সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

চাকরি হারালে এইচ-১বি কর্মীদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের পথে, ঝুঁকিতে বাংলাদেশি ও ভারতীয়রা

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৩:৮
এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবী
এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবী

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। চাকরি হারানোর পর নতুন চাকরি খোঁজা বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি ও ভারতীয়সহ হাজারো এইচ-১বি কর্মীর জন্য চাকরি হারানোর পর দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। 

 

বর্তমান নিয়মে এইচ-১বি কর্মীর চাকরি নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হলে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যেতে পারে। এই সময়ে কর্মী নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজতে পারেন, নতুন এইচ-১বি পিটিশন দাখিলের সুযোগ নিতে পারেন অথবা যোগ্যতা অনুযায়ী অন্য ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে পরিবর্তনের জন্য অ্যাপ্লিকেশন করতে পারেন। তবে ৬০ দিন সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়। কর্মীর আই-৯৪-এর অনুমোদিত মেয়াদ আগে শেষ হলে সেই সময়সীমাই প্রযোজ্য হবে। 

 

ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রেস পিরিয়ড সর্বোচ্চ ৬০ দিন বা কর্মীর অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে আসে, ততদিন পর্যন্ত হতে পারে। যোগ্য এইচ-১বি কর্মীর নতুন নিয়োগকর্তা নির্ধারিত সময়ে নতুন এইচ-১বি পিটিশন দাখিল করলে কর্মী পিটিশন গ্রহণের পরই নতুন চাকরিতে কাজ শুরু করার সুযোগও পেতে পারেন। 

 

প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি বাস্তবায়িত হলে চাকরি শেষ হওয়ার পর এই ৬০ দিনের স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা আর থাকবে না। তখন চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীর এইচ-১বি স্ট্যাটাস নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে নতুন নিয়োগকর্তায় যাওয়ার বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইউএসসিআইএস স্ট্যাটাসের ঘাটতি ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। 

 

ডিএইচএসের এই উদ্যোগ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রক তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি কর্মসূচি সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবিত নিয়ম বর্তমানে প্রস্তাব তৈরির পর্যায়ে রয়েছে এবং আগস্ট ২০২৬-এ প্রস্তাবিত নিয়ম প্রকাশের সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

 

অর্থাৎ বর্তমানে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়নি। কোনো এইচ-১বি কর্মী আজ চাকরি হারালে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তিনি যোগ্য হলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা নিতে পারেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে বর্তমান ব্যবস্থাই বহাল থাকবে। 

 

এই প্রস্তাব ভারতীয় কর্মীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মীদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা বড় হওয়ায় চাকরি হারানোর পর গ্রেস পিরিয়ড কমে গেলে বা বাতিল হলে তাদের ওপর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে। একই নিয়ম বাংলাদেশি এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

 

তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয়। ডিএইচএস প্রস্তাবিত নিয়ম প্রকাশ করার পর সাধারণত জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া থাকে। এরপর চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ এবং কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হবে। ফলে এই মুহূর্তে এইচ-১বি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়েছে এমন নয়, বরং সেটি বাতিলের একটি প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বিবাহবার্ষিকীতে ক্রুজ থেকে ৩ সন্তানের বাবার ঝাঁপ, সামনে এলো নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য
বিবাহবার্ষিকীতে ক্রুজ থেকে ৩ সন্তানের বাবার ঝাঁপ, সামনে এলো নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য

