যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় ছিনতাইকারীর বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সুপরিচিত ও বিশিষ্ট সাংবাদিক শেখ খোরশান। বর্তমানে তিনি স্থানীয় পেন প্রেসবাইটেরিয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে ফিলাডেলফিয়ার ৫১০০ মার্কেট স্ট্রিট এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় শেখ খোরশান এই হামলার শিকার হন। একজন ছেলে ও একজন মেয়েসহ দুই অল্পবয়সী ছিনতাইকারী পেছন থেকে আচমকা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে শক্ত মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর তারা তাঁর কাছ থেকে প্রায় ২০০ ডলার নগদ অর্থ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় একজন প্রত্যক্ষদর্শী তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশের অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত খোরশানকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগে তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মাটিতে পড়ে যাওয়ার কারণে তাঁর হাতের বুড়ো আঙুল ভেঙে গেছে এবং তিনি ঘাড়েও মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রবাসীদের পাশে থাকা এই প্রিয় মুখের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছে তাঁর পরিবার ও কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। সূত্র: ফিলাডেলফিয়া পেপার
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় খাবার সরবরাহের কাজ করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী মো. মাহফুজুল হক (৪৩)। তিনি বাংলাদেশের রাজশাহীর সন্তান এবং বর্তমানে ফিলাডেলফিয়ার নর্থইস্ট এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে ফিলাডেলফিয়ার কিংসেসিং এলাকার সাউথ ইথান স্ট্রিটের ১০০০ ব্লকে ডোরড্যাশের মাধ্যমে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে মাহফুজুল হকের ব্যবহৃত গাড়িটি চালু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডোরড্যাশের ডেলিভারি ব্যাগ এবং গুলির ব্যবহৃত খোসাও উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা। কমিউনিটি সূত্রের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি। স্থানীয় পত্রিকা ফিলাডেলফিয়া পেপারের সম্পাদক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (আরিফ) আমেরিকা বাংলাকে জানান, ঘটনাটি মঙ্গলবার রাতে ঘটেছে। তিনি বলেন, নিহতের পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যরা গভীর শোকাহত। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাহফুজুল হকের জানাজার সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রেই দাফন করা হবে—সেই সিদ্ধান্তও এখনো হয়নি। কমিউনিটি সূত্র জানায়, মাহফুজুল হক এর আগে উইলো গ্রোভ এলাকার আল-শাম রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি পরে ডোরড্যাশে খাবার সরবরাহের কাজ শুরু করেন। তিনি স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন। ঘটনার পর ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। প্রবাসীরা দ্রুত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ইতালির ভেনিসে উচ্চমাধ্যমিক সমমানের মাতুরিতা (Maturità) পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ১০০ পেয়ে কলেজের সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেছেন বাংলাদেশি তরুণী শাকিরা শাওন রহমান। ভেনিসের ঐতিহ্যবাহী আন্তোনিও পাচিনোত্তি কলেজ থেকে এই অসাধারণ সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের মেধার স্বাক্ষরই রাখেননি, ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এশিয়া পোস্ট নিউজ জানিয়েছে, মাতুরিতা পরীক্ষায় পুরো কলেজের সব শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছেন শাকিরা। তার এই কৃতিত্ব ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। শাকিরার শিক্ষাজীবনের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম ও সংগ্রামের গল্প। ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে ও-লেভেল (এসএসসি সমমান) সম্পন্ন করার পর ২০২১ সালে পরিবারের সঙ্গে ইতালিতে পাড়ি জমান তিনি। নতুন দেশ, নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষার পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া ছিল বড় একটি চ্যালেঞ্জ। ইতালিতে যাওয়ার পর তিনি প্রথমে ইতালীয় ভাষার বি-১ স্তরের কোর্স সম্পন্ন করেন। একই সময়ে শেষ করেন এ-লেভেলও। এরপর ভর্তি হন ভেনিসের সুপরিচিত আন্তোনিও পাচিনোত্তি কলেজে। সেখানে নিয়মিত পড়াশোনা, ভাষাগত দক্ষতা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি মাতুরিতা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেন। নিজের সাফল্য নিয়ে শাকিরা বলেন, নতুন একটি দেশে এসে ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। তবে শুরু থেকেই তার লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। ভবিষ্যতে তিনি একজন ফার্মাসিস্ট হতে চান এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই নয়, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখছেন শাকিরা। বর্তমানে তিনি ভেনিসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে পরিচালিত ‘আমাদের পাঠশালা’-তে শিক্ষকতা করছেন। সেখানে তিনি শিশু-কিশোরদের পাঠদান করছেন এবং তাদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিচ্ছেন। প্রবাসজীবনের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শাকিরার এই সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে, অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং স্পষ্ট লক্ষ্য থাকলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তার এই অর্জন ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজোন পার্কে বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট ‘বৈঠকখানা’-তে ভোরে বোমাসদৃশ একটি জ্বলন্ত ডিভাইস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রেস্টুরেন্টের কর্মীদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় সম্ভাব্য বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বৃষ্টি চলাকালে রেইনকোট ও মুখোশ পরা এক ব্যক্তি রেস্টুরেন্টের প্রধান দরজা খুলে জ্বলন্ত একটি ডিভাইস ভেতরে ছুড়ে মেরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রেস্টুরেন্টের কর্মীরা আগুন দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের দ্রুত পদক্ষেপে ডিভাইসটি থেকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটসহ বিশেষায়িত একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে ডিভাইসটি উদ্ধার করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে ‘বোমাসদৃশ ডিভাইস’ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এটি কার্যকর বিস্ফোরক ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত এবং আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন এই রেস্টুরেন্টে ঘটনাকালে কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য বা এর পেছনে কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হচ্ছে না। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শী বা এ ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানা ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শিক্ষাক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি কিশোরী সৈয়দা নুসরাত জাহান (স্নেহা)। নিউইয়র্কের ‘নলেজ অ্যান্ড পাওয়ার একাডেমি’ স্কুল থেকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে অষ্টম গ্রেডে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে তিনি ‘ভ্যালেডিক্টোরিয়ান’ (সেরা শিক্ষার্থী) হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে শিক্ষায়তনিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ নুসরাত পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রেসিডেন্ট শিক্ষা অ্যাওয়ার্ড’। এ ছাড়া ‘সিভিক অ্যাম্বাসেডর অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘সিনেট অ্যাওয়ার্ড’সহ মোট সাতটি সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। সৈয়দা নুসরাত জাহানের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজপানুয়া খন্দকার বাড়িতে। তিনি নিউইয়র্কের পরিচিত কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট, শিক্ষক ও সাংবাদিক অধ্যাপক সৈয়দ আজাদ এবং জোবায়েদা জেসমিন সোহেলি দম্পতির ছোট মেয়ে। নুসরাতের এই অর্জনে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে নুসরাত বলেন, “আমি ভবিষ্যতে একজন আইনজীবী হয়ে দেশ এবং প্রবাসের অবহেলিত মানুষের সেবা করতে চাই। নিজের সাফল্যের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য।” মেয়ের এই সাফল্যে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন বাবা অধ্যাপক সৈয়দ আজাদ। তিনি বলেন, “আমার বড় মেয়ে সৈয়দা নূর-ই জান্নাতও এর আগে বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেছে। বড় বোনের সাফল্য ও অনুপ্রেরণাই ছোট মেয়ের এই অর্জনের পথ আরও সহজ করেছে।” তিনি সন্তানদের সুন্দর মানবিক গুণাবলি নিয়ে বেড়ে ওঠার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতিতে সংবর্ধিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। গত ২৭ জুন জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্টে ‘জামাল ভূঁইয়া নিউইয়র্ক কিক অফ’ শীর্ষক এক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। খেলাধুলাবিষয়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গেমলিফাই ডট এক্সওয়াইজেডের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। জাতীয় দলের অধিনায়কের সঙ্গে সরাসরি দেখা করা, ছবি তোলা এবং ফুটবল নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত ভক্ত-সমর্থকেরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গেমলিফাই ডট এক্সওয়াইজেডের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, ব্র্যান্ড ম্যানেজার মুরাদ হোসেন, সহকারী ব্র্যান্ড ম্যানেজার হাসান তাওফিক, ইউএস-বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাজমুল ইসলাম রনি এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন জামাল ভূঁইয়া। তিনি বলেন, দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে হলে ক্লাব ফুটবলের উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের ফুটবলেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ অন্তত ১০টি শক্তিশালী ক্লাব গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি ক্লাবের নিজস্ব স্টেডিয়াম, জিমনেসিয়াম ও একাডেমি থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিভাগীয় পর্যায়ে শক্তিশালী দল গঠন এবং তাদের জন্য উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। জামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, ঢাকা-কেন্দ্রিক ফুটবল কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে দেশের সব অঞ্চলে ফুটবল ছড়িয়ে দিতে হবে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, প্রতিভা অন্বেষণ এবং খেলোয়াড় তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশের ফুটবলের দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাতে হলে অন্তত ২০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে প্রতিভাবান ফুটবলাররা উন্নত প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সুযোগ পান। পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ক্লাবে খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ তৈরি করতে পারলে একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গঠন করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে গেমলিফাই ডট এক্সওয়াইজেডের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতেই তাদের এই উদ্যোগ। তিনি জানান, নতুন প্রজন্মকে ফুটবলের প্রতি আগ্রহী করতে প্রতি সপ্তাহে ফুটবলভিত্তিক বিভিন্ন কুইজের আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া ফুটবল বিশ্বকাপসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে স্থানীয় শিশুদের নিয়ে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করছে প্রতিষ্ঠানটি। মশিউর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ফুটবল সংগঠক, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চাঁদপুর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি, সংগ্রাম পেরিয়ে কানেকটিকাটের মূলধারার রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতা বাংলাদেশ থেকে কয়েকশ ডলার ও একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন এমডি মাসুদুর রহমান। দীর্ঘ সংগ্রাম, ব্যবসায়িক সাফল্য এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে আজ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর। একজন অভিবাসীর স্বপ্নপূরণের এই গল্প এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে আলোচিত। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জন্ম নেওয়া এমডি মাসুদুর রহমান বর্তমানে কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের ৪র্থ জেলার প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ম্যানচেস্টার, গ্ল্যাস্টনবারি, অ্যান্ডোভার ও বোল্টন। ২০২২ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। পরে বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে একই পদে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে এমডি রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তার পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় এসেছিলাম মাত্র কয়েকশ ডলার ও একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে। শুরুতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছি, সংগ্রাম করেছি। কিন্তু লক্ষ্য ঠিক থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।” যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রথমে নিউইয়র্কে থাকলেও পরে কানেকটিকাটে স্থায়ী হন তিনি। জীবনের শুরুতে বিভিন্ন সাধারণ কাজ করার পাশাপাশি ধীরে ধীরে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে স্বাস্থ্যসেবা, আমদানি-রপ্তানি, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। তার ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কানেকটিকাটে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ব্যবসায় সফল হওয়ার পর সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হন এমডি রহমান। বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত হন তিনি। রাজনীতিতে আসার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব খুবই সীমিত ছিল। তার ভাষায়, “আমি দেখেছি আমাদের কমিউনিটি থেকে স্টেট সিনেট, কংগ্রেস কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে প্রতিনিধিত্ব খুব কম। তখন মনে হয়েছে, আমাদের কাউকে এগিয়ে আসতে হবে।” ডেমোক্রেটিক পার্টির বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে যুক্ত হন। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও পান। ২০২২ সালে স্টেট সিনেট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাকে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এক রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি বলেন, “অনেকে বলেছিলেন এটি বড় একটি পদ, ছোট জায়গা থেকে শুরু করা উচিত। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি নেতৃত্বের জন্য বড় লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন।” নির্বাচিত হওয়ার পর কানেকটিকাট স্টেট সিনেটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন এমডি রহমান। বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান। এছাড়া বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, অর্থ এবং বিচারবিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে আবাসন সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কম আয়ের মানুষের জন্য আবাসনের সুযোগ বাড়াতে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। এমডি রহমান বলেন, “জনগণের জীবন সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করাই আমাদের দায়িত্ব। মানুষের জন্য কাজ করলে মানুষ তার মূল্যায়ন করে।” বাংলাদেশি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, শুধু ব্যবসা বা চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশিদের মূলধারার রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করতে হলে রাজনীতিতে অংশ নিতে হবে। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে স্টেট এবং ফেডারেল পর্যায় পর্যন্ত আমাদের প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন।” বাংলাদেশের তরুণদের উদ্দেশে তার বার্তা, সফলতার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “আপনি কতবার ব্যর্থ হয়েছেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনি কতবার আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন।” চাঁদপুরের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সিনেটে জায়গা করে নেওয়া এমডি মাসুদুর রহমানের এই যাত্রা এখন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির কাছে অধ্যবসায় ও সাফল্যের অনুপ্রেরণার প্রতীক।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলের বার্ষিক পিকনিক উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) ওয়ারেন সিটির ভেটার্নস মেমোরিয়াল পার্কে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাঙালি সপরিবারে অংশ নেন। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে এই বনভোজন যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়। অনুকূল আবহাওয়ায় ডেট্রয়েট ও আশপাশের বিভিন্ন শহর থেকে আসা প্রবাসীরা দিনভর আনন্দ-আড্ডা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে সময় কাটান। অনেকের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেখা-সাক্ষাৎ এবং নতুন প্রবাসীদের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগও তৈরি হয় এই আয়োজনে। দিনের শুরুতেই শিশুদের বিভিন্ন খেলাধুলা, নারীদের ঐতিহ্যবাহী বালিশ খেলা এবং প্রবাসীদের প্রাণবন্ত আড্ডা জমে ওঠে। পাশাপাশি ছিল বারবিকিউর বিশেষ আয়োজন। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের আবহও ছড়িয়ে পড়ে পিকনিকে। অনেকেই প্রিয় দলের জার্সি পরে অংশ নেন এবং প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মেতে ওঠেন। দুপুরে অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খাবার। খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের পর আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাফেল ড্র। এতে ৬৫ ইঞ্চি টেলিভিশন, ল্যাপটপ, রেফ্রিজারেটর, অ্যাপল এয়ারপড, সাউন্ড সিস্টেম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, প্রেশার কুকারসহ নানা আকর্ষণীয় পুরস্কার রাখা হয়। ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলের সভাপতি পংকজ দাশ জানান, এবার পিকনিকে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে সদ্য আসা অনেক নতুন প্রবাসীও এতে অংশ নিয়েছেন। সফলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সহযোগিতা করায় তিনি অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব যৌথভাবে পরিচালনা করেন মন্দিরের মিডিয়া ডিরেক্টর ও সাংবাদিক পার্থ সারথী দেব, সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল সূত্রধর এবং সহসভাপতি নিপেশ সূত্রধর। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে মিশিগানের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আসন্ন মিশিগান স্টেটের প্রাথমিক নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন প্রার্থীও অনুষ্ঠানে এসে প্রবাসীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে সফল ও সার্থক করার লক্ষ্যে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন এই বৃহৎ আয়োজনকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা বাড়াতেই মূলত এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত আলোচনা সভায় ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া (ডিএমভি) অঞ্চলের বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং ফোবানাপ্রেমীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের সার্বিক প্রস্তুতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা এবং প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। উপস্থিত বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ফোবানা কেবল একটি বার্ষিক সম্মেলন নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি ও আবহমান ঐতিহ্যের অন্যতম বৃহৎ মিলনমেলা। তাই এবারের এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে স্মরণীয় করে তুলতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভায় উপস্থিত সকলেই লস অ্যাঞ্জেলেসের এই আয়োজনকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রবাসীদের ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। পরিশেষে, আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী সকল অতিথি, কমিউনিটি নেতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ৪০তম ফোবানা কনভেনশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিহাসে একটি অনন্য ও সফল আয়োজনে পরিণত হবে বলে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউইয়র্কভিত্তিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিউনিটিতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংগঠনের সদস্যপদ সংগ্রহ কার্যক্রমের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ জুন। একই সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১৮ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেনি, তবে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সদস্যপদ সংগ্রহ ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২১ জুন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার আজীবন সদস্য এবং ৮০০ জন নতুন ও নবায়ন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। তবে এখনো অনেক আবেদন জমা পড়ার বাকি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, শেষ সময়ে সদস্যসংখ্যা আরও বাড়বে এবং মোট ভোটার সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ হাজারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আজীবন সদস্যের জন্য ৫০০ ডলার এবং সাধারণ সদস্যের জন্য ২০ ডলার। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে আজীবন সদস্য হলে একজনের ৫০০ ডলার ফি দিলেই দুজন সদস্যপদ লাভ করতে পারবেন। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে দুটি প্রধান প্যানেল মাঠে সক্রিয় রয়েছে। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একটি প্যানেল কাজ করছে। অন্যদিকে আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আলমের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল। দুই পক্ষই বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। যদিও আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়নি, সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে সদস্য সংগ্রহ, মতবিনিময় এবং নির্বাচনী সমর্থন আদায়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। কমিউনিটিতে নির্বাচন ঘিরে আলোচনা, সমীকরণ ও প্যানেলভিত্তিক কৌশল এখন অন্যতম আলোচ্য বিষয়। নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে আবু নাসেরের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হয়েছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করবে ১ জানুয়ারি। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর প্যানেল দাবি করছে, তাদের মেয়াদে কমিউনিটির উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি সেন্টারের উন্নয়ন, বিভিন্ন এলাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং নিয়মিত চাকরি বিষয়ক সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ। তাদের দাবি, স্টেট থেকে প্রাপ্ত ৬৫ হাজার ডলারের একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে। অন্যদিকে কুনু-ফিরোজ প্যানেল নতুন নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা ও কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করার অঙ্গীকার করছে। কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের মতে, এবারের নির্বাচনে সদস্যপদই সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। কারণ বৈধ সদস্যরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এ কারণে ৩০ জুনের মধ্যে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে বাংলাদেশ সোসাইটি এবার প্রথমবারের মতো অনলাইন সদস্যপদ গ্রহণ ও নবায়ন প্রক্রিয়া চালু করেছে। ফলে প্রবাসীরা ঘরে বসেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন ও ফি পরিশোধ করতে পারছেন। নির্বাচনী তৎপরতার পাশাপাশি বাংলাদেশ সোসাইটির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংগঠনের লাইফ মেম্বার ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির আলী খান পল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ অডিটের দাবি জানিয়েছেন। নাসির আলী খান পলের অভিযোগ, একসময় সোসাইটির ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলার ছিল। বর্তমানে সেই অর্থের অবস্থান ও ব্যয়ের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। তার দাবি, নির্বাচন আয়োজনের আগে একটি স্বাধীন অভ্যন্তরীণ অডিটের মাধ্যমে সব হিসাব সদস্যদের সামনে তুলে ধরা উচিত। তিনি আরও বলেন, বর্তমান কমিটির আর্থিক অবস্থান সম্পর্কেও ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মনে করেন সোসাইটির আর্থিক হিসাব নিয়ে সদস্যদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বিগত তিন কমিটির আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট দাবি করেন। নাসির আলী খান পল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সদস্য ফি এবং অন্যান্য খাত থেকে সংগৃহীত অর্থের বিস্তারিত হিসাব সদস্যদের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, বড় অঙ্কের ব্যয়ের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, প্রতিবছর সিপিএ (সার্টিফায়েড পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট) দ্বারা হিসাব প্রস্তুত করা হয় এবং সাধারণ সভায় তা উপস্থাপন করা হয়। সংগঠনের সংবিধানে বাধ্যতামূলক অডিটের বিধান নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মোহাম্মদ আলীর দাবি, সোসাইটির ইতিহাসে কখনো ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের তহবিল ছিল না। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন হিসাব মিলিয়ে সংগঠনের প্রায় আড়াই লাখ ডলার রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা অর্থ, ফেরত পাওয়া অর্থ এবং অন্যান্য তহবিল অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ববর্তী সময়ে কবর কেনার জন্য ব্যয় করা অর্থের একটি অংশ তারা ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছেন এবং কোনো অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়ম হয়নি। বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাদের দায়িত্বকালে প্রতিবছর হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সাধারণ সভায় তা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সদস্যদের সামনে পূর্ণাঙ্গ হিসাব তুলে ধরারও আশ্বাস দেন তিনি। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, বর্তমান কমিটির সময়ে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে তার জানা নেই। তবে যেকোনো অভিযোগ সাধারণ সভায় উত্থাপন করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে তিনি মত দেন। অন্যদিকে সাবেক কোষাধ্যক্ষ নওশেদ হোসেন দাবি করেন, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বর্তমান কমিটির কাছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ছিল। তবে এ বিষয়ে বর্তমান নেতৃত্বের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, তারা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার বুঝে পেয়েছিলেন। এদিকে নাসির আলী খান পল সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পোস্টে দাবি করেছেন, অভ্যন্তরীণ অডিটের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক অনুষ্ঠানে সোসাইটির সভাপতি অডিটের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেছেন, বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী সিপিএ-নির্ভর হিসাব ব্যবস্থাই অনুসরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সদস্যরা চাইলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অডিট বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সদস্যপদ সংগ্রহ, ভোটের প্রস্তুতি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। কমিউনিটির অনেকের মতে, নির্বাচনের আগে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সংগঠনের প্রতি সদস্যদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
কানাডায় চলতি বছরে অভিবাসন ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটির স্থায়ী বাসিন্দা বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট গ্রহণের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিদেশি কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় প্রায় ২৯ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ তালিকায় কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। অভিবাসনসংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, চলতি বছরে কানাডা মাত্র তিন লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অথচ দেশটিতে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক অস্থায়ী বাসিন্দা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে চলতি বছরে ১০ লাখের বেশি মানুষের কানাডায় বৈধভাবে অবস্থানের পথ সংকুচিত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটধারীরা। তাঁদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও এই পরিস্থিতির প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন। এদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কানাডার স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও খাদ্যশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করে দেশটির অর্থনীতিতে অবদান রেখে আসছেন। তথ্য অনুযায়ী, কানাডার মোট অস্থায়ী বাসিন্দাদের প্রায় অর্ধেকই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত। ফলে এই সংকটের প্রভাব দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে পড়তে পারে। বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং কর্মীরাও এর বাইরে নন। এদিকে ওয়ার্ক পারমিটধারীদের জন্য স্টাডি পারমিট ছাড়া পড়াশোনার যে বিশেষ সুযোগ চালু ছিল, তা আগামী ২৭ জুন শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই তাঁদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ এবং ভবিষ্যৎ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনীতি ও উন্নয়নকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে অস্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকের ভবিষ্যৎ। অভিবাসনবিষয়ক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সরকারের বর্তমান নীতির লক্ষ্য অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমিয়ে আনা। তাঁদের ধারণা, এ নীতির ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক টেম্পোরারি রেসিডেন্টকে কানাডা ছাড়তে হতে পারে।
যুক্তরাজ্য সফররত বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে সংবর্ধনা দিয়েছেন নর্থ ইংল্যান্ডের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। নর্থ ইংল্যান্ড বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ব্র্যাডফোর্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। রোববার (২১ জুন) অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে নুরুল আমিন তারেক সভাপতিত্ব করেন। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক সারওয়ার হোসেইন ও শেখ আব্দুল কাইয়ুম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মাওলানা ইমরান আহমদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন মো. আব্দুল খালিক এবং নাশিদ পরিবেশন করেন ইলিয়াস আকরাম। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে বরণ করে নেন আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সংবর্ধিত অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুল হাসান, সাংবাদিক এম. জি. কিবরিয়া, সলিসিটর আনছার হাবিব, সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল উদ্দিন, আজিজুল করিমসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, সাদিক কায়েমের মতো মেধাবী ও দূরদর্শী তরুণদের নেতৃত্বে দেশ ও জাতি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরও এগিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে আনোয়ার আলী জিতু, মনজুর আহমদ, শিবলী শামস চৌধুরী, আবুল কাশেম খান, জাহাঙ্গীর আলম, মাসুম মুর্তজা, মুজিবুর রহমান, মাতাসিন আলী ও হাবিবুর রহমানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। নর্থ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর থেকে আগত শত শত প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে সংবর্ধনার জবাবে সাদিক কায়েম বলেন, বর্তমান ডাকসু অতীতের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয়, দায়িত্বশীল এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে ডাকসু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা, পরামর্শ ও দোয়া অব্যাহত থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
