যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর একটি গ্রেপ্তার অভিযানকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার রাত আনুমানিক ১০টা ২৫ মিনিটে ব্রুকলিনের বুশউইক এলাকায় অবস্থিত ওয়াইকফ হাইটস মেডিকেল সেন্টারের বাইরে প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তারা স্ট্যানহোপ ও স্টকহোম স্ট্রিট এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং হাসপাতালের জরুরি প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ করে দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিকবার সতর্ক করার পরও বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া, সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এবং সরকারি সম্পত্তিতে ক্ষতিসাধন। একজনকে সমন দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় নাইজেরিয়ার নাগরিক চিদোজি উইলসন ওকেকেকে আইসের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের পর। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, ওই ব্যক্তি আগে হামলা ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি গাড়ি দিয়ে আইস কর্মকর্তাদের আঘাতের চেষ্টা করেন এবং পরে শারীরিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
বিভাগটির দাবি, চিকিৎসার জন্য তাকে ওয়াইকফ হাইটস মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে তিনি সেখানে অসংযত আচরণ করেন। এর পরপরই হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হয়।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আরও জানায়, বিক্ষোভকারীরা আইসের একাধিক গাড়িতে ক্ষতিসাধন করেছে এবং কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, এতে কয়েকজন সামান্য আহত হন।
নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, এই আইস অভিযানের বিষয়ে তাদের আগে থেকে কোনো সমন্বয় বা পূর্ব তথ্য ছিল না। ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কে নতুন ১৭টি পাবলিক টয়লেট চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ৪ মিলিয়ন ডলারের এক বছর মেয়াদি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি বরোতে এসব টয়লেট স্থাপন করা হচ্ছে। তবে এসব টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ নিয়ম—ভেতরে ঢোকার পর সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময় পাওয়া যাবে। সময় শেষ হলে সতর্কবার্তার পর দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। নতুন টয়লেটগুলো বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এগুলোতে থাকবে চলমান পানির ব্যবস্থা, ফ্লাশ টয়লেট, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তনের সুবিধা। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব টয়লেট খোলা থাকবে। ব্যবহারকারীরা মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে, কিউআর কোড স্ক্যান করে, থ্রোন বাথরুম নেটওয়ার্ক অ্যাপের মাধ্যমে অথবা স্থানীয় কমিউনিটি অংশীদারদের দেওয়া ট্যাপ কার্ড ব্যবহার করে টয়লেটে প্রবেশ করতে পারবেন। অ্যাপের মাধ্যমে কাছাকাছি টয়লেটের অবস্থান, সেটি খালি আছে কি না এবং পরিচ্ছন্নতার তাৎক্ষণিক তথ্যও দেখা যাবে। টয়লেটগুলোর সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো ১০ মিনিটের সময়সীমা। ব্যবহারকারীরা পাঁচ মিনিট ও আট মিনিটে সময় শেষ হওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা পাবেন। ১০ মিনিট পূর্ণ হলে টয়লেটের আলো জ্বলবে এবং অডিও বার্তার মাধ্যমে দরজা খোলার বিষয়ে জানানো হবে। এরপর প্রায় ৩০ সেকেন্ডের সতর্কতার পর দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। সতর্কবার্তাগুলো ইংরেজি ও স্প্যানিশ—দুই ভাষায় দেওয়া হবে। টয়লেট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান থ্রোন ল্যাবস জানিয়েছে, এই সময়সীমা নির্ধারণের আগে বিভিন্ন এলাকায় ব্যবহারকারীরা সাধারণত কতক্ষণ টয়লেটে থাকেন, তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের নেটওয়ার্কে অধিকাংশ ব্যবহারকারী সাড়ে তিন মিনিটের মধ্যেই টয়লেট থেকে বেরিয়ে যান। প্রায় ৮১ শতাংশ ব্যবহারকারী পাঁচ মিনিটের মধ্যে ব্যবহার শেষ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি কেন্দ্রে ৯৫ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারী ১০ মিনিটের মধ্যেই বেরিয়ে যান। মামদানি প্রশাসনের এই প্রকল্পের আওতায় টয়লেটগুলো ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে স্থাপন করা হচ্ছে। নির্ধারিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যানহাটনের কুপার স্কয়ার ও ম্যালকম এক্স প্লাজা, ব্রুকলিনের কলম্বাস পার্ক ও মিলস্টোন পার্ক, কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া বুলেভার্ড ও নর্দার্ন বুলেভার্ডের বিভিন্ন এলাকা এবং ব্রঙ্কসের ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম এলাকা। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নর্থ শোর এসপ্লানেডেও একটি ইউনিট স্থাপন করা হবে। প্রচলিত স্থায়ী পাবলিক টয়লেটের তুলনায় এসব ইউনিট দ্রুত স্থাপন করা যায়। কারণ এগুলোকে সরাসরি পানি, পয়োনিষ্কাশন বা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিটগুলো অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া বা সরিয়ে ফেলা সম্ভব। থ্রোন ল্যাবসই প্রতিটি ইউনিটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। নিউইয়র্কে পাবলিক টয়লেটের স্বল্পতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের অভাব রয়েছে। নতুন ১৭টি ইউনিটকে সেই ঘাটতি মোকাবিলায় একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পাইলট প্রকল্প এক বছর চলবে এবং এর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে শহরের পাবলিক টয়লেট নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ১০ মিনিটের নিয়মের উদ্দেশ্য হিসেবে দীর্ঘ সময় টয়লেট দখল করে রাখা বা সেখানে অপ্রয়োজনে অবস্থান ঠেকানোর বিষয়টি উল্লেখ করেছে থ্রোন ল্যাবস। আর মামদানি প্রশাসনের লক্ষ্য হলো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে নিউইয়র্কবাসীর জন্য বিনামূল্যে, পরিচ্ছন্ন ও সহজে ব্যবহারযোগ্য পাবলিক টয়লেটের সুযোগ বাড়ানো। সূত্র: ফক্স নিউজ
অপরাধীর সঙ্গে চেহারা, নাম হুবহু মেলায় ১৭ বছর জেল! বেরিয়ে এলো সত্য
মহাসড়কে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যু, উবারকে ৪০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় আবার স্যাট ফেরানোর বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের ‘বেসিক গণিত’ নিয়ে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন ইন-এন-আউট বার্গারের স্টোর ম্যানেজারদের গড় বার্ষিক আয় এখন ২ লাখ ডলারের বেশি। কোম্পানির এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির একজন ম্যানেজারের গড় আয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ডলার, অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে গড় আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইন-এন-আউটের ম্যানেজারদের এই আয় শুধু মূল বেতন নয়, কোম্পানির কর্মীদের জন্য থাকা বিভিন্ন সুবিধা ও লাভভাগের ব্যবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কর্মীদের তুলনামূলক বেশি বেতন দেওয়ার নীতি তাদের প্রতিষ্ঠাতা হ্যারি ও এসথার স্নাইডারের সময় থেকেই চলে আসছে। কোম্পানির ভাষ্য, কর্মীদের পরিবারের সদস্যের মতো দেখার দর্শনের অংশ হিসেবেই এই বেতন কাঠামো গড়ে উঠেছে। ইন-এন-আউটের ম্যানেজারদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘ সময় একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, একজন ম্যানেজার সাধারণত প্রায় ১৫ বছর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে থাকেন। দ্রুত খাবার সরবরাহকারী রেস্তোরাঁ শিল্পে কর্মী ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও ইন-এন-আউট জানিয়েছে, তাদের ম্যানেজমেন্ট ও অন্যান্য কর্মীদের ক্ষেত্রে কর্মী পরিবর্তনের হার তুলনামূলক কম। ম্যানেজার হওয়ার পথটিও সাধারণত প্রতিষ্ঠানটির ভেতর থেকেই শুরু হয়। ইন-এন-আউট জানিয়েছে, অনেক ম্যানেজার ঘণ্টাভিত্তিক কর্মী হিসেবে চাকরি শুরু করে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ধাপে ধাপে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে পৌঁছান। কোম্পানির রেস্টুরেন্ট কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ, পেইড ভ্যাকেশন, নমনীয় কাজের সময়, ফ্রি খাবার এবং অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। কোম্পানির বর্তমান কর্মসংস্থান নীতিতেও তুলনামূলক বেশি প্রারম্ভিক বেতনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ার বেল এলাকায় নতুন একটি ইন-এন-আউট রেস্টুরেন্ট চালুর সময় প্রতিষ্ঠানটি ঘণ্টায় ২২ ডলার থেকে কর্মীদের বেতন শুরু করার কথা জানিয়েছিল। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে নতুন একটি রেস্টুরেন্ট চালু করা হয়। ইন-এন-আউট ১৯৪৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির রেস্টুরেন্ট ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়াও নেভাদা, অ্যারিজোনা, উটাহ, টেক্সাস, ওরেগন, কলোরাডো, আইডাহো, ওয়াশিংটন ও টেনেসিতে রয়েছে। কোম্পানিটি এখনো স্নাইডার পরিবারের মালিকানাধীন ও পরিচালিত এবং এর কোনো রেস্টুরেন্ট ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে পরিচালিত হয় না। ইন-এন-আউটের মতে, কর্মীদের বেতন ও সুবিধার ওপর এই গুরুত্বের লক্ষ্য শুধু কর্মী নিয়োগ নয়, দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখাও। কোম্পানির দাবি, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মীদের ধরে রাখতে পারায় রেস্টুরেন্টগুলোর সেবার মানও ধারাবাহিক রাখা সহজ হয়। ফাস্টফুড খাতে ম্যানেজারদের উচ্চ বেতনের খবর এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি কর্মী ধরে রাখা ও দক্ষ কর্মী আকর্ষণের জন্য বেতন ও সুবিধা বাড়াচ্ছে। ইন-এন-আউটের ক্ষেত্রে ২ লাখ ডলারের বেশি গড় বার্ষিক আয় প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কর্মী ধরে রাখার নীতির সঙ্গে কীভাবে যুক্ত, সেটিই এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়।
