কানাডায় রাস্তা পার হওয়া পথচারীর সঙ্গে তর্কে জড়ানোয় ভারতীয় নারী গ্রেফতার, ভিডিও ভাইরাল
কানাডার ক্যালগেরিতে সড়ক পার হওয়া এক পথচারীর সঙ্গে তর্কের জেরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। তবে ক্যালগেরি পুলিশ এখন পর্যন্ত এ ঘটনার পূর্ণ বিবরণ বা গ্রেফতার হওয়া নারীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
প্রকাশিত ভিডিও ও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুরু হয় একটি গাড়ি পথচারীকে রাস্তা পার হওয়ার সময় যথাযথভাবে অগ্রাধিকার না দেওয়ার অভিযোগ থেকে। এরপর ওই পথচারী মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ধারণ করতে শুরু করেন। এতে গাড়িটির যাত্রী আসনে থাকা নারী বের হয়ে তার দিকে এগিয়ে যান।
ভিডিওতে ওই নারীকে পথচারীর ভিডিও ধারণে আপত্তি জানাতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, “ভিডিও করা বৈধ নয়।” এরপর তিনি পথচারীর ফোনের দিকে হাত বাড়ান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একসময় তিনি ওই ব্যক্তির ব্যাকপ্যাক ধরে টানার চেষ্টা করেন বলেও ভিডিওতে দেখা যায়।
সংঘর্ষের কিছু সময় পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে গ্রেফতার করে। তবে তাকে ঠিক কোন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ দেওয়া হয়েছে কি না অথবা আদালতে হাজির করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই নারীর স্বামী গাড়িটি চালাচ্ছিলেন এবং গাড়িটির বৈধ ইন্স্যুরেন্স ছিল না। তবে এই দাবির বিষয়ে ক্যালগেরি পুলিশের কোনো প্রকাশ্য নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো অনলাইনে প্রচারিত দাবির পর্যায়েই রয়েছে।
ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসমক্ষে ভিডিও ধারণের আইনগত সীমা, পথচারীর অধিকার এবং ছোটখাটো ট্রাফিক বিরোধ কীভাবে দ্রুত শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কানাডায় জনসমক্ষে কারও ভিডিও ধারণ সব পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি নয়। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, হয়রানি, নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে ভাইরাল ভিডিওর একটি ছোট অংশ দেখে কোনো পক্ষের আইনগত দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
ক্যালগেরি পুলিশের নিজস্ব নীতিতেও জনসমক্ষে সংঘর্ষ, গ্রেফতার ও তদন্তের মতো ঘটনায় পুলিশ অফিসাররা বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করেন, যা পরবর্তী তদন্তে প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থাকলেও পুলিশের পক্ষ থেকে পূর্ণ তদন্তের ফল, সম্ভাব্য চার্জ এবং সংশ্লিষ্টদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অতিরিক্ত দাবিগুলো যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাজ্যের ওয়েলসে অবস্থিত কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজের তহবিল থেকে অন্তত ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাতের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক দম্পতি নাদিম সারোয়ার ও ইয়াসমিন সারোয়ার। নাদিম সারোয়ার ইতোমধ্যে কলেজের অর্থ আত্মসাতের দায় স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে তার সাবেক স্ত্রী ইয়াসমিন সারোয়ার নিজের বিরুদ্ধে আনা নয়টি চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে মারথার টিডফিল ক্রাউন কোর্টে বিচার মোকাবিলা করছেন। মঙ্গলবার আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগ করে, একসময় যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় এ লেভেল কলেজ হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির অর্থকে ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ব্যবহার করেছিলেন সারোয়ার দম্পতি। প্রসিকিউটর মার্ক কটার কেসি জুরিদের বলেন, তারা কলেজের তহবিলকে নিজেদের ‘ব্যক্তিগত পিগি ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করে সম্পত্তি কেনা, বিদেশে অর্থ পাঠানো এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাদিম সারোয়ার গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে ২০০৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজ থেকে কমপক্ষে ৫০ লাখ পাউন্ড চুরির দায় স্বীকার করেন। একই মামলায় কলেজের সাবেক হিসাবরক্ষক রাগু শিবাপালান অডিট রিপোর্টে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার অপরাধও স্বীকার করেছেন। তাদের সাজা পরে ঘোষণা করা হবে। তবে ইয়াসমিন সারোয়ার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তিনি কলেজের পরিচালক ও ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় অর্থ সরিয়ে নেওয়া এবং পরে সেই লেনদেনের তথ্য গোপন করার প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, কর্মচারী হিসেবে চুরি এবং অপরাধলব্ধ অর্থ গোপন বা স্থানান্তরসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া প্রায় ১০ সপ্তাহ চলতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। এই মামলার সূত্রপাত অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। সাউথ ওয়েলস পুলিশ ২০২৫ সালের মার্চে জানায়, কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সংঘটিত সন্দেহভাজন বহু মিলিয়ন পাউন্ডের প্রতারণা ও চুরির ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে চ্যারিটি কমিশন ফর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরবরাহ করেছিল। তখন নাদিম ও ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ লাখ পাউন্ডের চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ এবং রাগু শিবাপালানের বিরুদ্ধে মিথ্যা হিসাব তৈরির অভিযোগ আনা হয়। কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল ছোট পরিসরে। ইয়াসমিন সারোয়ার প্রথমে নিজের বাড়িতে এ লেভেল শিক্ষার্থীদের পড়াতেন। পরে সেই কার্যক্রমই বড় হয়ে কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজে রূপ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ফলাফলের কারণে যুক্তরাজ্যের অন্যতম সফল স্বাধীন সিক্সথ ফর্ম কলেজ হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০১৬ সালে বিবিসির ‘ব্রিটেনস ব্রেইনিয়েস্ট স্কুল’ তথ্যচিত্রেও কলেজটি স্থান পায়। প্রসিকিউশনের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি দাতব্য সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হলেও ট্রাস্টি ও পরিচালনা কাঠামোর দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, কলেজের নামে থাকা মূল অ্যাকাউন্টের বাইরে অন্য অ্যাকাউন্টেও শিক্ষার্থীদের ফি জমা নেওয়া হতো এবং সেই অর্থের একটি অংশ পরে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়। আদালতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কলেজের অর্থ ব্যবহার করে কার্ডিফে উচ্চমূল্যের সম্পত্তি কেনা এবং মালয়েশিয়ায় অর্থ পাঠানো হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বড় অংশ এখনো ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে চলমান বিচারাধীন মামলার অংশ এবং আদালত এখনো সেগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নাদিম সারোয়ারের দায় স্বীকারের ফলে ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাতের অন্তত একটি অংশ এখন আর শুধু অভিযোগের পর্যায়ে নেই। তবে ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। তার দোষ বা নির্দোষ হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই দেবে। এদিকে কলেজটির বর্তমান পরিচালনা ও মালিকানা আগের সময়ের তুলনায় পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাপনার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান বিচার মূলত প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালনা পর্বের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েই চলছে।
সৌদিতে নির্যাতনের অভিযোগে গোপনে ভিডিও করা রেহেনা এখন দূতাবাসের হেফাজতে
কানাডায় রাস্তা পার হওয়া পথচারীর সঙ্গে তর্কে জড়ানোয় ভারতীয় নারী গ্রেফতার, ভিডিও ভাইরাল
বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবনে একবারও চড়েননি বিমানে
