ফ্যাসিবাদী কায়দার রাজনীতি থেকে দেশকে বের করে আনার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করে না; জনগণের সেবক হিসেবেই রাজনীতি করতে চায়। মঙ্গলবার রাতে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ধোঁকাবাজি, ব্যাংক ডাকাতি কিংবা শেয়ারবাজার লুটপাটের রাজনীতি আমরা করতে চাই না। আমাদের রাজনীতি দেশের মালিক হওয়ার জন্য নয়, দেশের সেবক হওয়ার জন্য।” তিনি অভিযোগ করেন, দোষারোপ, তোষামদি, মিথ্যাচার ও ফ্যাসিবাদী কৌশলের রাজনীতি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এসব রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করতেই জামায়াত কাজ করছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, “৫ তারিখের আগপর্যন্ত সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত দল ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে ৫ তারিখের পর আমরা সব ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের আশ্বস্ত করেছি—এই দেশে সবাই সমান, সবার অধিকারও সমান।” বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, “আগামীর প্রজন্মের জন্য আমরা একটি হিংসামুক্ত, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দিতে চাই। কোনো জালিমকে কারও ওপর হাত তুলতে দেওয়া হবে না।” পথসভায় গোপালগঞ্জ–১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুল হামিদের হাত তুলে ধরে জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি তাঁর হাত উঁচু করে ধরলাম—আপনারাও তাঁর জন্য লড়বেন।” ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “অতীতে আমাদের সঙ্গে যা কিছু হয়েছে, আমরা দলীয়ভাবে তা ক্ষমা করে দিয়েছি। আমরা আমাদের অঙ্গীকার রক্ষা করেছি।” মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে অনুষ্ঠিত ওই পথসভাকে ঘিরে সন্ধ্যা থেকেই মুকসুদপুর কলেজ মোড় ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জামায়াতের নেতা–কর্মীরা মিছিল নিয়ে জড়ো হন। জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচনই দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের একটি বড় পরীক্ষা। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উত্তর কাকারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কাকারা ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মুক্ত ও স্বাধীন পরিবেশে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ এসেছে। আগামী যে সংসদ জনগণ নির্বাচিত করবে, সেই সংসদেই দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধন হবে। মানুষের অধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র সুসংহত করা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিএনপি স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করে—‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা সবার’। উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের মুখের হাসিই প্রমাণ করে তারা বিএনপির হাতেই নিরাপদ। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালে দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ছিল এবং কোনো সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়নি। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিএনপি সরকারে থাকুক বা বিরোধীদলে—ধর্ম, বর্ণ ও ভাষা নির্বিশেষে সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। তিনি জানান, বিএনপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব ধর্মের উপাসনালয়ের দায়িত্বশীলদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও ভাতা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবেন এবং এই নিশ্চয়তা একমাত্র বিএনপিই দিতে পারে। বিএনপি হলো গণমানুষের দল এবং বিএনপির অপর নাম গণতন্ত্র। পথসভায় তিনি বলেন, জনগণই এই দেশের প্রকৃত মালিক ও সার্বভৌম শক্তি। হারিয়ে যাওয়া জনগণের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র, জনগণ এবং স্বাধীনতা একমাত্র জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির হাতেই নিরাপদ। গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছেন, যা বিএনপির ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রমাণ। তিনি বলেন, অতীতে বারবার জনগণের ভালোবাসা ও বিশ্বাসে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এমনকি কারাবন্দি থাকাকালেও জনগণ তার পরিবারের ওপর আস্থা রেখে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে। কাকারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, জেলা ওলামা দলের সভাপতি আলী হাছান চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলা আহ্বায়ক মাওলানা শামসুদ্দিন আলতাফ, সদস্য সচিব মাওলানা মুফতি আজিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছাইফুল ইসলাম ছাবুসহ আরও নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বিএনপির ছয় নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক নেতা রয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এবিএম সালাউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগে শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির ছয় নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন—শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুন্সি আমান মিয়া, দপ্তর সম্পাদক জুয়েল আলী, প্রচার সম্পাদক জুনায়েদ খান, যুববিষয়ক সহসম্পাদক নুর উদ্দিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন এবং শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য আবদুল মালেক। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর এবং জেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লস্করের নির্দেশে তাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বহিষ্কৃত নেতারা শুরু থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার নির্বাচনি প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। তাদের মধ্যে জুয়েল আলী মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবকারী, জুনায়েদ খান সমর্থনকারী এবং নুর উদ্দিন সাক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লস্কর বলেন, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেশী বা অন্য কোনো রাষ্ট্রকে বন্ধু হিসেবে স্বাগতম জানালেও কাউকে 'প্রভু' হিসেবে মেনে নেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে সাতক্ষীরা বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, 'আমরা কারও ক্ষতি না করে উত্তম বন্ধু হিসেবে সম্পর্ক রাখতে চাই। কিন্তু আল্লাহর কসম, আমরা কাউকে প্রভু হিসেবে আসতে দেবো না। আল্লাহর বাইরে আমাদের কোনো প্রভু নেই, এ ব্যাপারে আমরা আপোসহীন।' জনসভায় সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান ও ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, মোস্তাফিজ ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশকে আলোকিত করেছেন। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশ তাকে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নিতে দেয়নি, যা দেশের এবং ক্রিকেটের জন্য চরম অপমান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি খেলার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে শ্রীলঙ্কায় খেলার প্রভাব দিয়েছিল, কিন্তু আইসিসি তা মেনে নেয়নি। এ ঘটনায় দুঃখ ও লজ্জা প্রকাশ করে তিনি সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'অতীতে নিরাপত্তার অভাব বা অপমানের কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের বহু নজির রয়েছে। অন্যের জন্য যা করা হয়, বাংলাদেশের জন্য কেন তা করা হবে না?' দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত জনপ্রতিনিধি সেজে দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নথিপত্র অনুযায়ী, ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, 'আল্লাহ সুযোগ দিলে ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে জনগণের সম্পদ বের করে আনবো। লুন্ঠনকারীদের ব্যাপারে আমাদের কোনো দয়ামায়া নেই।' ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকে কেউ আর কালো টাকার দিকে হাত বাড়াতে পারবে না। এছাড়া, যারা ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত থাকবেন, তাদের বেতন কাঠামো সম্পূর্ণ আলাদা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সাতক্ষীরা জেলা গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে 'সৎ মায়ের সন্তানের মতো' আচরণের শিকার হয়েছে এবং উন্নয়নে বঞ্চিত থেকেছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। জেলার চারটি আসনে জামায়াতকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে জনগণের সাথে আলোচনা করে জেলার সমস্যা সমাধান করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, 'কোনো শিক্ষিত চোর'কে আপনাদের কোনো অংশ খেয়ে ফেলতে দেয়া হবে না।'
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে স্বতন্ত্র (কলস প্রতীকের) সংসদ সদস্য প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে বহিষ্কার হয়েছেন নড়াইল জেলা ও উপজেলা বিএনপির ছয় নেতা। নড়াইল পৌর বিএনপি ও সদর উপজেলা বিএনপি এবং লোহাগড়া পৌর বিএনপি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদার ছয় নেতা জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল-২ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলামের সমর্থনে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন- নড়াইল সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম পলাশ, পৌর বিএনপির সভাপতি তেলায়েত হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহাদুজ্জামান বাটু, সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মিলু শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক মশিয়ার রহমান সান্টু। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য নড়াইল জেলাধীন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নেতাদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জানা গেছে, নড়াইল-২ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। তাকে সমর্থনের অভিযোগেই সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহাদুজ্জামান বাটু বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ও আনুগত্য সবসময় থাকবে। তিনি দাবি করেন, তারা ধানের শীষের বিপক্ষে কোনো ধরনের প্রচারণায় অংশ নেননি। উল্লেখ্য, নড়াইল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ড. এজেডএম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (ধানের শীষ প্রতীক), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আতাউর রহমান বাচ্চু (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলাম (হাতপাখা প্রতীক), জাতীয় পার্টির খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ (লাঙ্গল প্রতীক), গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) নুর ইসলাম (ট্রাক প্রতীক) বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, মো. শোয়েব আলী (ছড়ি প্রতীক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. মনিরুল ইসলাম (কলস প্রতীক) ও ফরিদা ইয়াসমিন (জাহাজ প্রতীক) নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা ৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমি চা খাওয়ার দাওয়াত দিছি, এটিও আমার দোষ। এটি নাকি আমি হুমকি দিয়েছি।