বাড়ির সম্পত্তি কর ও আয়করে মিলতে পারে বড় ছাড়, ২০২৬ সালে করদাতাদের করণীয়
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের করবর্ষে রাজ্য ও স্থানীয় করের ওপর সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত করছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাড়ির সম্পত্তি কর, রাজ্য ও স্থানীয় আয়করসহ নির্দিষ্ট করের হিসাবের মাধ্যমে এই সুবিধা নিতে পারেন যোগ্য করদাতারা। তবে সবাই এই ছাড় পাবেন না। সুবিধাটি কাজে লাগাতে হলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে করের হিসাব জমা দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত বড় কর ও ব্যয়সংক্রান্ত আইনের মাধ্যমে স্টেট অ্যান্ড লোকাল ট্যাক্স বা এসএএলটি (SALT) ছাড়ের সীমা বাড়ানো হয়। ২০২৪ সালের করবর্ষে এই সীমা ছিল ১০ হাজার ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৪০ হাজার ডলার হয়। ২০২৬ সালে সীমাটি আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৪০০ ডলারে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর এই সীমা ১ শতাংশ করে বাড়বে। তবে সুবিধাটি স্থায়ী নয়। ২০৩০ সাল থেকে এসএএলটি ছাড়ের সীমা আবার ১০ হাজার ডলারে নেমে আসার কথা রয়েছে।
এসএএলটি ছাড় মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা কর জমা দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট খরচ আলাদাভাবে হিসাব করে ছাড় দাবি করেন। করদাতারা বাড়ির সম্পত্তি করের পাশাপাশি রাজ্য ও স্থানীয় আয়কর অথবা বিক্রয় করের মধ্যে একটি বেছে নিতে পারেন। আয়কর ও বিক্রয় কর—দুটিই একসঙ্গে এই হিসাবের আওতায় নেওয়া যায় না।
তবে ছাড়ের সীমা বেড়েছে বলেই প্রত্যেক করদাতার কর কমবে, এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে কর জমা দেওয়ার সময় সাধারণ ছাড় (স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন) অথবা নির্দিষ্ট খরচের ভিত্তিতে হিসাব করা ছাড়ের (আইটেমাইজড ডিডাকশন) মধ্যে যেটি বেশি সুবিধাজনক, সেটি বেছে নেওয়া হয়।
২০২৬ সালের করবর্ষে একক করদাতাদের সাধারণ ছাড় ১৬ হাজার ১০০ ডলার। যৌথভাবে কর জমা দেওয়া বিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ৩২ হাজার ২০০ ডলার। বাড়ির ঋণের সুদ, দাতব্য অনুদান, চিকিৎসাব্যয় এবং যোগ্য রাজ্য ও স্থানীয় করসহ অন্যান্য ছাড়যোগ্য খরচ যোগ করলে মোট পরিমাণ সাধারণ ছাড়ের চেয়ে বেশি হতে পারে। তখন নির্দিষ্ট খরচের ভিত্তিতে ছাড় দাবি করা লাভজনক হতে পারে।
করছাড় বাড়াতে যেসব কৌশল কাজে লাগতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে করের সুবিধা বাড়ানোর একটি উপায় হলো নির্দিষ্ট ছাড়যোগ্য খরচের সময় পরিকল্পনা করা। কোনো পরিবারের মোট ছাড়যোগ্য খরচ সাধারণ ছাড়ের সীমার সামান্য নিচে থাকলে, যোগ্য কিছু খরচ একই করবর্ষে হিসাব করার মাধ্যমে আইটেমাইজড ডিডাকশনের সুবিধা পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, যাঁরা ২০২৬ সালে বাড়ির সম্পত্তি কর পরিশোধ করেছেন, তাঁরা স্থানীয় নিয়ম অনুমোদন করলে এবং পরবর্তী বছরের কর নির্ধারণের নোটিশ পেয়ে থাকলে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী বছরের সম্পত্তি করের একটি অংশ আগাম দিতে পারেন। এতে ২০২৬ সালের জন্য তাঁদের ছাড়যোগ্য খরচ বাড়তে পারে।
তবে আগাম কর দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। সম্পত্তি করের মূল্যায়ন বা কর নির্ধারণের নোটিশ পাওয়ার সময় এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। আবার যাঁদের বাড়ির ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এসক্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পত্তি কর পরিশোধ করে, তাঁদের ক্ষেত্রে আগাম অর্থ দেওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে।
স্বনিয়োজিত ব্যক্তি, ছোট ব্যবসার মালিক কিংবা বিনিয়োগ থেকে আয় করা করদাতাদের জন্যও কিছু সুযোগ থাকতে পারে। তাঁরা রাজ্য সরকারের কাছে ত্রৈমাসিক আনুমানিক আয়করের অর্থ পরিশোধ করে থাকলে, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৬ সালের শেষ কিস্তি পরিশোধ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
ফেডারেল সরকারের ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের আনুমানিক কর পরিশোধের শেষ সময় ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি। তবে রাজ্যভেদে কর পরিশোধের সময়সীমা আলাদা হতে পারে। তাই আগাম অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ধরনের পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো একাধিক বছরের ছাড়যোগ্য খরচ একটি করবর্ষে একত্র করা। তবে কেবল ছাড় বাড়ানোর জন্য অপ্রয়োজনীয় অর্থ আগাম পরিশোধ করা উচিত নয়। এতে প্রকৃত আর্থিক লাভ হচ্ছে কি না, তা হিসাব করে নেওয়া জরুরি।
