নেপাল

মানুষ-হাতির সংঘাত ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ি বদলেও রক্ষা মেলেনি, ১৪ বছরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করল বুনো হাতি

নেপালের চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় একটি বুনো হাতির ধারাবাহিক হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটিতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ‘ধুরবে’ নামে পরিচিত ওই পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতিটি গত ১৪ বছরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করেছে। পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হাতিটির হামলায় অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এবং কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, ২০১২ সালে চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানের কাছে শনিচারা বোতের বাবা ও মা ধুরবের হামলায় নিহত হন। ওই ঘটনার পর ভবিষ্যতে এমন হামলা এড়াতে তিনি পরিবার নিয়ে রাপ্তি নদী পার হয়ে কয়েক মাইল দূরের জগতপুর এলাকায় নতুন বসতি গড়েন।   কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে সেই একই হাতি নতুন বসতিতেও পৌঁছে যায়। হামলায় শনিচারা বোতের ২৫ বছর বয়সী পুত্রবধূ আশিকা বোতে এবং চার বছর বয়সী নাতি ভারত বোতে নিহত হয়। শোকাহত শনিচারা বোতে কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, "আমরা ভেবেছিলাম বড় একটি নদী পার হয়ে অন্য এলাকায় চলে গেলে নিরাপদ থাকব। কিন্তু এত বছর পরও সেই একই হাতি আমাদের খুঁজে বের করেছে। আমাদের বাড়িতে ঢুকে আমার পুত্রবধূ ও নাতিকে হত্যা করেছে। এখন পালিয়ে যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা নেই।"   চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানের তথ্য কর্মকর্তা অভিনাশ থাপা মাগার জানান, ধুরবে দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক হাতিগুলোর একটি। ২০১০ সাল থেকে অন্তত ২৫ জন তার হামলায় নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চোরাশিকার দমন অভিযানে নিয়োজিত দুই সেনাসদস্যও ছিলেন। তিনি বলেন, হাতিটির চলাচল পর্যবেক্ষণে কর্তৃপক্ষ স্যাটেলাইটনির্ভর ট্র্যাকিং কলার ব্যবহার করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুলাই হামলার স্থানের আশপাশেই হাতিটির অবস্থান শনাক্ত হয়েছিল।   বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধুরবের আচরণ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নেপালে ক্রমবর্ধমান মানুষ-হাতির সংঘাতের প্রতিফলন। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হাতি সাধারণত একটি সময়ের পর পাল ছেড়ে একা চলাফেরা শুরু করে। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের বসতি বিস্তৃত হওয়ায় এসব হাতির সঙ্গে মানুষের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বাড়ছে।   নেপালের চুরে-তেরাই অঞ্চলে এই সংকট সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। ২০২৫-২০৩৫ সালের এলিফ্যান্ট কনজারভেশন অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী, ওই অঞ্চলের সম্ভাব্য হাতির আবাসস্থলের অর্ধেকেরও বেশি এখন সংরক্ষিত এলাকার বাইরে। ফলে খাদ্য ও চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়ায় হাতিগুলো প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। চিতওয়ান এলাকায় গত সাড়ে ১১ বছরে বন্যপ্রাণীর হামলায় ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি তথ্য বলছে।   ২০১২ সালে শনিচারা বোতের বাবা-মা নিহত হওয়ার পর ধুরবেকে ধরতে বা প্রয়োজনে হত্যা করতে বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়। সে সময় ৯৩ জন সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয় এবং হাতিটিকে দুটি গুলি করা হলেও সেটি পালিয়ে যায়। পরে ২০১৬ সালে আবার হাতিটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৩ সালে পর্যায়ক্রমে তার গলায় তিনটি ট্র্যাকিং কলার পরানো হয়। বর্তমানে ব্যবহৃত যন্ত্রটি প্রতি ঘণ্টায় তার অবস্থানের তথ্য পাঠায়।   স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক হামলার আগে কয়েক দিন ধরেই ধুরবে গ্রামটির আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। ঘাইলাঘারি বাফার জোন কনজিউমার কমিটির সভাপতি লাল বাহাদুর দাওয়াদি বলেন, হাতিটি প্রতি বছর একই পথ ধরে গ্রামে ফিরে আসে। ফলে তার চলাচলের ধরণ কর্তৃপক্ষের কাছে আগেই জানা ছিল। সর্বশেষ হামলার সময় শনিচারা বোতের স্ত্রী শুকনো খড়ে আগুন লাগিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন। তবে এতে তাদের বাড়িটি আগুনে পুড়ে যায়।   বর্তমানে শনিচারা বোতের পরিবারে নয়জন সদস্য রয়েছেন। পরিবারের দাবি, নিরাপদে বসবাসের মতো আর কোনো জায়গা তাদের হাতে নেই।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মাউন্ট এভারেস্টের বরফের ফাটলে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন নেপালি পর্বতারোহী

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের ২৫ ফুট গভীর একটি বরফের ফাটলে (ক্র্যাভাস) টানা তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন নেপালি পর্বতারোহী দাওয়া শেরপা। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে কেবল বিস্কুট, চকলেট আর বরফের টুকরো খেয়ে তিনি সেই মৃত্যুর কূপের ভেতর টিকে ছিলেন। এদিকে দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকায় তার পরিবার ততদিনে আশা ছেড়ে দিয়ে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু করে দিয়েছিল। অবশেষে এক ভয়াবহ তুষারধসের কারণে সেই গভীর ফাটলটি বরফে ভরাট হয়ে একটি নতুন পথ তৈরি হয়, যার সাহায্যে তিনি অলৌকিকভাবে মুক্ত হতে সক্ষম হন।   ৫৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ শেরপা বর্তমানে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিজের ফ্ল্যাটে পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি জানান, ফাটল থেকে কোনোমতে বের হয়ে আসার পর ভাঙা পা এবং প্রচণ্ড ঠান্ডায় জমে যাওয়া (ফ্রস্টবাইট) আঙুল নিয়ে তিনি পর্বত বেয়ে নিচে নেমে আসেন। গত ২৯ মে এভারেস্টের বুকে একা হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে তিনি বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি পৌঁছালে উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।   ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ মে, যখন হিমালয়ান ট্রাভার্স অ্যাডভেঞ্চার নামের একটি ছোট পর্যটন সংস্থার হয়ে দাওয়া শেরপা এভারেস্টের প্রায় ২৭,৫৫৯ ফুট উঁচুতে আরোহণ করেন। ফেরার পথে ক্যাম্প ফোরে পৌঁছানোর পর তার অক্সিজেন সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে যায়। চরম অক্সিজেন সংকটের কারণে তার হাত-পা অবশ হয়ে পড়লে তিনি তার দলের অন্য সদস্যদের এগিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর তীব্র ঝড়-বাতাসের মধ্যে একা একা ক্যাম্প থ্রি ও ক্যাম্প টু পার করে বেস ক্যাম্পের দিকে আসার সময় খুম্বু আইসফলের একটি মই থেকে পা পিছলে তিনি গভীর ফাটলে পড়ে যান।   ফাটলের ভেতরের মসৃণ বরফের দেয়াল বেয়ে ওপরে ওঠার কোনো উপায় ছিল না। দাওয়া শেরপা জানান, আটকে থাকার দ্বিতীয় দিনে তিনি মাথার ওপর উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের শব্দ শুনলেও গভীর ফাটলে থাকার কারণে তাদের নজরে আসতে পারেননি। ঠিক যখন তিনি বেঁচে থাকার সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখনই একটি বিশাল তুষারধস (অ্যাভালাঞ্চ) উপর থেকে নেমে আসে। সৌভাগ্যবশত সেই বরফের ধস তাকে চাপা না দিয়ে ফাটলের গভীর অংশটি ভরাট করে দেয়, যা বেয়ে তিনি দীর্ঘ এক ঘণ্টার চেষ্টায় ওপরে উঠে আসতে পারেন।   উপরে উঠে একটি দড়ির সাহায্য নিয়ে ৪ জুন সকালে তিনি বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি পৌঁছালে সাগরমাথা দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির একটি দল তাকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাকে দ্রুত কাঠমান্ডুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি মারাত্মক পানিশূন্যতা, ফ্রস্টবাইট এবং উরুর হাড় ভাঙা জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এই অবিশ্বাস্য বেঁচে যাওয়ার ঘটনায় পর্বতারোহী মহলে আনন্দের বন্যা বয়ে গেলেও, তাকে সময়মতো উদ্ধার করতে না পারার কারণে উদ্ধারকারী ব্যবস্থার ওপর তীব্র ক্ষোভ ও তদন্তের দাবি উঠেছে।   চলতি বছর মাউন্ট এভারেস্টে রেকর্ড সংখ্যক আরোহীর ভিড় হওয়ায় পর্বতারোহণ খাতে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নেপাল সরকারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এবারের মৌসুমে রেকর্ড ১,০০০-এর বেশি পর্বতারোহী এভারেস্ট জয় করেছেন, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এবং অনভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পাহাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে অভিজ্ঞ শেরপারা এখন এভারেস্টে আরোহীদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

