিত বা পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ডেমোক্র্যাটিক দলের কংগ্রেস সদস্য আয়ানা প্রেসলির স্বামীর মালিকানাধীন একটি বাড়িতে থেকে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া তরুণীর নাম ইয়োসেলিয়ানি মার্তে। শনিবার বোস্টনের মেটাপান এলাকার ওই আট বেডরুম ও চার বাথরুমের বাড়িতে পুলিশ অনুসন্ধানে গিয়ে মার্তের মরদেহ দেখতে পায়। বোস্টন পুলিশ বিভাগ (বিপিডি) আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের নাম প্রকাশ না করলেও, তার মা এলেনি ওকাসিও রবিবার তহবিল সংগ্রহের ওয়েবসাইট 'গোফান্ডমি'-তে মেয়ের পরিচয় নিশ্চিত করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে তার মেয়ে মারা গেছে। বাড়িটি আয়ানা প্রেসলির স্বামী কো নান হ্যারিসের। ২০২১ সালে ৩ লাখ ৪০ হাজার ডলারে কেনা এ বাড়িটি বর্তমানে ১১ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রেসলি ও তার স্বামী এই বাড়িতে থাকেন না, এটি ভাড়া দেওয়া ছিল। ঘটনাটি নিয়ে বোস্টন পুলিশের হোমিসাইড ইউনিট তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, বিক্রির জন্য তালিকায় ওঠার প্রায় এক মাস আগে, অর্থাৎ দুই মাস আগেও বাড়িটিতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল। এই ঘটনার বিষয়ে কংগ্রেস সদস্য প্রেসলির মুখপাত্র জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তি কর্মসূচি মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। সোমবার বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশন এ তদন্তের ঘোষণা দেয়। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের উদ্দেশ্য হলো হার্ভার্ডের কিছু চীন-সংশ্লিষ্ট অর্থায়ন ও বৃত্তি কর্মসূচিতে মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে কি না এবং তা ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্টের টাইটেল সিক্স লঙ্ঘন করছে কি না, তা নির্ধারণ করা। এই আইনে ফেডারেল অর্থায়নপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ। বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিট কে. ধিলন বলেন, প্রতিটি মার্কিন শিক্ষার্থীর বৃত্তি, অনুদান ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তার জন্য সমানভাবে প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকা উচিত। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফেডারেল অর্থ গ্রহণের পাশাপাশি বিদেশি উৎসের এমন অর্থ গ্রহণ করতে পারে না, যার শর্ত অনুযায়ী মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বিচার বিভাগ জানায়, ১৯৬৫ সালের উচ্চশিক্ষা আইনের ১১৭ ধারার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বছরে আড়াই লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের বিদেশি অনুদান ও চুক্তির তথ্য সরকারকে জানাতে হয়। হার্ভার্ডের জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি উৎস থেকে অর্থায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের ঘোষিত বিদেশি অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে চীনভিত্তিক উৎস থেকেই এসেছে ৬৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। বিচার বিভাগের দাবি, হার্ভার্ডের বিদেশি অর্থায়নের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চীনভিত্তিক কিছু দাতা তাদের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার শর্ত আরোপ করেছেন। এসব শর্ত অনুসরণ করে হার্ভার্ড যদি নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ দিয়ে থাকে, তাহলে তা অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মার্কিন নাগরিকদের জন্য বৈষম্যের কারণ হতে পারে। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। এটি একটি কমপ্লায়েন্স রিভিউ বা আইন মেনে চলা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। অন্যদিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে তারা জাতি, জাতিগত পরিচয় বা জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো বেআইনি বৈষম্য করে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা বিচার বিভাগের পাঠানো নোটিশ পর্যালোচনা করছে এবং সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতা করবে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে হার্ভার্ডের একাধিক ইস্যুতে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ভর্তি নীতি, বিদেশি অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং ফেডারেল তহবিল ব্যবহারের মতো বিভিন্ন বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকারের বাড়তি নজরদারির মুখে রয়েছে। নতুন এই তদন্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত প্রায় আড়াই লাখ চীনা শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট ভিসা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রাইলি মুর। জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এ আহ্বান জানান। এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক চীনা শিক্ষার্থী সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি রাইলি মুর সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার চীনা শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের আহ্বান জানান। তার দাবি, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থায় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নিয়েছিল। বিশেষ করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বা সংবেদনশীল গবেষণা ক্ষেত্রে অধ্যয়নরত এমন শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল এবং ভবিষ্যৎ আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করার পরিকল্পনার কথা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ব্যবস্থায়ও নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের সময়সীমাও আগের তুলনায় কমানো হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের চীনা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে নেওয়া ভিসা-সংক্রান্ত পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে এবং এসব উদ্যোগকে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে বেইজিং জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছে। এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সব চীনা শিক্ষার্থীর ভিসা একযোগে বাতিলের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। বর্তমানে বিষয়টি রাজনৈতিক পর্যায়ে উত্থাপিত একটি প্রস্তাব হিসেবে রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের দিকে নজর রয়েছে।