সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

প্রবাসী বাংলাদেশি

ভার্জিনিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলা। ছবি: সংগৃহীত
ভার্জিনিয়ায় ২৩ আগস্ট চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান, থাকছে নকীব খান ও প্রতীক হাসানের লাইভ পারফরম্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় আগামী ২৩ আগস্ট বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানকে ঘিরে বড় ধরনের প্রবাসী মিলনমেলা। বাংলাদেশ-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো) এর উদ্যোগে আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকছে ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবার, লাইভ সংগীত, ফ্যাশন শো, বিভিন্ন ধরনের গেমস, র‍্যাফেল ড্র এবং নানা বিনোদনমূলক আয়োজন।   রোববার, ২৩ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার-০০এ১-এ অনুষ্ঠিত হবে অনুষ্ঠানটি। এর ঠিকানা ৮৯৯৯ ফোর্ট হান্ট রোড, আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়া ২২৩০৮। বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকা ছাড়াও ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও আশপাশের স্টেটের বাংলাদেশিদের পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা।   এবারের আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খানের লাইভ পারফরম্যান্স। আয়োজকরা জানান, ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় প্রথমবারের মতো নকীব খান এই অনুষ্ঠানে সরাসরি সংগীত পরিবেশন করবেন। তার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানও মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করবেন।   নকীব খান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম পরিচিত শিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক। তার গান বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ফলে প্রবাসের মাটিতে তার সরাসরি সংগীত পরিবেশনাকে ঘিরে বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   মেজবানির মূল আকর্ষণ থাকছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক অতিথির জন্য খাবার প্রস্তুতের লক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আগের দিন থেকেই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে।   রোববার সকাল থেকে অনুষ্ঠানস্থলে অতিথিদের স্বাগত জানানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হবে। দুপুরের দিকে মেজবানি খাবার পরিবেশন করা হবে। খাবারের পাশাপাশি দিনব্যাপী চলবে আড্ডা, পারিবারিক মিলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিনোদনমূলক আয়োজন।   আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে বাইটপোর ইভেন্ট ডিরেক্টর স্যাম রিয়া জানান, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানকে কেন্দ্র করে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি সংযোগ তৈরি করতেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন।   আয়োজক শামসুদ্দিন মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, মেজবান সফল করতে আগের দিন থেকেই খাবার প্রস্তুতি ও অন্যান্য আয়োজনের কাজ শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে অতিথিদের স্বাগত জানানো এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মঞ্চে সংগীত পরিবেশনাও থাকবে।   মেজবানি ও সংগীতের পাশাপাশি এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে বিশেষ র‍্যাফেল ড্র। প্রথম পুরস্কার হিসেবে রয়েছে একটি হিরের আংটি। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৪কে টেলিভিশন এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ল্যাপটপ দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ গেমসের আয়োজন করা হয়েছে।   অনুষ্ঠানে বিশেষ ফ্যাশন শোরও আয়োজন থাকছে।সারাহ, দিশা ও স্মিতার নাম ফ্যাশন শোর অংশগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘পুট দ্য মাস্ট্যাশ অন আঙ্কেল স্যাম’ নামে একটি বিনোদনমূলক আয়োজনও থাকছে। এটি এনায়েত খান ও আবু রুমি আয়োজন করছেন বলে  উল্লেখ রয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের মেজবানকে আগের আয়োজনগুলোর তুলনায় আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুধু খাবার বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, পুরো দিনটিকে পরিবার ও কমিউনিটির মানুষের জন্য একটি আনন্দময় মিলনমেলায় পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্য তুলে ধরাও এবারের আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য। মেজবানের খাবার, সংগীত, ফ্যাশন ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ভিন্ন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের একসঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।   অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগাম রিজার্ভেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রচারপত্রে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে রিজার্ভেশন করা যাবে। জেল-এর মাধ্যমে যোগাযোগ বা অর্থ প্রদানের জন্য baitpodc@gmail.com ইমেইল ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে।   অনুষ্ঠানসংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য বাইটপোর ইভেন্ট ডিরেক্টর স্যাম রিয়ার ফোন নম্বর ৭০৩-৩৩২-৫৯৫৮ দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ভার্জিনিয়ায় মেজবানি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রথমবার বৃহত্তর ডিসি মেট্রোতে নকীব খানের সঙ্গীত
আর মাত্র ৫ দিন! ভার্জিনিয়ায় মেজবানি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রথমবার বৃহত্তর ডিসি মেট্রোতে নকীব খানের সঙ্গীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক মেজবানি ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। আগামী ২৩ আগস্ট, রোববার আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার ওয়ানে বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই মেজবানি। আয়োজন ঘিরে এরই মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এবার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খান। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকায় এবারই প্রথম নকীব খানের সঙ্গীত পরিবেশনা করবেন।   আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন বা বাইটপোর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেজবানি প্রতি বছর প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় মিলনমেলায় পরিণত হয়। এর আগে আমেরিকা বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, এবারের আয়োজনকে আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।   চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ:   মেজবানির প্রধান আকর্ষণই থাকছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই মেজবানির জন্য গরু জবাই ও রান্নার প্রস্তুতির কার্যক্রম শুরু হবে। বিপুলসংখ্যক অতিথির খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের বিষয়টি মাথায় রেখে আগেভাগেই মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করবেন স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজকরা।   রোববার সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দুপুর ১২টার পর থেকে অতিথিদের জন্য মেজবানির খাবার পরিবেশন শুরু হবে। খাবারের পাশাপাশি দিনব্যাপী চলবে আড্ডা, মিলন এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন।   নকীব খানকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ: এবারের আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। তার পাশাপাশি সঙ্গীত পরিবেশনায় থাকছেন প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী।   নকীব খানের গান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ফলে প্রবাসের মাটিতে তার সরাসরি সঙ্গীত পরিবেশনা ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিশেষ করে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের জন্য এবারের আয়োজনটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।   র‍্যাফেল ড্রতে থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার:   মেজবানি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে র‍্যাফেল ড্র। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে র‍্যাফেল ড্রতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে এবং প্রথম পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি হিরের আংটি। ফলে মেজবানির খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও সঙ্গীত পরিবেশনার পাশাপাশি র‍্যাফেল ড্র নিয়েও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   প্রস্তুতি নিয়ে যা জানালেন স্যাম রিয়া ও শামসুদ্দিন মাহমুদ:   আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা স্যাম রিয়া এবং তার স্বামী শামসুদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, মেজবানিকে সফল করতে প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শামসুদ্দিন মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই গরু জবাইসহ মেজবানির মূল প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে।   রোববার সকাল থেকে অতিথিদের স্বাগত জানানো এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে। দুপুরের পর শুরু হবে মেজবানির খাবার পরিবেশন। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মঞ্চে চলবে সঙ্গীত পরিবেশনা।   প্রবাসে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশীয় ঐতিহ্যের যোগসূত্র:   আয়োজকদের অন্যতম লক্ষ্য শুধু একটি খাবারের আয়োজন করা নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক জায়গায় এনে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানো। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি, চট্টগ্রামের মেজবানি এবং দেশের সামাজিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে চান আয়োজকরা।   স্যাম রিয়া এর আগে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছিলেন, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসীদের একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বৃহত্তর কমিউনিটির অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।   ডিসি, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশিদের আহ্বান:   আয়োজকদের পক্ষ থেকে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও আশপাশের স্টেট থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই ও আমেরিকা বাংলা:   এবারের মেজবানি আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আই এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম আমেরিকা বাংলা। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির এই বড় আয়োজনের খবর, প্রস্তুতি ও অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বিভিন্ন আপডেট বৃহত্তর দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিতে দুই গণমাধ্যমই মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।   আগামী ২৩ আগস্টের এই আয়োজন তাই শুধু চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ নেওয়ার সুযোগ নয়। প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে একসঙ্গে মিলিত হওয়ার পাশাপাশি নকীব খান ও অন্যান্য শিল্পীর সঙ্গীত উপভোগেরও সুযোগ থাকছে।   আর মাত্র পাঁচ দিন পরই আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে বসছে এই মিলনমেলা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের মেজবানি স্মরণীয় একটি কমিউনিটি আয়োজনে পরিণত হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
সন্তানদের সাথে থাকার পরও নিউইয়র্কে কিছু প্রবীণ বাংলাদেশি বাবা-মার একাকী ও বিষণ্ণ জীবন কাটানোর বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বৃদ্ধ বাবা-মাকে দিনে ঘরে থাকতে না দেওয়ার অভিযোগ, পার্কে মানুষের কাছে চান খাবারের টাকা

