বিশ্ব

সাত বছর পর উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং, কিম জং উনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ১৮:৩৪
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সাত বছর পর বিরল রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ায় পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে তাকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক জোরদারের বিষয় নয়, বরং উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চীনের কৌশলগত অবস্থান পুনর্নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে পিয়ংইয়ং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সল জু।

 

সফরের শুরুতেই ২১ বার তোপধ্বনি, সামরিক ব্যান্ডের পরিবেশনায় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত এবং আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। পরে রাজধানীর প্রধান চত্বরে হাজারো মানুষ, শিশু-কিশোর ও সাংস্কৃতিক দলের সদস্যরা চীন ও উত্তর কোরিয়ার পতাকা, ফুল এবং বেলুন হাতে শি জিনপিংকে স্বাগত জানান। পিয়ংইয়ংয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনেও দুই দেশের জাতীয় পতাকা টানানো হয়।

 

দুই দিনের এই সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই নেতা সর্বশেষ গত বছর বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

 

সফরের আগে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক নিবন্ধে শি জিনপিং বলেন, বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক এখন "নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে" দাঁড়িয়ে আছে এবং সামনে নতুন উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বজায় রাখা, সুসংহত করা এবং আরও বিকশিত করা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির দীর্ঘদিনের অবিচল নীতি।

 

দীর্ঘদিন ধরে চীনকে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মিত্র হিসেবে দেখা হয়ে আসছে। বিভিন্ন গবেষণা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগই চীনের সঙ্গে সম্পন্ন হয়। ফলে দেশটির অর্থনীতিতে বেইজিংয়ের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সম্পর্কের গতিপথে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা গেছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সামরিক সরঞ্জাম, গোলাবারুদ এবং জনবল সরবরাহের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়েছে।

 

এই পরিস্থিতিতে চীন চাইছে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিজেদের প্রভাব ও কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বেইজিং উদ্বিগ্ন যে পিয়ংইয়ং যেন অতিরিক্তভাবে মস্কোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের নেতৃত্বের অবস্থানও তুলে ধরতে চায় চীন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সফরে উত্তর কোরিয়ার জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা প্যাকেজ, চাল ও সার সরবরাহ, চীনা পর্যটকদের উত্তর কোরিয়া ভ্রমণ পুনরায় চালু করা এবং যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এসব উদ্যোগ উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এদিকে এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, কোরীয় উপদ্বীপ, তাইওয়ান প্রণালি, দক্ষিণ চীন সাগর এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

সব মিলিয়ে, সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের এই রাষ্ট্রীয় সফর শুধু দুই দেশের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বের প্রতীক নয়; বরং উত্তর-পূর্ব এশিয়ার ভবিষ্যৎ কৌশলগত ভারসাম্য এবং চীন-রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের নতুন গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবিঃ সুপ্রিম কোর্ট, ভারত
বিয়ের আগে সম্মতিপূর্ণ শারীরিক সম্পর্ককে চরিত্রের দোষ হিসেবে দেখা যাবে না: ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট

বিয়ের আগে দুই প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত মানুষের সম্মতিপূর্ণ শারীরিক সম্পর্ককে কোনো ব্যক্তির চরিত্রগত ত্রুটি বা নৈতিক অযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে আদালত মন্তব্য করেছে, সব সম্পর্কের পরিণতি বিয়ে নয়। তাই কোনো সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়নি বলেই কাউকে প্রতারক বা সরকারি চাকরির জন্য অনুপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।   তেলেঙ্গানার এক পুলিশ কনস্টেবল প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের ঘটনায় করা মামলার রায়ে এ মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মনমোহন ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্টাইপেন্ডিয়ারি ক্যাডেট ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবল পদে নির্বাচিত এক প্রার্থী। নিয়োগের প্রাথমিক ধাপ পেরোলেও তার বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের হওয়া একটি মামলার কারণে তেলেঙ্গানা স্টেট লেভেল পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড তার নিয়োগ বাতিল করে।   কী ছিল মামলার পটভূমি? আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি এক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে ২০১৫ সালে লোক আদালতের মাধ্যমে উভয় পক্ষের সমঝোতায় মামলাটির নিষ্পত্তি হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুলিশে চাকরির আবেদন করার সময় প্রার্থী নিজেই ওই মামলার তথ্য নিয়োগ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। তবুও নিয়োগ বোর্ড তার নৈতিক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে চাকরির সুযোগ বাতিল করে।   পরে বিষয়টি আদালতে গেলে প্রথমে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়। কিন্তু পুনর্বিবেচনার পরও বোর্ড একই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর আবারও আদালতের নির্দেশে তাকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হলেও হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সেই আদেশ বাতিল করে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়।   ‘সব সম্পর্ক বিয়েতে পৌঁছায় না’ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, দুই প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত মানুষের মধ্যে সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে চরিত্রহীনতা বা নৈতিক দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।   আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে, আইন কোথাও এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়নি যে দুই প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত ব্যক্তি নিজেদের ইচ্ছায় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন না।   বেঞ্চ আরও বলে, “সব সম্পর্কের পরিণতি বিয়ে হয় না। তাই কোনো সম্পর্ক বিয়েতে রূপ নেয়নি বলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে একজন অন্যজনকে প্রতারণা করেছেন।”   আদালতের মতে, একটি সম্পর্কের শেষ পরিণতি বিয়ে না হওয়া মানেই প্রতারণা হয়েছে, এমন ধারণা বাস্তবতা ও আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   সমঝোতা মানেই দোষ স্বীকার নয় রায়ে আরও বলা হয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত অভিযোগে দায়ের হওয়া কোনো মামলা যদি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়, তাহলে সেটিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির দোষ স্বীকার হিসেবে গণ্য করা যাবে না।   সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে, কোনো ফৌজদারি মামলা সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হয়েছে বলেই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে না।   তবে আদালত এটাও স্পষ্ট করেছে, যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে অভিযোগকারীকে জোরপূর্বক বা চাপের মুখে সমঝোতায় বাধ্য করা হয়েছে, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।   বদলে যাওয়া সামাজিক বাস্তবতার উল্লেখ রায়ে বর্তমান সমাজে সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছে, বিয়ের আগে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্পর্ক এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যায় এবং দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৈধ সম্মতির ধারণা গুরুত্বপূর্ণ।   মামলার নথি পর্যালোচনা করে আদালত দেখতে পায়, অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ছিলেন প্রতিবেশী এবং তারা দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরকে চিনতেন। সমঝোতার ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা জবরদস্তির কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।   ‘প্রতারণা হয়েছে কি না, তা অভিযোগকারীই বলতে পারেন’ সুপ্রিম কোর্ট আরও মন্তব্য করেছে, এই ধরনের মামলায় প্রতারণার প্রশ্নটি অত্যন্ত ব্যক্তিনির্ভর।   রায়ে বলা হয়, অভিযোগকারী নিজেকে প্রতারিত মনে করেছেন কি না, তা মূলত তিনিই বলতে পারেন। অন্য কেউ তার হয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না।   আদালত উল্লেখ করে, যেহেতু অভিযোগকারী পরবর্তীতে মামলাটি এগিয়ে নিতে চাননি এবং স্বেচ্ছায় সমঝোতায় অংশ নিয়েছিলেন, তাই ওই প্রার্থীর চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট ভিত্তি নিয়োগ বোর্ডের কাছে ছিল না।   আইনি ও সামাজিক গুরুত্ব আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় শুধু একটি নিয়োগসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতি এবং সম্পর্কের বিষয়ে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সম্মতির প্রশ্নে ভারতের বিভিন্ন আদালত যে অবস্থান নিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। একই সঙ্গে এটি সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘নৈতিক চরিত্র’ মূল্যায়নের সীমা ও মানদণ্ড নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে।   রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করেছে যে ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি সম্পর্কের পরিণতি বিয়ে হতে হবে, এমন কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে শুধুমাত্র একটি সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়নি বলেই কাউকে সামাজিক বা পেশাগতভাবে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ১৯:৪৪
ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলের বিরুদ্ধে 'অপারেশন নাসর' শুরু করল ইরান

