যুদ্ধে হারলেও দ্রুত ইরান যুদ্ধের অবসান চায় দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান: রয়টার্সের জরিপ
দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত দ্রুত ইরান যুদ্ধের ইতি টানা। এমনকি যদি ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জিত না হয়, তবুও তারা এই সংঘাতের অবসান চান বলে রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে মাত্র ২৭ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘসময় ধরে হলেও এই লড়াই চালিয়ে যাওয়া উচিত। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। সাধারণ মানুষের এই অনীহা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধকালীন কৌশলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, খোদ রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর মতভেদ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের দলের প্রায় ৪০ শতাংশ সমর্থক দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে মত দিলেও ৫৭ শতাংশ মনে করেন লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করা জরুরি। তবে সামগ্রিকভাবে দেশের ৬০ শতাংশ আমেরিকান ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলার সরাসরি বিরোধিতা করেছেন, যেখানে মাত্র ৩৫ শতাংশ নাগরিক এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। ১ হাজার ২১ জন নাগরিকের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ কমছে এবং তারা এর পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই বেশি ঝুঁকে পড়ছেন। যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে ভোটারদের এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আমেরিকার সাধারণ মানুষের উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একটি জ্বালানি মূল্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকেই তেলের এই চড়া দাম কার্যকর হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজনই আশঙ্কা করছেন যে, আগামী এক বছরে তেলের দাম আরও বাড়বে। এমনকি ৪ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থকও এই উদ্বেগের সাথে একমত পোষণ করেছেন। অর্ধেকেরও বেশি উত্তরদাতা মনে করেন, এই যুদ্ধ তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যখন মুদ্রাস্ফীতির চাপে পিষ্ট, তখন সুদূর মধ্যপ্রাচ্যে এই ব্যয়বহুল অভিযান নিয়ে তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এই জনমত ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান দলের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে। আগামী নভেম্বরে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা নির্ধারণ করবে প্রতিনিধি সভা ও সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ টিকে থাকবে কি না। সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলো সব সময়ই কঠিন হয়, আর যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক অস্থিরতা সেই ঝুঁকিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটাররা যদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে ক্ষুব্ধ থাকেন, তবে তার প্রতিফল সরাসরি ভোটের বাক্সে পড়বে। মুদ্রাস্ফীতি এবং তেলের দামের উর্ধ্বগতি আসন্ন নির্বাচনে প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠতে পারে, যা বর্তমান প্রশাসনের জন্য মোটেও সুখকর কোনো সংকেত নয়।
সব মিলিয়ে, ইরানের সাথে এই সংঘাত কেবল সামরিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। অধিকাংশ নাগরিকই এখন মনে করছেন যে, অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধে জড়িয়ে থাকার চেয়ে একটি সম্মানজনক প্রস্থান বা দ্রুত যুদ্ধ বিরতিই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। ট্রাম্প প্রশাসন যখন তাদের ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে অনড় অবস্থানে রয়েছে, তখন খোদ নিজ দেশের জনগণের এমন অনীহা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা হোয়াইট হাউসের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। বিশ্ববাজারের টালমাটাল অবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব রাজনীতি
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবার আরও প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং বাণিজ্য ও শুল্কনীতি—একাধিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতির সমালোচনা করেছে নয়াদিল্লি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগকে ওয়াশিংটন যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা এবং ভারতের ওপর প্রভাব ফেলা বাণিজ্যনীতিও নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সাধারণত পর্দার আড়ালে আলোচনা করত নয়াদিল্লি। কিন্তু কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ভারত এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্যগুলো আরও খোলাখুলিভাবে তুলে ধরছে। বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে বড় বিরোধ দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় সমস্যা এখন বাণিজ্য। ২০২৫ সালে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ভারতের পক্ষে প্রায় ৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল। জয়শঙ্কর বলেন, কোনো দেশ নিজের স্বার্থকে এমনভাবে অগ্রাধিকার দিতে পারে না, যাতে অন্য দেশের মানুষের জীবন কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বিশেষ করে কৃষি খাতের বিষয়টি তুলে ধরেন। ভারতের কৃষকদের সুরক্ষার জন্য দেশটি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিপণ্যের বাজারে নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। জয়শঙ্করের ভাষায়, আলোচনায় মোটামুটি একটি সমঝোতা তৈরি হয়েছে এবং চুক্তিটি সম্পন্ন হলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ তেল কেনা নিয়েও ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে ভারত সতর্ক করেছিল, রুশ তেল কেনার কারণে নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তান নিয়ে ভারতের আপত্তি সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতেও ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতপার্থক্য রয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, পাকিস্তান থেকে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের যে হুমকির কথা ভারত বলে আসছে, সেটিকে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না। ভারতের জন্য বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়েছে কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিতে নিজের ভূমিকার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। ভারত অবশ্য কাশ্মীরসহ এসব বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের নেতৃত্ব ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রশংসা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এ অবস্থায় ভারতের কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। মোদি সরকারের ওপরও বাড়ছে চাপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরেও মোদি সরকারের ওপর চাপ রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে ভারত বারবার নতি স্বীকার করছে—এমন অভিযোগ বিরোধীদের কাছ থেকে আসছে। এই পরিস্থিতিতে জয়শঙ্করের প্রকাশ্য বক্তব্যকে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন কয়েকজন বিশ্লেষক। তাদের মতে, নয়াদিল্লি এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি নিজেদের স্বার্থ ও মতপার্থক্যগুলোও প্রকাশ্যে তুলে ধরতে চাইছে। ভারতীয়দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বহু বছর ধরে বিদেশে দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের কাজের সুযোগকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হলেও এখন অভিবাসননীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে। সম্পর্ক কি পুরোপুরি ভেঙে যাচ্ছে? তবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাচ্ছে—এমনটা বলছেন না বিশ্লেষকেরা। চ্যাথাম হাউসের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক চিয়েটিগ বাজপেয়ি মনে করেন, দুই দেশই সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা ধরে রেখেছে। তাঁর মতে, একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও বাণিজ্য, সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তান ও অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বলছে, নয়াদিল্লি আগের তুলনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আনতে এখন বেশি প্রস্তুত।
আই এ সের হাত থেকে ৩০ হাজার প্রাচীন নিদর্শন বাঁচাতে জীবন বাজি রাখেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা
ইরানকে খোঁচা দিয়ে হরমুজ প্রণালির নতুন নাম দিলেন ট্রাম্প!
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান হারবে: জাতিসংঘে নেতানিয়াহু
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ঘিরে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ। ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন শি জিনপিং। বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান, ইরানসহ যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুই নেতার আলোচনার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানের সফর উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান, সামরিক প্রদর্শনী এবং বিশেষ উড়োজাহাজ মহড়া। ফলে দুই নেতার বৈঠক কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নানা আনুষ্ঠানিক আয়োজনেরও কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে। এই সফরের আগে দুই নেতার বয়স ও শারীরিক সুস্থতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ৭৩ বছর বয়সী শি জিনপিংকে ঘিরে সম্প্রতি স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের একটি নৈশভোজে তিনি উপস্থিত না থাকায় এবং পরে কয়েক দিন প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে গুরুতর অসুস্থতার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও শি অসুস্থ হওয়ার দাবি নাকচ করে এসব পোস্টকে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বলে সতর্ক করেছে। অন্যদিকে ৮০ বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি ওয়াল্টার রিডে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পর ট্রাম্প নিজেকে ‘পুরোপুরি সুস্থ’ বলে দাবি করেছেন। তার বয়স নিয়ে যে ধরনের আলোচনা হচ্ছে, একই ধরনের যাচাই-বাছাই সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছিল। দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠক যতটা কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই সামনে আসছে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার প্রশ্ন। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা নেতারা যখন বয়সের শেষ প্রান্তে পৌঁছাচ্ছেন, তখন তারা ভবিষ্যতে কখন নেতৃত্ব থেকে সরে যাবেন এবং তাদের পরবর্তী নেতৃত্ব কেমন হবে—সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। আর এখানেই বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ বিশ্বের কিছু ক্ষমতাধর নেতা দীর্ঘ সময় ক্ষমতার শীর্ষে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন। ফলে তাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নয়, নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতার হস্তান্তর এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্বের চোখ আজ ট্রাম্পের দিকে: জাতিসংঘের মঞ্চে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কী বার্তা দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু
গাজা উপত্যকায় হামাসবিরোধী কয়েকটি সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও শিন বেতের কার্যক্রমের কার্যত সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের ওই অনুসন্ধানে স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় এসব গোষ্ঠীকে ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক সহায়তা ও নিরাপত্তা দিচ্ছে। এর মধ্যে আর্টিলারি ও ড্রোন সহায়তা এবং অভিযানের সময় নিরাপত্তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে হামাসকে মোকাবিলায় স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করার কথা স্বীকার করেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, হামাসের বিরুদ্ধে এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের স্বার্থের মিল রয়েছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের বক্তব্যের বরাতে হারেৎজ জানিয়েছে, এই সহযোগিতার ফলে ইসরায়েলি বাহিনী ও স্থানীয় মিলিশিয়াদের কর্মকাণ্ডের সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। কিছু এলাকায় এসব সশস্ত্র সদস্যকে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানের কাছাকাছি অবাধে চলাফেরা করতে এবং শক্তি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এক ইসরায়েলি সেনার সাক্ষ্যের বরাতে প্রতিবেদনে একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর বিরোধের সময় এক বন্দুকধারী অন্য এক ব্যক্তির পায়ে গুলি করেন। ওই সেনার দাবি, ঘটনাটি সেখানে শাস্তির একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল এবং ইসরায়েলি সেনারা ঘটনাটি দেখে হতবাক হয়ে যান। আরেক ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু মিলিশিয়া সদস্য পিকআপ ট্রাকে করে আবাসিক এলাকায় ঢুকে গুলি চালানো, বাড়িঘরে লুটপাট এবং স্থাপনা পুড়িয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। এসব অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। হারেৎজের অনুসন্ধানে গাজার বেইত হানুন, শুজাইয়া, দেইর আল বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকায় অন্তত পাঁচটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটির অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজার অন্যান্য এলাকায় পুনর্গঠন কার্যক্রম থমকে থাকলেও এসব ঘাঁটির কিছু সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেখানে ভারী যন্ত্রপাতি, কংক্রিটের প্রতিরক্ষা দেয়াল এবং মোবাইল আবাসন স্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘পপুলার ফোর্সেস’ ও ‘কাউন্টার টেররিজম স্ট্রাইক ফোর্স’ নামে পরিচিত কয়েকটি গোষ্ঠী ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বিভাজনরেখার কাছে মোতায়েন রয়েছে। তারা হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান, নিষিদ্ধ পণ্য উদ্ধারের পাশাপাশি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার কাজে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। হারেৎজের সঙ্গে কথা বলা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এসব গোষ্ঠীর নেতাদের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত নেতা হিসেবে দেখছেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক গ্যাং সদস্য, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা কিংবা হামাসের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাও তাদের কর্মকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন। ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্বের দৃষ্টিতে এসব গোষ্ঠী নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তবে ইসরায়েলি সামরিক সুরক্ষা ও সহায়তা ছাড়া এসব গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সক্ষমতা সীমিত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, হামাসবিরোধী এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, এসব ইসরায়েল-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিলুপ্তি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু ওই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে হামাসও জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েল-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকা অবস্থায় তারা অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি নয়। ফলে এসব স্থানীয় মিলিশিয়াকে ঘিরে ইসরায়েল ও হামাসের অবস্থান শান্তি আলোচনার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের