মেহেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মওলানা তাজ উদ্দিন খানের ব্যবহৃত একটি নোহা মাইক্রোবাস থেকে বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করেছিল যৌথ বাহিনী। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে শহরের হোটেল বাজার চার রাস্তার মোড়ে যৌথ বাহিনীর একটি চেকপোস্টে গাড়ি তল্লাশির সময় এ ঘটনা ঘটে। আটকরা হলেন—বাংলা এডিশনের জেলা প্রতিনিধি ও জামায়াত কর্মী সেলিম রেজা (২৭), জেলা জামায়াতের আমির তাজ উদ্দিন খানের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন শাহারুল ইসলাম এবং মাইক্রোবাসের চালক ইজারুল হক। যৌথ বাহিনীর তল্লাশিতে মাইক্রোবাস থেকে তিনটি ফোল্ডেবল স্টিক, একটি ইলেকট্রিক শকার, চারটি ওয়াকিটকি, একটি মাল্টি-টুল (মেকাইভার), একটি প্লাস, একটি ধারালো চাইনিজ কুড়াল, একটি ক্যামেরা ও চার্জার উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, মেহেরপুরে জামায়াতের একটি নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছিল সেনাবাহিনীর একটি দল। এ সময় ঢাকা মেট্রো-চ ১৯-৪১৪৬ নম্বরের মাইক্রোবাসটি হোটেল বাজার মোড়ে পৌঁছালে সেটিতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আটক ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয় এবং উদ্ধারকৃত সরঞ্জামসহ মাইক্রোবাসটি জব্দ করে। তবে পরবর্তীতে থানায় নিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। মেহেরপুর সদর থানার এসআই বিএম রানা বলেন, উদ্ধারকৃত জিনিসপত্রের মধ্যে ফোল্ডেবল স্টিক, ইলেকট্রিক শকার, ওয়াকিটকি, মাল্টি-টুল, প্লাস, চাইনিজ কুড়াল, ক্যামেরা ও চার্জার ছিল। প্রাথমিক যাচাই শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে সন্ধ্যায় এ ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জামায়াত। সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন দাবি করেন, আমিরের গাড়িচালক পথিমধ্যে একজন সাংবাদিক ও আরেকজন ব্যক্তিকে গাড়িতে তুলে সমাবেশে যাচ্ছিলেন। এ সময় সেনাবাহিনী তাদের আটক করে। গাড়িতে থাকা সরঞ্জামগুলো আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করে তিনি বলেন, সেগুলো অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত না হওয়ায় পুলিশ তাদের ও গাড়ি ছেড়ে দেয়। কিছু গণমাধ্যম ঘটনাটি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ছেলে আহমাদ আব্দুল্লাহ আরমান বাবার আমানতদারি সামনে এনে ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে একটি ছবি দিয়ে আরমান লেখেন, ৮ম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সর্বোচ্চ উপস্থিতির জন্য পুরস্কার গ্রহণ করছেন আমার সম্মানিত পিতা, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। দায়িত্বের প্রতি তার খুলুসিয়াত আর আমানতদারিতা আমাদের সবার জন্য এক জীবন্ত শিক্ষা। পোস্টে তিনি আরও লেখেন, একটা ছোট্ট গল্প বলি- আমি তখন ক্লাস টু বা থ্রি’তে পড়ি, আব্বু এমপি। একদিন স্কুল থেকে ফিরে নিজের রুমে ঢুকেই চোখে পড়ল মেঝেতে কয়েকটা বড় বড় বস্তা রাখা। কৌতূহলবশত বস্তা খুলে দেখি ভেতরে ঝকমকে নতুন ক্রিকেট ব্যাট, বল, হেলমেট, ফুটবল, ভলিবল আরও কতো কি! এক্সাইটমেন্ট ধরে রাখতে না পেরে দিব্বি একটা ব্যাট আর বল বের করে নিয়ে সোজা বারান্দায় খেলতে নেমে পড়লাম আমার ফুফাতো ভাইয়ের সাথে। আরমান আরও উল্লেখ করেন, সন্ধ্যায় আব্বু বাসায় ফিরলেন। বারান্দায় পড়ে থাকা সেই নতুন ব্যাট আর বল চোখে পড়তেই তিনি চিৎকার শুরু করলেন। কড়া গলায় আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো কে বের করেছে? আমি ইতস্ততভাবে মাথা নিচু করে বললাম, জ্বি আমি। এরপর যা হলো, সেটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে প্রথম ও সবচেয়ে বড় শিক্ষা। আরমান লেখেন, আব্বু খুব রেগে গেলেন। বোধহয় একটা চড়ও দিলেন। তারপর বললেন, আমি এগুলো এলাকার ক্লাবে বিলি করতে এনেছি। এই জিনিসে হাত দেওয়ার অধিকার তোমার নেই। এগুলো আমাদের না। এগুলো জনগণের। ঘটনার পর আমি একেবারেই ভেঙে পড়েছিলাম, কেঁদেছিলাম খুব। পড়ার টেবিলে বসে চোখের পানিতে বই ভিজে যাচ্ছিল আমার। ছোট্ট মনে শুধু একটাই প্রশ্ন, আব্বু কি আমাকে ভালোবাসে না? উনি তো এলাকার মানুষের জন্য এত কিছু আনলেন, অথচ নিজের ছেলে কিছুই নিতে পারবে না? আরমান আরও বলেন, অভিমানে, কষ্টে সেই রাতে বাসায় আর কারো সাথে কথা বলিনি। পরদিন স্কুলেও মন খারাপ ছিল। নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগছিল। মনে হচ্ছিলো আব্বু যেন আমার থেকেও ফুলতলা-ডুমুরিয়ার মানুষকে বেশি ভালোবাসেন। অতঃপর সন্ধ্যায় আব্বু বাসায় এসে আমাকে ডাকলেন। খুব শীতল গলায় বললেন, এই নাও। দেখি আমার জন্য একদম নতুন একটা ব্যাট আর বল কিনে এনেছেন। এক মুহূর্তেই যেন সব রাগ অভিমান গলে গেল। তারপর আব্বু আমাকে শক্ত করে অনেক কথা