বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখনো একাত্তরের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাইলেও ভোট চাইছে—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, জামায়াত একাত্তরের ভূমিকার জন্য আজও জাতির কাছে মাফ চায়নি। তারা ভোট চায় কীভাবে? গতকাল বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের গড়েয়া ইউনিয়নের চণ্ডীপুর বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল ওই আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী। পথসভায় বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জামায়াতে ইসলাম শুধু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেনি, ইতিহাস বলছে তারা ১৯৪৭ সালেও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিল। অর্থাৎ তারা পাকিস্তানও চায়নি, বাংলাদেশও চায়নি।” তিনি বলেন, “অনেক মানুষ এসব ইতিহাস জানেন না। বইপত্রে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। যে দল বাংলাদেশ রাষ্ট্রকেই বিশ্বাস করেনি, তারা কি এই দেশকে নিরাপদে রাখতে পারবে? তারা যদি ক্ষমতায় যায়, তাহলে কি এ দেশের মানুষ ভালো থাকবে?”—এমন প্রশ্ন তোলেন মির্জা ফখরুল। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, হাসিনা পালানোর পর থেকেই ঠাকুরগাঁয়ের রাস্তাঘাটের উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এলাকায় উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা নিয়ে এসেছেন। দীর্ঘ ১৬ বছর এলাকায় ফিরতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সে সময়কার সরকার ছিল ‘জুলুমবাজ’। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমার বিরুদ্ধে ১১৭টি মামলা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে আমি নাকি ময়লার গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছি—সবই মিথ্যা মামলা। তবে নতুন বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি চান না জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা হিংসা চাই না, প্রতিশোধ চাই না। আমি কোনো প্রতিশোধ নিতে চাই না। এটাই হচ্ছে বিএনপি, এটাই তারেক রহমান। নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। নারীদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে বলেন, তারেক রহমান প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন, যাতে নারীরা ঘরে বসেই আয় করতে পারেন। আসন্ন নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই ভোটে যদি আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারি, তাহলে আবার ভুল করব। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি রাজনীতি করেছি বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে। ঢাকায় যে গাড়ি ব্যবহার করি, সেটি ২০ বছর আগের। আজ যে গাড়িতে এসেছি, সেটিও আমার নয়—একজন সমর্থকের। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা অনেক বছর ভোট দিতে পারেননি। এবার সুযোগ এসেছে। আমাকে ধানের শীষে ভোট দিলে আমি সংসদে গিয়ে আপনাদের জন্য কাজ করতে পারব।
‘প্রদীপের নিচে অন্ধকার’—এই প্রবাদটি যেন সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের ক্ষেত্রে। একদিকে গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকা ও সুউচ্চ ভবন, অন্যদিকে কড়াইলসহ একাধিক বস্তির বাসিন্দাদের কঠিন জীবনসংগ্রাম। উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্ত—দুই ভিন্ন শ্রেণির ভোটারদের আস্থা অর্জনই এই আসনে প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি বিদেশি দূতাবাসগুলোর অবস্থানের কারণে আসনটির রয়েছে বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব। এবারের নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনটি আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায়। ধানের শীষ প্রতীকে তার প্রার্থীতা অনেকের কাছে নিরঙ্কুশ জয়ের ইঙ্গিত দিলেও মাঠের বাস্তবতায় সমানতালে প্রচারণা চালাচ্ছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, জামায়াতে ইসলামীর ডা. খালিদুজ্জামান। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাংগঠনিক কাজ করায় তাকেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনে রয়েছে গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, বারিধারা, শাহজাদপুর ও ঢাকা সেনানিবাসের একটি অংশ। একই সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তি। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৮ জন। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনী মাঠে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন জামায়াত প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। এলাকায় দীর্ঘদিন কাজ করে তিনি নিজস্ব একটি পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। শুরুতে বিএনপি জোট থেকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ প্রার্থী হবেন—এমন আলোচনা থাকায় খালিদুজ্জামানের সমর্থকদের মধ্যে জয়ের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে। জানা গেছে, সারাদেশে নির্বাচনী কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় তারেক রহমান সরাসরি মাঠে সময় দিতে না পারলেও ঢাকা-১৭ আসনের জন্য বিএনপি একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিই তার প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা দেখা গেছে। ইতোমধ্যে তিনি কড়াইল ও ভাষানটেকে পৃথক দুটি সভায় অংশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। স্থানীয় বিএনপি সমর্থক রাশেদুল ইসলাম বলেন, আগামীর প্রধানমন্ত্রী এই আসন থেকে নির্বাচন করছেন—এটা আমাদের জন্য বড় গর্বের বিষয়। আমরা বিশ্বাস করি, তারেক রহমান নির্বাচিত হলে এই এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে। অন্যদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরাও আশা ছাড়ছেন না। তারা বলছেন, ভোটারদের কাছে শুধু বড় নাম নয়, অতীতে কে জনগণের পাশে ছিল—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী-পুরুষ উভয় ভোটারের কাছে ভোট চাইছেন তারা। তাদের দাবি, সারাদেশে জামায়াতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব ঢাকা-১৭ আসনেও পড়বে। সব মিলিয়ে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচন এবার একপাক্ষিক নয়। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংগঠন ও মাঠপর্যায়ের কাজ—সবকিছু মিলিয়ে এটি পরিণত হয়েছে একটি কঠিন ও নজরকাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তারেক রহমান ফাঁকা মাঠে গোল দেবেন, নাকি ডা. খালিদুজ্জামানের চ্যালেঞ্জে পড়বেন—তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলাফলে।
নির্বাচনী মাঠে নতুনদের স্বাগত জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা ৮ আসনের দলটির প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমি আশা করব তারা নির্বাচনে আইন মেনে কাউকে ব্যক্তি-আঘাত করে যাতে কথা না বলে। তিনি বলেন, মানুষ সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে আল্লাহর নাম নেয়। আমার এখানে এমন একজন প্রার্থী আছেন যিনি প্রথমেই আমার নাম নেন। অতীতে আমি এর চেয়ে অনেক শক্ত ও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে নির্বাচন করেছি। কিন্তু আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করিনি। মির্জা আব্বাস বলেন, এখন সারা দিন শুধু আমার নামে বিষোদগার। আমার সম্পর্কে অকথ্য ভাষায় কথা বলছে, আমাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে। ওরা বুঝেনি আমি জীবনে বহু নির্বাচন ফেস করে এসেছি। আবারও বলছি ওরা বাচ্চা ছেলে। আমার সন্তানের মতো। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর শান্তিনগর ইস্টার্ন প্লাস মার্কেটে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর পুরানা পল্টন বধির স্কুলে মুখ বধির একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তিনি। বিকালে তিনি শান্তিনগর বাজার ও পীর সাহেবের গলিতে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন। রাতে তিনি চামেলীবাগ গ্রীন পিস অ্যাপার্টমেন্ট মালিকদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময়সভায় অংশ নেবেন। সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস বলেন, আমি জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি বিশ্বাস করি জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে উচ্ছ্বাস ও আবেগ সৃষ্টি হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি তার প্রতিফলন ঘটবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো আছে। তবে পরবর্তীতে কী হবে জানি না। কিছু প্রার্থীর কার্যকলাপ ও চালচলনে মনে হচ্ছে তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করবে। বাস্তবতা অনুভব করতে হবে। নির্বাচনের রেজাল্ট পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী কিছু লোককে জয়ী করার জন্য পাগল হয়ে গেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংস্কারের পক্ষে গণভোটে হ্যাঁ-তে রায় দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের অধিকারকে ফিরিয়ে আনা বড় কাজ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ধরে রাখতে হলে নিয়মতান্ত্রিক ধারায় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করতে হবে। জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো আমি ডামির নির্বাচন করতে দেবে না দেশের জনগণ। সময় এসেছে জনগণকে তার নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার। সংস্কার নিয়ে বিএনপি কোনো লুকোচুরির আশ্রয় নেয়নি জানিয়ে তিনি জুলাই সনদকে সম্মান জানিয়ে, হ্যাঁ ভোট দেয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে হবে। লুটপাটের অর্থ বিদেশ থেকে ফেরত এনে জনগণের কাজে ব্যয় করতে হবে। রংপুরের জনসভায় তারেক রহমান আরও বলেন, উত্তরের জনপদের মানুষকে আরো ভালো রাখতে চাই। আবু সাঈদসহ শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে দেয়া যাবে না। উত্তরের জনপদকে ঢেলে সাজাতে হবে। কৃষিপণ্য নিয়ে যারা ব্যবসা করে তাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে, যাতে করে উত্তরবঙ্গের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বিএনপি। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন ধরে একটি দল বিএনপি নিয়ে মিথ্যাচার করছে। খালেদা জিয়ার সরকার ভালো ছিল বলেই বিএনপির সরকারে একটি দলের দুজন মন্ত্রী ছিলেন। একটি দলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে বলে আবোল তাবোল কথা বলছে।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নলচিরা-বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট নৌরুটে প্রথমবারের মতো ফেরি সার্ভিস চালুর দিন বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে ফেরি ‘মহানন্দা’ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষটি রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ তার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় তিনি নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দেবেন। আজ বিকেলে নোয়াখালীর একটি কনভেনশন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, দুপুরে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে ফেরি উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলাকালে তার ১০ জন সমর্থককে পিটিয়ে আহত করে নদীতে ফেলে দেয় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। তিনি বলেন, ‘চিহ্নিত এই সন্ত্রাসীদের ২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘হাতিয়ায় সরকারি তালিকাভুক্ত অস্ত্রধারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তা না-হলে আমরা নির্বাচনে থাকব কি-না, তা পুনরায় ভেবে দেখতে হবে। আমরা প্রশাসনকে বারবার বিষয়টি জানালেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছি না।’ হাতিয়া থানার এসআই প্রতীক পাল জানান, দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, ‘আমি বর্তমানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের একটি অনুষ্ঠানে আছি। বিষয়টি নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’
