সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

সোশ্যাল মিডিয়ার ভুয়া তথ্য বিশ্বাস করে ক্যানসার সারানোর আশায় পশুর কৃমির ওষুধ খেয়ে যুবকের করুণ মৃত্যু

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ২১:৩
লি রেডপাথ, যিনি ফেনবেনডাজল সেবনের পর মারা যান। ছবি: সংগৃহীত
লি রেডপাথ, যিনি ফেনবেনডাজল সেবনের পর মারা যান। ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস করে পশুর জন্য ব্যবহৃত একটি কৃমিনাশক ওষুধ সেবনের পর যুক্তরাজ্যের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ক্যানসারের চিকিৎসা বা প্রতিরোধে কার্যকর বলে প্রচারিত ওই ওষুধ মানুষের জন্য অনুমোদিত নয় এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণও নেই বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন।

 

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী লি রেডপাথ নামের ওই ব্যক্তি ফেনবেনডাজল (Fenbendazole) নামের একটি অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক বা পরজীবীনাশক ওষুধ টানা কয়েক সপ্তাহ সেবনের পর গুরুতর লিভার বিকল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে গত বছরের ২৯ এপ্রিল ক্যামব্রিজের অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

তদন্তে জানা যায়, লি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট দেখে বিশ্বাস করেছিলেন, ফেনবেনডাজল ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় উপকারী হতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি ইউক্রেনভিত্তিক এক অনলাইন সরবরাহকারীর কাছ থেকে ওষুধটি সংগ্রহ করেন।

ফেনবেনডাজল মূলত পশুর অন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের পরজীবী ও কৃমি দূর করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মানুষের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয় এবং ক্যানসারের চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়।

 

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের হান্টিংডনে অনুষ্ঠিত এক করোনারের তদন্তে লির দীর্ঘদিনের সঙ্গী লরেন লল সাক্ষ্য দেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য দেখে লি মনে করেছিলেন ওষুধটি নিরাপদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনেক মানুষ এটি ব্যবহার করছেন।

লরেন বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই লি ওষুধটি সেবন শুরু করেছিলেন। তার মতে, এ ধরনের ওষুধ অনলাইনে সহজলভ্য হওয়ায় অনেক মানুষ পূর্ণ তথ্য না জেনেই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

 

তিনি আরও জানান, তার ধারণা লি মৃত্যুর আগে হয়তো প্রায় দুই বছর ধরে অনিয়মিতভাবে এই ওষুধ গ্রহণ করছিলেন।

তদন্তে অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালের লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. গুইলিম ওয়েব স্পষ্টভাবে জানান, মানুষের ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় ফেনবেনডাজলের কোনো প্রমাণিত উপকারিতা নেই। তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

 

হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, লিকে গত বছরের ১২ এপ্রিল গুরুতর লিভার সমস্যার লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার সময় তিনি চিকিৎসকদের জানান যে, অনলাইনে ক্যানসারবিরোধী গুণের দাবি দেখে তিনি ফেনবেনডাজল কিনে সেবন করছিলেন।

 

ময়নাতদন্তে দেখা যায়, লিভারের গুরুতর ক্ষতির পাশাপাশি কিডনিও অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, লির আগে থেকেই অ্যালকোহলজনিত লিভার সিরোসিস ছিল। তবে করোনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেনবেনডাজলজনিত লিভারের বিষক্রিয়াই ছিল তার মৃত্যুর প্রধান কারণ, যা শেষ পর্যন্ত লিভার ও কিডনি বিকলের দিকে নিয়ে যায়।

 

ক্যামব্রিজশায়ার ও পিটারবরোর সহকারী করোনার ক্যারোলিন জোনস বলেন, ফেনবেনডাজল অত্যন্ত শক্তিশালী কৃমিনাশক ওষুধ এবং এটি মানুষের জন্য কখনো যে মাত্রায় বা যে সময় পর্যন্ত ব্যবহারের কথা ভাবা হয়নি, লি তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ও দীর্ঘ সময় ধরে এটি গ্রহণ করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, লি নিজের স্বাস্থ্যের উন্নতির উদ্দেশ্যে ওষুধটি গ্রহণ করেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্তের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতিতেই তার মৃত্যু হয়েছে।

