শিক্ষার্থী

নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়

চীনকে অনেকেই সম্ভাবনা ও স্বপ্নপূরণের দেশ হিসেবে দেখেন। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেশটি এখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। বাংলাদেশের শিক্ষার্থী মুমতাহিনা পারভীনের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে সেই বাস্তব চিত্র—যেখানে রয়েছে নিরাপদ, নিরিবিলি ও মনোযোগী পড়াশোনার পরিবেশ।   বর্তমানে তিনি চীনের শিয়ামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনোমেট্রিক্স বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন। তিনি জানান, অনার্স সম্পন্ন করার পর আবারও চীনে ফিরে আসার পেছনে মূল অনুপ্রেরণা ছিল এখানকার শিক্ষার পরিবেশ। পাশাপাশি পূর্ণ বৃত্তি পাওয়া তার জন্য বড় একটি সুযোগ হয়ে এসেছে।   চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের শিয়ামেন শহরটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আধুনিক নগরায়নের এক অনন্য উদাহরণ। দ্বীপঘেরা এই শহরের একদিকে বিস্তীর্ণ সমুদ্রসৈকত, অন্যদিকে সারিবদ্ধ পাহাড়মালা—যা পুরো পরিবেশকে করেছে মনোমুগ্ধকর। শহরের রাস্তাঘাট পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন এবং সবুজে ঘেরা। পথচারী, সাইকেল ও মোটরযানের জন্য আলাদা লেন থাকায় চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় থাকে। এমনকি জেব্রা ক্রসিংয়ে পথচারী দাঁড়ালেই যানবাহন থেমে যায়—যা নাগরিক সচেতনতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।   শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে মুমতাহিনা বলেন, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন মেধা গড়ার কেন্দ্র। লাইব্রেরিগুলোতে প্রবেশ করলে নীরবতা ও মনোযোগের এক ভিন্ন জগৎ অনুভব করা যায়। বসার জন্য আগাম নিবন্ধনের ব্যবস্থা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ এবং বিপুলসংখ্যক বই—সব মিলিয়ে পড়াশোনার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।   চীনের সংস্কৃতিতেও রয়েছে বৈচিত্র্য। বিভিন্ন উৎসবে পরিবারকেন্দ্রিক আয়োজন এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমাহার দেশটির সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। ডাম্পলিং ও নানা ধরনের নুডলস তার পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে। তুলনামূলক কম মসলা ব্যবহার এবং সেদ্ধ বা হালকা রান্নার কারণে খাবারগুলো স্বাস্থ্যকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   ভাষাগত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও বর্তমানে চীনে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। অনেক তরুণ-তরুণী ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে উঠছেন, পাশাপাশি চীনা ভাষা শেখার জন্যও রয়েছে বিভিন্ন সহায়তা। ফলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে।   প্রযুক্তির ব্যবহারে চীন যে অনেক এগিয়ে, সেটিও তার অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট। দৈনন্দিন জীবনে মোবাইলভিত্তিক লেনদেন এখন সাধারণ বিষয়। উইচ্যাট ও আলিপে শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিল পরিশোধ—সবকিছুই সহজে সম্পন্ন হয় মোবাইলের মাধ্যমে।   নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় প্রবেশে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে।   অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রেও চীন অনেক এগিয়ে। তাওবাও ও পিনদুওদুওর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা যায় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা পৌঁছে যায় গ্রাহকের কাছে।   পরিবহন ব্যবস্থাও অত্যন্ত উন্নত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশেই বাস, সাবওয়ে, বিআরটি ও সাইকেল স্টেশনের সুবিধা থাকায় চলাচল সহজ হয়েছে। এছাড়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই ট্যাক্সি ডাকা যায়, যা সময় বাঁচাতে সহায়ক।   মুমতাহিনা পারভীনের মতে, চীনের উন্নয়নের যাত্রা একসময় বাংলাদেশের মতোই ছিল। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশটি আজ অনেক দূর এগিয়েছে। তিনি মনে করেন, চীনের ইতিবাচক দিকগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশও উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় সরাসরি এফবিআই অফিসে গিয়ে গোয়েন্দাগিরি শিখল শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একদল হাই স্কুল শিক্ষার্থীর জন্য ক্লাসরুমের সাধারণ একটি দিন মুহূর্তেই রূপ নিল অপরাধ তদন্তের এক রোমাঞ্চকর বাস্তব অভিজ্ঞতায়। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর বার্ষিক 'টিন একাডেমি'র অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা এই অনন্য সুযোগ লাভ করে। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস আটলান্টার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্জিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এফবিআই-এর আটলান্টা ফিল্ড অফিস পরিদর্শন করে। সেখানে তারা গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, অপরাধের আলামত সংগ্রহসহ এফবিআই-এর বিভিন্ন পেশা ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করে। পরবর্তীতে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদেরকে কৃত্রিম অপরাধের দৃশ্যপট বা মক ইনভেস্টিগেশন সিনারিওতে যুক্ত করে বাস্তব তদন্তের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।   আরবিয়া মাউন্টেন হাই স্কুলের সদ্য স্নাতক পাস করা শিক্ষার্থী ড্যানিয়েল ভিল জানান, এই অভিজ্ঞতা তার সামনে এমন কিছু ক্যারিয়ারের সুযোগ উন্মোচন করেছে যা তিনি আগে কখনো ভাবেননি। তিনি বলেন, "আমি মিডিয়া ও ফিল্মিংয়ের প্রতি খুব আগ্রহী এবং আজ বুঝতে পারলাম যে এফবিআই-তেও এই লাইনে কাজ করার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।" ড্যানিয়েল আগামী শরতে জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ক্রিমিনাল জাস্টিস এবং ফিল্ম বিষয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু করতে যাচ্ছেন। একজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ হিসেবে এফবিআই-এর মতো জায়গায় এমন সুযোগ পেয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   টিফ কাউন্টি হাই স্কুলের আরেক মেধাবী শিক্ষার্থী গ্রেটা কোয়ার্সি জানান, ফরেনসিক ক্লাসের প্রতি আগ্রহই তাকে অপরাধের দৃশ্যপট তদন্তের (ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেশন) দিকে টেনে এনেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর এই যুগে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে দূরদর্শী গ্রেটা বলেন, "এআই-এর যেভাবে উত্থান হচ্ছে, তাতে আমি এমন একটি পেশা বেছে নিতে চেয়েছিলাম যেখানে আমাকে অন্য কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যাবে না। এআই কখনো মানুষকে মানসিক স্বস্তি বা নিরাপত্তা দিতে পারে না, যা একজন মানুষ পারে।"   এফবিআই-এর কমিউনিটি আউটরিচ স্পেশালিস্ট ক্রিশ্চিয়ান ফোরম্যান বলেন, অনেক শিক্ষার্থীই মনে করে এফবিআই মানেই শুধু স্পেশাল এজেন্টদের দল। কিন্তু এই একাডেমির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যুরোর মূল লক্ষ্যকে সচল রাখতে পর্দার আড়ালে যে আরও অসংখ্য পেশাদার মানুষ কাজ করে, সেই বিশাল কর্মক্ষেত্রের সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া।   এফবিআই প্রতি বছরই এই টিন একাডেমির আয়োজন করে থাকে। এর মাধ্যমে জর্জিয়ার হাই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের এফবিআই-এর ভেতরের কর্মপরিবেশ কাছ থেকে দেখার এবং দেশের সুরক্ষায় বিভিন্ন আকর্ষণীয় পেশা বেছে নেওয়ার পথ তৈরি হয়।

তাবাস্সুম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্টি-বুলিং এআই চ্যাটবট তৈরি করে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার জিতলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষার্থীরা

সাইবার বুলিং বা হয়রানি রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবট তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন একদল ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ভবন হোয়াইট হাউসে আয়োজিত প্রথম 'প্রেসিডেনশিয়াল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স চ্যালেঞ্জ'-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।    ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক সমস্যা সমাধানের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।   জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। এ সময় তিনি এই তরুণ প্রতিযোগীদের জাতির ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।    পাশাপাশি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তিনি তার বক্তব্যে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। মেধা ও প্রযুক্তির যুগলবন্দিতে এই শিক্ষার্থীদের তৈরি অ্যান্টি-বুলিং চ্যাটবটটি আগামী দিনে হয়রানি রোধে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ ডেইলি মেইল