বেশি আয়ের করদাতাদের জন্য রয়েছে বিশেষ সতর্কতা
এসএএলটি ছাড়ের সীমা বাড়লেও উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে সুবিধাটি ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। ২০২৬ সালে সংশোধিত সমন্বিত মোট আয় বা মডিফায়েড অ্যাডজাস্টেড গ্রস ইনকাম (এমএজিআই) ৫ লাখ ৫০০ ডলারের বেশি হলে সর্বোচ্চ ছাড়ের পরিমাণ কমতে শুরু করে।
আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সুবিধা কমতে থাকে। প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ ডলার বা তার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ছাড়ের সীমা আবার ১০ হাজার ডলারে নেমে আসে। আলাদাভাবে কর জমা দেওয়া বিবাহিত ব্যক্তিদের জন্য সীমা ও আয়ের হিসাব ভিন্ন।
এই ব্যবস্থাকে ঘিরে ‘এসএএলটি টর্পেডো’ নামে পরিচিত একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বাড়লে করদাতা শুধু অতিরিক্ত আয়ের ওপর করই দেন না, একই সঙ্গে করছাড়ের একটি অংশও হারান। ফলে আয়ের সামান্য বৃদ্ধি করের সামগ্রিক বোঝা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে।
২০২৬ সালে ৫ লাখ ৫০০ ডলার থেকে প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ ডলার আয়ের সীমার মধ্যে ছাড় কমার হিসাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্যায়ে প্রতি অতিরিক্ত এক ডলার আয়ের জন্য এসএএলটি সুবিধার ৩০ শতাংশ হারে ছাড় কমতে পারে। তাই এই আয়সীমার কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের আগেভাগে আয়ের হিসাব করা দরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রথ আইআরএতে অর্থ রূপান্তর, বিনিয়োগের মুনাফা আদায় কিংবা বোনাস পাওয়ার মতো সিদ্ধান্তও সংশ্লিষ্ট বছরের আয়ের হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য আয় এবং করছাড়ের ওপর প্রভাব একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ করদাতা সাধারণ ছাড় ব্যবহার করেছিলেন। অর্থাৎ, করছাড়ের নতুন সীমা সবার জন্য সমানভাবে লাভজনক হবে না। বিশেষ করে যাঁদের ছাড়যোগ্য খরচ সাধারণ ছাড়ের চেয়ে বেশি, তাঁদের জন্য এসএএলটি সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে বেশি করছাড় পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সম্পত্তি কর, রাজ্য ও স্থানীয় কর, অন্যান্য ছাড়যোগ্য খরচ এবং সম্ভাব্য বার্ষিক আয়ের হিসাব আগে থেকেই সাজিয়ে নেওয়া দরকার। বিশেষত উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে সামান্য পরিকল্পনাগত ভুলেও প্রত্যাশিত সুবিধা কমে যেতে পারে। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য কর পরামর্শকের সঙ্গে আলোচনা করা সহায়ক হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন এমন দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ইবি-২ গ্রিন কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী এবং বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসায় বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে এই শ্রেণিতে আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যোগ্য আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও পরিবারের সদস্য হিসেবে অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, ইবি-২ মূলত দুই ধরনের আবেদনকারীকে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবীরা। দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছেন বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসায় সাধারণ মানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা। এ ছাড়া জাতীয় স্বার্থে ছাড় বা ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী ব্যক্তি নিয়োগকর্তার স্পনসর ছাড়াই নিজের আবেদন করতে পারেন। উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রির চেয়ে বেশি মানের শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। এর মধ্যে মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি অন্তর্ভুক্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রির পর অন্তত পাঁচ বছরের ক্রমবর্ধমান দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাগত কাজ থাকলে সেটিকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। শুধু আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই হবে না; যে পেশায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে চান, সেটিও সাধারণত উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাদার কাজ হতে