এইচ-১বি ভিসা লটারিতে সুযোগ পাননি? যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য রয়েছে আরও ৮টি বিকল্প পথ
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মীদের জন্য এইচ-১বি (H-1B) ভিসা সবসময়ই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তবে ২০২৭ অর্থ বছরের জন্য এইচ-১বি ভিসার লটারি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। যারা এই লটারিতে মনোনীত হতে পারেননি বা সুযোগ হারিয়েছেন, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার এবং থাকার জন্য আরও অন্তত আটটি বিকল্প ভিসার পথ খোলা রয়েছে।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই বিকল্প সুযোগগুলোর কথা তুলে ধরা হয়েছে:
১. ও-১ (O-1) ভিসা: অসাধারণ মেধার স্বীকৃতি
যাদের বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা বা খেলাধুলায় অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে, তারা ও-১ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসার জন্য কোনো বার্ষিক সীমা বা লটারি পদ্ধতি নেই।
২. এল-১ (L-1) ভিসা: আন্তঃপ্রতিষ্ঠান বদলি
যদি কেউ কোনো বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত থাকেন যার শাখা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে, তবে তিনি এল-১ ভিসার মাধ্যমে বদলি হয়ে সে দেশে যেতে পারেন। এটি মূলত ম্যানেজার বা বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীদের জন্য।
৩. ই-২ (E-2) ইনভেস্টর ভিসা: যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি রয়েছে এমন দেশের নাগরিকরা (যেমন বাংলাদেশ) নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে এই ভিসা পেতে পারেন। যদিও বাংলাদেশিদের জন্য এই প্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে এটি একটি কার্যকর পথ।
৪. টিএন (TN) ভিসা: উত্তর আমেরিকার নাগরিকদের জন্য এটি মূলত কানাডা ও মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত। নির্দিষ্ট পেশাজীবীরা নাফটা (NAFTA) চুক্তির আওতায় এই সুবিধা পান।
৫. এইচ-১বি১ (H-1B1) ভিসা: এটি এইচ-১বি ভিসার একটি বিশেষ সংস্করণ যা কেবল চিলি এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত।
৬. ই-৩ (E-3) ভিসা: এই বিশেষ ক্যাটাগরির ভিসাটি শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষায়িত পেশায় কাজ করতে চান।
৭. ইবি-১ (EB-1) গ্রিন কার্ড : যাদের অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে বা যারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো পুরস্কার পেয়েছেন, তারা সরাসরি গ্রিন কার্ডের জন্য ইবি-১ ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারেন।
৮. ক্যাপিট-এক্সেম্পট (Cap-Exempt) এইচ-১বি : উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অলাভজনক গবেষণা সংস্থা বা সরকারি গবেষণা সংস্থায় কাজের ক্ষেত্রে লটারির প্রয়োজন হয় না। একে 'ক্যাপ-এক্সেম্পট' বলা হয়, যা সারা বছরই আবেদন করা সম্ভব।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচ-১বি লটারিতে নাম না আসা মানেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা এবং নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে উপরের যে কোনো একটি পথ বেছে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। তবে প্রতিটি ভিসার নিজস্ব শর্ত ও আবেদন প্রক্রিয়া রয়েছে, যা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই করা প্রয়োজন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউ জার্সির বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক খবর এসেছে। রাজ্যের ANCHOR সম্পত্তি কর সহায়তা কর্মসূচির টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। আজ ৮ অক্টোবর কিছু যোগ্য বাসিন্দা তাদের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা পড়ার কথা জানিয়েছেন। রাজ্যের কর বিভাগও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ANCHOR অর্থপ্রদান অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে পাঠানো হচ্ছে। ANCHOR কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো নিউ জার্সিতে নিজের প্রধান বাড়িতে বসবাসকারী যোগ্য বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের সম্পত্তি করের চাপ কিছুটা কমানো। এবারের সুবিধা নির্ধারণ করা হচ্ছে ২০২৫ সালের বসবাসের তথ্য, আয় ও বয়সের ভিত্তিতে। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, এক মিলিয়নের বেশি নিউ জার্সিবাসীর আবেদন অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। যেসব যোগ্য বাসিন্দা আগে ANCHOR সুবিধা পেয়েছেন এবং রাজ্যের পাঠানো নিশ্চিতকরণ চিঠিতে তথ্য সঠিক ছিল, তাদের অনেকের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। তবে সবার নিয়ম এক নয়। ৬৫ বছরের কম বয়সী অনেক বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা হয়েছে। অন্যদিকে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বাড়ির মালিক এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিবন্ধী সুবিধা নেওয়া নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের আলাদা করে PAS-1 আবেদন জমা দিতে হয়। যোগ্য বাড়ির মালিকদের জন্য আয়ের সীমাও রয়েছে। ২০২৫ সালের মোট আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা তার কম হলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি কিন্তু ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয়ের যোগ্য বাড়ির মালিকদের জন্য সুবিধা কম হতে পারে। যোগ্য ভাড়াটিয়াদের জন্যও ANCHOR সহায়তা রয়েছে। ২০২৫ সালের আয়, নিউ জার্সিতে বসবাস এবং প্রধান বাসস্থানের শর্ত পূরণ করলে নির্দিষ্ট পরিমাণ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য ভাড়াটিয়ারা অতিরিক্ত সুবিধাও পেতে পারেন। যারা ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন, তাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থপ্রদানের অবস্থা পরীক্ষা করা। নিউ জার্সির কর বিভাগের সরকারি অবস্থান যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করে আবেদন ও অর্থপ্রদানের তথ্য দেখা যায়। যাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য আগেরবারের পর পরিবর্তন হয়েছে, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তথ্য পরিবর্তন না করলে আগের তথ্য ব্যবহার করে অর্থ পাঠানো হতে পারে। এখনও যারা মনে করছেন তারা যোগ্য কিন্তু ANCHOR সুবিধার চিঠি পাননি, তাদের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের ANCHOR আবেদনের শেষ সময় ২ নভেম্বর ২০২৬। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করাই ভালো। রাজ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, আবেদন প্রক্রিয়াকরণে অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন হলে অর্থ পেতে আরও সময় লাগতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন জমা দেওয়ার পর অর্থ পেতে প্রায় ৯০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।নিউ জার্সিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারের জন্যও এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা বাড়ির মালিক অথবা ভাড়াটিয়া হিসেবে নিউ জার্সিতে থাকেন, তাদের ANCHOR সুবিধার যোগ্যতা এবং আবেদন পরিস্থিতি যাচাই করা উচিত। যারা ইতোমধ্যে অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও পাননি, তারা সরাসরি সরকারি আবেদন-অবস্থা যাচাই ব্যবস্থায় তথ্য দেখতে পারেন। প্রয়োজনে নিউ জার্সি কর বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী সহায়তার নম্বর ১-৮৮৮-২৩৮-১২৩৩। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ANCHOR সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। শুধু নিউ জার্সিতে বসবাস করলেই সবাই এই অর্থ পাবেন না। বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়া হিসেবে প্রধান বাসস্থানের শর্ত, আয় এবং অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৬৬০ কর্মী ছাঁটাই করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাবস্পট, চাপে চাকরির বাজার
