যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে অভিবাসী শিশুদের পূরণ করতে হবে ছয়টি শর্ত
যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ একটি অভিবাসন সুবিধার আওতায় গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্য হতে অভিবাসী শিশুদের ছয়টি শর্ত পূরণ করতে হবে। এই সুবিধার নাম স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল (এসআইজে) মর্যাদা। এটি এমন কিছু বিদেশি শিশুর জন্য, যারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে এবং বাবা-মায়ের কাছ থেকে দুর্ব্যবহার, অবহেলা, পরিত্যাগ কিংবা রাজ্য আইনে স্বীকৃত অনুরূপ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এসআইজে মর্যাদা পেলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সুযোগ পেতে পারে। তবে এই মর্যাদা পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, আবেদনকারীর বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং রাজ্য আদালতের আদেশসহ কয়েকটি বিষয় যাচাই করা হয়। পাশাপাশি, আবেদনটি প্রকৃতপক্ষে শিশুকে পারিবারিক দুর্ব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেয় কর্তৃপক্ষ।
গ্রিন কার্ডের বিশেষ সুযোগ পেতে ছয়টি শর্ত
এসআইজে মর্যাদার জন্য আবেদন করতে আগ্রহী ব্যক্তিকে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:
1. বয়স ২১ বছরের কম হতে হবে: ইউএসসিআইএসের কাছে আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স ২১ বছরের নিচে থাকতে হবে। তবে রাজ্যভেদে শিশু বা কিশোরের বিষয়ে আদালতের এখতিয়ার নির্ধারণের নিয়ম ভিন্ন হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ার ১৮ বছর বয়সেই শেষ হয়ে যায়। তাই সময়মতো আদালতের আদেশ সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ।
2. যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে হবে: আবেদন জমা দেওয়ার সময় এবং ইউএসসিআইএস সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময়—দুই ক্ষেত্রেই আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। বিদেশে অবস্থান করে এই মর্যাদার জন্য সরাসরি আবেদন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায় না।
3. অবিবাহিত থাকতে হবে: আবেদন করার সময় এবং আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে অবিবাহিত থাকতে হবে। আগে বিয়ে হয়ে থাকলেও বিয়ে বাতিল, বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামী কিংবা স্ত্রীর মৃত্যুর মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হতে পারে।
4. যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য আদালতের প্রয়োজনীয় আদেশ থাকতে হবে: সংশ্লিষ্ট শিশু বা কিশোরকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপযুক্ত রাজ্য আদালতের আদেশ থাকতে হবে। সেই আদেশে শিশুটি আদালতের তত্ত্বাবধানে রয়েছে অথবা কোনো ব্যক্তি, সংস্থা কিংবা রাজ্য কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। পাশাপাশি, বাবা-মায়ের সঙ্গে পুনরায় বসবাস করা কেন সম্ভব নয় এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়া কেন শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী, তা নির্ধারণ করতে হবে।
5. ইউএসসিআইএসের সম্মতি পেতে হবে: কেবল আদালতের আদেশ থাকলেই এসআইজে মর্যাদা নিশ্চিত হয় না। ইউএসসিআইএসকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে আবেদনটি প্রকৃত এবং এর মূল উদ্দেশ্য হলো বাবা-মায়ের দুর্ব্যবহার, অবহেলা, পরিত্যাগ বা রাজ্য আইনে স্বীকৃত অনুরূপ পরিস্থিতি থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া।
6. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের লিখিত সম্মতি লাগবে: যেসব শিশু যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) অধীনে শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তরের (ওআরআর) হেফাজতে রয়েছে বা আগে ছিল, তাদের সবার জন্য এই শর্ত একইভাবে প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে ওই দপ্তরের হেফাজতে থাকা অবস্থায় আদালতের আদেশের মাধ্যমে শিশুর হেফাজত বা অবস্থানের ব্যবস্থা পরিবর্তিত হলে, এইচএইচএসের লিখিত সম্মতি জমা দিতে হবে।
আদালতের আদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ
এসআইজে মর্যাদার আবেদনে রাজ্য আদালতের আদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিশুটি আদালতের তত্ত্বাবধানে রয়েছে কি না, অথবা কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বা সরকারি সংস্থার হেফাজতে আছে কি না, তা স্পষ্ট থাকতে হয়।
একই সঙ্গে আদালতকে নির্ধারণ করতে হয়, বাবা-মায়ের একজন বা উভয়ের সঙ্গে শিশুটির পুনরায় বসবাস করা কেন সম্ভব নয়। এর কারণ হিসেবে দুর্ব্যবহার, অবহেলা, পরিত্যাগ কিংবা রাজ্য আইনে স্বীকৃত অনুরূপ পরিস্থিতি থাকতে পারে। শিশুটিকে তার নিজ দেশের নাগরিকত্বের দেশ অথবা সর্বশেষ স্থায়ীভাবে বসবাসের দেশে ফেরত পাঠানো তার সর্বোত্তম স্বার্থে হবে না—এ সিদ্ধান্তও আদালতের আদেশে থাকতে হবে।
এসব বিষয় শুধু আদেশে উল্লেখ থাকলেই যথেষ্ট নয়। সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ঘটনার ভিত্তি থাকতে হয়। ইউএসসিআইএস আদালতের আদেশ ও সহায়ক নথি পর্যালোচনা করে দেখে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে কি না।
