নেপালের চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় একটি বুনো হাতির ধারাবাহিক হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটিতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ‘ধুরবে’ নামে পরিচিত ওই পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতিটি গত ১৪ বছরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করেছে। পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হাতিটির হামলায় অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এবং কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, ২০১২ সালে চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানের কাছে শনিচারা বোতের বাবা ও মা ধুরবের হামলায় নিহত হন। ওই ঘটনার পর ভবিষ্যতে এমন হামলা এড়াতে তিনি পরিবার নিয়ে রাপ্তি নদী পার হয়ে কয়েক মাইল দূরের জগতপুর এলাকায় নতুন বসতি গড়েন।
কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে সেই একই হাতি নতুন বসতিতেও পৌঁছে যায়। হামলায় শনিচারা বোতের ২৫ বছর বয়সী পুত্রবধূ আশিকা বোতে এবং চার বছর বয়সী নাতি ভারত বোতে নিহত হয়।
শোকাহত শনিচারা বোতে কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, "আমরা ভেবেছিলাম বড় একটি নদী পার হয়ে অন্য এলাকায় চলে গেলে নিরাপদ থাকব। কিন্তু এত বছর পরও সেই একই হাতি আমাদের খুঁজে বের করেছে। আমাদের বাড়িতে ঢুকে আমার পুত্রবধূ ও নাতিকে হত্যা করেছে। এখন পালিয়ে যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা নেই।"
চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানের তথ্য কর্মকর্তা অভিনাশ থাপা মাগার জানান, ধুরবে দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক হাতিগুলোর একটি। ২০১০ সাল থেকে অন্তত ২৫ জন তার হামলায় নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চোরাশিকার দমন অভিযানে নিয়োজিত দুই সেনাসদস্যও ছিলেন।
তিনি বলেন, হাতিটির চলাচল পর্যবেক্ষণে কর্তৃপক্ষ স্যাটেলাইটনির্ভর ট্র্যাকিং কলার ব্যবহার করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুলাই হামলার স্থানের আশপাশেই হাতিটির অবস্থান শনাক্ত হয়েছিল।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধুরবের আচরণ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নেপালে ক্রমবর্ধমান মানুষ-হাতির সংঘাতের প্রতিফলন। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হাতি সাধারণত একটি সময়ের পর পাল ছেড়ে একা চলাফেরা শুরু করে। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের বসতি বিস্তৃত হওয়ায় এসব হাতির সঙ্গে মানুষের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বাড়ছে।
নেপালের চুরে-তেরাই অঞ্চলে এই সংকট সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। ২০২৫-২০৩৫ সালের এলিফ্যান্ট কনজারভেশন অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী, ওই অঞ্চলের সম্ভাব্য হাতির আবাসস্থলের অর্ধেকেরও বেশি এখন সংরক্ষিত এলাকার বাইরে। ফলে খাদ্য ও চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়ায় হাতিগুলো প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।
চিতওয়ান এলাকায় গত সাড়ে ১১ বছরে বন্যপ্রাণীর হামলায় ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি তথ্য বলছে।
২০১২ সালে শনিচারা বোতের বাবা-মা নিহত হওয়ার পর ধুরবেকে ধরতে বা প্রয়োজনে হত্যা করতে বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়। সে সময় ৯৩ জন সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয় এবং হাতিটিকে দুটি গুলি করা হলেও সেটি পালিয়ে যায়।
পরে ২০১৬ সালে আবার হাতিটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৩ সালে পর্যায়ক্রমে তার গলায় তিনটি ট্র্যাকিং কলার পরানো হয়। বর্তমানে ব্যবহৃত যন্ত্রটি প্রতি ঘণ্টায় তার অবস্থানের তথ্য পাঠায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক হামলার আগে কয়েক দিন ধরেই ধুরবে গ্রামটির আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। ঘাইলাঘারি বাফার জোন কনজিউমার কমিটির সভাপতি লাল বাহাদুর দাওয়াদি বলেন, হাতিটি প্রতি বছর একই পথ ধরে গ্রামে ফিরে আসে। ফলে তার চলাচলের ধরণ কর্তৃপক্ষের কাছে আগেই জানা ছিল।
সর্বশেষ হামলার সময় শনিচারা বোতের স্ত্রী শুকনো খড়ে আগুন লাগিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন। তবে এতে তাদের বাড়িটি আগুনে পুড়ে যায়।