সন্তানের কাছে ভালো থাকবেন, শেষ বয়সটা কাটবে নিশ্চিন্তে - এমন আশা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা। কিন্তু নিউইয়র্কে তাদের কারও কারও জীবনের বাস্তবতা নাকি একেবারেই ভিন্ন। সন্তানদের কাছে থাকার পরও দিনের বেলা ঘরের বাইরে কাটানো, পার্কে বসে কান্না করা, এমনকি পরিচিত মানুষের কাছে চা-খাবারের জন্য এক থেকে দশ ডলার চাওয়ার মতো ঘটনা দেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি লাকি খানম।   নিউইয়র্কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাকি খানম বলেন, রাস্তাঘাট ও পার্কে চলাফেরার সময় এমন একাধিক বয়স্ক বাংলাদেশির সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ সরাসরি তার কাছে সাহায্য চেয়েছেন।   লাকি খানম বলেন, “আমাদের কাছেই হাত পাতে। বলে, দশটা টাকা দেবেন, চা খাব। একটা টাকা দেবেন - এমন কথাও শুনতে পাই।”   তার দাবি, এসব বৃদ্ধের অনেককেই ছেলে-মেয়েরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছেন। তাদের দেখাশোনার জন্য হোম কেয়ার সুবিধাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো কোনো পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা সেই সুবিধার সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।   নিজের দেখা একটি ঘটনার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন লাকি খানম। নিউইয়র্কের একটি পার্কের পাশে এক বৃদ্ধের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বসে কথা বলেছিলেন তিনি।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ওই ব্যক্তি শিক্ষিত ও ভালো অবস্থানে ছিলেন। মেয়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় কেঁদেছিলেন।   আরেকটি ঘটনার বর্ণনায় লাকি খানম দাবি করেন, এক বৃদ্ধ তাকে জানিয়েছেন, মেয়ে বন্ধুদের নিয়ে বাসায় খাওয়াদাওয়া করার পর চলে যান। পরে তাকেই থালা-বাসন পরিষ্কার করতে হয়।   তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বৃদ্ধ বা তাদের পরিবারের বক্তব্য নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে নিউইয়র্কের সব বাংলাদেশি পরিবারের চিত্র হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই।   লাকি খানম বিশেষভাবে পরিষ্কার করেছেন, তার অভিযোগ হোম কেয়ার ব্যবস্থা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে নয়।   তিনি বলেন, হোম কেয়ার কর্মীরা পরিশ্রম করেন এবং বয়স্কদের সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবস্থাকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন। তার অভিযোগ সেইসব সন্তানের বিরুদ্ধে, যারা বাবা-মায়ের জন্য পাওয়া সুবিধা ব্যবহার করলেও তাদের যথাযথ যত্ন নেন না।   লাকি খানম বলেন, “এজেন্সিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না। অভিযোগ হচ্ছে ছেলেমেয়েদের বিরুদ্ধে। টাকা দিচ্ছে, কিন্তু এরা পায় না।”   নিউইয়র্কের আইনে বিষয়টি গুরুতর। বয়স্ক ব্যক্তির অর্থ বা সম্পদ অন্য কেউ অনুপযুক্তভাবে ব্যবহার করা কিংবা তাকে নিজের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করাও আর্থিক শোষণের আওতায় পড়তে পারে। একইভাবে খাবার, আশ্রয় বা প্রয়োজনীয় পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত করা অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   সাম্প্রতিক সরকারি তথ্যও দেখাচ্ছে, বয়স্কদের নির্যাতন ও অবহেলা নিউইয়র্কে বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়। নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর দ্য এজিংয়ের হিসাবে, রাজ্যটিতে প্রতিবছর আনুমানিক তিন লাখ ষাটোর্ধ্ব মানুষ কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে আর্থিক শোষণ এবং পরিচর্যাকারীর অবহেলাও রয়েছে।   লাকি খানম নিজেও আগে হোম কেয়ারে কাজ করেছেন। তার বক্তব্য, সন্তানদের কর্মব্যস্ততা বাস্তব সমস্যা। কিন্তু বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সময় দেওয়া, যত্ন নেওয়া এবং সম্মানের সঙ্গে রাখার সামর্থ্য আছে কি না - সেটিও ভাবা প্রয়োজন।   এ কারণেই বাংলাদেশে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উদ্দেশে কঠিন একটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি - শুধু আমেরিকায় আসার সুযোগ আছে বলেই চলে আসবেন না, আগে ভাবুন এখানে এসে জীবনটা কেমন হবে।   তার মতে, বাংলাদেশে হয়তো অর্থনৈতিক সুযোগ কম, কিন্তু পরিচিত পরিবেশে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে এসে দিনের বড় অংশ একাকী কাটাতে হলে শেষ বয়সে সেই প্রবাসজীবন অনেকের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।   তবে কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তিকে অবহেলা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় খাবার-আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না কিংবা আর্থিকভাবে শোষণ করা হচ্ছে বলে সন্দেহ হলে নিউইয়র্ক সিটির অ্যাডাল্ট প্রোটেকটিভ সার্ভিসেসে অভিযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। সংস্থাটি নির্যাতন, অবহেলা ও আর্থিক শোষণের ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের অভিযোগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে।   শেষ পর্যন্ত লাকি খানমের সাক্ষাৎকার নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে -   বাবা-মাকে আমেরিকায় নিয়ে আসাই কি সন্তানের দায়িত্বের শেষ কথা? নাকি শেষ বয়সে তাদের হাতে প্রয়োজনীয় অর্থ, মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ, একটু সময় এবং সম্মানের জীবন নিশ্চিত করাটাই আসল দায়িত্ব?   এই নিউজটি একজন অনলাইনভিত্তিক ব্লগারের সাক্ষাৎকারের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আমেরিকা বাংলা সরাসরি এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ পায়নি। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো তথ্য বা আপডেট পাওয়া গেলে তা পাঠকদের জানানো হবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ডিএমভি এলাকায় প্রথমবারের মতো লাইভ সংগীত পরিবেশন করবেন কিংবদন্তি শিল্পী নকীব খান। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান আর কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খানের লাইভ পরিবেশনায় মাতবে ভার্জিনিয়া

ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় আগামী ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো) এর উদ্যোগে ফোর্ট হান্ট পার্কে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ থাকছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ডিএমভি এলাকায় এবারই প্রথম নকীব খানের লাইভ সংগীত পরিবেশনার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা।   দিনব্যাপী এই আয়োজনে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের পাশাপাশি থাকবে সংগীত পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাফেল ড্র এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি বড় একটি মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নকীব খানের পাশাপাশি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন। ফলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারবেন সরাসরি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।   নকীব খান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। প্রায় পাঁচ দশকের সংগীতজীবনে তিনি সোলস ও রেনেসাঁর মতো ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের ব্যান্ড সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর সংগীতজীবন ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।   বাইটপো যুক্তরাষ্ট্রের ডিএমভি অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের একটি সংগঠন। সংগঠনটি পেশাগত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও করে থাকে। এর আগে ভার্জিনিয়ায় বাইটপোর আয়োজনে মেজবান ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে।   এবারের র‌্যাফেল ড্রতেও থাকছে নানা আকর্ষণ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, হীরার আংটি, ল্যাপটপ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকছে অংশগ্রহণকারীদের জন্য।   আয়োজক কমিটি থেকে স্যাম রিয়া বলেন, এবারের আয়োজনকে আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বড় পরিসরে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের সঙ্গে সংগীত, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও র‌্যাফেল ড্র যুক্ত করায় পরিবার নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দিনটি আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।   তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় আরও গভীরভাবে তৈরি করা সম্ভব।   চট্টগ্রামের মেজবান শুধু খাবারের আয়োজন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। প্রবাসের মাটিতে সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানোও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।   আগামী ২৩ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার এ-০০১-এ অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। মেজবানের স্বাদ, নকীব খানের লাইভ সংগীত এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনাকে ঘিরে উত্তর ভার্জিনিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখে পৌঁছেছে বলে আদমশুমারির রিপোর্টে প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের নতুন ঠিকানা কোথায়? টপ ১০ রাজ্যের তালিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২১–২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের  বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষ নিজেদের শুধু বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেন। আর ২০২৩ সালের মার্কিন আদমশুমারির হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখে পৌঁছেছে।    সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশির বসবাস নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। একাই দেশটির মোট বাংলাদেশি-একক জনসংখ্যার প্রায় ৪৪ শতাংশ বা প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষের আবাস নিউইয়র্কে। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতে।    পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য ও বিভিন্ন জনসংখ্যাগত অনুমানের ভিত্তিতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতির দিক থেকে শীর্ষ ১০ অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চল হলো:   ১. নিউইয়র্ক — প্রায় ১,১৫,০০০ ২. মিশিগান — প্রায় ২০,০০০ ৩. ক্যালিফোর্নিয়া — প্রায় ১৮,০০০ ৪. টেক্সাস — প্রায় ১৭,০০০ ৫. নিউ জার্সি — প্রায় ১২,০০০ ৬. জর্জিয়া — আনুমানিক ১৫,০০০ (বিভিন্ন কমিউনিটি অনুমান) ৭. ফ্লোরিডা — আনুমানিক ৮,০০০–১০,০০০ ৮. পেনসিলভানিয়া — আনুমানিক ৭,০০০–৮,০০০ ৯. নর্থ ক্যারোলাইনা — আনুমানিক ৫,০০০–৭,০০০ ১০. ম্যাসাচুসেটস — কয়েক হাজার বাংলাদেশির বসবাস, কমিউনিটি ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে।    তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকা প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশির আবাস হলেও এটি কোনো একক অঙ্গরাজ্য নয়। এই সংখ্যা ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও ডিসি—এই তিনটি প্রশাসনিক এলাকার সম্মিলিত হিসাব। তাই অঙ্গরাজ্যভিত্তিক তালিকায় এটিকে আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।    গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-একক জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার। ২০২৩ সালে তা বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৫৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। বর্তমানে বাংলাদেশিদের ৭১ শতাংশই অভিবাসী এবং তাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশের বেশি ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

তাবাস্সুম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে বাজার খরচে চাপ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে $১০০ নিয়ে কাঁচাবাজারে গেলে এখন কী কী কেনা যায়? এক বছরে কত বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান কেনাকাটার কেন্দ্র। এখানকার দক্ষিণ এশীয় গ্রোসারি দোকানগুলোতে প্রতিদিন হাজারো প্রবাসী পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার হয়। তবে গত এক বছরে খাদ্যপণ্য ও কাঁচাবাজারের দাম বেড়ে যাওয়ায় একই পরিমাণ অর্থে আগের তুলনায় কম পণ্য কিনতে পারছেন বলে জানাচ্ছেন অনেক ক্রেতা।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যুরো অফ ল্যাবর স্ট্যাটিসটিক্স ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক-নিউয়ার্ক-জার্সি সিটি অঞ্চলে গত এক বছরে ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) বেড়েছে। একই সময়ে খাদ্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনও অনেক পরিবারের জন্য চাপের কারণ হয়ে রয়েছে।   জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় গ্রোসারি দোকানে চাল, ডাল, ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, তেল, পেঁয়াজ, আলু, টমেটো ও অন্যান্য সবজির দাম দোকানভেদে কিছুটা ভিন্ন হলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় বেশি। ফলে মাসিক বাজারের বাজেটও বেড়েছে।   বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, প্রায় ১০০ ডলারের বাজেটে একটি পরিবারের জন্য ১০ পাউন্ড চাল, এক গ্যালন দুধ, এক ডজন ডিম, কয়েক পাউন্ড মুরগির মাংস, কিছু ডাল, সীমিত পরিমাণ সবজি, ফল এবং প্রয়োজনীয় কিছু মসলা কেনা সম্ভব। তবে এক বছর আগে একই অর্থে আরও বেশি পরিমাণ পণ্য কেনা যেত বলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে।   নিয়মিত বাজার পর্যালোচনা করেন তাদের মতে, মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে বাজারদর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। বরং দাম বৃদ্ধির গতি কমলেও পণ্যের মূল্য সাধারণত উচ্চ অবস্থানেই থেকে যায়। এ কারণে ভোক্তারা এখনও উচ্চ বাজারদরের প্রভাব অনুভব করছেন।   এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফুড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যান্ডি হারিগ বলেন, খুচরা বিক্রেতারা অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ দামে কেনা পণ্যের মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেন না। ফলে পাইকারি বাজারে পরিবর্তন এলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পৌঁছাতে সময় লাগে।   একই প্রতিবেদনে নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি ও সম্পদ অর্থনীতির অধ্যাপক মাইক ওয়ালডেন বলেন, মূল্যস্ফীতির হার কমলেও ভোক্তারা সাধারণত আগের দামে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পান না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দাম একটি নতুন উচ্চ স্তরে স্থিতিশীল হয়ে যায়।   অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ব্যয়, পরিবহন খরচ, শ্রম ব্যয় এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে খাদ্যপণ্যের দাম এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে।   ফলে জ্যাকসন হাইটসের অনেক প্রবাসী পরিবার এখন বাজার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় প্যাকেটে পণ্য কেনা, বিভিন্ন দোকানের মূল্য তুলনা করা এবং সাপ্তাহিক ছাড়ের সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তবুও অনেক পরিবারের মাসিক খাদ্য ব্যয় আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিউইয়র্কের এক বাংলাদেশি প্রবাসী আমেরিকা বাংলাকে বলেন, “এক বছর আগেও ৮০ ডলার দিয়ে মোটামুটি এক সপ্তাহের কাঁচাবাজার হয়ে যেত। এখন একই ধরনের কাঁচাবাজার করতে প্রায় ১৫০ ডলার লেগে যায়। তবে শুধু কাঁচাবাজার নয়, পরিবারের অন্যান্য নিয়মিত খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে আমার চার সদস্যের পরিবারের মাসিক ব্যয় আগের তুলনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়ে গেছে। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামই বেড়েছে। সংসারের বাজেট সামলানো এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।   অর্থনীতিবিদদের ধারণা, আগামী কয়েক মাসেও খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা ওঠানামা করলেও দ্রুত আগের স্তরে নেমে আসার সম্ভাবনা কম। তাই নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অন্যান্য অভিবাসী পরিবারকে উচ্চ বাজারদরের বাস্তবতার মধ্যেই তাদের মাসিক বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকায় দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নারায়ণগঞ্জের ৬ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানা গেছে, সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (বর্তমান কোমানি) শহর থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের সমো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি দোকানের ভেতরে থাকা আবাসিক কক্ষে সাতজন বাংলাদেশি ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই পুরো কক্ষ ধোঁয়া ও আগুনে ছেয়ে যায়। ঘুমন্ত অবস্থায় অধিকাংশই বের হওয়ার সুযোগ পাননি। ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহত অপর একজনকে দ্রুত উদ্ধার করে কুইন্সটাউনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। নিহতদের সবাই বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তাদের স্বজনদের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। স্থানীয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, গ্যাসের লিকেজ কিংবা অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অনেকেই ছোট ব্যবসা ও খুচরা দোকান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসা পরিচালনার সুবিধার্থে অনেক প্রবাসী দোকানের ভেতরেই বসবাস করেন। ফলে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘটনার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা এবং আহত ব্যক্তির চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রবাসীরা। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
অসুস্থ মেধাবী শিক্ষার্থী অভিজিৎ মজুমদারের চিকিৎসার জন্য তার বাবার হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
অসুস্থ মেধাবী শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় নগদ সহায়তা দিলেন মেরিল্যান্ড প্রবাসী মোহাম্মদ কাজল