এসআইজে মর্যাদা পেলেই কি গ্রিন কার্ড মিলবে
এসআইজে মর্যাদার জন্য সাধারণত ফরম আই-৩৬০ জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্মসংস্থানভিত্তিক চতুর্থ অগ্রাধিকার বা ইবি-৪ অভিবাসন শ্রেণির আওতায় গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন।
তবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আলাদা আবেদন, ফরম আই-৪৮৫, জমা দিতে হয়। ইবি-৪ শ্রেণিতে অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তার ওপর গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সময় নির্ভর করতে পারে। ফলে এসআইজে আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পরও স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে অতিরিক্ত ধাপ অনুসরণ করতে হয়।
এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এমন শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া, যাদের পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়া নিরাপদ বা উপযুক্ত নয়। তাই শুধু বয়স কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের শর্ত পূরণ করলেই হবে না; আদালতের আদেশ, প্রয়োজনীয় প্রমাণ এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সম্মতিও গুরুত্বপূর্ণ।
আবেদন করতে আগ্রহী পরিবার, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত এবং নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যভেদে শিশু আদালতের এখতিয়ার ও প্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করাই উপযুক্ত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পোষা বিড়ালদের ‘অশুভ আত্মা’ মনে করে বাড়ির উঠানে জীবন্ত পুঁতে রাখার অভিযোগে ৩৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রে প্তা র করেছে পুলিশ। আলবা শাভেজ নামের ওই নারী অন্তত চারটি বিড়ালের সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মার্টিন কাউন্টির হোব সাউন্ড এলাকায় তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে দুটি বিড়ালকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই জায়গা থেকে আরও দুটি বিড়ালকে মৃ ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার পর ওই নারীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর পশু নি র্যা তনের অভিযোগ আনা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে মার্টিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্য ও প্রাণী সুরক্ষা বিভাগের তদন্তকারীরা হোব সাউন্ডের দক্ষিণ-পূর্ব ফেডারেল হাইওয়ের ১১ হাজার নম্বর ব্লকে অবস্থিত ওই বাড়িতে যান। বাড়িটির মালিক শাভেজ বিড়ালগুলোকে মাটির নিচে পুঁতে রাখার কথা জানানোর পর তদন্তকারীরা উঠানের বিভিন্ন জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেন। উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় মাটির নিচ থেকে দুটি বিড়ালকে জীবিত বের করে আনতে সক্ষম হন তাঁরা। তবে অন্য দুটি বিড়ালকে আর বাঁচানো যায়নি। প্রাণীগুলো কতক্ষণ মাটির নিচে ছিল, কিংবা কীভাবে তাদের এমন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শাভেজ তাঁদের বলেছেন, তিনি অন্তত চারটি বিড়ালকে জীবন্ত পুঁতে রেখেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিড়ালগুলোকে তিনি ‘অশুভ আত্মা’ বলে মনে করতেন। তবে এমন ধারণার পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর মানসিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ঘটনার পর শাভেজকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর পশু নি র্যা তনের অভিযোগ আনা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কতটি অভিযোগ আনা হয়েছে, আদালতে তাঁকে কখন হাজির করা হবে কিংবা মামলার পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে বাড়ির উঠানে আরও কোনো প্রাণী পুঁতে রাখা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা সম্পত্তির বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করছেন। সেখানে অন্য কোনো বিড়াল বা প্রাণী পাওয়া যায় কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। উদ্ধার হওয়া দুটি বিড়ালের বর্তমান শারীরিক অবস্থাও স্পষ্ট নয়। মাটির নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তারা কতটা অসুস্থ বা আহত হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। তাদের চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রাণীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জীবিত প্রাণীকে মাটির নিচে পুঁতে রাখার অভিযোগের কারণে বিষয়টিকে গুরুতর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন ঘটনাস্থলের আলামত, বাড়ির মালিকের বক্তব্য এবং উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে আরও কোনো প্রাণী পুঁতে রাখা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। একইভাবে অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও এখনো জানা যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে অভিবাসী শিশুদের পূরণ করতে হবে ছয়টি শর্ত
এইচ-১বি ও এল-১ ভিসায় নতুন নিয়ম, নির্দিষ্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে বায়োমেট্রিক ফি
যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণসংকট ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপদে ফেলছে, এখনই পদক্ষেপের আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি স্কুলগুলোতে এক শিক্ষাবর্ষেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছয় হাজারের বেশি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মোট ৬ হাজার ১৩১টি মারামারির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা চার বছর আগের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে শিক্ষার্থীদের হুমকির ঘটনা বেড়েছে সাড়ে ১১ শতাংশ। সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর স্কুলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত শিক্ষাবর্ষে লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের হুমকির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ৪ হাজার ১৫টি। যদিও আগের শিক্ষাবর্ষের তুলনায় মারামারি ও হুমকির ঘটনা কমেছে, চার বছর আগের তুলনায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। স্কুল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কার্যক্রমে কিছু উন্নতি হলেও আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি ফ্রাঙ্কলিন হাই স্কুলের ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জেভিয়ার নুনগারে-মার্টিনেজের মৃত্যুর পর অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে। বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন একদল অভিভাবক। তাঁরা স্কুলগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর দাবি জানান। গত পাঁচ বছর ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি স্কুলগুলোতে পুলিশের নিয়মিত সক্রিয় উপস্থিতি নেই। শিক্ষার্থীদের হয়রানি প্রতিরোধে কাজ করা সংগঠন স্পিক আউট অ্যাগেইনস্ট বুলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক মনিকা হারমন মনে করেন, স্কুলগুলোতে আরও কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হয়রানিবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি শেষে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী অন্যায় আচরণের অভিযোগ করলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। হারমনের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরও অনেক ক্ষেত্রে পরদিনই তাঁরা আবার স্কুলে ফিরে আসেন। পর্যাপ্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় একই ধরনের আচরণ বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তাঁর ধারণা। তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান। ন্যাশনাল স্কুল সেফটি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক এবং পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রোনাল্ড স্টিফেনস স্কুল ডিস্ট্রিক্টের তথ্য পর্যালোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, মারামারি, হুমকি ও অবৈধ পদার্থসংক্রান্ত ঘটনার তথ্য কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এসব তথ্য পাওয়ার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে গুরুতর কোনো ঘটনা ঘটলে সেই প্রশ্নও সামনে আসতে পারে। স্টিফেনস বলেন, লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, শিক্ষার্থীদের তদারকি, প্রশিক্ষণ ও সহায়তার ক্ষেত্রে আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, স্কুল নিরাপদ রাখতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামত নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নির্ধারণ করা জরুরি। বিশেষজ্ঞ এই অধ্যাপক আরও বলেন, স্কুলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব সময় জটিল প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না। শিক্ষার্থীদের পাশে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপস্থিতি, নিয়মিত তদারকি এবং তাঁদের সমস্যার প্রতি গুরুত্ব দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের ক্যাপ্টেন এরিক এপোলিটো জানিয়েছেন, চলতি বছর স্কুলগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের ছোটখাটো বিরোধ যেন বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে জন্য আগেভাগে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরিক এপোলিটোর মতে, শিক্ষার্থীদের হয়রানি অনেক সময় সাধারণ বিরোধ থেকে গুরুতর সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর পদ্ধতি শেখানো জরুরি। মনিকা হারমনও শিক্ষার্থীদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর সংগঠনের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করানো হয়। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হলে অন্যদের শুধু দাঁড়িয়ে দেখা বা ভিডিও ধারণ না করে প্রতিবাদ করা এবং সাহায্য চাওয়া উচিত। ফ্রাঙ্কলিন হাই স্কুলের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে হারমন বলেন, আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীরা সময়মতো এগিয়ে এলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, স্কুলগুলোতে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাবে না। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলগুলোর সব নিরাপত্তাসংক্রান্ত সূচক খারাপ হয়নি। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে স্কুল বোর্ডের বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্রসংক্রান্ত ঘটনা চার বছর আগের তুলনায় ৩৮ শতাংশ কমেছে। গত শিক্ষাবর্ষে এ ধরনের ৯২৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঝুঁকিসংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যাও ১৪ শতাংশ কমেছে। গত শিক্ষাবর্ষে এ ধরনের ১০ হাজার ৫৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে গত পাঁচ বছর ধরে এই ঝুঁকিসংক্রান্ত প্রতিবেদনই স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকারের বিষয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগের শিক্ষাবর্ষের তুলনায় মারামারি, শারীরিক আগ্রাসন, হুমকি, অস্ত্রসংক্রান্ত ঘটনা এবং আত্মহত্যার ঝুঁকিসংক্রান্ত প্রতিবেদন কমেছে। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ এখনো উদ্বেগের বিষয় বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক আচরণ উৎসাহিত করা, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত করা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালু রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিরাপদ স্কুল পরিবেশ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গেও কাজ করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে তদারকি বাড়ানো এবং যেসব স্থানে অতিরিক্ত নজরদারি প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে চার বছর আগের তুলনায় মারামারি ও হুমকির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞরা।
সম্পর্ক ভাঙতে চাওয়ায় প্রেমিককে কামড়ে আহত করার অভিযোগে ফ্লোরিডার নারী পুলিশ গ্রেপ্তার
৩০ বছরেও মেলেনি গ্রিন কার্ড, নিউইয়র্ক থেকে কফিনবন্দি হয়ে ফিরছেন আজিজুল হক খোকন
হোয়াইট হাউসের গাভীকে জবাইখানা থেকে উদ্ধার, দুধ চুরি করেছিলেন শিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা সামনে এসেছে, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছুতে স্কলারশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং ফেলোশিপের মাধ্যমে পড়াশোনার খরচ কমানোর সুযোগও রয়েছে। তবে তালিকার সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু নেই এবং সব শিক্ষার্থী ফান্ডিং পাবেন, এমন নিশ্চয়তাও নেই। তালিকায় রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, মিসৌরি সেন্ট লুইস বিশ্ববিদ্যালয়, উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ডাকোটা, ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই অ্যাট মানোয়া, ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্ট, জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া তালিকায় ওয়েস্ট টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিসৌরি, ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটি অব লিঞ্চবার্গ, ফুল সেইল ইউনিভার্সিটি, জ্যাকসনভিল স্টেট ইউনিভার্সিটি, আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেইন এবং ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা ডুলুথের নাম রয়েছে। তালিকার বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন নিউ হ্যাম্পশায়ার ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট শার্লট, ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস, নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, অবার্ন ইউনিভার্সিটি অ্যাট মন্টগোমারি, ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন ক্লিয়ার লেক, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি কিংসভিল, ফোর্ট হেইস স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনা। তবে এই ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম একসঙ্গে প্রচার করা হলেও সব প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের উচ্চশিক্ষা ও ফান্ডিং সুবিধা প্রদানকারী হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অফিসিয়াল একাডেমিক তথ্য অনুযায়ী, ফুল সেইল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স, গেম ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ডিগ্রি তালিকায় পিএইচডি প্রোগ্রামের উল্লেখ নেই। একইভাবে আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের গ্র্যাজুয়েট ক্যাটালগে মাস্টার্স, এডুকেশন স্পেশালিস্ট এবং গ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের তথ্য রয়েছে। সেখানে পিএইচডি ডিগ্রি তালিকাভুক্ত নেই। ফলে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পছন্দের বিষয়ে মাস্টার্স অথবা পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ফান্ডিং সাধারণত কয়েকটি উপায়ে পাওয়া যায়। এর মধ্যে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কোনো অধ্যাপকের গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পান। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের সহায়তা কিংবা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের মতো দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। এসব অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কের স্টাইপেন্ড এবং টিউশন মওকুফের সুবিধা থাকতে পারে। তবে সুবিধার পরিমাণ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, কাজের ধরন ও নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। অন্যদিকে ফেলোশিপের মাধ্যমে গবেষণা বা একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। কোনো কোনো ফেলোশিপে টিউশন এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার গ্র্যাজুয়েট স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, ফেলোশিপ ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দুটি আলাদা ধরনের আর্থিক সহায়তা। ফেলোশিপ সাধারণত গবেষণা বা পড়াশোনার জন্য দেওয়া হয়, আর অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হয়। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক থ্রিএম গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য পিএইচডি শিক্ষার্থীরা প্রথম বছরে ২৫ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড, নির্ধারিত টিউশন সহায়তা এবং স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেতে পারেন। পরবর্তী বছরগুলোতে নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এই ফেলোশিপ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং বিভাগের মনোনয়ন প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স ও পিএইচডির ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ ফান্ডিং প্যাকেজ দেওয়া হয়। কিন্তু মাস্টার্স পর্যায়ে বিশেষ করে কোর্সভিত্তিক ও পেশাগত প্রোগ্রামে একই ধরনের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। ফান্ডিং পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, অধ্যাপকের গবেষণার সঙ্গে মিল এবং বিভাগে অর্থের প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের সাধারণত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, স্নাতক ডিগ্রির সনদ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ জমা দিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম অনুযায়ী আইইএলটিএস, টোয়েফল বা অন্য স্বীকৃত পরীক্ষার স্কোর গ্রহণ করা হতে পারে। কিছু প্রোগ্রামে জিআরই স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগ নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে জিআরই বাধ্যতামূলক রাখে না। এ কারণে আবেদনকারীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিভাগের বর্তমান অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট দেখতে হবে। যেসব শিক্ষার্থী গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি করতে চান, তাঁদের জন্য সম্ভাব্য সুপারভাইজারের গবেষণার বিষয় সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি প্রোফাইল এবং সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র দেখে নিজের আগ্রহের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন অধ্যাপকদের চিহ্নিত করা যেতে পারে। তবে কোনো অধ্যাপকের কাছে ইমেইল পাঠানো কিংবা তাঁর কাছ থেকে ইতিবাচক উত্তর পাওয়ার অর্থ ভর্তি বা ফান্ডিং নিশ্চিত হওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের আনুষ্ঠানিক অ্যাডমিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফান্ডিংয়ের বিষয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এবং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া সব সময় একই সিদ্ধান্তের অংশ নয়। অনেক ক্ষেত্রে ভর্তির অফার পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে ফান্ডিংয়ের জন্য আবেদন করতে হয়। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়েও নিশ্চিত হতে হবে যে ফান্ডিংয়ের অফারে পুরো টিউশন মওকুফ করা হচ্ছে, নাকি আংশিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ফি, আবাসন এবং ব্যক্তিগত খরচ বহন করতে হবে কি না, সেটিও জানা জরুরি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফান্ডিংয়ের পরিমাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানভেদে জীবনযাপনের ব্যয়ের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে আবেদন নেওয়া হয় না। ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারের অ্যাডমিশন ডেডলাইন আলাদা হতে পারে। অনেক বিভাগের ফান্ডিং বিবেচনার সময়সীমাও সাধারণ অ্যাডমিশন ডেডলাইনের আগে শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রোগ্রামের ধরন, আবেদনযোগ্যতা, ডেডলাইন এবং ফান্ডিংয়ের শর্ত যাচাই করা উচিত। এই ৩০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার কাজে সহায়ক হতে পারে। তবে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সব প্রতিষ্ঠানেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি ভর্তি এবং নিশ্চিত ফান্ডিং চালু রয়েছে, এমন কোনো সম্মিলিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। সুতরাং মাস্টার্স বা পিএইচডিতে আবেদন করার আগে নিজের একাডেমিক প্রোফাইল, গবেষণার আগ্রহ এবং আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের মিল যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
স্ত্রীর নির্যাতনের গর্ভপাত! আদালতে নিউইয়র্ক টাইমসের ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীর চাঞ্চল্যকর তথ্য
শূন্য থেকে ‘বাফেলোর প্রিন্স’: একসময় চাকরি হারানো বাংলাদেশি তালহা বখতের ১০০ বাড়ি