তাবাস্সুম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশ–নেপাল সম্পর্ক জোরদারে নতুন উদ্যোগ
বাংলাদেশ–নেপাল সম্পর্ক জোরদারে নতুন উদ্যোগ, স্পিকারের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নেপালের প্রতিনিধি সভার স্পিকার ডোল প্রসাদ আরিয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। বুধবার (১৭ জুন) কাঠমান্ডুতে স্পিকারের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।   সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান নেপালের স্পিকারকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন পৌঁছে দেন। এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি (পিজিএ) নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রার্থিতার প্রতি নেপালের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের দৃঢ় যোগাযোগের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র থাকলেও তার অনেকটাই এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।   রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও নেপাল একই ধরনের নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। এ সময় তিনি জ্বালানি, বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন ও যুব উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরেন।   আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সার্ক ও বিমসটেকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।   জবাবে নেপালের স্পিকার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা নেপালের উন্নয়ন যাত্রায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।   দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে খেলাধুলার গুরুত্বও তুলে ধরেন স্পিকার। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া বাড়াতে ক্রীড়া বড় ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে স্পিকার বলেন, হিমালয় অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এখন পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি যৌথ উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।   বৈঠকে বাংলাদেশে চিকিৎসা ও কারিগরি শিক্ষায় অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও বিভিন্ন সুবিধা প্রদানে বাংলাদেশের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসাও করেন নেপালের স্পিকার।   সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে এবং ভবিষ্যতে বহুমুখী সহযোগিতার পথ সুগম করতে সহায়ক হবে।  

নীলুফা নিশাত জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের আপত্তিতে আটকে গেল নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি
ভারতের আপত্তিতে আটকে গেল নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি, আপাতত ৪০ মেগাওয়াটেই সীমাবদ্ধ বাংলাদেশ