হবে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট পদে প্রবেশের জন্য সাধারণত অন্তত স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন হওয়া উচিত। উদাহরণ হিসেবে, প্রকৌশলে উচ্চতর ডিগ্রিধারী কেউ যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৌশলী হিসেবে কাজের জন্য আবেদন করলে তাঁর যোগ্যতা বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু একই ব্যক্তি এমন একটি কাজের জন্য আবেদন করলে, যেখানে সাধারণত ডিগ্রির প্রয়োজন নেই, সেখানে শুধু তাঁর উচ্চতর ডিগ্রি ইবি-২ যোগ্যতা নিশ্চিত করবে না। যাঁদের উচ্চতর ডিগ্রি নেই, তাঁরাও বিশেষ দক্ষতার ভিত্তিতে আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন। তবে তাঁদের প্রমাণ করতে হবে, বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসার ক্ষেত্রে তাঁদের দক্ষতা সংশ্লিষ্ট পেশায় সাধারণত দেখা যায় এমন মানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ জন্য নির্ধারিত ছয়টি মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটি পূরণ করার প্রমাণ দিতে হয়। এসব মানদণ্ডের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, একই পেশায় অন্তত ১০ বছরের পূর্ণকালীন কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ, পেশাগত লাইসেন্স বা সনদ, বিশেষ দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন, পেশাজীবীদের সংগঠনের সদস্যপদ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সহকর্মী, প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি। কাজের অভিজ্ঞতা প্রমাণে নিয়োগকর্তার চিঠিসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হতে পারে। আবেদনকারীর পেশা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রমাণের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ইবি-২ আবেদনে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তার চাকরির প্রস্তাব এবং শ্রম সনদসংক্রান্ত প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়। তবে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে। এ ব্যবস্থায় যোগ্য ব্যক্তি নিজেই আবেদন করতে পারেন; নিয়োগকর্তার স্পনসর এবং প্রচলিত শ্রম সনদ প্রক্রিয়া থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে এই ছাড় স্বয়ংক্রিয় নয়। আবেদনকারীকে আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হয় যে তাঁর প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব ও জাতীয় তাৎপর্য রয়েছে, তিনি সেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত অবস্থানে আছেন এবং চাকরির প্রস্তাব ও শ্রম সনদের শর্ত মওকুফ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক উপকার হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক—অর্থাৎ স্টেম—ক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের আবেদনও এই ব্যবস্থায় বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বা উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও কাজের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং প্রস্তাবিত কাজের প্রভাব গুরুত্ব পেতে পারে। তবে শুধু স্টেম বিষয়ে ডিগ্রি বা ডক্টরেট থাকলেই জাতীয় স্বার্থে ছাড় নিশ্চিত হয় না; নির্ধারিত শর্ত পূরণের প্রমাণ প্রয়োজন। কিছু নির্দিষ্ট পেশার ক্ষেত্রে শ্রম সনদসংক্রান্ত নিয়মে ব্যতিক্রম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ‘শিডিউল এ’ তালিকায় নির্দিষ্ট পেশা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই তালিকায় থাকা মানেই সব আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইবি-২ গ্রিন কার্ডের যোগ্য হবেন, এমন নয়। কোন অভিবাসন শ্রেণিতে আবেদন করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পেশার জন্য কী শর্ত প্রযোজ্য, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হয়। ইবি-২ আবেদনের জন্য সাধারণত আই-১৪০ ফরমের মাধ্যমে অভিবাসন আবেদন জমা দেওয়া হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে যোগ্য আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও নির্ধারিত নিয়মে অভিবাসী মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু আই-১৪০ অনুমোদন হলেই পরিবারের সবাই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড পেয়ে যাবেন, এমন নয়। ভিসা পাওয়ার সুযোগ, প্রয়োজনীয় আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হয়। সব মিলিয়ে, ইবি-২ দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের একটি বিদ্যমান অভিবাসনপথ। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, প্রস্তাবিত পেশা এবং প্রয়োজনীয় নথি—সবকিছুই আবেদন মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির বর্তমান নিয়ম ও যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।
আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার পরিকল্পনায় কমলা হ্যারিস, তবে স্বামী ডগ এমহফের রয়েছে আপত্তি
যুক্তরাষ্ট্রের রিও গ্র্যান্ডে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, পানির সংকটে পড়তে পারেন দেড় কোটি মানুষ
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান, বাড়ছে বিকল্প পাসপোর্টের চাহিদা
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের করবর্ষে রাজ্য ও স্থানীয় করের ওপর সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত করছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাড়ির সম্পত্তি কর, রাজ্য ও স্থানীয় আয়করসহ নির্দিষ্ট করের হিসাবের মাধ্যমে এই সুবিধা নিতে পারেন যোগ্য করদাতারা। তবে সবাই এই ছাড় পাবেন না। সুবিধাটি কাজে লাগাতে হলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে করের হিসাব জমা দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত বড় কর ও ব্যয়সংক্রান্ত আইনের মাধ্যমে স্টেট অ্যান্ড লোকাল ট্যাক্স বা এসএএলটি (SALT) ছাড়ের সীমা বাড়ানো হয়। ২০২৪ সালের করবর্ষে এই সীমা ছিল ১০ হাজার ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৪০ হাজার ডলার হয়। ২০২৬ সালে সীমাটি আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৪০০ ডলারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর এই সীমা ১ শতাংশ করে বাড়বে। তবে সুবিধাটি স্থায়ী নয়। ২০৩০ সাল থেকে এসএএলটি ছাড়ের সীমা আবার ১০ হাজার ডলারে নেমে আসার কথা রয়েছে। এসএএলটি ছাড় মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা কর জমা দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট খরচ আলাদাভাবে হিসাব করে ছাড় দাবি করেন। করদাতারা বাড়ির সম্পত্তি করের পাশাপাশি রাজ্য ও স্থানীয় আয়কর অথবা বিক্রয় করের মধ্যে একটি বেছে নিতে পারেন। আয়কর ও বিক্রয় কর—দুটিই একসঙ্গে এই হিসাবের আওতায় নেওয়া যায় না। তবে ছাড়ের সীমা বেড়েছে বলেই প্রত্যেক করদাতার কর কমবে, এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে কর জমা দেওয়ার সময় সাধারণ ছাড় (স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন) অথবা নির্দিষ্ট খরচের ভিত্তিতে হিসাব করা ছাড়ের (আইটেমাইজড ডিডাকশন) মধ্যে যেটি বেশি সুবিধাজনক, সেটি বেছে নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের করবর্ষে একক করদাতাদের সাধারণ ছাড় ১৬ হাজার ১০০ ডলার। যৌথভাবে কর জমা দেওয়া বিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ৩২ হাজার ২০০ ডলার। বাড়ির ঋণের সুদ, দাতব্য অনুদান, চিকিৎসাব্যয় এবং যোগ্য রাজ্য ও স্থানীয় করসহ অন্যান্য ছাড়যোগ্য খরচ যোগ করলে মোট পরিমাণ সাধারণ ছাড়ের চেয়ে বেশি হতে পারে। তখন নির্দিষ্ট খরচের ভিত্তিতে ছাড় দাবি করা লাভজনক হতে পারে। করছাড় বাড়াতে যেসব কৌশল কাজে লাগতে পারে বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে করের সুবিধা বাড়ানোর একটি উপায় হলো নির্দিষ্ট ছাড়যোগ্য খরচের সময় পরিকল্পনা করা। কোনো পরিবারের মোট ছাড়যোগ্য খরচ সাধারণ ছাড়ের সীমার সামান্য নিচে থাকলে, যোগ্য কিছু খরচ একই করবর্ষে হিসাব করার মাধ্যমে আইটেমাইজড ডিডাকশনের সুবিধা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, যাঁরা ২০২৬ সালে বাড়ির সম্পত্তি কর পরিশোধ করেছেন, তাঁরা স্থানীয় নিয়ম অনুমোদন করলে এবং পরবর্তী বছরের কর নির্ধারণের নোটিশ পেয়ে থাকলে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী বছরের সম্পত্তি করের একটি অংশ আগাম দিতে পারেন। এতে ২০২৬ সালের জন্য তাঁদের ছাড়যোগ্য খরচ বাড়তে পারে। তবে আগাম কর দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। সম্পত্তি করের মূল্যায়ন বা কর নির্ধারণের নোটিশ পাওয়ার সময় এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। আবার যাঁদের বাড়ির ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এসক্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পত্তি কর পরিশোধ করে, তাঁদের ক্ষেত্রে আগাম অর্থ দেওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। স্বনিয়োজিত ব্যক্তি, ছোট ব্যবসার মালিক কিংবা বিনিয়োগ থেকে আয় করা করদাতাদের জন্যও কিছু সুযোগ থাকতে পারে। তাঁরা রাজ্য সরকারের কাছে ত্রৈমাসিক আনুমানিক আয়করের অর্থ পরিশোধ করে থাকলে, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৬ সালের শেষ কিস্তি