বিশ্বের ব্যস্ততম বিমান রুটের তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে রয়েছে এশিয়ার দুই বিমানবন্দর
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) তাদের সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড এয়ার ট্রান্সপোর্ট স্ট্যাটিস্টিকস’ (ডব্লিউএটিএস) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক বিমান চলাচলের চাহিদাসহ সামগ্রিক কর্মক্ষমতার বিশদ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। বার্ষিক হালনাগাদ করা এই প্রতিবেদনে ১ হাজার ৩১৫টি বিমান সংস্থার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক প্রিমিয়াম-ক্লাস অর্থাৎ বিজনেস ও ফার্স্ট ক্লাসের যাত্রী সংখ্যা বছরওয়ারি ৪.৫ শতাংশ বেড়ে ১০ কোটি ৯৭ লাখে পৌঁছেছে, যা মোট আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ৫.৫ শতাংশ। এই খাতে লাতিন আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি ২২.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে এবং ইউরোপ ৩ কোটি ৯৭ লাখ যাত্রী নিয়ে সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে মোট যাত্রীদের অনুপাতে প্রিমিয়াম ক্লাসের যাত্রীর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।
বিশ্বের ব্যস্ততম বিমান রুটের তালিকায় এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের একক আধিপত্য দেখা গেছে। জেজু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিউলের গিম্পো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রুটটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে, যেখানে ১ কোটি ৩৩ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছেন। শীর্ষ ১০টি ব্যস্ততম অভ্যন্তরীণ রুটের মধ্যে মাত্র একটি রুট এশিয়া প্যাসিফিকের বাইরে ছিল, যা জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংযোগ।
অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে আফ্রিকার ব্যস্ততম রুট ছিল কেপ টাউন থেকে জোহানেসবার্গ এবং লাতিন আমেরিকায় বোগোটা থেকে মেদেয়িন। ইউরোপের ব্যস্ততম রুট হিসেবে বার্সেলোনা থেকে পালমা ডি ম্যালোর্কা অবস্থান ধরে রাখলেও স্টকহোম আরল্যান্ডা থেকে মালমো রুটে যাত্রী সংখ্যা ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তর আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রুটে নিউইয়র্কের জেএফকে থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস এবং আন্তর্জাতিক রুটে জেএফকে থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ছিল ব্যস্ততম।
দেশভিত্তিক যাত্রীদের বাজারে ৮৯ কোটি ১ লাখ যাত্রী নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে, যদিও তাদের প্রবৃদ্ধির গতি ছিল সবচেয়ে ধীর। অন্যদিকে, ৭৭ কোটি ৬১ লাখ যাত্রী নিয়ে চীন দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজারের স্থান দখল করেছে। এছাড়া মধ্য এশিয়ার কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানের পাশাপাশি ভিয়েতনামেও যাত্রীর সংখ্যায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।
বিগত ছয় বছরে বৈশ্বিক বিমান বহরেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বোয়িং ৭৮৭ এবং এয়ারবাস এ৩৫০-এর মতো আধুনিক ও দক্ষ বিমানের ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে এয়ারবাস এ৩৮০ মডেলের বিমানের ব্যবহার ২৪.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে বোয়িং ৭৩৭, এয়ারবাস এ৩২০ এবং এ৩২১ মডেলের ন্যারোবডি বিমানগুলো ২০২৫ সালেও সর্বাধিক ব্যবহৃত বিমান হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইউরোপজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, কম মজুরি ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল ও আলবেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। কোথাও শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা ও শিক্ষকসংকট নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও তা পরে বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষে রূপ নিয়েছে। কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে অংশ নেন পাঁচ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে আয়োজকদের হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় আট লাখ। রাজধানী প্যারিসেই বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় এক লাখ ১০ হাজার মানুষ। অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছু এলাকায় বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। দোকানপাটে লুটপাট, গাড়িতে আগুন এবং সরকারি স্থাপনা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। ফরাসি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে দুই হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষোভ চলাকালে রাজধানীতে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুও হয়েছে। ফ্রান্সে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মূলত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শ্রেণিকক্ষের সংকট এবং শিক্ষকস্বল্পতার প্রতিবাদে গত মাসে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে পরে অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষও যুক্ত হন। জীবনযাত্রার ব্যয়, জনসেবার মান এবং সরকারি ব্যয়সংকোচন নিয়েও ক্ষোভ বাড়তে থাকে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বিক্ষোভের