 

লরেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আনুষ্ঠানিক সতর্কতামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ জানালেও করোনার জানান, সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, অনলাইনে এ ধরনের ওষুধ সহজে কেনাবেচার বিষয়টি উদ্বেগের।

তদন্ত শেষে লির মৃত্যুকে 'মিসঅ্যাডভেঞ্চার' বা অনিচ্ছাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ফলে সংঘটিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর অনেকগুলোরই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকে না। কোনো ওষুধ বা বিকল্প চিকিৎসা গ্রহণের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

সূত্র: দ্য সান, যুক্তরাজ্য; করোনারের তদন্তে উপস্থাপিত তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
জানুয়ারির বিক্ষোভে আটকের পর ২ সন্তানের মাকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান
জানুয়ারির বিক্ষোভে আটকের পর ২ সন্তানের মাকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান

ইরানের শাহিন শাহর শহরে জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় একটি সুপারমার্কেটে আগুন লাগার দৃশ্য ধারণ করার অভিযোগে আটক ৪৩ বছর বয়সী লেইলা আবোলহাসানিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। দুই কিশোরী মেয়ের এই মাকে ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বা ‘মোহারেবেহ’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁর স্বজনদের দাবি, আগুন লাগানোর ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন না, শুধু ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন।    ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ইসফাহান প্রদেশের শাহিন শাহরে ওই আগুনের ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, লেইলা তখন একটি দোকানে আগুন লাগার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করছিলেন। ওই সময় তাঁকে আটক করা হয়। পরে ইসফাহানের ডওলতাবাদ কারাগারে নেওয়া হয় তাঁকে। গ্রেপ্তারের পর সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে আটক আছেন।    ইসফাহানের রেভল্যুশনারি কোর্টের ৫ নম্বর শাখা মে মাসে লেইলাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। আদালতের অভিযোগ, দোকানটিতে আগুন লাগানোর ঘটনায় তিনি অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাঁর স্বজনরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, লেইলা আগুন লাগানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, বরং ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে শুধু আগুনের দৃশ্য ধারণ করছিলেন। মামলায় আদালত কী ধরনের প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে আগুন লাগানোর সঙ্গে যুক্ত করেছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।    লেইলা পেশায় একজন নেইল টেকনিশিয়ান। মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে তাঁর মামলাটি ইরানের সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়। বর্তমানে সর্বোচ্চ আদালতে মামলাটির পর্যালোচনা চলছে। আদালত নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখলে লেইলার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।    জানুয়ারির দেশব্যাপী বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার এটি সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে আরও দুই তরুণ, আমির মোহাম্মদ মোজালাল চৌবারি ও হোসেইন নাজারিকে পৃথক মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন HRANA। একই বিক্ষোভে আটক মাজিদ আদিনেহ নামে আরেক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডও গত সপ্তাহে কার্যকর করা হয়েছে বলে ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে।    ইরানে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক চলতি মাসে ইরানকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মতবিরোধ দমন ও জনগণের মধ্যে ভয় তৈরি করতে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি সুরক্ষার ঘাটতি এবং নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।    ইরানে লেইলা আবোলহাসানির মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনার ফলের ওপরই নির্ভর করছে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, নাকি তা বাতিল হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৯:২৮
রাজা ওয়ো নিয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ

৩৪ বছর বয়সে গোপন রোগে মারা গেলেন ‘বিশ্বের কনিষ্ঠতম রাজা’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব নয়, ট্রাম্পকে বলেছিলাম চাপ আরও বাড়াতে: নেতানিয়াহু