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অসুস্থ এক মেধাবী শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড প্রবাসী ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোহাম্মদ কাজল। সোমবার বিকেলে বসুরহাট সরকারি এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অভিজিৎ মজুমদারের পরিবারের হাতে এ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।   অভিজিৎ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। অসুস্থতার কারণে তার চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান মোহাম্মদ কাজল। তার পক্ষ থেকে অভিজিতের বাবা শ্যামল মজুমদারের হাতে নগদ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুলতান-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খাজা নজরুল ইসলাম, বসুরহাট পৌরসভা যুবদল নেতা খাজা কামরুল ইসলাম স্বপন এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক শ্যামল দাস।   মোহাম্মদ কাজল দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে বসবাস করছেন। তিনি সেখানকার একজন ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি তিনি সুলতান-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি মেরিল্যান্ড বাংলাদেশি ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।   সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসে বসবাস করলেও নিজ এলাকা কোম্পানীগঞ্জের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ রেখে চলেছেন মোহাম্মদ কাজল। সুলতান-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসচ্ছল পরিবার, অসুস্থ ব্যক্তি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি।   দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগেও তিনি যুক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে অসহায় মানুষের সহায়তা, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।   অসুস্থ শিক্ষার্থী অভিজিৎ মজুমদারের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় মোহাম্মদ কাজলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখা।

তাবাস্সুম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রান্সে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট প্রাপ্তি সহজ ও দ্রুত করতে বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রম শুরু করেছে প্যারিস দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সেবা সহজ করতে প্যারিস দূতাবাসের বিশেষ উদ্যোগ, সহায়তায় প্রবাসী কমিউনিটি

ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ই-পাসপোর্ট প্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুততর করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকট, অনলাইনের নানা জটিলতা এবং সেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে প্রবাসীদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ নিরসনে এই বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।   শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ সেবার প্রথম দিনেই ৮৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত জরুরি সেবা গ্রহণ করেছেন। ফরাসি প্রেফেকচারে রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ আবেদনকারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে অনেকে এই দিনে সেবা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। দূতাবাস জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে আগামী ৮ আগস্ট এবং ২২ আগস্ট—এই তিনটি শনিবারে এই বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু থাকবে।   সম্প্রতি ইমেইলভিত্তিক আবেদন পদ্ধতি পরিবর্তন করে ওয়েবসাইটভিত্তিক নতুন অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে দূতাবাস। তবে সীমিত সংখ্যক স্লট এবং অতিরিক্ত আবেদনকারীর চাপের কারণে অনেক প্রবাসী যথাসময়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। পাশাপাশি ওয়েবসাইটের কিছু কারিগরি সমস্যার কথাও জানান অনেকে। এসব সমস্যা এবং প্রবাসীদের ভোগান্তি দূর করতে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সেবার মান বাড়াতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।   এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল বলেন, ই-পাসপোর্ট হলো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া। আবেদনকারীর ছবি, আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষরসহ যাবতীয় তথ্য নিখুঁতভাবে যাচাইয়ের পরেই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পাসপোর্ট প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। অতিরিক্ত আবেদনকারীর চাপে কিছুটা কাজের চাপ তৈরি হলেও প্রবাসীদের নির্বিঘ্ন সেবা দিতে দূতাবাস সবসময় সচেষ্ট রয়েছে।   এই বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রমে দূতাবাসের পাশাপাশি কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের স্বেচ্ছাসেবীরাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন। আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে পুরো কার্যক্রমটিকে তারা আরও সুশৃঙ্খল করে তুলেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন। প্রবাসীদের প্রত্যাশা, দূতাবাসের এই সাময়িক উদ্যোগের পাশাপাশি অনলাইন ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও হয়রানিমুক্ত করা হলে এই সেবা আরও জনবান্ধব হবে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: স্বপ্নের আমেরিকা এখন শুধু নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ নয়
নিউইয়র্ক আর একমাত্র গন্তব্য নয়, বাংলাদেশিদের নতুন পছন্দের ১০ অঙ্গরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় আবাস এখনো নিউইয়র্ক। তবে গত কয়েক বছরে বাড়িভাড়া, বাড়ির মূল্য, সম্পত্তি কর, গাড়ির বীমা, ডে-কেয়ার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাংলাদেশি পরিবার নিউইয়র্ক ছেড়ে অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করছেন। বিশেষ করে যারা প্রথম বাড়ি কিনতে চান, সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়াতে চান কিংবা অবসরের পর তুলনামূলক শান্ত ও সাশ্রয়ী জীবন কাটাতে চান, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা স্পষ্ট।   যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরো, আবাসন বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের তুলনায় দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সঙ্গে এসব এলাকায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মুসলিম কমিউনিটি এবং বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বসতির মানচিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।   আমেরিকা বাংলার বিশ্লেষণে আবাসন ব্যয়, মধ্যম পারিবারিক আয়, চাকরির সুযোগ, বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হালাল ব্যবসা, সন্তানের শিক্ষার পরিবেশ এবং নিউইয়র্কের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা বিবেচনা করে বাংলাদেশি পরিবারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ১০টি অঙ্গরাজ্যের চিত্র তুলে ধরা হলো।   জর্জিয়া: দক্ষিণের নিউইয়র্ক বাংলাদেশি পরিবারের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটি জর্জিয়া। আটলান্টা মেট্রো এলাকার ডুলুথ, লিলবার্ন, ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, টাকার, নরক্রস, আলফারেটা, কামিং ও ডিকেটর গত এক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   অঙ্গরাজ্যটিতে মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার এবং একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩৯০ থেকে ৪১০ হাজার ডলারের মধ্যে। নিউইয়র্কে যে দামে একটি ছোট কনডো কেনা যায় না, সেই অর্থে জর্জিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে চার বা পাঁচ বেডরুমের বাড়ি কেনা সম্ভব।   বাংলাদেশি ব্যবসার ক্ষেত্রেও জর্জিয়া এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আটলান্টা মেট্রো এলাকায় অসংখ্য বাংলাদেশি গ্রোসারি, হালাল সুপারমার্কেট, মাছ-মাংসের দোকান, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, চিকিৎসক, আইনজীবী এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অনেক বাংলাদেশি মার্কেট সপ্তাহের সাত দিন গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে, এমনকি কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টা সেবাও দেওয়া হয়।   ধর্মীয় পরিবেশও সমৃদ্ধ। আটলান্টা অঞ্চলে ডজনখানেক বড় মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল, হিফজ প্রোগ্রাম এবং সানডে মাদ্রাসা রয়েছে। ঈদ জামাত, রমজানের ইফতার, ইসলামিক কনফারেন্স এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজন করা হয়।   এ কারণেই অনেক বাংলাদেশি এখন আটলান্টাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে “দক্ষিণের নিউইয়র্ক” বলে উল্লেখ করেন।   ফ্লোরিডা: বাংলাদেশের আবহাওয়ার কাছাকাছি, অবসরজীবনের নতুন গন্তব্য নিউইয়র্ক থেকে স্থানান্তরিত হওয়া বাংলাদেশিদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য এখন ফ্লোরিডা। ট্যাম্পা, অরল্যান্ডো, কিসিমি, জ্যাকসনভিল ও মায়ামিতে বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।   ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো অঙ্গরাজ্য কর নেই। মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৭৫ হাজার ডলার এবং একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৪২০ হাজার ডলার ।   বাংলাদেশি পরিবারের কাছে ফ্লোরিডার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর আবহাওয়া। বছরের অধিকাংশ সময় উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু বিরাজ করায় অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। এখানকার প্রকৃতি, সবুজ পরিবেশ এবং দীর্ঘ গ্রীষ্মকাল নতুন অভিবাসীদের সহজে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।   ফ্লোরিডায় আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, নারিকেল, লিচুসহ বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় ফলের চাষ হয় এবং স্থানীয় বাজারে সহজেই পাওয়া যায় এমনকি অনেক বাংলাদেশি পরিবারের ব্যাকয়ার্ডে এসব ফলমূলের বাগান রয়েছে। যারা এই অঙ্গরাজ্যে থাকেন তারা মনে করেন, খাবার ও আবহাওয়ার দিক থেকে ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বাংলাদেশের কাছাকাছি অনুভূতি দেয়।   অবসরপ্রাপ্তদের কাছেও ফ্লোরিডা অত্যন্ত জনপ্রিয়। রাজ্য আয়কর না থাকা, উষ্ণ আবহাওয়া এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কারণে অনেক বাংলাদেশি সিনিয়র নাগরিক অবসরের পর এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন।   ট্যাম্পা, অরল্যান্ডো ও জ্যাকসনভিলে বর্তমানে একাধিক মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল, উইকএন্ড মাদ্রাসা, হালাল মার্কেট এবং বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।   টেক্সাস: চাকরি ও কর সুবিধার বড় কেন্দ্র ডালাস, হিউস্টন, প্লানো, আরভিং, অস্টিন ও সুগার ল্যান্ডে বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।   মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার। একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩৪০ থেকে ৩৬০ হাজার ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো অঙ্গরাজ্য কর না থাকায় অনেক পরিবার টেক্সাসকে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য বেছে নিচ্ছেন।   প্রযুক্তি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ এবং ব্যবসায়িক খাতে প্রচুর কর্মসংস্থান রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামিক সেন্টার, ইসলামিক একাডেমি, মসজিদ, হালাল সুপারমার্কেট এবং বাংলাদেশি ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।   নিউ জার্সি: নিউইয়র্কের সবচেয়ে কাছের বিকল্প যারা নিউইয়র্কে চাকরি বা ব্যবসা বজায় রাখতে চান কিন্তু বসবাসের জন্য তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ খুঁজছেন, তাদের জন্য নিউ জার্সি অন্যতম সেরা বিকল্প।   জার্সি সিটি, প্যাটারসন, এডিসন, উডব্রিজ ও নর্থ ব্রান্সউইকে শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ নিউইয়র্কে যাতায়াত করেন। অসংখ্য মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, বাংলাদেশি গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট এবং কমিউনিটি সংগঠনের কারণে নতুন অভিবাসীদের জন্য এখানকার পরিবেশ বেশ পরিচিত।   মেরিল্যান্ড: নিউইয়র্কের কাছাকাছি, চাকরির বড় বাজার বাল্টিমোর, সিলভার স্প্রিং, এলিকট সিটি ও ডিসি মেট্রো এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত বাড়ছে।   মধ্যম পারিবারিক আয় এক লাখ ডলারের বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে অন্যতম। স্বাস্থ্যসেবা, বায়োটেক, শিক্ষা, সরকারি সংস্থা এবং ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং খাতে প্রচুর কর্মসংস্থান রয়েছে। বাল্টিমোর থেকে কয়েক ঘণ্টার ড্রাইভেই নিউইয়র্কে পৌঁছানো যায়।   এখানেও বাংলাদেশি গ্রোসারি, হালাল ব্যবসা, ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদের সংখ্যা বাড়ছে।   নর্থ ক্যারোলাইনা: প্রযুক্তি খাতের নতুন গন্তব্য র্যালি, ক্যারি, মরিসভিল ও শার্লটে তথ্যপ্রযুক্তি, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের চাকরির কারণে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সংখ্যা বাড়ছে। ভালো পাবলিক স্কুল, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ক্রমবর্ধমান মুসলিম কমিউনিটি এই অঙ্গরাজ্যকে পরিবারগুলোর কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।   মিশিগান: পুরোনো বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্ত ঘাঁটি হ্যামট্রাম্যাক, ট্রয়, ক্যান্টন ও ওয়ারেনে বহু বছর ধরেই বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ২৬০ হাজার ডলার, যা তালিকার অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় কম। মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিফজ মাদ্রাসা, হালাল মার্কেট এবং বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট সহজেই পাওয়া যায়।   পেনসিলভানিয়া: কম খরচে নিউইয়র্কের কাছাকাছি ফিলাডেলফিয়া, হ্যারিসবার্গ ও পিটসবার্গে বাংলাদেশি কমিউনিটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ৩০০ হাজার ডলারের কাছাকাছি। নিউইয়র্কের তুলনায় আবাসন ব্যয় অনেক কম হওয়ায় অনেক পরিবার এই অঙ্গরাজ্য বেছে নিচ্ছেন।   ভার্জিনিয়া: উচ্চ আয় ও উন্নত শিক্ষা ফেয়ারফ্যাক্স, অ্যাশবার্ন, আলেকজান্দ্রিয়া ও উডব্রিজ এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং ফেডারেল সরকারের চাকরির বড় বাজার রয়েছে। মধ্যম পারিবারিক আয় ১ লাখ ডলারের কাছাকাছি। উন্নত পাবলিক স্কুল, ইসলামিক স্কুল এবং শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটির কারণে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় অঙ্গরাজ্য।   মিনেসোটা: নিরাপদ পরিবেশ ও ইসলামিক কমিউনিটি মিনিয়াপোলিস, ব্লুমিংটন ও ইডেন প্রেইরিতে শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটি, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নিরাপদ পরিবেশের কারণে বাংলাদেশি পরিবারের আগ্রহ বাড়ছে। সোমালি, দক্ষিণ এশীয় ও অন্যান্য মুসলিম কমিউনিটির উপস্থিতির কারণে অসংখ্য মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, হালাল ব্যবসা এবং ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার আগে শুধু বাড়ির দাম বা ভাড়া নয়, চাকরির সুযোগ, সন্তানের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, সম্পত্তি কর, গাড়ি ও বাড়ির বীমা, নিকটস্থ মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, বাংলাদেশি গ্রোসারি এবং কমিউনিটি সাপোর্ট—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।   এক সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের স্বপ্নের ঠিকানা ছিল শুধু নিউইয়র্ক। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া ও মিনেসোটায় দ্রুত গড়ে উঠছে নতুন বাংলাদেশি জনপদ। ফলে অনেক প্রবাসী এখন মনে করছেন, আমেরিকায় ভালো জীবন মানেই শুধু নিউইয়র্ক নয়; বরং যেখানে কম খরচে নিজের বাড়ি, সন্তানের জন্য ভালো স্কুল, শক্তিশালী বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটি এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ রয়েছে, সেখানেই তৈরি হচ্ছে আগামী দিনের নতুন প্রবাসী বাংলাদেশ।

