আমেরিকা বাংলা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যখন উৎসব আর উৎকণ্ঠা—ঠিক তখনই রাজনীতির মাঠের ‘অশনিসংকেত’ নিয়ে মুখ খুললেন ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন, ১০ টাকা কেজি চালের মতো এখন আবার বিভিন্ন কার্ড আর ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এগুলোতে কি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয় না?” ভোট কেনা-বেচার বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান: জামায়াত আমির অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “আমরা চোরাপথে জনগণের ভোটের অধিকার এবং শক্তিকে প্রভাবিত করাকে ঘৃণা করি। আমরা মানুষকে কেনার চিন্তা করি না, বরং মানুষের জীবনের প্রতি সম্মান দেখাই। যারা নিজেরা সাধারণ মানুষকে কেনার চেষ্টা করছেন, তারা এখন উল্টো অন্যদের ওপর দোষ চাপাতে চাইছেন।” এ সময় তিনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI) ব্যবহার করে জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখারও আহ্বান জানান। ৫৪ বছরের পুঞ্জীভূত সংকট ও আগামীর পথ: গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশ লাভের চেয়ে ক্ষতির শিকার হয়েছে বেশি—মন্তব্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশ আজ ঋণের পাহাড় আর বেকারত্বের চোরাবালিতে হারিয়ে গেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ বাঁচাতে হলে দল-মত নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, এবারের নির্বাচন যেন একটি গৌরবজনক অধ্যায় হয়, সে দায়িত্ব নিতে হবে দেশের যুব সমাজকে। প্রবাসীদের ভোট ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান: প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলনের পর পোস্টাল ব্যালট চালু হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান জামায়াত আমির। তবে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সময় ঘনিয়ে এলেও অনেক জায়গায় এখনো ব্যালট পৌঁছায়নি। নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করছি যাতে প্রবাসীরা সঠিক সময়ে ভোট দিয়ে সেই ব্যালট ফেরত পাঠাতে পারেন। একটি ভোটের কারণে যেন প্রিয় প্রার্থী হেরে না যায়।” সফরের সূচি ও ঐক্যের ডাক: ঢাকার বাইরে আজ থেকেই জামায়াতের নির্বাচনী সফর শুরু হলো। ডা. শফিকুর রহমান আজ পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং রংপুরের বিশাল জনসভাগুলোতে বক্তব্য দেবেন। সবশেষে তিনি তাঁর দলের স্লোগান পুনর্ব্যক্ত করেন— “চলে একসাথে গড়ি বাংলাদেশ”। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের জনপদগুলোতে এখন সাজ সাজ রব এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতিহাসের সেরা ফলাফল করতে পারে—এমন সম্ভাবনা সামনে রেখে দলটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কূটনীতিকদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা থেকে পাওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন পত্রিকাটির নয়াদিল্লি ব্যুরো প্রধান প্রাণশু ভার্মা। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র পুনরুত্থিত ইসলামপন্থী শক্তিগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলেও দলটি নিষিদ্ধ ছিল। অতীতে শরিয়া আইন প্রবর্তন এবং নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর মতো অবস্থানের কারণে দলটি সমালোচিত হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তারা নিজেদের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। বর্তমানে জামায়াত দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরছে। ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা অডিও অনুযায়ী, গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় একজন মার্কিন কূটনীতিক স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশ এখন ‘ইসলামী ধারার দিকে মোড় নিচ্ছে’। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ‘আগে কখনো যা করতে পারেনি, তেমন ফলাফল করতে পারে’। ওই বৈঠকে কূটনীতিক সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা তাদের বন্ধু হিসেবে পেতে চাই।” এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জিজ্ঞেস করেন, জামায়াতের প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠনের নেতাদের টকশো বা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব কি না। নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই কূটনীতিকের পরিচয় প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন পোস্ট। তবে তিনি জামায়াতের মাধ্যমে বাংলাদেশে জোরপূর্বক শরিয়া আইন আরোপের আশঙ্কা নাকচ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এমন ‘লিভারেজ’ রয়েছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। তার ভাষায়, “আমি মোটেও বিশ্বাস করি না যে জামায়াত শরিয়া চাপিয়ে দিতে পারবে।” তিনি আরও বলেন, জামায়াত যদি ক্ষমতায় গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অগ্রহণযোগ্য কোনো নীতি গ্রহণ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপসহ কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে পারে। এ বিষয়ে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই ওয়াশিংটন পোস্টকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, ডিসেম্বরের ওই আলোচনা ছিল দূতাবাস কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের মধ্যে একটি নিয়মিত, অফ-দ্য-রেকর্ড মতবিনিময়। তিনি জানান, সেখানে একাধিক রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষ নেয় না। “বাংলাদেশি জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে, যুক্তরাষ্ট্র তার সঙ্গেই কাজ করবে,” বলেন তিনি। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর মার্কিন মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, “একটি ব্যক্তিগত কূটনৈতিক আলোচনায় কী বলা হয়েছে, সে বিষয়ে মন্তব্য না করাই শ্রেয় মনে করছি।” প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার পতনের পর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে এবং দেশটি কয়েক দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, জামায়াতের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়াতে পারে। তার মতে, “ভারতের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তাগত উদ্বেগগুলোর একটি হলো জামায়াতে ইসলামী।” তবে মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকার পর জামায়াতে ইসলামী এবার মূলধারার রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিশেষজ্ঞ মুবাশ্বার হাসান বলেন, “জামায়াত এখন মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেছে।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকে জামায়াতে ইসলামী ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে এবং ঢাকায়ও নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়, এই অডিও ফাঁস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন কূটনীতিকদের দৃষ্টিভঙ্গির একটি বিরল ও স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির আনুষ্ঠানিক সমর্থন পেয়ে নির্বাচনী মাঠে ব্যাপক চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গলাচিপা উপজেলার কালিকাপুর মাদরাসা মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে ‘ট্রাক’ প্রতীকই মূলত নৌকা ও ধানের শীষের যৌথ প্রতিনিধিত্ব করছে। বক্তব্যের শুরুতেই নুর তার প্রার্থিতার রাজনৈতিক বৈধতা তুলে ধরে বলেন, “বিএনপি অফিশিয়ালি এই আসনে গণঅধিকার পরিষদকে সমর্থন দিয়েছে। আগে এখানে নৌকা ও ধানের শীষের লড়াই হতো। কিন্তু এবার ব্যালটে নৌকাও নেই, ধানের শীষও নেই। এখন আপনাদের এই ‘ট্রাক’ মার্কার মাঝেই নৌকা ও ধানের শীষের প্রতিচ্ছবি খুঁজে নিতে হবে।” এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “সারা বাংলাদেশে আমার নির্বাচন করার সুযোগ ছিল, কিন্তু আমি নাড়ির টানে আপনাদের কাছে ফিরে এসেছি। এলাকার সন্তান হিসেবে আপনাদের পাশে চাই।” নির্বাচনী ময়দানে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানাতে গিয়ে নুর ডাকসু নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, “২৮ বছর পর হওয়া ডাকসু নির্বাচনে আমাদের পেছনে মিছিল করার জন্য শুরুতে ৫০ জন ছেলেও ছিল না। কিন্তু মানুষ আমাদের ১১ হাজার ভোট দিয়েছিল। ইনশাআল্লাহ, গলাচিপা-দশমিনাতেও সেই ডাকসুর মতোই ট্রাক মার্কার একটি ঐতিহাসিক বিজয় হবে।” উল্লেখ্য, এই আসনে নুরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মো. হাসান মামুন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নুরের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি ইতিমধ্যে হাসান মামুনকে বহিষ্কার করেছে। শুধু তাই নয়, নুরের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির তিনটি কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মাঠে উপস্থিত থাকা বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, নুরের এই তরুণ নেতৃত্ব ও বিএনপির একনিষ্ঠ সমর্থনের ফলে পটুয়াখালী-৩ আসনে এবার একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি তার এই কার্যক্রম শুরু করেন। অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব বঙ্গবন্ধুর মূল সমাধি সৌধে প্রবেশের জন্য প্রশাসনের অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে অনুমতি না পাওয়ায় তিনি তিন নম্বর ফটকের সামনে দাঁড়িয়েই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে জিয়ারত সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি প্রখ্যাত আলেম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর (রহ.) কবরও জিয়ারত করেন। জিয়ারত শেষে হাবিব সাংবাদিকদের বলেন: “এই আসনের মাটিতেই শায়িত আছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আলেম সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী। এই দুই মহামানবের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি আমার ফুটবল প্রতীকের প্রচারণা শুরু করেছি।” নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে সাবেক এই ছাত্রদল নেতা বলেন, তিনি টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। তবে অনেক আগেই ডাকযোগে মহাসচিব বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তিনি দল ছেড়েছেন। বিএনপি কর্তৃক তাকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি দলে নেই, তাই আমাকে এখন বহিষ্কার করাটা হাস্যকর।" ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার মানুষ বর্তমানে মামলা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক রাজনীতিবিদ সাধারণ মানুষের কথা না ভেবে কেবল নিজেদের স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, "আমি এলাকার মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চাই। সব অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার মূল লক্ষ্য।" জিয়ারত শেষে তিনি টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ এবং পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গণসংযোগ করেন এবং ভোটারদের কাছে ফুটবল প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াতের সাথে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া এই দলটির হয়ে লড়ছেন জুলাই আন্দোলনের একঝাঁক শীর্ষ নেতা। তবে নির্বাচনী বিশ্লেষকরা বলছেন, জনপ্রিয়তায় তুঙ্গে থাকলেও সংসদ সদস্য হওয়ার পথে তাদের লড়তে হবে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। ১. ঢাকা-১১: নাহিদ ইসলাম বনাম এম এ কাইয়ুম রাজধানীর রামপুরা-বাড্ডা এলাকায় এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের লড়াই হবে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের সঙ্গে। স্থানীয়দের মতে, আন্দোলনের নায়ক হিসেবে নাহিদের গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি এবং জনসেবার কারণে কাইয়ুম এখানে বেশ শক্তিশালী। লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। ২. রংপুর-৪: আখতার হোসেনের ত্রিমুখী লড়াই কাউনিয়া-পীরগাছা আসনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের জন্য জয় ছিনিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে তার বিরুদ্ধে লড়ছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা এবং জাতীয় পার্টির মাহবুবার রহমান। জামায়াত এখানে প্রার্থী তুলে নিয়ে আখতারকে সমর্থন দিলেও আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ঘাঁটি ও জাতীয় পার্টির ঐতিহ্যের কারণে এখানে লড়াইটি ত্রিমুখী হবে। ৩. ঢাকা-৮: নাসীরুদ্দীন বনাম মির্জা আব্বাস রমনা-মতিঝিল আসনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রতিপক্ষ খোদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়রের বিশাল ভোটব্যাংক ও পারিবারিক প্রভাবের বিপরীতে নাসীরুদ্দীন কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এখানে গণঅধিকার পরিষদের মেঘনা আলমও তরুণ ভোটারদের মাঝে আলোচিত। ৪. নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া): আব্দুল হান্নান মাসউদের ‘বোনাস’ সুবিধা হাতিয়া আসনে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের জয় পাওয়া কিছুটা সহজ হতে পারে। কারণ বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমানের বিরুদ্ধে দুজন হেভিওয়েট ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী (তানভীর উদ্দিন ও ফজলুল আজিম) মাঠে থাকায় বিএনপির ভোট তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই কোন্দলের সুযোগ নিতে পারেন মাসউদ। ৫. কুমিল্লা-৪: হাসনাত আবদুল্লাহর অনন্য সুযোগ দেবিদ্বারে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। ঋণখেলাপি বা অন্য জটিলতায় বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় এখানে বিএনপির কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ফলে মূল লড়াই হবে হাসনাত বনাম গণঅধিকার পরিষদের জসীম উদ্দিনের মধ্যে। ৬. পঞ্চগড়-১: সারজিস আলমের অগ্নিপরীক্ষা উত্তরের এই আসনে সারজিস আলমকে লড়তে হচ্ছে হেভিওয়েট প্রতিপক্ষ ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের বিরুদ্ধে। জমিরের পিতা সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দীন সরকারের ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ এবং নওশাদের দীর্ঘ গণসংযোগের বিপরীতে সারজিস প্রান্তিক মানুষের ‘জুলাই আকাঙ্ক্ষা’কে ভোটব্যাংকে রূপান্তর করতে পারেন কি না, তাই এখন বড় প্রশ্ন।
আমেরিকা বাংলা: ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১ ডিসেম্বর ঢাকাভিত্তিক একজন মার্কিন কূটনীতিক স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এমন এক অভাবনীয় ফলাফল করবে যা আগে কখনো ঘটেনি। ওই কূটনীতিক সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন যাতে তারা জামায়াতের শিক্ষিত ও তরুণ নেতাদের নিজেদের টকশো বা প্রোগ্রামে বেশি বেশি আমন্ত্রণ জানান। যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক আগ্রহ নিয়ে আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার বিদ্যমান দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যেখানে ভারত বহু বছর ধরে জামায়াতকে তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখে আসছে, সেখানে মার্কিন কূটনীতিকদের এই নমনীয় অবস্থান দিল্লির দুশ্চিন্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে জামায়াতে ইসলামী ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে ৪টি এবং ঢাকায় ‘বেশ কয়েকটি’ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে। এমনকি গত শুক্রবারও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন দলটির শীর্ষ নেতারা। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, জামায়াত এখন মূলধারার রাজনীতিতে এক শক্তিশালী পক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শরিয়া আইন চালুর শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ওই মার্কিন কূটনীতিক বৈঠকে জানান, ওয়াশিংটনের হাতে যথেষ্ট ‘লিভারেজ’ বা প্রভাব রয়েছে। যদি দলটি এমন কোনো নীতি গ্রহণ করে যা অগ্রহণযোগ্য, তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, জামায়াতের আধুনিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নেতৃত্ব এমন কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবে না যা দেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলে। এদিকে জামায়াতের মার্কিন মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান এবং ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এই বৈঠকটিকে নিয়মিত কূটনৈতিক কাজের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচন কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে।
কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর কোনো প্রার্থী না থাকায় অনেকের মনে প্রশ্ন—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ কি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে যাচ্ছেন? নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত যাচাই–বাছাই শেষে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এই আসনে বিএনপি নির্বাচনের বাইরে রয়েছে। তবে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ থাকায় আইনগতভাবে এটিকে ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ নির্বাচন বলা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বৈধ প্রার্থীদের তালিকা অনুযায়ী, কুমিল্লা–৪ আসনে যাদের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে তারা হলেন— জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর হাসনাত আবদুল্লাহ, গণঅধিকার পরিষদের মো. জসীম উদ্দিন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ইরফানুল হক সরকার, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ মজিবুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল করিম। এসব প্রার্থীই বর্তমানে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি প্রার্থী না থাকায় হাসনাত আবদুল্লাহ তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও ফলাফল এখনও নিশ্চিত নয়। বিএনপির সমর্থক ভোটাররা কার দিকে ঝুঁকবেন, নাকি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন—তা বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি ছোট ও ইসলামী দলগুলোর সংগঠনিক শক্তি এবং স্থানীয় প্রভাবও ভোটের ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে, কুমিল্লা–৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী না থাকলেও নির্বাচন এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি ও সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে—এই আসনে কে পাচ্ছেন বিজয়ের মুকুট। আমেরিকা বাংলা নির্বাচন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
আমেরিকা বাংলা । ঢাকা: বৈঠকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই), ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) এবং মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা শেয়ারবাজারের বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা, কাঠামোগত সমস্যা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটের বিষয়টি তারেক রহমানের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে বাজারটি আজ পঙ্গুপ্রায়, যা থেকে মুক্তি পেতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও শক্তিশালী সংস্কার অপরিহার্য। তারেক রহমান প্রতিনিধিদের প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত ধৈর্য ও মনোযোগের সাথে শোনেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে একটি সমৃদ্ধ ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গড়ে তোলা হবে। বাজার কারসাজি ও লুটতরাজ বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার আশ্বাস দেন তিনি। বৈঠকে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ও রিচার্ড ডি’ রোজারিও, ডিবিএর সাইফুল ইসলাম এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের সেক্রেটারি সুমিত পোদ্দারসহ পুঁজিবাজারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই ইতিবাচক অবস্থান ও সংস্কারের সদিচ্ছা পুঁজিবাজারে নতুন গতির সঞ্চার করতে পারে।
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: তারেক রহমানের আসন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এস.এম. খালিদুজ্জামান–এর মেডিক্যাল ডিগ্রি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে জানার আগ্রহ বেড়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডা. এস.এম. খালিদুজ্জামান বাংলাদেশের একটি স্বীকৃত সরকারি চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এই এমবিবিএস ডিগ্রি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) কর্তৃক স্বীকৃত, এবং এর ভিত্তিতেই তিনি একজন নিবন্ধিত চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। তাঁর মূল চিকিৎসা পরিচয় ও পেশাগত বৈধতা এই এমবিবিএস ডিগ্রির ওপরই প্রতিষ্ঠিত। এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর উচ্চতর জ্ঞান ও বিশেষায়িত দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি ভারত থেকে “Clinical Embryology & Pre-implantation Genetics” বিষয়ে একটি পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি গ্রহণ করেন। এই ডিগ্রিটি মূলত গবেষণা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা জ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আলোচনায় উঠে এসেছে যে, উক্ত ডিগ্রিটি বর্তমানে