গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা সফল না হওয়ার পর এবার ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর কাছে এমন একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে মরিশাসের কাছ থেকে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ সরাসরি কিনে নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন অর্থমন্ত্রী Scott Bessent এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। যদিও এটি বর্তমানে হোয়াইট হাউসের প্রধান বা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিকল্প নয়, তবুও সম্ভাব্য কয়েকটি নীতিগত বিকল্পের মধ্যে বিষয়টি রয়েছে বলে জানা গেছে।
চাগোস দ্বীপপুঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-এর সরকার এ নিয়ে একটি চুক্তির পথে এগোলেও ২০২৬ সালে তা স্থগিত হয়ে যায়। ট্রাম্প ওই পরিকল্পনাকে আগে "বড় ভুল" বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো Diego Garcia। এখানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিটি ভারত মহাসাগর অঞ্চলে পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ডিয়েগো গার্সিয়ার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ওয়াশিংটন চায় না যে দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হোক, যা ঘাঁটির কার্যকারিতা বা নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি বলে জানিয়েছে Mauritius সরকার। সোমবার এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে চাগোস বা ডিয়েগো গার্সিয়া নিয়ে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি। একই সঙ্গে মরিশাস পুনর্ব্যক্ত করেছে যে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব ‘আলোচনাতীত’।
চাগোস দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে বিরোধ নতুন নয়। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ডিয়েগো গার্সিয়ায় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের সময় হাজারো স্থানীয় চাগোসবাসীকে দ্বীপ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এরপর থেকে দ্বীপটির মালিকানা, পুনর্বাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি অবস্থান নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আদালতও অতীতে এ বিষয়ে মতামত দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে নতুন আলোচনা কেবল ভূখণ্ডের মালিকানার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে ভারত মহাসাগরে সামরিক প্রভাব, চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা কৌশলও গভীরভাবে জড়িত। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মরিশাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনার ফলাফল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজন প্রাইম গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। অ্যামাজনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসির ২.৫ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতার আওতায় যোগ্য গ্রাহকেরা প্রাইম সদস্যপদের জন্য পরিশোধ করা অর্থের একটি অংশ ফেরত পেতে পারেন। যারা ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিফান্ড পাননি, তাদের ক্লেম করার শেষ সময় ২৭ জুলাই ২০২৬। এফটিসির অভিযোগ ছিল, অ্যামাজন অনেক গ্রাহককে তাদের যথাযথ ও স্পষ্ট সম্মতি ছাড়াই প্রাইম সদস্যপদে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়াকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল করে তুলেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মামলাটি নিষ্পত্তিতে ২.৫ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় পৌঁছায় অ্যামাজন। তবে প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগের দায় স্বীকার করেনি। সমঝোতার মোট অর্থের পুরোটাই গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে না। এর মধ্যে ১.৫ বিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে যোগ্য গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য। বাকি ১ বিলিয়ন ডলার অ্যামাজনকে দেওয়ানি জরিমানা হিসেবে দিতে হচ্ছে। এফটিসির তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী একজন গ্রাহক প্রাইম সদস্যপদের জন্য পরিশোধ করা অর্থ থেকে সর্বোচ্চ ৫১ ডলার পর্যন্ত ফেরত পেতে পারেন। কারা রিফান্ড পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন এফটিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যামাজন প্রাইম গ্রাহক হতে হবে। ২৩ জুন ২০১৯ থেকে ২৩ জুন ২০২৫ সালের মধ্যে এফটিসির মামলায় চ্যালেঞ্জ করা নির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাইম সদস্যপদ নেওয়া অথবা ওই সময়ে অনলাইনে প্রাইম সদস্যপদ বাতিল করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি যোগ্যতা নির্ধারণে বিবেচিত হবে। চ্যালেঞ্জ করা পদ্ধতিগুলোর মধ্যে অ্যামাজনের প্রাইমে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তসংক্রান্ত পৃষ্ঠা, পণ্য পাঠানোর পদ্ধতি নির্বাচনের পৃষ্ঠা, এক পাতার ক্রয় সম্পন্ন করার ব্যবস্থা এবং প্রাইম ভিডিওতে সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে একজন গ্রাহক ঠিক কোন পদ্ধতিতে প্রাইমে যুক্ত হয়েছিলেন, সেটি তাকে নিজে খুঁজে বের করতে হবে না। অ্যামাজনের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করা হবে। ইতোমধ্যে অনেক গ্রাহক রিফান্ড পেয়েছেন অ্যামাজন ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে যোগ্য অনেক প্রাইম গ্রাহককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত দিয়েছে। যারা সেই পর্যায়ে রিফান্ড পেয়েছেন, তাদের একই অর্থের জন্য নতুন করে দাবি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যেসব যোগ্য গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিফান্ড পাননি, তাদের কাছে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ই-মেইল অথবা ডাকযোগে ক্লেম করার নোটিশ পাঠানো শুরু হয়। ক্লেম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৭ জুলাই ২০২৬। ক্লেম জমা দেওয়ার সময় গ্রাহককে মূলত নিশ্চিত করতে হবে, সংশ্লিষ্ট সময়ে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রাইম সদস্যপদে যুক্ত হয়েছিলেন কি না অথবা অনলাইনে সদস্যপদ বাতিলের চেষ্টা করেও তা সম্পন্ন করতে পারেননি কি না। ক্লেম যাচাইয়ের পর অনুমোদিত হলে একজন গ্রাহক প্রাইম সদস্যপদের জন্য পরিশোধ করা অর্থ থেকে সর্বোচ্চ ৫১ ডলার পর্যন্ত ফেরত পেতে পারেন। অনুমোদিত গ্রাহকেরা চেক, পেপ্যাল অথবা ভেনমোর মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের সুযোগ পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি গ্রাহকদেরও খোঁজ নেওয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা সংশ্লিষ্ট সময়ে অ্যামাজন প্রাইম ব্যবহার করেছেন, তাদেরও নিজের যোগ্যতা যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে অ্যামাজন অথবা সমঝোতার অর্থ ফেরত কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত ই-মেইল বা চিঠি পেয়ে থাকলে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। তবে ২.