দুই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখতে ইসিতে আবেদন জামায়াতের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ ও চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীদের নাম ব্যালট পেপার থেকে বাদ দিতে এবং 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীক না রাখতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে দলটি। গত ২৩ জানুয়ারি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে এই অনুরোধ জানানো হয়।   জামায়াত জানিয়েছে, ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতা অনুযায়ী এই দুটি আসন শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আসন দুটিতে প্রার্থীরা হলেন: নরসিংদী-২: এনসিপির গোলাম সরোয়ার (সারোয়ার তুষার)। এখানে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন মো. আমজাদ হোসাইন। চট্টগ্রাম-৮: এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ। এখানে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন মো. আবু নাসের।   আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সমঝোতা চূড়ান্ত হলেও কারিগরি বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে জামায়াতের দুই প্রার্থী যথাসময়ে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। ফলে আইনিভাবে এখনো তাদের নাম ও প্রতীক ব্যালটে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি এড়াতে এবং শরিক দলের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ব্যালটে না রাখার দাবি জানিয়েছে দলটি।   নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় ব্যালট পেপার থেকে নাম বা প্রতীক বাদ দেওয়া সাধারণত জটিল প্রক্রিয়া। তবে বিশেষ অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে কমিশন কী ব্যবস্থা নেয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

Unknown জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
জামায়াত মাফ না চেয়ে ভোট চায় কীভাবে, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজের নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক প্রচারণায় নেমেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ চণ্ডিপুর বাজারের পথসভায় তিনি সরাসরি জামায়াতে ইসলামীকে নিশানা করে বলেন, একাত্তরের ভূমিকার জন্য এখনো ক্ষমা না চেয়ে ভোট চাওয়ার নৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।   মির্জা ফখরুল বলেন, “জামায়াত এখনো একাত্তরের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে মাফ চায়নি। তারা ভোট চায় কীভাবে?” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন আসনে জামায়াতের সাথে ভোটের লড়াই তীব্র হওয়ায় ফখরুল এই পুরনো ইস্যুটি সামনে নিয়ে এসেছেন।   শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এলাকার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: উন্নয়ন বাজেট: হাসিনার পতনের পরই রাস্তাঘাটের কাজ শুরু হয়েছে এবং তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্য ১,৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছেন। মিথ্যা মামলা: তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ১১৭টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ‘ময়লার গাড়ি পোড়ানোর’ মতো হাস্যকর অভিযোগও রয়েছে।   বিগত ১৬ বছরের ‘জুলুম’ ও বঞ্চনার কথা স্মরণ করলেও ফখরুল স্পষ্ট জানান যে বিএনপি প্রতিশোধ নিতে চায় না। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিহিংসা বা হিংসা চাই না। এটাই বিএনপি এবং এটাই তারেক রহমানের দর্শন।”   ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে ফখরুল বেশ কিছু বড় প্রতিশ্রুতি দেন: ১. অবকাঠামো: ঠাকুরগাঁওয়ে এয়ারপোর্ট এবং মেডিকেল কলেজ নির্মাণ। ২. নারীদের উন্নয়ন: তারেক রহমানের পরিকল্পনায় মা-বোনদের ট্রেনিং দিয়ে ঘরে বসে আয়ের সুযোগ তৈরি করা। ৩. কৃষি ও কর্মসংস্থান: বরেন্দ্র প্রকল্পের মতো নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা। পথসভার সমাপনী বার্তা: ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের ভুল দেশকে আবারও পিছিয়ে দেবে। বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী—এমন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি ধানের শীষে ভোট চান।

Unknown জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
জামায়াত আমিরের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি দেশের বর্তমান রাজনীতি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।   জামায়াতের প্রচার বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু স্থান পেয়েছে: বর্তমান পরিস্থিতি: বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। নির্বাচন ও সংস্কার: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম। বাণিজ্য ও শিল্প: দুই দেশের মধ্যে শিল্প-বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন। রোহিঙ্গা সংকট: রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এবং মানবিক সহায়তা।   বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমুন্নত রাখতে জামায়াতে ইসলামীর ‘ইতিবাচক ভূমিকার’ ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।   মার্কিন দূতাবাস: রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কনসোলার এরিক গিলম্যান, পাবলিক অফিসার মনিকা এল সাই, পলিটিক্যাল অফিসার জেমস স্টুয়ার্ট ও স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ। জামায়াতে ইসলামী: ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন এবং আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।

Unknown জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
তেঁতুল গাছ লাগিয়ে কেউ ফজলি আম আশা করতে পারে না : গোলাম পরওয়ার