ক্যালিফোর্নিয়ার রেডল্যান্ডসের ৫৬ বছর বয়সী থমাস গিগলার একটি ক্রুজে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। স্ত্রী মিশেল ও পরিবারের সঙ্গে বিবাহবার্ষিকী উদ্‌যাপনের সফরে থাকা গিগলার গত শনিবার কার্নিভাল প্যানোরামা থেকে সাগরে পড়ে নিখোঁজ হন বলে কার্নিভাল ক্রুজ লাইন জানিয়েছে। মেক্সিকোর পুয়ের্তো ভালার্তা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচের দিকে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর কোস্ট গার্ড, মেক্সিকান নৌবাহিনী এবং আশপাশের বাণিজ্যিক নৌযানগুলোকে নিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও তার সন্ধান মেলেনি। তাকে মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গিগলার ও তার স্ত্রী মিশেল যে কেবিনে ছিলেন সেটি ছিল জাহাজের দ্বিতীয় ডেকে। পাশের একটি কেবিনে থাকা এক যাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গিগলারকে শেষ পর্যন্ত জাহাজের ১১তম ডেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঠিক কোন স্থান থেকে তিনি সাগরে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।   ঘটনার সময় জাহাজে থাকা যাত্রী লরি ফ্রিড-সিলভা জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যাত্রীদের কেবিনে ফিরে যেতে বলা হয়। প্রথমে ঘোষণায় শুধু জানানো হয়েছিল, ক্রু সদস্যদের যাত্রীদের সংখ্যা যাচাই করতে হবে। একই ঘোষণা কয়েকবার দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর দুই ব্যক্তি, যাদের তিনি জাহাজের কর্মকর্তা বলে মনে করেছিলেন, তার কেবিনে এসে সেখানে থাকা যাত্রীদের নাম জানতে চান।   প্রায় ৪৫ মিনিট পর জাহাজের লাউডস্পিকারে জানানো হয়, একজন যাত্রী নিখোঁজ। এর আনুমানিক ১৫ মিনিট পর যাত্রীদের জানানো হয়, একজন পুরুষ সাগরে পড়ে গেছেন এবং নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে ঘটনাটি নিশ্চিত হয়েছে। এরপর জাহাজটি ঘুরিয়ে আশপাশের পানিতে তল্লাশি চালানো হয়।   কার্নিভাল ক্রুজ লাইন জানিয়েছে, একজন যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর জাহাজের ক্রুরা তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়। তল্লাশিতে মেক্সিকান নৌবাহিনী এবং আশপাশের কয়েকটি বাণিজ্যিক নৌযানও যুক্ত হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে জাহাজটি আবার লং বিচের পথে যাত্রা শুরু করে।   গিগলার দীর্ঘ ২৪ বছর এসরি নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি স্ত্রী মিশেল ও তাদের তিন ছেলের সঙ্গে রেডল্যান্ডসে বসবাস করতেন। পরিবারের জন্য বিবাহবার্ষিকী উদ্‌যাপনের এই সফরটি পরে নিখোঁজের ঘটনায় পরিণত হয়।   এদিকে গিগলারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এক যাত্রীর করা কিছু দাবিও সামনে এসেছে। ওই যাত্রী দাবি করেছিলেন, নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে জাহাজের একটি বারে গিগলার দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তবে তার পরিবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। গিগলারের বোন ওয়েন্ডি ডাউডেন ডেইলি মেইলকে বলেছেন, গিগলার ও তার স্ত্রী ভালো সম্পর্কেই ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে পরিবার বা কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেয়নি।   ঘটনার পর জাহাজের কয়েকজন যাত্রী গিগলারের স্মরণে একটি ছোট স্মৃতিফলকও তৈরি করেন। সেখানে যাত্রীরা হাতে লেখা বার্তা, প্রার্থনা, খেলনা ও অন্যান্য স্মারক রেখে তার পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। এদিকে কর্তৃপক্ষের তল্লাশি ও তদন্তের বিস্তারিত ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১:৪৪
কমিউনিজমের মধ্যেও আমার শৈশব ছিল সুন্দর, বললেন মেলানিয়া ট্রাম্প

কমিউনিজমের মধ্যেও আমার শৈশব ছিল সুন্দর, বললেন মেলানিয়া ট্রাম্প

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নারী নেতাদের সভায় বক্তব্য রাখলেন ডা. জুবাইদা রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নারী নেতাদের সভায় বক্তব্য রাখলেন ডা. জুবাইদা রহমান

শি জিনপিংকে বিমানবন্দরে বিরল অভ্যর্থনা ট্রাম্পের, সামনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

শি জিনপিংকে বিমানবন্দরে বিরল অভ্যর্থনা ট্রাম্পের, সামনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

