সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

১০ মিলিয়ন ডলারে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাসাদ বিক্রি করছেন কৌতুকশিল্পী হুইটনি কামিংস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ২০:৫৭
হলিউড তারকা হুইটনি কামিংস আবারও বিক্রির তালিকায় তুলেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বিলাসবহুল বাড়িটি। ছবি: সংগৃহীত
হলিউড তারকা হুইটনি কামিংস আবারও বিক্রির তালিকায় তুলেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বিলাসবহুল বাড়িটি। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন কৌতুক অভিনেত্রী, অভিনেত্রী ও প্রযোজক Whitney Cummings আবারও ক্যালিফোর্নিয়ার উডল্যান্ড হিলস এলাকায় নিজের বিলাসবহুল বাড়িটি বিক্রির জন্য বাজারে তুলেছেন। বাড়িটির মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১২২ কোটি টাকার বেশি, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক)।

 

আবাসনবিষয়ক একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে প্রথমবারের মতো বাড়িটি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। পরে দাম কমানো হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এবার নতুন করে আবারও বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

লস অ্যাঞ্জেলেসের উডল্যান্ড হিলসে একটি ব্যক্তিগত কুল-ডি-স্যাকের শেষ প্রান্তে অবস্থিত এই এস্টেটটির আয়তন প্রায় ৪ দশমিক ০৫ একর। আশপাশে রয়েছে প্রাকৃতিক হাঁটার পথ, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা। বাড়িটির অবস্থান এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে বাসিন্দারা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা উপভোগ করতে পারেন।

 

প্রায় ৬ হাজার ৮৩০ বর্গফুট আয়তনের এই বাড়িতে রয়েছে পাঁচটি শয়নকক্ষ ও সাতটি বাথরুম। এছাড়া রয়েছে ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার, জিম, সুইমিং পুল, স্পা, ক্রীড়া কোর্ট এবং খোলা আকাশের নিচে বারবিকিউ আয়োজনের বিশেষ ব্যবস্থা।

বাড়িটির নকশা করেছেন খ্যাতিমান অভ্যন্তরীণ নকশাবিদ জেক আর্নল্ড। আধুনিক ন্যূনতম নকশা ও ভূমধ্যসাগরীয় স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে নির্মিত এই বাড়ির অন্যতম আকর্ষণ উঁচু ছাদ, প্লাস্টারের তৈরি বাঁকানো সিঁড়ি এবং প্রাকৃতিক আলোয় ভরা প্রশস্ত কক্ষ।

 

প্রবেশমুখে রয়েছে খিলান আকৃতির প্রবেশপথ ও উষ্ণ রঙের সাজসজ্জা। বসার ঘরে বড় জানালা দিয়ে বাইরে বাগানের দৃশ্য দেখা যায়। আরামদায়ক সোফা, সাজানো বইয়ের তাক, অগ্নিকুণ্ড এবং প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহারে ঘরটিতে শান্ত ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

রান্নাঘরের কেন্দ্রে রয়েছে সবুজ পাথরের বড় আইল্যান্ড কাউন্টার। কাঠের ক্যাবিনেট, সোনালি রঙের হাতল ও কল, ডাবল ওভেন এবং আলাদা কফি কর্নার রান্নাঘরটিকে একই সঙ্গে ব্যবহারিক ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

 

ডাইনিং স্পেসটি রান্নাঘরের সঙ্গে সংযুক্ত। বড় কাঁচের দরজা খুললেই চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা পেছনের উঠান, যা ঘরের ভেতর ও বাইরের পরিবেশকে একসঙ্গে যুক্ত করেছে।

প্রধান শয়নকক্ষের সঙ্গে থাকা বাথরুমটি ইতালির বিখ্যাত আমালফি উপকূল থেকে অনুপ্রাণিত। সেখানে রয়েছে বেলজিয়ান স্টাইলের বড় বাথটাব এবং খোলা তাকের নকশা, যা স্পার মতো অভিজ্ঞতা দেয়।

 

বাড়ির বাইরের অংশও সমান আকর্ষণীয়। ছায়াঘেরা বসার জায়গা, দড়ির দোলনা, পাথরের পথ এবং দেশীয় গাছপালায় সাজানো প্রাকৃতিক পরিবেশ বাড়িটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। সুইমিং পুল এলাকায় রয়েছে অলস নদীর মতো বাঁকানো জলপথ, আগুন জ্বালানোর স্থান এবং জলপাই গাছঘেরা বিশ্রাম এলাকা।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই বাড়ির নানা মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছেন হুইটনি কামিংস। বিশেষ করে ছেলে সন্তানের সঙ্গে রান্নাঘর, বাগান কিংবা বাড়ির বিভিন্ন স্থানে কাটানো সময়ের ছবি অনুসারীদের নজর কেড়েছে। একটি ছবিতে বলগাউন পরে বাড়ির বাঁকানো সাদা সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতেও দেখা যায় তাকে।

বাড়িটিতে একটি আলাদা বাস্কেটবল কোর্টও রয়েছে। বাস্কেটবলপ্রেমী হুইটনি অতীতে পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যায় বাড়ির এই অংশে।

 