বলেছিলেন। সব কথা আজ হয়তো মনে নেই। কিন্তু মূল কথাগুলো আজও আমার কানে বাজে। তা হলো.. জনগণের টাকা বা সম্পদের এক কণাতেও আমাদের কোনো অধিকার নেই। এগুলো আমানত। আর আমানতের খেয়ানত করলে আল্লাহও ক্ষমা করেন না, মানুষও করে না। এই জামায়াত নেতার ছেলে লেখেন, এই শিক্ষাই আমি পেয়েছিলাম খুব ছোটবেলায়। এই শিক্ষা আমি কোনোদিন ভুলবো না। ২০০১ থেকে ২০০৬। এই পাঁচ বছরে আমার শ্রদ্ধেয় পিতা তার নির্বাচনি এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩ শত কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন। প্রায় এক লাখ হিন্দু নিয়ে গঠিত এই এলাকায় স্বাধীনতার পর থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যত উন্নয়ন হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি কাজ হয়েছে এই এক টেনিউরে। কিন্তু সংখ্যার চেয়েও বড় যে বিষয়টা তা হলো তিনি কখনো জনগণের এক টাকার আমানতকেও নিজের ভাবেননি। পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, জনগণের আমানতকে আমানত হিসেবেই রাখার যে নৈতিক দৃঢ়তা, সেটাই একজন জনপ্রতিনিধিকে ইতিহাসে টিকিয়ে রাখে। আমার পিতা যেন সেই ইতিহাসের দিকেই হেঁটে চলেছেন। জনগণের অধিকার রক্ষা, সততা, আমানতদারিতা আর দায়িত্বের প্রতি তার খুলুসিয়াত যেন আমৃত্যু বেঁচে থাকে।
আসন্ন নির্বাচনে ভোটগ্রহণে বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক ও একীভূত পাঁচ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন দলীয় পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের নিয়োগ না করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিএনপিকে চিঠি দিয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে পাঠানো চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত ১৭ জানুয়ারি বিএনপির দেওয়া চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলো ইসি। কমিশনের চিঠিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল থেকে বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাদ দিয়ে প্যানেল প্রস্তুতের জন্য সব জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে গত ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটগ্রহণের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ করা যাবে। উল্লেখিত পত্রের নির্দেশনার আলোকে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত করার জন্য সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ২৬ জানুয়ারি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে ৬৪ জেলায় সমৃদ্ধ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। বেটার এডুকেশন ছাড়া বেটার নেশন গড়া সম্ভব না। তাই, সবার জন্য মানবিক সুশিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঝিনাইদহ উজির আলী স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, যারা আমাদের টাকা চুরি করেছে তাদের পেট থেকে টাকা বের করে আনবো। জনগণের টাকা কেউ হজম করতে পারবে না। কেউ যদি জনগণের ভোটের ওপর হাত দেয়, তাহলে তার হাত অবশ করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ২৪’এ যেমন বিপ্লব করেছেন ২৬’এও তেমনি একটা বিপ্লব করতে হবে। আগে হয়েছে বুলেটের বিপ্লব, এবার হবে ব্যালট বিপ্লব। আমরা কোনো জেলার সঙ্গে সৎ মায়ের ভূমিকায় থাকবো না। ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্টের বাড়ি দেখে উন্নয়ন করবে না জামায়াতে ইসলামী।
ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেন, আজ সকালে ঢাকা-১৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী আরিফুল ইসলাম নেতাকর্মীসহ খিলক্ষেত থানার ডুমনি নূরপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমি এই অন্যায় ও সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর হামলা গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেশবাসী মেনে নেবে না।
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: বগুড়ার কাহালু উপজেলায় এক নির্বাচনি গণসংযোগ সভার মধ্য দিয়ে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অন্তত ১২ জন শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং অর্ধশতাধিক কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার জামগ্রাম ইউনিয়নের বান্দাইখাড়া গ্রামে আয়োজিত এক নির্বাচনি সভায় এই দলবদল ঘটে। বগুড়া-৪ (কাহালু–নন্দীগ্রাম) আসনের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের উপস্থিতিতে নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। জামায়াতে যোগদানকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন— জামগ্রাম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসরাফিল, জাতীয় পার্টির সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ও ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. ফিরোজ তালুকদার। এছাড়া বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন, বেলাল মণ্ডল, স্বপন মণ্ডল, আইয়ুব মণ্ডল, নজরুল ইসলাম, তোতা, বাছেদ ও বায়েজিদসহ আরও বহু কর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, “এই ওয়ার্ডের যে ১২ জন ভাই আজ দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, তাদের অভিনন্দন জানাই। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।” সভায় সভাপতিত্ব করেন কাহালু উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মো. আব্দুল লতিফ শিশির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. আবু ইউসূফ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া জেলা পশ্চিমের সভাপতি সাইয়্যেদ কুতুব সাব্বিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গণযোগদান আসন্ন নির্বাচনে কাহালু এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তিকে আরও দৃঢ় করবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হিসেবে বৈধতা দেওয়াকে ‘রাষ্ট্রীয় আইনের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে জুলাই ঐক্য। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণ: জুলাই ঐক্যের নেতারা দাবি করেন, আরপিও আইনের তোয়াক্কা না করে কমপক্ষে ৪৫ জন ঋণখেলাপিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে ইসি। তারা প্রশ্ন তোলেন, “যারা রাষ্ট্রের টাকা চুরি করেছে, তারা কেন গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেবে?” দ্বৈত নাগরিকদের বৈধতা: দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারীরা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বৈধতা পেল, তা নিয়ে ইসিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান সংগঠক প্লাবন তারেক ও জয়নাল আবেদিন শিশির। জাপা-১৪ দলকে বর্জন: জুলাই ঐক্যের অভিযোগ, গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে অযোগ্য ঘোষণার দাবিতে ২ মাস ধরে আন্দোলন চললেও ইসি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তারা অবিলম্বে এসব দলের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান। চানখাঁরপুল হত্যা মামলার রায়: ২০ জানুয়ারি ঘোষিত চানখাঁরপুল হত্যা মামলার রায়কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে সংগঠনটি এবং অবিলম্বে আপিল করার আহ্বান জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় সাধারণ ছাত্র-জনতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তার দায় ইসিকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ: সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক প্লাবন তারেক, জয়নাল আবেদিন শিশির, ইসরাফিল ফরাজী ও মুন্সি বুরহান মাহমুদ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এবং ‘নতুন ফ্যাসিবাদী’ শক্তিকে রুখে দিতে ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লব ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর ফুলতলা মোড়ে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। আসিফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন: “গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের যে নির্যাতন আমরা দেখেছি, তারই একটি ‘ডেমো’ গত ১৬ মাসে দেখেছি। এই নিপীড়ক ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে এখন রাজপথ নয়, বরং ব্যালটের মাধ্যমে বিপ্লব সাধন করতে হবে।” ৫ আগস্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সামনে আরেকটি ক্রান্তিকাল। এই নির্বাচনে মার্কা দেখে নয়, বরং যারা মানুষের মুক্তি ও সংস্কার নিশ্চিত করতে পারবে, তাদের ভোট দিতে হবে। তিনি ভোটারদের প্রতি দুটি বিশেষ আহ্বান জানান: ১. ১১ দলীয় জোটকে (এনসিপি ও সমমনা দলসমূহ) নির্বাচিত করা। ২. গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষকে বিজয়ী করে সংস্কারের পক্ষে রায় দেওয়া। নাম উল্লেখ না করে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল মুখে সংস্কারের কথা বললেও সুযোগ আসার পর তারা চুপসে গেছে। ফ্যাসিবাদী পরাজিত শক্তি এবং বর্তমানের নতুন ফ্যাসিস্টদের মধ্যে একটি গোপন ঐক্য তৈরি হয়েছে।” এই ‘ঐক্য’ নস্যাৎ করতে ভোটারদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে মাহমুদুর রহমান মান্নার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ছড়িয়ে পড়া একটি গুঞ্জন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল, বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে আসা নাগরিক ঐক্য এবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটে যোগ দিচ্ছে। তবে আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক সাক্ষাৎকারে মান্না এই বিষয়টি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। গত ২১ জানুয়ারি আসন সমঝোতা না হওয়ায় বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের নির্বাচনী সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয় নাগরিক ঐক্য। বিশেষ করে মান্নার এলাকা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপি তাদের নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ায় এই বিচ্ছেদের সুর চড়ে। এরপরই গুঞ্জন ছড়ায় যে, মান্না জামায়াত জোটে যুক্ত হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করবেন। গুঞ্জন সত্যি হলে এটি ১২ দলীয় জোটে রূপ নিত বলে মনে করছিলেন বিশ্লেষকরা। গুঞ্জনের বিষয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না স্পষ্ট ভাষায় বলেন: “জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যাওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। আমি নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে আমার এলাকায় ভোটের কাজ করছি। এখানে আমার অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীই হলো জামায়াত। প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে জোট করার প্রশ্নই আসে না।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনের সময় প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে বা ভোটারদের মধ্যে সংশয় তৈরি করতে এমন ‘রিউমার’ ছড়ানো স্বাভাবিক এবং তিনি এসবে কান দিচ্ছেন না। মাহমুদুর রহমান মান্না এবারের নির্বাচনে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন: বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ): এখানে তাঁর মূল লড়াই হবে বিএনপির শাহে আলম এবং জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাদাতুজ্জামানের সঙ্গে। ঢাকা-১৮: এই আসনে তাঁর লড়াই হবে জামায়াতের জোট সঙ্গী এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম আদীবের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও ধৈর্যশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ ৭৯ বছরে পদার্পণ করলেন। জন্মদিন উপলক্ষে রোববার দিবাগত রাতে তাঁর বড় মেয়ে, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা প্রবাসী বিজ্ঞানী শামারুহ মির্জা, বাবাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্পর্শকাতর পোস্ট দিয়েছেন। যেখানে উঠে এসেছে একজন নেতার পেছনে থাকা পরিবারের দীর্ঘ ত্যাগের কথা। শামারুহ মির্জা তাঁর পোস্টে স্মৃতিচারণ করে লেখেন যে, তাঁরা দুই বোন যখন ছোট ছিলেন, তখন তাঁর বাবা সরকারি কলেজের শিক্ষকতার নিশ্চিত জীবন ও ঢাকাকে ফেলে বছরের পর বছর ঠাকুরগাঁওয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চলে যান। শামারুহ লেখেন, “খুব কঠিন ছিল আমাদের বড় হওয়া। আমরা কষ্ট পেয়েছি, বিরক্ত হয়েছি। কিন্তু আমার বাবাকে কোনোদিন নিরাশ হতে দেখিনি।” বাবার রাজনৈতিক জীবনের চড়াই-উতরাই বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ৭৮ বছরের এই জীবনে মির্জা ফখরুলকে ১১ বার জেলে যেতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে অসংখ্যবার হামলার শিকার হয়েছেন এবং চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তাঁকে বিভিন্নভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে মেয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শামারুহ বলেন, “মির্জা আলমগীর বাসায় আমাদের যা বলেন, যে ভাষায় বলেন, আপনাদেরকেও ঠিক তাই বলেন—তার চেহারা একটাই।” শামারুহ মির্জা জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁর বাবা কখনো প্রতিশোধের রাজনীতির জন্য সংগ্রাম করেননি। তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়ন। তিনি লেখেন: “মানুষটা তাঁর যৌবন দিয়েছেন এই দেশের সাধারণ মানুষের জন্য, এই শেষ বয়সে এসে গণতন্ত্রের জন্য লড়ছেন। দৃঢ় সংকল্পে দাঁড়িয়ে আছেন।” শিক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। পেশা: বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্য হিসেবে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ। সাফল্য: সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমানে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে অনেক হেভিওয়েট নেতার চেয়েও তরুণ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ফেসবুকে বেশি প্রভাব বিস্তার করছেন। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী ফলোয়ার সংখ্যায় শীর্ষ কয়েকজন হলেন: প্রার্থীর নাম রাজনৈতিক দল / পরিচয় আসন ফেসবুক ফলোয়ার (প্রায়) ডা. তাসনিম জারা স্বতন্ত্র (সাবেক এনসিপি) ঢাকা-৯ ৭১ লাখ+ তারেক রহমান চেয়ারম্যান, বিএনপি বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ ৫৬ লাখ ডা. শফিকুর রহমান আমির, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১৫ ২৩ লাখ নাহিদ ইসলাম আহ্বায়ক, এনসিপি ঢাকা-১১ ১২ লাখ (পেজ) / ১৪ লাখ (আইডি) রুমিন ফারহানা সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ৭ লাখ ২৯ হাজার প্রার্থীদের ডিজিটাল প্রোফাইল ও প্রচারণা কৌশল ১. ডা. তাসনিম জারা: স্বতন্ত্রদের মধ্যে শীর্ষ ঢাকা-৯ আসনে ফুটবল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তরুণ চিকিৎসক তাসনিম জারা। ফেসবুক জনপ্রিয়তায় তিনি অনেক ঝানু রাজনীতিবিদের চেয়েও যোজন যোজন এগিয়ে। তিনি তাঁর নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে ফেসবুকের মাধ্যমে অনুদান সংগ্রহ করে রেকর্ড গড়েছেন—মাত্র ২৯ ঘণ্টায় ৪৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছেন তিনি। তাঁর ইশতেহারে খিলগাঁও-মুগদা-সবুজবাগ এলাকার ৬টি মৌলিক সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ২. তারেক রহমান: বিএনপির ভার্চুয়াল সেনাপতি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভেরিফায়েড পেজটি ২০০৯ সাল থেকে সক্রিয়। তিনি এবারের নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে লড়ছেন। তাঁর পেজ থেকে নিয়মিত ভিডিও বার্তা ও দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রচার করা হয়, যা বিপুল সংখ্যক তরুণের কাছে পৌঁছায়। ৩. ডা. শফিকুর রহমান: জামায়াতের ডিজিটাল মুখ ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াত আমিরের পেজে ২৩ লাখ ফলোয়ার রয়েছে। জামায়াত এবার তাদের প্রচারণায় মিম (Meme) ও ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহার করে তরুণ ভোটারদের টানার চেষ্টা করছে। ৪. নাহিদ ইসলাম: ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের কারণে তাঁর অনুসারী সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তিনি মূলত ডিজিটাল মাধ্যমকেই প্রচারণার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ইন্টারনেট ও ভোটার সমীকরণ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) তথ্যমতে, দেশের ৫৬ শতাংশেরও বেশি পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহার করে। বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় সাড় ৪ কোটির বেশি, যাদের একটি বড় অংশই তরুণ। এই তরুণ ভোটাররাই এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে উঠতে পারেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এবং সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ৩ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বহিষ্কৃত তিন নেতা হলেন: ১. ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম: উপদেষ্টা, কালিহাতী উপজেলা বিএনপি (টাঙ্গাইল) এবং সহ-সভাপতি, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল (কেন্দ্রীয় কমিটি)। কারণ: তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২. মজিবুর রহমান: সদস্য, মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপি। কারণ: সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা। ৩. মো. সাইদুর রহমান ফরিদ (ফকির): সাধারণ সম্পাদক, মুন্সিগঞ্জ সদর থানা বিএনপি এবং সদস্য, মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপি। কারণ: দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজে অংশগ্রহণ। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই তিন নেতাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনে দলের ঐক্য বজায় রাখতে এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না। বিশেষ করে যারা ধানের শীষের প্রার্থীর বিপক্ষে স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এই ‘শুদ্ধি অভিযান’ অব্যাহত থাকবে।
নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল গণসংযোগে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী—উভয় পক্ষকেই কড়া সমালোচনায় বিদ্ধ করেন। এবারের নির্বাচনে 'নৌকা' প্রতীকের অনুপস্থিতি নিয়ে ফখরুল বলেন: “আগে নৌকা আর ধানের শীষ ছিল। এবার নৌকা নাই। নৌকার কাণ্ডারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আপনাদের ফেলে ভারতে চলে গেছে। দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। আমাদেরকেও বিপদে ফেলে চলে গেছে। তিনি থাকলে অন্তত একটা গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করতো।” নির্বাচনী লড়াইয়ে জামায়াতে ইসলামীর নাম না নিলেও তাদের প্রতীক 'দাঁড়িপাল্লা' ও অতীতের ভূমিকা নিয়ে ভোটারদের সতর্ক করেন ফখরুল। তিনি বলেন, “আমরা একাত্তরকে মাথায় তুলে রাখতে চাই। অথচ যারা শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছে, আজ তারা আবার দেশ শাসনের জন্য ভোট চাচ্ছে। তাদেরকে ভোট দিয়ে দেশের সর্বনাশ করবেন না।” সংখ্যালঘু