৪৭ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়ার অর্থনীতি। ছবি: সংগৃহীত৪৭ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়ার অর্থনীতি। ছবি: সংগৃহীত

৪৭ বছর পর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফেরার পথে সিরিয়া, ভিসা কার্ডে বিল দিলেন আল-শারা

নেপালের নুয়াকোটে বন্যার পর কাদায় ঢেকে গেছে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা। ছবি: সংগৃহীত
‘স্ত্রীর হাত ধরে টানছিলাম, কিন্তু কাদার স্রোত তাকে নিয়ে গেল’: নেপালের বন্যা নিয়ে বৃদ্ধের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। এর মধ্যেই ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারালের বেঁচে ফেরার গল্পটি সামনে এসেছে আরও এক করুণ বাস্তবতা নিয়ে। নিজের চোখের সামনে কাদার স্রোতে স্ত্রীকে হারিয়েছেন তিনি। চার ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হলেও এখনো স্ত্রীর কোনো সন্ধান পাননি এই বৃদ্ধ।   নেপালের নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কেশব গত বুধবার বাড়িতে ছিলেন। হঠাৎ পাহাড়ের দিক থেকে প্রবল গতিতে কাদা, পানি ও পাথরের স্রোত নেমে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই স্রোত ঢুকে পড়ে তার বাড়িতে। কেশব তখন স্ত্রীকে নিয়ে ঘরের উঁচু অংশে ওঠার চেষ্টা করেন। রয়টার্সকে দেওয়া বর্ণনায় তিনি বলেন, কাদার স্রোত যখন বাড়ির ভেতরে ঢুকতে শুরু করে, তখন তিনি স্ত্রীর হাত ধরে তাকে বারান্দার দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই স্রোতের শক্তি তাদের আলাদা করে দেয়। স্ত্রী তার হাত থেকে ছিটকে কাদার নিচে হারিয়ে যান।   চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার কেশবকে উদ্ধার করে। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু স্ত্রীকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেশবের ভাষায়, তিনি এখনো কাদার নিচেই কোথাও আছেন এবং তার বেঁচে থাকার আশা নেই। কেশবের এই বর্ণনা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বুধবার নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ধসের সঙ্গে প্রবল বন্যা শুরু হয়। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি ও কাদার স্রোত বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি পর্যটন ও তীর্থযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ পথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগের কারণ হিসেবে পাহাড়ি এলাকায় বরফ ও হিমবাহ ধসের কথা বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিমবাহের একটি অংশ ধসে গিয়ে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি নিচের দিকে নেমে আসায় এই ভয়াবহ স্রোতের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ এখনো চলছে। দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দেশটিতে শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ। ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ১৬৫টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে রেডিও নেপাল। একই সময়ে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, ৫৭৯ পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে নেপালি ও বিদেশি পর্যটক উভয়েই রয়েছেন।   নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, কানাডাসহ দুই ডজনের বেশি দেশের পর্যটকদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বতের গিরং এলাকায়ও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্যোগের পর উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতুর কারণে। নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় বহু সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।   এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে রাজধানী কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতেও ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। কেউ আহত স্বজনের খোঁজ করছেন, আবার কেউ নিখোঁজ স্বজনের কোনো তথ্য পাওয়ার আশায় সরকারি তালিকা ও উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে যোগাযোগ করছেন। কেশব প্রসাদ বারালের গল্প তাই শুধু একজন মানুষের বেঁচে ফেরার কাহিনি নয়। এটি কয়েক মুহূর্তের একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে একটি পরিবারের জীবন পুরোপুরি বদলে দিতে পারে, তারও নির্মম উদাহরণ। স্ত্রীকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেও তাকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। নিজে উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে পৌঁছালেও এখনো অপেক্ষা করছেন এমন একটি খবরের জন্য, যা হয়তো আর কখনো আসবে না।   সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, রেডিও নেপাল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২২:১৩
গাজায় পানি সংগ্রহে যাওয়া শিশুদের লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে গুলি