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত

সাত বছর পর উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং, কিম জং উনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ

লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, হামলার হুমকি বাড়াল হুতি

লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, হামলার হুমকি বাড়াল হুতি

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই।
ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ, ইসরায়েলকে দায়ী করল তেহরান

ইরানের ওপর সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলাগুলো মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, এই হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি দায় রয়েছে এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা বাড়ছে, তার পরিণতি ওয়াশিংটনকেই বহন করতে হবে।   সোমবার (৮ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘেই বলেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বৃহত্তর কৌশলগত সমন্বয়ের অংশ।   একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বাঘেইর ভাষ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির অবস্থান ‘রাজনৈতিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।   ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার ভোরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি বড় পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ওই শিল্প কমপ্লেক্সের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   এরই মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই পুরো অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা বাড়ছে। ওই সময়ের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর আঘাত হানে।   পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে শান্তি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে।   তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ১৭:১৪
ছবি: সংগৃহীত

জাপানের উটসুনোমিয়া শহরে ভালুকের আতঙ্ক, ৯৪টি স্কুল বন্ধ ঘোষণা

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। ছবি: সংগৃহীত

‘তেলাপোকা’ মন্তব্যের পর এবার তরুণদের ভূয়সী প্রশংসা ভারতের প্রধান বিচারপতির

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ছবি: রয়টার্স

‘আজ রাতে তেহরানকে জ্বলতে হবে’: ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরের মন্তব্যে নতুন উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত
জাপানে নজির গড়লেন নারী মেয়র শোকো কাওয়াতা, নিচ্ছেন মাতৃত্বকালীন ছুটি

জাপানের কিয়োটো প্রিফেকচারের ইয়াওয়াটা সিটির ৩৫ বছর বয়সী মেয়র শোকো কাওয়াতা সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১৬ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৩ সালে নির্বাচিত এই মেয়রের সিদ্ধান্ত দেশটির স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ব্যতিক্রমী নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।   কাওয়াতা জানিয়েছেন, তিনি আনুমানিক সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তার প্রথম সন্তানের জন্ম দেবেন। এ উপলক্ষে সন্তান জন্মের আগে ও পরে মোট ১৬ সপ্তাহ, অর্থাৎ ৮ সপ্তাহ করে ছুটিতে থাকবেন। নির্বাচিত কোনো মেয়রের ক্ষেত্রে এ ধরনের দীর্ঘ মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার ঘটনা জাপানে এটিই প্রথম বলে ধারণা করা হচ্ছে।   জাপানের বিদ্যমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির বিধান থাকলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নিয়ম নেই। ফলে বিষয়টি প্রশাসনিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ধূসর পরিসরে অবস্থান করছে।   কাওয়াতা জানিয়েছেন, তার অনুপস্থিতিতে সিটি প্রশাসনের দায়িত্ব সামলাতে একজন ডেপুটি নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি আংশিকভাবে ই-মেইল ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখবেন বলেও উল্লেখ করেছেন। তার এই সিদ্ধান্ত জাপানে কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য, লিঙ্গসমতা এবং জন্মহার সংকট নিয়ে নতুন করে জাতীয় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জাপানের কর্মসংস্কৃতি ও রাজনৈতিক কাঠামো এখনো অনেকাংশে পুরুষকেন্দ্রিক। পরিবর্তনের গতি ধীর হওয়ায় নারীদের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন ও মাতৃত্বকালীন সহায়তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।   জাপানে দীর্ঘদিন ধরে কম জন্মহার, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং নারীদের ক্যারিয়ার ও পারিবারিক দায়িত্বের দ্বৈত চাপে জনসংখ্যা সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২:৫
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী কারা, কী তাদের পরিচয়

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা

ছবি: সিএনএন

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় বাড়ছে অস্বস্তি, যুদ্ধের প্রভাব পৌঁছাচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনে

0 Comments