নেপাল থেকে বাংলাদেশে আরও ২০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা আপাতত অনিশ্চয়তায় পড়েছে। সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে ভারত এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশ আপাতত শুধু ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই পাবে।   রোববার (১৪ জুন) নেপালের জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) বিদ্যমান সঞ্চালন লাইনের সীমিত সক্ষমতার কারণ দেখিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন দেয়নি।   নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যকর করতে হলে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন বা স্বাক্ষর করতে হবে। পাশাপাশি নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।   সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল তাদের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করে থাকে। তবে শুষ্ক মৌসুমে উৎপাদন কমে গেলে আবার তাদেরই ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হয়। এই বাস্তবতায় মৌসুমি বিদ্যুৎ বাণিজ্য দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।   ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের পাশাপাশি আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তখন প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেডের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। তবে পরে ভারতীয় সংস্থাটি জানায়, ভারত-বাংলাদেশের ১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বহরমপুর-ভেড়ামারা সঞ্চালন লাইনে নতুন করে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের সক্ষমতা নেই।   নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক তর্ক বাহাদুর থাপা বলেন, “আমরা আগের নিয়মেই প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যমান লাইনে নতুন করে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই আপাতত ৪০ মেগাওয়াটই সরবরাহ করা হবে।”   খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জটিলতা কাটাতে নেপাল ও ভারতের মধ্যে আসন্ন যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তবে এসব বৈঠকের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও ঠিক হয়নি।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নেপাল প্রথমবারের মতো ভারতের সঞ্চালন অবকাঠামো ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পায়। পরে একই বছরের ৩ অক্টোবর নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।   প্রথম দফায় ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর সীমিত আকারে মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছিল। নেপালের ঢালকেবার-মুজাফফরপুর লাইন হয়ে ভারতে প্রবেশ করে সেই বিদ্যুৎ পরে বহরমপুর-ভেড়ামারা সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছায়। বর্তমানে নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।   বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ অনুযায়ী, নেপাল বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্ট দরে বিক্রি করছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের ক্ষেত্রেও একই মূল্য বহাল থাকার কথা ছিল। নেপাল ও ভারতের মধ্যে লেনদেন ভারতীয় রুপিতে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে এই বাণিজ্য মার্কিন ডলারে সম্পন্ন হচ্ছে।   সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করে আয় করেছে প্রায় ২০ হাজার ৯৯৫ কোটি রুপি, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৩ হাজার ১০৩ কোটি রুপি। এখন পর্যন্ত দেশটি মোট ১ হাজার ১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সমন্বয়হীনতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এই সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগগুলো বারবার বাধার মুখে পড়তে পারে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
‘রাষ্ট্রদূত হতে চাই’ বললেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী
ফেসবুক পোস্টে নতুন বিতর্ক: ‘রাষ্ট্রদূত হতে চাই’ বললেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রহস্যময় পোস্ট ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। গত শনিবার রাতে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন, বিশ্লেষক মহল ও নাগরিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ফেসবুকে লিখেছিলেন, “আমিও রাষ্ট্রদূত হতে চাই। কারও কাছে প্রধানমন্ত্রীর নম্বর থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন কি?”—এই পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছ থেকে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে।   সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা পোস্টটিতে হালকা ও রসাত্মক মন্তব্য করলেও সাধারণ মানুষের একাংশ এটিকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতি অবহেলা হিসেবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অসীম শাহ হাসির প্রতিক্রিয়া দিয়ে মন্তব্য করেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলে দেব।” শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র সস্মিত পোখারেল লেখেন, “আমি কি তাঁকে মেসেজ করব?” সংসদ সদস্য টিকা সাংগ্রৌলা কৌতুক করে বলেন, “আমার কাছে আছে, কিন্তু আপনাকে দেব না।”   এ ধরনের প্রতিক্রিয়াকে অনেকেই রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার অবমূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের মতে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সংকটপূর্ণ ইস্যুগুলো থেকে জনদৃষ্টি সরাতে এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কর্মকাণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে।   পর্যবেক্ষকদের দাবি, বিতর্কিত অধ্যাদেশ, ভূমিহীনদের উচ্ছেদ এবং বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি অবহেলার অভিযোগে যখন সরকার চাপে রয়েছে, তখন এই ধরনের ‘ডিজিটাল নাটকীয়তা’ জনআলোচনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।   জেন-জি প্রজন্মের নেত্রী তনুজা পান্ডে বলেন, “রাষ্ট্রীয় বিষয় এবং ব্যক্তিগত বিনোদনের সীমারেখা মুছে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। কূটনৈতিক পদ নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে রসিকতা করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।”   সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী যাদব দেবকোটা মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের আচরণ নির্বাহী পদের মর্যাদাকে খাটো করছে। একইভাবে সারিতা তিওয়ারি প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরিপক্বতা নিয়েও।   এ বিতর্কের পটভূমিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত ৪ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে সচিব কৃষ্ণ হরি পুষ্করকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গ করে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছিলেন। তবে সাবেক জ্যেষ্ঠ আমলারা এই পদক্ষেপকে বিপজ্জনক নজির হিসেবে দেখছেন এবং বলছেন, এতে প্রশাসনে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হতে পারে।   এর আগে ২৭ এপ্রিল বিতর্কিত অধ্যাদেশ পাশ করাতে সংসদ অধিবেশন স্থগিতের সিদ্ধান্তও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সে সময়ও জনমনে ক্ষোভ বাড়তে থাকলে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে মূল রাজনৈতিক বিতর্ককে আড়াল করে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।   মানবাধিকারকর্মী মজিদ আনসারি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে, কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নয়।”   সমালোচকদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নেপাল রুটে এভারেস্ট জয়ের নতুন বিশ্বরেকর্ড, এক দিনেই চূড়ায় ২৭৪ আরোহী

মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আরোহণের নতুন বিশ্বরেকর্ড তৈরি হয়েছে। গত বুধবার নেপাল রুট (দক্ষিণ দিক) ব্যবহার করে এক দিনেই রেকর্ডসংখ্যক ২৭৪ জন পর্বতারোহী বিশ্বের সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গের চূড়ায় পা রেখেছেন। এর আগে ২০১৯ সালের ২২ মে এক দিনে সর্বোচ্চ ২২৩ জন আরোহী নেপাল দিয়ে এভারেস্ট জয় করেছিলেন।   নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা খিমলাল গৌতম জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বুধবার ভোর ৩টা থেকে টানা ১১ ঘণ্টা আরোহীরা চূড়ায় ওঠার অভিযান চালান। চীন এবার তাদের তিব্বত রুটটি বিদেশি আরোহীদের জন্য বন্ধ রাখায় নেপাল রুটে আরোহীদের এই উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। চলতি বসন্তকালীন মৌসুমে নেপাল সরকার রেকর্ড রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৫০০ জন বিদেশি আরোহীকে এভারেস্টের অনুমতিপত্র বা পারমিট দিয়েছে।   পারমিট ফি বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ হাজার ডলার হলেও এভারেস্টে আরোহীদের সংখ্যা রেকর্ড ছুঁয়েছে। অধিকাংশ আরোহীর সাথে অন্তত একজন নেপালি গাইড থাকায় ৮,০০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত বিপজ্জনক ‘ডেথ জোন’-এ পর্বতারোহীদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা এই ভিড় নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এক্সপিডিশন আয়োজকেরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সাথে থাকলে এটি বড় কোনো সমস্যা নয়।   এবারের এভারেস্ট অভিযানে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ব্যক্তিগত রেকর্ডও তৈরি হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী কিংবদন্তি নেপালি গাইড কামি রিতা শেরপা ৩২ বারের মতো এভারেস্ট জয় করে নিজের বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন। এছাড়া ‘মাউন্টেন কুইন’ খ্যাত লাকপা শেরপা ১১ বার এবং দুই পা হারানো রুশ নাগরিক রুস্তম নাবিইভ কৃত্রিম পা ছাড়াই শুধু হাতের জোরে এভারেস্ট চূড়ায় চড়েছেন।   তবে অর্জনের আনন্দের পাশাপাশি এবারের মৌসুমে বেশ কয়েকজন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় মারা যাওয়া নেপালের অনগ্রসর হিন্দু দলিত সম্প্রদায়ের প্রথম আরোহী ৩৫ বছর বয়সী বিজয় ঘিমেরে এবং তুষারপাতে পা পিছলে খাদে পড়ে যাওয়া ২১ বছর বয়সী নেপালি গাইড ফুরা গ্যালজেন শেরপা অন্যতম।  

