আমেরিকা

ট্রাম্পকে ভোট না দেয়া অঙ্গরাজ্যগুলোর জ্বালানি অনুদান বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ২১:২৯
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রকল্পের অনুদান বাতিল নিয়ে নতুন বিতর্কে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রকল্পের অনুদান বাতিল নিয়ে নতুন বিতর্কে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিবেচনায় জ্বালানি খাতের অনুদান বাতিলের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ (ডিওই) স্বীকার করেছে, ২০২৫ সালে বাতিল করা অধিকাংশ অনুদান এমন অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রকল্পে দেওয়া হয়েছিল, যেগুলো ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করেছিল। 

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রথমে প্রায় ৬২৪টি জ্বালানি প্রকল্পের অনুদান বাতিলের জন্য পর্যালোচনায় রাখা হয়েছিল। পরে এর মধ্যে ২৮৪টি অনুদান বাতিল করা হয়। জ্বালানি বিভাগের আইনজীবীরা আদালতে জানান, একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বাতিল হওয়া প্রায় সব অনুদানের প্রকল্পই এমন অঙ্গরাজ্যে ছিল, যেগুলো হ্যারিসকে ভোট দিয়েছিল এবং যাদের প্রতিনিধি ছিলেন ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত সিনেটর। একই তালিকায় থাকা রিপাবলিকান-সমর্থিত অঙ্গরাজ্যগুলোর শত শত অনুদান অবশ্য বাতিল করা হয়নি। 

 

এতে করে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের অবস্থানের সঙ্গে নতুন আইনি বক্তব্যের স্পষ্ট অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। আগে জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রকল্পগুলোর অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, ব্যয় সাশ্রয় এবং নীতিগত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অনুদান বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, কোন অনুদান বাতিল হবে তা নির্ধারণে প্রকল্পের কর্মদক্ষতা, আইনি ভিত্তি বা ব্যয়-সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। 

 

বাতিল হওয়া এসব অনুদানের মোট মূল্য প্রায় ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এগুলোর মধ্যে ছিল বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়ন, হাইড্রোজেন জ্বালানি, কার্বন সংরক্ষণ, ব্যাটারি উৎপাদন এবং অন্যান্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রকল্প। এসব প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গরাজ্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। 

 

ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এ ঘটনাকে ফেডারেল অর্থায়নকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, এতে কর্মসংস্থান, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের বিনিয়োগ এবং স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি বিভাগ বলছে, তাদের অবস্থানের মধ্যে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় নেই এবং আদালতে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। 

 

এদিকে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন জ্বালানি বিভাগের অভ্যন্তরীণ পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর জেনারেল) তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্তে অনুদান বাতিলের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত ছিল কি না এবং ফেডারেল অর্থ বরাদ্দে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রভাব ফেলেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহুদি কর্মীদের তথ্য চাওয়ার সমন প্রত্যাহার করেছে ইইওসি। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহুদি কর্মীদের তথ্য চেয়ে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন, শেষ পর্যন্ত দাবি প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (পেন)-এর ইহুদি কর্মীদের নাম ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য চাওয়ার বিতর্কিত দাবি প্রত্যাহার করেছে। আদালতে দাখিল করা নতুন নথিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ নিয়ে চলমান ফেডারেল তদন্ত বন্ধ হচ্ছে না; কেবল বিতর্কিত সমনটি আর কার্যকর করা হবে না।    মামলাটি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সমান কর্মসংস্থান সুযোগ কমিশন (ইইওসি)। সংস্থাটি আগে পেন বিশ্ববিদ্যালয়কে ইহুদি কর্মীদের নাম, যোগাযোগের তথ্য এবং কিছু ইহুদি-সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যদের তথ্য দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তুলে সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করে।    নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, ইইওসি ওই সমন আর কার্যকর করবে না। এর বিনিময়ে পেন বিশ্ববিদ্যালয়ও আদালতে করা আপিল প্রত্যাহার করবে। বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের কোনো কর্মীর ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি এবং তারা কর্মীদের অধিকার রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ইহুদিবিদ্বেষসহ সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।    এই বিরোধের সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তদন্তকে কেন্দ্র করে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এসব তথ্য প্রয়োজন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন যুক্তি দেয়, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কর্মীদের তালিকা চাওয়া ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক নজির তৈরি করতে পারে।    এর আগে এক ফেডারেল বিচারক বিশ্ববিদ্যালয়কে তথ্য দিতে নির্দেশ দিলেও আপিলের সুযোগ দিতে সেই আদেশ সাময়িক স্থগিত করেছিলেন। সর্বশেষ সমঝোতার ফলে সেই আইনি বিরোধের অবসান ঘটলেও, পেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ নিয়ে ইইওসির মূল তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে সংস্থাটি অন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ২২:২০
পেপার স্প্রে ব্যবহারের অভিযোগে এক হেয়ারস্টাইলিস্টকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

