সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৫:৩৭
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাই
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাই

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট বিচারক ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর নরওয়ের নোবেল কমিটি বিজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা আবারও পূরণ হলো না।

 

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্য অধিকারকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে সমসাময়িক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিচারিক কার্যক্রমে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন—পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতা রয়েছে।

 

পুরস্কার ঘোষণার ব্যাখ্যায় কমিটি বলেছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইনের ব্যবস্থা প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে এবং এর প্রতিষ্ঠানগুলোও আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আইন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরতেই পিল্লাইকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

 

কমিটির বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর পরিবর্তে ক্ষমতার রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শক্তি যখন ন্যায়ের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তখন স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অহিংস সমাধানের ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেছে কমিটি।

 

দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

 

নোবেল কমিটির মতে, পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনে একটি বিষয় বারবার ফিরে এসেছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং আইনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এই পুরস্কারের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আইন ও মানবাধিকার রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শক্তিশালী করার বার্তা দিতে চায় কমিটি।

 

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ভাটনে ফ্রিডনেস বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও এর প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের ভিত্তি। এই পুরস্কারের মাধ্যমে পিল্লাই এবং তাঁর মতো আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার প্রচেষ্টা ঘিরে আলোচনা

 

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় ছিল। তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজের কূটনৈতিক ভূমিকা ও সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাকে পুরস্কারের যোগ্য বলে তুলে ধরেছেন। নোবেল কমিটির ওপরও তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের পরিবর্তে পিল্লাইকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যেই পাকিস্তান আবারও ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার কথা জানায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।

 

শরিফের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ট্রাম্পের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ দুই দেশকে সংঘাতের কিনারা থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিল। তাঁর দাবি, সেই যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য; নোবেল কমিটির পুরস্কার ঘোষণার কারণ হিসেবে এই দাবিকে উল্লেখ করা হয়নি।

 

এর আগে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটিতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি প্রতীকীভাবে নিজের পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পরিবর্তন করা যায় না।

 

আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে ন্যায়বিচারের বার্তা

 

এবারের পুরস্কার এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে।

 

এদিকে সুদানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অর্থায়ন কমে যাওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটিভিত্তিক সহায়তা নেটওয়ার্কগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব উদ্যোগও এবারের পুরস্কারের সম্ভাব্য দাবিদারদের আলোচনায় ছিল।

 

নোবেল শান্তি পুরস্কার চলতি সপ্তাহে ঘোষিত পঞ্চম পুরস্কার। এর আগে সাহিত্য, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পিল্লাইয়ের এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাই
আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট বিচারক ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর নরওয়ের নোবেল কমিটি বিজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা আবারও পূরণ হলো না।   নোবেল কমিটি জানিয়েছে, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্য অধিকারকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে সমসাময়িক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিচারিক কার্যক্রমে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন—পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতা রয়েছে।   পুরস্কার ঘোষণার ব্যাখ্যায় কমিটি বলেছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইনের ব্যবস্থা প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে এবং এর প্রতিষ্ঠানগুলোও আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আইন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরতেই পিল্লাইকে বেছে নেওয়া হয়েছে।   কমিটির বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর পরিবর্তে ক্ষমতার রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শক্তি যখন ন্যায়ের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তখন স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অহিংস সমাধানের ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেছে কমিটি।   দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।   নোবেল কমিটির মতে, পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনে একটি বিষয় বারবার ফিরে এসেছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং আইনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এই পুরস্কারের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আইন ও মানবাধিকার রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শক্তিশালী করার বার্তা দিতে চায় কমিটি।   নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ভাটনে ফ্রিডনেস বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও এর প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের ভিত্তি। এই পুরস্কারের মাধ্যমে পিল্লাই এবং তাঁর মতো আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার প্রচেষ্টা ঘিরে আলোচনা   ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় ছিল। তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজের কূটনৈতিক ভূমিকা ও সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাকে পুরস্কারের যোগ্য বলে তুলে ধরেছেন। নোবেল কমিটির ওপরও তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের পরিবর্তে পিল্লাইকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যেই পাকিস্তান আবারও ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার কথা জানায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।   শরিফের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ট্রাম্পের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ দুই দেশকে সংঘাতের কিনারা থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিল। তাঁর দাবি, সেই যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য; নোবেল কমিটির পুরস্কার ঘোষণার কারণ হিসেবে এই দাবিকে উল্লেখ করা হয়নি।   এর আগে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটিতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি প্রতীকীভাবে নিজের পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পরিবর্তন করা যায় না।   আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে ন্যায়বিচারের বার্তা   এবারের পুরস্কার এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে।   এদিকে সুদানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অর্থায়ন কমে যাওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটিভিত্তিক সহায়তা নেটওয়ার্কগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব উদ্যোগও এবারের পুরস্কারের সম্ভাব্য দাবিদারদের আলোচনায় ছিল।   নোবেল শান্তি পুরস্কার চলতি সপ্তাহে ঘোষিত পঞ্চম পুরস্কার। এর আগে সাহিত্য, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পিল্লাইয়ের এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৫:৩৭
সমাজের সব প্রতিকূলতা জয় করে মুই থমাস আজ একজন সফল ইয়োগা প্রশিক্ষক ও রাগবি রেফারি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জন্মের দিনই ফেলে যায় পরিবার, দত্তক নেওয়া বাবা-মায়ের ভালোবাসায় সেই মুই আজ সফল রাগবি রেফারি

মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৪৫টি ড্রোন ও বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের তথ্য প্রকাশ করেছে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ যুদ্ধবিমান ধ্বংস, ক্ষতি ৪০ হাজার কোটি টাকা

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক বিমান ধ্বংস, ক্ষয়ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলারের বেশি

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক বিমান ধ্বংস, ক্ষয়ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলারের বেশি

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলিমসহ কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সংখ্যালঘু মুসলিম ও বিরোধী সমর্থকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।   বুধবার (৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে ভারতের চলমান ভোটার তালিকা বিতর্ক এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।   বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম, যা এসআইআর নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য নতুন করে যাচাই এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।   নির্বাচন কমিশনের দাবি, মৃত ব্যক্তি, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার এবং একাধিকবার নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করাই এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য।   অন্যদিকে বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতিতে গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারা কিংবা তথ্যের অসংগতির কারণে অনেক বৈধ ভোটারের নামও বাদ পড়ছে।   বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু মুসলিম, অভিবাসী শ্রমিক এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহে সমস্যায় পড়া মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমালোচকেরা।   ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের পর প্রায় ১৩ কোটি নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনা নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।   তবে বাদ পড়া ১৩ কোটি মানুষের সবাই মুসলিম নন। তাঁদের মধ্যে ঠিক কতজন মুসলিম এবং কতজন বৈধ ভোটার, তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভোটার তালিকা থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক মুসলিমকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   এদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। দলটির দাবি, এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।   কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ক্ষমতাসীন বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। তাঁর নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করছে।   বুধবার নয়াদিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে রাহুল গান্ধীকে সাময়িকভাবে আটক করে পুলিশ। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি অন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।   বিক্ষোভে কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীরাও অংশ নিচ্ছেন।   বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা তৃতীয় দিনের মতো ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নয়াদিল্লির পাশাপাশি তেলেঙ্গানা, বিহার ও বেঙ্গালুরুতেও প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।   আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুলভাবে বাদ পড়া বৈধ নাগরিকদের নাম পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।   এদিকে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও ঝাড়খণ্ডসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ভোটারদের নাম একসঙ্গে বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।   গত সেপ্টেম্বরে রাজ্যসভার সদস্য কপিল সিবাল অভিযোগ করেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও ওড়িশাতেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।   অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক হিন্দুও রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।   ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।   ভারতের নির্বাচন কমিশন অবশ্য বারবার জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা নয়।   এর আগে সুপ্রিম কোর্টে কমিশন জানিয়েছিল, ভোটার তালিকায় কারও ধর্মীয় পরিচয়ের তথ্য সংরক্ষণ করা হয় না। ফলে ধর্মের ভিত্তিতে কতজনের নাম বাদ পড়েছে, তার সরকারি হিসাবও নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই।   কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যু, স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন, একাধিক নিবন্ধন এবং নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার মতো কারণে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।   তবে সমালোচকেরা বলছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ করলেই চলবে না। কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়লে তাঁকে যথাযথ নোটিশ দেওয়া, আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা এবং সহজে নাম পুনর্বহালের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।   এই বিতর্ক ইতোমধ্যে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের বৈধতা ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক আবেদন উঠেছে।   আদালতে আবেদনকারীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের যথাযথভাবে অবহিত না করেই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রেও দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমস্যায় পড়ছেন।   অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং বাদ পড়া ব্যক্তিদের জন্য আপত্তি ও সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে।   বিতর্কের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নিবন্ধনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   ভারতের মতো বিশাল গণতান্ত্রিক দেশে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করেছে।   একদিকে নির্বাচন কমিশন নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধীরা আশঙ্কা করছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে।   বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর বৈষম্যমূলক প্রভাব পড়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে লাখ লাখ মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   এ অবস্থায় ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা, বাদ পড়া নাগরিকদের ভোটাধিকার পুনর্বহাল এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে ভারতে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিক্ষোভের পাশাপাশি আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তও দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৭:৩১
বাংলাদেশের মতো ভারতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস

বাংলাদেশের মতো ভারতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপির

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শিকার ফ্রান্সের মুসলিম মেয়র

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শিকার ফ্রান্সের মুসলিম মেয়র

মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ মিসর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে বিপুল অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

মিসর, কুয়েত ও আমিরাতকে ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে প্রদর্শিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ ভাস্কর্য। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন সোনালি ভাস্কর্য, নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’

স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক সোনালি মূর্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। ডেনমার্কের শিল্পী ইয়েন্স গালশিওটের তৈরি ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ নামের ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পকে পোশাকহীন অবস্থায় ছোট আকৃতির এক ব্যক্তির কাঁধে বসে থাকতে দেখা যায়। ২ দশমিক ৬ মিটার উচ্চতার মূর্তিটি ২৩ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো।   মূর্তিটি ৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। এর আগে সোমবার সকাল থেকে এটি কমলা রঙের কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। পরে মঙ্গলবার পার্লামেন্ট ভবনের ব্যস্ততম অংশগুলোর একটিতে সেটি উন্মোচন করা হয়। তবে এটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নয়। ডেনমার্কের বামপন্থী ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য পার ক্লাউসেনের আমন্ত্রণে শিল্পী গালশিওটের এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।   ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পের এক হাতে একটি গলফ ক্লাব এবং অন্য হাতে ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লার প্রতীক রয়েছে। নিচে থাকা ছোট আকৃতির ব্যক্তিটি ব্রোঞ্জের তৈরি এবং তার পায়ের কাছে একটি ছোট পৃথিবীর গোলকের আকৃতির বস্তু রাখা হয়েছে। মূর্তিটির বেদিতে লেখা রয়েছে, একজন মানুষের পিঠে বসে থাকার কারণে সেই ব্যক্তি তার ভারে ডুবে যাচ্ছে এবং তাকে সাহায্য করার জন্য সবকিছু করা হবে, শুধু তার পিঠ থেকে নেমে আসা হবে না। ভাস্কর্যটির আরেক নাম ‘কিং অব ইনজাস্টিস’ বা ‘অন্যায়ের রাজা’।   শিল্পী ইয়েন্স গালশিওট বলেছেন, এই কাজের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতাধর দেশ ও নেতাদের দ্বারা বিশ্বের অন্যদের ওপর প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পকে তিনি জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় একটি চ্যালেঞ্জের প্রতীক হিসেবে দেখেছেন। তিনি আরও বলেছেন, রাজনৈতিক ভাষায় যেসব বিষয় অনেক সময় স্পষ্টভাবে বলা যায় না, ব্যঙ্গশিল্পের মাধ্যমে সেগুলো তুলে ধরা সম্ভব।   গালশিওটের মতে, ভাস্কর্যটি হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের বিখ্যাত রূপকথা ‘দ্য এমপেররস নিউ ক্লোদস’ বা ‘সম্রাটের নতুন পোশাক’ থেকেও অনুপ্রাণিত। সেই গল্পে একজন সম্রাট এমন পোশাক পরেছেন বলে বিশ্বাস করেন, যা আসলে নেই। শিল্পীর বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পকে সোনায় মোড়ানো ও পোশাকহীন অবস্থায় দেখানোর মধ্যেও একই ধরনের রাজনৈতিক ব্যঙ্গ রয়েছে।   