তাবাস্সুম মে ২১, ২০২৬ ১৪:০
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। ছবি: সংগৃহীত
জেন জি হত্যা মামলা: ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

নেপালের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর জামিন পেলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। বৃহস্পতিবার নেপালের সুপ্রিম কোর্ট তাকে ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন প্রদানের নির্দেশ দেয়।  বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা এই প্রবীণ নেতাকে তার পরিবারের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় জামিন পেয়েছেন দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকও। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন জি (Gen Z) প্রজন্মের নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশাল দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দমন-পীড়নে প্রায় ৭৭ জন প্রতিবাদী প্রাণ হারান। ওই ঘটনায় 'কর্তব্যে অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার' অভিযোগে গত ২৮ মার্চ কেপি শর্মা অলি ও রমেশ লেখককে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিকভাবে অলির জামিন আবেদন খারিজ হলেও গত ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানায়, তদন্তের স্বার্থে তাকে আর হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই। ৯ এপ্রিলের মধ্যে তাকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জামিন পেলেও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং পুলিশি প্রয়োজনে যেকোনো সময় তাকে হাজিরা দিতে হবে।  ওলি সরকারের পতনের পর দেশটিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বলেন্দ্র শাহ (বালেন শাহ)।

Unknown এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
কেন নেপাল পারল কিন্তু বাংলাদেশ হোঁচট খেল? তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের নেপথ্য কাহিনী

নেপালে জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধি বালেন্দ্র শাহ যখন প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে ইতিহাস গড়ছেন, তখন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের কারিগর তরুণ সমাজ নিজেদের রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করতে গিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের তরুণদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও ফলাফল কেন এতটা আলাদা হলো, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আন্দোলনের আবেগ ও নির্বাচনী কৌশলের পার্থক্য ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে বাংলাদেশে তরুণরা অসাধ্য সাধন করে স্বৈরাচারের পতন ঘটালেও, রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তারা নেপালের মতো গতি পায়নি। নেপালে মাত্র চার বছর বয়সী রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বিপুল জনসমর্থন নিয়ে পার্লামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে। বিপরীতে, বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের ফসল হিসেবে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল পায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের তরুণ নেতারা শুধু রাজপথের আবেগের ওপর নির্ভর না করে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। কেন পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্ব? ১. সাংগঠনিক দুর্বলতা ও জোটের রাজনীতি: নেপালে আরএসপি একটি বিস্তৃত দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পেরেছিল। অন্যদিকে, বাংলাদেশের এনসিপি রক্ষণশীল শক্তির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ায় অনেক উদারমনা ও তরুণ ভোটারদের আস্থা হারিয়েছে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। ২. সময়ের ব্যবধান: নেপালে আন্দোলনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় নির্বাচন হওয়ায় জনজোয়ারকে ভোটে রূপান্তর করা সহজ ছিল। বাংলাদেশে এই ব্যবধান ছিল প্রায় দেড় বছর, যা আন্দোলনের তীব্রতায় কিছুটা ভাটা ফেলে থাকতে পারে। ৩. প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর প্রভাব: বাংলাদেশে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মতো শক্তিশালী বিরোধী দলগুলো তরুণদের আন্দোলনের ফসল নিজেদের অনুকূলে নিতে বেশি সক্ষম হয়েছে। নেপালের সাফল্যের মূলমন্ত্র নেপালের জেন-জি রাজনীতিকরা বলছেন, তাদের সাফল্যের প্রধান কারণ ছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান। সাবেক র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ ও আরএসপির জোট তরুণ ভোটারদের কাছে এক নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিল। তারা রাজপথের আন্দোলনকে সফলভাবে পার্লামেন্টের এজেন্ডায় রূপান্তর করতে পেরেছে। ভবিষ্যতের হাতছানি: জেনারেশন আলফা কি হাল ধরবে? বাংলাদেশে বর্তমানে এক ধরনের রাজনৈতিক হতাশা বিরাজ করছে। অনেক প্রতিভাবান তরুণ দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন। তবে আন্দোলনকারীরা দমে যেতে রাজি নন। এনসিপি নেতা রাহাত হোসেনের মতে, স্থানীয় নির্বাচনে তারা স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, উমামা ফাতেমার মতো সক্রিয় কর্মীরা মনে করেন, বর্তমান প্রজন্মের অসমাপ্ত কাজ হয়তো আগামীতে 'জেনারেশন আলফা' সম্পন্ন করবে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় নতুন নিয়ম চালু নেপালে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল। দেশের মজুদ তেলের সাশ্রয় করতে এবং সংকট মোকাবিলায় সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন থেকে বাড়িয়ে দুই দিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। রবিবার কাঠমান্ডুর সিংহদরবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও রবিবার সব সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সোমবার থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি মুখপাত্র সসমিত পোখারেল সাংবাদিকদের জানান, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় দেশ বর্তমানে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটকালীন সময়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।    তবে ছুটির পরিমাণ বাড়লেও কাজের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে সরকারি অফিসগুলোর কর্মঘণ্টা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রতিদিন কাজের সময় এক ঘণ্টা করে বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য, নেপাল তার প্রয়োজনীয় সব জ্বালানি তেল ভারত থেকে আমদানি করে। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমদানিকৃত জ্বালানির সরবরাহ ও দামে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।  এরই মধ্যে নেপাল এয়ারলাইন্স জ্বালানির দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রী ও পর্যটন খাতের ওপর। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই দুই দিনের ছুটির বিধান বহাল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Unknown এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহ।
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, আমূল বদলে যাচ্ছে নেপালের শিক্ষা ব্যবস্থা