জুলাই আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পীরগঞ্জের জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামে পৌঁছান তিনি। কবর জিয়ারতের পর আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ রংপুর জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন এবং তার বিদেহী আত্মর মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেছেন। কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান আবু সাঈদের বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং আবু সাঈদের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবু সাঈদের বাবা ও বড় ভাই রমজান আলী তারেক রহমানের কাছে সাঈদ হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি জানান। বিএনপি নেতা তাঁদের সান্ত্বনা দেন এবং আগামীতে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবার দোয়া কামনা করেন। এরপর তারেক রহমান রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। দীর্ঘ দুই দশক পর প্রিয় নেতাকে সরাসরি দেখতে সকাল থেকেই বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে সমবেত হয়েছেন। জনসভায় রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান। প্রার্থীরাও তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ শেষে তারেক রহমান সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা করবেন। উল্লেখ্য ২০২৪ সালর ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আবু সাঈদ। পরদিন তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ছিলেন জুলাই আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক।
প্রায় ৩০০ নেতাকর্মী কর্মীসহ বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বরিশাল জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. গোলাম মাহমুদ মাহাবুব মাস্টার। আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে সাড়ে ৪টায় প্রায় ৩০০ নেতাকর্মী নিয়ে বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নানের এক উঠান বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন তিনি। এ সময় বানারীপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান শাহাদত, পৌর আমির মো. কাওছার হোসাইনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দলের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র এবং অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে বরিশাল জেলা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন মাহবুব মাস্টার। পদত্যাগপত্রে মাহবুব মাস্টার জানান, গত ৪০ বছর ধরে তিনি হামলা, মামলা, জেল ও জুলুম সহ্য করে দলের জন্য কাজ করেছেন। নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে তিনি দল থেকে বঞ্চিত, লাঞ্ছিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিধায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার পদত্যাগের পর থেকেই বরিশাল ও বানারীপাড়া বিএনপির তৃণমূল রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, পদত্যাগের আগে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) মাহবুব মাস্টার নিজ ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে দলটির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘দেয়ার ছিল অনেক, দিয়েছিও অনেক, চাওয়া ছিল শুধু একটু মূল্যায়ন আর যোগ্য আসন। ব্যর্থতা কার? আমার?।’ আবেগঘন আরেক পোস্টে তিনি জানান, দলের দুঃসময়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার তিনি রেখেছেন। এখন সুবাতাস বইছে বলেই হয়তো তার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। পদত্যাগপত্র ফেসবুকে শেয়ার মাহবুব মাস্টার লেখেন, ‘একজন নেতার ভয়ঙ্কর ইগো, আর কতিপয় দালালের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শহীদ জিয়ার গড়া দল থেকে অব্যাহতি নিলাম। ‘দীর্ঘ ৪৫ বছরের আন্দোলন সংগ্রামে ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করা ত্যাগী নেতাকর্মীদের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
নিরাপত্তা হুমকির মুখে প্রচারণায় সাময়িক বিরতি নিলেন ঢাকা–৮ এর নারী প্রার্থী মেঘনা আলম ঢাকা–৮ আসনের একমাত্র নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মেঘনা আলম ক্রমাগত নিরাপত্তাহীনতা, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় সাময়িক বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার গানম্যান দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও এখন পর্যন্ত তিনি কোনো ধরনের সরকারি নিরাপত্তা পাননি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে দাবি তাঁর। মেঘনা আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর প্রচারণা কার্যক্রমে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে লেজার লাইট ফেলে ভয়ভীতি ও অপমানের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে দায় চাপানো হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কিছু কর্মী ও নেতার বিরুদ্ধে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে একটি ভেরিফায়েড রাজনৈতিক অ্যাকাউন্ট থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে অশ্লীল ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানোর বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মেঘনা আলম। তাঁর মতে, এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন এবং নারীবিদ্বেষী সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি “রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও নারীবিরোধী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও রাষ্ট্র ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নারীর অনলাইন ও অফলাইন নিরাপত্তা জোরদার করতে তিনি সাইবার নিরাপত্তা সেল ও আইনি সহায়তা সেল গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান। নির্বাচিত হলে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে সংসদে কথা বলবেন এবং বিভিন্ন আলোচিত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার ইস্যুতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। মেঘনা আলমের অভিযোগ, তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা না দিয়ে কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা চালাতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা শুধু একজন প্রার্থীর নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়—নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদকঃ বায়েজিদ হাসান
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, নির্বাচিত হলে পাঁচ বছর বিনা পয়সায় আপনাদের সেবা করব। আমি আপনাদের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আল্লাহ যদি বাঁচিয়ে রাখে ওয়াদা খেলাফ করব না। নিজে দুর্নীতি করব না। আমার আওতাধীন কাউকে দুর্নীতি করার সুযোগ দেব না। সরকারি সকল বরাদ্দ যথাযথভাবে সুষম বণ্টন করব। আমি কোনো চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ জায়গা দেব না। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার শিকদার বাড়িতে একটি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ভোটারদের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, আপনারা আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভোট দেন। আমিও নিঃস্বার্থভাবে আপনাদের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেব। অতীতে আপনারা যাদেরকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন তারা নিজেদের পেট ভরেছে, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অনিয়ম-দুর্নীতি করেছে। ব্যাংকের টাকা লুট করে ঋণখেলাপি হয়েছে। দেশের টাকা পাচার করে বিভিন্ন দেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েছে। তিনি বলেন, শাপলা কলিকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করাতে আপনারা প্রত্যেকটা বাড়িতে বাড়িতে যাবেন। প্রার্থী আসলো কি না, সেটা দেখার দরকার নাই। অতীতে দেশে অনেক প্রার্থী জেলখানায় থেকেও নির্বাচনে জিতেছে। চট্টগ্রামে জামায়াতের শাজাহান চৌধুরী জেলখানায় বসে নির্বাচনে জিতেছেন। জিতানোর জন্য প্রার্থী আসতে হবে এমন কোনো কথা নাই। হাসনাত বলেন, যাদের ভোট দেওয়ার বয়স হয় নাই আপনারা আঙ্কেল-আন্টিকে বলবেন শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার জন্য। মসজিদে গিয়ে বলবেন শাপলা কলিতে ভোট দিতে। আপনাদের শ্বশুরবাড়ি, বোন জামাইর বাড়ি, মামার বাড়ি, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে বলবেন শাপলা কলিতে ভোট দিতে। নির্বাচনের আগে আপনারা আমার জন্য খাটলে নির্বাচনের পরে আমি আপনাদের জন্য খাটতে পারব। এদিন তিনি উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ এবং পথসভা করেন। এ সময় জামায়াত এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একাত্তরে যারা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল, তারাই নবরূপে ফিরে এসে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন,তাদের হাতে এ দেশের সব নাগরিক আদৌ নিরাপদ কি না,তা ভেবে দেখার বিষয়। শুক্রবার(৩০ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া সদরের বিশ্বাস পাড়ায় হিন্দুওবৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার-১ চকরিয়া-পেকুয়াআসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি ধর্মভিত্তিক দলের হাতেএদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি কিংবা স্বাধীনতা চায়নি,তারাই সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনদের ওপর এমন নির্যাতন চালিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। সালাহউদ্দিন বলেন,বিএনপির শাসনামলেএ দেশের সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ ছিল।বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং এভূখণ্ডে বসবাসরত সবাইকে বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন,বিএনপি কোনো ধরনের জাতিগত,ধর্মীয় কিংবা বর্ণভিত্তিক বিভক্তিতে বিশ্বাস করে না। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশি হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। পেকুয়া উপজেলা বিশ্বাস পাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দময় বিশ্বাস তিলকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরও বক্তব্য দেন পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ,উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদীদ মুকুট, বিশ্বাস পাড়া কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের সভাপতি শিমুল বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক রমেশ বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুমন বিশ্বাস এবং উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অংতোয়াইচিং রাখাইনসহ স্থানীয় ধর্মীয়ও সামাজিক নেতারা। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যদি ৩০০ আসনের পার্লামেন্টে ১১ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপি নির্বাচিত হয় তাহলে সুশাসনের কুরানিক নীতির ভিত্তিতে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গরবো, যেখানে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান মুসলিম সহ সকলের সমান ইনসাফ পূর্ণ অধিকারের ভিত্তিতে সকলের সুখের সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করতে পারবে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জগন্নাথপুর বাজার মাঠে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, সারাদেশে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে পরিবর্তনের জোয়ার দেখে আমাদের বন্ধু সংগঠন যারা আমাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের মাথাটা একটু খারাপ হয়ে গেছে। নানান জায়গায় তারা সহিংসতা তৈরি করছেন। আমাদের মা-বোনেরা যখন দাঁড়িপাল্লার কাজ করতে যাচ্ছেন, তাদের মিটিং এ গণসংযোগে হামলা করা হচ্ছে। শেরপুরে আমাদের উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি তাকে নির্যাতন করে নিষ্ঠুর ভাবে শহীদ করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনী প্রচারণায় এই প্রথম বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর এক নেতাকে শহীদ করা হয়েছে। গোলাম পরওয়ার বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, তারা হুমকি দিচ্ছেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে ভোট কেন্দ্রে যেতে দেবেন না। হিন্দুরা যেন দাঁড়িপাল্লায় ভোট না দেয়। তারা ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন দোকানপাটে হাটে-বাজারে, টেম্পু স্ট্যান্ডে, বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করেছে। এ বিষয়ে আপনার সাক্ষী আছেন, কারণ ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না। তাহলে ৫ আগস্টের পর কারা দোকানপাটে হামলা করল, কারা চাঁদাবাজি করলো। কারা হিন্দুদেরকে হুমকি দিল। এখন কারা আমাদের মা বোনদের উপর হামলা করছে, আমাদের মিটিংগুলো ভেঙে দিচ্ছে। তারা আবার বলছে, তারা ক্ষমতায় গেলে শান্তি-ইনসাফ কল্যাণ রাষ্ট্র করবে। তিনি বলেন, মিডিয়ায় আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিএনপির কোনো কোনো নেতা বক্তব্য দিচ্ছেন, দাঁড়িপাল্লা কাজ করার জন্য কোনো মহিলা যদি কারো বাড়িতে যায়, বিএনপির লোকেরা তাদের কাপড় খুলে নেবেন। ইতিমধ্যে তারা হামলা করছে, গায়ে হাত তুলছে। যারা নির্বাচন আগে মায়েদের গায়ে হাত তুলে তাদের কাপড় খুলে নিতে চায়, ক্ষমতায় গেলে তারা আমাদের সাথে কেমন আচরণ করবে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যদি আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করে তারা ক্ষমতায় গেলে আমাদের হিন্দু-মুসলিম কারো জানমাল নিরাপদে থাকবে না। তাই নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য দাঁড়িপাল্লাকে বিজয় করতে হবে। তিনি বলেন, জামায়েত ক্ষমতায় গেলে যারা একটা টাকার দুর্নীতি করবে না, মিথ্যা কথা বলবে না, হারাম খাবে না, মানুষের হক নষ্ট করবে না ,এমন নেতৃত্ব ছাড়া মানুষের কল্যাণ করা যায় না। সেই নেতৃত্ব আছে জামায়েত ইসলামের কাছে। যারা কোটি টাকার উপরে শুয়ে থাকবে কোটি কোটি টাকার কাজ করবে কিন্তু একটি টাকা তারা হালাল ছাড়া গ্রহণ করবে না। আল্লাহ যদি আমাদেরকে রাষ্ট্রক্ষমতা সুযোগ দেন, আমরা শাসক হবো না, সেবক হব। সরকারি সুযোগ থাকলেও টেক্স ফ্রি গাড়ি স্বল্প মূল্য প্লট এগুলো জামাতের এমপি মন্ত্রীরা গ্রহণ করবে না। শেরপুর ঘটনার সম্পর্কে বলেন, আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। এর বিচার এই সরকারকে করতে হবে। খুনিদেরকে গ্রেফতার করতে হবে। আর যেন জামাত ইসলামীসহ কোনো দলের প্রার্থীদের উপর হামলা করা না হয়। বিচার নিশ্চিত না করলে দেশ যদি সহিংস হয়ে উঠে, নির্বাচন-নিরপেক্ষ হবে না। অবাধ হবে না। ভোট কেন্দ্রে তারা সন্ত্রাস করবে। পরে সমাবেশে তিনি ব্রাহ্মণাবড়িয়া-৬ আসনের দলীয় প্রার্থী মো. মহসিনকে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আমির মো. আবুল বাশারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া -৫ (নবীনগর) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা আমজাদ হোসেন আশরাফী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া -৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াত নেতা মো: মহসিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতের ইসলামীর আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক দেওয়ান মো. নকিব হুদা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জকসুর (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম, জকসুর এজিএস মাসুদ রানা।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলটি ক্ষমতায় এলে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, ঘুষ ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি ব্যবসাবান্ধব রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, ঘুষকে ‘স্পিড মানি’ নামে বৈধ করার সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে এবং উদ্যোক্তাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটির শিরোনাম ছিল— ‘সমৃদ্ধির সংলাপ: বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য কৌশলগত ভাবনা’। শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের কোনো ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই। জনগণ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনলে সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, “লাল ফিতা কারও হাতে থাকতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কাঁচি দিয়ে কেটে টুকরা টুকরা করা হবে। ঘুষ ও চাঁদাবাজি ব্যবসার প্রথম শত্রু।” তিনি আরও বলেন, ঘুষ ও চাঁদাবাজির কারণে উদ্যোক্তারা