নিউ জার্সিতে ট্রেন বাতিল বেড়েছে, ভোগান্তিতে কর্মজীবী যাত্রীদের বাড়ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বাড়ায় গ্যাসের খরচ বাড়ার আশঙ্কা, চাপে নিউইয়র্কবাসী
নিউইয়র্কে সন্তান সামলানোর পাশাপাশি ঘরে বসে আয় করতে চান অনেক বাংলাদেশি মা। তাঁদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি মাধ্যম হতে পারে অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন। নিজের পণ্য বিক্রি থেকে শুরু করে অন্যের পণ্য প্রচারের মাধ্যমে কমিশন আয়, ঘরে বসেই এসব ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে মাত্র ৩০ দিনে ৫ হাজার ডলার আয়ের নানা গল্প। কিন্তু বাস্তবে অ্যামাজনে ব্যবসা শুরু করা কতটা সহজ, কত টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং নতুন উদ্যোক্তাদের আয়ের সম্ভাবনাই বা কতটুকু? অ্যামাজনের মাধ্যমে ব্যবসার অন্যতম পরিচিত পদ্ধতি হলো ফুলফিলমেন্ট বাই অ্যামাজন বা এফবিএ। এই ব্যবস্থায় উদ্যোক্তা নিজে পণ্য সংগ্রহ করে অ্যামাজনের ওয়্যারহাউসে পাঠান। ক্রেতারা অর্ডার করলে পণ্য সংরক্ষণ, প্যাকিং, ডেলিভারি এবং সংশ্লিষ্ট অনেক গ্রাহকসেবার দায়িত্ব সামলায় অ্যামাজন। ফলে যাঁরা চাকরি বা সংসারের ব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন পণ্য প্যাকিং ও শিপিং করতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি সুবিধাজনক হতে পারে। তবে ওয়্যারহাউসে পণ্য পাঠিয়ে দিলেই ব্যবসা সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পণ্য নির্বাচন, দাম নির্ধারণ, প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞাপন এবং গ্রাহকের চাহিদার ওপর নির্ভর করে বিক্রি। অন্য একটি পদ্ধতি হলো ফুলফিলমেন্ট বাই মার্চেন্ট বা এফবিএম। এখানে উদ্যোক্তা নিজেই পণ্য সংরক্ষণ, প্যাকিং ও ডেলিভারির ব্যবস্থা করেন। ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে এই পদ্ধতি বিবেচনা করা যায়। তবে অর্ডার বাড়লে প্যাকিং, শিপিং ও রিটার্ন সামলানোর চাপও বাড়তে পারে। নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে রিটেইল আরবিট্রাজ এবং অনলাইন আরবিট্রাজও পরিচিত। এসব পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম দামে বৈধভাবে সংগ্রহ করা পণ্য অ্যামাজনে পুনরায় বিক্রির চেষ্টা করা হয়। তবে সব ব্র্যান্ড বা পণ্য অবাধে বিক্রির অনুমতি নেই। কিছু পণ্যের জন্য অ্যামাজনের অনুমোদন, গ্রহণযোগ্য সাপ্লায়ারের ইনভয়েস এবং নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে চলতে হয়। তৃতীয় আরেকটি সুযোগ হলো অ্যামাজন ইনফ্লুয়েন্সার প্রোগ্রাম। এটি সরাসরি পণ্য কেনাবেচার ব্যবসা থেকে আলাদা। এখানে যোগ্য কনটেন্ট ক্রিয়েটররা পণ্য সম্পর্কে ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট তৈরি করে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কমিশন আয় করতে পারেন। তবে প্রোগ্রামে অনুমোদন পাওয়া, কনটেন্টের গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রেতাদের কেনাকাটার ওপর আয় নির্ভর করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু উদ্যোক্তার বছরে এক লাখ ডলার বা তার বেশি আয়ের গল্প প্রচার করা হয়। আবার সন্তানকে ঘুম পাড়িয়ে অবসর সময়ে কাজ করে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা গড়ে তোলার দাবিও বিভিন্ন উদ্যোক্তা বিষয়ক কনটেন্টে দেখা যায়। কিন্তু এসব ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্পকে নতুন উদ্যোক্তাদের সাধারণ আয়ের চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি মায়েরা অ্যামাজনে ব্যবসা করে নিয়মিত কত আয় করছেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কমিউনিটিভিত্তিক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের মধ্যে কতজন ইতিমধ্যে এই ব্যবসায় সফল হয়েছেন বা মাসে কত আয় করছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অনলাইন ব্যবসা নিয়ে গবেষণা ও তথ্য প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান জাঙ্গল স্কাউটের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে অ্যামাজন বিক্রেতাদের আয় ও