সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৩,৫৩৫, এখনো ঘরহারা হাজারো মানুষ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১৬:৩৭
ভূমিকম্পে নিহতদের দাফনের প্রস্তুতি, ভেনেজুয়েলায় সারিবদ্ধভাবে খোঁড়া হচ্ছে নতুন কবর ছবি:Reuters
ভূমিকম্পে নিহতদের দাফনের প্রস্তুতি, ভেনেজুয়েলায় সারিবদ্ধভাবে খোঁড়া হচ্ছে নতুন কবর ছবি:Reuters

দুই সপ্তাহের কাছাকাছি সময় পরও আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ; উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত

 

ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন আঘাত হানা শক্তিশালী যমজ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্যোগের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রায় ১৮ হাজার মানুষ এখনও ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন।  

 

সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১৬ হাজার ৭৪০ জন আহত হয়েছেন এবং ১৭ হাজার ৮৫৪ জন বাড়িঘর হারিয়েছেন। এর মধ্যে ১২ হাজার ৮০০ জন বর্তমানে রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় লা গুইরা অঞ্চলের ৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।  

 

৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানে। এতে রাজধানী কারাকাস এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চল লা গুইরায় বহু ভবন ধসে পড়ে এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়।  

 

এদিকে সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে জাতিসংঘ ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করেছে। অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা ইউনিট এবং প্রকৌশল বিশেষজ্ঞরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।  

 

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুইরা অঞ্চলে এখনো বহু অজ্ঞাতপরিচয় নিহত ব্যক্তির মরদেহ দাফনের কার্যক্রম চলছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
রাশিয়ায় গবেষণাকর্মীর মৃত্যুর পর প্লেগের আশঙ্কা
রাশিয়ায় গবেষণাকর্মীর মৃত্যুর পর প্লেগের আশঙ্কা, পর্যবেক্ষণে প্রায় ২০০ গবেষক

রাশিয়ার পূর্ব সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক নারী কর্মীর মৃত্যুর পর তাঁর সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে প্লেগে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়ালেও রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ বিবৃতিতে রোগটিকে ‘অজ্ঞাত কারণে হওয়া নিউমোনিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায় মৃত নারীর নাম দারিয়া শিপিলোভা এবং বয়স ২৮ বছর। তিনি ইরকুতস্কের একটি প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। ২৯ সেপ্টেম্বর তীব্র নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে তিনি শেলেখভের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।   পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সময় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়াযুক্ত একটি টেস্টটিউব ভেঙে যাওয়ার কথাও উঠে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী চিকিৎসকদের ঘটনাটি জানিয়েছিলেন। তবে পরীক্ষাগারে দুর্ঘটনা থেকে তিনি সংক্রমিত হয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হয়নি। ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রসপত্রেবনাদজোর গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রোগজীবাণু নিয়ে কোনো দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।    মেদুজা রেন টিভির বরাতে জানিয়েছে, ১৮৯ জনকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইরকুতস্কের গভর্নর ইগর কবজেভের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ নেই। তাঁদের পরীক্ষার ফল নেতিবাচক হওয়ার কথা জানা গিয়েছে ।    প্রতিবেশী বুরিয়াতিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রধান আলেক্সেই সিদেনভ প্রথমে ওই নারীর প্লেগে মৃত্যুর কথা বলেছিলেন। পরে তিনি পোস্টের ভাষা সংশোধন করে প্লেগে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন। বুরিয়াতিয়ায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব নেই বলেও জানান তিনি। ফলে তাঁর প্রাথমিক বক্তব্যকে মৃত্যুর কারণের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।    রবিবার, ৪ অক্টোবর রসপত্রেবনাদজোর জানিয়েছে, ওই কর্মীর রোগ শনাক্ত করা হয়েছে অজ্ঞাত কারণে হওয়া নিউমোনিয়া হিসেবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে সংস্থাটির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, রোগীর নমুনার বিস্তৃত পরীক্ষায় তাঁর পেশাগত কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অণুজীব পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরকুতস্ক অঞ্চল এবং ইরকুতস্ক ও শেলেখভ শহরের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।    ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের নজরেও এসেছে। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন সন্দেহভাজন প্লেগ সংক্রমণ ও সংশ্লিষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ওই নারীর প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। পর্যবেক্ষণে থাকা প্রায় ২০০ জনকেও নিশ্চিত প্লেগ রোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।    সূত্র: আরটিভি, তাস, মেদুজা, ইউরোনিউজ ও অ্যাক্সিওস।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৪:৫৭
হরমুজে স্বাভাবিক চলাচল ফেরাতে সাত শর্তে অনড় ইরান

হরমুজে স্বাভাবিক চলাচল ফেরাতে সাত শর্তে অনড় ইরান, হামলার মধ্যেও বেড়েছে তেল রপ্তানি

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, ৫০০ হাইস্কুলে ক্লাস বন্ধ ঘোষণা

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, ৫০০ হাইস্কুলে ক্লাস বন্ধ ঘোষণা

রাশিয়ায় ‘অজানা’ ভাইরাসে ল্যাবকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

রাশিয়ায় ‘অজানা’ ভাইরাসে ল্যাবকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু, কোয়ারেন্টিনে শত শত মানুষ

ইরানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়েছে মার্কিন বাহিনী: দাবি আইআরজিসির

ইরানের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি। তার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং আইআরজিসির শক্তির কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে এভাবে পিছু হটতে হয়েছে। তবে ফাদাভির এই বক্তব্যের স্বাধীন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।   ফাদাভি বলেন, “আমেরিকানরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছায় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সামরিক সক্ষমতা এবং আইআরজিসির স্থল ও নৌ শক্তির কারণে মার্কিন বাহিনীকে এমন অবস্থান নিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিনি কোন মার্কিন ইউনিট বা ঘাঁটি থেকে ঠিক কত দূরে সরে গেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা সামরিক তথ্য দেননি।   ফাদাভি আরও দাবি করেন, বর্তমানে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন নৌযান নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী নিজেদের অবস্থান অনেকটা পেছনে সরিয়ে নিয়েছে।   তবে ফাদাভির বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সামরিক তথ্যের পুরোপুরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ বিমানবাহী রণতরী আরব সাগরে অবস্থান করে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকরে সহায়তা করছে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেন্টকমের বাহিনী ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে বলে মার্কিন কমান্ড জানিয়েছে। এর অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ উপস্থিতি অঞ্চলটিতে এখনও সক্রিয় রয়েছে, যদিও ফাদাভির দাবি করা নির্দিষ্ট ১ হাজার কিলোমিটার দূরত্বের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কার্যক্রমও সাম্প্রতিক সময়ে অব্যাহত রয়েছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জুলাই মাসে জানিয়েছিল, ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর অবরোধ পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চালানো প্রথম দফার অবরোধে ১৪০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং নয়টি জাহাজকে অচল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিল সেন্টকম। জুলাইয়ে অবরোধ পুনরায় কার্যকর হওয়ার পরও মার্কিন বাহিনী ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক চলাচল নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।   হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালির আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে হরমুজ ও আশপাশের জলসীমায় জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে এবং ২ অক্টোবরের পর প্রতিদিনই নতুন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি আবারও বাড়লেও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এদিকে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুরোপুরি খুলবে না। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ চললেও পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনও বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ফলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে মার্কিন বাহিনী পিছু হটার দাবি সামনে এলেও অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ তৎপরতা যে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তা মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রকাশ্য তথ্যেই দেখা যাচ্ছে।   সূত্র: প্রেস টিভি, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২৩:১৮
ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁকে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জীবন বাজি রেখে বিমান রক্ষা, ভারতীয় পাইলটকে বিশেষ সম্মান দিতে চান নেতানিয়াহু

ডেলিভারির ফাঁকেও কোরআন পড়ে আলোচনায় উগান্ডার রাইডার মনসুর

ডেলিভারির ফাঁকেও কোরআন পড়ে আলোচনায় উগান্ডার রাইডার মনসুর

এক বছরেই ৩ ঈদ ও ২ হজের বিরল সম্ভাবনা!

এক বছরেই ৩ ঈদ ও ২ হজের বিরল সম্ভাবনা!

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হামলার নতুন কারণ জানালেন ট্রাম্প, পাঠানো হচ্ছে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

ইরানে চলমান সংঘাতের পেছনে এতদিন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ঠেকানোকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সেই বক্তব্যের পাশাপাশি নতুন একটি কারণ সামনে এনেছেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের যেসব স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি মাদক তৈরিরও সম্পর্ক ছিল।   শুক্রবার টেক্সাসে এক সমাবেশে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গে বলেন, সেখানে পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক নিয়েও কাজ চলছিল। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ব্যাখ্যায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই মাদক-সংক্রান্ত দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ বা নির্দিষ্ট স্থাপনের তথ্য প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টও জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যাখ্যায় ট্রাম্প এর আগে মূলত দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টিই সামনে এনেছিলেন।   ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত নাবিক ও মেরিন পাঠাচ্ছে। এই বহরে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বাধীন স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ রয়েছে। এই মোতায়েনের ফলে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী থাকতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের হামলা চালানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো নির্ধারিত নয়। এর আগে ইরানের একটি সাম্প্রতিক শান্তি প্রস্তাবকে যথেষ্ট নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনার কথা জানান। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রয়েছে।   ইরানও সম্ভাব্য নতুন হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের হামলা পুনরায় শুরু করলে তেহরান আরও কঠোর সামরিক জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান সংঘাত বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো শর্ত নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।   উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে একটি সাম্প্রতিক বিমানঘটনা। বুধবার একটি ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজে সহকারী পাইলট তার ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের সহায়তায় তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। ট্রাম্প বলেছেন, ওই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে ওই ঘটনার যোগসূত্র নিশ্চিত হয়নি এবং তদন্ত চলছে।   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েন এবং ইরানকে ঘিরে নতুন করে হামলার আশঙ্কায় তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, কারণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।   ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অবশ্য জানিয়েছেন, তার দেশ নিজেদের রক্ষা করতে থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ফলে একদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টাপাল্টি হুমকি বাড়ছে, অন্যদিকে সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক যোগাযোগও চালু রয়েছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি মাদক তৈরির অভিযোগও যুক্ত হলো। তবে নতুন এই দাবির বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। একই সময়ে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা ও তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর ঘটনা সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ২৩:২
ম্যানচেস্টারের ইহুদি সম্প্রদায়কে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্ত করছে ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ, গ্রেপ্তার দুই ইরানি নাগরিক

ইন্দোনেশিয়ায় গন্ধগোকুলের মল থেকে পাওয়া বীজ দিয়ে তৈরি কোপি লুওয়াক বিশ্বজুড়ে কফিপ্রেমীদের কাছে দারুণ সমাদৃত। ছবি: সংগৃহীত

হাতি ও গন্ধগোকুলের মল থেকে তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম দামি কফি

পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড

পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড

0 Comments