শিক্ষার্থীদের ঋণের সুদ কমালে ভাতার টাকা কোথায় পাবো? প্রশ্ন ব্রিটিশ মন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যের এক শীর্ষ মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ঋণের সুদের হারের বিষয়ে একটি অভাবনীয় যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্নাতকদের ঋণের চাপ কমানোর বদলে সরকারের জনকল্যাণমূলক ভাতা (বেনেফিট) পরিশোধের জন্য সরকারি তহবিলের অর্থ বেশি প্রয়োজন। যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি চিফ সেক্রেটারি লুসি রিগবি সম্প্রতি তরুণদের 'প্ল্যান বি' লোনের ওপর নির্ধারিত ৬ শতাংশ সুদের হারের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, দুই-সন্তান নীতির ভাতা সীমা বাতিলের মতো খাতে অর্থায়নের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   সম্প্রতি স্কিলস মিনিস্টার ব্যারনেস স্মিথের সাথে এমপিদের সামনে উপস্থিত হয়ে ট্রেজারি চিফ সেক্রেটারি গত এপ্রিলে চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভসের আনা এই সুদের হারের সীমার পক্ষে অবস্থান নেন। আগের ব্যবস্থার তুলনায় বর্তমানে সুদের হার কিছুটা কম হলেও সমালোচকরা বলছেন, এটি এখনও অনেক বেশি এবং এর ফলে দরিদ্র পরিবারের চেয়ে আর্থিকভাবে সচ্ছল স্নাতকরাই বেশি লাভবান হবেন। এ বিষয়ে ট্রেজারি কমিটিকে লুসি রিগবি বলেন, "সামগ্রিকভাবে করদাতাদের প্রতি ন্যায্যতার বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে, কারণ দেশের বেশিরভাগ তরুণই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যায় না।" তিনি আরও বলেন, রাজনীতি হলো মূলত অগ্রাধিকার বেছে নেওয়ার বিষয়; আর বর্তমান চ্যান্সেলর দুই-সন্তান নীতির ভাতা সীমা তুলে নেওয়া, ফ্রি ব্রেকফাস্ট ক্লাবে অর্থায়ন এবং এসইএনডি (SEND) সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।   যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে কল্যাণ ভাতা এবং কর ব্যবস্থা নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক অস্থিরতা চলছে। লেবার পার্টির ব্যাকবেঞ্চারদের বড় ধরনের বিদ্রোহের পর চলতি বছরের শুরুতে দুই-সন্তান সীমার ভাতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন সেক্রেটারি প্যাট ম্যাকফ্যাডেন সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন যে, দলীয় এমপিরা আরও বেশি ভাতার ব্যবস্থা করতে নতুন কর আরোপের দাবি জানিয়ে তাকে রীতিমতো অতিষ্ঠ করে তুলছেন। এর পাশাপাশি, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়াতে কল্যাণ ভাতার বাজেট কমানোর যে দাবি উঠেছিল, নতুন করে বিদ্রোহের আশঙ্কায় সরকার তা-ও প্রত্যাখ্যান করেছে। এর প্রতিবাদে কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক প্রতিরক্ষা খাতে অর্থায়নের জন্য ভাতা সংকোচনের দাবি জানিয়েছেন এবং কর বাড়ানোর সরকারি ইঙ্গিতের তীব্র নিন্দা করেছেন।   প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নেওয়া ঋণগুলো 'প্ল্যান টু' (Plan 2) লোন হিসেবে পরিচিত। এই ঋণগুলোর ওপর খুচরা মূল্য সূচকের (আরপিআই) মুদ্রাস্ফীতির সাথে আয়ের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিতে হতো। নতুন সীমার আগে সর্বোচ্চ সুদের হার ছিল ৬.২ শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির জেরে সেপ্টেম্বরে এটি ৭.১ শতাংশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত সরকারের হস্তক্ষেপে তা ৬ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
গ্রীষ্মকালীন কর্মসূচিতে চাকরি পেল আটলান্টার হাজারো তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় গ্রীষ্মকালীন যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে হাজারো কিশোর-কিশোরী প্রথমবারের মতো চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। কর্মসূচিটি তরুণদের আয়ের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের পথও খুলে দিচ্ছে। দেশজুড়ে কিশোরদের জন্য গ্রীষ্মকালীন চাকরির সুযোগ কমে আসার আশঙ্কার মধ্যেই এই উদ্যোগ গুরুত্ব পাচ্ছে।   এই সপ্তাহে কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ ও ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম শুরু করেছে। এরপর তারা শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করবে। অংশগ্রহণকারীদের একজন ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কেডেন ম্যালোন, যিনি জীবনের প্রথম চাকরিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে এবং মায়ের পাশে দাঁড়াতেই তিনি কাজ করতে চান।   কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আটলান্টার সল্টবক্সে অবস্থিত স্লাশি বক্স এটিএল। প্রতিষ্ঠানটির মালিক স্যান্ডি মুর জানান, তরুণদের বাস্তব কর্মপরিবেশে কাজ শেখার সুযোগ করে দিতেই তিনি এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। এখানে শিক্ষার্থীরা গ্রাহকসেবা, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা এবং বিক্রয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।   আটলান্টা সিটির ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার তরুণ চাকরির সুযোগ পেয়েছিল। নিবন্ধন ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও ১ হাজার ৬০০-এর বেশি যোগ্য আবেদনকারীর জন্য চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   স্লাশি বক্স এটিএলে কর্মরত শিক্ষার্থীরা চার সপ্তাহের কর্মসূচিতে সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করে ঘণ্টাপ্রতি ১৫ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবে। স্যান্ডি মুর জানান, কর্মদক্ষতা ভালো হলে ভবিষ্যতে তাদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।   কেডেন ম্যালোনের মতো অনেক তরুণের কাছে এই কর্মসূচি শুধু আয়ের সুযোগ নয়, বরং কর্মজীবনে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাদের আশা, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের কর্মজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

তাবাস্সুম জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
বনগ্রাম বেনিয়াজী দাখিল মাদ্রাসা, চাটমোহর, পাবনা।
প্রবেশপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগ

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বনগ্রাম বেনিয়াজী দাখিল মাদ্রাসায় প্রবেশপত্র দেওয়ার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এ নিয়ে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।   সোমবার (২০ এপ্রিল) মাদ্রাসায় গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। এ সময় ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী লিখন, নাঈম, সিয়াম, সানজিদা জানায়, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রবেশপত্র পেতে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এর আগে নির্বাচনী পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হলে প্রতি বিষয়ে ৩০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।   এদিকে ফয়জাল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, গোলাম নবী নামে কয়েকজন অভিভাবক জানান, এর আগে দাখিল পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় বোর্ড নির্ধারিত ফি ১ হাজার ৯৫০ টাকা হলেও ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এখন যদি আবার ফরম ফিলাপের জন্য নেয়, তাহলে আগে নির্ধারিত ফির বাইরে এত টাকা কেন নেয়া হলো। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।   অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আফতাব উদ্দিন বলেন, ফরম ফিলাপের সময় শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র ফি পরে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। সে অনুযায়ী নির্ধারিত ফি নিয়েই ফরম ফিলাপ সম্পন্ন করা হয়েছে। মাদ্রাসা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ বিভাগের জন্য ৪০০ এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ৪৫০ টাকা কেন্দ্র ফি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।   তবে বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে পরিস্কার করে কিছু বলেননি তিনি। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।   চাটমোহর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম বলেন, ফরম ফিলাপের সময় কেন্দ্র ফি সহ টাকা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। বোর্ডের অংশ বোর্ডে জমা দিয়ে বাকি টাকা প্রতিষ্ঠান তহবিলে রাখা হয় এবং পরে কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়। তবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।   তিনি আরও বলেন, যদি রশিদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা ফেরত দিতে হবে এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।   এ ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ফটো।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের বিষয়ে সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসার নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত ভঙ্গ করলে শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। দূতাবাস জানায়, পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া কিংবা নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। পোস্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘আপনি যদি পড়াশোনা ছেড়ে দেন, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন, অথবা আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে আপনার স্টাডি প্রোগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ান, তবে আপনার শিক্ষার্থী ভিসাটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।’ ভিসা বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্যতা নিয়েও সাবধান করেছে দূতাবাস। বলা হয়েছে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও চিরতরে হারাতে পারেন শিক্ষার্থীরা। সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে এবং ছাত্র হিসেবে নিজের বৈধ অবস্থান (স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস) বজায় রাখতে সব সময় ভিসার শর্তাবলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ ও দিকনির্দেশনা সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা 'আইসিইএফ মনিটর'-এর সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।  অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান 'ফ্র্যাগমেন'-এর সহযোগিতায় প্রকাশিত এই নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থানের জন্য ভিসার জটিলতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদের প্রস্তাবিত পরিবর্তন। আগে বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত 'ডিউরেশন অফ স্ট্যাটাস' (D/S) সুবিধার আওতায় থাকতে পারতেন। তবে নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের (সাধারণত ৪ বছর) জন্য শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হতে পারে। কোর্সের মেয়াদ বেড়ে গেলে তাদের নতুন করে 'এক্সটেনশন অফ স্টে' (EOS) আবেদন করতে হবে, যার জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য এবং অতিরিক্ত ফি প্রদানের প্রয়োজন পড়বে। স্ক্রিনিং কোর্স শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়ার বা পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আগে ৬০ দিন সময় পাওয়া যেত, যা এখন কমিয়ে ৩০ দিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরগুলোতে (পোর্ট অফ এন্ট্রি) কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) কর্মকর্তাদের স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া আরও জোরালো করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের হাতে যথাযথ নথিপত্র এবং আই-২০ (I-20) ফরমের সকল তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথ (STEM) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় 'স্টেম ওপিটি' (STEM OPT) সুবিধাটি নিয়ে ২০২৬ সালে কড়াকড়ি বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বর্তমানে কর্মসংস্থানভিত্তিক ওপিটি এবং এইচ-১বি লটারি ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে। ফলে মাঝপথে পড়ালেখা বা প্রোগ্রাম পরিবর্তন করা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় প্রবেশাধিকার পাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সময় (যেমন এফ-১ থেকে ওপিটি বা এইচ-১বি) দেশের বাইরে ভ্রমণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো আবেদন পেন্ডিং থাকা অবস্থায় দেশ ত্যাগ করলে তা আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হলেও ২০২৬ সালের নতুন এই নীতিগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। যারা ২০২৬ সালের সেশনে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা (Financial Proof) এবং একাডেমিক লক্ষ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালায় অভ্যস্ত হতে অভিজ্ঞ শিক্ষা পরামর্শক বা আইডিপি (IDP) এর মতো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তথ্যসূত্র: আইসিইএফ মনিটর ও ফ্র্যাগমেন (Fragomen) রিপোর্ট।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
এক তরুণীর সাফল্য
হাসপাতালের ঝাড়ুদার থেকে সেই হাসপাতালেরই ডাক্তার, ভাইরাল হল এক তরুণীর সাফল্য