তাবাস্সুম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
কঠোর খাদ্য নিরাপত্তা আইনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মিলছে না বাংলাদেশের পছন্দের দেশীয় মাছ। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের বোয়াল–পাবদা–শিং মাছ কি আবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফিরবে? যা জানা গেল

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে বোয়াল, আইড়, পাবদা, টেংরা, শিং ও মাগুর মাছের চাহিদা বরাবরই বেশি। তবে কয়েক বছর ধরে এসব দেশীয় মাছ যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি গ্রোসারি স্টোরগুলোতে প্রায় দেখা যায় না। ফলে অনেক প্রবাসী কানাডা, বিশেষ করে টরন্টো থেকে এসব মাছ সংগ্রহ করছেন। এতে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশ থেকে এসব মাছ কেন আর যুক্তরাষ্ট্রে আসছে না? আবার কি আমদানি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?   খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিষয়টি কোনো একক নিষেধাজ্ঞার কারণে নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা আইন, আমদানি নীতিমালা এবং নির্দিষ্ট কিছু মাছের ক্ষেত্রে কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত।   ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে Siluriformes বা ক্যাটফিশ-জাতীয় মাছের আমদানার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অধীন Food Safety and Inspection Service (FSIS)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই শ্রেণির মধ্যে বোয়াল, আইড়, মাগুর, শিংসহ বাংলাদেশে জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি মাছ অন্তর্ভুক্ত। এসব মাছ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিদর্শন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের মানের সমতুল্য (Equivalent) হিসেবে স্বীকৃত হতে হয়।   বর্তমানে বাংলাদেশ এখনো সেই সমতুল্য স্বীকৃতি পায়নি। ফলে বাংলাদেশ থেকে এসব ক্যাটফিশ-জাতীয় মাছ যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানির অনুমতি নেই। এ কারণেই দেশীয় বাজারে জনপ্রিয় হলেও বোয়াল, আইড়, শিং বা মাগুর মাছ যুক্তরাষ্ট্রের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় না।   অন্যদিকে পাবদা ও টেংরা মাছের ক্ষেত্রেও খাদ্য নিরাপত্তা, প্রক্রিয়াজাতকরণ, লেবেলিং এবং আমদানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়। অতীতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া কিছু মাছে খাদ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নজরদারি আরও কঠোর করে।   ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ থেকে নিষিদ্ধভাবে ক্যাটফিশ-জাতীয় মাছ আমদানির অভিযোগে কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলাও হয়। ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া এসব মাছ আমদানি করা আইনবিরোধী।   বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি অংশ জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এসব মাছ না পাওয়ায় অনেকে কানাডার টরন্টো থেকে ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে সীমান্ত পার হয়ে খাদ্যপণ্য আনার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (CBP) নিয়ম প্রযোজ্য। তাই অনুমতি ছাড়া বা ঘোষণা না দিয়ে এসব খাদ্যপণ্য বহন করলে তা জব্দ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।   তাহলে কি ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশ থেকে এসব মাছ যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারে? খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তার জন্য বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের FSIS-এর নির্ধারিত খাদ্য নিরাপত্তা, পরিদর্শন, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ-সংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ করে সমতুল্য স্বীকৃতি অর্জন করতে হবে। এরপরই বাণিজ্যিকভাবে এসব মাছ রপ্তানির পথ খুলতে পারে।   এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশ—কোনো দেশের কর্তৃপক্ষই বাংলাদেশ থেকে বোয়াল, আইড়, পাবদা, টেংরা, শিং বা মাগুর মাছের বাণিজ্যিক আমদানি পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে আপাতত এসব দেশীয় মাছ আবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফিরবে কি না, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতে দুই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও আমদানি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের ওপর।