পরিশোধ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। ফেডারেল সরকারের ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের আনুমানিক কর পরিশোধের শেষ সময় ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি। তবে রাজ্যভেদে কর পরিশোধের সময়সীমা আলাদা হতে পারে। তাই আগাম অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। এ ধরনের পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো একাধিক বছরের ছাড়যোগ্য খরচ একটি করবর্ষে একত্র করা। তবে কেবল ছাড় বাড়ানোর জন্য অপ্রয়োজনীয় অর্থ আগাম পরিশোধ করা উচিত নয়। এতে প্রকৃত আর্থিক লাভ হচ্ছে কি না, তা হিসাব করে নেওয়া জরুরি। বেশি আয়ের করদাতাদের জন্য রয়েছে বিশেষ সতর্কতা এসএএলটি ছাড়ের সীমা বাড়লেও উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে সুবিধাটি ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। ২০২৬ সালে সংশোধিত সমন্বিত মোট আয় বা মডিফায়েড অ্যাডজাস্টেড গ্রস ইনকাম (এমএজিআই) ৫ লাখ ৫০০ ডলারের বেশি হলে সর্বোচ্চ ছাড়ের পরিমাণ কমতে শুরু করে। আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সুবিধা কমতে থাকে। প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ ডলার বা তার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ছাড়ের সীমা আবার ১০ হাজার ডলারে নেমে আসে। আলাদাভাবে কর জমা দেওয়া বিবাহিত ব্যক্তিদের জন্য সীমা ও আয়ের হিসাব ভিন্ন। এই ব্যবস্থাকে ঘিরে ‘এসএএলটি টর্পেডো’ নামে পরিচিত একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বাড়লে করদাতা শুধু অতিরিক্ত আয়ের ওপর করই দেন না, একই সঙ্গে করছাড়ের একটি অংশও হারান। ফলে আয়ের সামান্য বৃদ্ধি করের সামগ্রিক বোঝা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে। ২০২৬ সালে ৫ লাখ ৫০০ ডলার থেকে প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ ডলার আয়ের সীমার মধ্যে ছাড় কমার হিসাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্যায়ে প্রতি অতিরিক্ত এক ডলার আয়ের জন্য এসএএলটি সুবিধার ৩০ শতাংশ হারে ছাড় কমতে পারে। তাই এই আয়সীমার কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের আগেভাগে আয়ের হিসাব করা দরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, রথ আইআরএতে অর্থ রূপান্তর, বিনিয়োগের মুনাফা আদায় কিংবা বোনাস পাওয়ার মতো সিদ্ধান্তও সংশ্লিষ্ট বছরের আয়ের হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য আয় এবং করছাড়ের ওপর প্রভাব একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ করদাতা সাধারণ ছাড় ব্যবহার করেছিলেন। অর্থাৎ, করছাড়ের নতুন সীমা সবার জন্য সমানভাবে লাভজনক হবে না। বিশেষ করে যাঁদের ছাড়যোগ্য খরচ সাধারণ ছাড়ের চেয়ে বেশি, তাঁদের জন্য এসএএলটি সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে বেশি করছাড় পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সম্পত্তি কর, রাজ্য ও স্থানীয় কর, অন্যান্য ছাড়যোগ্য খরচ এবং সম্ভাব্য বার্ষিক আয়ের হিসাব আগে থেকেই সাজিয়ে নেওয়া দরকার। বিশেষত উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে সামান্য পরিকল্পনাগত ভুলেও প্রত্যাশিত সুবিধা কমে যেতে পারে। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য কর পরামর্শকের সঙ্গে আলোচনা করা সহায়ক হতে পারে।
ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও, ফ্লোরিডায় স্কুল নিরাপত্তাকর্মী গ্রে প্তার
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়মে মেডিকেইড হারাচ্ছেন কিছু অভিবাসী, চিকিৎসার খরচ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোটার সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হলো নিউইয়র্কে
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েকটি অপরাধের ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা এসব যান ব্যবহার করে পালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর ভাড়া দেওয়ার নিয়ম ও ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অপরাধ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানোর দাবিও উঠেছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনের জাতীয় মহাফেজখানার কাছে একটি কথিত ছিনতাইয়ের পর কয়েকজন কিশোরকে ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটারে পালাতে দেখা গেছে বলে পুলিশ সতর্ক করেছিল। তবে অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী বলা যায় না। তদন্তের ফলাফল ও আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অপরাধের দায় নির্ধারিত হয়। ওয়াশিংটনে বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার এখন যাতায়াতের পরিচিত মাধ্যম। অনেকেই কর্মস্থলে যাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো কিংবা কাছাকাছি কোথাও যেতে এসব যান ব্যবহার করেন। যানজট এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতেও এগুলো সহায়ক। তাই কয়েকটি অপরাধের অভিযোগের কারণে সব ব্যবহারকারীকে সন্দেহের চোখে দেখা ঠিক হবে না। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ওয়াশিংটনে ভাড়ার বৈদ্যুতিক স্কুটারে ৩৮ লাখের বেশি এবং বৈদ্যুতিক সাইকেলে ৩০ লাখের বেশি যাত্রা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব যাত্রার মধ্যে কতটি অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত, তার পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই। ফলে অপরাধে এসব যান কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বড় কারণ হলো, যান ভাড়া নেওয়ার সময় ব্যবহারকারীর বয়স ও পরিচয় যাচাই কতটা কার্যকর। ওয়াশিংটনের নিয়ম অনুযায়ী, ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার চালাতে হলে বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। একটি ভাড়ার যান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, বয়স যাচাইয়ের জন্য ব্যবহারকারীর মুখের ছবি অথবা পরিচয়পত্রের ছবি চাওয়া হয়। তবে কিছু কিশোর অন্যের ছবি ব্যবহার করে বা ছবি পরিবর্তন করে যাচাইব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। এ ধরনের অপব্যবহারের কারণে এক সপ্তাহে শতাধিক ব্যবহারকারীর হিসাব বন্ধ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে অপরাধের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। কতজন নিয়ম ভেঙেছেন, তাঁদের মধ্যে কতজন কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং যাচাইব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কতটি অপরাধ ঘটেছে, তা জানতে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। অপরাধের পর কেউ বৈদ্যুতিক সাইকেল বা স্কুটারে পালিয়ে গেলে তাকে শনাক্ত করা তদন্তকারীদের জন্য কঠিন হতে পারে। তবে ভাড়ার হিসাব, যাত্রার সময় এবং যানটির অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য তদন্তে কাজে আসতে পারে। এসব তথ্যের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে কোনো যান কোথায় ছিল, তা যাচাই করার সুযোগ থাকে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, আইনগত প্রক্রিয়া মেনে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য চাইতে পারে। তবে কোনো যান কোথাও ছিল—এমন তথ্য পাওয়া মানেই সেটি ব্যবহারকারী অপরাধ করেছেন, তা নয়। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, অন্যান্য আলামত এবং তদন্তের ফলাফলের সঙ্গে এসব তথ্য মিলিয়ে দেখতে হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের তথ্য যথেচ্ছ ব্যবহার করা এক বিষয় নয়। তাই তদন্তে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন আইন ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নিয়ম মেনে হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ওয়াশিংটনের এই পরিস্থিতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। যান ভাড়া নেওয়ার সময় বয়স যাচাই কীভাবে আরও নির্ভরযোগ্য করা যায়, অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে হিসাব খোলা কীভাবে ঠেকানো যায় এবং অপরাধের অভিযোগ উঠলে ভাড়া দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পুলিশকে সহযোগিতা করবে—এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে শুধু বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলেই অপরাধ বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যক্তিগত গাড়ি বা অন্য যান ব্যবহার করেও অপরাধের পর পালানো সম্ভব। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অপরাধের ধরন, তদন্তের ফলাফল এবং নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান বিবেচনা করা জরুরি। ব্যবহারকারীদেরও নিজেদের ভাড়ার হিসাব অন্যের হাতে না দেওয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষিত রাখা উচিত। বয়সসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলাও জরুরি। কেউ কোনো অপরাধের ঘটনা দেখলে নিজে সন্দেহভাজনকে ধাওয়া না করে নিরাপদ স্থানে থেকে পুলিশকে জানানো উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ঝড়ে ২ জনের মৃ ত্যু, বিদ্যুৎহীন ৮ লাখ গ্রাহক
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ধনী প্রবীণরা, তিন বছরে তরুণদের সম্পদ কমেছে ২৩ শতাংশ