ভোটারদের আশ্বস্ত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলে গেছেন, এই দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই সমান নাগরিক। হিন্দু ভাই-বোনদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সবাই বুক উঁচু করে দাঁড়াবেন, বিএনপি আপনাদের অধিকার রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাশে থাকবে।” বিশেষ করে মা-বোনদের মর্যাদা রক্ষায় বিএনপি আপসহীন থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। বক্তব্যের শেষে তিনি উপস্থিত জনতাকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবার আগে মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ সময় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার পঞ্চম দিনে খুলনা বিভাগে নির্বাচনী সফর শুরু করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে (সাবেক কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়াম) আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি। ভোর থেকেই কুষ্টিয়া জেলাসহ পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ মিছিল নিয়ে স্টেডিয়ামে সমবেত হতে থাকেন। উন্নয়নের দাবি: সমাবেশে আগত সাধারণ মানুষ ও জামায়াত সমর্থকরা জানান, বিগত সরকারগুলোর আমলে এই অঞ্চলটি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। স্থানীয়রা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে জামায়াত আমিরের কাছে জোরালো দাবি তুলে ধরেন। আমিরের বার্তা: ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা জনগণের আমানতের চৌকিদার হতে চাই। দীর্ঘদিনের শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণই আমাদের মূল লক্ষ্য।” কুষ্টিয়ার জনসভা শেষ করে ডা. শফিকুর রহমান পর্যায়ক্রমে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন: বেলা ১২টা: মেহেরপুরে জনসভা। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট: চুয়াডাঙ্গায় জনসভা। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট: ঝিনাইদহে জনসভা। সফর শেষে আজ রাতে তাঁর যশোরে রাত্রিযাপন করার কথা রয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জামায়াত আমির খুলনা বিভাগের বাকি জেলাগুলোতে সফর করবেন: সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে যশোরে। দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরায়। বিকেলে খুলনায় (যেখানে ১ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে)। সন্ধ্যায় বাগেরহাটে জনসভার মধ্য দিয়ে তাঁর এই সফর সমাপ্ত হবে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ঢাকা-১৮ আসনের এনসিপি (NCP) প্রার্থী আরিফুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে খিলক্ষেত থানার ডুমনী নূরপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এনসিপি নেতাদের দাবি, বিএনপি প্রার্থীর অনুসারীরা এই হামলা চালিয়েছে। এনসিপি নেতা আরিফুর রহমান তুহিন জানান, সকালে ডুমনী নূরপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করার সময় বিএনপি নেতা দিদার মোল্লার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আরিফুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তুহিন আরও বলেন, "এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর। গতকালও আমাদের সমর্থকদের হেনস্তা করা হয়েছিল। আমরা বিষয়টি জাহাঙ্গীর সাহেবকে জানালে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এমনটা আর হবে না। কিন্তু তাঁর প্রতিশ্রুতির পরদিনই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হলো।" হামলার শিকার হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় এনসিপি প্রার্থী আরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: “আমার সহযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এখান থেকে আমার লাশ যাবে, তবুও আমি আমার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে যাব ইনশাআল্লাহ। আমরা মাঠ ছাড়ব না।” নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ঢাকা-১৮ আসনে উত্তেজনা বাড়ছে। বড় দলগুলোর পাশাপাশি ছোট দলগুলোর প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় থাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এই হামলার ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের জন্য দল ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং সরকার গঠন করলে সেগুলো বাস্তবায়ন করবে। তিনি মন্তব্য করেন, “কোনো কোনো দল দেশের মানুষকে ধোঁকা দিতে চায়, কিন্তু এতে তারা কোনো লাভ পাবে না। রাজনীতি করি, দিনের শেষে সেই দেশের মানুষের কাছেই ফিরে আসতে হবে।” রোববার রাত ১১টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজি ফুলতলী মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান আরও বলেন, “দেশ পরিচালনায় বিএনপি একটি অভিজ্ঞ দল। কোনো পরিকল্পনা করলে তা কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হয়, আমরা তা ভালোভাবে জানি। আগামী নির্বাচনে সরকার গঠন করলে প্রতিটি ঘরে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যাতে মা-বোনদের প্রতি মাসে কিছু সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি। আমরা একবারে সব দিতে পারব না, ধীরে ধীরে কাজটি বাস্তবায়ন করা হবে।” তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই সময় যত বেশি সংখ্যক মায়ের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া সম্ভব, আমরা সেই চেষ্টা করব। এছাড়া কৃষক ভাইদের জন্যও কৃষক কার্ড দেওয়া হবে, যাতে সার, বীজ ও কীটনাশক প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।” তারেক রহমান সমালোচনার বিষয়ে বলেন, “আমি চাইলে প্রতিপক্ষের সমালোচনা করতে পারতাম, কিন্তু নির্বাচনের আগে জনগণ জানতে চায় আমি ক্ষমতায় গেলে কী করব। তাই আমি পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছি।” সমাবেশে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, চাঁদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এবং কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া প্রমুখ।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর থেকেই বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতিতে বিএনপির মাঠের রাজনীতি নতুন গতি পেয়েছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। নির্বাচনী প্রচারসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনসভায় মানুষের অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি বিএনপির সাংগঠনিক সক্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে দলটি। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে নিয়মিত সভা-সমাবেশ, মতবিনিময় এবং সাংগঠনিক বৈঠকের সংখ্যা বেড়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমানের সরাসরি দিকনির্দেশনায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকে আরও কার্যকর ও সংগঠিত করার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিএনপির অনেক নেতাকর্মী জানান, নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি তাদের মনোবল বাড়িয়েছে। আগে যেখানে কর্মসূচি সীমিত পরিসরে হতো, এখন সেখানে অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বাড়ছে বলে দাবি তাদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বিএনপি মাঠের রাজনীতিতে নিজেদের নতুন করে দৃশ্যমান করতে চায়। বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীদের ধারণা, আগামী দিনে বিএনপি আরও নিয়মতান্ত্রিক ও গণমুখী কর্মসূচির দিকে অগ্রসর হবে। জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দাবি শান্তিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর বিএনপির মাঠের রাজনীতি যে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে—সে বিষয়ে অনেকেই একমত। এখন দেখার বিষয়, এই সক্রিয়তা আগামী জাতীয় নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিএনপি কতটা নির্বাচনী সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়।
ইনসাফ, ন্যায়বিচার ও ইসলামী শাসনের নামে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি করা হয়েছিল, সেই প্রত্যাশার প্রতীকী ‘বাক্স’ এখন আর মানুষের হাতে নেই এমন মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তার এই বক্তব্যকে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের তীব্র সমালোচনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় এক নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামের নামে মানুষের যে ন্যায়বিচারের আশা ছিল, তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, “ইসলামের পক্ষের ও ইনসাফের যে বাক্সটির দিকে মানুষ তাকিয়ে ছিল, সেটি আজ ছিনতাই হয়ে গেছে।” তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী ন্যায়বোধের পরিবর্তে ক্ষমতা ও প্রচলিত আইনের হিসাবই এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে। এ সময় তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই একমাত্র দল, যারা ইসলামের নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলছে। অন্য দলগুলোর শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মানুষের প্রত্যাশা বারবার ভেঙে পড়েছে। চরমোনাই পীরের বক্তব্যে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে নির্বাচিত করলে সমাজে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটারদের সামনে এখন কেবল আশ্বাস নয়, বাস্তব ও কার্যকর পরিকল্পনার