গত ৫৪ বছরের শাসনব্যবস্থাকে ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে সংসদীয় আসন খুলনা-৫-এর জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, টেকসই উন্নয়নের পরিবর্তে দেশে ‘দুর্নীতি নির্ভর’ উন্নয়ন হয়েছে। বুধবার ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পথসভা ও জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।   দুর্নীতির উন্নয়ন: পরওয়ার অভিযোগ করেন, অতীতে রাস্তা, স্কুল বা খাল খননের বরাদ্দের বড় অংশই আগে ব্যক্তিগত পকেটে ঢুকেছে, ফলে উন্নয়ন স্থায়ী হয়নি। রাজনৈতিক উপমা: ভোটারদের সচেতন করতে তিনি বলেন, “তেঁতুল গাছ লাগিয়ে যেমন ফজলি আম পাওয়া যায় না, তেমনি দুর্নীতিবাজদের ভোট দিয়ে ভালো সরকার আশা করা একটি রাজনৈতিক ভ্রান্তি।” ১১ দলের ঐক্য: তিনি উল্লেখ করেন, এবার জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করছে, যাদের বিরুদ্ধে লুটপাটের কোনো অভিযোগ নেই। একে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের ‘শেষ সুযোগ’ বলে অভিহিত করেন। ধর্মীয় মূল্যবোধ: গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, সংসদে আল্লাহর আইন ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলেই দেশে প্রকৃত শান্তি ও ন্যায়বিচার ফিরে আসবে।   দলীয় বিভেদ ভুলে তিনি অন্য দলের কর্মীদের প্রতি ভ্রাতৃত্বের হাত বাড়িয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা জাতীয় পার্টির সমর্থকরাও আমাদের ভাই। তবে এবার ব্যক্তিগত আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে ভোট দিতে হবে।”   বিকেলে আঠারো মাইল বাজারে ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসাইন ও মাওলানা আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় পরওয়ার প্রধান অতিথির ভাষণ দেন। অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, খুলনা-৫ আসনে এবারের নির্বাচনে জামায়াত ও সমমনা জোটের এই প্রার্থীর অবস্থান বেশ শক্তিশালী বলে স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Unknown জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, বিএনপির ১৮ নেতা বহিষ্কার

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। দলের মনোনীত প্রার্থী জয়নুল আবেদিন ফারুকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী (কাপ-পিরিচ প্রতীক) কাজী মফিজুর রহমানের পক্ষে কাজ করায় উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের ১৮ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   বহিষ্কৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সেনবাগ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, বিএনপি নেতা ড. নজরুল ইসলাম ফারুক এবং সেনবাগ পৌর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন বাবলু। এছাড়া অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত উল্যাহ লিটন, মমিন উল্যাহ চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও এই তালিকায় রয়েছেন।   জেলা বিএনপি: নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো জানান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহিষ্কৃত নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী: তিনি পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, “আমরা দলের বিপক্ষে নই, প্রার্থীর বিপক্ষে। কাজী মফিজুর রহমান দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন, তাই আমরা তাঁর সাথে আছি।” স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান: তিনি জানান, তিনি কাউকে দল ভাঙতে উৎসাহিত করেননি। এলাকার মানুষ উন্নয়নের প্রত্যাশায় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে।   আগামী নির্বাচনের জন্য এই আসনে লড়াই করছেন ৫ জন প্রার্থী। তবে মূল লড়াই জয়নুল আবেদিন ফারুক (ধানের শীষ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের মধ্যে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোট ভোটার: ৩ লাখ ৬০ হাজার ০৮১ জন। ভোটকেন্দ্র: ১১১টি (এর মধ্যে ২২টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে)। অন্যান্য প্রার্থী: সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার (১০ দলীয় জোট), মো. শাহাদাত হোসেন (জাতীয় পার্টি) এবং খলিলুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন)।