প্রদর্শনীর আয়োজক ডেনিশ এমইপি পার ক্লাউসেন ট্রাম্পকে নিয়ে এমন ব্যঙ্গাত্মক শিল্প প্রদর্শনের সমালোচনার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য, ট্রাম্পকে বিরক্ত করার আশঙ্কায় ইউরোপের মানুষের নিজেদের মতপ্রকাশে ভয় পাওয়া উচিত নয়। তিনি মনে করেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মতো জায়গায় এমন শিল্প প্রদর্শন রাজনৈতিক নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে।   ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়েছে। ২০২৫ সালে ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০-এ এটি প্রদর্শন করা হয়। ২০২৬ সালে জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন এবং ডেনমার্কে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও ভাস্কর্যটি দেখা যায়। স্ট্রাসবুর্গের প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর এটি আগামী মাসে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   ইউরোপে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি নিয়েও সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৬ সালের জরিপে ইউরোপের ১০টি দেশের বেশির ভাগ মানুষ আন্তর্জাতিক বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখেন না বলে জানিয়েছে। গ্রিনল্যান্ড ও শুল্কনীতি নিয়ে তার অবস্থানের ক্ষেত্রে এসব দেশে গড়ে ৮৫ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জরিপটি ৩৬টি দেশের ৪২ হাজার ১৫১ জনের ওপর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছিল।   ইউগভের সেপ্টেম্বরের ইউরোপীয় ট্র্যাকার জরিপেও ট্রাম্পের প্রতি পশ্চিম ইউরোপে কম সমর্থনের চিত্র পাওয়া গেছে। ফ্রান্সে ১২ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক তার প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে এই হার ১০ শতাংশ। ডেনমার্কে ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক মত ছিল আরও কম।   ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের টানাপোড়েনের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে গ্রিনল্যান্ড। এর পাশাপাশি ন্যাটো, ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয়, বাণিজ্য শুল্ক এবং জলবায়ুনীতি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এসব বিষয়কে সামনে রেখেই গালশিওটের ভাস্কর্যটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদের একটি প্রতীক হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে।   ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাস্কর্যটি ৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রদর্শিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর এর পরবর্তী গন্তব্য তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলন।   সূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ২০:৫০
ফিজিক্সে নোবেলজয়ীর ২৩০ পৃষ্ঠার সিভি! গবেষণাজীবনের বিস্ময়কর দলিল

ফিজিক্সে নোবেলজয়ীর ২৩০ পৃষ্ঠার সিভি! গবেষণাজীবনের বিস্ময়কর দলিল

কিম জং উনের বাবার মৃত্যুতে ১১ দিনের শোক, চোখের পানি পড়ছে কিনা দেখতে নিষিদ্ধ ছিল টুপি-গ্লাভস-স্কার্ফ

কিম জং উনের বাবার মৃত্যুতে ১১ দিনের শোক, চোখের পানি পড়ছে কিনা দেখতে নিষিদ্ধ ছিল টুপি-গ্লাভস-স্কার্ফ

যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কলেজে সারোয়ার দম্পতির ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাৎ

যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কলেজে সারোয়ার দম্পতির ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাৎ, পরিচালকের স্বীকারোক্তি

0 Comments