বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন ভিসায় ফেডারেল আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়, স্বস্তির সম্ভাবনা বাংলাদেশিদেরও
যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন ভিসা আবেদনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রদান স্থগিত রাখার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলায় আদালত ওই নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছেন। মামলাটি একজন ব্রাজিলীয় বিনিয়োগকারী ও তাঁর পরিবারের ভিসা আবেদনকে কেন্দ্র করে হওয়ায় বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর একই ধরনের আবেদনকারীদের মধ্যেও নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়েছে।
৩১ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের সিনিয়র জেলা বিচারক অ্যামিট পি. মেহতা এ রায় দেন। মামলাটির বাদী নিউটন দে মউরা গোমেস ও তাঁর পরিবারের অভিবাসন ভিসা আবেদন ৭৫ দেশের জন্য চালু করা সামগ্রিক স্থগিত নীতির কারণে আটকে ছিল। আদালত সরকারের ওই নীতিকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের ভিসা আবেদন স্বাভাবিক নিয়মে ব্যক্তিগতভাবে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা ইস্যু স্থগিত রেখেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকরা অ্যাপ্লিকেশন জমা দিতে এবং ভিসা ইন্টারভিউতে অংশ নিতে পারছেন, তবে ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য। বাংলাদেশ ওই তালিকায় রয়েছে।
আদালতের নতুন রায়ের মূল বিষয় ছিল, পররাষ্ট্র দপ্তর কি ৭৫ দেশের সব অভিবাসন ভিসা আবেদনকে একটি সামগ্রিক নীতির মাধ্যমে আটকে রাখতে পারে কি না। বিচারক মেহতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে কোনো আবেদনকারীর ‘পাবলিক চার্জ’ হওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করার যে আইনি কাঠামো রয়েছে, সেটিকে বাদ দিয়ে সব আবেদনকারীর ওপর একই ধরনের blanket policy প্রয়োগ করা যায় না।
মামলাটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে কারণ বাদী নিউটন দে মউরা গোমেস ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির একজন আবেদনকারী। এই কর্মসূচিতে যোগ্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নির্ধারিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির শর্ত পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারেন। আদালতের সামনে তাঁর পরিবারের আবেদন আটকে যাওয়ার বিষয়টিই মূল বিরোধের অংশ ছিল।
রায়ে আদালত শুধু আবেদনটি দ্রুত অনুমোদনের নির্দেশ দেননি। বরং সংশ্লিষ্ট পরিবারের আবেদনকে ৭৫ দেশের জন্য চালু করা সামগ্রিক স্থগিত নীতির বাইরে রেখে ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত সরকারের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেও এই পুনর্বিবেচনা সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বাংলাদেশিদের জন্য রায়টির গুরুত্ব এখানেই। বাংলাদেশ ওই ৭৫ দেশের তালিকায় থাকায় একই নীতির কারণে অভিবাসন ভিসা আটকে থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীরা আদালতের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির হিসেবে দেখতে পারেন। বিশেষ করে বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন ভিসার আবেদনকারীদের জন্য রায়টি নতুন আইনি সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে।
তবে এই রায়ের অর্থ এখনই বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের সব আবেদনকারীর ভিসা স্থগিতাদেশ উঠে গেছে, এমন নয়। আদালতের সরাসরি আদেশ এই মামলার বাদী ও তাঁর পরিবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে কি না, তা পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্ত, নতুন মামলা এবং মার্কিন সরকারের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। সাম্প্রতিক রায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনি পর্যবেক্ষণেও বলা হয়েছে, ৭৫ দেশের ওপর থাকা সামগ্রিক স্থগিত নীতি এখনো সবার জন্য বাতিল হয়নি।