গাজায় পানি সংগ্রহে যাওয়া শিশুদের লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে গুলির অভিযোগ

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ

অ্যাসাইলামপ্রার্থীদের জন্য হোটেল ব্যবহার কমাচ্ছে যুক্তরাজ্য, ছোট নৌকায় পারাপারেও নিয়ন্ত্রণ

বন্যায় নিহতের মরদেহ থেকে স্বর্ণ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

বন্যায় নিহতের মরদেহ থেকে স্বর্ণ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে পুলিশ

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ১৩ বছরের ব্রিটিশ কিশোরীসহ নিখোঁজ ৩৩ ব্রিটিশ পর্যটক
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ১৩ বছরের ব্রিটিশ কিশোরীসহ নিখোঁজ ৩৩ ব্রিটিশ পর্যটক

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ১৩ বছরের এক ব্রিটিশ কিশোরীসহ যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নেপালে অন্তত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চীনেও অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ।   নেপালের রাসুয়া অঞ্চলে পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও পানি নদীতে নেমে আসার পর মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নদীর আশপাশের বসতি, সড়ক, ধাতব সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাড়িঘর ও যানবাহন কাদা ও পানির নিচে চাপা পড়ে গেছে।   উদ্ধারকর্মীরা এখনো দুর্গত এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। ৪০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে দুর্গম এলাকা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।   স্থানীয় এক স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বিকের ভাষায়, যেদিকে তাকানো যাচ্ছে, সেদিকেই ধ্বংসযজ্ঞ। নদীর পাশে থাকা অনেক বসতি পুরোপুরি ভেসে গেছে। তার নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন।   নেপালের পাশাপাশি তিব্বতের দিকেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চীনা কর্মকর্তারা বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, কাদা, পাথর ও পানির বিশাল স্রোত আছড়ে পড়ার আগে মানুষজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে পালানোর চেষ্টা করছেন।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়ও উঠে এসেছে ভয়াবহতার চিত্র। ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারাল জানান, হঠাৎ করে বিশাল কাদার স্রোত তাদের দিকে ধেয়ে আসে। পানি ও কাদা বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ার পর তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্রোতে তার স্ত্রী ভেসে যান। কয়েক ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে করে তাকে উদ্ধার করা হলেও স্ত্রী এখনো নিখোঁজ।   জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হিমবাহ থেকে তুষার ও বরফ ধসে পড়ার কারণে এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পাহাড়ি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা ও পানি নেমে এসে নদীর পানি দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।   এদিকে নেপাল থেকে নেমে আসা পানির কারণে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারেও বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিহারে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।   নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের পর্যটকরাও রয়েছেন। একটি পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৪ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।   নেপাল ও তিব্বতের এই অঞ্চলটি মাউন্ট কৈলাসে তীর্থযাত্রার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় সেখানে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রী জড়ো হন। এবারের দুর্যোগে মাউন্ট কৈলাসগামী ১৩৩ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রীও আটকা পড়েছেন বলে জানানো হয়েছে।   দুর্যোগের পর নেপাল ও আশপাশের এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি দুর্গত মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ৩:৩৯
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই এক বসায় সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ তেলাওয়াত ফিলিস্তিনি কিশোরীর

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই এক বসায় সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ তেলাওয়াত ফিলিস্তিনি কিশোরীর

লাইভ এআই সহায়তায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার, বিশ্বের প্রথম রোগীর টিউমার সফলভাবে অপসারণ

লাইভ এআই সহায়তায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার, বিশ্বের প্রথম রোগীর টিউমার সফলভাবে অপসারণ

পা দেখানো শুরু করতেই আকাশচুম্বী টিপ, উবার ইটস ড্রাইভারের দাবি তরুণীর

ডেলিভারির ছবিতে পা দেখাতেই আকাশচুম্বী টিপ পাচ্ছেন, দাবি তরুণী উবার ইটস ড্রাইভারের

0 Comments