তাবাস্সুম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ফিলাডেলফিয়ায় ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক শেখ খোরশান। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ছিনতাইকারীর হামলায় গুরুতর আহত বাংলাদেশি সাংবাদিক শেখ খোরশান

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় ছিনতাইকারীর বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সুপরিচিত ও বিশিষ্ট সাংবাদিক শেখ খোরশান। বর্তমানে তিনি স্থানীয় পেন প্রেসবাইটেরিয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।   জানা গেছে, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে ফিলাডেলফিয়ার ৫১০০ মার্কেট স্ট্রিট এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় শেখ খোরশান এই হামলার শিকার হন। একজন ছেলে ও একজন মেয়েসহ দুই অল্পবয়সী ছিনতাইকারী পেছন থেকে আচমকা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে শক্ত মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর তারা তাঁর কাছ থেকে প্রায় ২০০ ডলার নগদ অর্থ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।   ঘটনার পরপরই স্থানীয় একজন প্রত্যক্ষদর্শী তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশের অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত খোরশানকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়।   হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগে তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মাটিতে পড়ে যাওয়ার কারণে তাঁর হাতের বুড়ো আঙুল ভেঙে গেছে এবং তিনি ঘাড়েও মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রবাসীদের পাশে থাকা এই প্রিয় মুখের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছে তাঁর পরিবার ও কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ।   সূত্র: ফিলাডেলফিয়া পেপার

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডোরড্যাশে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হক

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় খাবার সরবরাহের কাজ করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী মো. মাহফুজুল হক (৪৩)। তিনি বাংলাদেশের রাজশাহীর সন্তান এবং বর্তমানে ফিলাডেলফিয়ার নর্থইস্ট এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে ফিলাডেলফিয়ার কিংসেসিং এলাকার সাউথ ইথান স্ট্রিটের ১০০০ ব্লকে ডোরড্যাশের মাধ্যমে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে মাহফুজুল হকের ব্যবহৃত গাড়িটি চালু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডোরড্যাশের ডেলিভারি ব্যাগ এবং গুলির ব্যবহৃত খোসাও উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা। কমিউনিটি সূত্রের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি।   স্থানীয় পত্রিকা ফিলাডেলফিয়া পেপারের সম্পাদক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (আরিফ) আমেরিকা বাংলাকে জানান, ঘটনাটি মঙ্গলবার রাতে ঘটেছে। তিনি বলেন, নিহতের পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যরা গভীর শোকাহত। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাহফুজুল হকের জানাজার সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রেই দাফন করা হবে—সেই সিদ্ধান্তও এখনো হয়নি।   কমিউনিটি সূত্র জানায়, মাহফুজুল হক এর আগে উইলো গ্রোভ এলাকার আল-শাম রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি পরে ডোরড্যাশে খাবার সরবরাহের কাজ শুরু করেন। তিনি স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন।   ঘটনার পর ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। প্রবাসীরা দ্রুত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
শাকিরা শাওন রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ইতালির কলেজ পরীক্ষায় ১০০তে ১০০ নম্বর পেয়ে বাংলাদেশি তরুণীর রেকর্ড

ইতালির ভেনিসে উচ্চমাধ্যমিক সমমানের মাতুরিতা (Maturità) পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ১০০ পেয়ে কলেজের সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেছেন বাংলাদেশি তরুণী শাকিরা শাওন রহমান। ভেনিসের ঐতিহ্যবাহী আন্তোনিও পাচিনোত্তি কলেজ থেকে এই অসাধারণ সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের মেধার স্বাক্ষরই রাখেননি, ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।   এশিয়া পোস্ট নিউজ জানিয়েছে, মাতুরিতা পরীক্ষায় পুরো কলেজের সব শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছেন শাকিরা। তার এই কৃতিত্ব ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।   শাকিরার শিক্ষাজীবনের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম ও সংগ্রামের গল্প। ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে ও-লেভেল (এসএসসি সমমান) সম্পন্ন করার পর ২০২১ সালে পরিবারের সঙ্গে ইতালিতে পাড়ি জমান তিনি। নতুন দেশ, নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষার পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া ছিল বড় একটি চ্যালেঞ্জ।   ইতালিতে যাওয়ার পর তিনি প্রথমে ইতালীয় ভাষার বি-১ স্তরের কোর্স সম্পন্ন করেন। একই সময়ে শেষ করেন এ-লেভেলও। এরপর ভর্তি হন ভেনিসের সুপরিচিত আন্তোনিও পাচিনোত্তি কলেজে। সেখানে নিয়মিত পড়াশোনা, ভাষাগত দক্ষতা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি মাতুরিতা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেন।   নিজের সাফল্য নিয়ে শাকিরা বলেন, নতুন একটি দেশে এসে ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। তবে শুরু থেকেই তার লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। ভবিষ্যতে তিনি একজন ফার্মাসিস্ট হতে চান এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।   শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই নয়, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখছেন শাকিরা। বর্তমানে তিনি ভেনিসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে পরিচালিত ‘আমাদের পাঠশালা’-তে শিক্ষকতা করছেন। সেখানে তিনি শিশু-কিশোরদের পাঠদান করছেন এবং তাদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিচ্ছেন।   প্রবাসজীবনের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শাকিরার এই সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং স্পষ্ট লক্ষ্য থাকলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তার এই অর্জন ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
কুইন্সের ওজোন পার্কে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ‘বৈঠকখানা’-তে ঘটনার পর তদন্তে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ওজোন পার্কে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টে বোমাসদৃশ ডিভাইস নিক্ষেপ, অল্পের জন্য এড়ানো গেল বড় দুর্ঘটনা

নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজোন পার্কে বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট ‘বৈঠকখানা’-তে ভোরে বোমাসদৃশ একটি জ্বলন্ত ডিভাইস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রেস্টুরেন্টের কর্মীদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় সম্ভাব্য বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।   রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বৃষ্টি চলাকালে রেইনকোট ও মুখোশ পরা এক ব্যক্তি রেস্টুরেন্টের প্রধান দরজা খুলে জ্বলন্ত একটি ডিভাইস ভেতরে ছুড়ে মেরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।   রেস্টুরেন্টের কর্মীরা আগুন দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের দ্রুত পদক্ষেপে ডিভাইসটি থেকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।   খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটসহ বিশেষায়িত একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে ডিভাইসটি উদ্ধার করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায়।   পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে ‘বোমাসদৃশ ডিভাইস’ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এটি কার্যকর বিস্ফোরক ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত এবং আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালানো হচ্ছে।   ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন এই রেস্টুরেন্টে ঘটনাকালে কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।   এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য বা এর পেছনে কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হচ্ছে না। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শী বা এ ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানা ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
সৈয়দা নুসরাত জাহান (স্নেহা) | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট শিক্ষা অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি নুসরাত জাহান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শিক্ষাক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি কিশোরী সৈয়দা নুসরাত জাহান (স্নেহা)। নিউইয়র্কের ‘নলেজ অ্যান্ড পাওয়ার একাডেমি’ স্কুল থেকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে অষ্টম গ্রেডে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে তিনি ‘ভ্যালেডিক্টোরিয়ান’ (সেরা শিক্ষার্থী) হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।   একই সঙ্গে শিক্ষায়তনিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ নুসরাত পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রেসিডেন্ট শিক্ষা অ্যাওয়ার্ড’। এ ছাড়া ‘সিভিক অ্যাম্বাসেডর অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘সিনেট অ্যাওয়ার্ড’সহ মোট সাতটি সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি।   সৈয়দা নুসরাত জাহানের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজপানুয়া খন্দকার বাড়িতে। তিনি নিউইয়র্কের পরিচিত কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট, শিক্ষক ও সাংবাদিক অধ্যাপক সৈয়দ আজাদ এবং জোবায়েদা জেসমিন সোহেলি দম্পতির ছোট মেয়ে।   নুসরাতের এই অর্জনে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।   ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে নুসরাত বলেন, “আমি ভবিষ্যতে একজন আইনজীবী হয়ে দেশ এবং প্রবাসের অবহেলিত মানুষের সেবা করতে চাই। নিজের সাফল্যের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য।”   মেয়ের এই সাফল্যে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন বাবা অধ্যাপক সৈয়দ আজাদ। তিনি বলেন, “আমার বড় মেয়ে সৈয়দা নূর-ই জান্নাতও এর আগে বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেছে। বড় বোনের সাফল্য ও অনুপ্রেরণাই ছোট মেয়ের এই অর্জনের পথ আরও সহজ করেছে।”   তিনি সন্তানদের সুন্দর মানবিক গুণাবলি নিয়ে বেড়ে ওঠার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক কিক অফ’ অনুষ্ঠানে প্রবাসী ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া । ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভালোবাসায় সিক্ত জামাল ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতিতে সংবর্ধিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। গত ২৭ জুন জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্টে ‘জামাল ভূঁইয়া নিউইয়র্ক কিক অফ’ শীর্ষক এক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।   খেলাধুলাবিষয়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গেমলিফাই ডট এক্সওয়াইজেডের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। জাতীয় দলের অধিনায়কের সঙ্গে সরাসরি দেখা করা, ছবি তোলা এবং ফুটবল নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত ভক্ত-সমর্থকেরা।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গেমলিফাই ডট এক্সওয়াইজেডের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, ব্র্যান্ড ম্যানেজার মুরাদ হোসেন, সহকারী ব্র্যান্ড ম্যানেজার হাসান তাওফিক, ইউএস-বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাজমুল ইসলাম রনি এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।   অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন জামাল ভূঁইয়া। তিনি বলেন, দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে হলে ক্লাব ফুটবলের উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের ফুটবলেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।   তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ অন্তত ১০টি শক্তিশালী ক্লাব গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি ক্লাবের নিজস্ব স্টেডিয়াম, জিমনেসিয়াম ও একাডেমি থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিভাগীয় পর্যায়ে শক্তিশালী দল গঠন এবং তাদের জন্য উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।   জামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, ঢাকা-কেন্দ্রিক ফুটবল কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে দেশের সব অঞ্চলে ফুটবল ছড়িয়ে দিতে হবে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, প্রতিভা অন্বেষণ এবং খেলোয়াড় তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।   তার মতে, বাংলাদেশের ফুটবলের দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাতে হলে অন্তত ২০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে।   তিনি বলেন, দেশের ভেতরে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে প্রতিভাবান ফুটবলাররা উন্নত প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সুযোগ পান। পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ক্লাবে খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ তৈরি করতে পারলে একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গঠন করা সম্ভব হবে।   অনুষ্ঠানে গেমলিফাই ডট এক্সওয়াইজেডের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতেই তাদের এই উদ্যোগ।   তিনি জানান, নতুন প্রজন্মকে ফুটবলের প্রতি আগ্রহী করতে প্রতি সপ্তাহে ফুটবলভিত্তিক বিভিন্ন কুইজের আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া ফুটবল বিশ্বকাপসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে স্থানীয় শিশুদের নিয়ে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করছে প্রতিষ্ঠানটি।   মশিউর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ফুটবল সংগঠক, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Unknown জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কয়েকশ ডলার আর একটি ব্যাকপ্যাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সিনেটর, এমডি মাসুদুর রহমানের অনুপ্রেরণার গল্প

চাঁদপুর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি, সংগ্রাম পেরিয়ে কানেকটিকাটের মূলধারার রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতা বাংলাদেশ থেকে কয়েকশ ডলার ও একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন এমডি মাসুদুর রহমান। দীর্ঘ সংগ্রাম, ব্যবসায়িক সাফল্য এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে আজ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর।   একজন অভিবাসীর স্বপ্নপূরণের এই গল্প এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে আলোচিত। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জন্ম নেওয়া এমডি মাসুদুর রহমান বর্তমানে কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের ৪র্থ জেলার প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ম্যানচেস্টার, গ্ল্যাস্টনবারি, অ্যান্ডোভার ও বোল্টন।   ২০২২ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। পরে বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে একই পদে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে এমডি রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তার পথচলা মোটেও সহজ ছিল না।   তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় এসেছিলাম মাত্র কয়েকশ ডলার ও একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে। শুরুতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছি, সংগ্রাম করেছি। কিন্তু লক্ষ্য ঠিক থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।”   যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রথমে নিউইয়র্কে থাকলেও পরে কানেকটিকাটে স্থায়ী হন তিনি। জীবনের শুরুতে বিভিন্ন সাধারণ কাজ করার পাশাপাশি ধীরে ধীরে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।   পরবর্তীতে স্বাস্থ্যসেবা, আমদানি-রপ্তানি, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। তার ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কানেকটিকাটে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।   ব্যবসায় সফল হওয়ার পর সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হন এমডি রহমান। বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত হন তিনি। রাজনীতিতে আসার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব খুবই সীমিত ছিল।   তার ভাষায়, “আমি দেখেছি আমাদের কমিউনিটি থেকে স্টেট সিনেট, কংগ্রেস কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে প্রতিনিধিত্ব খুব কম। তখন মনে হয়েছে, আমাদের কাউকে এগিয়ে আসতে হবে।”   ডেমোক্রেটিক পার্টির বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে যুক্ত হন। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও পান। ২০২২ সালে স্টেট সিনেট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাকে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এক রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হতে হয়।   তিনি বলেন, “অনেকে বলেছিলেন এটি বড় একটি পদ, ছোট জায়গা থেকে শুরু করা উচিত। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি নেতৃত্বের জন্য বড় লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন।”   নির্বাচিত হওয়ার পর কানেকটিকাট স্টেট সিনেটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন এমডি রহমান। বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান। এছাড়া বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, অর্থ এবং বিচারবিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।   তার নেতৃত্বে আবাসন সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কম আয়ের মানুষের জন্য আবাসনের সুযোগ বাড়াতে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। এমডি রহমান বলেন, “জনগণের জীবন সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করাই আমাদের দায়িত্ব। মানুষের জন্য কাজ করলে মানুষ তার মূল্যায়ন করে।”   বাংলাদেশি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, শুধু ব্যবসা বা চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশিদের মূলধারার রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হতে হবে।   তিনি বলেন, “আমাদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করতে হলে রাজনীতিতে অংশ নিতে হবে। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে স্টেট এবং ফেডারেল পর্যায় পর্যন্ত আমাদের প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন।” বাংলাদেশের তরুণদের উদ্দেশে তার বার্তা, সফলতার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসের বিকল্প নেই।   তিনি বলেন, “আপনি কতবার ব্যর্থ হয়েছেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনি কতবার আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন।” চাঁদপুরের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সিনেটে জায়গা করে নেওয়া এমডি মাসুদুর রহমানের এই যাত্রা এখন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির কাছে অধ্যবসায় ও সাফল্যের অনুপ্রেরণার প্রতীক।