আমেরিকার শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় যেতে কত সম্পদ লাগবে
আমেরিকার শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় যেতে কত সম্পদ লাগবে? জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে মোট সম্পদের দিক থেকে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের মধ্যে থাকতে হলে বর্তমানে অন্তত ১৮ লাখ ডলারের নেট ওয়ার্থ প্রয়োজন। ভিসার নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাড়ি ও শেয়ারের মতো সম্পদের মূল্য বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের এই সীমাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে।    ভিসার হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ মার্কিন পরিবারকে এই স্তরের সম্পদশালী পরিবারের মধ্যে ধরা যায়। শুধু নেট ওয়ার্থ নয়, বার্ষিক পারিবারিক আয় ২ লাখ ১০ হাজার ডলার বা তার বেশি হলেও ভিসার সংজ্ঞায় একটি পরিবার শীর্ষ ১০ শতাংশের সম্পদশালী শ্রেণিতে পড়ে।    নেট ওয়ার্থ বলতে একজন ব্যক্তি বা পরিবারের মোট সম্পদ থেকে মোট ঋণ বাদ দেওয়ার পর যে পরিমাণ থাকে, সেটিকে বোঝানো হয়। এর মধ্যে বাড়ির মূল্য, গাড়ি, রিটায়ারমেন্ট অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগ ও নগদ অর্থের মতো সম্পদ থাকতে পারে। বিপরীতে মর্টগেজ, স্টুডেন্ট লোন, গাড়ির লোন ও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণের মধ্যে পড়ে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঞ্চলে শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের সীমা একই নয়। ভিসার বিশ্লেষণে পশ্চিমাঞ্চলে নেট ওয়ার্থের সীমা প্রায় ২০ লাখ ডলার, নর্থইস্টে ১৯ লাখ ডলার, সাউথে ১৮ লাখ ডলার এবং মিডওয়েস্টে ১৭ লাখ ডলার। জীবনযাত্রার খরচ ও সম্পদের মূল্যের পার্থক্য এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে।    সম্পদের এই ব্যবধান বোঝার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি। ইউবিএসের ২০২৬ গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি গড় সম্পদ ছিল প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ২৭৭ ডলার। একই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ লাখ ৪০ হাজারের বেশি নতুন ডলার মিলিয়নিয়ার যুক্ত হয়েছে।    ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সার্ভে অব কনজিউমার ফাইন্যান্সেসে ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের মধ্যম নেট ওয়ার্থ ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৯০০ ডলার। একই সময়ে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের মধ্যম নেট ওয়ার্থ ছিল প্রায় ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার ৬০০ ডলার।    এখানে আয় ও নেট ওয়ার্থের পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারও বার্ষিক আয় বেশি হলেও তার যদি বড় মর্টগেজ, স্টুডেন্ট লোন বা অন্য ঋণ থাকে, তাহলে নেট ওয়ার্থ তুলনামূলক কম হতে পারে। আবার তুলনামূলক মাঝারি আয় থাকলেও বাড়ির মূল্য, রিটায়ারমেন্ট সেভিংস ও বিনিয়োগের কারণে কারও নেট ওয়ার্থ অনেক বেশি হতে পারে।   ভিসার বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদশালী পরিবারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ধনী’ হওয়ার প্রচলিত ধারণাটিও বদলাচ্ছে। একসময় ১০ লাখ ডলারের নেট ওয়ার্থকে বড় আর্থিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হলেও সম্পদের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এখন সেটি দেশের শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট নয়।    তবে এসব হিসাব কোনো পরিবারের জীবনযাত্রার সামগ্রিক আর্থিক নিরাপত্তা বা স্বাচ্ছন্দ্য নির্ধারণ করে না। কোথায় বসবাস করছেন, বাড়ির দাম, মর্টগেজের পরিমাণ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচের ওপর একই পরিমাণ নেট ওয়ার্থের বাস্তব মূল্য অনেকটাই নির্ভর করে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ০:৫৮
আইসিই হেফাজতে কেটেছে ৫২ দিন, এখন অন্যদের জন্য লড়তে হতে চান ইমিগ্রেশন আইনজীবী

আইসিই হেফাজতে কেটেছে ৫২ দিন, এখন অন্যদের জন্য লড়তে হতে চান ইমিগ্রেশন আইনজীবী

টাইমের ২০২৬ ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ দৌড়ে এগিয়ে জোহরান মামদানি

টাইমের ২০২৬ ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ দৌড়ে এগিয়ে জোহরান মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের অভিযান। (ছবি: সংগৃহীত)

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে প্রাণ গেল ৮ জনের, মোট গুলিবিদ্ধ ২১