মধ্যে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে সরকার সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের দায়ী করেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের বড় অংশের অসন্তোষের পেছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিনের হতাশা। ইতালির মিলানেও গত রোববার জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। শহরের কেন্দ্রীয় পিয়াচা দেল দুয়োমো এলাকার আশপাশে মুখোশধারী কিছু বিক্ষোভকারী দোকানের জানালা ভাঙচুর করেন এবং ময়লার পাত্রে আগুন দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। আগের দিন মিলান, বোলোনিয়া, ব্রেশিয়া, বার্গামো ও তুরিনসহ কয়েকটি শহরেও একই ধরনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছেন। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও শনিবার আবাসন সংকট, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও কম মজুরির প্রতিবাদে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন সিজিটিপির আহ্বানে আয়োজিত কর্মসূচিতে কয়েক দশ হাজার মানুষ অংশ নেন বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, আয় বাড়ার তুলনায় বাড়িভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এ পরিস্থিতিতে ভূমিকা রেখেছে। এর আগে পোর্তো শহরে আবাসনের দাবিতে গড়ে ওঠা তাঁবুশিবির উচ্ছেদ করে পুলিশ। স্পেনেও কয়েক সপ্তাহ ধরে আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলছে। মাদ্রিদে ৮৭ বছর বয়সী মারিয়া দেল কারমেন আবাসকালকে দীর্ঘ ৭০ বছর বসবাসের পর তাঁর বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। বাড়িটির নতুন মালিকপক্ষ ভাড়া ২৩০ শতাংশ বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্ছেদের দুই সপ্তাহ পর অক্টোবরের শুরুতে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। তাঁর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে আন্দোলন জোরালো হয়। এদিকে আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তাব সংসদে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগামী ২৯ নভেম্বর আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন বলে দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। আলবেনিয়াতেও টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের দুরবস্থা, উচ্চ শিক্ষাব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। রোববার রাজধানী তিরানায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। এতে প্রধানমন্ত্রী এদি রামার সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। অন্যদিকে সার্বিয়ায় শিক্ষার্থী আন্দোলন দুর্নীতিবিরোধী বৃহত্তর কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে। দেশটিতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। আসন্ন আগাম সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষার্থী সমর্থিত রাজনৈতিক উদ্যোগ ও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে উত্তেজনা রয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভের কারণ এক নয়। কোথাও মূল বিষয় আবাসন ও বাড়িভাড়া, কোথাও শিক্ষাব্যবস্থা, দুর্নীতি কিংবা সরকারি সেবার মান। তবে মূল্যস্ফীতি, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের অসামঞ্জস্য এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এসব আন্দোলনের মধ্যে একটি সাধারণ যোগসূত্র তৈরি করেছে। কিছু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সংঘর্ষ ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি জনঅসন্তোষ মোকাবিলাও এখন ইউরোপের বিভিন্ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
ভারতে পেরেকের ওপর শুয়েও শরীরে নেই কোনো ক্ষত, দেবী কালীর ভর হয়েছে দাবি পরিবারের
পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় মার্কিন সাংবাদিক আহত, নেতানিয়াহুর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ
মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফের গাড়িতে ৫ রাউন্ড গুলি, আহত চালক ও অটোরিকশাচালক
মাত্র তিন বছর বয়সেই পবিত্র কোরআনের পুরোটা মুখস্থ করার কৃতিত্বের দাবি নিয়ে আলোচনায় এসেছিল আলজেরিয়ার শিশু আবদুর রহমান ফারাহ। ছোটবেলায় পড়তে বা লিখতে না শিখেও শুনে শুনে কোরআনের আয়াত মুখস্থ করার কথা জানিয়েছিল তার পরিবার। তবে এ ঘটনা সাম্প্রতিক নয়। আরব ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ২০০৯ সাল থেকেই শিশুটিকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে আসছে। তার বয়স ও মুখস্থ করার সময়সীমা নিয়ে প্রচারিত তথ্যের সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবদুর রহমানের মা গর্ভাবস্থায় নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করতেন এবং সন্তান জন্মের পরও তাকে কোরআন শোনাতেন। পরিবারের দাবি, প্রায় দুই বছর বয়সে তারা শিশুটির বিশেষ দক্ষতা লক্ষ করেন। কথা বলা ও উচ্চারণে পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ হওয়ার আগেই সে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও সূরা তিলাওয়াত করতে শুরু করে। সূরা আল-কাহফ ছিল তার শুরুর দিকের তিলাওয়াতের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্য সূরাগুলোর একটি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুটির পরিবার জানিয়েছিল, সে কোনো আনুষ্ঠানিক