ফলে বাংলাদেশি বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এটি সরাসরি ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক ভিসা স্থগিত নীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল আদালতের রায় হিসেবে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে এই রায়ের ভিত্তিতে অন্যান্য আবেদনকারীর মামলায় কী ধরনের প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে চান মিশিগান থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর আবদুল এল-সাইয়েদ। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে দেওয়া প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনার কথা জানান। নির্বাচনে জয়ের পর বৃহস্পতিবার এল-সাইয়েদ বলেন, এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে তিনি আগ্রহী। ট্রাম্প তাঁর পরিকল্পনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ইসরায়েলের আর ওই সহায়তার প্রয়োজন নেই। একই বক্তব্যে তিনি এল-সাইয়েদকে কটাক্ষ করেন। নির্বাচনী প্রচারেও ট্রাম্প তাঁকে আক্রমণ করেছিলেন। তা সত্ত্বেও সহায়তা বন্ধের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন এল-সাইয়েদ। এল-সাইয়েদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দিয়ে এমন কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীকে সহায়তা দেওয়া উচিত নয়, যার কর্মকাণ্ডের তিনি সমালোচনা করেন। ইসরায়েলের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধের পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি। মিশিগানের নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হয়েছেন। আগামী বছর তিনি দায়িত্ব নেবেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের সমালোচনাকে ইহুদি ধর্ম ও ইহুদি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। সহায়তা বন্ধের ঘোষণা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে আরব নিউজের প্রতিবেদনে কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়নি। ট্রাম্পের ঘোষণার পর এল-সাইয়েদের বক্তব্য দুই রাজনীতিকের একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে অবস্থানের মিল তুলে ধরেছে। সংবাদসূত্র: আরব নিউজ।
ডেট্রয়েটে লেবাননের কনসাল জেনারেলকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ
মৃত্যুর ২ বছর পর এমআইটি থেকে পিএইচডি পেলেন বুয়েটের শাশ্বত সৌম্য
এইচএসসিতে ৩.৪১ জিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও চাকরিতে সাফল্য! পেলে গ্রীন কার্ড
ইরাক যুদ্ধের শুরুর দিকে দগ্ধ তিন শিশুকে চিকিৎসা দিতে মার্কিন সামরিক চিকিৎসকদের অস্বীকৃতির ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন এক মার্কিন সেনা। ২০০৩ সালের ১৩ জুন ইরাকের বালাদ শহরের কাছে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ঘটে এই ঘটনা। শিশুদের অসহায় অবস্থা দেখে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন সার্জেন্ট ডেভিড জে. বোরেল। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সহযোদ্ধার বুকে মাথা রেখে তাঁর কান্নার একটি ছবি বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তৎকালীন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বালাদের কাছে বিহিশমেহ গ্রামের বাসিন্দা ফালাহ মুতলাকের তিন সন্তান রাস্তায় পড়ে থাকা বিস্ফোরক গুঁড়াভর্তি একটি ব্যাগ খুঁজে পায়। তাতে আগুন ধরালে তিন শিশু মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। আহত শিশুরা ছিল ১১ বছর বয়সী আহলাম, ১০ বছর বয়সী বুদুর এবং ১০ বছর বয়সী হায়দার। হায়দারের হাত, পা ও মুখের একটি অংশ পুড়ে যায়। অন্য দুই শিশুর শরীরেও গুরুতর পোড়া ক্ষত তৈরি হয়। সন্তানদের চিকিৎসার জন্য প্রথমে বালাদের একটি হাসপাতালে যান তাদের বাবা। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে অপারগতা জানালে তিনি শিশুদের নিয়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির প্রবেশপথে পৌঁছান। সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা সার্জেন্ট ডেভিড বোরেল। শিশুদের অবস্থা দেখে তিনি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সামরিক চিকিৎসকদের খবর দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর দুজন চিকিৎসক সেখানে পৌঁছান। তবে তাঁরা শিশুদের চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে বোরেল অভিযোগ করেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুদের আঘাত নির্ধারিত জরুরি চিকিৎসার আওতায় পড়েনি। তৎকালীন সামরিক নীতি অনুযায়ী, জীবন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, এমন রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হতো। মার্কিন থার্ড কোর সাপোর্ট কমান্ডের মুখপাত্র মেজর ডেভিড অ্যাসেটা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, চিকিৎসকেরা নির্ধারিত নীতির বাইরে কোনো কাজ করেননি। তবে এই ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারেননি বোরেল। তাঁর অভিযোগ ছিল, চিকিৎসকেরা শিশুদের কষ্ট লাঘবের জন্য সামান্য চিকিৎসাসহায়তাও দেননি। শেষ পর্যন্ত নিজের প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম থেকে শিশুদের বাবাকে ব্যান্ডেজ ও ক্ষত পরিষ্কারের স্যালাইন দেন বোরেল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরদিন সন্তানদের চিকিৎসার জন্য বাগদাদে নিয়ে যান তাদের বাবা। ঘটনার কয়েক দিন পরও শিশুদের শরীরে পোড়া ক্ষত ছিল। বিশেষ করে হায়দার ডান পায়ে ভর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছিল না। শিশুদের এই দুর্দশা বোরেলকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। একপর্যায়ে তাঁর মানসিক অবস্থা বুঝতে পেরে সহযোদ্ধা ব্রায়ান প্যাচোলস্কি তাঁকে একপাশে নিয়ে সান্ত্বনা দেন। সেই মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়েন বোরেল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী ভিক্টর আর. কাইভানো তাঁদের সেই আবেগঘন মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন। ঘটনাটি শুধু সংবাদমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বোরেল তাঁর স্ত্রী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কাছে ঘটনার বিবরণ পাঠান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসেও বিষয়টি আলোচিত হয়। ২০০৩ সালের ১৭ জুন ওহাইওর কংগ্রেস সদস্য মার্সি ক্যাপটুর বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গুরুতর আহত বেসামরিক শিশুদের চিকিৎসা না দেওয়াই কি মার্কিন সামরিক বাহিনীর নীতি? পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে দ্য টলেডো ব্লেডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও বোরেল জানান, সেদিনের ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। ইরাক যুদ্ধের ইতিহাসে আহত শিশুদের অসহায়ত্ব এবং এক মার্কিন সেনার আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার সাক্ষী হয়ে রয়েছে ছবিটি। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, দ্য টলেডো ব্লেড, মার্কিন কংগ্রেশনাল রেকর্ড।
আমেরিকায় নতুন! জেনে নিন ক্রেডিট স্কোর গড়ার সাতটি কার্যকর উপায়
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে নিউইয়র্কে, গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত বাংলাদেশি মেহেদী শামীম
স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনায় স্ত্রীকে চ্যাটজিপিটির সহায়তার অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
মানুষের শরীরের ওপরের অংশের সঙ্গে মাছের লেজ জুড়ে তৈরি অদ্ভুত এক প্রাণীকে একসময় সত্যিকারের জলপরী বলে বিশ্বাস করেছিলেন অনেকে। উনিশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের জাদুঘর ও ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীতে ‘ফিজি মারমেইড’ নামে পরিচিত এই নমুনা দেখিয়ে দর্শকদের আকৃষ্ট করা হতো। কেউ কেউ একে মানুষ ও জলজ প্রাণীর মধ্যবর্তী বিবর্তনীয় সংযোগসূত্র বা ‘মিসিং লিংক’ বলেও মনে করেছিলেন। কিন্তু আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, এটি কোনো অজানা প্রাণী ছিল না। বরং বিভিন্ন প্রাণীর দেহাবশেষ জুড়ে তৈরি করা হয়েছিল কৃত্রিম প্রদর্শনবস্তু। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে প্রদর্শিত একটি ফিজি মারমেইডের প্রতিরূপ ঘিরে পুরোনো এই রহস্য আবার আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বোল্ডার ক্যাম্পাসের লেখালেখি ও অলঙ্কারশাস্ত্র বিভাগের শিক্ষক জ্যাক ড্যালি সম্প্রতি দ্য কনভারসেশনে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে ফিজি মারমেইডের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উনিশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত প্রদর্শক পি. টি. বার্নাম এই অদ্ভুত নমুনাকে জনপ্রিয় করে তোলেন। ১৮৪২ সালে নিউইয়র্কের আমেরিকান মিউজিয়ামে এটিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রদর্শনী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। প্রচার