নেপালের নবগঠিত সরকার দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই গ্রহণ করা হয়েছে ১০০ দফার এক বিশাল সংস্কার কর্মসূচি। এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পরীক্ষার মানসিক চাপ কমিয়ে আনা। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে নেপালের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব ধরনের রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসগুলো থেকে রাজনৈতিক দল সমর্থিত সংগঠনগুলো সরিয়ে ফেলার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে গঠন করা হবে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’, যারা সরাসরি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করবে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকা বা দলীয় ট্রেড ইউনিয়ন পরিচালনা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো প্রথাগত অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা আর থাকছে না। পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে এবং মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প ও মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন পদ্ধতির প্রবর্তন করা হচ্ছে। এছাড়া সেশন জট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দিষ্ট শিক্ষা ক্যালেন্ডার মেনে দ্রুত ফলাফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। নেপালি জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করতে ‘অক্সফোর্ড’, ‘পেন্টাগন’ বা ‘সেন্ট জেভিয়ার্স’-এর মতো বিদেশি নামধারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি বছরের মধ্যে নেপালি নাম গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উচ্চশিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করতে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব সনদের প্রয়োজনীয়তা তুলে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের পেনশন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রাদেশিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে বালেন শাহর সরকার।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি গ্রেপ্তার: দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দল সিপিএন-ইউএমএল (CPN-UML) এর প্রভাবশালী নেতা কেপি শর্মা অলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে কাঠমান্ডুতে তার নিজ বাসভবন থেকে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে হেফাজতে নেয়। এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কাঠমান্ডুসহ নেপালের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা উসকে দেওয়ার সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে অলির সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' এবং বর্তমান সরকারের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেপি শর্মা অলির গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তার দলের হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে এসেছেন। কাঠমান্ডুর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করেছে। নেপালের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ কেপি শর্মা অলি এর আগেও কয়েক দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বর্তমান জোট সরকারের সাথে তার বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তার নেপালের ভঙ্গুর গণতন্ত্রকে আরও বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেপালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধান শহরগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নেপালের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা গ্রেফতার