ছয় বছর বয়সী ওয়াইটের জন্য চুল কাটানো বরাবরই বেশ কঠিন একটি অভিজ্ঞতা। নাপিতের দোকানের শব্দ, শরীরে অন্য কারও স্পর্শ এবং দীর্ঘ সময় এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকা—এই বিষয়গুলো তার জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অটিজমে আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি অনেক সময় আরও বেশি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ওয়াইটের ক্ষেত্রেও চুল কাটার সময় স্বাভাবিকভাবে চেয়ারে বসে থাকা সহজ নয়। কানাডার কুইবেকে নাপিত ফ্রান্সিস ‘ফ্রাঞ্জ’ জ্যাকবের কাছে গত দুই বছর ধরে ওয়াইটের চুল কাটাচ্ছেন তার মা ফভি লাফ্রেনিয়ের। এই সময়ের মধ্যে ফ্রাঞ্জ বুঝে গেছেন, ওয়াইটকে অন্য শিশুদের মতো চেয়ারে বসিয়ে রেখে চুল কাটা সম্ভব নয়। তাই শিশুটিকে নিজের মতো করে স্বস্তিতে থাকার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে চুল কাটার কাজটি করা যায়, সেই পথই বেছে নিয়েছেন তিনি। চুল কাটার সময় ওয়াইট অনেক সময় নাপিতের চেয়ারে বসে থাকতে পারে না। সে বারবার উঠে দোকানের ভেতর হাঁটাহাঁটি করে। কখনো কোথাও দাঁড়িয়ে থাকে, আবার কখনো মেঝেতে শুয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে জোর করে চেয়ারে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করেননি ফ্রাঞ্জ। বরং ওয়াইট যেখানে যায়, সেখানেই তাকে অনুসরণ করে চুল কাটার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এই কাজটি সহজ করার জন্য ফ্রাঞ্জ কর্ডলেস ক্লিপার কিনেছেন। ফলে বৈদ্যুতিক তার বা নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন হয় না। ওয়াইট দোকানের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে গেলেও ফ্রাঞ্জ তার সঙ্গে সঙ্গে যেতে পারেন। কখনো ওয়াইট মেঝেতে শুয়ে পড়লে ফ্রাঞ্জও মেঝেতে বসে বা শুয়ে চুল কাটার কাজ চালিয়ে যান। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুটিকে অস্বস্তিতে না ফেলে প্রয়োজনীয় কাজটি শেষ করা। সম্প্রতি ওয়াইটের চুল কাটার সময় ফ্রাঞ্জের মেঝেতে শুয়ে কাজ করার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়, প্রচলিত নিয়মে চেয়ারে বসিয়ে চুল কাটার পরিবর্তে নাপিত শিশুটির অবস্থানের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে কাজ করছেন। ছবিটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে যে বিষয়টি অনেকের কাছে ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে, ফ্রাঞ্জের কাছে সেটি তার কাজেরই একটি স্বাভাবিক অংশ। তিনি নিয়মিত অটিজমে আক্রান্ত শিশু এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চুল কাটেন। তাই এসব শিশুর আচরণ, অস্বস্তি এবং প্রয়োজনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চুল কাটার ক্ষেত্রে সময়ও তুলনামূলকভাবে বেশি লাগে। ফ্রাঞ্জের ক্ষেত্রে কোনো কোনো চুল কাটার জন্য ৯০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কারণ সেখানে শুধু দ্রুত চুল কেটে দেওয়া নয়, শিশুটির স্বস্তি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওয়াইটের ক্ষেত্রেও ফ্রাঞ্জ ধৈর্য ধরে কাজ করেন। শিশু হাঁটতে চাইলে তাকে হাঁটার সুযোগ দেন। কোথাও থেমে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অপেক্ষা করেন। মেঝেতে শুয়ে পড়লে প্রয়োজনে সেখানেই চুল কাটেন। অর্থাৎ শিশুটিকে নিজের কাজের নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বদলে তিনি নিজের কাজের পদ্ধতিটিই শিশুটির প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে নিয়েছেন। ফ্রাঞ্জের এই আচরণ শুধু ওয়াইটের পরিবারের জন্যই স্বস্তির কারণ হয়নি, বরং অন্য অনেক পরিবারের কাছেও তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার মানবিক ও ধৈর্যশীল আচরণের কথা ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ তার কাছে শিশুদের চুল কাটাতে আসেন। কেউ কেউ তার কাছে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথও পাড়ি দেন। একটি শিশুর আচরণকে বিরক্তিকর বা সমস্যাজনক হিসেবে না দেখে তার প্রয়োজন বুঝে কাজ করার এই পদ্ধতিই ফ্রাঞ্জকে আলাদা করে তুলেছে। চুল কাটার মতো সাধারণ একটি কাজও অটিজমে আক্রান্ত কোনো শিশুর জন্য কতটা কঠিন হতে পারে, ওয়াইটের ঘটনাটি সেটিই সামনে এনেছে। ওয়াইটের চুল কাটার সেই ভাইরাল ছবিটি তাই শুধু একজন নাপিতের ভিন্নভাবে কাজ করার দৃশ্য নয়। এটি একজন শিশুর প্রয়োজনের প্রতি ধৈর্য, সহমর্মিতা ও সম্মান দেখানোর একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ফ্রাঞ্জের জন্য বিষয়টি হয়তো তার প্রতিদিনের কাজেরই অংশ, কিন্তু তার এই ছোট্ট উদ্যোগই অনেক মানুষের কাছে বড় মানবিকতার বার্তা হয়ে পৌঁছেছে।