বিনিয়োগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। প্রতিষ্ঠানটির জরিপে অংশ নেওয়া বিক্রেতাদের ২৫ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তাঁরা এক হাজার ডলারের কম অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। আর ৬৪ শতাংশ বিক্রেতার প্রাথমিক বিনিয়োগ ছিল পাঁচ হাজার ডলারের কম। অর্থাৎ অ্যামাজনে ব্যবসা শুরু করতে প্রত্যেকের তিন হাজার থেকে দশ হাজার ডলার বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক নয়। তবে নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য তৈরি, বড় পরিসরে ইনভেন্টরি কেনা এবং বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। একই জরিপে ৫৮ শতাংশ বিক্রেতা জানিয়েছেন, ব্যবসা শুরুর প্রথম বছরের মধ্যে তাঁরা লাভের মুখ দেখেছেন। অন্যদিকে ১৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের ব্যবসা তখনো লাভজনক হয়নি। জরিপের এই ফলাফল নতুন উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ আয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। জাঙ্গল স্কাউটের ২০২৫ সালের গবেষণাতেও অ্যামাজন ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির জরিপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ব্যবসার প্রতিনিধিরা পণ্য সংগ্রহ, শিপিং এবং বিজ্ঞাপনের খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফলে শুধু বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো নয়, ব্যবসার প্রকৃত লাভ হিসাব করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে ৩০ দিনে পাঁচ হাজার ডলার আয়ের প্রচারণা কতটা বাস্তবসম্মত? বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, অ্যামাজনে এত পরিমাণ বিক্রি করা সম্ভব হলেও নতুন একজন বিক্রেতার প্রথম মাসেই এই অঙ্কের লাভ হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। এখানে বিক্রি ও লাভের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি। উদাহরণ হিসেবে, কোনো উদ্যোক্তা এক মাসে পাঁচ হাজার ডলারের পণ্য বিক্রি করলে সেই পুরো অর্থ তাঁর আয় বা লাভ নয়। পণ্য কেনার দাম, অ্যামাজনের ফি, শিপিং, বিজ্ঞাপন, রিটার্ন এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে, সেটিই ব্যবসার প্রকৃত লাভ। অ্যামাজনের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রেতাদের জন্য দুটি প্রধান সেলিং প্ল্যান রয়েছে। ইন্ডিভিজুয়াল প্ল্যানে প্রতি পণ্য বিক্রিতে ৯৯ সেন্ট ফি দিতে হয়। অন্যদিকে প্রফেশনাল প্ল্যানে মাসিক চার্জ ৩৯ ডলার ৯৯ সেন্ট। এর বাইরে পণ্যের ক্যাটাগরি অনুযায়ী রেফারেল ফি এবং এফবিএ ব্যবহার করলে অতিরিক্ত খরচ প্রযোজ্য হতে পারে। কোন পণ্য বিক্রি করবেন, সেটিও ব্যবসা শুরুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। হিজাব, বেবি প্রোডাক্ট, কিচেন গ্যাজেট কিংবা ফোন অ্যাকসেসরিজের মতো পণ্য নিয়ে উদ্যোক্তারা বাজার যাচাই করতে পারেন। তবে এসব ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা, পণ্যের মান, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পর্কে আগে জানা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ব্যবহার্য পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মকানুন প্রযোজ্য হতে পারে। আবার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অ্যামাজনের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের শর্ত থাকতে পারে। তাই শুধু কম দামে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে বলেই বড় অর্ডার দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যবসা নিবন্ধন ও ট্যাক্স সংক্রান্ত নিয়ম। অ্যামাজনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সেলার অ্যাকাউন্ট খুলতে এলএলসি থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ব্যক্তিগত পরিচয়েও অ্যামাজনে সেলার হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। তবে এলএলসি ছাড়া অ্যামাজন অ্যাকাউন্ট খোলা এবং নিউইয়র্কে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, অনুমতি ও ট্যাক্স সংক্রান্ত দায়িত্ব আলাদা হতে পারে। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্সের নিয়ম অনুযায়ী, বাসা থেকে করযোগ্য পণ্য বিক্রি করলেও সাধারণভাবে সেলস ট্যাক্সের জন্য নিবন্ধন প্রয়োজন হতে পারে। এমনকি শুধু অ্যামাজনের মতো মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে বিক্রি করলেও নিউইয়র্কভিত্তিক বিক্রেতাদের জন্য সার্টিফিকেট অব অথরিটি প্রয়োজন হতে পারে। অ্যামাজন নির্দিষ্ট বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে সেলস ট্যাক্স সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করলেও বিক্রেতার নিজস্ব নিবন্ধন ও ট্যাক্স রিটার্ন সংক্রান্ত দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। অ্যামাজন সেলার অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সাধারণত পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রযোজ্য ট্যাক্স তথ্য দিতে হয়। ব্যবসার কাঠামো অনুযায়ী ইআইএন প্রয়োজন হতে পারে, তবে প্রত্যেক ব্যক্তিগত বিক্রেতার জন্য আলাদা ইআইএন বাধ্যতামূলক নয়। যাঁরা নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি করতে চান, তাঁদের জন্য ট্রেডমার্ক এবং অ্যামাজন ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সাধারণভাবে পণ্য বিক্রির জন্য ট্রেডমার্ক বা ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রি বাধ্যতামূলক নয়। ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রিতে যোগ দেওয়ার জন্য অ্যামাজনের নির্ধারিত ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। ব্যবসা শুরু করার আগে পণ্যের বাজারদর, প্রতিযোগী বিক্রেতা, সম্ভাব্য লাভ এবং অ্যামাজনের বিভিন্ন ফি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন নতুন উদ্যোক্তারা। এ ক্ষেত্রে জাঙ্গল স্কাউটের মতো প্রোডাক্ট রিসার্চ টুল ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি অ্যামাজনের নিজস্ব রেভিনিউ ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির সম্ভাব্য খরচ ও আয়ের একটি হিসাবও করা সম্ভব। তবে এসব টুলের পূর্বাভাস নিশ্চিত বিক্রির নিশ্চয়তা দেয় না। নতুন পণ্যের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে ইনভেন্টরি অবিক্রীত থেকে যেতে পারে। আবার বিজ্ঞাপনের খরচ বেড়ে গেলে ভালো বিক্রির পরও লাভ কমে যেতে পারে। অনলাইন ব্যবসা নিয়ে ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ভিডিও এবং দ্রুত আয়ের প্রচারণা দেখা যায়। কোনো কোনো কনটেন্টে তিন মাসে দশ হাজার ডলার বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব ভিডিও ব্যবসার প্রাথমিক ধারণা দিতে পারলেও এগুলোকে নিশ্চিত আয়ের পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বেশি দামে কোর্স কেনা বা ঋণ নিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য সংগ্রহের আগে ব্যবসার প্রকৃত খরচ ও ঝুঁকি যাচাই করা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি মায়েদের জন্য ঘরে বসে অ্যামাজনভিত্তিক ব্যবসা একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প আয়ের পথ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা সংসার ও সন্তান সামলানোর পাশাপাশি নিজের সময় অনুযায়ী কাজ করতে চান, তাঁদের জন্য ছোট পরিসরে শুরু করে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যবসার জন্য পর্যাপ্ত সময়, প্রাথমিক বিনিয়োগ, বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং নিয়মিত হিসাব রাখার সক্ষমতা প্রয়োজন। সন্তান ঘুমিয়ে থাকার কয়েক ঘণ্টা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হলেও ব্যবসার দায়িত্ব কেবল ওই সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সব মিলিয়ে অ্যামাজনে ৩০ দিনে পাঁচ হাজার ডলার আয়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু এটিকে সাধারণ বা নিশ্চিত উপার্জন হিসেবে প্রচার করারও ভিত্তি নেই। বরং বাস্তবসম্মত বিনিয়োগ, সঠিক পণ্য নির্বাচন, অ্যামাজনের নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং আয়ব্যয়ের হিসাব রাখাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে যাঁরা এ ধরনের ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য অ্যামাজন সেলার সেন্ট্রালের নির্দেশনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একজন সিপিএ বা ব্যবসা বিষয়ক পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া কার্যকর হতে পারে। কারণ অনলাইন ব্যবসায় সফল হওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রথম মাস থেকেই নিয়মিত আয় বা মুনাফা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের মাস্টার্স ও পিএইচডিতে ফান্ডিং, বছরে ৩৩ হাজার ডলার
