হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের একজন শীর্ষ অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং তা মোকাবিলার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভারত, সুদান, কেনিয়া, ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশে গুরুত্বপূর্ণ বপন মৌসুম চলছে। এই সময়ে জ্বালানি ও সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কৃষকরা প্রয়োজনীয় উপকরণ কম ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন, যা সরাসরি উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সারের সরবরাহের একটি প্রধান রুট। এই পথ বন্ধ বা অচল থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং বাজারে খাদ্যের প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে।
তোরেরো আরও বলেন, যদি দ্রুত কোনো সমঝোতা না হয়, তবে ক্ষতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এমনকি প্রণালি পুনরায় খুলে গেলেও বাণিজ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এবং বাজারের ধাক্কা সামাল দিতে প্রায় ৯০ দিন সময় লাগতে পারে। এই সময়সীমা কৃষি ও সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, যদি অচলাবস্থা দ্রুত শেষ করা যায়, তাহলে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হতে পারে এবং সম্ভাব্য খাদ্যসংকট এড়ানো সম্ভব।
এদিকে, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে, ইরানের স্বার্থ ও অধিকার স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।
ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের এক সামরিক উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো ভবিষ্যৎ চুক্তিতে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সতর্কতার সঙ্গে নতুন সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্যও ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান এই অচলাবস্থা শুধু জ্বালানি খাত নয়, বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
দাবানলের ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টো। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার–এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ বায়ুমানের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে টরন্টো। এ সময় শহরটি ভারতের নয়াদিল্লি ও কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাকেও ছাড়িয়ে যায়। কানাডার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা টরন্টো ও দক্ষিণ অন্টারিওর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বায়ুমান সতর্কতা জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া, ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা এবং শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। দাবানলের ধোঁয়ায় টরন্টোর আকাশ হলুদ-ধূসর রঙ ধারণ করেছে এবং অনেক এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে গেছে। শহরের বায়ুমান স্বাস্থ্য সূচক (AQHI) কিছু সময়ের জন্য ১০+, অর্থাৎ ‘অত্যন্ত উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকি’ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতির মূল কারণ উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওতে চলমান শতাধিক বড় দাবানল। কানাডাজুড়ে বর্তমানে ৮০০টিরও বেশি দাবানল জ্বলছে, যার মধ্যে শতাধিক এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। দাবানলের ধোঁয়া শুধু কানাডায় সীমাবদ্ধ নেই। শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহের কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। নিউইয়র্কসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে বায়ুমান সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দাবানলের ধোঁয়ায় থাকা পিএম ২.৫ নামে অতিক্ষুদ্র দূষিত কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদ্রোগের ঝুঁকি এবং চোখ ও গলায় জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি সুস্থ মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধোঁয়াজনিত বায়ুদূষণের ঘটনা আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তবে হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির যে দাবি ইরান করেছে, তা এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের চলমান ‘অপারেশন নাসর-২’-এর অংশ হিসেবে কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ‘ইয়া জয়নাব আল-কুবরা’ সাংকেতিক নামে পরিচালিত অভিযানে ড্রোন ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন সি-র্যাম (C-RAM) বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার। আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, ঘাঁটির একটি সেনা সমাবেশস্থলেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটি কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর একটি। এটি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমান বাহিনীর ট্রানজিট, নজরদারি এবং আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে তা ওই অঞ্চলে বিমান প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে হামলার পরপরই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন), যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কিংবা কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে ইরানের দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায়ও পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি, হতাহতের সংখ্যা এবং সামরিক প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও স্বাধীন তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন। সূত্র: আইআরজিসির বিবৃতি, ডন, দ্য গার্ডিয়ান।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরানের আরোপ করা অবরোধ বহাল থাকবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, নিজেদের সামরিক ব্যর্থতা ও দুর্বলতা আড়াল করতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অজুহাত তৈরি করাই ওই হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি করেছে তেহরান। আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপ করা অবরোধ ভেঙে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করেনি। তাদের ভাষ্য, কোনো জাহাজই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করে অবরোধ অমান্য করার দুঃসাহস দেখায়নি। ফলে জাহাজে হামলা চালানোর মতো কোনো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়নি। তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও আইআরজিসির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হওয়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা নৌ চলাচলে বাধা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তাও তত বাড়বে। এতে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।