চুলের স্টাইল পছন্দ না হওয়ায় ক্ষোভে গ্রাহকের পরিবারকে পেপার স্প্রে! গ্রেপ্তার হেয়ারস্টাইলিস্ট

লুমুম্বা সেয়ার্স সিনিয়রকে ৫১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে কলোরাডোর আদালত। ছবি: সংগৃহীত

ছেলের হত্যার প্রতিশোধ নিতে, প্রকাশ্যে খুনিকে গুলি করে হত্যা করায় বাবার ৫১ বছরের কারাদণ্ড

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রকল্পের অনুদান বাতিল নিয়ে নতুন বিতর্কে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পকে ভোট না দেয়া অঙ্গরাজ্যগুলোর জ্বালানি অনুদান বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন লেসলি সোনেনক্লার। ছবি: সংগৃহীত
৩২ বছরের অভিজ্ঞতাই যখন বড় বাধা: ৩০০ প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও চাকরি পাচ্ছেন না ৫৫ বছর বয়সী মার্কিন পেশাজীবী

সুদীর্ঘ তিন দশকের পেশাগত সাফল্য, বিশাল অভিজ্ঞতা এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের দক্ষতা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই যা হওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে বড় সম্পদ। অথচ বর্তমান বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত শ্রমবাজারে সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ বছর বয়সী মার্কিন যোগাযোগের মাধ্যম ও বিষয়বস্তু (কন্টেন্ট) বিশেষজ্ঞ লেসলি সোনেনক্লারের জন্য। গত বছরের মার্চ মাসে চাকরি হারানোর পর টানা ১৪ মাসে তিনি ৩০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেছেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিজের এই হতাশাজনক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন আমেরিকার এরিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরের বাসিন্দা লেসলি। পেশাগত জীবনে এত বড় ধাক্কা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি তিনি এর আগে কখনো হননি। ১৯৯৪ সালে একজন বিপণন সমন্বয়ক (মার্কেটিং কোঅর্ডিনেটর) হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন লেসলি। পরবর্তীতে তিনি টানা ১১ বছর নিজস্ব ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করেন এবং সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় বিষয়বস্তু ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান বা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দা ও প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রবাহে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি চাকরিচ্যুত হন।   চাকরি হারানোর পর থেকে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ নারী। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের অভিজ্ঞতা পুনর্মূল্যায়ন করে প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ‘জীবনবৃত্তান্ত’ (রিজিউমি) তৈরি করেছেন। পেশাদার নেটওয়ার্ক লিংকডইন থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এমনকি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের পদ মর্যাদার চাকরির জন্যও আবেদন করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। তবুও বারবার তিনি উপেক্ষিত হয়েছেন।   নিজের এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লেসলি বিজনেস ইনসাইডারকে বলেন, “চাকরির বিজ্ঞাপনে দেখা যায় শত শত মানুষ আবেদন করছেন। লিংকডইনে যখন দেখি এক একটি পদের জন্য শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে, তখন ভাইভা বা সাক্ষাতকারের আগেই মনে হয় আমার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। কোম্পানিগুলো অভিজ্ঞতা চায় ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে তারা এমন এক অদ্ভুত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী খোঁজে যিনি একই সাথে কৌশল তৈরি করবেন, লেখালেখি করবেন, এসইও সামলাবেন, আবার ডিজাইনও করবেন। একজন জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীর ক্ষেত্রে সব বিষয়ে একসাথে সর্বগুণসম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে না।”   লেসলির ধারণা, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তার বয়সই প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। অনেক নিয়োগকারী সংস্থাই তাকে জীবনবৃত্তান্তে পুরো ৩২ বছরের অভিজ্ঞতার কথা না লিখে কেবল শেষ ১০ বছরের কাজের বিবরণ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা ও বয়সভিত্তিক বৈষম্য (এজইজম) এখন স্পষ্ট। প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় বয়স কম এমন তরুণ কর্মীদের কম বেতনে নিয়োগ দিয়ে নিজের মতো গড়ে নিতে পছন্দ করে, যা জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সুযোগ সংকুচিত করে দিচ্ছে।   প্রথমে শুধুমাত্র ঘরে বসে বা দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে (রিমোট জব) কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও, দীর্ঘ ৯ মাস পর বাধ্য হয়ে নিজের এলাকার স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে সরাসরি কাজের আবেদন শুরু করেন লেসলি। অনলাইনে সরাসরি আবেদনের চেয়ে পরিচিতদের মাধ্যমে বা রেফারেন্সে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিনের পরিচিত ও সহকর্মীদের অনেকেই এখন আর মেসেজের জবাব দেন না, যা তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে ফেলছে।   তবে দীর্ঘ সময় বেকার থাকলেও আগাম আর্থিক পরিকল্পনার কারণে লেসলির অবসরকালীন ফান্ড বা বর্তমান জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। তিনি আগে থেকেই সঞ্চয়মুখী হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে টানা এক বছর ধরে অবসরকালীন তহবিলে জমা করতে না পারায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খানিকটা চিন্তা থেকে যাচ্ছে।   এত সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন এই প্রবীণ পেশাজীবী। তার বিশ্বাস, এটি একটি সাময়িক বিপর্যয় মাত্র এবং দ্রুতই তিনি তার যোগ্যতার মর্যাদা পাবেন। এই ঘটনাটি শুধু লেসলির একার নয়, বরং বিশ্বজুড়ে অভিজ্ঞ ও বয়স্ক কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে যে বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এটি তারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ২১:২২
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে হত্যাকাণ্ডের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছে সিসিজে। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কমছে খুনের ঘটনা, ১০০ বছরের মধ্যে হার সর্বনিম্নে