আমি তাদের কথায় ভীত। কোথায় কি হয়ে যায়, সব দোষ মির্জা আব্বাসের। তিনি বলেন, আমি তোমাদের বয়সে ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। শহরজুড়ে আমার বন্ধু-আত্মীয়স্বজন আছে। আমার যত ভক্ত আছে তোমাদের আত্মীয়স্বজনও তত নেই। যে যত কথাই বলুক আমি তাদের ফাঁদে পা দেব না। আমার ভোট আমি চাইবো, তুমিও ভোট চাও। এলাকার জন্য কি করেছো আর কি করবে বলো। তোমরা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছো। মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগ গুলবাগে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণার সময় তিনি এসব কথা বলেন। পরে মির্জা আব্বাস শাহজাহানপুর মালিবাগ ১ম লেন থেকে মৌচাক মোড় হয়ে মালিবাগ মোড় থেকে রাজারবাগ পুলিশ গেট গণসংযোগ করেন। বিকালে তিনি ১১নং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে নির্বাচনি মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচনের সময় কিছু অতিথি পাখি দেখা যায়। পরে আর পাওয়া যায় না। ৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কেউ বলতে পারবে না আমাকে পাওয়া যায়নি। যখন আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, তখন হাত উচিয়ে এ এলাকার মানুষ সমর্থন দিতেন। পুলিশী হামলা হলে বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছি। অন্য প্রার্থী কি আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন? আপনাদের কাজ শুধু কুৎসা রটানো। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আমি অনেকবার এমপি ছিলাম। কেউ বলতে পারবে না আমার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে গেছে। কিন্তু আমি যা পারবো না তা কখনও আশ্বাস দেইনি। মিথ্যা আশ্বাস আমি দেই না। আমি ফেরেশতা না। তবে, কারও ক্ষতি করার জন্য মিথ্যা বলি না। তিনি বলেন, কিছু মাছের পোনা এসেছে। এদের ঠিকানা কি? আমি যখন জেলে গিয়েছিলাম তখনও আমার বাসায় বিভিন্ন প্রয়োজনে এলাকার মানুষ আমার বাসায় গেছে। আমার স্ত্রী ও কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেছে। আজকে লম্বা লম্বা কথা বলছেন, কয়জনকে সাহায্য করেছেন! এলাকার কতজনের জানাজায় গেছেন, কয়জনের বিয়ের অনুষ্ঠানে গেছেন? আবার বলেন আমার এলাকা! মির্জা আব্বাস বলেন, একজন বলছে চাঁদাবাজি না কমালে লাল কার্ড দেখাবে। আরে চাঁদাবাজিতো আপনারা করছেন। চাঁদাবাজি তকমা দিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। চাঁদাবাজদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না! যারা লাল কার্ড দেখানোর কথা বলছেন ১২ তারিখে জনগণই আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে। তিনি বলেন, ভাবটা এমন যেন বিএনপি ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগকে যেভাবে সরানো হয়েছে বিএনপিকেও সেভাবে তাড়ানো হবে। বিএনপি বানের জলে ভেসে আসেনি। সবকিছুতেই বিএনপির দোষ। দেশে এখন থেকেই অশান্তি পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
ক্ষমতায় এলে কেরু অ্যান্ড কোং-সহ সবগুলো কারখানাকে জীবন্ত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, কেরুয়া কোম্পানির সুগার মিল একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ চিনি কল ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা অঙ্গীকার করছি—ইনশাআল্লাহ, সব বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল, ফ্যাক্টরি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার সচল করে তুলব। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। জামায়াত আমির বলেন, চুরি-দুর্নীতি ও লুটপাট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করার সুযোগ দেওয়া হবে না। যখন দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ হবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই মিল ও শিল্পকারখানাগুলো নতুন প্রাণ ফিরে পাবে। তিনি আরো বলেন, শিল্পকারখানা চালু হলে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দেশীয় উৎপাদন বাড়বে এবং অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। এর ধারাবাহিকতায় নতুন নতুন কারখানা গড়ে উঠবে, তৈরি হবে আরও কর্মসংস্থান। আমরা বেকারত্ব নয়, কর্মসংস্থান চাই। ইনশাআল্লাহ, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলে এই দেশকে একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য। শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন নয়, বরং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা আর চাঁদাবাজিতে জড়াতে না পারে। মেহেরপুর ছোট জেলা হলেও চাঁদাবাজদের দখলে চলে গেছে। জনগণের রায়ে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের দায়িত্ব নেবে এবং তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তাদের আর চাঁদাবাজিতে জড়াতে না হয়। নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। আমাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট। সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করলে দেশ বিজয়ী হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত সরকারের ভুলনীতি ও লুটপাটের কারণে একের পর এক শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছিল। জামায়াত আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের রায়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা পেলে খুলনার বন্ধ মিল কারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন নতুন কারখানা স্থাপন করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী ও জেলা শাখা আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদেরকে অপমান করতে চাই না। আমার তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদেরকে সম্মানিত করতে চাই। জুলাই বিপ্লবে তাদের যে অবদান, কিছুটা হলেও তার ঋণ শোধ করতে চাই। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও হানাহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, একটি দল একদিকে দিচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে দিচ্ছে মা বোনদের গায়ে হাত। যারা মাকে অসম্মানিত করছেন, তাদেরকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানাই। আপনারা জনগণের রায়ে আস্থা রাখুন। অতীতে যারা আস্থা রাখেননি তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। হামলার সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখন মাঘ মাস। এখনই যদি মাথা এতো গরম থাকে, তাহলে চৈত্র এলে কি করবেন? সবাইকে ভোটের পাহারাদার হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা প্রত্যেকটি নর নারীর ভোটের অধিকারের পাহারাদার হবেন। ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে। কিন্তু আমরা বাক্স পর্যন্ত ভোটারকে পৌঁছে দিতে চাই। ১৩ ফেব্রুয়ারি আমরা একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ আমি এখানে জামায়াতের পক্ষে কথা বলার জন্য দাঁড়াইনি। বিগত ১৭ বছর যেসব মায়ের বাবার বুক খালি করা হয়েছে, যেসব বোনের কাছ থেকে স্বামীকে কেড়ে নেয়া হয়েছে, যেসব শিশুকে পিতাহারা করা হয়েছে- আমি তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি। ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়েছি। অনেকেই পুরাতন ফ্যাসিবাদের অ্যাপ্রোন গায়ে দিতে চাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে এ দেশের যুব সমাজ জানিয়ে দিয়েছে তা আর সম্ভব নয়। ৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যুব সমাজ তা জানিয়ে দিয়েছে। জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অনেকেই সন্ত্রাস, গুজব ও মিথ্যা ছড়িয়ে জোর করে ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছে। যারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ, লুটপাট করে ক্ষমতায় যেতে চায়, দেশের জনগণ তাদেরকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আগামী নির্বাচনে জামায়াত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে নতুন মানবিক বাংলাদেশ গঠন করা এবং খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন, বন্ধ মিল কারখানা চালু, পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ, বন্দর নগরী খুলনায় আধুনিক বিমান বন্দর স্থাপন এবং ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশের প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইসলামি ছাত্র শিবির বিজয় লাভের পর ক্যাম্পাস থেকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত হয়েছে। এটা একটা নমুনা। আগামী দিনে জনগণ ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় পাঠালে বিপ্লব উত্তর নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা রাশেদ প্রধান, খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা-৪ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত দেওয়াল ঘড়ির প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, খুলনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী খুলনা জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বাবু কৃষ্ণ নন্দী। সভায় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, মহানগরী নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা গোলাম সরোয়ার, অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় প্রধান সমন্বয়ক নিজাম উদ্দিন অমিত, এনসিপির খুলনা জেলা আহ্বায়ক মো. ফয়জুল্লাহ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু বক্কার সিদ্দিক মোড়ল, লেবার পার্টির প্রতিনিধি মো. সাইফুদ্দোহা, সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুফতি আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার, খেলাফত মজলিস খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শহীদুল ইসলাম, খুলনা জেলা সভাপতি মাওলানা এমদাদুল হক, খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগর সভাপতি এফ এম হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির খুলনা মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট হানিফ উদ্দীন। এছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. ইব্রাহিম খলিল, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য মো. জাকির হোসেন খান, মহানগরী জামায়াতের সহকারী অ্যাডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজি, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য খুলনা মহানগরী সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, খুলনা জেলা উত্তরের সভাপতি ইউসুফ ফকির, দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবু জার গিফারীসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয়, মহানগরী ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চারদলীয় জোট সরকার যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা তখন কেন পদত্যাগ করেননি বলে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকায় দেখেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, সেই স্বৈরাচারের মুখের ভাষা বিএনপিরই বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। ঠিক স্বৈরাচার যেভাবে বলত- তাদের ভাষাই ব্যবহার করছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, আমার