সময়মতো কারখানা চালু করতে পারেন না, অথচ ব্যাংকঋণের সুদ পরিশোধ করতে হয়। এতে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যায়। দেশি বিনিয়োগকারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে বিদেশি বিনিয়োগও আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এই অর্থ সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। কাউকে অপমান নয়, জাতির কল্যাণই হবে এর উদ্দেশ্য। যারা অর্থ ফেরত দেবেন, রাষ্ট্র তাঁদের সম্মান দেবে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গিয়ে যেন কারও সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে এবং আত্মীয়স্বজন রাতারাতি ধনী না হয়ে যায়—এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিও ভাঙতে হবে। তহবিলের নিরাপত্তাহীনতা, সম্পদের সুরক্ষার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতিকে শিল্পমালিকদের প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। নারীদের কর্মক্ষেত্র নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মাতৃত্বকালীন সময়ে নারীদের জন্য স্বস্তিকর ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কেউ এক বছর বা দুই–আড়াই বছর পর কাজে ফিরতে চাইলে সেটিকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে এবং কোনো প্রতিবন্ধকতা রাখা যাবে না। মতবিনিময় সভায় ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, এ কে আজাদ ও মো. জসিম উদ্দিন, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমির অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরসহ দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভোট চুরির সঙ্গে জড়িত একটি পক্ষ দেশ ছেড়ে পালালেও আরেকটি পক্ষ এখনো নির্বাচন নিয়ে চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। এই দুই পক্ষ গত ১৫ বছর ধরে ভেতরে ভেতরে একসঙ্গে কাজ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নওগাঁয় অনুষ্ঠিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভোট চুরি করা একটি পক্ষ ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু আবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে আরেকটি পক্ষ। গত ১৫ বছর এই দুই পক্ষ তলে তলে একসঙ্গে ছিল। তারা কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল না, এখন আবার সুযোগ খুঁজছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, সেই সময় ভোটকেন্দ্রে লাইন ছিল, কিন্তু লাইন আর নড়েনি। ভেতরে সিল মারা হচ্ছিল। এবার এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। ভোর থেকে ভোটকেন্দ্রে থাকতে হবে, ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে—যাতে কেউ ব্যালট বাক্স ভরাট করতে না পারে। এ সময় নওগাঁর উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয় নওগাঁয়। কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সহজ শর্তে কৃষিঋণ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি আমসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার স্থাপন করা হবে। তিনি আরও বলেন, কৃষিপণ্য দ্রুত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহনের জন্য রেল যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কৃষিপণ্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে। গণতন্ত্রের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, আহত ও পঙ্গু হয়েছেন। তাদের ত্যাগ যেন বৃথা না যায়। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে গণতন্ত্রের পক্ষে ভোট দিতে হবে।
নির্বাচনী জোট গঠনের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এবার সরাসরি রাজপথে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেন চরমোনাই পীর। তিনি জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে একদিকে ইসলামের আদর্শ বিসর্জন দেওয়া এবং অন্যদিকে মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ‘জঙ্গিবাদী’ অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। চরমোনাই পীর দাবি করেন, জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে উগ্রবাদী ও জঙ্গিবাদী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আওয়ামী লীগ-বিএনপিও কখনো বহির্বিশ্বের কাছে আমাদের জঙ্গি বলেনি, কিন্তু ইসলামের নাম নিয়ে জামায়াত আজ আমেরিকার কাছে আমাদের ব্যাপারে মিথ্যাচার করে আসছে।” জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে রেজাউল করীম বলেন: সেলফি ও পর্দা: জামায়াত আমিরের নারী কর্মীদের সঙ্গে ছবি তোলা বা পর্দার বিধান লঙ্ঘন করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মুরুব্বি মানুষ বেপর্দা মেয়েদের সাথে সেলফি তোলে—ইসলামী আন্দোলন এটা পারে না।” শরিয়াহ আইন প্রসঙ্গ: কর্নেল অলি আহমদ ও কৃষ্ণ নন্দীর বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি দাবি করেন, জামায়াত নেতৃত্ব এখন পরিষ্কার বলছে তারা শরিয়াহ অনুযায়ী দেশ চালাবে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তবে তাদের ইসলামী দল বলা হবে কেন? ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলনের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তারা মন্দির ও সংখ্যালঘুদের জান-মাল পাহারার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি লালমনিরহাট-১ আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ ফজলুল করিম শাহারিয়া-এর পক্ষে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে বলেন, “আমরা ইসলামের পক্ষের একটি বাক্স (ভোট) নিয়েই আপনাদের কাছে এসেছি।” উল্লেখ্য, পিআর পদ্ধতি ও গণভোটের দাবিতে একসময় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন যুগপৎ আন্দোলন করলেও গত ১৬ জানুয়ারি আসন বণ্টন ও আদর্শিক দ্বন্দ্বে জোট থেকে বেরিয়ে যায় ইসলামী আন্দোলন। বর্তমান নির্বাচনে তারা এককভাবে লড়াই করছে।
পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পোস্ট অফিস রোডে আয়োজিত ১১-দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ যে শাসন ও দমনের সংস্কৃতি চালু করেছিল, গত ১৭ মাসে বিএনপিও সেই একই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। নতুন স্বৈরাচারের শঙ্কা: নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, “এক স্বৈরাচারকে সরিয়ে নতুন স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় বসাতে চাই না—সেজন্য আমরা গণঅভ্যুত্থান করিনি।” রাষ্ট্র সংস্কারে অনিচ্ছা: তিনি দাবি করেন, একটি নির্দিষ্ট দল (বিএনপি) জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে রাষ্ট্র সংস্কারের পথ থেকে সরে এসেছে এবং পুনরায় লুটপাট ও অর্থ পাচারের পরিকল্পনা করছে। অর্থনীতি ও চাঁদাবাজি: দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য আগে ‘চাঁদাবাজির রাজনীতি’ ও ‘দুর্বৃত্তদের রাজনীতি’ ধ্বংস করার ডাক দেন তিনি। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া সরাসরি বিএনপির ১৭ মাসের কর্মকাণ্ডকে আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন: ব্যালট বিপ্লবের ডাক: যারা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেয় এবং পুনরায় আওয়ামী লীগের মতো আচরণ করতে চায়, তাদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করা হবে। জোটের শক্তি: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শক্তি আজ ১১-দলীয় জোটের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। জনসভার সভাপতি ও নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের এনসিপি প্রার্থী সারোয়ার তুষার-এর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে প্রস্তাবিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পদ্মা নদীর ওপর উজানে ভারতের নির্মিত ফারাক্কা ব্যারাজের বিপরীতে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই প্রতিশ্রুতি দেন। আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় তারেক রহমান রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নামেন। দলের প্রধান হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর। এর আগে ২০০৪ সালে তিনি রাজশাহী এসেছিলেন। বিমানবন্দরে নামার পর কড়া নিরাপত্তার ভেতর দিয়ে তারেক রহমানকে আমচত্বর-সিটিহাট-তেরোখাদিয়া-লক্ষ্মীপুর-সিঅ্যান্ডবি-সার্কিট হাউস হয়ে মাদ্রাসা ময়দানের সামনে দিয়ে শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। মাজার জিয়ারত শেষে১টা ৫৫ মিনিটের দিকে তিনি মাদ্রাসা মাঠে জনসভাস্থলে যান। এ সময় হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের অভিবাদন জানান তিনি। অন্যদিকে নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। রাজশাহীতে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্যানার-ফেস্টুন, স্লোগান আর উচ্ছ্বাসে মুখর পুরো এলাকা। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হয়েছেন লাখো নেতা-কর্মী। নগরীর বিনোদপুর, তালাইমারি, আলুপট্টি, সাহেববাজার, সিএনবি এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় সরেজমিনে দেখা গেছে,বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন। তাঁদের হাতে বিভিন্ন রঙের ক্যাপ, টি-শার্ট, দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন,প্ল্যাকার্ড ওপতাকা রয়েছে। ধানের শীষের স্লোগান দিচ্ছেন কর্মী-সমর্থকেরা। আশপাশের উপজেলার কর্মী-সমর্থকেরা আসছেন বাস বা ট্রাকে চেপে। সমাবেশে রাজশাহী ছাড়াও নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নেতা-কর্মীরাও এসেছেন।
মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মাসুদ অরুণের প্রচারণা শেষে ফেরার পথে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রোমানা আহমেদ ও মহিলা দলনেত্রী সাবিহা সুলতানা আহত হয়েছেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ‘জামায়াতের হামলা’র দাবিটি নাকচ করে দিয়েছেন খোদ ভুক্তভোগী নেত্রী। ফেসবুক এবং ‘তাজাখবর’ নামক একটি অনলাইন পোর্টালে দাবি করা হয়েছিল, মেহেরপুরের আমঝুপি এলাকায় ধানের শীষের প্রচার শেষে ফেরার পথে জামায়াতপন্থী সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আহত বিএনপি নেত্রী রোমানা আহমেদ নিজেই তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এই অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী: ১. দুর্ঘটনার বিবরণ: গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষে রিকশায় ফেরার পথে ‘কোলার মোড়’ এলাকায় একটি কুকুরের সঙ্গে রিকশার ধাক্কা লাগে। এতে রিকশা উল্টে গিয়ে তাঁরা দুজনেই গুরুতর জখম হন। ২. আঘাতের প্রকৃতি: দুর্ঘটনায় রোমানা আহমেদের হাত ভেঙে গেছে এবং সাবিহা সুলতানার দুটি দাঁত ভেঙে যাওয়াসহ চোখের পাশে গুরুতর আঘাত লেগেছে। ৩. নেত্রীর স্পষ্টবার্তা: রোমানা আহমেদ তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “কে বা কাহারা এই সত্য ঘটনাকে মিথ্যা বানোয়াট বানিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে যে আমাদের জামাতের সন্ত্রাসী বাহিনী মেরেছে। এরকম মিথ্যা কথাগুলো বলবেন না, এতে আমার দল বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।” তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, আহত হওয়ার ছবিগুলো সঠিক হলেও ঘটনার প্রেক্ষাপট ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হামলা ছিল না, বরং একটি সড়ক দুর্ঘটনা। আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল বা দুই মিত্র দলের মধ্যে ফাটল ধরাতেই এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল স্টেশন রোডে এনসিপির পদযাত্রা শেষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি কোনো দলের নাম সরাসরি না নিলেও তাঁর বক্তব্য ছিল স্পষ্টত বিএনপির দিকে লক্ষ্য করে। ১. সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: নাহিদ ইসলাম বলেন, “একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তারা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ওপর হামলা করছে এবং ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করছে।” তিনি একে ‘আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি’ বলে অভিহিত করেন। ২. মামলা ও কূটকৌশল: তিনি অভিযোগ করেন, যে দলটি ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে গণহারে মামলা দিয়েছিল, তারাই এখন ভোট পেতে মামলা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। একে তিনি জনগণের সাথে এক ধরনের ‘কূটকৌশল’ ও প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দেন। ৩. ৩১ দফা থেকে বিচ্যুতি: বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ‘৩১ দফা’র কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটি এখন তাদের ওই অবস্থান থেকেও সরে এসেছে। ৪. ভোটের মাধ্যমে জবাব: এনসিপি আহ্বায়ক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একতরফা হামলা ও দাপট চলতে থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে দেশের মানুষ এর সমুচিত জবাব দেবে। ৫. প্রীতম দাসের পক্ষে প্রচারণা: তিনি মৌলভীবাজার-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী প্রীতম দাসকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার-৪ আসনটি ১০ দলীয় জোটের জন্য ‘উন্মুক্ত’ রাখা হয়েছে। এখানে এনসিপির প্রীতম দাসের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শেখ নূরে আলম হামিদী। এছাড়া এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহসিন মিয়া মধু (ফুটবল প্রতীক) নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর অনাস্থা জানিয়ে হবিগঞ্জ জেলা কমিটির ১৩ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এই চরম সিদ্ধান্তের কথা জানান। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পলাশ মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নূরুল হক টিপু, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ মনির, সালমা হাসান এবং সঞ্জয় দাশসহ মোট ১৩ জন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এনসিপি-র বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন: ১. ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন: হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা কমিটিতে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দোসরদের স্থান দেওয়া হয়েছে। ২. জুলাই যোদ্ধাদের বঞ্চনা: ২৪-এর জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা তরুণদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দিয়ে একটি ‘অনুগত শ্রেণি’ তৈরির চেষ্টা চলছে। ৩. আদর্শিক বিচ্যুতি: মধ্যপন্থার রাজনীতির কথা বলে যাত্রা শুরু করলেও মাত্র দুই মাসের মধ্যে দলটি দুটি ভিন্ন জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তার স্বকীয়তা হারিয়েছে। ৪. দুর্নীতির অভিযোগ: দলের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পদত্যাগীরা। ৫. মনোনয়ন বাণিজ্য: প্রার্থী বাছাই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তারা জানান, বর্তমান মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে প্রকৃত জুলাই যোদ্ধারা কাজ করতে আগ্রহী নন। সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পলাশ মাহমুদ বলেন, “হতাশা থেকেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমানে দেশে প্রকৃত মধ্যপন্থার রাজনীতি নেই। যদি ভবিষ্যতে কোনো দল একাত্তর ও চব্বিশের চেতনাকে সমানভাবে ধারণ করে, তবেই আমরা রাজনীতিতে ফিরব। নয়তো সাধারণ নাগরিক হিসেবেই থাকব।”
বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিতে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। আজ রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ঘোষণা করেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করবে বিএনপি সরকার। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে উত্তরবঙ্গের কৃষিকে শক্তিশালী করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন: পদ্মা ব্যারেজ ও সেচ প্রকল্প: রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এবং বন্ধ হয়ে থাকা এক হাজার কোটি টাকার বিশাল সেচ প্রকল্পটি পুনরায় সচল করা হবে। এই সেচ সুবিধা রাজশাহী থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। কৃষি কার্ড: দেশের সকল কৃষকের হাতে একটি করে ‘কৃষি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও ঋণের মতো সকল উপকরণ সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। হিমাগার নির্মাণ: রাজশাহীর আমের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত হিমাগার (Cold Storage) তৈরি করা হবে। কৃষক কার্ডের পাশাপাশি দেশের সকল নারীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়া নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে ভোকেশনাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, যাতে তারা ঘরে বসেই আয় করতে পারেন। রাজশাহীর জন্য তাঁর অন্যান্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে: ১. বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা। ২. রাজশাহীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ। ৩. কৃষিভিত্তিক শিল্প (Agro-based Industry) প্রতিষ্ঠায় সরকারি সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি এবং খালেদা জিয়ার আমলের সেচ প্রকল্পগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, গত ১৬ বছরে পরিকল্পিতভাবে এই কাজগুলো থামিয়ে রাখা হয়েছিল।