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কেনার আগে মর্টগেজের পাশাপাশি অন্যান্য খরচও হিসাব করা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
প্রথমবার বাড়ি কিনছেন? মর্টগেজের বাইরেও বাসার কিস্তিতে যেসব খরচ যোগ হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কিনতে গেলে শুধু বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট আর মর্টগেজের মূল কিস্তি হিসাব করলেই পুরো খরচ বোঝা যায় না। মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স এবং মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচ যুক্ত হতে পারে। এর বাইরে হোমওনার এসোসিয়েশন ফি, ইউটিলিটিজ, মেইনটেন্যান্স ও বাড়ি মেরামতের খরচও নতুন হোমওনারের বাজেটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   মার্কিন কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, একটি বাড়ির প্রকৃত মাসিক খরচ হিসাব করার সময় শুধু প্রিন্সিপাল ও ইন্টারেস্ট নয়, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সও বিবেচনা করা উচিত। অনেক মর্টগেজে এসব খরচ এসক্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মাসিক পেমেন্টের সঙ্গে সংগ্রহ করা হয়।   প্রথমবার বাড়ি কিনছেন এমন ক্রেতাদের জন্য তাই শুধু “আমার মর্টগেজ পেমেন্ট কত হবে?” প্রশ্নটি যথেষ্ট নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, “প্রতি মাসে বাড়ির জন্য আমাকে মোট কত টাকা দিতে হবে?”   প্রথম যে অতিরিক্ত খরচটি সামনে আসে, সেটি হলো প্রপার্টি ট্যাক্স। বাড়ির লোকেশন ও স্থানীয় ট্যাক্স রেটের ওপর এই খরচ নির্ভর করে। অনেক লেন্ডার মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্সের অর্থ এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা রাখে এবং নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ দিয়ে ট্যাক্স পরিশোধ করে। তবে সব লোনের কাঠামো একই নয়। কিছু ক্ষেত্রে হোমওনারকে সরাসরি স্থানীয় ট্যাক্স অথরিটিকে প্রপার্টি ট্যাক্স দিতে হতে পারে।   এর সঙ্গে যোগ হতে পারে হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স। বাড়ির লোকেশন, বাড়ির ধরন, কভারেজ এবং বিভিন্ন ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের খরচ পরিবর্তিত হয়। এটিও অনেক সময় এসক্রোর মাধ্যমে মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়।   কম ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বাড়ি কিনলে মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচও যুক্ত হতে পারে। সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, কনভেনশনাল লোনে সাধারণভাবে ২০ শতাংশের কম ডাউন পেমেন্টের ক্ষেত্রে প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স বা পিএমআই লাগতে পারে। এফএইচএ ও অন্যান্য কিছু লোন প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের আলাদা নিয়ম রয়েছে।   আরেকটি বিষয় হলো হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি। কোনো কনডো, টাউনহোম বা এইচওএ কমিউনিটিতে বাড়ি কিনলে এই ফি দিতে হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এইচওএ ফি সাধারণত মর্টগেজ পেমেন্টের মধ্যে থাকে না। এটি সাধারণত এইচওএকে আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হয়।   তাই কোনো বাড়ির লিস্টিংয়ে যদি মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট কম দেখানো হয়, সেটি দেখে পুরো মাসিক হাউজিং কস্ট ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এইচওএ ফি থাকলে সেটিও মাসিক বাজেটে যোগ করতে হবে।   মাসিক খরচের বাইরে বাড়ি কেনার সময়ও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ক্লোজিং কস্টস। সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, ডাউন পেমেন্টের বাইরে ক্লোজিং কস্টস সাধারণত বাড়ির বিক্রয় মূল্যের প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে হতে পারে। তবে প্রকৃত খরচ নির্ভর করে বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট, লেন্ডারের চার্জেস, লোন টাইপ, বাড়ির ধরন এবং লোকেশনের ওপর।   ক্লোজিং কস্টসের মধ্যে লেন্ডার চার্জেস, অ্যাপ্রেইজাল, টাইটেল-রিলেটেড ফি, কিছু গভর্নমেন্ট ফি, প্রিপেইড ইন্টারেস্ট, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের ইনিশিয়াল প্রিমিয়াম এবং এসক্রো অ্যাকাউন্টের ইনিশিয়াল ডিপোজিটের মতো খরচ থাকতে পারে। হোম ইন্সপেকশনের খরচও আলাদাভাবে যুক্ত হতে পারে।   