গাজায় ইসরায়েলিদের চালানো নির্যাতন ও বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে তথ্যচিত্র 'নাজা' যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলে
ফ্রান্স থেকে অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টায় নৌকায় দুইজনের মৃত্যু, দগ্ধ দুই নারী
আমাজন থেকে আফ্রিকা, গল্পের খোঁজে বিশ্ব ঘুরছেন বাংলাদেশি ওয়াকিফ
চীনের গুয়াংডং প্রদেশের ফোশান শহরে বহুতল ভবনের বাইরের অংশে কাজ করা এক কর্মীর সেফটি রোপের ১০ মিটারের বেশি অংশ কেটে নেওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ওই কর্মী প্রায় ৩০ তলা থেকে নিচে নামার পর দেখতে পান, তাঁর ১২০ মিটার দীর্ঘ সেফটি রোপের একটি অংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে রোপটি কাটার সময় কেউ সেটি ব্যবহার করে উচ্চতায় কাজ করছিলেন না। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, লিউ পদবির ওই কর্মী একটি বহুতল ভবনের বাইরের দেয়াল মেরামতের কাজ করছিলেন। প্রায় ৩০ তলা থেকে নেমে দ্বিতীয় তলার একটি প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানোর পর তিনি দেখতে পান, তাঁর একটি সেফটি রোপ কাটা। কাটা অংশের কিছু অংশ তখনও প্ল্যাটফর্মে পড়ে ছিল। পরে জানা যায়, রোপটির মোট দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১২০ মিটার। এর মধ্যে ১০ মিটারের বেশি অংশ কেটে নেওয়া হয়েছিল। ফলে রোপটি আর ভবনের প্রথম তলা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছিল না এবং লিউ নিরাপদভাবে নিচে নামার কাজ শেষ করতে পারেননি। ঘটনার তদন্তে ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসবাসকারী সত্তরের শেষ বয়সী এক বাসিন্দার সম্পৃক্ততার কথা উঠে আসে। ওই বাসিন্দার দাবি, তিনি জানতেন না রোপটি বহুতল ভবনের কাজের জন্য ব্যবহৃত সেফটি ইকুইপমেন্ট। তিনি সেটিকে সাধারণ দড়ি মনে করে কাপড় শুকানোর কাজে ব্যবহারের জন্য একটি অংশ কেটে নিয়েছিলেন। ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, রোপটি এমন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল যেখানে সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হতে পারত। তবে রোপ কাটার মুহূর্তে কোনো কর্মী ওই নির্দিষ্ট রোপে ঝুলে কাজ করছিলেন না। এ কারণেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কেউ আহতও হননি। লিউ পরে ওই বাসিন্দার বয়স বিবেচনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নেন। ভবন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর ক্ষতিগ্রস্ত রোপের জন্য ৪০০ ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ভবন ব্যবস্থাপনার মধ্যস্থতায় মীমাংসার দিকে যায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলো কয়েক কোটি ভিউ পেয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, একটি সেফটি রোপের গুরুত্ব না জেনে সেটি কেটে নেওয়া কীভাবে সম্ভব হলো। আবার কেউ কেউ বলেছেন, কারও অজ্ঞতা বা বয়স এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজের গুরুত্ব কমিয়ে দেয় না। স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যের সেফটি রোপ কেটে নেওয়া সম্পত্তির অধিকার লঙ্ঘনের আওতায় পড়তে পারে। কাজ বন্ধ হয়ে আর্থিক ক্ষতি হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণও চাইতে পারেন। তবে এ ঘটনায় লিউ যে ৪০০ ইউয়ান দাবি করেছেন, সেটিই ক্ষতিগ্রস্ত রোপের সরাসরি ক্ষতিপূরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ঘটনায় কেউ আহত না হলেও এটি বহুতল ভবনে কাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ উচ্চতায় কাজ করা কর্মীদের জন্য সেফটি রোপ জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম। সেটি অননুমোদিতভাবে কেটে নেওয়া বা সরিয়ে ফেলা যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, ফোশানের এই ঘটনাই তার বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
‘ইন্ডিয়ান জাস্টিন বিবার’, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটে ‘দেশের সবচেয়ে সুদর্শন’ হিসেবে নির্বাচিত
ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধ কিংবা রাষ্ট্রীয় পতনের আশঙ্কা, সতর্ক করল সিআইএ