Unknown জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানী
ধানের শীষে ভোট দিলে টুঙ্গিপাড়ার মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে ধানের শীষের পক্ষে এক জোরালো গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের পাকুরতিয়া বাজারে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এক আবেগঘন ও তেজস্বী ভাষণ প্রদান করেন।   নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রতিশ্রুতি: এস এম জিলানী বলেন, "টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার মানুষ আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, এ এলাকার মানুষ ঢাকায় গিয়ে নিজেদের ঠিকানা প্রকাশ করতেও সংকোচ ও ভয় বোধ করে। আপনারা যদি আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আপনাদের সেবক হিসেবে সংসদে পাঠান, তবে আমি কথা দিচ্ছি— টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়ার মানুষ শুধু ঢাকায় নয়, বরং টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বুক ফুলিয়ে মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে পথ চলবে।"   ধর্মীয় অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি: নির্বাচনী লড়াইয়ে ধর্মকে ব্যবহারের অপচেষ্টা নিয়ে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন। জিলানী বলেন, "নির্বাচন এলেই কিছু অশুভ শক্তি ধর্মের লেবাস পরে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে মাঠে নামে। তারা ধর্মকে ঢাল বানিয়ে ভোটারদের ধোঁকা দিতে চায়। আমি ব্যক্তিগত আক্রমণে বিশ্বাস করি না, তবে যারা মিথ্যা দিয়ে সত্যকে আড়াল করতে চায়, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।" তিনি ভোটারদের সচেতন থাকার এবং পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।   তৃণমূলের গণসংযোগ: জনসভার আগে এস এম জিলানী দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে টুঙ্গিপাড়ার শ্রীরামকান্দি ও পাটগাতীসহ বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গণসংযোগ করেন। সাধারণ মানুষের দরজায় পৌঁছে তিনি আগামীর সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ গোপালগঞ্জ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষের সমর্থন চান। নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই তাঁর কর্মসূচিতে সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।   টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কাজী আবুল খায়ের এবং টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষকে বিজয়ী করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই সফল করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
পদত্যাগ করলেন বিএনপির ৪ নেতা
দল থেকে পদত্যাগ করলেন বিএনপির ৪ নেতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্যে। দলীয় শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে একযোগে পদত্যাগ করেছেন মুন্সীগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্যসচিবসহ চারজন প্রভাবশালী নেতা। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এই চূড়ান্ত ঘোষণা দেন।   পদত্যাগকারী নেতারা হলেন: ১. অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম স্বপন — সদস্যসচিব, মুন্সীগঞ্জ পৌর বিএনপি। ২. শাহাদাত হোসেন সরকার — সদস্য, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি। ৩. আতাউর হোসেন বাবুল — সদস্য, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি। ৪. কাজী আবু সুফিয়ান বিপ্লব — সদস্য, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি।   প্রতিবাদের ভাষা ও অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ বিএনপিতে কোনো গণতান্ত্রিক চর্চা নেই। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ইশারায় মাঠপর্যায়ের ত্যাগী নেতাদের কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) ছাড়াই অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হচ্ছে। তাঁরা দাবি করেন, যারা বছরের পর বছর হামলা-মামলার শিকার হয়ে রাজপথে দল আগলে রেখেছেন, তাঁদেরই এখন সুপরিকল্পিতভাবে মাইনাস করা হচ্ছে। এই "অগণতান্ত্রিক ছাঁটাই" প্রক্রিয়ার প্রতিবাদেই তাঁরা পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন। তবে তাঁরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি সরাসরি ডাক দেন, তবে তাঁরা আবারও দলের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত।   নেপথ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ: পদত্যাগকারী এই চার নেতাই মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন আহমেদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। উল্লেখ্য, মহিউদ্দিন আহমেদ নিজেও ইতিপূর্বে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ছিলেন এবং পরবর্তীতে দল থেকে বহিষ্কৃত হন।   জেলা বিএনপির পাল্টা দাবি: এদিকে এই গণপদত্যাগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ জেলা বিএনপির মূল ধারা। জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সুলতান আহমদ দাবি করেছেন, "এই নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবরটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায়, মান বাঁচাতে তাঁরা আগেভাগেই পদত্যাগের নাটক সাজিয়েছেন।"   নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে মুন্সীগঞ্জের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঘিরে তৈরি হওয়া এই জটিলতা ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
যুবদল নেতা নয়ন
জামায়াতের নারী ও পুরুষ কর্মীরা ২০ টি করে জাল ভোট দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন: যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন

যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন তাঁর সাম্প্রতিক এক ফেসবুক পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নির্বাচনি কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জামায়াত জাল ভোট দেওয়ার জন্য সকল ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ভোটের দিন ফজরের নামাজের পরপরই সুপরিকল্পিতভাবে জালিয়াতি শুরু হবে। পুরুষরা প্যান্টের পকেটে এবং নারী কর্মীরা বোরকার ভেতরে আগে থেকেই সিল মারা পাঁচটি করে ব্যালট নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করবেন। নয়নের ভাষায়, "একেকজন ২০টি পর্যন্ত ভোট দিতে পারবে; এভাবে মাত্র ৫ জন ব্যক্তির ভোটেই ১০০টি ব্যালট দিয়ে বাক্স ভরা হবে।"   নয়ন আরও অভিযোগ করেন যে, দুপুরের পর থেকে জামায়াতের ক্যাডাররা সচেতনভাবেই ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা এবং ‘মব’ তৈরি করবে। এর উদ্দেশ্য হলো সাধারণ ভোটারদের মনে ভীতি সঞ্চার করা, যাতে তারা কেন্দ্র ছেড়ে চলে যায় এবং ফাঁকা মাঠে জালিয়াতি করা সহজ হয়।   অভিযোগের তালিকায় উঠে এসেছে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট সরিয়ে ফেলার বিষয়টিও। নয়ন দাবি করেন, জামায়াতের নারী সংগঠনের কর্মীরা বর্তমানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের এনআইডি, ফোন নম্বর এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, যা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষায় দেশপ্রেমিক জনতাকে এখনই সজাগ হওয়ার এবং সকল ধরণের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন এই যুবদল নেতা।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এমন অভিযোগ নির্বাচনী উত্তাপকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন এই ধরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী ধরণের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
জামায়াত নেতা নিহতের  ঘটনায় ডাকসুর বিক্ষোভ
শেরপুরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলায় জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় ডাকসুর বিক্ষোভ

শেরপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।   মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন হল এলাকা প্রদক্ষিণ করে ঐতিহাসিক রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী শত শত শিক্ষার্থী ‘রেজাউল ভাই মরল কেন, খুনি তারেক জবাব দে’, ‘প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান, খুন করার মাস্টার প্ল্যান’, এবং ‘জাস্টিস ফর রেজাউল’ স্লোগানে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন।   সমাবেশে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বলে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, এখন দেখা যাচ্ছে তাঁর নেতাকর্মীরা দেশজুড়ে নারী হেনস্তা ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এই হত্যাকাণ্ড ও বিশৃঙ্খলা তাঁর সেই তথাকথিত প্ল্যানের অংশ হয়ে থাকে, তবে স্বৈরাচারী হাসিনার মতোই তাঁর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি অবিলম্বে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতা জানে কীভাবে অপরাধীদের মোকাবিলা করতে হয়।   ডাকসুর আরেক প্রভাবশালী নেতা মেফতাহুল ইসলাম মারুফ বলেন, শেখ হাসিনা অত্যাচরের দায়ে ভারতে পালিয়েছেন, আর বর্তমানের এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলতে থাকলে আপনাদের লন্ডনে পালাতে বাধ্য করবে এ দেশের মানুষ। তিনি প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, খুনিদের গ্রেফতারে কোনো প্রকার গড়িমসি সহ্য করা হবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে এই অরাজকতার উপযুক্ত জবাব দেবে।   বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার এই বাংলাদেশে খুনের রাজনীতি আর কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। রেজাউল করিমের হত্যাকারীরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত ছাত্রসমাজ শান্ত হবে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল
শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি নিহত

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপিও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার২৮ জানুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মঞ্চে চেয়ার বসানোকে কেন্দ্র করেএ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।।এতে উভয় পক্ষের অন্তত৩০ জন আহত হন। পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল। বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর আগেই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। উপজেলা প্রশাসনের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনেএ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহীও কর্মকর্তা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল মঞ্চে উপস্থিত হয়ে অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে বসেন।এসময় স্থানীয় বিএনপি ওজামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক সমান সারিতে চেয়ার বসাতে না পারাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ,চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। উত্তেজিত জনতা অনুষ্ঠানে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এবিষয়ে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করে বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপিও তাদের সমর্থকরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের দলের কমপক্ষে ১৫জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করেন, “উগ্রবাদী,জঙ্গি জামাতিরা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশকে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইগাতীর ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালিয়েছে।এতে আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল সাংবাদিকদের জানান, “সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আমরা ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু সেখানে বসাকে কেন্দ্র করে একটু ঝামেলা হয়েছে। পরিস্থিতি আমরা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।একইসাথেএ ঘটনাটি আমরা উধ্বর্তনকে জানিয়েছি। এ ঘটনায় পরবর্তী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন পঅর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, “পুলিশও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সব স্বাভাবিক রয়েছে।ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রতিবেদক:  শ্যমল সান্যাল

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
সরকারি বাসা
পদত্যাগের দুই মাস পরও সরকারি বাসায় থাকছেন আসিফ-মাহফুজ