নিউ জার্সিতে বাড়িতে ঢুকে পড়ল যাত্রীবিহীন বাস, আহত চালক হাসপাতালে ভর্তি
গর্ভপাতের ১ মাস পর নারীকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ, ৮ বছর পর পেলেন ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ
নিউইয়র্কে বসবাসকারী কম আয়ের বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাসা ভাড়া নিয়ে বিরোধ, উচ্ছেদের নোটিশ, ইমিগ্রেশন সমস্যা, বেতন না পাওয়া, ফ্যামিলি কোর্ট কিংবা গার্হস্থ্য সহিংসতার মতো বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি অর্থায়নপ্রাপ্ত ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আইনি পরামর্শ এবং যোগ্য ব্যক্তিদের আদালতে প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করে। অনেক সেবা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে পাওয়া যায়। তবে সব ধরনের মামলায় প্রত্যেকের জন্য বিনামূল্যে আইনজীবী পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। নিউইয়র্ক সিটির অফিস অব সিভিল জাস্টিস, দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ এবং লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসি এসব সেবার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ফোন বা অনলাইনে যোগাযোগ করে নিজের আইনি সমস্যার ধরন জানাতে হয়। এরপর আয়ের পরিমাণ, বসবাসের এলাকা, মামলার ধরন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অনুযায়ী সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হয়। নিউইয়র্ক সিটির হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধীনে পরিচালিত অফিস অব সিভিল জাস্টিস বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সেবা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে হাউজিং কোর্ট, ইমিগ্রেশন এবং চাকরিসংক্রান্ত কিছু মামলায় এই সহায়তা পাওয়া যায়। সিটির তথ্য অনুযায়ী, এসব সেবা পেতে আগে থেকে এইচআরএর কোনো বেনিফিট গ্রহণকারী হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যোগ্য ব্যক্তিরা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষেও সেবা পেতে পারেন। যাঁরা বাসা থেকে উচ্ছেদের নোটিশ পেয়েছেন কিংবা বাড়িওয়ালার সঙ্গে গুরুতর বিরোধে জড়িয়েছেন, তাঁরা ৩১১ নম্বরে কল করে টেন্যান্ট হেল্পলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া হাউজিং কোর্ট অ্যানসার্সের ৭১৮-৫৫৭-১৩৭৯ নম্বরে সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায়। নিউইয়র্ক সিটির ইউনিভার্সাল অ্যাকসেস টু লিগ্যাল সার্ভিসেস আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ভাড়াটিয়ারা হাউজিং কোর্টের যোগ্য উচ্ছেদ মামলায় বিনামূল্যে আইনজীবী পাওয়ার অধিকার রাখেন। এই সুবিধা পেতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাধা নয়। তবে মামলাটি নির্ধারিত ধরনের হতে হবে এবং আয়ের শর্ত পূরণ করতে হবে। দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি নিউইয়র্কের অন্যতম বড় অলাভজনক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান। প্রায় দেড় শ বছর ধরে সংস্থাটি কম আয়ের বাসিন্দাদের বিভিন্ন আইনি সমস্যায় সহায়তা দিয়ে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে হাউজিং, ইমিগ্রেশন, ক্রিমিনাল ডিফেন্স, শিশু ও পরিবারসংক্রান্ত মামলা এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার বিরোধ। প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ যোগাযোগ নম্বর ২১২-৫৭৭-৩৩০০। নির্দিষ্ট আইনি সমস্যা অনুযায়ী সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে ডিপোর্টেশন, ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা, সিটিজেনশিপ এবং অন্যান্য ইমিগ্রেশন সমস্যায় লিগ্যাল এইড সোসাইটির অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর মামলা গ্রহণ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত এবং আইনজীবীর প্রাপ্যতার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ, সংক্ষেপে এনওয়াইএলএজি, কম আয়ের ব্যক্তিদের বিভিন্ন সিভিল আইনি সমস্যায় বিনামূল্যে সহায়তা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি হাউজিং, কনজিউমার ডেট, ইমিগ্রেশন, পাবলিক বেনিফিটস, পারিবারিক সমস্যা এবং আর্থিক পরামর্শের মতো বিষয়ে কাজ করে। এনওয়াইএলএজির সাধারণ যোগাযোগ নম্বর ২১২-৬১৩-৫০০০। প্রতিষ্ঠানটির অফিস ম্যানহাটনের ১০০ পার্ল স্ট্রিটের ১৯ তলায়। তবে সরাসরি অফিসে যাওয়ার আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফোনে যোগাযোগ অথবা অনলাইন ইনটেক ফর্ম পূরণের মাধ্যমে সহায়তার আবেদন শুরু করতে হয়। নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে সেবা প্রদানকারী আরেকটি প্রতিষ্ঠান লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসি। কম আয়ের বাসিন্দারা এখান থেকে বিভিন্ন সিভিল আইনি বিষয়ে বিনামূল্যে সহায়তা চাইতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটির হটলাইন নম্বর ৯১৭-৬৬১-৪৫০০। সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফোন করা যায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন ভাষায় ইনটেক সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির ব্রুকলিন অফিসের নম্বর ৭১৮-২৩৭-৫৫০০, ব্রঙ্কসের ৭১৮-৯২৮-৩৭০০, ম্যানহাটনের ৬৪৬-৪৪২-৩১০০, কুইন্সের ৩৪৭-৫৯২-২২০০ এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ৭১৮-২৩৩-৬৪৮০। তবে শুধু ফোন করলেই আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয় না। প্রথমে একজন ইনটেক স্পেশালিস্ট আবেদনকারীর সমস্যা, পারিবারিক আয় এবং অন্যান্য যোগ্যতার তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটি সহায়তা করতে পারবে কি না, তা জানানো হয়। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সমস্যায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্সের বিশেষ হটলাইনেও যোগাযোগ করা যায়। নম্বর ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫। এছাড়া ৩১১ নম্বরে কল করে ইমিগ্রেশন লিগ্যাল বললেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়। এই হটলাইন থেকে নিজের এলাকার কাছাকাছি সিটি ফান্ডেড ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টারের তথ্য পাওয়া যায়। তবে হটলাইন কর্তৃপক্ষ সরাসরি আইনজীবীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও যোগ্যতা যাচাইয়ের পর পরবর্তী সহায়তার সুযোগ তৈরি হয়। অনেকের প্রশ্ন, ফ্রি লিগ্যাল এইড পেতে কত আয় থাকতে হবে? এ ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দিষ্ট আয়ের সীমা নেই। তবে কিছু সিটি ফান্ডেড ইমিগ্রেশন কর্মসূচিতে পরিবারের আয় ফেডারেল পভার্টি লেভেলের ২০০ শতাংশের মধ্যে থাকতে হয়। ২০২৬ সালের ফেডারেল হিসাব অনুযায়ী, এই সীমা একজনের পরিবারের জন্য বছরে ৩১ হাজার ৯২০ ডলার, অর্থাৎ মাসে ২ হাজার ৬৬০ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের জন্য বছরে ৬৬ হাজার ডলার বা মাসে ৫ হাজার ৫০০ ডলার। তবে হাউজিং, ফ্যামিলি কোর্ট কিংবা অন্য আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে ভিন্ন আয়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। কোনো কোনো কর্মসূচিতে পারিবারিক পরিস্থিতি ও মামলার ধরন বিবেচনায় অতিরিক্ত শর্তও রয়েছে। তাই একটি প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করলেও অন্য প্রতিষ্ঠানে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। ফ্যামিলি কোর্টে সন্তানের কাস্টডি, চাইল্ড সাপোর্ট অথবা অর্ডার অব প্রোটেকশন সংক্রান্ত সমস্যায় নিউইয়র্ক স্টেট কোর্ট সিস্টেমের ভলান্টিয়ার লইয়ার প্রোগ্রাম এবং আদালতের হেল্প