ফিলাডেলফিয়ায় কুখ্যাত পর্নোগ্রাফারের বাড়িতে বিপুল ভিডিও, নিখোঁজ ৭ নারীকে ঘিরে তদন্ত
মিনিয়াপলিসে ভেনেজুয়েলীয়কে গুলি করার অভিযোগ, হেনেপিন কাউন্টি জেলে আইসিই এজেন্ট
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের এখন বসবাস টেনেসির এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলারে
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা খাবারের শহরের তালিকায় নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান দখল করেছে লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্স। ইয়েলপ ও লিফটের যৌথভাবে তৈরি ২০২৬ সালের এই তালিকায় নিউ অরলিন্সকে দেশের শীর্ষ খাবারের শহর হিসেবে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক রয়েছে দশম অবস্থানে। নতুন এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের খাবারের জনপ্রিয়তা ও মানুষের আগ্রহ বিবেচনা করা হয়েছে। এ জন্য রেস্তোরাঁ খোঁজার তথ্য, ব্যবহারকারীদের সংরক্ষণ করা তালিকা, রেটিং, ছবি আপলোড এবং খাবারের জন্য যাতায়াতের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। তালিকায় নিউ অরলিন্সের শীর্ষে থাকার পেছনে শহরটির সমৃদ্ধ খাবারের বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক খাবারের জন্য শহরটি ব্যাপকভাবে পরিচিত। স্থানীয় খাবারের মধ্যে পো’বয়, গাম্বো এবং ক্রেওল ঘরানার আধুনিক খাবারও জনপ্রিয়। ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টার ও আশপাশের এলাকাগুলোতে এসব খাবারের নানা আয়োজন রয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লস্টন। তৃতীয় অবস্থানে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো। চতুর্থ স্থানে মেইনের পোর্টল্যান্ড এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে ফ্লোরিডার মায়ামি। এরপর ষষ্ঠ স্থানে ওয়াশিংটন ডিসি, সপ্তমে সান ফ্রান্সিসকো এবং অষ্টমে ন্যাশভিল রয়েছে। নবম অবস্থানে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস। সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো নিউইয়র্কের অবস্থান। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত খাবারের শহর হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক এবার তালিকায় দশম হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরটির খাবারের বৈচিত্র্য এখনো অন্যতম বড় আকর্ষণ। বিশেষ করে কুইন্সসহ বিভিন্ন এলাকায় নানা দেশের খাবার পাওয়া যায়। মেইনের পোর্টল্যান্ড চতুর্থ অবস্থানে থেকে তালিকায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। শহরটির হাঁটার উপযোগী পরিবেশ, উপকূলীয় সৌন্দর্য এবং মানসম্মত লবস্টার রোলের মতো স্থানীয় খাবারকে এর অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চার্লস্টনের খাবারের তালিকায় সৃজনশীল বেকারি পণ্য ও বিভিন্ন ধরনের পাস্তাও প্রশংসা পেয়েছে। ইয়েলপ ও লিফটের এই তালিকায় শুধু বড় ও পরিচিত শহর নয়, তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত কয়েকটি শহরও জায়গা পেয়েছে। ২০টি শহরের পূর্ণ তালিকায় নিউ অরলিন্সের পর চার্লস্টন, সান ডিয়েগো, পোর্টল্যান্ড, মায়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি, সান ফ্রান্সিসকো, ন্যাশভিল, লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্ক রয়েছে। প্রতিবেদনটি আরও দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রেস্তোরাঁকেন্দ্রিক যাতায়াতের ধরনেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। ইয়েলপ ও লিফটের বিশ্লেষণে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত শহরগুলোতে সকালের নাশতা ও মধ্যসকালের খাবার খোঁজার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য। রেস্তোরাঁয় যাওয়ার জন্য লিফটের প্রায় ২০ শতাংশ যাত্রা দুপুরের আগেই হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের এই তালিকায় নিউ অরলিন্স শীর্ষস্থান দখল করেছে, আর নিউইয়র্ক জায়গা পেয়েছে দশম স্থানে। ইয়েলপ ও লিফটের তথ্যভিত্তিক এই তালিকায় নিউ অরলিন্সের সামুদ্রিক খাবার, স্থানীয় ক্রেওল খাবার এবং শহরের বিভিন্ন খাবারের বৈচিত্র্যকে শীর্ষে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সূত্র: ইটিংওয়েল
ফ্লোরিডায় ছুরি হাতে কুকুর ও তার মালিকের ওপর কাঁকড়ার হামলা
যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তায় বছরে ব্যয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি