একটি অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্যি গল্প এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। যুক্তরাষ্ট্রের এক মেডিকেল শিক্ষার্থী, শে টেইলর-অ্যালেন, জীবনের এক পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করতে চলেছেন — যে হাসপাতালে তিনি জন্মেছিলেন এবং এক সময় ঝাড়ুদারের কাজ করেছিলেন, সেই একই হাসপাতালে এবার তিনি ডাক্তার হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন।
গত শুক্রবার তিনি জানতে পারেন যে তিনি তার প্রথম পছন্দের রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম, ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনে সুযোগ পেয়েছেন। খবরটি জানার পর নিজের আনন্দের মুহূর্তের একটি ভিডিও তিনি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন, যা খুব দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং কয়েক মিলিয়নের বেশি মানুষ ভিডিওটি দেখেছে।
৩২ বছর বয়সী টেইলর-অ্যালেন জানান, তিনি শুধু ইয়েল নিউ হ্যাভেন হাসপাতালে জন্মই নেননি, ১৮ বছর বয়সে তিনি সেখানে ঝাড়ুদার হিসেবেও কাজ করেছিলেন। তখন তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে একদিন একই হাসপাতালে তিনি ডাক্তার হিসেবে ফিরে আসবেন।
তিনি বলেন, খবরটি শোনার পর তিনি এতটাই আনন্দিত হয়ে পড়েছিলেন যে লাফাতে লাফাতে মনে হচ্ছিল মাটি ভেঙে যাবে। বর্তমানে তিনি হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিসিনের শিক্ষার্থী এবং মে মাসে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগে রেসিডেন্সি শুরু করবেন।
টেইলর-অ্যালেন জানান, ছোটবেলায় তিনি ডাক্তার হওয়ার কথা ভাবেননি। কলেজে পড়ার সময় তার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি মাকে সাহায্য করতে গিয়ে চিকিৎসকদের কাজ কাছ থেকে দেখেন, তখনই তার মনে হয় তিনি ডাক্তার হতে চান।
মায়ের অসুস্থতার সময় তিনি ইয়েল হাসপাতালেই ঝাড়ুদারের কাজ করতেন। সেই সময় তিনি হাসপাতালের এক কর্মকর্তার সঙ্গে নিজের পরিবারের সমস্যার কথা বলেন, এবং সেই কর্মকর্তা তাদের সাহায্য করেন। সেই ঘটনাই তাকে অনুপ্রাণিত করে অন্য মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখতে।
তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝিয়েছিল যে একজন মানুষ অন্যের জীবনে কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে, আর তখনই তিনি ঠিক করেন যে তিনি একদিন ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।
ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের চেয়ার ডা. লিসা লেফার্ট এক বিবৃতিতে জানান, তারা ডা. শে টেইলর-অ্যালেনকে তাদের দলে পেয়ে খুবই আনন্দিত এবং তিনি ভবিষ্যতে রোগীদের সেবা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
এই সাফল্যের গল্প অন্য তরুণীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। টেইলর-অ্যালেন বলেছেন, কেউ যদি স্বপ্ন দেখে, তাহলে তাকে থামানো উচিত নয়। তিনি বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাদের খুব প্রয়োজন, এবং তারা চাইলে অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
একটি অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্যি গল্প এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। যুক্তরাষ্ট্রের এক মেডিকেল শিক্ষার্থী, শে টেইলর-অ্যালেন, জীবনের এক পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করতে চলেছেন — যে হাসপাতালে তিনি জন্মেছিলেন এবং এক সময় ঝাড়ুদারের কাজ করেছিলেন, সেই একই হাসপাতালে এবার তিনি ডাক্তার হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন। গত শুক্রবার তিনি জানতে পারেন যে তিনি তার প্রথম পছন্দের রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম, ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনে সুযোগ পেয়েছেন। খবরটি জানার পর নিজের আনন্দের মুহূর্তের একটি ভিডিও তিনি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন, যা খুব দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং কয়েক মিলিয়নের বেশি মানুষ ভিডিওটি দেখেছে। ৩২ বছর বয়সী টেইলর-অ্যালেন জানান, তিনি শুধু ইয়েল নিউ হ্যাভেন হাসপাতালে জন্মই নেননি, ১৮ বছর বয়সে তিনি সেখানে ঝাড়ুদার হিসেবেও কাজ করেছিলেন। তখন তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে একদিন একই হাসপাতালে তিনি ডাক্তার হিসেবে ফিরে আসবেন। তিনি বলেন, খবরটি শোনার পর তিনি এতটাই আনন্দিত হয়ে পড়েছিলেন যে লাফাতে লাফাতে মনে হচ্ছিল মাটি ভেঙে যাবে। বর্তমানে তিনি হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিসিনের শিক্ষার্থী এবং মে মাসে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগে রেসিডেন্সি শুরু করবেন। টেইলর-অ্যালেন জানান, ছোটবেলায় তিনি ডাক্তার হওয়ার কথা ভাবেননি। কলেজে পড়ার সময় তার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি মাকে সাহায্য করতে গিয়ে চিকিৎসকদের কাজ কাছ থেকে দেখেন, তখনই তার মনে হয় তিনি ডাক্তার হতে চান। মায়ের অসুস্থতার সময় তিনি ইয়েল হাসপাতালেই ঝাড়ুদারের কাজ করতেন। সেই সময় তিনি হাসপাতালের এক কর্মকর্তার সঙ্গে নিজের পরিবারের সমস্যার কথা বলেন, এবং সেই কর্মকর্তা তাদের সাহায্য করেন। সেই ঘটনাই তাকে অনুপ্রাণিত করে অন্য মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখতে। তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝিয়েছিল যে একজন মানুষ অন্যের জীবনে কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে, আর তখনই তিনি ঠিক করেন যে তিনি একদিন ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের চেয়ার ডা. লিসা লেফার্ট এক বিবৃতিতে জানান, তারা ডা. শে টেইলর-অ্যালেনকে তাদের দলে পেয়ে খুবই আনন্দিত এবং তিনি ভবিষ্যতে রোগীদের সেবা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এই সাফল্যের গল্প অন্য তরুণীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। টেইলর-অ্যালেন বলেছেন, কেউ যদি স্বপ্ন দেখে, তাহলে তাকে থামানো উচিত নয়। তিনি বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাদের খুব প্রয়োজন, এবং তারা চাইলে অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিপুল পরিমাণ অর্থমূল্যের’ একটি ‘উপহার’ দিয়েছে, যা মূলত তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত এবং হরমুজ প্রণালির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এই ‘উপহার’ ঠিক কী, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপহার দিয়েছে, যার মূল্য অনেক বেশি এবং এটি পণ্য চলাচল ও প্রণালির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি ইঙ্গিত দেন, এটি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ট্রাম্প এর আগের দিন ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেন এবং যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আলোচনায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও ইরান সরাসরি কোনো আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই ‘উপহার’ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তবে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে ইরান নাকি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে সম্মত হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে প্রচারিত এক বার্তায় ইরান জানায়, পারস্য উপসাগরের সঙ্গে বিশ্বের সংযোগকারী হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘অ-শত্রুভাবাপন্ন জাহাজ’ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। যদিও সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই পথে ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এই সমস্যার কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের আহ্বান জানালেও মিত্র দেশগুলোর সাড়া মেলেনি। এদিকে ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘শীর্ষ পর্যায়ের’ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বৈশ্বিক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার যুক্ত রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, পাকিস্তান এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে ইসলামাবাদ প্রস্তুত
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য কানেকটিকাটে এবারের শীতকাল গত এক দশকের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ২০ মার্চ ‘ভার্নাল ইকুইনক্স’ বা বসন্তকালীন বিষুব অতিক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বসন্তের আগমন ঘটলেও, গত কয়েক মাসের আবহাওয়ার খতিয়ান বলছে—এবারের শীত ছিল রীতিমতো ভয়াবহ। রাজধানী হার্টফোর্ড এলাকায় গড় তাপমাত্রা ছিল ২৭.৯° ফারেনহাইট, যা ২০১৫ সালের পর সর্বনিম্ন। এছাড়া গত ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৫২.৭ ইঞ্চি তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ। জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ‘ক্লাইমেট সেন্ট্রাল’-এর বিজ্ঞান বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ক্রিস্টিনা ডাহল জানান, ১৯৭০ সালের তুলনায় কানেকটিকাটে শীতকালীন গড় তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি বাড়লেও এবারের তীব্র শীতের পেছনে ‘আর্কটিক এয়ার’ বা মেরু অঞ্চলের শীতল বাতাসের প্রভাব ছিল প্রবল। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ‘জেট স্ট্রিম’ বা বায়ুপ্রবাহের আচরণ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় মেরু অঞ্চলের তীব্র ঠান্ডা বাতাস নিচে নেমে আসছে। তবে এই তুষারপাতের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে; বড় দু-তিনটি আর্দ্র ঝড়েই এবার মৌসুমি গড়ের চেয়ে বেশি তুষারপাত হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, কানেকটিকাটসহ পূর্ব উপকূলে যখন রেকর্ড শীত অনুভূত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের চিত্র ছিল ঠিক উল্টো। সেখানে অনেক শহরে এবার রেকর্ড উষ্ণতা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবী যত উষ্ণ হচ্ছে, মেরু অঞ্চলের শীতল বাতাসের তীব্রতা বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের মতো দীর্ঘস্থায়ী না হলেও, আকস্মিক ও প্রচণ্ড শীত বা ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েই যাচ্ছে।