নিহত অ্যাঞ্জেলা ক্যাপ্রিওলি এবং তার সন্তান সেফোর্ড উলফসন, যাকে পরবর্তীতে পুলিশ গ্রেফতার করে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় মাকে হত্যার অভিযোগে ট্রান্সজেন্ডার সন্তান গ্রেপ্তার, নেপথ্যে রহস্যজনক সোশাল পোস্ট

ছবি: বামে এওসি, মাঝে পিট বুটিজেজ এবং ডানে কমলা হ্যারিস (সংগৃহীত)

২০২৮ নির্বাচনের আগাম ডেমোক্র্যাটিক জরিপে বড় চমক, শীর্ষে এওসি, কমলা হ্যারিসের সমর্থন ৫ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মর্টগেজ সুদে নতুন বাড়ি কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ক্রেতারা
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মর্টগেজ সুদে নতুন বাড়ি কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ক্রেতারা

টানা দুই মাসের মন্দা কাটিয়ে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এক-পরিবারভিত্তিক বাড়ি বিক্রি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চড়া মর্টগেজ সুদের হার এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা এখনো নতুন বাড়ি কেনা থেকে পিছিয়ে থাকছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেন্সাস ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের তুলনায় জুন মাসে দেশটিতে নতুন বাড়ি বিক্রি ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বার্ষিক ৬ লাখ ২৮ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রির এই হার এখনো প্রায় ৫.৬ শতাংশ কম।   অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে জুন মাসে নতুন বাড়ি বিক্রির সংখ্যা ৬ লাখ ২৮ হাজারে পৌঁছালেও, বাড়তি সুদের চাপ বর্তমানে দেশটির আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া নতুন বাড়ির মধ্যবর্তী মূল্য (মিডিয়ান প্রাইস) ছিল ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৩০০ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৭ শতাংশ কম। তবে এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় '৩০ বছর মেয়াদী ফিক্সড মর্টগেজ'-এর গড় সুদের হার গত সপ্তাহে বেড়ে ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বন্ধকি ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ‘ফ্রেডি ম্যাক’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে গড়ে এই ঋণের সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৬.৫৮ শতাংশে।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পায়, যা সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ফেডারেল রিজার্ভ' মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় বন্ড মার্কেট ও মর্টগেজ বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী সেপ্টেম্বরে হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকে সুদের হার ফের বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। সুদের হার কমার তাৎক্ষণিক কোনো সম্ভাবনা না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি বিক্রির বাজার এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৯:৪১
ক্যালিফোর্নিয়ায় আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে ১৯ লাখ ডলারের বাড়িরই দখল নিলেন ফরাসি ভাড়াটিয়া I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ক্যালিফোর্নিয়ায় আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে ১৯ লাখ ডলারের বাড়িরই দখল নিলেন ফরাসি ভাড়াটিয়া

ছবি: ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশ (সংগৃহীত)

ক্যাটফিশ থেকে ক্যাটফিশে ছড়াচ্ছে জীবন্ত ক্যানসার কোষ, প্রথমবার শনাক্ত করলেন বিজ্ঞানীরা

বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী

মিশিগানে প্রাইমারির আগে ‘মিট দ্য প্রেস’, নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী

0 Comments