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে তাকে তার বাসভবন থেকে আটক করা হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।   গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। ওই সহিংস ঘটনার সঙ্গে ওলির কোনো দায় রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ হিসেবে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। তবে পরবর্তীতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষও এতে যুক্ত হয়। আন্দোলনের শুরুর দিনেই দমন-পীড়নের মধ্যে অন্তত ১৯ জন তরুণ নিহত হন।   ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল)-এর জ্যেষ্ঠ নেতা মিন বাহাদুর শাহি জানান, সকালে তার বাসভবন থেকে ওলিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারীও সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   অন্যদিকে, চলতি বছরের ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বালেন্দ্র শাহ। তিনি গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ওলি সরকারের পতনের পর এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরের দিনই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হলো।   সরকার-সমর্থিত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গুলি চালানোর সরাসরি নির্দেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে এবং এতে অপ্রাপ্তবয়স্করাও প্রাণ হারায়।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
র‌্যাপার থেকে প্রধানমন্ত্রী: বালেন্দ্র শাহের রাজনৈতিক উত্থান ও শপথ গ্রহণ

কাঠমান্ডু, নেপাল নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ (২৭ মার্চ) শপথ গ্রহণ করেছেন বালেন্দ্র শাহ। মার্চের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বড় জয় অর্জন করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করলেন।   শপথ গ্রহণের আগে ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র একটি গান প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি নেপালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও যুবসমাজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। রাজনীতিতে আসার আগে বালেন্দ্র নেপালের আন্ডারগ্রাউন্ড হিপ-হপ জগতে র‌্যাপার ও গীতিকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।   রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করার আগে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। মাত্র তিন বছরের মেয়র পদে থাকার সময়েই তিনি দেশের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এর আগে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন, যা যুবসমাজের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এক সপ্তাহের মধ্যেই জনগণ ওলির সরকারের পতন নিশ্চিত করেন।   বালেন্দ্র শাহ বালেন নামে বেশি পরিচিত। ১৯৯০ সালে কাঠমান্ডুতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। নেপালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে পরে ভারতের বিশ্বেশ্বরায়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় দলগুলোর প্রার্থীকে পরাজিত করে ৬১ হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ করেন।   বালেন্দ্রের জনপ্রিয়তা মূলত তার সামাজিক বার্তা, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং যুবসমাজের প্রতি সমর্থনের কারণে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার নেতৃত্ব নেপালে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   সূত্র: বিবিসি

Unknown মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক জনপ্রিয় র‍্যাপার এবং কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ
নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সাবেক র‍্যাপার বলেন শাহ

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দেশটিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আজ শুক্রবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন সাবেক জনপ্রিয় র‍্যাপার এবং কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বলেন শাহ’ নামেই সমধিক পরিচিত। আজ শুক্রবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এর আগে নির্বাচনে তাঁর দল এক বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে, যা নেপালের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলেন শাহর এই উত্থান নেপালের তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সম্প্রতি নেপালে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দুর্নীতিবিরোধী এক বিশাল ছাত্র-যুব আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সেই আন্দোলনে সহিংসতায় অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারান। মূলত অর্থনৈতিক সংকট এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সেই ক্ষোভকে পুঁজি করেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করেন বলেন শাহ। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম বক্তব্যে বলেন শাহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। ৩০ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটিতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে তোলা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন সংগীতশিল্পী এবং স্বতন্ত্র ধারার রাজনীতিক হিসেবে তাঁর এই জয় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা হিমালয় কন্যা নেপালকে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে বলেন শাহ কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, যেখানে তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং নগরায়নের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। আন্তর্জাতিক মহলও নেপালের এই নতুন নেতৃত্বকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে চীন ও ভারতের মধ্যবর্তী এই কৌশলগত রাষ্ট্রের নতুন সরকার বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী ধরনের ভারসাম্য বজায় রাখে, সেদিকেই এখন সবার নজর।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০