বিশ্ব

কানাডার এমপি নির্বাচিত ডলি বেগম, অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৫:১৮
ডলি বেগম। ছবি: সংগৃহীত
ডলি বেগম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া কানাডীয় নাগরিক ডলি বেগম কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি-র প্রার্থী হিসেবে তিনি অন্টারিও প্রদেশের টরোন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে বিজয়ী হন।

 

কানাডার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ডলি বেগম তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে কাজ করে আসছেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতা একটি আরও শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক কানাডা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

লিবারেল পার্টিও ডলি বেগমকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটির মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন এবং পার্লামেন্টে সেই ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন। ১৯৮৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেন ডলি বেগম।

 

তিনি এর আগে অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। লিবারেল পার্টিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ২০১৮ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে কানাডায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কোনো প্রাদেশিক বা ফেডারেল রাজনৈতিক পদে নির্বাচিত হন ডলি বেগম।

 

এছাড়া নাগরিকত্ব, বিদেশি সনদ স্বীকৃতি ও অভিবাসন সেবাবিষয়ক বিরোধী দলের সমালোচক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ডলি বেগমের এই বিজয় কানাডার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে জর্ডান ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি করলেও দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। জর্ডানের সরকারি বার্তাসংস্থা পেট্রা জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশের পরই সেগুলো ধ্বংস করা হয়।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডানের ওই বিমানঘাঁটিতে ‘আমেরিকান শত্রুর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এই ঘাঁটি ব্যবহার করেই ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল। সে কারণেই পাল্টা জবাব হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।   এদিকে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, ওই হামলায় যোগাযোগ কেন্দ্র, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।   তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, সোমবার রাতজুড়ে ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা অব্যাহত ছিল। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন শহর ও দ্বীপাঞ্চল। মঙ্গলবার ভোরে আবু মুসা, কেশম এবং কিশ দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র বন্দর আব্বাসসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনারাক ও চাবাহারেও ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরণের খবর এসেছে। এছাড়া জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বুশেহর ও খুজেস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণ ঘটে। ওমিদিয়েহ, জাম ও কানগান এলাকায়ও হামলার খবর পাওয়া গেছে।   এই প্রেক্ষাপটে ইরান আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সামরিক ঘাঁটিতেও প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।   বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৪, ২০২৬ ৪:৫২
হরমুজে ট্যাংকারে হামলা

হরমুজে ট্যাংকারে হামলা: ভারতীয় নাবিক নিহত, ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব দিল্লির

ইরানের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আজ থেকে কার্যকর

ইরানের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আজ থেকে কার্যকর

ইরানে ড্রোন প্রযুক্তি পাচারের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত ম্যাসাচুসেটসের প্রকৌশলী

ইরানে ড্রোন প্রযুক্তি পাচারের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত ম্যাসাচুসেটসের প্রকৌশলী

হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে আমিরাতের দুই তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ, নিহত ভারতীয় নাবিক

হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ অংশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ করেছে আবুধাবি। এ ঘটনায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। হামলার পর দুই জাহাজেই আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।    আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, আল বাহিয়া এবং মোমবাসা নামের দুটি জাতীয় তেলবাহী ট্যাংকার ওমানের আঞ্চলিক জলসীমায়, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ নৌপথ দিয়ে চলাচলের সময় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলায় মোমবাসা জাহাজে থাকা এক ভারতীয় নাবিক নিহত হন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুইজন ইউক্রেনের নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুই জাহাজেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে উদ্ধার ও জরুরি সেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। হামলায় জাহাজ দুটি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি। একই সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।    আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পৃথক এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং নিহত ভারতীয় নাবিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে দেশটি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং হরমুজ প্রণালীকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এ নৌপথে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এই হামলার অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ২১:১৬
ফিলিস্তিনির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনে থামছেই না ধ্বংসযজ্ঞ, কৃষিজমি গুঁড়িয়ে ১,৫০০-এর বেশি জলপাই গাছ উপড়ে ফেলছে ইসরায়েলি বুলডোজার

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পাল্টাপাল্টি হামলায় তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ল

কুয়েতে মার্কিন হিমার্স লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস ও ৩ মার্কিন সেনা নিহত

ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ইনফোগ্রাফিক। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুসহ ইরানের ‘হিট লিস্টে’ ১৩ বিশ্বনেতা, প্রতিশোধের ঘোষণা মোজতবা খামেনির

ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপের ১৩ জন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার ছবি ও নামসংবলিত একটি ‘প্রতিশোধের লক্ষ্য’ (টার্গেট) তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকাটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এটি ইরানের সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদিত তালিকা কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, তেহরানের পৌর কর্তৃপক্ষ-ঘনিষ্ঠ হামশাহরি পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে শনিবার গভীর রাতে একটি ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করা হয়। সেখানে ১৩ জন বিদেশি নেতার ছবি যুক্ত করে প্রতিশোধের আহ্বানসংবলিত বার্তা তুলে ধরা হয়। তবে একই ইনফোগ্রাফিক পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশ করা হয়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তালিকা প্রকাশের আগে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার পিতা, নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি এক বার্তায় বলেন, প্রতিশোধ নেওয়া জাতির ইচ্ছা এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে।   প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্টজসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা।   তবে এএফপি বলছে, ইনফোগ্রাফিকটি ইরানের সরকার বা সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এটিকে সরকারি ‘হিট লিস্ট’ হিসেবে নিশ্চিতভাবে বর্ণনা করা যাচ্ছে না।   সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরান অভিযোগ করেছিল, কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে হামলায় পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। ওই প্রেক্ষাপটেই ইউরোপীয় কয়েকজন নেতার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রতীকী তালিকা বা উসকানিমূলক বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে তালিকাটি কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি নীতির অংশ কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এর গুরুত্ব মূল্যায়নে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।   সূত্র: এএফপি, হামশাহরি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ২৩:৩৪
অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত বারের ভেতরের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংককের বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, টয়লেট থেকে উদ্ধার বেশিরভাগ মরদেহ, নিহত বেড়ে ২৭

লি রেডপাথ, যিনি ফেনবেনডাজল সেবনের পর মারা যান। ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ার ভুয়া তথ্য বিশ্বাস করে ক্যানসার সারানোর আশায় পশুর কৃমির ওষুধ খেয়ে যুবকের করুণ মৃত্যু

বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ

তরুণদের সমর্থনে ক্ষমতায়, এবার তাদেরই বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ

0 Comments