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগের প্রায় দুই মাস পার হলেও সরকারি বাসা ছাড়েননি সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার রাতে হেয়ার রোডে অবস্থিত ‘নিলয়-৬’ নম্বর বাসায় গিয়ে দায়িত্বশীল কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এখনও সরকারি বাসা ব্যবহার করছেন।   বাসায় দায়িত্বরত একজন কর্মচারী বলেন, “স্যার তো আছেন, বাসা ছাড়েননি। তবে বেশির ভাগ সময় পরিবাগের বাসায় থাকেন।” নিলয়-৬ এর আশপাশে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্যও জানান, এখানে আসিফ মাহমুদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং লোকজনকে নিয়ে আসেন।   উল্লেখ্য, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে। এরপর ১১ ডিসেম্বর ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী, পদত্যাগের পর তারা সরকারি বাসায় প্রায় ৫০ দিন অবস্থান করেছেন।   এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বুধবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি সরকারি বাসায় থাকি না, প্রায় এক মাস আগে বাসা ছেড়ে পরিবাগের বাসায় চলে গিয়েছি।” মাহফুজ আলমও দাবি করেছেন, নির্বাচনের আগে তিনি বাসা ছেড়ে দেবেন।   সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি ছাড়ার পর সর্বোচ্চ দুই মাস বাসা থাকতে পারেন। সন্তান শিক্ষার কারণে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের জন্য সময়সীমা নির্ধারিত নয়। তিনি বলেন, “এই বিষয়টি সচিবকে অবহিত করেছি, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”   আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, আর মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পদত্যাগের পরও সরকারি বাসায় থাকার বিষয়টি নীতি-নৈতিকতার দিক থেকে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।   সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, “পদত্যাগের আগে সরকারি বাসা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করা উচিত। আসিফ-মাহফুজের উদাহরণ নীতি-নৈতিকতার দিক থেকে পিছনের দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।”

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ কাজ করতে হবে: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের জনগণ যাতে তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পান, সে লক্ষ্যেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী টাইম সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে টাইম-এর ওয়েবসাইটে।   তারেক রহমান টাইমকে বলেন, “আমি যদি আমার পরিকল্পনার ৩০ ভাগও বাস্তবায়ন করতে পারি, আমি নিশ্চিত যে বাংলাদেশের মানুষ আমাকে সমর্থন করবেন।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, জনগণ যাতে তাদের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো দেশকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে ধাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয় ভারসাম্য তৈরি করছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসনের সময়ে তারেক রহমান প্রয়োজনীয় আত্মোপলব্ধি ও পরিপক্বতা অর্জন করেছেন, যা তাকে দেশের জনগণের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।   তারেক রহমান বলেন, “যাঁরা (জুলাই অভ্যুত্থানে) প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণ যাতে তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পান, সে জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”   বাংলাদেশে ফিরে আসার পর এটি তার প্রথম একান্ত সাক্ষাৎকার। যুক্তরাজ্য থেকে ১৭ বছরের নির্বাসনের পর দেশে ফেরার সময় লাখো সমর্থক তাকে স্বাগত জানান। কিন্তু দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পর, দীর্ঘ অসুস্থতার পর তার মা এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা যান। তিনি টাইমকে বলেন, “আমার হৃদয় দুঃখ ভারাক্রান্ত। তবে খালেদা জিয়া থেকে আমি শিখেছি, দায়িত্ব অর্পিত হলে তা অবশ্যই পালন করতে হয়।”   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা দৃঢ়। ডিসেম্বরের শেষের জনমত জরিপ অনুযায়ী, বিএনপির প্রতি সমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ, আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামের প্রতি সমর্থন ১৯ শতাংশ।   তবে প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে যে, ২০০১–২০০৬ সালের BNP শাসনামলে দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষে ছিল। তারেক রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, “তারা কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি।” এছাড়া, ২০০৭–২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অর্থ আত্মসাৎ ও অন্যান্য অভিযোগে তিনি ১৮ মাস কারাবন্দী ছিলেন। কারাগারে থাকাকালে তার মেরুদণ্ডে সমস্যা তৈরি হয়, যা এখনও তাকে ভোগাচ্ছে। তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার জন্যই তিনি গেছেন, তবে তা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্মারক হিসেবেই দেখেন।   তারেক রহমানের মতে, তিনি সকল পরিস্থিতিতেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে সচেষ্ট থাকবেন, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কেউ এমন পরিস্থিতির শিকার না হন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ভোট কেনার ভিডিও ভাইরাল
ভোট কেনার ভিডিও ভাইরাল: ভূঞাপুরে টাকা বিতরণের ঘটনায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি শামীম জড়িত

টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর–গোপালপুর) আসনে ভোটের আগে নগদ বিতরণের অভিযোগ নিয়ে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায় একজন যুবক ভোটারের হাতে পাঁচশো ও এক হাজার টাকার নোট তুলে দিচ্ছেন। তবে স্থানীয় তদন্তে দেখা গেছে, ভিডিওতে নগদ বিতরণের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা মূলত বিএনপি সমর্থক।   দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিডিওতে হলুদ গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরা যুবকের নাম শামীম, যিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি। তিনি পাঁচশো টাকার নোট গুঁজে দিয়েছেন স্থানীয় ব্যক্তি নুরুল ইসলাম-এর হাতে। অন্য দুই ব্যক্তি—ফুলহাতা সাদা শার্ট পরিহিত বৈ খাঁ এবং হলুদ শার্ট ও কালো জ্যাকেট পরিহিত ইসমাইল—স্থানীয় বিএনপি কর্মী হিসেবে পরিচিত।   ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াত নেতা কাজী নূরুল ইসলাম (ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি) এবং উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। তবে ভিডিওতে তারা সরাসরি টাকা বিতরণে যুক্ত ছিলেন না।   স্থানীয় সূত্র ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, ঘটনার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা নিজস্বভাবে নগদ দেখানোর দৃশ্য রেকর্ড করেছেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাব্বির রহমান বলেন, “জামায়াতের লোকজন সেখানে নির্বাচনী প্রচারণা করতে গেলে বিএনপি সমর্থকরা তাদের হ্যান্ডমাইক ছিঁড়ে ফেলেছে ও একজনের ফোন নিয়েছিল, পরে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সেখানে টাকা বিতরণ হয়নি।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাহবুব হাসান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাজিব হোসেন জানান, ঘটনা শুনে তারা সরেজমিনে গিয়েছেন। জুডিশিয়ারি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, যা অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন পক্ষের বর্ণনা অনুযায়ী, ভিডিওটি মূলত বিএনপি–জামায়াত মধ্যে বিতর্ক ও তর্কের মুহূর্তের প্রতিফলন। নির্বাহী কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, ঘটনার প্রকৃত ঘটনা জানতে তদন্ত করা প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
বিজয়ী হলে ঢাকা-৫ আসনে গ্যাস–সংকট নিরসনসহ জন–আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি কামাল হোসেনের

ঢাকা-৫ আসনে (যাত্রাবাড়ী–ডেমরা) নির্বাচনে বিজয়ী হলে গ্যাস–সংকট নিরসনসহ এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় গ্যাস–সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, পয়োনিষ্কাশন, ভাঙাচোরা সড়কসহ নানাবিধ নাগরিক সমস্যায় মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। নির্বাচনে জয়ী হলে এসব সমস্যার সমাধান করে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে।   বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডেমরা এলাকায় গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি।   বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ডেমরা বাজারে এক পথসভায় বক্তব্য দেন কামাল হোসেন। পরে বিকেল ৫টার দিকে ডেমরা বাজার থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী মিছিল মালা মার্কেট, মীরপাড়া ও বড় পাইটি হয়ে ওয়াসা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।   পথসভায় কামাল হোসেন বলেন, রাজধানীর প্রবেশদ্বার হলেও ঢাকা-৫ আসন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত। অতীতে যাঁরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করেছেন। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, রাজধানীর অন্তর্ভুক্ত হয়েও এই এলাকার অধিকাংশ সড়ক এখনো কাঁচা ও ভাঙাচোরা। শিশুদের জন্য খেলার মাঠ নেই, সরকারি কলেজের অভাব রয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবাও পর্যাপ্ত নয়। অর্থনীতির চাকাকে সচল করার পরিবর্তে এখানে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাওয়ানী জুট মিল ও করিম জুট মিল বন্ধ থাকায় হাজারো মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে।   কামাল হোসেন বলেন, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণেই যাত্রাবাড়ী–ডেমরা অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তির অবসান হয়নি। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে পরিবর্তন প্রয়োজন, আর সেই পরিবর্তন হবে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।   ক্ষমতায় গেলে ডেমরা–যাত্রাবাড়ী এলাকাকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত করার আশ্বাসও দেন তিনি।   ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো. আদনানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পথসভা ও নির্বাচনী মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য মোকাররম হোসেন, ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম, এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক দ্বীন মোহাম্মদ মিন্টুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।   এর আগে বেলা ১১টায় ধোলাইপাড়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রার্থীদের মতবিনিময় সভায় অংশ নেন কামাল হোসেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারকাজে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সমর্থনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা বিএনপির