BMDC-এর স্বীকৃত ডিগ্রির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়, যা নিয়েই সাম্প্রতিক প্রশ্ন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে BMDC ডা. খালিদুজ্জামানকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে। নোটিশের জবাবে তিনি জানান, তিনি একজন বৈধ ও স্বীকৃত এমবিবিএস চিকিৎসক, এবং তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম কখনোই ওই বিদেশি ডিগ্রির ওপর নির্ভরশীল ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত থেকে অর্জিত ডিগ্রিটি ছিল একটি অতিরিক্ত একাডেমিক অর্জন, যা কোনোভাবেই রোগী বা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার উ দ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি। এদিকে জামায়াত-এ-ইসলামী ও ডা. খালিদুজ্জামানের সমর্থকদের দাবি, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এই বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। তাঁদের মতে, একটি প্রশাসনিক ও ব্যাখ্যাযোগ্য বিষয়কে রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ দিয়ে প্রার্থীকে চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা চলছে। ডা. খালিদুজ্জামান নিজেও এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে বলেন, তিনি আইন ও নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। তাঁর আশা, সঠিক তদন্ত ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টির বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে এবং বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে। সব মিলিয়ে বর্তমানে যা জানা যাচ্ছে, তা হলো—ডা. এস.এম. খালিদুজ্জামান একজন এমবিবিএস-ডিগ্রিধারী ও নিবন্ধিত চিকিৎসক, যিনি পরবর্তীতে বিদেশ থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়াধীন থাকলেও তাঁর মূল চিকিৎসা যোগ্যতা ও পেশাগত পরিচয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই বলেই সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
আমেরিকা বাংলা । গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী, সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ ও সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মঈন প্রধান লাবু স্বাক্ষরিত এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন: ১. নুরুজ্জামান সরদার—আহ্বায়ক, কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপি। ২. জিল্লুর রহমান—যুগ্ম আহ্বায়ক, কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপি। ৩. ফিরোজ কবীর রাশেদ—সাংগঠনিক সম্পাদক, কামালেরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংগঠনের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদেরকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল স্তরের পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের প্রতি কড়া নির্দেশনা: দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বহিষ্কৃত এই তিন নেতার সঙ্গে বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী কোনো ধরণের সাংগঠনিক বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ রাখতে পারবেন না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ গণমাধ্যমকে জানান, “বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল দল। সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ত্রুটিমুক্ত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” নির্বাচনের আগে তৃণমূল পর্যায়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে সাঘাটা বিএনপির এই সাহসী পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ঢাকা-০৮ আসনের প্রার্থী মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পৃথকভাবে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ প্রদান করা হয়। ঘটনার প্রেক্ষাপট: ইসির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলাম এবং ঢাকা-০৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিশাল আকৃতির রঙিন ছবি এবং "দেশ সংস্কারের গণভোট হ্যাঁ এর পক্ষে থাকুন" অথবা "গণভোটকে হ্যাঁ বলি" স্লোগান সম্বলিত বড় বড় বিলবোর্ড রিটার্নিং কর্মকর্তার নজরে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটের নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ পূর্বের আগে কোনো ধরণের নির্বাচনি প্রচার বা বিলবোর্ড প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইনি বাধ্যবাধকতা: শোকজ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংসদ নির্বাচন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী ভোটের তিন সপ্তাহ আগে কোনো ধরণের প্রচার চালাতে পারবেন না। এই নিয়ম স্পষ্টত লঙ্ঘিত হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ ও সময়সীমা: নির্বাচন কমিশন আগামী ১৯ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে বিতর্কিত সকল বিলবোর্ড দ্রুত অপসারণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে, আগামীকাল ১৯ জানুয়ারি সকাল ১১টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে শোকজের লিখিত জবাব রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে ইসি শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এনসিপির এই দুই শীর্ষ নেতা তাঁদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে কী ব্যাখ্যা প্রদান করেন।