একটি অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্যি গল্প এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। যুক্তরাষ্ট্রের এক মেডিকেল শিক্ষার্থী, শে টেইলর-অ্যালেন, জীবনের এক পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করতে চলেছেন — যে হাসপাতালে তিনি জন্মেছিলেন এবং এক সময় ঝাড়ুদারের কাজ করেছিলেন, সেই একই হাসপাতালে এবার তিনি ডাক্তার হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন।   গত শুক্রবার তিনি জানতে পারেন যে তিনি তার প্রথম পছন্দের রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম, ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনে সুযোগ পেয়েছেন। খবরটি জানার পর নিজের আনন্দের মুহূর্তের একটি ভিডিও তিনি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন, যা খুব দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং কয়েক মিলিয়নের বেশি মানুষ ভিডিওটি দেখেছে।   ৩২ বছর বয়সী টেইলর-অ্যালেন জানান, তিনি শুধু ইয়েল নিউ হ্যাভেন হাসপাতালে জন্মই নেননি, ১৮ বছর বয়সে তিনি সেখানে ঝাড়ুদার হিসেবেও কাজ করেছিলেন। তখন তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে একদিন একই হাসপাতালে তিনি ডাক্তার হিসেবে ফিরে আসবেন।   তিনি বলেন, খবরটি শোনার পর তিনি এতটাই আনন্দিত হয়ে পড়েছিলেন যে লাফাতে লাফাতে মনে হচ্ছিল মাটি ভেঙে যাবে। বর্তমানে তিনি হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিসিনের শিক্ষার্থী এবং মে মাসে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগে রেসিডেন্সি শুরু করবেন।   টেইলর-অ্যালেন জানান, ছোটবেলায় তিনি ডাক্তার হওয়ার কথা ভাবেননি। কলেজে পড়ার সময় তার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি মাকে সাহায্য করতে গিয়ে চিকিৎসকদের কাজ কাছ থেকে দেখেন, তখনই তার মনে হয় তিনি ডাক্তার হতে চান।   মায়ের অসুস্থতার সময় তিনি ইয়েল হাসপাতালেই ঝাড়ুদারের কাজ করতেন। সেই সময় তিনি হাসপাতালের এক কর্মকর্তার সঙ্গে নিজের পরিবারের সমস্যার কথা বলেন, এবং সেই কর্মকর্তা তাদের সাহায্য করেন। সেই ঘটনাই তাকে অনুপ্রাণিত করে অন্য মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখতে।   তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝিয়েছিল যে একজন মানুষ অন্যের জীবনে কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে, আর তখনই তিনি ঠিক করেন যে তিনি একদিন ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।   ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের চেয়ার ডা. লিসা লেফার্ট এক বিবৃতিতে জানান, তারা ডা. শে টেইলর-অ্যালেনকে তাদের দলে পেয়ে খুবই আনন্দিত এবং তিনি ভবিষ্যতে রোগীদের সেবা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।   এই সাফল্যের গল্প অন্য তরুণীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। টেইলর-অ্যালেন বলেছেন, কেউ যদি স্বপ্ন দেখে, তাহলে তাকে থামানো উচিত নয়। তিনি বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাদের খুব প্রয়োজন, এবং তারা চাইলে অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় বড় সুখবর: শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পথে ব্যাংক গ্যারান্টি বা সলভেন্সি সার্টিফিকেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা দূর হতে চলেছে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।  আজ মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, বিশেষ করে যারা জাপান, কোরিয়া, চীন বা জার্মানির মতো দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান, তাদের ব্যাংক গ্যারান্টির সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী এই ঋণের ব্যবস্থা করতে বলেছেন। এই ঋণ কার্যক্রমটি পরিচালিত হবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে। প্রতিমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ের মূল পয়েন্টগুলো: শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ: বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি সহায়তায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজারে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন কাজে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ভাষার দক্ষতা: প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে তারা বিদেশের মাটিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে ভালো বেতনে কাজ করতে পারেন। ভিসা জটিলতা নিরসন: ইউরোপের দেশগুলোর কনস্যুলার সেবা বা ভিসা অফিস যেন বাংলাদেশেই নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন বাজার অনুসন্ধান: মালয়েশিয়াসহ বন্ধ থাকা শ্রমবাজারগুলো দ্রুত চালুর পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও ইউরোপের দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

হত্যাকারী চিকিৎসকের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

দুই ছেলেকে হত্যার পর নিজ চেম্বারে অগ্নিসংযোগ, শেষে গাড়িতে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা চিকিৎসকের

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০