কোরআন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মসজিদে গিয়ে নিয়মিত পাঠ নেয়নি। বাড়িতে মা-বাবার তিলাওয়াত এবং টেলিভিশনে কোরআন পাঠ শুনেই সে আয়াতগুলো মনে রাখত। প্রচারিত ভিডিওগুলোতে তার তিলাওয়াতের ধরনও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ধীরস্থিরভাবে শুদ্ধ উচ্চারণে কোরআন পাঠের এই পদ্ধতিকে তাজবিদের নিয়ম মেনে তিলাওয়াতের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তবে শিশুটির সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করার দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। আলজেরিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘আল-শুরুক’ ২০০৯ সালে আবদুর রহমানকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য আরব সংবাদমাধ্যমেও তার কথা উঠে আসে। ২০১৫ সালে আলজেরীয় সংবাদমাধ্যম ‘আল-খবর’ জানায়, তখন নয় বছর বয়সী আবদুর রহমান সৌদি আরবের জেদ্দায় শিশু কোরআন হাফেজদের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে স্বীকৃতি পেয়েছিল। এসব প্রতিবেদন তাকে অল্প বয়সে কোরআন মুখস্থ করা শিশু হিসেবে পরিচিতি পেতে সাহায্য করে। আবদুর রহমানের ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম ও কোরআন তিলাওয়াতের বর্ণনা ছড়িয়ে পড়ায়। তবে এ বিষয়ে নতুন করে প্রচারিত পোস্টগুলোতে পুরোনো ঘটনার সঙ্গে বর্তমানের তথ্য মিশে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই শিশুটির বয়স, মুখস্থ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং পুরো কোরআন মুখস্থ করার দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি। সূত্র: আল-শুরুক, আল-খবর ও আল-মদিনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
গির্জায় প্রার্থনা চলাকালে মাথায় বিশাল ক্রুশ ভেঙে পড়ে যাজকের মৃত্যু
বিমার ১৩ লাখ ডলার পেতে পা বরফে জমিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, শেষ পর্যন্ত দুই পা-ই হারালেন
‘মানব শয়তান’ নামে পরিচিত ব্রাজিলীয় ব্যক্তির নতুন রূপ, নখরের মতো হাত গড়তে বাদ দিলেন আরও আঙুল
রাশিয়ায় বড় পরিবার গড়ে তোলা ও সন্তান লালন-পালনের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক মাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুসলিম-অধ্যুষিত দাগেস্তান অঞ্চলের ১২ সন্তানের জননী বুরলিয়াত মেজিদোভা। ২০২৬ সালের ১ জুন আন্তর্জাতিক শিশু দিবস উপলক্ষে মস্কোর ক্রেমলিনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘মাদার হিরোইন’ বা ‘বীরমাতা’ পদক দেওয়া হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি দপ্তর ও সংবাদমাধ্যম ভেদোমস্তির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় পরিবারগুলোর সন্তান লালন-পালন এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি দিতেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। দাগেস্তানের দেরবেন্ট শহরের বাসিন্দা বুরলিয়াত মেজিদোভা তাঁর স্বামীর সঙ্গে সাত ছেলে ও পাঁচ মেয়েকে বড় করছেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে বড়টির বয়স ১৭ বছর, আর ছোটটির জন্ম ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে পাওয়া ‘বীরমাতা’ সম্মাননা দেশটিতে বহু সন্তান লালন-পালনকারী মায়েদের জন্য অন্যতম উচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। রাশিয়ায় ১০ বা তার বেশি সন্তান জন্ম দিয়ে লালন-পালন করা নারীরা এই পদকের জন্য বিবেচিত হন। অনুষ্ঠানে শুধু দাগেস্তানের এই পরিবারই নয়, রাশিয়ার আরও কয়েকটি অঞ্চলের বহু সন্তানবিশিষ্ট পরিবারকে সম্মানিত করা হয়। ‘বীরমাতা’ পদকের পাশাপাশি সাত বা তার বেশি সন্তান লালন-পালনকারী পরিবারগুলোকে ‘প্যারেন্টাল গ্লোরি’ বা ‘পিতামাতার গৌরব’ পদক দেওয়া হয়। ক্রেমলিনের অনুষ্ঠানে মস্কো, পস্কভ, রোস্তভ, তিউমেন, নোভোসিবিরস্কসহ বিভিন্ন অঞ্চল এবং দাগেস্তান ও উত্তর ওসেটিয়ার পরিবারগুলো অংশ নেয়। রাশিয়ায় ‘বীরমাতা’ উপাধি ২০২২ সালে পুনরায় চালু করা হয়। এর আওতায় ১০ বা তার বেশি সন্তান লালন-পালনকারী মায়েদের বিশেষ পদক দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ‘পিতামাতার গৌরব’ পদক চালু হয়েছিল ২০০৮ সালে। এ সম্মাননা পেতে হলে বাবা-মা বা দত্তক অভিভাবকদের অন্তত সাত সন্তানকে লালন-পালন করতে হয় এবং তাঁদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামগ্রিক বিকাশের জন্য যথাযথ যত্ন নিশ্চিত করতে হয়। দাগেস্তানের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অঞ্চলটিতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বহু সন্তানবিশিষ্ট পরিবার রয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব বড় পরিবার ও সন্তান লালন-পালনে মায়েদের অবদানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। রুশ সরকারও জন্মহার বাড়ানো এবং পরিবারকেন্দ্রিক নীতি এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে বহু সন্তানবিশিষ্ট পরিবারকে উৎসাহিত করে আসছে। তবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়ার পাশাপাশি এসব পরিবারের জন্য সামাজিক ও আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকেরা। সূত্র: দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে স্থায়ী প্রতিনিধি দপ্তর, ভেদোমস্তি।
সব সম্পদ বিক্রি করে স্বপ্নের নারীর খোঁজে ছুটে গিয়েছিলেন, দেখা করতে গিয়ে জানলেন প্রেমিকা আসলে এআই
এআই চালিত সুপার স্পিড টর্পেডোর সফল পরীক্ষার দাবি উত্তর কোরিয়ার