এখানে আরেকটি বিষয় ফার্স্ট-টাইম হোমবায়ারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো লেন্ডার ক্লোজিং কস্টসের কিছু অংশ বহনের জন্য লেন্ডার ক্রেডিট দিলে সেটিকে সব সময় “ফ্রি মানি” হিসেবে দেখা ঠিক নয়। কিছু ক্ষেত্রে এর বিনিময়ে বেশি ইন্টারেস্ট রেট হতে পারে। ফলে শুরুতে আপফ্রন্ট কস্ট কম মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে।   বাড়ি কেনার পর শুরু হয় আরেক ধরনের খরচ। নতুন হোমওনারকে ইলেকট্রিসিটি, গ্যাস, ওয়াটার, স্যুয়ার, ট্র্যাশ এবং ইন্টারনেটের মতো বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল দিতে হয়। এগুলো সাধারণত মর্টগেজ পেমেন্টের অংশ নয়।   এর পাশাপাশি বাড়ির মেইনটেন্যান্স ও রিপেয়ারের খরচও মাথায় রাখতে হবে। রুফ, এইচভিএসি সিস্টেম, প্লাম্বিং, ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম, ওয়াটার হিটার কিংবা বিভিন্ন অ্যাপ্লায়েন্সে সমস্যা হলে হোমওনারকেই খরচ বহন করতে হয়। তাই বাড়ি কেনার বাজেট করার সময় মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার, মুভিং কস্টস, ফার্নিচার এবং হোম ইমপ্রুভমেন্টের জন্যও আলাদা অর্থ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।   কোনো বাড়ি ফ্লাড-রিস্ক এলাকায় হলে অ্যাডিশনাল ফ্লাড ইন্স্যুরেন্সের প্রয়োজন হতে পারে। আবার বাড়ির বয়স, এনার্জি এফিশিয়েন্সি এবং লোকেশনের মতো বিষয় ভবিষ্যতের ইউটিলিটি কস্ট এবং ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।   তাই প্রথমবার বাড়ি কেনার সময় একটি সহজ হিসাব হলো, প্রিন্সিপাল ও ইন্টারেস্টের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স এবং প্রযোজ্য মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স যোগ করে আগে টোটাল মান্থলি মর্টগেজ পেমেন্ট দেখতে হবে। এরপর এইচওএ ফি, ইউটিলিটিজ এবং ফিউচার মেইনটেন্যান্সের সম্ভাব্য খরচ আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।   মর্টগেজ নেওয়ার সময় লোন এস্টিমেট এবং ক্লোজিং ডিসক্লোজারও ভালোভাবে দেখা জরুরি। এসব ডকুমেন্টে মান্থলি পেমেন্ট, মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স এবং এসক্রোর মাধ্যমে পরিশোধ করা প্রপার্টি ট্যাক্স ও হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। ক্লোজিংয়ের আগে ক্লোজিং ডিসক্লোজার হাতে পাওয়ার পর সেটি আগের লোন এস্টিমেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত।   বিশেষ করে বায়ারদের খেয়াল রাখা উচিত, কোনো প্রপার্টি ট্যাক্স, ইন্স্যুরেন্স বা এইচওএ ফি এসক্রোর বাইরে আছে কি না। থাকলে সেই অর্থ মর্টগেজ কোম্পানিকে দেওয়া মান্থলি পেমেন্টের মধ্যে নাও থাকতে পারে এবং হোমওনারকে আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লেন্ডার আপনাকে যত টাকার মর্টগেজের জন্য কোয়ালিফাই করাচ্ছে, সেটি আপনার পরিবারের জন্য আরামদায়কভাবে বহনযোগ্য মান্থলি হাউজিং কস্টের সমান নয়। বাড়ি কেনার সামর্থ্য নির্ধারণের সময় পরিবারের ইনকাম, অন্যান্য ডেট, সেভিংস এবং দৈনন্দিন খরচও বিবেচনা করা জরুরি।   অর্থাৎ, প্রথমবার বাড়ি কিনতে গেলে শুধু “মর্টগেজ পেমেন্ট কত?” এই প্রশ্নের উত্তর জানলেই হবে না। বরং “মর্টগেজসহ প্রতি মাসে মোট হাউজিং কস্ট কত হবে এবং বাড়ি কেনার পর হঠাৎ কোনো বড় খরচ এলে সেটি সামলানোর মতো সেভিংস থাকবে কি না”—এই দুই প্রশ্নের উত্তর জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   বাড়ি কেনা জীবনের বড় আর্থিক সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তাই বাড়ির দাম ও মর্টগেজ পেমেন্টের পাশাপাশি প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স, মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স, এইচওএ ফি, ক্লোজিং কস্টস, ইউটিলিটিজ এবং মেইনটেন্যান্সের সম্ভাব্য খরচ আগে থেকে হিসাব করে এগোলে নতুন হোমওনারদের জন্য মাসিক বাজেট অনেক বেশি বাস্তবসম্মতভাবে তৈরি করা সম্ভব।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২২:২৫
জন্ম পর্যটন ঠেকাতে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছেন মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত

‘বার্থ ট্যুরিজম’ সহায়তাকারীদের ভিসা সীমিত করার ঘোষণা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

যারা যুক্তরাষ্ট্রকে পরিবর্তন করতে চান, তাদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিচারক জুডি। ছবি: সংগৃহীত

যারা আমেরিকাকে বদলাতে চান তাদের অন্য দেশে যাওয়ার পরামর্শ বিচারক জুডির

জর্জিয়ার আলফারেটা শহরে গড়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময় এক আরব কমিউনিটি। ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ার আলফারেটায় গড়ে উঠেছে অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ আরব কমিউনিটি

0 Comments