প্রশ্ন- ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও দুইজন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিলেন। বিএনপি যদি এতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেননি? তিনি বলেন, কেন পদত্যাগ করে চলে আসেননি? এজন্য পদত্যাগ করে তারা আসেননি- তারা সরকারে ছিল এবং তারা ভালো করেই জানত যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছেন এবং যেই দলটি এখন এই কথা বলছে, তাদের যে দুই সদস্য বিএনপি সরকারের অংশ ছিল- তারা ভালো করেই জানতেন যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে- খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতিতে নিম্নগতিতে ছিল এবং খালেদা জিয়া যখন ২০০১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান, তখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করল। যেই দল এই কথা বলে বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করে, তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমাণ করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সম্পর্কে কত বড় মিথ্যা কথা তারা বলছে। সারা দেশে নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে দুপুরে সড়ক পথে ময়মনসিংহ পৌঁছান তারেক রহমান। তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালের পর দীর্ঘ ২২ বছর বাদে ময়মনসিংহ সফরে এলেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে।
ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ‘ডিম ও ইট-পাটকেল’ নিক্ষেপের ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে ফকিরাপুলের স্থানীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সংবাদ সম্মেলনে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পাল্টা আঘাতের ঘোষণা: নাহিদ ইসলাম বলেন, “যদি আমাদের প্রার্থীদের ওপর আঘাত হয়, তবে এখন থেকে পাল্টা আঘাত আসবে। এক দলের প্রার্থীর দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হলে অন্য দলের প্রার্থীর ওপরেও ডিম পড়বে। আমরা যুদ্ধের পরিবেশ চাই না, কিন্তু প্রশাসন নীরব থাকলে আমরা আমাদের করণীয় নির্ধারণ করব।” বিএনপিকে সমালোচনা: তিনি বলেন, “বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় মাঠ দখল করতে চায়, তবে তাদের সাথে স্বৈরাচারের পার্থক্য কোথায়? আপনারা আওয়ামী লীগের ভোট পেতে মঞ্চে ‘জয় বাংলা’ বলছেন, কিন্তু জনগণ সন্ত্রাসী রাজনীতি আর মেনে নেবে না।” লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন: জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ একটি বিশেষ জোটকে সুবিধা দিচ্ছে, যা নির্বাচনের সমতা নষ্ট করছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যাওয়ার পর পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁর ওপর আক্রমণ হয়। তিনি দাবি করেন: মাস্টারমাইন্ড: মির্জা আব্বাসের ভাগনে আদিত্য এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। সরাসরি হামলাকারী: হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মাসুদ, সাবেক সদস্য শাহিন উদ্দিন মল্লিক এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফ এই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। আহত: হামলায় এনসিপির এক নারী সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন, যার মাথায় চারটি সেলাই লেগেছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ইসি একটি নির্দিষ্ট দলের (বিএনপি) এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসি ৫০ জন ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিককে প্রার্থী হিসেবে অনুমোদন দিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে।
পটুয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসছে, ততোই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। আজ মঙ্গলবার সকালে গলাচিপা বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের নির্লিপ্ততা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ‘ষড়যন্ত্র’ নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: নুর বলেন, “প্রশাসন যদি কোনো একটি পক্ষের হয়ে কাজ করে, তাহলে দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে চাই, কিন্তু তাদের ভূমিকা হতে হবে নিরপেক্ষ।” হামলার অভিযোগ: তিনি অভিযোগ করেন যে, তাঁর নেতাকর্মীরা জনসংযোগে গেলে ট্রলার থেকে নামার সময় হামলার শিকার হচ্ছেন। পুলিশকে অবহিত করার দীর্ঘ সময় পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে তিনি দাবি করেন। বিদ্রোহী প্রার্থীর ষড়যন্ত্র: নুর দাবি করেন, এই নির্বাচন বানচাল করতে দেশি-বিদেশি অপশক্তি তাঁর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে (হাসান মামুন) ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, “আমাকে ঠেকাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রকাশ্যে আমার অস্তিত্ব মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন।” পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নুরুল হক নুরকে সমর্থন দিলেও স্থানীয় রাজনীতিতে সমীকরণটি বেশ জটিল: ১. বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী: কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সদস্য হাসান মামুন দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন। ২. বহিষ্কার ও বিলুপ্তি: হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করায় ইতিমধ্যে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং হাসান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৩. তৃণমূলের অনীহা: বিএনপির একটি বড় অংশ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে নুরের পক্ষে কাজ করলেও তৃণমূলের একটি অংশ হাসান মামুনের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান সজিব প্রমুখ।
রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপিকে সরাসরি দায়ী করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তোলেন। হামলার অভিযোগ: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “মির্জা আব্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের ওপর হামলা করেছে। ছাত্রদলের যারা এই সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নিয়েছে, আমি পুরো বাংলাদেশের কাছে তাদের বিচার চাই।” অনিয়মের প্রতিবাদ: তিনি জানান, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের গভর্নিং বডির অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে যাওয়ায় তাঁর ওপর এই আক্রমণ হয়। ওই কলেজের বর্তমান বডি মির্জা আব্বাসের তত্ত্বাবধানে গঠিত বলে তিনি দাবি করেন। তারেক রহমানের কাছে দাবি: এনসিপি নেতা সরাসরি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারেক রহমানকে—দলে সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেবেন, নাকি তাদের বহিষ্কার করবেন। আমি মির্জা আব্বাসকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।” নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আবেগাপ্লুত হয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর অতীতের একটি সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “খালেদা জিয়া আমাদের দোয়া করেছিলেন এবং দেশ ঠিক রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আজ তিনি সুস্থ থাকলে নিজের দলের লোকেদের এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখে লজ্জা পেতেন।” নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) উদ্দেশ্য করে বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে আমরা কেন মাঠে থাকব, সেটা ইসিকে পরিষ্কার করতে হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ভোটে জিতি বা না জিতি, ঢাকা-৮ এলাকায় কোনো সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হতে দেওয়া হবে না। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে ব্যালটের মাধ্যমে এই ‘সন্ত্রাস ও দুর্নীতির’ জবাব দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার আইসিসির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘দেশের প্রতি অপমান’ হিসেবে অভিহিত করেন। সম্প্রতি নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ ভারত সফর করতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি টাইগারদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। এ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন: “আমাদের ক্রিকেট বোর্ড সংগত কারণেই দাবি করেছিল খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় হোক। আইসিসি এই দাবি না মেনে দলকেই বাদ দিয়ে দিল। এখনো সময় আছে, আপনারা আপনাদের সিদ্ধান্ত রিভিউ করুন। অন্য দেশের ক্ষেত্রে ভেন্যু পরিবর্তনের নজির থাকলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন বৈষম্য হবে?” সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতের আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মোস্তাফিজ সাতক্ষীরা তথা বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে আলোকিত করেছে। তাকে খেলতে না দেওয়া কেবল একজন খেলোয়াড়ের অপমান নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি ‘চরম অপমান’। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট বার্তা দেন: বন্ধুত্ব ও প্রভুত্ব: “আমরা প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধু হিসেবে থাকতে চাই, তাদের সাথে উত্তম আচরণ চাই। কিন্তু আল্লাহ ছাড়া কাউকে আমরা প্রভু হিসেবে মেনে নেব না।” ইনসাফ কায়েম: দেশে ইনসাফের ভিত্তিতে শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার স্বপ্ন পূরণে তিনি দেশবাসীকে জামায়াতের পাশে থাকার আহ্বান জানান। জনসভায় তিনি ঘোষণা করেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যুবকদের বেকার তকমা নয়, বরং উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের ব্যবস্থা করা হবে। একইসাথে তিনি প্রতিটি নারীকে মায়ের সম্মান দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে শেষ পর্যন্ত দলীয় শাস্তির মুখে পড়লেন বরগুনা জেলা জামায়াতের নেতা শামীম আহসান। গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত শনিবার বরগুনা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী সুলতান আহমেদের সমর্থনে পাথরঘাটার এক জনসভায় শামীম আহসান বলেছিলেন: “ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।” তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। ঢাবি কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শামীম আহসানের বক্তব্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী। তাঁর ‘বেফাঁস’ মন্তব্যে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এ কারণে জেলা কর্মপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী: শামীম আহসানকে সংগঠনের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর দলীয় সদস্য বা রুকন পদ স্থগিত করা হয়েছে। জেলা আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন বলেন, শামীম আহসান যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দলের শাস্তির পাশাপাশি আইনি বিপাকেও পড়েছেন শামীম আহসান। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গতকাল দুপুরে পাথরঘাটা উপজেলার জনৈক আফরোজ নামের এক ব্যক্তি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নোয়াখালী-২ আসনে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোট ও এনসিপি মনোনীত প্রার্থী সুলতান মো. জাকারিয়ার পক্ষে নির্বাচনী মাঠ কাঁপালেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পথসভায় তিনি নাম উল্লেখ না করে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘বিদেশি নাগরিক’ ও ‘মুনাফেক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ভুয়া জাতীয়তাবাদ ও বিদেশি নাগরিকত্ব: আসিফ মাহমুদ বলেন, “যারা নিজেদের জাতীয়তাবাদী দাবি করে অথচ তাদের প্রার্থীরা বিদেশি নাগরিক, তাদের মুখে জাতীয়তাবাদ মানায় না। জনগণের টাকা লুট করা ঋণখেলাপি ও এই বিদেশি নাগরিকদের এবার মানুষ লাল কার্ড দেখাবে।” ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে তাহাজ্জুদ হুঁশিয়ারি: বিরোধী শিবিরের কৌশলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তারা তাহাজ্জুদ পড়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দখল করার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু এবার আর হাসিনা মার্কা ভোট চুরির সুযোগ দেওয়া হবে না। ১৬ কোটি মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় আমরা জীবন দিতেও প্রস্তুত।” গণভোট ও ‘না’ ভোটের প্রচারণা: তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দল বাইরে সংস্কারের কথা বললেও গোপনে ‘না’ ভোটের ক্যাম্পেইন করছে। এই ‘মুনাফেকি’ সাধারণ মানুষ ধরে ফেলেছে বলে তিনি দাবি করেন। আসিফ মাহমুদ স্থানীয় নেতা সায়েদ আহমেদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে তিনি নিজের দাবি ছেড়ে দিয়ে জোটকে শক্তিশালী করেছেন। তিনি মানবাধিকার কর্মী সুলতান মো. জাকারিয়াকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাঁকে বিজয়ী করার জন্য ভোটারদের কাছে আমানত চান। তিনি ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন: ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের শাপলা কলি, রিকশা এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ নির্মূল করা হবে।
কুমিল্লা-৪ আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে ভোট চুরির রাজনীতির চিরতরে সমাপ্তি ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর ঘোষাইবাড়ি মাঠে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। জুলাই বিপ্লবের হাতিয়ার: হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “জুলাই আন্দোলনে আমার মা-বোনেরা যেভাবে মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে পানি খাইয়ে আমাদের শক্তি জুগিয়েছেন, এবার তারাই ভোট চুরি ঠেকাতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেবেন।” পাহারার আহ্বান: তিনি ভোটারদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, “ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে পাহারায় যাবেন। যারা কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছেন, তারা সাবধান হয়ে যান। ধরা পড়লে নেতাদের বেঁধে সরাসরি পুলিশে দেবেন।” হুঁশিয়ারি: ভোট ডাকাতি রুখতে জুলাই যোদ্ধাদের ওপর ভরসা রেখে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনো অশুভ শক্তি কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে তাদের পালানো শেখ হাসিনার মতোই করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। বক্তব্যে তিনি আসন্ন গণভোট নিয়ে অপপ্রচারের কড়া সমালোচনা করেন। হাসনাত বলেন, “একটি নির্দিষ্ট দল গুজব ছড়াচ্ছে যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না—এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আপনাদের শাপলা কলি প্রতীকের পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণে অংশ নিতে হবে।” সুবিল ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে জোটের বিভিন্ন দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: সাইফুল ইসলাম শহীদ (সেক্রেটারি, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াত) অধ্যাপক মো. শহীদুল ইসলাম (আমির, দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াত) মুফতি জামসেদ হোসেন (সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, কুমিল্লা জেলা)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নে এক বিশাল গণসংযোগে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সভায় তিনি বিগত শাসনের সমালোচনা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সবিস্তারে কথা বলেন। মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, "আগে নির্বাচনি ময়দানে নৌকা আর ধানের শীষের মধ্যে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো। কিন্তু এখন আর সেই নৌকা নেই। নৌকার যিনি কাণ্ডারি ছিলেন, তিনি আপনাদের ফেলে ভারতে চলে গেছেন; দিল্লিতে গিয়ে বসে আছেন। আর আমাদের সবাইকে বিপদে ফেলে গেছেন।" তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শেখ হাসিনা থাকলে অন্তত একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকত, কিন্তু তাঁর পলায়নে দেশ এক নতুন সংকটে পড়েছে। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার চেতনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমরা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়েছি কারণ তারা আমাদের ওপর চরম অত্যাচার করত। অথচ আজ সেই অশুভ শক্তিগুলোই ভোট চাচ্ছে দেশ চালানোর জন্য, যারা একসময় আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল।" তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, যারা দেশ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া মানেই দেশের সর্বনাশ ডেকে আনা। ব্যক্তিগত সততা ও ত্যাগের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "আমরা রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য, ব্যবসা করার জন্য নয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বাপের জমি-জমা বিক্রি করে রাজনীতির খরচ জুগিয়েছি, নতুন করে কোনো সম্পদ বা বাড়িঘর কিনিনি।" তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে সেবা করার সুযোগ চেয়ে বলেন, একটি সঠিক সিদ্ধান্তই পারে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে। ঠাকুরগাঁওয়ের এই গণসংযোগে বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ আসায় সাধারণ ভোটারদের মাঝেও এক ধরণের বাড়তি উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিজ থানার বাইরে নির্বাচনি দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী আনসার–ভিডিপি সদস্যদের ভোটকেন্দ্রে নিয়োগ নিরপেক্ষতার প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। মাহদী আমিন বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভলান্টিয়ার ক্যাটাগরিতে ১৩ থেকে ১৫ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের একটি বড় অংশ স্থানীয় বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। এতে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” তিনি বলেন, এ কারণে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিজ থানার বাইরে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে যে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় তার সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, গণতান্ত্রিক বিশ্ব বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে স্বাধীন ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে এগিয়ে নিতে অনুপ্রাণিত করবে।” এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দ্বিতীয় নির্বাচনি সফরের কথা তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে ধানের শীষের পক্ষে গণমানুষের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কর্মসূচিতে কিছুটা দেরি হলেও মানুষের উৎসবমুখর উপস্থিতি তারেক রহমানের প্রতি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল। তিনি বলেন, নির্বাচনি সফর কাভার করা সাংবাদিকদের প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না তারেক রহমান, কারণ এতে দেশ ও জনগণের কোনো কল্যাণ হয় না। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই জনসভা শেষে সড়কপথে ঢাকার পথে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ১১ দলীয় জোটের এক পদযাত্রা ও জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ভোটের মাঠে ‘পাহারা’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে রামগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। নাম উল্লেখ না করে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন: “একটি দল অন্য সকল দলকে বিলুপ্ত করে নিজের পেটের ভেতর নিয়ে নিয়েছে। তারা বলছে তাহাজ্জুদের পরেই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে। আসলে তাহাজ্জুদের পর তারা সিল মারার পরিকল্পনা করছে এবং ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে।” তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে, সেজন্য নেতাকর্মীরা কেন্দ্র পাহারা দেবে। যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের কঠোরভাবে প্রতিপ্রতিহত করা হবে। নাহিদ ইসলাম জানান, তাদের জোট ১০ দল থেকে এখন ১১ দলে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, “সংস্কার, সুশাসন ও সার্বভৌমত্বের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশপ্রেমিক ও ইসলামপ্রিয় শক্তি আজ ঐক্যবদ্ধ। আমরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের দরজা সবার জন্য খোলা রেখেছি।” সভায় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছাড়াও বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মাহবুব আলম, উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হাসান পাটওয়ারী এবং পৌর জামায়াতের আমির হাসান আল বান্নাহ।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে যাতে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, সচেতন থাকতে হবে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকালে নোয়াখালীর হাতিয়ার দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ১৫ থেকে ১৬ বছর আপনারা ভোট দিতে পারেননি, আপনাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যারা এ কাজটি করেছে তারা দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। তারেক রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বলেন, শুধু ভোট দিলেই চলবে না, ওখানে থাকতে হবে। আপনার ভোটের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিয়ে কেন্দ্র থেকে আসতে হবে। দেশটা আমাদের সবার, সব ধর্মের লোককে একসঙ্গে থেকে আমাদের দেশটা গড়তে হবে। এ দেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। তিনি বলেন, সমস্যার সমাধান করতে হলে ধানের শীষকে জেতাতে হবে। এর আগে এই এলাকার মানুষ অনেককে দেখেছে, তারা কিন্তু সমস্যার সমাধান করেনি। নদী ভাঙন, বেড়িবাঁধ, বল্কবাঁধ এগুলো আমরাই শেষ করব ইনশাআল্লাহ। তবে আপনাদেরও একটা দায়িত্ব আছে। আপনাদের দায়িত্ব ধানের শীষকে জয়যুক্ত করা। এ সময় তারেক রহমান ঘোষণা দেন বিএনপি সরকার গঠন করলে ধীরে ধীরে হাতিয়ার মানুষের সব সমস্যার সমাধান হবে। জনসভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ হাতিয়ার ধানের শীষের প্রার্থী মাহবুবের রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোসহ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।