৫ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতার কথা শুনে প্রত্যেক অ্যামাজন প্রাইম গ্রাহক রিফান্ড পাবেন, এমন নয়। কেবল সমঝোতায় নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী গ্রাহকেরাই অর্থ ফেরত পাওয়ার যোগ্য হবেন। রিফান্ডের নামে প্রতারণা থেকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এফটিসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, অ্যামাজনের এই রিফান্ড দেওয়ার কথা বলে এফটিসি কাউকে ফোন করছে না। রিফান্ড পেতে কোনো ধরনের ফি দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। অর্থের বিনিময়ে কেউ নিশ্চিত রিফান্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে সেটিকে প্রতারণার লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আবারও বন্দুক হামলার শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি রাইডশেয়ার চালক। ব্রুকলিনে এক যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর সামান্য সড়ক দুর্ঘটনার জেরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেই অজ্ঞাত এক ব্যক্তি খুব কাছ থেকে তার মুখে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হলেও অস্ত্রোপচারের পর তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে দায়িত্ব পালনরত চালকদের ওপর এটি দ্বিতীয় বন্দুক হামলার ঘটনা। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিন এলাকার নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউয়ে ঘটনাটি ঘটে। ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশি অভিবাসী ও টিএলসি লাইসেন্সধারী চালক মোহাম্মদ আমিন একজন যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর তার গাড়ির সঙ্গে একটি মেডিকেল পরিবহন ভ্যানের সামান্য সংঘর্ষ হয়। এরপর দুই চালকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন উপস্থিত হন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, সংঘর্ষে জড়িত কোনো পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকা এক ব্যক্তি পাশের হুইটম্যান হাউজেস আবাসন এলাকা থেকে বেরিয়ে এসে হঠাৎ চালকের জানালার কাছে গিয়ে তার ডান গালে গুলি করে। হামলার পরপরই ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মোহাম্মদ আমিনকে দ্রুত নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও বলেন, মোহাম্মদ আমিন কোনো ঝগড়ায় জড়াননি। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকার কারণেই তিনি হামলার শিকার হন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, কুইন্সের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন গত ১৬ বছর ধরে নিউইয়র্কে গাড়ি চালিয়ে পরিবার চালিয়ে আসছেন। তার চিকিৎসা ও পরিবারের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি হামলাকারীকে শনাক্তে তথ্যদাতার জন্য পুরস্কার ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে। ঘটনার পর আবারও ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার চালকদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলেছেন ফার্নান্দো মাতেও। তিনি বলেন, নিউইয়র্কের প্রতিটি টিএলসি লাইসেন্সধারী ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার গাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে ক্যামেরা স্থাপন করা উচিত। এতে চালকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সহজ হবে। এই হামলার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ব্রুকলিনেই আরেক চালক, পাকিস্তানি অভিবাসী ড্যানিশ সারওয়ার, ডাকাতির চেষ্টা ও গাড়ি ছিনতাইয়ের সময় গুলিবিদ্ধ হন। তার ঘাড়ে গুলি লাগে এবং দীর্ঘ সময় তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরপর দুটি ঘটনায় নিউইয়র্কে ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, হামলার কারণ এবং বন্দুকধারীর পরিচয় শনাক্তে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা। হামলাকারীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যে এক হেয়ারস্টাইলিস্টের বিরুদ্ধে নিজের গ্রাহক ও তার বাবা-মায়ের ওপর পেপার স্প্রে ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক উপস্থিতিতে শুরু হওয়া একটি তর্ক মুহূর্তেই সহিংসতায় রূপ নিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ডেলাওয়্যার স্টেট পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার উইলমিংটনের একটি হেয়ার সেলুনে এ ঘটনা ঘটে। তদন্তে জানা গেছে, চুলের স্টাইলিং নিয়ে গ্রাহক ও হেয়ারস্টাইলিস্টের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে গ্রাহকের বাবা-মাও ওই বিরোধে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত হেয়ারস্টাইলিস্ট গ্রাহক এবং তার বাবা-মায়ের দিকে পেপার স্প্রে নিক্ষেপ করেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা চোখে জ্বালাপোড়া ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় ভোগেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই হেয়ারস্টাইলিস্টকে আটক করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে হামলাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। কী কারণে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল এবং ঘটনার সময় সেলুনে উপস্থিত অন্যদের কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।