২০২৫ সালে বাড়িটি প্রথম বিক্রির তালিকায় ওঠার সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা ঘটে। সে সময় হুইটনি কামিংসকে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছিল। পরে তিনি স্বীকার করেন, ওই অভিজ্ঞতার পর ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘমেয়াদে বসবাস নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। যদিও এবার বাড়িটি বিক্রির সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ তিনি প্রকাশ করেননি।

 

তবে আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, বড় জমি, আধুনিক নকশা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের সমন্বয়ে উডল্যান্ড হিলসের এই সম্পত্তি সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় বিলাসবহুল আবাসন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড
পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড

পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় জলযান বা ড্রোন পরিচালনা করে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে চীনের একটি গবেষক দল। কোনো ধরনের মানবিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ক্ষুদ্র এসব জলযান পানির নিচে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে চলাচল করে এই অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত ২৯ আগস্ট গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই রোমাঞ্চকর প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় জলযানের চলাচল’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বরেকর্ডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে।   নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং শি’আন তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ গবেষক দল এই যুগান্তকারী রেকর্ডটি গড়েছে। পরীক্ষামূলক এই প্রদর্শনীতে TH-৬১৮ মডেলের ১১৬টি আন্ডারওয়াটার অটোনমাস ভেহিকল পানিতে নামানোর পর সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে শুরু করে। প্রায় ৩৪ মিনিট স্থিতিশীলভাবে চলার পর ড্রোনগুলো ৫০০ মিটারেরও বেশি পূর্বনির্ধারিত পথ সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। পানিতে নামানোর পর পরই যানগুলোর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে অনবোর্ড স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার হাতে চলে যায়। রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়াল পারসেপশন প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিটি ড্রোন নিজস্ব অবস্থান ও চারপাশের পরিবেশ শনাক্ত করে নির্দিষ্ট বিন্যাস বজায় রাখে। এমনকি কোনো ড্রোন সাময়িকভাবে পথচ্যুত হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন করে পুনরায় নির্ধারিত পথে ফিরে আসার দারুণ সক্ষমতা প্রদর্শন করে।   পানির নিচে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় যান পরিচালনা করা প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। কারণ সেখানে সাধারণ বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা বা স্যাটেলাইট নেভিগেশন কার্যকর হয় না। পানির উচ্চ চাপ, কম দৃশ্যমানতা এবং সীমিত পরিবেশগত তথ্যের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই দীর্ঘ সময় যানগুলো পরিচালনা করাকে আন্ডারওয়াটার স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এক বিশাল অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রেকর্ড গড়া এই জলযানগুলোর প্রতিটির ওজন মাত্র ৫ দশমিক ১৪ কেজি, যা একজন মানুষ সহজেই পানিতে নামাতে পারেন। এগুলো সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার পরিসরে একটানা আট ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করতে সক্ষম।   নেভিগেশনের জন্য এসব যানে অত্যাধুনিক ক্যামেরাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্রোতের ধাক্কায় পথচ্যুত হলেও পরিস্থিতি বুঝে অবস্থান সংশোধন করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহারিক ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত ও সম্ভাবনাময়। সমুদ্রের তলদেশ জরিপ থেকে শুরু করে পানির নিচের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শনের মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আগামীতে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় জলযানের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যেতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৮:৫৪
রক্তাক্ত শরীরে বিমান নামিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিথ

রক্তাক্ত শরীরে বিমান নামিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিথ

স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী

স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত, বেসামরিক প্রাণহানিরও অভিযোগ

এল নিনো ও বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাবে খাদ্য সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
নিকট ভবিষ্যতেই তীব্র হতে পারে খাদ্য সংকট, দায়ী এল নিনো ও দুই যু দ্ধ

বিশ্বজুড়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বড় ধরনের খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবের সঙ্গে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান দুই যু দ্ধ একসঙ্গে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।   নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমানে বিশ্ব একই সময়ে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও অর্থায়ন—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে চাপের মুখে রয়েছে। এর প্রভাব উন্নয়নশীল ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে।   জ্বালানি সংকট বাড়াচ্ছে চাপ   বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তাও খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কারণ কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য পরিবহনের সঙ্গে জ্বালানির দাম সরাসরি যুক্ত। তেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়।   এরই মধ্যে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা এবং দেশটির ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপের ডিজেল ফিউচারসের দাম রেকর্ড পর্যায়ে উঠেছে। রাশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ডিজেল রপ্তানিও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   শস্য সরবরাহেও বাড়ছে উদ্বেগ   খাদ্য সংকটের আরেকটি বড় কারণ হতে পারে শস্যের বৈশ্বিক সরবরাহে বাধা। ইউক্রেন যু দ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে গমসহ বিভিন্ন শস্যের রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরেই নানা বাধার মুখে পড়ছে।   বিশ্বের বড় শস্য রপ্তানিকারক দেশগুলো যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠাতে না পারে, তাহলে সরবরাহ কমে গিয়ে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে দরিদ্র ও আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সারের সংকটও বড় সমস্যা   কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত। এসব অঞ্চলে সংঘাত ও উৎপাদন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের সংকট দেখা দিতে পারে।   সারের দাম ও সরবরাহে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের বাজারেও পড়তে পারে।   শক্তিশালী এল নিনো নিয়ে সতর্কতা   জয়শঙ্করের সতর্কতার কেন্দ্রে রয়েছে শক্তিশালী এল নিনো। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার ধরন বদলে দিতে পারে।   এর ফলে কোথাও অতিরিক্ত খরা, আবার কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে খাদ্য সরবরাহে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।   শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের হিসাব অনুযায়ী, চলমান এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় ৫ লাখ তাপজনিত মৃ ত্যু হতে পারে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোতে। একই সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   জয়শঙ্কর নীতিনির্ধারকদের অন্য দেশগুলোর ওপর এসব সংকটের প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, একটি দেশের সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু সেই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বৈশ্বিক জ্বালানি, খাদ্য ও অর্থনীতির আন্তঃনির্ভরতার কারণে এর প্রভাব অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ০:৫২
ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ছবি: সংগৃহীত

মাঝ আকাশে বিমানে হামলা, পাইলটের সাহসিকতায় রক্ষা পেলেন ১৮০ যাত্রী

ন সন্তান হার্ভি, আইলা ও পার্কারের সঙ্গে জো ল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, তিন সন্তানকে রেখে চিরবিদায় নিলেন মা

নভিগের বিজ্ঞাপন প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী সিডনি সুইনি। ছবি: সংগৃহীত

সিডনি সুইনির খোলামেলা বিজ্ঞাপনের পর স্পোর্টস প্ল্যাটফর্মের মূল্য বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলার

আমেরিকায় অনিয়মিত পথে যাওয়ার চেষ্টায় বিদেশে পাড়ি দিয়ে নিখোঁজ ভারতের গুজরাটের তিন আত্মীয়। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধভাবে আমেরিকা যাওয়ার পথে ৩ ভারতীয় অপহরণ, এক কোটি রুপি মুক্তিপণ দাবি

আমেরিকায় অনিয়মিত পথে যাওয়ার চেষ্টায় বিদেশে পাড়ি দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন ভারতের গুজরাটের তিন আত্মীয়। পরিবারের অভিযোগ, ইথিওপিয়ায় তাঁদের অপহরণ করে মুক্তির জন্য এক কোটি রুপি দাবি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।    নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন মমতা চাভদা, ৩০, তাঁর আত্মীয় ঋত্বিক জানসারি, ২৩, এবং ময়ূরী সোলাঙ্কি, ২৭। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁরা গুজরাট থেকে জয়পুর, এরপর আবুধাবি হয়ে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় যান।    ২২ সেপ্টেম্বর মমতা পরিবারকে ফোন করে জানান, তাঁরা কানাডায় পৌঁছেছেন। এরপর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তবে তাঁদের কানাডায় পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত হয়নি। পরিবারের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় এজেন্ট আলপেশ পাঞ্চালের দাবি, তিনজন ইথিওপিয়াতেই আটকা পড়েছেন।    পরিবারের ভাষ্য, পরে ‘খান’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ফোন করে তিনজনকে অপহরণের দাবি করেন এবং এক কোটি রুপি মুক্তিপণ চান। অপহরণের অভিযোগ ও ফোনদাতার পরিচয় তদন্তাধীন।    বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মমতার বাবা কীর্তিভাই চৌহান মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর মেহসানার লাংঘনাজ থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন। থানার ইন্সপেক্টর এ এম গেহলটের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনজন ২০ সেপ্টেম্বর বাড়ি ছাড়েন।   যাত্রার খরচ নিয়ে পরিবারের বক্তব্য ও অভিযোগে ভিন্ন অঙ্ক এসেছে। মমতার বাবার দাবি, প্রত্যেকের জন্য প্রায় ৭০ লাখ রুপি এজেন্টকে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে জনপ্রতি ৭৫ লাখ রুপিতে যাত্রার ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে।    মমতার স্বামী প্রায় ছয় মাস আগে স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকায় যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, কয়েকবার আমেরিকান ভিসা পাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মমতার পরিবার বিকল্প পথে তাঁকে পাঠাতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।   তিনজনকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার। পুলিশ নিখোঁজের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে এবং যাত্রার ব্যবস্থা করা এজেন্টদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১০:২৭
ভারতে সিআইএসএফ সদস্য

সহকর্মীর গুলিতে ভারতে কমান্ডারসহ ৪ সিআইএসএফ সদস্য নিহত

১১ হাজার ৬৯৫টি লেগোর টুকরোয় পৃথিবীর মানচিত্র বানিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন দুই বন্ধু

১১ হাজার ৬৯৫ লেগো টুকরোয় পৃথিবীর মানচিত্র, দুই বন্ধুর বিশ্ব রেকর্ড

ইরাকে শেষ মার্কিন ঘাঁটিও ছাড়ল মার্কিন সেনারা, সতর্কবার্তা ইরান যুদ্ধ নিয়ে

ইরাকে শেষ মার্কিন ঘাঁটিও ছাড়ল মার্কিন সেনারা, সতর্কবার্তা ইরান যুদ্ধ নিয়ে

0 Comments