সেন্টারগুলো থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও সীমিত আইনি পরামর্শ পাওয়া যেতে পারে। তবে বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়া এবং পুরো মামলায় একজন আইনজীবীর প্রতিনিধিত্ব পাওয়া এক বিষয় নয়। কিছু কর্মসূচিতে আইনজীবীরা আদালতের কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া, ফর্ম পূরণে সহায়তা কিংবা আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারেন, কিন্তু পুরো মামলার দায়িত্ব নেন না। আবেদন করার আগে নিজের পরিচয়পত্র, বর্তমান ঠিকানা, আয়ের প্রমাণ এবং আইনি সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো। উচ্ছেদের নোটিশ, কোর্টের কাগজ, চাকরির পে-স্টাব, লিজ অথবা ইমিগ্রেশন নোটিশ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ভাষাগত সহায়তা। অনেক প্রতিষ্ঠানে দোভাষীর মাধ্যমে নিজের সমস্যার কথা জানানোর সুযোগ রয়েছে। ইংরেজিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে ফোন করার শুরুতেই বাংলা ভাষায় সহায়তা প্রয়োজন বলে জানানো যেতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠানে সব সময় সরাসরি বাংলাভাষী কর্মী পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আইনি সহায়তা নিতে গিয়ে প্রতারণা থেকেও সতর্ক থাকতে হবে। নিউইয়র্ক সিটির অফিস অব সিভিল জাস্টিস জানিয়েছে, সিটির পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সেবা প্রদানকারী কোনো আইনজীবী সেই সেবার জন্য অর্থ দাবি করবেন না। কেউ অফিস অব সিভিল জাস্টিস কিংবা রাইট টু কাউন্সেল কর্মসূচির পরিচয় দিয়ে টাকা চাইলে বিষয়টি যাচাই করতে হবে। এ ধরনের সন্দেহজনক ঘটনা সম্পর্কে সিটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও অভিযোগ জানানো যায়। নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিনামূল্যে আইনি সহায়তার চাহিদা অনেক বেশি। ফলে সব যোগ্য আবেদনকারীকে সঙ্গে সঙ্গে আইনজীবী দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। অনেক সময় আবেদন গ্রহণের পর পরবর্তী যোগাযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাই কোনো কোর্ট হিয়ারিংয়ের তারিখ থাকলে, বাসা ছাড়ার নোটিশ পেলে কিংবা ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জরুরি সমস্যা দেখা দিলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত যোগাযোগ করা উচিত। আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চললেও আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার দায়িত্ব আবেদনকারীর থাকে। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এসব সেবা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই আইনজীবীর উচ্চ ফি বহনের সামর্থ্য না থাকায় আইনি সহায়তা নিতে দেরি করেন। অথচ যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে পরামর্শ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরিতে সহায়তা এবং কিছু মামলায় আদালতে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইনি সমস্যার ধরন অনুযায়ী সঠিক প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করাই প্রথম পদক্ষেপ। হাউজিং সমস্যায় ৩১১ বা টেন্যান্ট হেল্পলাইন, ইমিগ্রেশন সমস্যায় ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ এবং অন্যান্য সিভিল আইনি বিষয়ে লিগ্যাল এইড সোসাইটি, এনওয়াইএলএজি অথবা লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এই প্রতিবেদনটি নিউইয়র্ক সিটি সরকার, নিউইয়র্ক স্টেট কোর্টস, দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, এনওয়াইএলএজি এবং লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এটি সাধারণ তথ্য, ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। সেবার যোগ্যতা, কর্মসূচির পরিধি এবং যোগাযোগের সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
মিশিগানে অপরিচিত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের হেজাম হুসেইন
নিউ ইয়র্কে নতুন সরকারি বেসরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৫১ হাজার ডলার থেকে, সময় সীমিত