করা হতো, প্রাণীটি দূরবর্তী ফিজি দ্বীপপুঞ্জের সমুদ্র থেকে পাওয়া গেছে। সেই সময় অজানা প্রাণী ও বিবর্তন নিয়ে মানুষের ব্যাপক কৌতূহল থাকায় প্রদর্শনীটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ফিজি মারমেইডের ধারণার শিকড় জাপান ও পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের কয়েক শ বছরের পুরোনো শিল্পধারার সঙ্গে যুক্ত। জাপানি লোককাহিনিতে ‘নিংইয়ো’ নামে পরিচিত অর্ধেক মানুষ ও অর্ধেক মাছের মতো অতিপ্রাকৃত প্রাণীর উল্লেখ রয়েছে। এগুলোকে পশ্চিমা রূপকথার সুন্দর জলপরীর মতো কল্পনা করা হতো না। বরং দেখতে অস্বাভাবিক ও ভয় ধরানো প্রাণী হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। প্রদর্শনীর জন্য তৈরি এসব নমুনার ওপরের অংশে কখনো বানরের দেহাবশেষ, আবার কখনো কাগজের মণ্ড দিয়ে তৈরি অংশ ব্যবহার করা হতো। নিচের অংশে যুক্ত করা হতো মাছের লেজ। পি. টি. বার্নামের প্রদর্শিত নমুনাটি দেখতে প্রায় তিন ফুট লম্বা ছিল বলে তাঁর আত্মজীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। বার্নাম সেটিকে কালচে, শুকনো ও কুৎসিত দেখতে একটি প্রাণী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এর মুখ খোলা, লেজ বাঁকানো এবং হাত দুটি ওপরে তোলা ছিল। দর্শকদের কাছে এটিকে বাস্তব জলজ প্রাণী হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সংবাদপত্রে চিঠি পাঠানো এবং প্রচারপত্র বিলি করার মতো কৌশলও ব্যবহার করা হয়েছিল। কথিত এক চিকিৎসক ও প্রকৃতিবিদের মাধ্যমে প্রাণীটির সত্যতা নিয়ে আলোচনা ছড়ানো হয়েছিল, যদিও ওই ব্যক্তিও প্রদর্শনীর প্রচারণার অংশ ছিলেন বলে ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ড্যালির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বার্নামের প্রদর্শিত ফিজি মারমেইডটি বানরের দেহের ওপর মাছের অংশ জুড়ে তৈরি করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে কলোরাডোর ডেনভার মিউজিয়াম অব নেচার অ্যান্ড সায়েন্সে প্রদর্শিত নমুনাটি বার্নামের মূল প্রদর্শিত বস্তু নয়। জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি প্রতিরূপ এবং এর ওপরের অংশ কাগজের মণ্ড দিয়ে তৈরি। নমুনাটি পিবডি মিউজিয়াম অব আর্কিওলজি অ্যান্ড এথনোলজির সংগ্রহের অংশ। বার্নামের আসল প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত বস্তুটি পরে আগুনে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। ফলে বর্তমানে প্রদর্শিত প্রতিরূপকে মূল নমুনা হিসেবে পরিচয় করানো সঠিক নয়। ফিজি মারমেইড নিয়ে সেই সময়ের মানুষের আগ্রহের পেছনে শুধু কৌতূহল নয়, বিজ্ঞান ও লোককাহিনির মধ্যকার বিতর্কও কাজ করেছিল। বিবর্তন সম্পর্কে নতুন ধারণা ছড়িয়ে পড়ার সময় মানুষ জানতে চাইছিল, বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে কোনো অজানা সংযোগসূত্র থাকতে পারে কি না। সেই আগ্রহকে কাজে লাগিয়েছিলেন প্রদর্শকেরা। অদ্ভুত দেখতে নমুনাটিকে রহস্যময় প্রাণী হিসেবে প্রচার করে বিপুল দর্শক টানতে সক্ষম হয়েছিলেন বার্নাম। ড্যালির মতে, এটি ছিল এমন এক প্রদর্শনী প্রতারণা, যা লোকবিশ্বাস, বিজ্ঞান এবং বাণিজ্যিক বিনোদনকে একসঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিল। ফিজি মারমেইডের মতো নমুনা নিয়ে পরবর্তী সময়েও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা হয়েছে। অন্য একটি নমুনার স্ক্যান বিশ্লেষণে মাছ, বানর ও সরীসৃপজাতীয় প্রাণীর দেহাবশেষের উপস্থিতির কথা উঠে এসেছিল। যুক্তরাজ্যের হর্নিম্যান মিউজিয়ামের ঐতিহাসিক তথ্যেও এ ধরনের কৃত্রিম নমুনা তৈরির পদ্ধতি এবং মাছের লেজের সঙ্গে বানরজাতীয় প্রাণীর দেহাংশ জুড়ে দেওয়ার বিবরণ রয়েছে। এসব তথ্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, ফিজি মারমেইড কোনো বাস্তব জলজ প্রজাতি বা বিবর্তনের হারিয়ে যাওয়া সংযোগসূত্র নয়। এটি ছিল মানুষের তৈরি একটি অদ্ভুত প্রদর্শনবস্তু, যা একসময় বিপুল দর্শকের বিস্ময় ও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সংবাদসূত্র: দ্য কনভারসেশন, ডেনভার মিউজিয়াম অব নেচার অ্যান্ড সায়েন্স, হর্নিম্যান মিউজিয়াম।
দাম আরও বাড়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের যে ৯ শহরে বাড়ি কেনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কিনতে নগদ অর্থের ব্যবহার বাড়ছে, বড় ভরসা পারিবারিক সম্পদ