Unknown জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে দুর্গা টেম্পলের পিকনিক যেন প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলের বার্ষিক পিকনিক উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) ওয়ারেন সিটির ভেটার্নস মেমোরিয়াল পার্কে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাঙালি সপরিবারে অংশ নেন।   প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে এই বনভোজন যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়। অনুকূল আবহাওয়ায় ডেট্রয়েট ও আশপাশের বিভিন্ন শহর থেকে আসা প্রবাসীরা দিনভর আনন্দ-আড্ডা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে সময় কাটান। অনেকের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেখা-সাক্ষাৎ এবং নতুন প্রবাসীদের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগও তৈরি হয় এই আয়োজনে।   দিনের শুরুতেই শিশুদের বিভিন্ন খেলাধুলা, নারীদের ঐতিহ্যবাহী বালিশ খেলা এবং প্রবাসীদের প্রাণবন্ত আড্ডা জমে ওঠে। পাশাপাশি ছিল বারবিকিউর বিশেষ আয়োজন। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের আবহও ছড়িয়ে পড়ে পিকনিকে। অনেকেই প্রিয় দলের জার্সি পরে অংশ নেন এবং প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মেতে ওঠেন।   দুপুরে অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খাবার। খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের পর আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাফেল ড্র। এতে ৬৫ ইঞ্চি টেলিভিশন, ল্যাপটপ, রেফ্রিজারেটর, অ্যাপল এয়ারপড, সাউন্ড সিস্টেম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, প্রেশার কুকারসহ নানা আকর্ষণীয় পুরস্কার রাখা হয়।   ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলের সভাপতি পংকজ দাশ জানান, এবার পিকনিকে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে সদ্য আসা অনেক নতুন প্রবাসীও এতে অংশ নিয়েছেন। সফলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সহযোগিতা করায় তিনি অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।   অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব যৌথভাবে পরিচালনা করেন মন্দিরের মিডিয়া ডিরেক্টর ও সাংবাদিক পার্থ সারথী দেব, সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল সূত্রধর এবং সহসভাপতি নিপেশ সূত্রধর।   বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে মিশিগানের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আসন্ন মিশিগান স্টেটের প্রাথমিক নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন প্রার্থীও অনুষ্ঠানে এসে প্রবাসীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশন l কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪০তম ফোবানা কনভেনশন সফল করতে ওয়াশিংটনে প্রস্তুতি সভা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে সফল ও সার্থক করার লক্ষ্যে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন এই বৃহৎ আয়োজনকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা বাড়াতেই মূলত এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়।   উক্ত আলোচনা সভায় ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া (ডিএমভি) অঞ্চলের বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং ফোবানাপ্রেমীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের সার্বিক প্রস্তুতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা এবং প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।   উপস্থিত বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ফোবানা কেবল একটি বার্ষিক সম্মেলন নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি ও আবহমান ঐতিহ্যের অন্যতম বৃহৎ মিলনমেলা। তাই এবারের এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে স্মরণীয় করে তুলতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   সভায় উপস্থিত সকলেই লস অ্যাঞ্জেলেসের এই আয়োজনকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রবাসীদের ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। পরিশেষে, আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী সকল অতিথি, কমিউনিটি নেতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।   সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ৪০তম ফোবানা কনভেনশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিহাসে একটি অনন্য ও সফল আয়োজনে পরিণত হবে বলে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ভোটের আগে বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচনে আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক, ৯.৪৫ লাখ ডলারের অডিট দাবি

নিউইয়র্কভিত্তিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিউনিটিতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংগঠনের সদস্যপদ সংগ্রহ কার্যক্রমের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ জুন। একই সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১৮ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেনি, তবে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার হয়েছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সদস্যপদ সংগ্রহ ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২১ জুন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার আজীবন সদস্য এবং ৮০০ জন নতুন ও নবায়ন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। তবে এখনো অনেক আবেদন জমা পড়ার বাকি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, শেষ সময়ে সদস্যসংখ্যা আরও বাড়বে এবং মোট ভোটার সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ হাজারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে।   বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আজীবন সদস্যের জন্য ৫০০ ডলার এবং সাধারণ সদস্যের জন্য ২০ ডলার। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে আজীবন সদস্য হলে একজনের ৫০০ ডলার ফি দিলেই দুজন সদস্যপদ লাভ করতে পারবেন।   নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে দুটি প্রধান প্যানেল মাঠে সক্রিয় রয়েছে। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একটি প্যানেল কাজ করছে। অন্যদিকে আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আলমের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল। দুই পক্ষই বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে।   যদিও আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়নি, সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে সদস্য সংগ্রহ, মতবিনিময় এবং নির্বাচনী সমর্থন আদায়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। কমিউনিটিতে নির্বাচন ঘিরে আলোচনা, সমীকরণ ও প্যানেলভিত্তিক কৌশল এখন অন্যতম আলোচ্য বিষয়।   নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে আবু নাসেরের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হয়েছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করবে ১ জানুয়ারি।   বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর প্যানেল দাবি করছে, তাদের মেয়াদে কমিউনিটির উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি সেন্টারের উন্নয়ন, বিভিন্ন এলাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং নিয়মিত চাকরি বিষয়ক সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ। তাদের দাবি, স্টেট থেকে প্রাপ্ত ৬৫ হাজার ডলারের একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।   অন্যদিকে কুনু-ফিরোজ প্যানেল নতুন নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা ও কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করার অঙ্গীকার করছে।   কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের মতে, এবারের নির্বাচনে সদস্যপদই সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। কারণ বৈধ সদস্যরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এ কারণে ৩০ জুনের মধ্যে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।   এদিকে বাংলাদেশ সোসাইটি এবার প্রথমবারের মতো অনলাইন সদস্যপদ গ্রহণ ও নবায়ন প্রক্রিয়া চালু করেছে। ফলে প্রবাসীরা ঘরে বসেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন ও ফি পরিশোধ করতে পারছেন। নির্বাচনী তৎপরতার পাশাপাশি বাংলাদেশ সোসাইটির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংগঠনের লাইফ মেম্বার ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির আলী খান পল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ অডিটের দাবি জানিয়েছেন।   নাসির আলী খান পলের অভিযোগ, একসময় সোসাইটির ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলার ছিল। বর্তমানে সেই অর্থের অবস্থান ও ব্যয়ের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। তার দাবি, নির্বাচন আয়োজনের আগে একটি স্বাধীন অভ্যন্তরীণ অডিটের মাধ্যমে সব হিসাব সদস্যদের সামনে তুলে ধরা উচিত।   তিনি আরও বলেন, বর্তমান কমিটির আর্থিক অবস্থান সম্পর্কেও ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মনে করেন সোসাইটির আর্থিক হিসাব নিয়ে সদস্যদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বিগত তিন কমিটির আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট দাবি করেন।   নাসির আলী খান পল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সদস্য ফি এবং অন্যান্য খাত থেকে সংগৃহীত অর্থের বিস্তারিত হিসাব সদস্যদের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, বড় অঙ্কের ব্যয়ের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।   তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, প্রতিবছর সিপিএ (সার্টিফায়েড পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট) দ্বারা হিসাব প্রস্তুত করা হয় এবং সাধারণ সভায় তা উপস্থাপন করা হয়। সংগঠনের সংবিধানে বাধ্যতামূলক অডিটের বিধান নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   মোহাম্মদ আলীর দাবি, সোসাইটির ইতিহাসে কখনো ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের তহবিল ছিল না। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন হিসাব মিলিয়ে সংগঠনের প্রায় আড়াই লাখ ডলার রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা অর্থ, ফেরত পাওয়া অর্থ এবং অন্যান্য তহবিল অন্তর্ভুক্ত।   তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ববর্তী সময়ে কবর কেনার জন্য ব্যয় করা অর্থের একটি অংশ তারা ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছেন এবং কোনো অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়ম হয়নি।   বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাদের দায়িত্বকালে প্রতিবছর হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সাধারণ সভায় তা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সদস্যদের সামনে পূর্ণাঙ্গ হিসাব তুলে ধরারও আশ্বাস দেন তিনি।   ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, বর্তমান কমিটির সময়ে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে তার জানা নেই। তবে যেকোনো অভিযোগ সাধারণ সভায় উত্থাপন করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে তিনি মত দেন।   অন্যদিকে সাবেক কোষাধ্যক্ষ নওশেদ হোসেন দাবি করেন, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বর্তমান কমিটির কাছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ছিল। তবে এ বিষয়ে বর্তমান নেতৃত্বের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, তারা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার বুঝে পেয়েছিলেন।   এদিকে নাসির আলী খান পল সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পোস্টে দাবি করেছেন, অভ্যন্তরীণ অডিটের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক অনুষ্ঠানে সোসাইটির সভাপতি অডিটের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।   তবে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেছেন, বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী সিপিএ-নির্ভর হিসাব ব্যবস্থাই অনুসরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সদস্যরা চাইলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অডিট বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।   বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সদস্যপদ সংগ্রহ, ভোটের প্রস্তুতি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। কমিউনিটির অনেকের মতে, নির্বাচনের আগে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সংগঠনের প্রতি সদস্যদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০