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সমর্থনকারীদের পাশে থাকবে বিএনপি। তিনি বলেন, “এবার তো নৌকা নেই, নৌকা পালিয়েছে। শেখ হাসিনা ভারতবর্ষে চলে গেছেন। মাঝখানে তাঁর যে সমর্থকরা ছিলেন, তাঁদের বিপদে ফেলে গেছেন। আমরা সেই বিপদে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।”   বুধবার (আজ) বিকেলে ঠাকুরগাঁও–১ আসনের রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী বাজার এলাকায় এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এদিন রায়পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পথসভায় অংশ নেন বিএনপির মহাসচিব।   হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে বলছি—হিন্দু ভাই-বোনেরা কোনো চিন্তা করবেন না। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। যারা অন্যায় করেছে, শুধু তাদের শাস্তি হবে। যারা অন্যায় করেননি, সাধারণ মানুষ—তাদের আমরা বুকের মধ্যে রেখে দেব, আগলে রাখব।”   আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আর মাত্র ১৫ দিন পর জাতীয় নির্বাচন। আপনাদের মনে আছে, এর আগে আমরা এমপি নির্বাচন করেছি প্রায় ১৫ বছর আগে। মাঝখানে আমরা কোনো ভোট দিতে পারিনি। সব ভোট নিয়ে গেছে ফ্যাসিস্ট হাসিনার লোকেরা, পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায়। এবার একটি সঠিক ভোট হবে বলে আমরা আশা করছি—যেখানে যার ভোট, সে নিজেই দিতে পারবে।”   বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “এখন আমরা কিছুটা স্বস্তিতে আছি। যদিও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন এমন একটা সময় এসেছে, যখন আমরা রাতে কিছুটা শান্তিতে ঘুমাতে পারছি। যদি নির্বাচনটা সুষ্ঠু হয় এবং আমরা ভোট দিতে পারি, তাহলে একটি নির্বাচিত সরকার গঠন হবে এবং দেশ ভালো থাকবে—এমনটাই আশা করি।”   একই ইউনিয়নের ছেপড়িকুড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত আরেক পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আজ পত্রিকায় দেখি আমাদের আরেকটি দল, যারা আগে আমাদের সঙ্গেই ছিল। ২০০১ সালে আমাদের সরকারের অংশ ছিল, তাদের দুজন মন্ত্রীও ছিলেন। এখন তারা বলছে, আমরা নাকি তখন দুর্নীতি করেছি। তাহলে তারা কি সেই দায় এড়াতে পারে? ওই সরকারে তো তারাও ছিল। দুর্নীতির দায় তাদের ঘাড়েও পড়ে। আমরা কোনো দুর্নীতি করিনি; বরং সেই সময় দেশকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ভোট কেনার ভিডিও ভাইরাল
ভোট কেনার ভিডিও ভাইরাল: টাঙ্গাইল–২ আসনে জামায়াত–বিএনপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

কানে মোবাইল চেপে হাঁটছেন এক ব্যক্তি, তার পেছনে দলবেঁধে ছুটছেন কয়েকজন মানুষ। কারও হাতে এক হাজার, কারও হাতে পাঁচশ টাকার নোট। ভিড়ের মধ্য থেকেই ভেসে আসে কণ্ঠ— “আমাগোরে টেহা দিসে”। এমন একটি ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।   ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওকে ঘিরে টাঙ্গাইল–২ (ভূঞাপুর–গোপালপুর) আসনে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবিরের অনুসারীরা টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া দেন। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করে একে পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করা হয়েছে।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে যান জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা ও ভূঞাপুর ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক কাজী নূরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন। একপর্যায়ে এলাকায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয় এবং ওই ঘটনার একটি অংশ ভিডিও আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   ঘটনার পর জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড মসজিদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবির অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা নিজেরাই টাকা বের করে নাটক সাজিয়েছেন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান।   অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী হামলার শিকার হন। এ সময় মুঠোফোন ছিনতাই ও মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।   ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির রহমান জানান, এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।   এদিকে ভাইরাল ভিডিও ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল–২ আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
বগুড়া-২ আসনে সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ মান্নার

বগুড়া-২ আসনের নির্বাচনী ময়দানে মাহমুদুর রহমান মান্না বনাম ‘অদৃশ্য শক্তি’র লড়াই জমে উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মান্না অভিযোগ করেছেন যে, ঋণখেলাপির মিথ্যা তকমা দিয়ে তাকে মাঠ থেকে সরানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন তাঁর নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।   মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তাঁর মালিকানাধীন একটি টেক্সটাইল মিলের ঋণকে কেন্দ্র করে তাঁকে ঋণখেলাপি হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল। তিনি বলেন: মিথ্যা নোটিশ: “আমাকে খেলাপি দেখাতে ব্যাংকের একজন ম্যানেজারকে দিয়ে মিথ্যা নোটিশ করানো হয়েছিল।” আইনি জয়: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভার আগেই স্থানীয় চাপের মুখে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের চেষ্টা করা হয়েছিল, যা তিনি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মোকাবিলা করে বর্তমানে বৈধ প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন।   ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এলাকায় এক শ্রেণির মানুষ ‘মামলা বাণিজ্য’ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেন মান্না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন: ১. নির্দোষদের হয়রানি: নিরীহ মানুষের নামে মামলা দিয়ে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ২. নারীকর্মীদের ওপর বাধা: হ্যান্ডমাইক নিয়ে প্রচারণায় গেলে নারীকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং নির্বাচনের পর ‘দেখে নেওয়ার’ ভয় দেখানো হচ্ছে। ৩. প্রশাসনের ভূমিকা: প্রভাবশালী মহলের চাপে থানা ও স্থানীয় প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারছে না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “আপনারা কোনো দল বা ব্যক্তির অনুগত নন, আপনারা রাষ্ট্রের কর্মচারী। সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব।” সংবাদ সম্মেলনে মান্নার সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই মুশফিকুর রহমান আন্না এবং জেলা নাগরিক ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভোট সুষ্ঠু হলে ভোটাররা ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে ‘সত্যের জয়’ নিশ্চিত করবেন।