বর্তমানে শনিচারা বোতের পরিবারে নয়জন সদস্য রয়েছেন। পরিবারের দাবি, নিরাপদে বসবাসের মতো আর কোনো জায়গা তাদের হাতে নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর ভাষ্য, চলমান ‘সায়েকেহ’ অভিযানের নতুন ধাপে জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর এফ-১৮ যুদ্ধবিমান, আবাসন এলাকা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী দাবি করেছে, আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে এটি তাদের দ্বিতীয় হামলা। তেহরানের দাবি, এই অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ। ইরানের পক্ষ থেকে হামলার দাবি করা হলেও এতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, অথবা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে এ হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম), জর্ডানের সরকার কিংবা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সামরিক ও নজরদারি অভিযান পরিচালিত হয়। ফলে সেখানে হামলার দাবি সত্য হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ ধরনের সামরিক দাবির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না পাওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি বা হামলার ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
গাজামুখী আন্তর্জাতিক ত্রাণবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছে তুরস্কের একটি আদালত। তবে এই নির্দেশের অর্থ এই নয় যে ইন্টারপোল ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে। বিষয়টি এখন ইন্টারপোলের নিজস্ব পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবং আদালতের নথি অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের ১১তম হাই ক্রিমিনাল কোর্ট চলমান বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছে। আদালতের ভাষ্য, বিচারপ্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ইন্টারপোলে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। কোনো সদস্য রাষ্ট্র আবেদন করলে ইন্টারপোল সেটি তাদের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করে। অনুমোদন পেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত প্রতিটি সদস্য দেশের নিজস্ব আইনের ওপর নির্ভর করে। মামলাটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাকে ঘিরে। তুরস্কের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী ত্রাণবহরটি আটক করে, জাহাজে থাকা বেসামরিক যাত্রীদের আটক ও নির্যাতন করে এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে অভিযান পরিচালনা করে। এ ঘটনায় তুর্কি নাগরিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর কার্যালয় গত এপ্রিলে নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, নির্যাতন, ইচ্ছাকৃত আহত করা, সম্পদের ক্ষতি, জোরপূর্বক আটকে রাখা এবং পরিবহনযান অবৈধভাবে দখলের মতো একাধিক অভিযোগ। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে তুরস্কের একটি আদালত নেতানিয়াহুসহ ৩৭ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। বর্তমান সিদ্ধান্তকে সেই বিচারিক প্রক্রিয়ারই পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তুরস্কের আদালতে বিচার কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। ইসরায়েল এ ধরনের অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ বিষয়ে বিভিন্ন আইনি ও কূটনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পর ইরানের কূটনীতিককে তলব করেছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাভাদ হোসেইনিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে এনে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ওমান উপকূলসংলগ্ন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ পথ দিয়ে চলাচলের সময় ‘মমবাসা’ ও ‘আল বাহিয়া’ নামের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার হামলার শিকার হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে এমন হামলা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মমবাসা’ জাহাজে থাকা এক ভারতীয় নাবিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া অন্তত আটজন নাবিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুজন ইউক্রেনের নাগরিক বলে কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হামলার পর দুটি জাহাজেই আগুন ধরে যায় এবং এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আমিরাত এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি বড় ধরনের হুমকি। একই সঙ্গে নিজেদের ভূখণ্ড ও নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে বলেও সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, জর্ডান এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত আমিরাতের ওই ট্যাংকার দুটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে একাধিক দেশের নাবিক হতাহত হয়েছেন। কেবল ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যেই এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১১ জনে। এর আগে গত মাসে একটি জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সাম্প্রতিক এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। (সূত্র: এনডিটিভি)