প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ দাবি করেছেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন এখন জামায়াতের দিকে। সোমবার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে বেতাগীতে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। ডা. সুলতান তাঁর বক্তব্যে বলেন, একসময় অনেক দেশ ইসলামী দলগুলোর নেতৃত্বে সরকার গঠনের পক্ষে ছিল না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমনে জামায়াতের কঠোর অবস্থানের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি: পশ্চিমা বিশ্বের আগ্রহ: শুধু আমেরিকা নয়, পুরো পশ্চিমা বিশ্ব এখন বাংলাদেশে একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন দেখতে চায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ: তিনি দাবি করেন, “আজও আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলেছি—তাদেরও জামায়াতের প্রতি এবং বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে গভীর আগ্রহ রয়েছে।” আন্তর্জাতিক সংস্থার নজর: আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের মতো সংস্থাও বাংলাদেশে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ চায়, যা জামায়াতের পক্ষেই নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডা. সুলতান আহমেদ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা নিজেও বলেছেন এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। বিশ্ববাসী দেখবে বাংলাদেশের মানুষ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সক্ষম।” পূর্বের নির্বাচনগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে গণতন্ত্রের নামে প্রহসন, কেন্দ্র দখল ও সহিংসতার কারণে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা কলঙ্কিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভুল সিদ্ধান্ত নিলে দেশ ও জাতি চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিজের ‘শেষ নির্বাচন’ ঘোষণা করে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বিকেলে এক জনসভায় তিনি নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ার করে বলেন, ৫ আগস্টের পর যারা দখলদারি বা দুর্বৃত্তায়নের চিন্তা করছেন, তাদের বিএনপিতে কোনো জায়গা হবে না। আওয়ামী শাসনামলের উদাহরণ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন: অপরাধে জিরো টলারেন্স: “আওয়ামী লীগের লোকেরা মানুষের বাড়িঘর ও জমি দখল করেছে। আমার দলের কেউ যদি সেই পথে হাঁটে, তবে তাকে একচুলও রেহাই দেওয়া হবে না। তৎক্ষণাৎ বহিষ্কারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ভ্রাতৃত্বের রাজনীতি: তিনি কর্মীদের মনে করিয়ে দেন, জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট ছিল জুলুমের অবসান ঘটানো, নতুন করে মামলাবাজি বা প্রতিশোধের রাজনীতি শুরু করা নয়। ৭৮ বছর বয়সি এই প্রবীণ নেতা অনেকটা ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ ও আকুতি নিয়ে ভোটারদের সামনে হাজির হন। তিনি বলেন: “বয়স হয়েছে, এটাই আমার শেষ নির্বাচন। পৈতৃক জমি বিক্রি করে রাজনীতি করেছি, মানুষের সেবা করেছি। ধানের শীষে ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার শেষ সুযোগটি আমাকে দিন।” স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় তাঁর প্রশ্ন— ‘আপনারা কি আমাকে চেনেন না? নতুন করে কি মোক চেনাবা হবে?’— উপস্থিত জনতাকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। নির্বাচনী মাঠে জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র উপস্থিতি নিয়ে ফখরুল ঐতিহাসিক সত্য তুলে ধরে বলেন, “১৯৭১ সালে এই প্রতীককে আমরা দেখেছি পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করতে। বিএনপি পাঁচবার দেশ চালিয়েছে, আমরা পরীক্ষিত। ভোটারদের সঠিক দল বেছে নিতে হবে।” গড়েয়া গোপালপুর ইসকন মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি সবাইকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সেখানে তিনি বলেন, “আপনারা নিজেরা শক্ত হোন, প্রতিরোধের সাহস গড়ে তুলুন। নিজের ভোট যাকে খুশি তাকে দেবেন।” তাকে সেখানে শঙ্খধ্বনি ও পুষ্পমাল্যে বরণ করে নেওয়া হয়। কারাগারে থাকাকালীন অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে না দেওয়ার দুঃসহ স্মৃতি তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “জেলে থাকা অবস্থায় আমার স্ত্রীর অপারেশন হয়েছে, তবুও আমাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এত নির্যাতন সহ্য করেও আমি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি।” কর্মসূচি: ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা সাত দিন ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন মির্জা ফখরুল।