Unknown জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা : আ.লীগের ২৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

২০১৭ সালে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে তৎকালীন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের ২৬ জন নেতাকর্মীর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   তদন্তে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন: শামসুজ্জোহা সিকদার: সভাপতি, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগ। মো. ইউনুস: সাধারণ সম্পাদক, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগ। শিমুল গুপ্ত: সাধারণ সম্পাদক, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ। আবু তৈয়ব: সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ। জাহাঙ্গীর আলম: সাংগঠনিক সম্পাদক, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ। এছাড়া প্রতিবেদনে আরও ২১ জন নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যারা বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের কর্মী।   ২০১৭ সালের ১৮ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১১৫ জনের মৃত্যু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পথে রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী এলাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে দেশীয় অস্ত্র ও রড নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান আহত হয়েছিলেন।   মামলার বাদী অ্যাডভোকেট এনামুল হক জানান, এর আগে প্রথম দফার তদন্তে পুলিশ রহস্যজনকভাবে কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে ‘নারাজি’ ও রিভিশন আবেদন করা হলে আদালত পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। গত ১১ জানুয়ারি আদালত দ্রুত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়ার পর পুলিশ এই নতুন চার্জশিট জমা দিল।

Unknown জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
বাগেরহাটে বিএনপির কঠোর পদক্ষেপ, ৬ নেতা বহিষ্কৃত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাগেরহাটে বিএনপির ৬ জন প্রভাবশালী নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বিএনপির এক আদেশে তাঁদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ১. অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ – সদস্য, জেলা বিএনপি। ২. মেহেবুবুল হক কিশোর – সদস্য, জেলা বিএনপি। ৩. মাহবুবুর রহমান টুটুল – সদস্য, ২নং ওয়ার্ড বিএনপি, বাগেরহাট পৌরসভা। ৪. শেখ রফিকুল ইসলাম – সদস্য, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি, বাগেরহাট পৌরসভা। ৫. রনি মিনা – সদস্য, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি, বাগেরহাট পৌরসভা। ৬. শেখ সোহেল হোসেন – সদস্য, যাত্রাপুর ইউনিয়ন বিএনপি।   বিএনপির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই নেতারা দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কাজে লিপ্ত ছিলেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করা অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, শুধু এই ছয়জনই নন, একই দিনে নড়াইল, ময়মনসিংহ এবং বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসকেও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

Unknown জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরে বড় পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি, শ্রমিক ও জনসাধারণের কল্যাণে দৃঢ় পদক্ষেপের ঘোষণা: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে গাজীপুরের মানুষের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, “লাখ লাখ মানুষ রাজপথে অধিকার আদায়ের লড়াই করেছে। গণতন্ত্রের এই লড়াই রক্ষা করতে আগামী ১২ তারিখ সকলে ভোরবেলায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।”   মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে মহানগর বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গাজীপুরকে বাংলাদেশের গার্মেন্টসের রাজধানী বলা হয়। এই শিল্প দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোন ও ভাইদের কর্মসংস্থান দিয়েছে। এ শিল্পের প্রসার ঘটিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তবে বিএনপি সরকার শ্রমিকদের অধিকার ও বিদেশে শ্রমিক প্রেরণাসহ কল্যাণমূলক কাজ করেছে।   তারেক রহমান আরও বলেন, গাজীপুরের তুরাগ, লবনদহ ও চিলাই খাল খননের কাজ শুরু হবে। দূষিত পানি নির্মূল, জয়দেবপুর রেল গেইট এলাকায় যানজট দূরীকরণ, শ্রমিকদের নিরাপদ আবাসন এবং মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষিকার্ড বিতরণ কার্যক্রমও বাস্তবায়ন করা হবে।   বক্তব্যের মাঝে তিনি গাজীপুরের ৫টি আসনে মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং জানান, “গাজীপুর নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এই প্রার্থীদের পাশে থাকবেন, তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।”   এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর সড়ক ধরে নেতাকর্মীদের ভিড় পার হয়ে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সভামঞ্চে পৌঁছান।

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0