প্রবাসী জামালপুরবাসীর মিলনমেলায় নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে জামালপুর জেলা সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির কল্যাণ এবং জামালপুর জেলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গত ২১ জুন জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের আল আকসা পার্টি হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জহুরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন এ এস এম আশাফুদৌলাহ লিটন। প্রধান অতিথি ছিলেন জামালপুরের কৃতি সন্তান ডা. গোলাম মোক্তাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন। বক্তারা প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে প্রয়াত সকল জামালপুরবাসীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মঈনউদ্দিন। পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন শিশু আয়ানউল্লাহ তালুকদার। অনুষ্ঠানে জামালপুর সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসারের সঞ্চালনায় ১৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেন, রাশেদ আহমেদ, আবুল বাশার চুন্নু, শরাফ সরকার, আলমগীর, আশরাফ আলী, মাসুদ আহমেদ, ফেরদৌস আলম, শহিদুল ইসলাম, এনামুল হক, জসীমউদ্দিন মাহমুদ, মোজাম্মেল হক, মোহাম্মদ আলী এবং ডা. ইউসুফ আলী। পরে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য গঠিত নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দকে শপথ বাক্য পাঠ করান সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাঈদুর রহমান শেলী। নবগঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রবিউল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাবু। সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন মো. দুলাল হোসেন, মিজানুর রহমান, মো. শামীম চৌধুরী, হুমায়ূন কবীর, সুলতান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম মিন্টু ও শামসুল ইসলাম রাজা। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন নূরউন্নবী নবীন, খোরশেদ আলম, শহিদুল ইসলাম মিন্টু এবং মো. সোহাগ। এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আহসান তানিন, কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফ, আপ্যায়ন সম্পাদক শাকিল আহমেদ, প্রচার সম্পাদক এস এম হাসান আরিফ, দপ্তর সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক সামিউল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সাহিত্য সম্পাদক আমজাদ হোসেন, মহিলা সম্পাদক জান্নাতুল অন্তরা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ এবং গণসংযোগ সম্পাদক হিসেবে আনোয়ার হোসেন দায়িত্ব পালন করবেন। কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার শফিউল বাদল, মো. খলিলুল্লাহ, জহুরুল ইসলাম, এ এস এম আশাফুদৌলাহ, মো. রফিকুল হাসান শাফি, সামসামুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম বাবলু, মো. নূরল ইসলাম এবং ফয়সাল হক জন তালুকদার। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে নবনির্বাচিত সভাপতি রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাবুর পরিচালনায় নতুন কমিটির নেতারা প্রবাসী জামালপুরবাসীর কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম শফিকুল ইসলাম আকন্দ, সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ, শফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা অজিত ভৌমিক, মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার খোকন এবং সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সিরাজুল মাওলাসহ অন্যান্য অতিথিরা। সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদে আরও রয়েছেন অ্যাডভোকেট মোর্শেদা জামান, ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম, সৈয়দ হাসিবুল গণি গালিব, সালাহউদ্দিন কাব্য, ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হাসান এবং মো. লিয়াকত হোসাইন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শশীর পরিবেশিত গান উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি হাইস্কুলের কৃতি শিক্ষার্থী সামিরাতু বারা এ বছরের ‘আহমদ সোহান মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ লাভ করেছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় স্কুলটির দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ‘কমেন্সমেন্ট সেরিমনি ২০২৬’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এই স্কলারশিপের অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. উমায়রা টিয়ো। তিনি নবস্নাতক শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে উচ্চশিক্ষা, নিয়মিত অধ্যয়ন, অনুশীলন এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ভবিষ্যৎ জীবনে সফল হতে শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় ও ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি। স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল ভ্যারেনা কাবারক্যাস প্রয়াত শিক্ষার্থী আহমদ সোহানের স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কৃতি ছাত্র সোহান আজ আমাদের মাঝে নেই। তবে সে আছে আমাদের মনের গভীরে, আমাদের অস্তিত্বের শিকড়ে। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।” প্রিন্সিপাল আরও বলেন, সোহান মেধার বিকাশ ও জ্ঞানার্জনের প্রতি অসাধারণ আগ্রহ নিয়ে শিক্ষা জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। তার স্মৃতি ও অর্জন আজও স্কুল সম্প্রদায়কে অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আহমদ জে সোহান ২০১০ সালে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি হাইস্কুল থেকে একাধিক পুরস্কারসহ কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। তবে কলেজ জীবন শুরু করার মাত্র দুই সপ্তাহ পর, একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। তার স্মৃতি, মেধা ও শিক্ষাজীবনের অনুকরণীয় সাফল্যকে সম্মান জানাতে ২০১১ সালে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ ‘আহমদ সোহান মেমোরিয়াল স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ চালু করে। এরপর থেকে প্রতিবছর মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে আহমদ সোহানের মা জাহানারা বি আহমদ এবং বাবা সিরাজ উদ্দিন আহমদ সোহাগ উপস্থিত ছিলেন। তারা স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সামিরাতু বারাকে অভিনন্দন জানান এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট-৬১ থেকে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাহবুব খানের উদ্যোগে কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে এক মতবিনিময় ও ‘মিট অ্যান্ড গ্রীট’ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার স্টার্লিং হাইটসের নিউ ডাউন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় বাংলাদেশি, ইয়েমেনি, পোলিশ এবং আমেরিকান কমিউনিটির ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবীরা অংশ নেন। সভায় মাহবুব খান তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং নাগরিক সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে চান। পাশাপাশি স্টার্লিং হাইটস, ইউটিকা, ক্লিনটন টাউনশিপ ও মাউন্ট ক্লিমেন্স এলাকার সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য প্রাইমারি নির্বাচনে মাহবুব খান ডিস্ট্রিক্ট-৬১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি কমিউনিটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন। ভোটারদের উদ্দেশে মাহবুব খান বলেন, “৪ আগস্ট ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সমর্থন আমার বিজয়ের পথ সুগম করবে। নির্বাচিত হলে আমি কমিউনিটির উন্নয়ন এবং মানুষের স্বার্থে কাজ করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করব।” এ সময় তিনি নির্বাচনী কার্যক্রম সফল করতে কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ রাহুল রব। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শরীর ঘামে ভিজে যায়, শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে তিনি ফোন করেন বড় ভাই মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে। কিন্তু চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাহুল রব বড় ভাইকে ফোন করে জানান যে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করছেন। তাঁর বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যথা হচ্ছিল এবং শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল। ভাইয়ের কণ্ঠে উদ্বেগ টের পেয়ে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ দ্রুত তাঁর অবস্থান জানতে চান এবং নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষা করতে বলেন। আব্দুল্লাহ জানান, তিনি দ্রুত ভাইয়ের কাছে রওনা দেন। পথে থাকতেই আবার ফোন আসে রাহুলের কাছ থেকে। তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আব্দুল্লাহ ৯১১-এ ফোন করেন। তবে প্রথমবার জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ রাহুলের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি। পরে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ আসে। প্যারামেডিকরা দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে রাহুল রবকে জরুরি চিকিৎসা দেন। পরে তাঁকে দ্রুত ব্রুকলিনের নিউইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন। পরিবারকে জানানো হয়, চিকিৎসা শেষে পরে তাঁরা দেখা করতে পারবেন। সেই আশায় মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বাড়ির পথে রওনা দেন এবং রাহুলের স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল থেকে আবার ফোন আসে। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন, হয়তো দ্রুত হাসপাতালে যেতে বলা হবে। পরিবর্তে চিকিৎসকদের কাছ থেকে আসে হৃদয়বিদারক সংবাদ। সব ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও রাহুল রবকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রাহুল রবের গ্রামের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র সন্তান, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তিনি পরিবার নিয়ে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটি এলাকায় বসবাস করতেন। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাহুল রব ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি। তাঁর আন্তরিকতা, বন্ধুবৎসল আচরণ এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতার কারণে তিনি সবার কাছে প্রিয় ছিলেন। পরিচিতজনেরা তাঁকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন, যিনি সবসময় হাসিমুখে মানুষের খোঁজখবর নিতেন এবং সহজেই সবাইকে আপন করে নিতে পারতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তাঁর মানবিক গুণাবলি ও বন্ধুসুলভ ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করেছেন। এক শোকবার্তায় বলা হয়, জ্যাকসন হাইটসের ব্যস্ত জনপদে রাহুল রব ছিলেন এক পরিচিত হাসিমুখ, যার উপস্থিতি অনেক মানুষের দিনকে আনন্দময় করে তুলত। সোমবার (২২ জুন) বাদ জোহর জ্যাকসন হাইটসে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি সংগঠনের নেতারাও। প্রিয় মানুষটিকে শেষ বিদায় জানাতে মানুষের এই উপস্থিতি তাঁর প্রতি কমিউনিটির গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন হয়ে ওঠে। রাহুল রবের অকাল প্রয়াণে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যু পরিবার, বন্ধু এবং শুভানুধ্যায়ীদের জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।
উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তম সম্মেলন ফোবানা ২০২৬ এ অংশগ্রহণে আগ্রহী সদস্য সংগঠনগুলোর নিবন্ধনের শেষ সময় আগামী ৩০ জুন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ। খালেদ রউফ বলেন, ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে সফল ও অংশগ্রহণমূলক করতে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং কানাডার সদস্য সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য যেসব সংগঠন এখনো নিবন্ধন সম্পন্ন করেনি, তাদের দ্রুত নিবন্ধন করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তিনি জানান, সংগঠন নিবন্ধনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের কালচারাল মেম্বারশিপ নবায়ন, হাউস রেজিস্ট্রেশন এবং নির্ধারিত সাংস্কৃতিক স্লট নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও চলছে। ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি বলেন, সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন করলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো কনভেনশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে। তিনি আরও জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ফোবানার ৪০তম কনভেনশনকে ঘিরে প্রস্তুতি ভালোভাবে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে নিবন্ধন, হোটেল বুকিং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন কমিউনিটি কার্যক্রমের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন লস অ্যাঞ্জেলেস/ইউনিভার্সাল সিটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী এই কনভেনশন। এতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। খালেদ রউফ বলেন, “ফোবানা শুধু একটি কনভেনশন নয়, এটি উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সংযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই সকল সদস্য সংগঠনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তম সম্মেলন ফোবানা ২০২৬ কে ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের ৪ থেকে ৬ তারিখ ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ। খালেদ রউফ বলেন, চার দশকের ঐতিহ্য বহনকারী ফোবানার ৪০তম কনভেনশনকে স্মরণীয় ও ফলপ্রসূ করতে বিভিন্ন বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দুপুর ১টায় ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলের বলরুমে একটি বিশেষ বিজনেস নেটওয়ার্কিং লাঞ্চ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন ব্যাস। ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ আরও বলেন, উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, কানাডা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করাই এই নেটওয়ার্কিং আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি জানান, সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম, হোটেল বুকিং এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ অব্যাহত রয়েছে। “উত্তরণের পথে আগামীর প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিতব্য ফোবানা ২০২৬ এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, সাহিত্য আড্ডা, ইয়ুথ ফোরাম, স্কলারশিপ কার্যক্রম এবং কমিউনিটি সংযোগমূলক নানা আয়োজন থাকবে। খালেদ রউফ আশা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি এবারের কনভেনশনে অংশ নেবেন। ৪০তম ফোবানা কনভেনশন উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং বৈশ্বিক পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুব্রত চৌধুরী ও লাকী চৌধুরী। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারা আটলান্টিক কাউন্টির ডেমোক্র্যাটিক কমিটি পারসন পদে জয়লাভ করেন। এই বিজয়ের মাধ্যমে সুব্রত চৌধুরী টানা চতুর্থবারের মতো ডেমোক্র্যাটিক কমিটি পারসন হিসেবে নির্বাচিত হলেন। অন্যদিকে লাকী চৌধুরী একই পদে দ্বিতীয়বারের মতো জয় অর্জন করেছেন। নির্বাচনে বিজয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় এই দম্পতি তাদের প্রতি আস্থা রাখার জন্য আটলান্টিক কাউন্টির ভোটারদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। সুব্রত চৌধুরী বাংলাদেশের চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই গ্রামের বাসিন্দা। ২০১২ সালে তিনি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। বর্তমানে তিনি আটলান্টিক কাউন্টি গভর্নমেন্টের হিউম্যান সার্ভিসেস স্পেশালিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি কমিউনিটি সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তিনি আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি এবং একজন ছড়াকার, কবি ও অনুবাদক হিসেবেও পরিচিত। বর্তমানে তিনি আটলান্টিক সিটি স্কুল বোর্ডের নির্বাচিত সদস্য এবং প্রথম এশিয়ান-আমেরিকান হিসেবে আটলান্টিক কাউন্টির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবিষয়ক পরামর্শক পর্ষদে তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি আটলান্টিক সিটি ফ্রি পাবলিক লাইব্রেরির ট্রাস্টি বোর্ডেরও সদস্য। অন্যদিকে লাকী চৌধুরী চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার উত্তর ভূর্ষি গ্রামের বাসিন্দা। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পর বর্তমানে তিনি আটলান্টিক সিটি গভর্নমেন্টের মার্কেন্টাইল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় মূলধারার রাজনীতি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তার অংশগ্রহণ তাকে স্থানীয় কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই দম্পতির পুনর্নির্বাচন নিউজার্সিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকার সুপরিচিত ও অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ প্রবাসী বাংলাদেশি রাহুল হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার রাতে তিনি আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে ব্রুকলিনের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবার ও তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে রাহুলের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি গুরুতর দেখে কালক্ষেপণ না করে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। জ্যাকসন হাইটসের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাহুল ছিলেন এক অতি পরিচিত ও আপন নাম। নিজের আন্তরিক ব্যবহার, সদা হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কারণে তিনি সবার কাছেই ভীষণ প্রিয় ছিলেন। এমন একজন প্রাণবন্ত ও পরোপকারী মানুষের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এক বিষাদময় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধু, স্বজন এবং দীর্ঘদিনের পরিচিতজনরা গভীর শোক ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। পরিচিতরা তাকে একজন অত্যন্ত মানবিক, সদালাপী ও সহৃদয় মানুষ হিসেবেই স্মরণ করছেন। রাহুলের এই অকাল প্রয়াণে নিউইয়র্ক প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের নিউ বৃন্দাবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কীর্তন মেলা। শনিবার (২০ জুন) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব চলে পরদিন সকাল পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বিপুলসংখ্যক কৃষ্ণভক্তের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। দিনব্যাপী এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল সমবেত হরিনাম সংকীর্তন। এ ছাড়া পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আলোচনা, ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন এবং প্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে নিউ বৃন্দাবন প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক আধ্যাত্মিক ও আনন্দঘন পরিবেশ। আয়োজকেরা জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী কলিযুগে আত্মিক উন্নতি ও পরমার্থ লাভের অন্যতম প্রধান উপায় হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন। তাদের মতে, ধ্যান, যজ্ঞ কিংবা বিগ্রহ অর্চনার মতো আধ্যাত্মিক সাধনাও ভগবানের দিব্যনাম কীর্তনের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের বাণী স্মরণ করে ভক্তরা বলেন, কীর্তন মানুষের হৃদয়কে নির্মল করে এবং ভগবানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনে সহায়তা করে। এবারের কীর্তন মেলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রখ্যাত কীর্তনিয়ারা অংশ নেন। তাদের মধ্যে সুমন মজুমদারের নেতৃত্বে আটলান্টিক সিটির কীর্তনীয়া দল বিশেষভাবে উপস্থিত দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। দলের সদস্য তৃপ্তি সরকার, প্রদীপ দে, মেরি দে, গঙ্গা সাহা, চন্দন রায়, দীপা দে জয়া ও সোমা দেবের পরিবেশনায় ভক্তিমূলক আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। উৎসবের একপর্যায়ে হাজারো কৃষ্ণভক্তের সম্মিলিত কণ্ঠে ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, হরে রাম হরে রাম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো নিউ বৃন্দাবন এলাকা। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন প্রবাসে সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।